Muhammad Sadequzzaman Sharif RSS feed

Muhammad Sadequzzaman Sharifএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৬
    চিংড়ির হলুদ গালা ঝোলকোলাপোতা গ্রামটার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ। এছাড়া চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে খাল বিল পুকুর। সবুজ জংলা ঝোপের পাশে সন্ধ্যামণি ফুল। হেলেঞ্চার লতা। উঠোনের কোন ঘেঁষে কাঠ চাঁপা। পঞ্চমুখী জবা। সদরের মুখটায় শিউলি। সাদা আঁচলের মতো পড়ে থাকে ...
  • যৌন শিক্ষা মহাপাপ...
    কিছুদিন ধরে হুট করেই যেন ধর্ষণের খবর খুব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যেন হুট করে কোন বিষাক্ত পোকার কামড়ে পাগলা কুকুরের মত হয়ে গেছে কিছু মানুষ। নিজের খিদে মিটাতে শিশু বৃদ্ধ বাছ বিচার করারও সময় নাই, হামলে পড়ছে শুধু। যদি বিষাক্ত পোকার কামড়ে হত তাহলে এই সমস্যার সমাধান ...
  • ইতিহাসবিদ সব্যসাচী ভট্টাচার্য
    আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সব্যসাচী ভট্টাচার্য এক উল্লেখযোগ্য নাম। গবেষক লেখক শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসক হিসেবে তাঁর অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। সবসাচীবাবুর বিদ্যালয় শিক্ষা বালিগঞ্জ গভর্মেন্ট হাই স্কুলে। তারপর পড়তে আসেন প্রেসিডেন্সি কলেজের ইতিহাস বিভাগে। ...
  • পাগল
    বিয়ের আগে শুনেছিলাম আজহারের রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বড় বাড়ি! তার ফুপু বিয়ে ঠিকঠাক ‌হবার পর আমাকে গর্বের সাথে বলেছিলেন, "কয়েক একর জায়গা নিয়ে আমাদের বিশাল বড় জমিদার বাড়ি আছে। অমুক জমিদারের খাস বাড়ি ছিল সেইটা। আজহারের চাচা কিনে নিয়েছিলেন।"সেইসব ...
  • অশোক দাশগুপ্ত
    তোষক আশগুপ্ত নাম দিয়ে গুরুতেই বছর দশেক আগে একটা ব্যঙ্গাত্মক লেখা লিখেছিলাম। এটা তার দোষস্খালন বলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু দোষ কিছু করিনি ধর্মাবতার।ব্যাপারটা এই ২০১৭ সালে বসে বোঝা খুব শক্ত, কিন্ত ১৯৯২ সালে সুমন এসে বাঙলা গানের যে ওলটপালট করেছিলেন, ঠিক সেইরকম ...
  • অধিকার এবং প্রতিহিংসা
    সল্ট লেকে পূর্ত ভবনের পাশের রাস্তাটায় এমনিতেই আলো খুব কম। রাস্তাটাও খুব ছোট। তার মধ্যেই ব্যানার হাতে একটা মিছিল ভরাট আওয়াজে এ মোড় থেকে ও মোড় যাচ্ছে - আমাদের ন্যায্য দাবী মানতে হবে, প্রতিহিংসার ট্রান্সফার মানছি না, মানব না। এই শহরের উপকন্ঠে অভিনীত হয়ে ...
  • লে. জে. হু. মু. এরশাদ
    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটা অধ্যায় শেষ হল। এমন একটা চরিত্রও যে দেশের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল ছিল, এ এক বিরল ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ না করে কোন সামরিক অফিসার বাড়িতে ঘাপটি মেরে বসে ছিলেন ...
  • বেড়ানো দেশের গল্প
    তোমার নাম, আমার নামঃ ভিয়েতনাম, ভিয়েতনাম --------------------...
  • সুভাষ মুখোপাধ্যায় : সৌন্দর্যের নতুন নন্দন ও বামপন্থার দর্শন
    ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘পদাতিক’। এর এক বিখ্যাত কবিতার প্রথম পংক্তিটি ছিল – “কমরেড আজ নবযুগ আনবে না ?” তার আগেই গোটা পৃথিবীতে কবিতার এক বাঁকবদল হয়েছে, বদলে গেছে বাংলা কবিতাও।মূলত বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে সভ্যতার ...
  • মৃণাল সেনের চলচ্চিত্র ভুবন
    মৃণাল সেনের জন্ম ১৯২৩ সালের ১৪ মে, পূর্ববঙ্গে। কৈশোর কাটিয়ে চলে আসেন কোলকাতায়। স্কটিশ চার্চ কলেজ ও কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশুনো করেন। বামপন্থী রাজনীতির সাথে বরাবর জড়িয়ে থেকেছেন, অবশ্য কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমারে কবর দিও হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে - ডি. ব্রাউন

Muhammad Sadequzzaman Sharif

Bury my heart at wounded knee - An Indian history of the American west বইটি লিখেছেন আমেরিকান লেখক ডি. ব্রাউন। বাংলায় অনুবাদ করে আমার মত মূর্খকে এই দারুণ করুন ইতিহাস কে জানতে সহায়তা করেছেন দাউদ হোসেন। অনুবাদক এর বাংলা নাম দিয়েছেন “আমারে কবর দিও হাঁটুভাঙ্গার বাঁকে”। অনুবাদ মোটামুটি ভাল, পাঠযোগ্য। যেহেতু এটা উপন্যাস না তাই উপন্যাসের রস জাতীয় কিছু এখানে নাই। এর রস যা আছে তা পুরোটাই ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাসের কালো দিক গুলোর মাঝে অন্যতম আমেরিকা মহাদেশ থেকে রেড ইন্দিয়ানদের নিশ্চিহ্ন করার ইতিহাস। স্পর্শকাতর ইতিহাস নিয়ে কাজ করা কঠিন, ডি. ব্রাউন খুব দক্ষতার সাথে সামাল দিতে পেরেছেন। ১৯৭০ এই বই প্রকাশের পর তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রশংসায় ভাসতে থাকেন তিনি এবং তার বই। জনৈক এক ইন্ডিয়ান তাকে চিঠি লেখে জানান, “এই বই সম্ভবত আপনার মত শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি লেখেননি, লিখেছেন কোন আদিবাসী ইন্ডিয়ান, কারন এমন লেখা একমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব।”
বিরুদ্ধতার মুখেও পরেছেন তিনি। তথাকথিত শ্বেতাঙ্গ পেশাদার ইতিহাসবিদরা তাকে ‘জনপ্রিয় ইতিহাস’ লেখার অভিযোগ করেন। তিনি জবাবে বলেছেন তার প্রতিটা লেখার পিছনে দলিলপত্র আছে।

উনিশটি অধ্যায় জুড়ে শ্বেতাঙ্গদের নিদারুণ সভ্যতার পরিচয় খুব সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর, কলম্বাস সান সালভাদরে পা ফেলার পর থেকে শুরু করে ১৮৯০ সালের ২১ ডিসেম্বরে উনডেড নী নামক পাহাড়ি খাড়ির বাঁকে ইন্ডিয়ানদের সুচারুভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে দক্ষতার সাথে। প্রচুর রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে বইয়ের পাতায় পাতায়, যে কেউ ঘাটাঘাটি করে নিশ্চিত হতে পারবে সভ্যদের সভ্যতার নমুনা সম্পর্কে।

চারশো বছরে ইন্ডিয়ানদের কে পুরোপুরি হটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব শুধু মাত্র ইংরেজদের না। বরং বলা যেতে পারে ইউরোপিয়ান শ্বেতাঙ্গদের। কলম্বাস স্প্যানিশ জাহাজ নিয়ে যে সান সালভাদরে নেমেছিলেন সেখানে তখন থাকত তাইনো জাতি সহ আরও কিছু উপজাতি। কলম্বাস তাদের নাম দেন ইন্ডিয়োস। পরবর্তীতে ইউরোপিয়ানরা কেউ ইন্ডিয়েন, ইন্ডিয়ানা বা ইন্ডিয়ান বলত।পীউ রোগস বা লাল চামড়া বা রেড ইন্ডিয়ান নামটা আরও পরে যোগ হয় এদের সাথে। কলম্বাস দ্বীপে নামার পর তাইনোরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিয়েছিলেন। খাদ্য, বাসস্থান দিয়ে সাহায্য করেছিল তাকে। কিন্তু যা হল তা হচ্ছে কলম্বাস প্রথম পা ফেলার দশ বছরেরও কম সময়ের মাথায় জনপ্রাণী সহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল সবকটি গোত্র। দাস হিসেবে ধরে নিয়া যাওয়া হল কিছু, বন্দুক আ তরবারির স্বাদ নিয়ে চিরতরে মিশে গেল বাকিরা।

ইংরেজরা পা ফেলে আরও অনেক পরে। ১৬০৭ সালে ভার্জিনিয়ায় যখন তারা প্রথম আসে তখন সেখানকার আদি অধিবাসী পাওহাতানরা তাইনোদের ইতিহাস জানত। তাই তারা ছিল সতর্ক। কিন্তু ইংরেজ হচ্ছে এমন এক জাতি যারা পারে না এমন কোন কাজ সম্ভবত এই ভূমণ্ডলে নেই। তারা আস্তে আস্তে জায়গা করে নিতে থাকল। সেখানকার এক গোত্রপতি কে মাথায় সোনার মুকুট পরিয়ে রাজা ঘোষণা করল। তারপর তাকে দিয়ে শ্বেতাঙ্গদের জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করে নিতে থাকল। ইংরেজ দলপতি বিয়ে করে বসলেন পাওহাতান রাজকুমারীকে। বিয়ে করে তিনিই হয়ে গেলেন শ্বেতাঙ্গ রাজা। আদিবাসীরা যখন ইংরেজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যুদ্ধ শুরু করল তাদের বিরুদ্ধে ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। ইংরেজরা শক্ত করে বসে গেছে সেখানে। ফলাফল আট হাজার আদিবাসীর এই গোত্রটি খুব দ্রুত কয়েকশতে নেমে আসল।
ম্যাসাচুসেটসের কাহিনীর শুরু ভিন্ন রকম হলেও বলা বাহুল্য শেষটা ভার্জিনিয়ার মতই। ১৬২০ সালে ইংরেজরা যখন সেখানে নামে তাদের দুর্দশার অন্ত ছিল না। চার জন আদিবাসী তাদের কে বরণ করে নিয়ে আসে। এরা মোটামুটি ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজি বলত। শিখেছিল এর আগে নোঙ্গর করা বিভিন্ন জাহাজের নাবিকদের কাছ থেকে। মহামান্য ইংরেজরা এই চারজনের এক জনকেই ধর নিয়ে বেচে দিয়েছিল পরবর্তীতে। মে ফ্লাওয়ার জাহাজে করে প্লাইমাউথে নামা সেদিনের ইংরেজদের অবস্থা এমনই ছিল যে আদিবাসীরা ভাবত যে এরা অসহায়, নিঃস্ব, সহায় সম্বলহীন শিশু, গোত্রের ভাঁড়ার থেকে তাদের কে খাওয়ানো হত। ১৬২০ সালে এমন ভাবে আসার পর ১৬৭৫ সালে আদিবাসীরা বাধ্য হয়ে যুদ্ধ শুরু করে এবং হারিয়ে যায় চিরতরে। তখনকার গোত্র প্রধানের মুণ্ড কেটে ঝুলিয়ে রাখে দীর্ঘ বিশ বছর, প্রদর্শনীয় বস্তু হিসেবে।

শুধু ইংরেজরা না। হত্যা, লুণ্ঠন চালিয়েছে ইউরোপিয়ান যারা যারা গিয়েছে সবাই। হত্যা, লুটতরাজ আর তার সাথে বেইমানি, চুক্তিভঙ্গ, সুবিধা মত পলটি নেওয়া। ১৮২৯ সালে এন্ড্রু জ্যাকসন প্রেসিডেন্ট হয়ার পর স্থায়ী ইন্ডিয়ান সীমানা তৈরি করে দেন। এবং কিছুদিন পরেই তিনিই আবার তাদের কে ওই সীমানা থেকে ঠেলে পিছিয়ে দেন। এমন একবার না, কয়েকবার করে করার ইতিহাস আছে। স্থায়ী সীমান্তের পশ্চিম ভাগে ছিল ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চল। সেখানে শেষ পর্যন্ত যখন ইন্ডিয়ানরা সুস্থির হয়ে বসতে যাবে তখন, ১৮৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পাওয়া গেল সোনার খনি। ফলাফল? আবার খেদাও ভূমির প্রকৃত মালিকদের। পঙ্গপালের মত শ্বেতাঙ্গ আসা শুরু করে দিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। শেষ পর্যন্ত নির্লজ্জের মত ওয়াশিংটন আবিষ্কার করল এক অদ্ভুত অভূতপূর্ব জিনিস, ‘মেনিফেস্ট ডেস্টিনি’ বা নিয়তির বিধান। এই নিয়তির বিধানে বলা হল - “ইউরোপীয় এবং তাদের বংশধররাই গোটা আমেরিকা শাসন করবে এটাই নিয়তির বিধান।তারাই দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ জাতি এবং তাই তাদের উপরেই দায়িত্ব এসে পরেছে ইন্ডিয়ানদের এবং তাদের জমিজমা, সম্পদ ইত্যাদি দেখেশুনে রাখতে।” বাহ! কি উচ্চ বিচার!! এখানেই শেষ না। ইন্ডিয়ানদের মানুষ হিসেবেই স্বীকৃতি দিতে রাজি ছিল না আমেরিকানরা। নেব্রাস্কার আদালতে ডিস্ট্রিক এটর্নি জেনারেল নিজে এসে বলেন যে, “ইন্ডিয়ানরা আইন অনুজায়ই আদৌ ব্যক্তি হিসেবে গন্য নয়”। ন্যায় পরায়ন বিচারক যখন ইন্ডিয়ানদের ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন তখন তার কিছুদিন পরেই জেনারেল শেরম্যান নিজে এক বিধান দিলেন, তিনি বললেন, “রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নেব্রেস্কার আদালত পোনকাদের মুক্তি প্রদানের যে আদেশ দিয়েছেন তা ওই মামলায় জরিতদের ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না।”
কি চমৎকার বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখানো হলো আইনের শাসনকে!!

পুরো ইতিহাস জুড়ে ভণ্ডামি আর নিষ্ঠুরতা। নারী শিশু বাছ বিচার করেনি ইউরোপিয়ানরা। ২০ ডলার পুরস্কারের লোভে নাভাহোদের মেরে মাথার চামড়া কেটে নিয়ে আসত সৈন্যরা। এমন বর্বর প্রথা ইউরোপিয়ানদের চোখে অসভ্য ইন্ডিয়ানরা আবিষ্কার করেনি। এই স্ক্যালপিঙ্গের দায় যে ইংরেজ, স্প্যানীয়, ফরাসি বা ডাচদের তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।কিন্তু যদিও পরে এর দায় ইন্ডিয়ানদের ঘাড়েই এসে পরে।

নানা ভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছে ইন্ডিয়ানরা। সাদা পতাকা তুলে এগিয়ে গেছে আর বুকে গুলি খেয়ে লুটিয়ে পরেছে এমন ঘটনা বহুবার ঘটেছে বলে প্রমাণ আছে ইতিহাসে। গ্রেট ফাদার মানে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে তার কাছ থেকে পদক নিয়ে এসেছে এমন গোত্রপ্রধানদেরকেও রেহাই দেয়নি সেনারা। পদক দেখলে হয়ত গুলি করবে না, এই ভেবে সাদা পতাকা হাতে প্রেসিডেন্টের দেওয়া পদক পরে দাঁড়িয়ে থেকে গুলি খেয়ে মারা গেছে এমন ঘটনাও ঘটেছে। নানা শান্তির বানী শুনিয়ে, নানা আশ্বাস দিয়ে ধরে আনা হয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী গোত্র কে, তারপর বেমালুম ভুলে গেছে প্রতিশ্রুতির কথা। না খেয়ে, শীতে কষ্ট পেয়ে যখন বিদ্রোহ করেছে তখন তাদের কে ফেলা হয়েছে বন্দুকের সামনে। এভাবেই হারিয়ে গেছে এক সময়ের গর্বিত ইন্ডিয়ানরা, যারা এক সময় স্বাধীন ছিল। তাদের কে মুছে ফেলার জন্য নানা কল্প কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যার রেশ আজো বুঝতে পারা যায়। শ্বেতাঙ্গরাই ছড়িয়েছিল একমাত্র মৃত ইন্ডিয়ানই ভাল ইন্ডিয়ানের মত কুৎসিত কথা।

আজকের আমেরিকার শান শওকতের পিছনের এই রক্তাক্ত ইতিহাস যে কোন চিন্তাশীল মানুষের বিবেকে কড়া নেড়ে যাবে। এছাড়া আমেরিকা পৃথিবীর সেরা জাতি ভেবে যারা মসগুল তাদের মন জগতেও হয়ত নাড়া দিয়ে যাবে। আমারা উপমহাদেশ-বাসিরা এটাও ভাবতে পারি কি হতে পারত আমাদের ইতিহাস।আমাদেরও তো তারা ঠিক একটা মানুষ বলে মনে করত না তারা। রেড ইন্ডিয়ানদের তুলনায় কতটুকু ভাগ্যবান আমরা? বা পার্থক্য কি ছিল যার কারনে আমাদের ইতিহাস অন্য রকম হল? উপমহাদেশের ইতিহাস পাঠের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আবিষ্কার করা যাবে এই বই পাঠে তা বলা যেতেই পারে।




357 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন