শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায় RSS feed

শুভদীপ-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বসন্ত এসে গেছে

শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত।এমনিতে কলকাতা শহরে বাজি ছাড়া আর বিশেষ কিছু ফুটতে দেখা মুস্কিল। এমনকি মানুষও কোন খবর ছাড়াই হঠাৎ করে ফুটে যায়, অতএব এ শহরে ফুল ফুটতে দেখার প্রশ্নই আসে না। তবু কোথা থেকে যেন একটা বসন্ত এসে গেছে। রাস্তাঘাটে লাল, নীল, হলুদ, সবুজ, বাঁদুরে হরেক রঙ মেখে ভূত হয়ে ঘুরে বেড়ানো কলেজ ছাত্রছাত্রীর দল জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে। ফলত ছবি তুলিয়ে আর হতে চাওয়া চবি তুলিয়েরা ডিএসএলআর নিয়ে বেরিয়ে পরেছে শান্তিনিকেতন বা অন্ততপক্ষে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির উদ্দেশ্যে। বেরিয়ে পরেছে সেখানে কোথাও কোন সুন্দরী মহিলাকে দোল খেলতে দেখলেই ক্যামেরা উঁচিয়ে প্রায় ক্ষুধার্ত নেকড়ের মত ঝাঁপিয়ে পরবার মানসিক প্রস্ততি নিয়ে। এনাদের খুনে মানসিকতা দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই অবশ্য, জনশ্রুতি এই মুহুর্তে এ রাজ্যে প্রতি রঙ খেলুড়ে পিছু অন্তত পাঁচজন ছবি তুলিয়ে আছে আর কষ্ট না করলে কেষ্ট থুড়ি মামণিদের পাত্তা মেলে না অতএব বেচারাদের উপায়ই বা কি? আর যারা ল্যাদখোর, অদ্দুর যাবে না তারাও বাড়ির ছাতে গালে একটু আবির মেখে সেলফি তুলবে বলে তৈরি হচ্ছে, “এনজয়িং হোলি উইথ ৩৯ আদার্স “ উৎসব বলে কথা ।
অবশ্য ঠিক এরম না হলেও, আমাদের ছোটবেলাতেও দোল ছিল, হোলিও ছিল বোধহয়। সেলফি ছিল না, থাকলেও সম্ভবত তোলা হত না। আমাদের রঙ খেলার পর ছেলের মুখ আপন বাপ-মা ই চিনতে পারত না ফলে ফেসবুকের পিতৃদেবের সাধ্য ছিল না আমাদের চেনে। সাবান থেকে ছোবড়া সব কিছু ব্যবহার না করে কে যে কোন বাড়ির সু(!)সন্তান বোঝা বাপ-মার পক্ষেও বড়ই সমস্যার ছিল সেদিন। আবার আমাদের থেকে যারা কিছুটা বড়, মানে কচি কাঁচাদের গ্রুপ ছাড়িয়ে কিঞ্চিৎ ঢ্যাঙা হয়ে গেছে, তাদেরও তাদের মত দোল ছিল। তবে তারা যেহেতু বড়, ব্যাপার স্যাপারও একটু বড়সড় আর কি। মনে আছে এক বছর পাড়ার পুজোর তাম্রজয়ন্তী না রৌপ্য জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ফোয়ারা বানানো হয়েছিল। এ হল দুর্গাপুজোয় থিমযুগ আসার বেশ কিছুকাল আগের কথা। তা সে ফোয়ারা তো পুজোর পরই ডেকরেটর খুলে নিয়ে চলে গেছিল। থেকে গেছিল চৌবাচ্চাটা। দোলের সময় সে চৌবাচ্চা ভর্তি করে গোলা হল রঙ আর সে চৌবাচ্চায় চোবানো হল সকলকে। প্রথমে যারা রঙ খেলতে ইচ্ছুক তাদের, তারপর যারা খেলতে অনিচ্ছুক তাদের। সেসময় একটা লোক বাজারের থলে হাতে কোথায় যেন যাচ্ছিল। মুখ অবশ্যই রঙমাখা, এবং চেনার অযোগ্য। শোনা যায় তাকে চোবানোর আগে সে হাত পা ছুঁড়ে বাধা দিয়েছিল “আমি এ পাড়ার নই এ পাড়ার নই” বলে। তা রঙ মাখা মুখে কে পাড়ার কে বেপাড়ার কেই বা চেনে। আর এক ইলেকট্রিক মিস্তিরি পাড়ারই কোন একটা বাড়িতে কাজ করতে আসার সময় নাকি না বুঝে নিজেদের লোক ভেবে রঙে চোবানো হয়েছিল অতঃপর সে ক্ষুব্ধ হয়ে এ পাড়ায় ভবিষ্যতে না আসার প্রতিজ্ঞা করায় কিঞ্চিৎ হট্টগোলও হয়েছিল। তবে তাতে কেই বা কান দেয়? শাহরুখ তখন সদ্য সদ্যই বলে দিয়েছেন “বড়ে বড়ে দেশোমে ছোটে ছোটে গলতি হোতেই রহতে হ্যায়”।আরও বড়দের দোলে অবশ্য অনুপান থাকত। সিদ্ধি আমাদের ভিত্তি সুরা আমাদের ভবিষ্যৎ। সিদ্ধি বানানোর এক্সপার্ট হত সেকালে, সেরকম একজনের বানানো সিদ্ধি খেয়ে এক বন্ধুর দাদা একবার কিছুতেই নিজের বাড়ি চিনতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পাশের বাড়িতে ঘুমিয়েছিল। আর একজন শুনেছিলাম ট্রামকে বাঁয়ে কাটতে বলেছিলেন, ট্রাম অবশ্য বাঁয়ে কাটেনি, এবং তাকেও কাটেনি, অতঃপর নেশা কাটার পর তার মুখ থেকেই গপ্পটা শোনা।
আর একটা কথা না বললে বসন্তের গপ্প শেষ করা যায় না। প্রেম। বারন্দার সামনে ঘুরঘুর করার পর প্রথম বার সাহস করে একবার রঙ মাখিয়ে দেওয়ায় কিংবা শেষ পর্যন্ত সাহস না করে ওঠার অজস্র গল্প লেখা হত বা না লেখা থেকে যেত সেদিন। তখন নব্বইয়ের দশক, তখন আমরা সদ্য কৈশোর। আর এই গপ্পটা বোধহয় আজও বিশেষ বদলায়নি, বদলানোর কথাও ছিল না।






404 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Sutapa

Re: বসন্ত এসে গেছে

'আমাদের গেছে যে দিন , একেবারেই কি গেছে।।।' প্রশ্ন তোলা লেখা । মন ভরে গেলো।
Avatar: pi

Re: বসন্ত এসে গেছে

'প্রথম বার সাহস করে একবার রঙ মাখিয়ে দেওয়ায় কিংবা শেষ পর্যন্ত সাহস না করে ওঠার অজস্র গল্প লেখা হত বা না লেখা থেকে যেত সেদিন।।।।আর এই গপ্পটা বোধহয় আজও বিশেষ বদলায়নি, বদলানোর কথাও ছিল না।
'
এটা মনে হয় ঠিকই। এদিকে পড়লাম, জোর করে রং মাখিয়ে দেওয়া নাকি উত্তরভারতীয় কালচর। কী জানি। হয়ত কিছু সত্যতা আছে, কিছু জায়গায়। কিন্তু জেনেরাল্ল ভাবে বলা যায় ? উত্তরভারতে, কানপুরে, দোকে মুম্বইতেই হুলিয়ে হোলি খেলেছি। ঐ জোর করে কাদায় ফেলার একটা ব্যাপার বাদে বাকি অত কিছু লাগেনি।
কানপুরের হোলি নিয়ে বরং বড়ই মেদুরতা আছে। আর ঐরকম একটা হোলির দিনে, খেলার পরে সাইকেল করে ক্যাম্পাস চক্কর দিতে দিতে, আমার আগফার একটা খেলনা বাক্স নিয়ে, বুঝেছিলাম, রঙের উৎসব কাকে বলে। রঙের রায়ট। ওরকম বসন্ত আর দেখিনি।

কিন্তু সিদ্ধি আর ভাঙ আলাদা না ? আমরা তো দশমীর দিন সিদ্ধি আর দোলের দিন ভাঙ বলি। সিদ্ধি খেয়ে তো দিব্বি ঠিকঠাকই থাকি, কিন্তু ভাঙ খেয়ে যাতা, মানে যা হয়েছিল তা বলার নয় আর।



Avatar: শুভদীপ গঙ্গোপাধ্যায়

Re: বসন্ত এসে গেছে

আমি যতদূর জানি, ক্যানাবিস ইন্ডিকা গাছের পাতা শুকিয়ে যে গুঁড়োটা তৈরি করা হয় সেটা সিদ্ধি আর উদ্ভিতের সম্পুর্ণ উপরের অংশ শুকিয়ে যেটা তৈরি হয় সেটা ভাং। এবার বাঙালীর চলিত ভাষায় সবই সিদ্ধি, সবই ভাং আর কি।
Avatar: রিভু

Re: বসন্ত এসে গেছে

কারো বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, হোলিতে আবির মাখছে,
কারো বসন্ত বড়ই বোরিং, একা চাইনিজ খাচ্ছে।
কারো বসন্ত রং ঝিলমিল, হোয়াটস্যাপে রাত জাগছে,
কারো বসন্ত ডিপ্রেসনের, অঙ্ক কঠিন লাগছে।
কারো এই বসন্তে ভালোবাসাবাসি হবে, নেক্সট বসন্তে বাচ্ছা,
মাঝে শীতকালে স্পোর্টস বাকি আছে, সারে জাঁহাসে আচ্ছা;
কারো আবার বসন্ত কেটে যাবে একা, নিষ্ফল প্রেমহীন,
প্রেমের পদ্য অরূচি পথ্য, সাথী শুধু টিনটিন :/


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন