Debasis Bhattacharya RSS feed

Debasis Bhattacharyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

প্রহরী

Debasis Bhattacharya

[মূল গল্প – Sentry, লেখক – Fredric Brown, প্রথম প্রকাশকাল - ১৯৫৪] .....................


বাড়ি থেকে পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এক গ্রহের মাটিতে কর্তব্যরত সে, জলে-কাদায় যতটা মাখামাখি, খিদে আর শীতে তার চেয়ে কিছু কম নয় ।

এখানে আলোটা পাওয়া যায় এক বিদ্‌ঘুটে নীল রঙের সূর্য থেকে, আর মাধ্যাকর্ষণের যা দশা সে আর বলে কাজ নেই । সে যাতে অভ্যস্ত তার দ্বিগুণ মাধ্যাকর্ষণ এখানে, নড়াচড়া করাই দায় ।

যুদ্ধের এমন কতকগুলো মৌলিক ব্যাপার আছে, লাখো বছরেও যার কোনও পরিবর্তন হয়না । যারা আকাশে উড়ে উড়ে যুদ্ধ করে তারা তোফা আছে, নিজেদের ছিমছাম মহাকাশযান আর ঝিন্‌চ্যাক অস্তরশস্তর নিয়ে । কিন্তু সময় যখন খারাপ আসে তখন স্রেফ নিজের পায়ে ঠায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রক্ত ঘাম ঝরিয়ে ঘাঁটি আগলাতে হয়, এক পা এক পা করে এগোতে হয়, তখন যে এই পদাতিক শর্মারা ছাড়া আর গতি নাই হে ! এই যে এক অজানা তারার এই জঘন্য গ্রহটা, যার কথা এখানে এসে নামবার আগে সে কোনওদিন শোনেইনি, সেখানেও তো ঠিক সেই ব্যাপারটাই ঘটছে । এই গ্রহ এখন এক পবিত্র লড়াইয়ের স্থান হয়ে উঠেছে, কারণ, এখানেও এসে পৌঁছেছে ওরা । ‘ওরা’, মানে সেই দেখলেই-গা-ঘুলিয়ে-ওঠা নিষ্ঠুর কুৎসিত ভিনগ্রহী দানবগুলো, এ গ্যালাক্সির অন্য আর একমাত্র বুদ্ধিমান জাত ।

খুব ধীরে ধীরে বহুকষ্টে হাজার কয়েক গ্রহ দখলে আনার পর ওদের সাথে প্রথম দেখা হয়েছিল এই গ্যালাক্সির কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি জায়গায়, আর তারপর থেকে দেখা হয়েছে কি যুদ্ধ । শান্তি চুক্তি আপস রফা এ সবের তোয়াক্কা করেনা ওরা, দেখতে পেলেই সটান অস্ত্র চালিয়ে দেবে ।

কাজেই, একের পর এক গ্রহের মাটিতে শুধু তিক্ত লড়াইটা লড়ে যাওয়া, এ ছাড়া আর পথ নেই ।

একেই জলেকাদায় চুপচুপে শরীর, তার ওপর খিদে আর শীত, আর তারও ওপরে এক তীব্র কঠিন বাতাস উঠেছে আজ, তার ঘষা খেয়ে চোখ জ্বালা করছে তার । কিন্তু, চুপিসারে ঢুকতে চাইছে ভিনগ্রহীরা, কাজেই প্রহরীর প্রতিটা গুমটিই এখন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ।

উদ্যত অস্ত্র হাতে হুঁশিয়ার আছে সে, পঞ্চাশ হাজার আলোকবর্ষ দূরের এই অদ্ভুত রণাঙ্গনে । বেঁচে বাড়ি ফেরা, সে কি আর হবে কোনওদিন ?

ওই যে, ওই যে, গুঁড়ি মেরে এগোচ্ছে একজন । নিখুঁত লক্ষ্যে অস্ত্র চালাল সে । ভিনগ্রহী দানব এক বীভৎস আওয়াজ তুলেই নিথর হয়ে পড়ে গেল । মরার সময়টায় ঠিক ওই রকমই করে ওরা ।

দানবটার আর্তনাদ আর ওই পড়ে থাকা দেহটায় একটু শিউরে উঠল সে । অনেকদিন ধরেই তো হচ্ছে, এতদিনে তার এইসব সয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সে আর কোনওদিন পেরে ওঠা হল না তার । উফ, এত কুৎসিতও হতে পারে কোনও জীব ! মাত্রই দুটো করে হাত আর পা, ভয়ঙ্কর ফ্যাকাশে চামড়া, এবং, এবং, এবং ............... তাদের শরীরে কোনও আঁশ নেই !



366 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

আমি আগেও বলেছি এখনও বলছি অনুবাদকের দক্ষতায় লেখার শৈল্পিক গুন বেড়ে যাওয়া টাই বড় প্রাপ্তি।
তৃপ্ত হলাম।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

ধন্যবাদ । কিন্তু, মন্তব্যটা আমার নামেই এল । কে বললেন ?
Avatar: pi

Re: প্রহরী

আবার সেই বাগঃ( লেখকের নামে চলে আসছেঃ(। এটা কী আসে দেখি।
Avatar: b

Re: প্রহরী

ইয়ে, এগুলো টুকরো টুকরো করে না করে, ব্লগে পর পর দিলে হয় না?
সিরিজটা দারুণ হচ্ছে।
Avatar: দ

Re: প্রহরী

এটা তো ব্লগই, টই তো নয়। লেখক পরপর অ্যাপেন্ড না করে আলাদা আলাদা লিখছেন এই যা।
Avatar: Debasis Bhattacharya

Re: প্রহরী

না, এবার আর মন্তব্য আমার নামে আসেনি, ঠিকঠাকই এসেছে । উৎসাহ দেবার জন্য সবাইকেই ধন্যবাদ । গোটাতিনেক মাত্র ছোট্ট ছোট্ট অনুবাদ দিয়েছি, একে 'সিরিজ' আখ্যা দেবার সময় বোধহয় এখনও আসেনি । তবে, আরও কয়েকটা করার ইচ্ছে আছে, নিজের লেখা গল্পও হয়ত দুয়েকটা দেব, যদি শেষপর্যন্ত তা পেরে উঠি তখন এটা 'সিরিজ' আখ্যা পেলেও পেতে পারে । একসঙ্গে কয়েকটা দিয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু সেক্ষেত্রে পরপর সব দ্রুত নামাতে হবে, টানা অতটা সময় পাই না, একটু অনিয়মিতভাবেই করি ব্যাপারটা । আর, বিভিন্ন লেখকের ঠিক ওই রকম উচ্চমানের কল্পবিজ্ঞান অণুগল্প খুঁজে খুঁজে বার করাও একটা সমস্যা । তার ওপর আবার, এর মাঝে মাঝে প্রবন্ধ-নিবন্ধ গোছের কিছু কিছু গদ্যও ঢুকে যাবে । ফলত, কিঞ্চিৎ উস্কোখুস্কো ভাব অনিবার্য বলেই মনে হচ্ছে । আশা করি, আপনাদের তরফ থেকে শুধু উৎসাহ নয়, সুচিন্তিত সমালোচনা ও মূল্যবান পরামর্শও পাব ।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন