সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সোনারপুরে সোনার মেলা
    শীত ভাল করে পড়তে না পড়তেই মেলার সীজন শুরু হয়ে গেছে। গুরু এবারে ওমনিপ্রেজেন্ট – গাদাগুচ্ছের মেলাতে অংশ নেবার মনস্থ করেছে। একেবারে সূচনাপর্বেই সোনারপুর মেলা – বোতীনবাবুর দৌলতে তার কথা এখন এখানে অনেকেই জানেন। তো সেই সোনারপুর বইমেলাকেই পদধূলি দিয়ে ধন্য করব ...
  • এন জি রোডের রামলাল-বাংগালি
    রামলাল রাস্তা পার হইতে যাইবেন, কিছু গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা চ্যাংড়া যুবক মোড়ে বসিয়া তাস পিটাইতেছিল— অকস্মাৎ একজন তাহার পানে তাকাইল।  রামলাল সতর্ক হইলেন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করিলেন, তুলিয়া, ক্ষীণকন্ঠে বলিলেন, 'জ্যায় শ্রীরাম।'পূর্বে ভুল হইত। অকস্মাৎ কেহ না কেহ পথের ...
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নামের বিবর্তন

শক্তি দত্তরায় করভৌমিক

নামের সুতোয় ঈপ্সিতার লেখা পড়ে নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না।
( www.guruchandali.com/guruchandali.Controller?portletId=8&porletPage=2&contentType=content&uri=content1292903517107&contentPageNum=2 )
আমার নিজের নাম নিয়ে চিরকাল আমার দুঃখ। আমার অনেক মেয়েলি নামও ছিলো। শক্তিও আদতে মেয়েরই নাম হওয়ার কথা, ছেলেরা হবে শক্তি পদ বা শক্তি ব্রত। স্ত্রী -দেবীরা ই তো শক্তি। তা, ছেলেদের দাবীর কি সীমা আছে? বড় রুমাল, বড় ছাতা, সুবিধা জনক হাফপ্যান্ট সব ওঁদের দখলে। শক্তি নামে আবার বিখ্যাত কবি, শক্তিপদ রাজগুরুর মতো ঔপন্যাসিক। ছোট থেকেই শুনছি, ---এ্যা মা ছেলেদের নাম। আজও হসপিটালে গেছি, বার বারই শুনছি, --ছেলেদের মতো নাম কেন? কেন আবার আমার মায়ের খুড়ি শাশুড়ির ভক্তির দাম চোকানোর দায় আমার ওপর বর্তেছে বলে।

বললাম না আমার সুন্দর সুন্দর নাম ছিলো, আমার মাতামহ কবি মানুষ, নাম দিয়েছিলেন কৃষ্ণকলি, আমার মা মাসিদের নাম সেযুগে জুঁই, ভ্রমর, কুমকুম, কস্তুরি, মা নিজের বাবার দেয়া নাম বাতিল করলেন। নাম রাখলেন গোপা। তাও চলতো, আমরা কাঠ বাঙ্গাল, ও কারে প্রবলেম। একবার মেয়ে কোলে বাপের বাড়ী এসেছেন এক মামী - ডাকছেন ---ভ্রমর, গুফারে গুম পাড়া, রাইত হইছে - ব্যস নাম বাতিল। তারপরে সীমা, ভাগ্যিস ওটাও বাতিল অসীমা হলেও না হয় হোত। আমার আগের জেনারেশনে পিসিদের নাম মালবিকা, মন্দিরা, আমার বড় কাকু আমার নাম রাখলেন নিজের মাযের নাম মৃণালিনী র সঙ্গে মিলিয়ে মৃদুলা। মৃদুই ছিলাম তখন খান্ডারনী সেটা বুঝতে আরো বছর পঞ্চাশেক গেছে, তবু মা রাখলো না। মেজ কাকুর পার্বতী -- রাখেনি ভালোই করেছে, পরবর্তীকালে আমার ননদের নামও দেখা গেলো পার্বতী। কিন্তু আগে তো আর জানতো না। ছিলাম লিকপিকে - বিনয় করছি, নিজেকে তো আর পল্লবিনী লতেব বলতে পারি না, স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় ঠাকুমা মাকে বললেন, ভ্রমর গো, তাই অত রোগা, তাইর নাম দিয়া লাও শক্তি, মোটা হইবো নে। মোটা হলাম আরো পঞ্চান্ন বছর পরে। তার আগের হেনস্থা কতো শুনলে আমার দুঃখে পিঁপড়ে ও কাঁদবে।

একে তো ওই রকম রোগা পটকা তায় নাম শক্তি। যাঁরা ভাবেন আগেরদিনের সবই ভালো ছিলো, তাঁদের বলি, - ভুল সবই ভুল। দুচার টি ব্যতিক্রমী মানুষ ছাড়া মঞ্জুভাষণ অনেকর ই ধাতে সইতো না। যেখানেই যাই, কি গো মা বাবা খেতে দেয় না? বাচ্চাদের কি কি খাওয়ানো উচিত সেই পরামর্শ। কেউ ডাকে স্ব্যাস্থমন্ত্রী কেউ ডাকে পাটকাঠি। ছেলেদের নাম কেন সেই প্রশ্নের উত্তর নেই, শক্তি মানেই মেদভারাক্রান্ত দেহের শক্তি। এর মধ্যে সাত বছরের বালিকা আমি স্কুল থেকে ফিরি, ব্যাগের বোঝা কাঁধে পিঠে, খিদেয় শুকনো মুখ, একটা ভাঙ্গা হিলম্যান গাড়ী, অশথ চারা গজিয়ে গেছে, তার ওপর বসে থাকে কটি উদ্বাস্তু ছেলে, আমার বয়সী কি একটু বড়। লেখা পড়া নেই, অভিভাবকরা জীবিকার সন্ধানে ব্যস্ত,পড়ালেখা নেই, খাদ্য বস্ত্রই কি আছে? শুকনো মুখ, রুক্ষ চুল আমাকে দেখলেই ছড়া কাটে -শক্তি ভক্তি খাদা ভইরা ঘি /শক্তিরে বিয়া দিয়া করলাম কি। ---রাগে গা রি রি করে। চোখ ফেটে জল আসে তাও বাড়ী গিয়ে বলি না। স্থান বদলে এই উত্পাত অবসান হলো, হায়ার সেকেন্ডারীর সময় বড় দিদিমণি অনেকের নাম পালটে দেন নিজের শখে সুকুমারী সাহা হলো মধুমিতা সাহা, ভদ্রা শর্মা হোল সুমিতা শর্মা, রুনু দেববর্মণ হোল রঞ্জনা দেব বর্মণ। আমার খুব ইচ্ছা আমার নামটা যদি হয় শক্তিরূপা দত্ত রায়, বেশ হয় সংকোচে বলিও না। শক্তি-ই থেকে যাই আস্তে আস্তে ভালোও লেগে যায় নিজের নামটা। কিন্তু বিড়ম্বনা থেকেই যায়। বিএড ক্লাস, শঙ্খ'র মা হয়ে গেছি, সায়ন এর মা হবো, ভাঙবি তো ভাঙ আমার ডেস্ক টাই। তরুণ অধ্যাপক মন্তব্য করলেন -দিদিমণি প্রমাণ করলেন ওনার নাম শক্তি। পুরো ক্লাসের মাস্টার মশাই দিদিমণি রা হাসলেন অগত্যা আমিও। বিয়ের পর কতো মেয়ের নূতন নাম হয়, আমার জায়েরও হয়েছে। আমি রয়ে গেলাম সেই শক্তি।

ছেলেদের নাম নিয়ে ও একটু গল্প আছে। একটা নামের পেছনে কতো ভাবনা, কতো আশা, মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে জাগিয়ে দিয়ে আলোচনা। শিশু জন্মালে আত্মীয় বন্ধুদের প্রথম উপহার নাম দেয়া। একজনের কতো নাম থাকে, একনামে কি হয়, রবীন্দ্রনাথ ভুল বলেন কখনো?---"একজনে তে নাম রাখবে কখন অন্নপ্রাশনে,/ বিশ্ব শুদ্ধ সে নাম নেবে ভারি বিষম শাসন-এ"। এজন্যই সব দেব দেবীদের অষ্টোত্তর শতনাম। আমি ছোট বেলা থেকে যখনই কারো ভাইবোন হয়, নাম দিই শঙ্খ, কেউ রাখেনি, বড় হয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখাতেই পড়ি, শঙ্খ সমুদ্র থেকে বহুদূর এলেও বুকে করে রাখে সমুদ্রকে, শঙ্খে কান পাতলেই শোনা যায় সমুদ্রের শোঁ শোঁ শব্দ। ঠাকুরঘরের শঙ্খটা কানে ধরে দেখি ঠিকই তো! আরো ভালো লাগে। নিজের যখন ছেলে হোল প্রথম চান্সেই ডাকনাম শঙ্খ। তাতে কি, ছোট শিশুটিকে আমরা অনেক সময় ডাকি টুনা। ওরা বাবা তো আঙ্গুটি পাংগুটি, ভুইক্যা চি, চুইক্যা পি বলে বলে কাল্পনিক চৈনিক নামে ছিঁচকাঁদুনে ছেলের কান্না ভোলান। ওইটুকু বাচ্চা কোন কিছু মনমতো না হলে সমুদ্রের চেয়ে জোর গর্জন করে, দমবন্ধ হয়ে যায়, কান্নাকাটি, ডাক্তার ডাকাডাকি, আত্মীয়ারা বলেন আরো রাখো না নাম শঙ্খ, আমার এক মেশোমশাই দেখলে ই কোলে নেন, বলেন জোরেই --শঙ্খ বাজ দেখি,--ভু -উ -উ। শঙ্খ আবার চেঁচায়, দমবন্ধ, কাজের লোকরা হৈ চৈ করে - বড়দার পোলা টাগ ধরসে। সে কি ধুন্ধুমার কাণ্ড। কেউ ডাকে শঙ্কু, কেউ ডাকে শংকর, পদবীর কর এর সঙ্গে যোগ হয়ে আরও কড়কড়ে। এর পর আবার ভালো নাম। ভালো নাম কি রাখা হবে চিন্তার বিষয়, আমি যে স্কুলে পড়তাম আর পরে অন্য শহরে পড়াতাম সে স্কুলেরও বড় দিদিমণি মিসেস রাহা। তিনি অনেক অসাধারন নাম পাঠিয়েছিলেন। দুই নামই ওই তালিকা থেকে বেছে নেওয়া। রাখা হোল আত্মদীপ। বুদ্ধদেবের নির্বাণ সময়ে তাঁর শেষ উচ্চারণ -আত্মদীপো ভব ---নিজেই আলোকিত হও। ভ্রান্তি, অজ্ঞানের অন্ধকার দূরে যাক। বিশ্বের সর্ব শ্রেষ্ঠ মানবের প্রজ্ঞার সারাৎসার থাক ছেলের নামে, ক্লাস থ্রী অবধি শঙ্খের স্কুলের নাম আত্মদীপ। ফোরে স্কুল পাল্টানোর সময় নামও পালটে গেলো। ডাকনাম হোল ভালো নাম। সায়ন এর ভালো নাম আত্মজিত্ তাও পালটে গেছিলো সে অন্য গল্প। স্কুলের সহকর্মী অনেকে বলতো শক্তি, এই নাম আমার ওমুকের বাচ্চার জন্যে দিই। উত্তর আরে না না, ওই নাম তোলা থাকবে আমার নাতিদের জন্যে। লালি এখন মাঝে মাঝেই বলে এখন দুটো নাম বেশ শোনা যায় ।মায়েরা কতো কিছু চায় ,হয় কি ?
এইবার সংক্ষেপে সায়ন এর নাম কাহিনী। ডাকে পাখি না ছাড়ে বাসা খনা বলেন সেই সে ঊষা। ব্রাহ্ম মুহূর্তে যখন রাত্রি এসে দিনের পারাবারে মেশে সেই সময়ে সায়ন মিঠুমাসির কোলে সক্রন্দনে পৃথীবির আলো দেখলো। পিতামহ খবর পাওয়া মাত্র নাম দিলেন প্রদোষ। তবু ষষ্ঠী পুজোর দিন ঠাকুমা ব্যস্ত। শঙ্খ'র ষষ্ঠী বাড়ীতে হয়নি, হাসপতালের কেবিনেই যেটুকু পারা যায়। এবারে বাড়ীতেই রাত ছয় দণ্ডের পরে, দণ্ডের হিসাব আমি ঠিক জানিনা, রাত ন'টা নাগাদ সাতটি অশথ বটের পাতায় হনুমান আদি সাত অমরের নাম লেখা হোল,প্রদীপের সাতটি সলতে, নাম বোধহয় আরও অনেক। সবাই বলে আমার নামটাই বেশি উজ্জ্বল হয়েছে। ওর বড়কাকু তখন রাজনৈতিক কারণে সরকারের রোষে দেশান্তরী, ইমার্জেন্সি তখন। মায়ের মন, ঠাম্মা কেবলই বলেন, ও শ্যামলের মতো দেখতে। শ্যামলের মতোই আঙ্গুল চোষে, অন্যরা কেউ বলে মায়ের মতো, কেউ বলে মামার মতো। কালে চেহারা পালটে সায়ন ওর বাবার মতো হয়ে গেলো, শঙ্খ প্রথম থেকেই ওই ছাঁদ। বাড়ীর ছেলের আত্মগোপনে কেউ স্বস্তিতে নেই, তবু নাম নিয়ে উত্সাহ। ক্রিকেটর কালীচরণের তখন খুব নাম। ক্রীড়াপ্রেমী ছোটকাকুর ইচ্ছা কালীচরণ খারাপ কি? বাবা মাঝেমধ্যে ওই নামেই ডাকেন, আমি ঠিক করেই রেখেছি সায়ন ডাকবো। টীকাকার সায়নাচার্য। মার্চের এইসময় অর্থাৎ সাতাশ মার্চ; একুশে থেকে এই সাত দিন সূর্যের সমান অয়ন তাই সায়ন। আর শ্রুতি মাধুর্য আছেই। সবাই পছন্দও করলো নামটা।
এইবার ভালো নাম? একবার বলি আত্মদীপের ভাই দীপাঞ্জণ? না দীপ্তদীপ। সায়ন বলে না আমার নাম কুপ্তকুপ, সবাই হেসে খুন। আবার বুদ্ধদেব। --আত্মম জিনেত। যাঁদের মনে আছে শ্লোকটা, তাঁরা একটু কোট করবেন প্লিজ? অর্থ আমার মনে আছে। -রাজ্য জয় করা কঠিন, শত্রু জয় করা কঠিন। সবচেয়ে কঠিন নিজেকে জয় করা, নিজেকে জয় করো। সায়ন ভালো নাম পায় আত্মজিত্। স্কুলে ওই নাম। প্রিপ্রাইমারীতেই বিপদ - আমরা শেখাই আততদীপ বাংলা উচ্চারণ বিধি তাই, আমরা পদম বলি না বলি পদদ। স্কুল বলে আতমজিত্। ছেলে পড়ে দোটানায়। প্রাইমারীতে আত্মজিত্ও সায়ন, তাও কেউ বলে সায়েম, কেউ কর ভৌমিকের কর সায়নের সঙ্গে জুড়ে সায়ংকর। ব্ন্ধুরা কেউ কেউ লায়নও ডাকে। কি আর করা।

শেষমেস আজকের গল্পই বলি। দাঁড়িয়ে আছি হসপিটালের রিসেপসনে এক মহিলা আর এক মহিলাকে বলছেন, -আপনার নাম শশী? ওতো ছেলে দের নাম। পুরুলিয়ার উচ্চারণে উত্তর --চাঁদ তো মেয়ে, সূর্য ছেলে। আমি ওপর পড়া হয়ে যোগ দিলাম, ছেলেরা হবে শশীভূষণ, শশীকান্ত এসব। পুরুলিয়া খুব খুশি ---দিদি ঠিক বলেছেন। তার পর কি মিষ্টি করেই হেসে বললেন, আমি যেদিন জন্মাই সেদিন ফাগুনের রাত, হাওয়া দিচ্ছে, আকাশ ঝড়ের মেঘে কালো, আমি জন্মেই চিল্লিয়েছি, আর বাবা দেখলো মেঘের ফাঁকে চান্দের পরকাশ। বাবা বললো বিটির নাম শশী।
নামের অবয়বে পিতার হৃদয় -আকাশের চাঁদের হাসি ঝিকোচ্ছে মেয়ের নামে।

আমি কল্পনা প্রবণ মানুষ, রাম না জন্মাতেই আমার রামায়ন। মাসতুতো ভাই অর্ঘ্য, ভেবে রেখেছি তার বউ এর নাম হবে অঞ্জলি -"নিমেষে নিমেষে নুতন নুতন অর্ঘ্যের অঞ্জলি" -হয় কখনো? অর্ঘ্যেরর ভালো নাম স্বপ্ন শোভন, আমারই দেয়া। ভেবেছি ওর ছেলের নাম হবে স্বপ্নিল। এটা বাস্তবায়িত হয়েছে।
সাধ ছিলো শঙ্খের বৌকে ডাকবো ঝিনুক। মুখভঙ্গীতে শঙ্খ আপত্তি করলো। ক্ষ্যান্ত হলাম। সায়নের বউ আসবে, ছোট বউ সে, আমারও ছুটি হবে, ছেলেদের খবরদারি থেকে। নাম দেবো ছুটি। সায়ন অপছন্দ ব্যক্ত করলো। ক্ষ্যান্তই হলাম। আরে শ্বশুর বাড়ীর নূতন নাম শুধু পিতৃ -পরিচয় ভোলানোর ষড়যন্ত্র নয়, নূতন নামে ডাকা, নূতন বাহু ডোরে বাঁধার আকাঙ্খা ও বটে।

নাতনী এলেন সবাই তুষ্ট নাম দিলাম তুষ্টু, ভালো নাম বৃতি, বাঁধনে থাকবে সুখের আনন্দে র মনমাতানো পাপড়ি সমূহ। পরেরটি শরন্যা-দুর্গা? লক্ষ্মী? যাই হোক্ ওর ভেতর শক্তি আছে, ডাকি দিঠি। সত্যিই ডাগর কাজল দিঠি ---আমার মন ভোলায় রে।
নাম নিয়ে আমার সপ্ত কাণ্ড ফুরোবে না। কিন্তু আপনাদেরও শোনাতে হবে, নাম কি হেলাফেলার জিনিস? নামে অনেক আসে অনেক যায়।

662 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: নামের বিবর্তন

আরিব্বাস! সকলেরই দেখি নাম নিয়ে গাদাগুচ্ছ কিসসা। আমি এমনিতে নিজের নাম নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। কিন্তু তাও বলে নামের ঝঞ্জাট কিছু কম পোহাই নি।

তবে কবিবরকে এবার থেকে আত্মজিৎবাবু বলে ডাকাই যায়
Avatar: Du

Re: নামের বিবর্তন

দুজনেরই তো এত সুন্দর নাম হয়েছিলো।
নামের গল্প খুব উপভোগ করলাম। আর মাসীমা অপরাধ না নিলে নাম নিয়ে আমিও একটু মজা করে নি~ই শক্তি না থাকলে কি আর এত বড় উপাধির কাফিলাটা ঠিকঠাক টানতে পারতো ঃ)
Avatar: মুনিয়া

Re: নামের বিবর্তন

ভারী সুন্দর লেখা!
শেষ না করে চোখ তুলতে পারা গেলনা।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নামের বিবর্তন

নাম নিয়া এত্তো কাণ্ড! লেহাডা সেরাম মুচমুচে হৈছে।

"ভ্রমর, গুফারে গুম পাড়া, রাইত হইছে"-- মৈমনসিং?
Avatar: র২হ

Re: নামের বিবর্তন

বিপ্লবদার প্রশ্নের উত্তরে এই লিঙ্কটা দিই

http://www.guruchandali.com/blog/2017/08/20/1503249722966.html?author=
kb.shakti

Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নামের বিবর্তন

হায় দেশ! :/

প্রশ্নটি না করলেই বোধহয় ভাল করতাম।
Avatar: kumu

Re: নামের বিবর্তন

আমার নামটি পরাজয়ন্তী হলেই ঠিক্ঠাক হতো।
Avatar: Rumpa Banerjee

Re: নামের বিবর্তন

এত্তো এত্তো নামের মধ্যে শেষতক কিনা আমার নামখানা এতো বিচ্ছিরি যে।।। কহতব্য নয়। লেখাটা নিঃসন্দেহে উপভোগ্য।
Avatar: paps

Re: নামের বিবর্তন

@Rumpa Banerjee, রুম্পা তো বেশ সুন্দর নাম।
Avatar: paps

Re: নামের বিবর্তন

@Kumu-di, জয়ন্তীর সাথে জয়-পরাজয়ের সম্পর্ক নেই তো। জয়ন্তী শব্দের মানে anniversary তো।আপনি বোধ হয় নিজের নাম নিয়ে self deprecating humor পেশ করতে চেয়েছেন।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: নামের বিবর্তন

@Rumpa Banerjee, রুম্পা আসলেই বেশ সুন্দর নাম। আরেক পোস্টে নামটি লিখতে গিয়ে বানান ফস্কে গিয়েছিল। সে তো হতেই পারে! :)

আমি ভাবছি, দেশহীন শক্তি দত্তরায়ের কথা।

তোমার লেখনি কি ভয়ংকর শক্তিশালী, #ব্রেভো! 👌


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন