শারদ্বত RSS feed

[email protected]
শারদ্বত এর বিবিধ এঁচোড়ে পাকামি...

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সোনারপুরে সোনার মেলা
    শীত ভাল করে পড়তে না পড়তেই মেলার সীজন শুরু হয়ে গেছে। গুরু এবারে ওমনিপ্রেজেন্ট – গাদাগুচ্ছের মেলাতে অংশ নেবার মনস্থ করেছে। একেবারে সূচনাপর্বেই সোনারপুর মেলা – বোতীনবাবুর দৌলতে তার কথা এখন এখানে অনেকেই জানেন। তো সেই সোনারপুর বইমেলাকেই পদধূলি দিয়ে ধন্য করব ...
  • এন জি রোডের রামলাল-বাংগালি
    রামলাল রাস্তা পার হইতে যাইবেন, কিছু গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা চ্যাংড়া যুবক মোড়ে বসিয়া তাস পিটাইতেছিল— অকস্মাৎ একজন তাহার পানে তাকাইল।  রামলাল সতর্ক হইলেন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করিলেন, তুলিয়া, ক্ষীণকন্ঠে বলিলেন, 'জ্যায় শ্রীরাম।'পূর্বে ভুল হইত। অকস্মাৎ কেহ না কেহ পথের ...
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মিতাকে কেউ মারেনি

শারদ্বত

২০১৮ শুরু হয়ে গেল। আর এই সময় তো ভ্যালেন্টাইনের সময়, ভালোবাসার সময়। আমাদের মিতাও ভালোবেসেই বিয়ে করেছিল। গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে নবমীর রাত্রে আমাদের বন্ধু-সহপাঠী মিতাকে খুন করা হয়। তার প্রতিবাদে আমরা, মিতার বন্ধুরা, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে সোচ্চার হই। (পুরনো লেখার লিঙ্ক কমেন্টে রইল) সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের পাশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন বলেই গণমাধ্যম সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং, অবশেষে, প্রশাসনের টনক নড়ে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ১৭ই অক্টোবর সিআইডির হাতে মিতার হত্যা মামলার দায়ভার তুলে দেন, এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। আমরা ভেবে নিয়েছিলাম যুদ্ধ জয় হল। আমরা এবার নিশ্চিন্ত।

তারপর অনেকদিন কেটে গেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের স্মৃতি তো খুবই ক্ষণস্থায়ী... মিডিয়া, সোশ্যাল নেটওয়ার্কে নিত্য-নতুন ঘটনা একে অন্যকে ছাড়িয়ে যায়, ছাপিয়ে যায়। সেভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সকলের স্মৃতি থেকেই মিতা একটু একটু করে আবছা হয়ে যেতে যেতে হয়তো হারিয়েই গেছে। আর এদিকে, আমরা যারা ভুলিনি, তাদের ততই মনে হচ্ছে, আমরা হেরে যাচ্ছি। খুব ধীরে ধীরে, একটু একটু করে আমরা হেরে যাচ্ছি। এই আনুমানিক এক বছর চার মাসে তদন্ত ঠিক কতটুকু এগিয়েছে, আসলে তদন্ত হয়েছে কতটুকু, তদন্তকারী সংস্থা আসলে কার পক্ষ নিয়ে তদন্ত করছে, সে সব সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেনদের জানানোর একটা দায় থেকেই যায়, কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে আজ এই অবদিও আসা যেত না। বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে চেয়েও জানাতে পারছি না, কারণ, বিচারাধীন বিষয় ফাঁস করে দিলে বিচার-প্রক্রিয়ারই ক্ষতি হবে। অনেকগুলো জিনিস বাদ দিয়ে সংক্ষেপে বললেও এই লেখা একটু বড় হয়ে যেতে পারে। যদি আজ থেকে দেড় বছর আগের এই হত্যাকাণ্ড আমাদের মতই আপনাদেরও ব্যথিত করে থাকে, তাহলে আজও সবটুকু পড়ে ওঠার ধৈর্য, আমরা, মিতার আত্মীয়-সহপাঠী-বন্ধুরা আপনাদের থেকে আশা রাখতেই পারি, যে আশা আপনারাই দিয়েছেন। লেখাটি পড়া হয়ে গেলে আপনার বন্ধুতালিকার বাকিদের জানানোর জন্য শেয়ার করে দিলে আমাদের খুব উপকার হয়।

মিতার মৃত্যু ঘটে ১০ই অথবা ১১ই অক্টোবর (সঠিক সময় ঠিক জানা নেই, পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট নিয়ে আমাদের সংশয় আছে)। ভোর ৫টার সময় মিতার দেহ আনা হয় সঞ্জীবন হাসপাতালে। সি আই ডি বলেছে, মিতাকে নাকি রাত ৩-৩০ নাগাদ উদ্ধার করে রানা মণ্ডল, এখানেই এতক্ষণ দেরি কেন? বেলা ৮-৩০ নাগাদ যখন মিতার পরিবার উলুবেড়িয়া থানায় গিয়ে জানতে পারে, তখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ এসে পৌঁছয়নি, অর্থাৎ হাসপাতাল থেকে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। কারণ, থানা জানায়, হাসপাতাল থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশই ভিক্টিমের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করত। এদিকে, হাসপাতালেও মৃতদেহের ধারেকাছে মিতার শ্বশুরবাড়ির কেউ ছিল না। হাসপাতাল থেকে থানা একদমই ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব। তাহলে কি আমরা ধরে নেব যে, একদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও অভিযোগ দায়ের করেনি, অন্যদিকে যারা মৃতদেহ নিয়ে এসেছে, তাদেরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দিয়েছে? হাসপাতালে রানা মণ্ডল ও তার পরিবারের প্রভাবেই যে এমন ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা আগেই লিখেছিলাম।

সিআইডি তদন্তভার নেয় ১৭ই অক্টোবর। ততদিন পর্যন্ত ঘর সিল হয়নি। প্রমাণ লোপাট করার সমস্ত সম্ভাবনাই খোলা রাখা হয়েছিল। সিআইডি তদন্তভার নেওয়ার পরে আমরা হাওড়ার সিআইডি দপ্তরে দেখা করতে যাই, ও সুষ্ঠু তদন্তের আবেদন জানাই। অভিযুক্ত রানা মণ্ডল ও তার পরিবার যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে তদন্তকে প্রভাবিত করছে, স্থানীয় সূত্রে আমরা এমন খবর পেয়েছিলাম। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত বলে আমাদের সন্দেহ হয়েছিল। রানা মণ্ডলের এক মেসোর ওষুধের ব্যবসা, তিনি মর্গে প্রভাব খাটিয়েছেন, এমন সন্দেহের কথা আমরা সি আই ডি কে জানিয়েছিলাম। সি আই ডি জানিয়েছিল, তারা সমস্ত কিছুই খুঁটিয়ে দেখবে। প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টটিকেও তারা ‘ফরেন্সিক’(?) করে দেখবে। আমরা বলেছিলাম, অভিযুক্ত ও তার পরিবার যেন জামিন না পায়... সিআইডি জানায়, এরকম ক্ষেত্রে তারাই জামিনের বিরোধিতা করবে ও এই সংক্রান্ত কোনো খবর হলে তারা নিজে থেকে আমাদের জানাবে। বলা বাহুল্য, এর একটিও তাদের কথা মত ঘটেনি। তারা কোনোকিছুই খুঁটিয়ে দেখেনি। গুরুত্ব দিয়ে আমাদের অনুরোধও শোনেননি। তারা জামিনের বিরোধিতা কতদূর করেছিল, এ বিষয়েও আমাদের সন্দেহ থেকে গেল, কারণ, মিতার শ্বশুর-শাশুড়ি-দেওর, সবার জামিনের খবরই আমরা সংবাদপত্র পড়ে জানতে পারি। এমনকি, রানার জামিনও এমন নিশ্চুপেই হয়ে যায়। যদিও এর মধ্যে সিআইডির হাওড়ার অফিস ও ভবানী ভবনে অনেকবারই আমরা দৌড়াদৌড়ি করেছিলাম, তখন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার কোনো অফিসারই আমাদের তদন্তের ‘অগ্রগতি’র কথা জানানোর দায় দেখাননি।

এভাবেই ২০১৭-র জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি থেকেই যখন আমরা বুঝে যাই, এই তদন্ত যেদিকে এগোচ্ছে, আমরা পাল্টা চেষ্টা না করলে কোনো লাভ হবে না। এর পর মিতার ছোড়দা, খোকন দাস নিম্নলিখিত বিভাগগুলিতে পুনর্তদন্ত, সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে যোগাযোগ করতে শুরু করেন –
মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও নবান্ন (৮-৯ বার)
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (৩-৪ বার)
জাতীয় মহিলা কমিশন (৩-৪ বার)
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (৪-৫ বার)
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (৩-৪ বার)
রাষ্ট্রপতির বাসভবন (তৎকালীন ও বর্তমান) (২-৩ বার)
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রক (৩-৪ বার)
আইন ও বিচার মন্ত্রক (২-৩ বার)
স্বাস্থ্য মন্ত্রক (২ বার)
- এই দপ্তরগুলি থেকে কিছু কিছু চিঠি রাজ্যে ফরোয়ার্ড করা হয়ে থাকে, যার ফলে ৭ই মার্চ নবান্ন থেকে ফোন করে মিতার পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ৮ইমার্চ সকাল ১০টায় দেখা করতে বলা হয়। সেখানে প্রাই আড়াই-তিন ঘন্টা অপেক্ষা করার পর এক অফিসার বেরিয়ে আসেন। তিনি তদন্ত নিয়ে কোনো অভিযোগ শুনতেই রাজী হননি। মিতার দাদা যখন একের পর এক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন, তখন অফিসার পাল্টা বলেন, ‘তুমি কি এক্সপার্ট?’... এর পরও মিতার পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চার-পাঁচ মিনিটের জন্য সাক্ষাৎ করতে চাইলে তাঁদের অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী জরুরি কাজে বেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে দেখা হয় না। এর পর অন্য এক অফিসার বেরিয়ে এসে বলেন, ১৫ই মার্চ উলুবেড়িয়া কোর্টে শুনানি আছে, তাই এই প্রসঙ্গে তাঁরা আর কোনো সহায়তা করতে পারবেন না। পরে জানা যায়, রানা মণ্ডল তার আগের দিনই, অর্থাৎ ৭ই মার্চ জামিন পেয়ে গেছে, অথচ কোনো অফিসারই সেটা আমাদের জানাননি, সিআইডিও জানায়নি, এবং, ১৫ই মার্চও উলুবেড়িয়া কোর্টে শুনানির তারিখ ছিল না, ছিল ২২শে মার্চ। এত অব্যবস্থা কেন? এত অসহযোগিতা কেন?

এর আগে, ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ভবানী ভবনে ডেকে আমাদের বোঝানো হয়, চার্জশিটে কোন কোন ধারা কেন রাখা হয়েছে। সি আই ডি খুনের ধারা (ধারা ৩০২) তুলে নিয়েছে, অর্থাৎ সি আই ডির মতে এটি খুন নয়। তাহলে নিশ্চয়ই এটা আত্মহত্যা? কিন্তু একজন কোনও প্ররোচনা ছাড়া কি আত্মহত্যা করে? কিন্তু আমরা দেখি, সি আই ডি মনে করছে, মিতার মৃত্যুতে কেউ প্ররোচনাও দেয়নি, কারণ, চার্জশিট থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারা ৩০৬ও দেওয়া নেই। পড়ে রয়েছে কেবল দুর্বলতম ধারা, পণের জন্য বধূহত্যার ধারা ৩০৪বি। কিন্তু, পণের কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে বিয়ের সময় পণ হিসেবে নেওয়া দ্রব্যগুলি(গয়নাগাঁটি, টাকাপয়সা) ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে ধারাটি যুক্ত করতে হয়, সেটিও সিআইডি যুক্ত করেনি। অর্থাৎ, সিআইডির তদন্ত থেকে আমরা জানতে পারলাম,
১. সি আই ডির মতে, মিতাকে কেউ খুন করেনি, খুনের চেষ্টা করেনি, মিতা আত্মহত্যা করেছে।
২. কিন্তু, সি আই ডির মতে, মিতার আত্মহত্যায় কেউ প্ররোচনাও দেয়নি।
৩. সি আই ডি মনে করছে, মিতাকে ‘বোধহয়’ পণের জন্য মরতে হল।
৪. আবার, পণের জন্য বিবাহের সময় যে সমস্ত দ্রব্য পাত্রপক্ষ পেয়েছিল সেগুলিও ফেরত দেবার কোনও প্রয়োজন নেই।
তাহলে, সি আই ডির তদন্তের ফলে, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে, “মিতা নবমীর রাত্রে নিজের হঠাৎ খেয়ালে এমনিই মরে গেল।”- এই বাক্যটি।

এর পরেই, হাইকোর্টের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় (Sabyasachi Chatterjee) এবং সৌরভ মণ্ডলকে (Sourav Mondal) আমরা অনুরোধ করি, এই মামলার দায়িত্বভার নিতে। আমরা সিবিআই তদন্ত চাই। সিআইডি তদন্তের নামে যে কী রকম প্রহসন করেছে, এতক্ষণে নিশ্চয়ই সকলের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। এই প্রহসনে আমাদের আস্থা নেই।

আরও কয়েকটি কথা –

১. উলুবেড়িয়ার স্থানীয় সূত্র থেকে কয়েকটি কথা আমাদের কানে এসেছিল। কথাগুলি হল এই – নবমীর রাত্রে মদ খেয়ে রানা মণ্ডলের ভাই রাহুল মণ্ডল তার বন্ধুবান্ধব সহ মিতার ওপর সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট করার চেষ্টা করে। বাধা পেয়ে তারা মিতাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। অজ্ঞান হয়ে গেলে অজ্ঞান অবস্থাতেই তাকে গলায় ওড়না/শাড়ি বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়, তখনই মিতার মৃত্যু ঘটে।
অর্থাৎ, এই সূত্রের মতে মিতা-হত্যাকাণ্ডের মূল অপরাধী তার ভাই। এটিও মিতার মৃত্যুর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে আমাদের মনে হয়েছিল। আমরা সবই সিআইডিকে জানিয়েছিলাম। বলা বাহুল্য সেসব নিয়ে সিআইডি মাথা ঘামায়নি। সি আই ডি কি অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমাণ করতেই নেমেছে কেবল?

২. মিতার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ছিল -
https://www.facebook.com/munmun.das.54966

রানা মণ্ডলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হল –
https://www.facebook.com/rana.mondal.963

রানা মণ্ডল ৭ই মার্চ জামিনে ছাড়া পাওয়ার খবর আমাদের কাছে আসতেই আমরা তার ফেসবুক প্রোফাইল নজরে রেখেছিলাম। ৮ই মার্চ ফেসবুকে এসে সে নিজের প্রোফাইল পিকচার ফটো ও কভার ফটো বদলায়। সেখানে তার বন্ধুরা তাকে ‘জো জিতা ওহি সিকন্দর’ ইত্যাদি বলছে, আমরা দেখতে পাই। তখনও মিতার প্রোফাইলে লেখা ছিল ‘ম্যারেড টু রানা মণ্ডল’। তা দেখে আমাদের অস্বস্তি হলেও কিছু করার ছিল না। হঠাৎ, গত ২০১৭র নভেম্বরে দেখি, আমরা কেউই মিতার প্রোফাইল খুঁজে পাচ্ছি না। রানার প্রোফাইলও না। যাদবপুরের বন্ধুদের পুরনো ছবির ট্যাগলিস্ট থেকেও মিতা উধাও। মিতার কোনও ছবিও ফেসবুকে নেই, কেবল আমার প্রোফাইলে মিতা মারা যাওয়ার পর যে ক’টি ছবি ছিল, ফেসবুক জুড়ে শুধু সেই কটি ছবিই পাওয়া গেল। বন্ধুদের অনেক চেষ্টার পরে মিতার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানে মিতার কোনও ছবি নেই। মৃত মিতা, রানা জামিন পাওয়ার পরেই হঠাৎ কীভাবে না জানি নিজের সমস্ত ছবি ফেসবুক থেকে মুছে দিয়েছে, নিজের বন্ধু তালিকা থেকে সমস্ত বন্ধুকে বাদ দিয়ে দিয়েছে একটা মরে যাওয়া মেয়ে। কেবল, তার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে লেখা আছে, Married to Rainy Day… আমরা রেইনি ডে নামক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে গিয়ে দেখি ওপরে অ্যাড্রেস বারে https://www.facebook.com/rana.mondal.963 লেখা থাকলেও প্রোফাইলের নাম লেখা আছে ‘Rainy Day’।

রানা, জামিনে মুক্ত হয়েই ফেসবুক থেকে সমস্ত প্রমাণ এক এক করে মুছে ফেলতে তৎপর হয়েছে। নিজের নাম বদলেছে, নিজের সমস্ত ছবি ডিলিট করেছে, (তার কাছে মিতার প্রোফাইলের অ্যাক্সেস ছিল, অনেক প্রেমিক প্রেমিকা যেমন একে অন্যের প্রোফাইলের পাসওয়ার্ড জানে, সেরকমই)। রানা মিতার প্রোফাইলে ঢুকে মিতার ফ্রেন্ডলিস্ট ডিলিট করেছে, মিতার সমস্ত ছবি, তথ্য বদলে দিয়েছে, মুছে দিয়েছে। মিতার ফেসবুক মেসেজেই হয়তো প্রমাণ ছিল, কেন মিতাকে পুজোর আগেই হঠাৎ গর্ভপাত করাতে হয়েছিল... রানারা কোনওদিকে ফাঁক রাখতে চায় না।

আমরা সিআইডির ডি আই জি অপারেশনকে সমস্তটা জানিয়ে চিঠি লিখি। তার পরে কী হয়, তাঁরা কিছুই জানান না। কিন্তু, এই লেখা লিখতে বসে মিতার প্রোফাইল চেক করার সময় দেখি ‘Married to Rainy Day’ নামক রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসটাও নেই আর। সি আই ডিকে জানানোর পর রানা সেটুকুও মুছে দিয়েছে। আচ্ছা, রানা কীকরে জানতে পারল, আমরা ওর ফেসবুক অ্যাক্টিভিটির ওপর নজর রাখছি? আমরা তো একথা কেবল সিআইডিকে জানিয়েছিলাম!

** রানা মণ্ডলের অ্যাকাউন্ট আবার স্বনামে ফিরে এসেছে এই লেখা ফেসবুকে দেওয়ার পরেই। পরে একটি স্ট্যাটাসও এসেছে, আগ্রহীরা লিঙ্ক ফলো করে দেখে আসতে পারেন।

৩. আপনারা সবাই জানেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ডিজিকে পাশে রেখে বলেছিলেন, এই পরিবারটিকে আমি একটা চাকরি দিচ্ছি। একটা পরিবারকে আমরা বাঁচিয়ে দিলাম। মিতার ছোড়দা, বড়দাকে অনুরোধ করে চাকরি নিতে। বড়দা কেবল মাধ্যমিক অবদি পড়েছেন, তারপর ইলেকট্রিকের কাজ শিখেছেন, বাজারে মাছ চালানের কাজও করেন। তিনি চাকরি করতে রাজী হয়ে দেখেন, এই চাকরির মাইনে মাত্র ২০০০ টাকা। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, মাত্র দুই হাজার টাকা। এই চাকরি এখনও পার্মানেন্ট হয়নি। মিতার পরিবার এটুকু কেবল জানেন, ‘বড়র পিরীতি বালির বাঁধ’ – রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ কর্ত্রীর দেওয়া চাকরি, সে যতই কম মাইনের হোক না কেন, দরমার ঘরে বাস করা শাড়ির দোকানে মাছের দোকানে কাজ করে মাস চালানো ছোড়দা-বড়দার পক্ষে তা পায়ে ঠেলার সাধ্যি নেই। সেই চাকরি এখনও চলছে। আবার শুনতেও হচ্ছে, ‘তোরা তো বোনের মৃতদেহের বিনিময়ে চাকরি নিয়ে বিকিয়ে গেছিস!’ কী মজার অবস্থা, তাই না?

৪. আমাদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় ও সৌরভ মণ্ডল প্রথম থেকেই বলেছেন, এই মামলায় তাঁরা একটি পয়সাও নেবেন না। উলটে কিছু অর্থসাহায্য তাঁরাই করছেন। এ আমাদের পরম সৌভাগ্য হলেও, লোয়ার কোর্ট, হাই কোর্টে দৌড়াদৌড়ি করতে বিভিন্ন কাগজপত্র বের করতে, বিভিন্ন আবেদন করতেও একটা ন্যূনতম টাকার খরচ থাকেই। আমরা, মিতার বন্ধুরা এখনও কেউই প্রতিষ্ঠিত হইনি। সামান্য সাহায্য করতে পারলেও, মিতার পরিবারকে মামলা চালানোর মত ন্যূনতম অর্থসাহায্য করার ক্ষমতা আমাদের নেই। মিতার দাদা যে চাকরি করে, সেই শাড়ির দোকানের সেলসম্যানের কাজে এক একদিন কামাই করলেই মাইনে কাটা যায়, তবুও মাইনে কাটিয়ে কাটিয়েই সে বিভিন্ন কোর্টে, বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা তাই ভাবছি কম করেও যদি একটা ছোট ফান্ড করা যায়, তাহলে মামলা চালাতে মিতার পরিবারের সুবিধা হয়। আপনাদের ইচ্ছে হলে মিতার ছোড়দাকে সামান্য অর্থসাহায্য করতেই পারেন, যে যেমন পারেন–

নাম – Khokon Das
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর – 36519165414
আইএফএসসি কোড – SBIN0004140
পেটিএম – 9007773295

এটুকুই আপাতত। আশা করি এই সুদীর্ঘ লড়াইতে আপনারা মিতার পাশে থাকবেন।

- মিতার পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীরা

359 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: মিতাকে কেউ মারেনি

তুললাম।
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: মিতাকে কেউ মারেনি

এই সব খবরে খুব অস্বস্তি হয়, বিবমিষা লাগে। নিশ্চিত জানি, আইনের ফাঁক গলে অভিযুক্ত রানা মণ্ডলরা বার বার পার পেয়ে যাবেন, মিতা হত্যার সুবিচার হয়তো হবে না।

এপারে এমনই অবিচার চলছে বছর ছয়েক আগে খুন হুওয়া সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যার বিচার নিয়ে। বিচার চাইতে চাইতে সাংবাদিক সহকর্মীদের গলাও ক্রমে ধরে আসছে!

লেখায় ফেসবুক প্রোফাইল বদলের পর্বটি অহেতুক মনে হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের চেয়ে সাইবার অপরাধ খুব সামান্যই, ফোকাসটি ঝাপসা হতে পারে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন