কুশান গুপ্ত RSS feed

নাম পরিবর্তন করি, এফিডেফিট বিনা।আসল নামে হাজার হাজার ডক্টর হাজরা আছেন, কে প্রথম জানা নেই, কে দ্বিতীয়, কে অদ্বিতীয়, এ ব্যাপারে ধারণা অস্বচ্ছ। অধমের ব্লগ অত্যন্ত ইনকনসিস্টেন্ট,কিছু বা খাপছাড়া, খানিকটা বারোভাজা ধরণের। কিন্তু গম্ভীর নিবন্ধের পর ক্লান্তি আসে, তখন কবিতা, তারপর ঘুম, ক্লান্তি ও নস্টালজিয়া। কোনো গন্তব্য নেই, তবু হাঁটতে হয় যেমন। একসময় অবকাশ ছিল অখন্ড, নিষিদ্ধ তামাশা লয়ে রংদার সমকাল চোখ মারিত। আজকাল আর মনেও হয় না, এ জীবন লইয়া কি করিব? আপনাদের হয়?

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জেঠু

Koushik Ghosh

প্রায় প্রত্যেক ক্লাশেই একজন মামা, জেঠু, কাকা বা দাদু থাকে। কে এই নাম দেয়, কি তার জেনেসিস, তা বেশ কুয়াশায় ঢাকা। তবে এই পরিবারতান্ত্রিক নামগুলি এত জনপ্রিয় হয় যে এদের আসল নাম ও পদবী বন্ধুরা একসময় ভুলে মেরে দেয়। প্রচলিত ডাকনামেই নামডাক হয় ইঁহাদের। ক্রমে ক্রমে বার্তা রটিয়া যায়, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক। ধীরে ধীরে নিজ-ক্লাশ ছাড়িয়ে, এই সমস্ত পারিবারিক নিকনেম, উঁচু, নীচু ক্লাশ ছাড়িয়ে, গোটা স্কুলে ছড়িয়ে যায়।

জেঠু নামে যার কথা বলছি সে ঈষৎ গাম্বু-প্রকৃতির। সে ক্লাশটিমের স্টপার পোজিশনে খেলত। এবং, তার এই স্টপারোচিত অবস্থান ও কর্তব্য সম্বন্ধে সে সম্যক ওয়াকিবহাল ছিলো। মাঝমাঠ থেকে বল হাফলাইনে আসা মাত্র জেঠু মাত্রাতিরিক্ত সতর্ক হয়ে উঠতো; তীর বেগে রোঁয়া ওঠা ষাঁড়ের মতো বল ধাওয়া করে সে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে বল ভাসিয়ে দিয়ে গদাই লস্করী চালে আবার নিজের জায়গায় আশ্বস্ত হয়ে ফিরে আসতো। জেঠু জানতো স্টপারের আশু কর্তব্য নিজ রক্ষণে আসা বল যত দ্রুত সম্ভব ক্লিয়ার করা। সে বল মাঠের মধ্যেই যাক, কি বাইরে, তাতে কিছু যায় আসে না। বল ক্লিয়ার হলেই, ব্যস, তুমি বিপদমুক্ত। বিপক্ষের প্লেয়াররা জেঠুকে সমঝে চলতো, কারণ সে কারণে-অকারনে যথেচ্ছ পা চালাতো। বস্তুত, দুই হাত যার সমান চলে সে সব্যসাচী হলে, দুই পা (প্রায়শই বল ছাড়া) যার সমান চলে তার নাম জেঠু। অফেন্স ইজ দা বেস্ট ডিফেন্স, এই আপ্তবাক্য জেঠু অক্ষরে অক্ষরে মানতো।

সেই জেঠু একবার বিপত্তি বাধালো। এইট-এ বনাম এইট-সি-র গ্রুপ লীগ চলছে। আমরা এইট-এ। এক গোলে আমরা হারছি, গোল শোধ দেওয়ার জন্য জেঠু জান বাজি রেখে নিজের স্টপার পোজিশন ছেড়ে বিপক্ষের পেনাল্টি বক্সে ঢুকে যায়। বিপক্ষের দুজনকে কাটিয়ে টিম-ক্যাপ্টেন শ্যামল গোলে শট করে, অসহায় গোলি দেখছে গোলে বল ঢুকছে, গোটা এইট-এ র ক্লাশ মাঠের বাইরে ‘গোওওল’ বলে লাফাচ্ছে, এমন অবস্থায় রেফারি বাঁশি বাজালেন, তবে গোলের নয়, জেঠুর দিকে ইংগিত করে অফসাইডের বাঁশি।

সে-ম্যাচ আমরা হেরে যাই। ম্যান অফ দা ম্যাচ ছিলো এইট-সির গোলদাতা গৌরব, আর ম্যাচের খলনায়ক ছিলো এইট-এ র জেঠু, যার আসল নাম আমরা প্রায় ভুলে গেছলাম।

নিজের চেনা স্টপার-অবস্থান ভুলে গিয়েই কি বিপক্ষের অচেনা পেনাল্টি-সীমানায় বিপন্ন জেঠু অফসাইডের ট্র্যাপে পড়ে গিয়েছিলো? কে জানে ?



424 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রৌহিন

Re: জেঠু

জেঠু থাকতে গোলটা খেলেন কী করে?
Avatar: Koushik Ghosh

Re: জেঠু

জেঠু থাকতেও আমরা গোল খেয়েছি। সে অন্য গল্প!!


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন