Malay Bhattacharjee RSS feed

Malay Bhattacharjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

Malay Bhattacharjee

দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল
দুধেতে পটিতে
*******************

“স্যার , আর ইউ শিওর ইউ ওয়ান্ট টু টেক দিস সীট ?”

“কি ব্যাপার বলুন তো ? আমি সবসময়েই টিকিট বুকিং এর সময় ওই সীট টাই চাই। লম্বা লম্বা পা গুলো ছড়িয়ে বসা যায়। এত লম্বা ফ্লাইটে খুবি সুখকর। কোনবারেই টিকিট বুকিং এর সময় আপনারা এই সীট গুলো ফ্রী রাখেন না। আর এয়ারপোর্টে এসে কোনবার পাই ও না। তা এবার যখন খালি আছে, বারবার জিজ্ঞাসা করছেন কেন ?”

“ না স্যার, আসলে আপনার পাশের সীট টা এক ইনফ্যান্ট ফ্লাই করছে, মা আছে অবশ্যই সাথে। আসলে অনেকেই লং ফ্লাইটে ইনফ্যান্ট দের পাশে ট্রাভেল করতে চান না। আপনার আপত্তি না থাকলে দিচ্ছি ইস্যু করে।“

যাচ্ছি জার্মানী। একটা জরুরি মিটিং এ। এই তো কয়েক বছর আগের ঘটনা। প্রথমে দুবাই। তারপর দুবাই থেকে ডুসেল্ডর্ফ।

ফ্লাইটে উঠে দেখি তেনারা আগেই উঠে বসে আছেন। মেয়েটির বয়স কত হবে ? উনিশ,কুড়ি, একুশ, বাইশ… । আমি আবার মেয়েদের বয়স আন্দাজ করতে পারিনা। মাঝে মাঝেই বউ ঝেড়ে দেয়, “ কি এত বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলোর প্রোফাইল পিকচার এ লাইক মারো?” যাক গে ...
স্যুটকেস টা ওপরে তুলে বালিশ কম্বল হেডফোন গুছিয়ে ভালো করে বসে একটা ম্যাগাজিন হাতে নিতেই পাশ থেকে আওয়াজ এলো...

“ আংকেল আপনি কতদূর যাবেন ? “

“ ডুসেল্ডর্ফ- জার্মানী। আপনি ?”

“ নিউইয়র্ক”

“সাথে কেউ নেই, এভাবে একা একা বাচ্চা নিয়ে...”

“একা যাওয়ার অভ্যাস আছে, তবে বাচ্চা নিয়ে এই প্রথম। হাসবেন্ড নিউইয়র্কে চাকরি করে। ছুটি পায়নি, ভিসার ও কি সব সমস্যা। তাই... তবে আপনি আছেন তো , সামলে নেবো।“

আমি মনে মনে ভাবছি, “আমি আছি মানে ? আমি কি করবো ?” তখন যদি জানতাম...

টেকঅফ করতেই, মেয়েটি নিজের সামনে রাখা হ্যান্ডব্যাগ খুলে একটা স্যানিটাইজারের শিশি বের করে ...

“ নিন আংকেল, হাতটা স্যানিটাইজ করে নিন।“

আমি তখন পুরো বেওকুফ। কেন ? আমি কেন? আমার হাত কেন ? এসব প্রশ্ন মনের ভিতরে ঘুরঘুর করছে। কিন্তু কাজ করছি ও যা বলছে তাই। বেশ করে হাত স্যানিটাইজ করে নিতেই বাচ্চাটা চোখ খুলে চাইলো। আর তার চোখ খুলতেই নজর গেলো আমা্র দিকে।

আহা কি প্রাণ ভোলানো হাসি ...

“একটু কোলে নেবো?”

“একটু কেনো, নিন না , যতক্ষন খুশি নিন।ও কাঁদে না তবে ওই একটু ভ্রুরররর ভ্রুররর করে।“

বেশ মিস্টি একটা বাচ্চা, গদগদে গাবলু। কোলে নিয়ে একবার কুটুকুটূ করেছি কি করিনি... ভ্রুরররররররর করে একমুখ ভর্তি থুতু ভরিয়ে দিলো আমার মুখ চোখ।

কোথায় যেনো একটা চিড়িয়াখানায় একটা লামার সাথে আদিখ্যেতা করতে গিয়ে সারা গা থুতু মেখে ফিরেছিলাম। মনুষ্যপ্রজাতিতেও এরকম থুতুশিশুর সাথে এই আমার প্রথম পরিচয়।

তখন ব্রেকফাস্ট সার্ভ করা শুরু হয়ে গেছে। মেয়েটি আমাকে প্রথমে খেয়ে নিতে বলে থুতুশিশুকে কোলে নিতেই সে মাকেও দিল একদলা ভ্রুরররর। মেয়েটি দেখলাম একদম প্রস্তুত। চট করে ব্যাগ থেকে বেশ কিছু টিসু পেপার বের করে আমার হাতে দিয়ে বললো, রাখুন আংকেল। আগামী চার পাঁচ ঘন্টা কাজে লাগবে। আরো চাইলে আরো আছে।

মার কোলে দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে স্বাভাবিক দায়িত্ব থেকেই বললাম “ এবার তুমি খেয়ে নাও, আমি ওকে নিয়ে ঘুরছি।“

এয়ারহস্টেস কে ডেকে বেসিনেটে বাচ্চাদের বিছানাটা লাগিয়ে দিতে বললাম। যাতে ঘুমোলেই শুইয়ে দিয়ে একটু শান্তিতে বসতে পারি।

বিছানা লাগানোর পরে শোয়াতে গিয়ে দেখি চিত্তির। বাচ্চাটা বিছানার চেয়ে জাস্ট কয়েক ইঞ্ছি লম্বা হয়ে গেছে। পা ধরছে না। এইভাবে এয়ারহস্টেস রাও রাজি নয় বাচ্চাটাকে ওখানে শুতে দিতে।এক্সিডেন্ট হতে পারে। অতএব, কোল ছাড়া গতি নেই। বলাই বাহুল্য, এয়ারহস্টেস মহিলাটিও একদলা ভ্রুরররর খেয়ে গেছেন যতক্ষন বাচ্চাটাকে বিছানায় ফিট করানোর চেষ্টা করছিল যখন।

অগত্যা নিরুপায় আমি শুরু করলাম কোলে নিয়ে ঘোরা। এমাথা থেকে ওমাথা। বাচ্চাটার একটা ব্যাপার খেয়াল করছিলাম। ও কিন্তু নিজে থেকে ভ্রুররর করছিল না। ওকে ট্রিগার করতে হচ্ছিল।

নানা দেশের নানা ভাষার লোকজন ফ্লাইটে। বাচ্চা দেখলেই আদিখলা হয়ে হ্যালো, পুচুপুচু ,কুটুকুটু, কিউট বেবি চালু হয়ে যায়। এ ব্যাটা ওরকম প্রত্যেক টা পুচুপুচুতে, কুটুকুটুতে উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে মুখ ফিরিয়ে একদলা ভ্রুরররর ছাড়ছিলো। আমিও মোটামুটি রিফ্লেক্সে পকেট থেকে টিসু পেপার বের করে মুছে মুছে আবার ফাঁকা পিচ রেখে রেখে যাচ্ছিলাম নেক্সট ভ্রুরররর এর জন্য।

মিনিট পনেরো ঘোরার পর, মনে হল এবার নিশ্চই ওর মায়ের খাওয়া হয়ে গেছে। যাই , যার গোপাল, তাকেই দিয়ে বসি গিয়ে আরাম করে।
সীটে ফিরে আমার চক্ষু চড়কগাছ। খাওয়া তো শেষ বটেই, তিনি হাতে মেহেন্দি লাগানো শুরু করে দিয়েছেন !!

“আংকেল, আসলে না কাল ওর বন্ধুর ম্যারেজ এনিভার্সারি। ওখানে পৌঁছে আর সময় পাবো না। এখন লাগিয়ে নিলে, দু তিন ঘন্টায় শুকিয়ে যাবে। আপনি প্লীজ একটু যদি হেল্প করেন। কোলে কোলে রাখা, মাঝে একবার খাইয়ে দেওয়া... আমি দেখিয়ে দেবো, আর ন্যাপি মনে হয় না বদলাতে হবে।প্লীজ আংকেল...”

কতটুকুই বা বয়স ? আমার মেয়ের থেকে এক দু বছরের বড় হবে। এটুকু মেয়ে, বিয়ে করে মা হয়ে গেছে। কতটুকু ম্যাচিওরিটিই বা প্রত্যাশিত ? ভেবেছিলাম ফ্লাইটে বাহুবলীটা এবারে দেখবোই। যাকগে, বাহুতে বালগোপাল নিয়ে বল্লে বল্লে করে বেড়াই, আর কি ?

তারপর কিভাবে সেই মেয়েটির ব্যাগ থেকে দুধের বোতল, সেই স্প্যানিশ এয়ারহস্টেসের থেকে গরম জল নিয়ে দুধ বানানো, খাওয়ানো ... এ যদি আমার বউ দেখতো তাহলে তিনদিন মুখ ঝামটা খেতাম... “ নিজের মেয়ের বেলায় তো কুটোটি নাড়তে দেখিনি। এবার তো বেশ পারলে দেখি... ইত্যাদি ইত্যাদি ইতির আদি।“

খাইয়ে দাইয়ে আবার তাকে নিয়ে ঘোরা শুরু করেছি। সে বাচ্চাও ঘুমোয় না মোটে। মাঝে একবার ঢেকুর তোলাতে গিয়ে মুখ দিয়ে ছানা বের করে এনেছি।পাশ থেকে ফুটকাটা মন্তব্য কানে ভেসে এসেছে..

.” অনেক বয়সে বাবা হয়েছে, সামলাতে পারছে না বেচারা।“

ভাবছিলাম ঘুরে দাঁড়িয়ে দেই...

“ আজ্ঞে না মাসীমা, প্রায় ওর মায়ের বয়সী আমার মেয়ে আছে। আপনি যেটা ভাবছেন সেটা খুব একটা স্বচ্ছ ভাবনা নয়।“ তারপর মনে হয়েছে, থাক গে । কে কি ভাবলো তাতে কি এল গেল ?

ব্যাস, শুধু এটুকুই বাকি ছিল। নাকে একটা দুর্গন্ধ আসছিল। ওর মায়ের কাছে নিয়ে যেতেই বুঝে গেলাম বাকিটা। ব্যাগের কোথায় হাগিস আছে দেখিয়ে আর নিজের দুহাত বের করে কাঁচা মেহেন্দির সাথে করুণ একটা চাউনিতেই বুঝে গেলাম আংকেলকে কি করতে হবে !! স্বর্গের পরীর মত হাজির হল সেই স্প্যানিশ আকাশললনা। তার কাছে পুরো স্যারেন্ডার করে দিলাম। খাওয়ানো, ঢেকুর, ছানা,ভ্রুরররর সব ঠিক আছে, এটা হবে না আমার দ্বারা।

সে মেয়ে দেখি তুখোড় এক্সপার্ট। সটাং কোলে নিয়ে টয়লেটে বাচ্চাদের ধোয়ানোর ট্রে খুলে চটপট ধুয়েমুছে হাগিস বদলে একদফা ভ্রুরররর খেয়ে যখন আমার দিকে তাকিয়েছে, আমি তখন জিজ্ঞাসা করেই ফেলেছি “ তোমার বাচ্চা আছে বুঝি?” । সে হেসে কুটিপাটি “ নো নো স্যার, উই আর ট্রেইন্ড”

দুবাই তে নেমে, নিউয়র্কের ফ্লাইটের গেটে দুজন কে ছেড়ে বিদায় নেবার আগে একবার গাল টিপে আদর করতে হাত বাড়িয়েও চমকে পিছিয়ে নিলাম। আর ভ্রুরররর খাবার ইচ্ছা ছিল না। মনে হচ্ছিল কখন স্মোকিং লাউঞ্জে ঢুকে একটা লম্বা টান দেবো।

প্রায় আরো সাত ঘন্টা ট্রাভেল করে জার্মানীর হোটেলে ঢুকে জামাটা ছাড়তেই গন্ধটা নাকে এসে লাগলো। নাকে লাগিয়ে বুক ভরে শুঁকে নিলাম দুধের, বমির,বাচ্চার খুব চেনা একটা গন্ধ। না হয় খেলামই বেশ খানিকটা থুতু, ফিরিয়ে তো দিলো দু যুগ আগে ফেলে আসা সেই বছর গুলো , সেই চেনা গন্ধগুলো, ...।

থাক , এই জামাটা লন্ড্রীতে দেবো না এখনি।
********************************************

সবাইকে নতুন বছরের অনেক শুভেচ্ছা । চলুন এগিয়ে যাওয়া যাক।
ভ্রুরররররররররররররররর……

510 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dc

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

হুঁ সেই দুধ দুধ গন্ধটা। কিছুদিন আগেও পেতাম, এখন আর পাইনা।
Avatar: pi

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

ভ্রুর্র্র্র্র্র্র্র.... ঃ)
Avatar: kumu

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

বেশ লাগলো পড়তে,এক ঝলক তাজা হাওয়া।
তবে ঐ মেহেন্দীকন্যাকে বাচ্চা ফিরিয়ে দিলে আরো বেশ লাগত।
Avatar: শঙ্খ

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

কুমুদির সঙ্গে একমত ;) এই জন্যেই বাসে লেখা থাকে 'মালের দ্বায়িত্ব আরোহীর'।
Avatar: kumu

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

হ্যাঁ,অন্যকে পরিশ্রম করিয়ে যে মেহেন্দী শুকোয়,তাকে কান মলে দিতে হয়।
আমি কি খুবি খিটখিটে হয়ে যাচ্চি?
Avatar: বিপ্লব রহমান

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

বেশ কুড়মুড়ে লেখা, চলুক।

Avatar: শিবাংশু

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

বাহ....


Avatar: Abhijit Majumder

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

মিষ্টি মন ভালো করা লেখা
Avatar: de

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

এরকম কেউ সত্যি করে???

মেহেন্দী হাতে লাগিয়ে বাচ্চা অন্যের হাতে? আমি সত্যি বিশ্বাসই করতে পারলাম না -
Avatar: Hu

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

করে। বাবার কাছে শোনা একটা গল্প বলি। বাবা তখনও নিজে বাবা হননি। মাকে নিয়ে বেড়াতে গেছেন রাজগীরে। রাজগীরে যারা গেছেন তারা জানেন রত্নগিরি পাহাড়ের রোপওয়েটির কথা। একটি মাত্র চেয়ার দড়িতে ঝোলানো থাকে। চেয়ারের সামনে একটি রড। সেটি চেপে ধরে বসতে হয়। নীচে গভীর খাদ। বাবা বলেন তার চেয়ারটি স্টেশন ছাড়ছে সেই মুহুর্তে একজন ঝড়ের বেগে এসে বাবার কোলে একটা বাচ্চাকে বসিয়ে বলে, আমার খুব ভয় করছে, আমার বাচ্চাকে আপনি নিন। বলতে বলতেই চেয়ার চেড়ে দেয়। অনভ্যস্ত হাতে একটি দুধের শিশু, নিচে গভীর খাদ। আমরা আজও ভেবে পাইনা, সেই মহিলাটি কি করে এই কাজ করেছিলেন।
Avatar: kumu

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

খুবি করে।
আমার পাশে বসে এক তরুণী মা,বয়স নিশ্চিত আঠারোর কম,মাস ছয়েকের বাচ্চা কোলে।সম্ভবত জীবনের প্রথম প্লেনযাত্রা,স্বামীর সিট একটু দূরে,দুজন ভদ্রলোকের মাঝে।প্রথমে মেয়েটি নানা চেষ্টা করল সিট অদলবদল করে স্বামীর পাশে বসার,হল না।তারপর আমার ও জনলার পাশের মহিলার কাছে বাচ্চা দিয়ে প্লেনের মধ্যেই দুজনেবসে,দাঁড়িয়ে ,নেচে ছবি তুলল।
প্লেন উড়বার পর যা হয়,বাচ্চাটির হয়তো কানে লাগছিল,সে পরিত্রাহী চেঁচাচ্ছিল,মায়ের কোন হেলদোল নাই।সে আমার সঙ্গে খেজুরে আলাপ জুড়ে দিল,কোথায় থাকি,ছেলেমেয়েরা কী করে ইত্যাদি,কেন সেটা একটু পরে বুঝলাম।যখন বললাম বাচ্চার হয়তো কানে ব্যথা করছেওকে আগে দেখুন।
অম্লানবদনে মেয়ে বল্ল,না,ওর খিদে পেয়েছে,একটু দুধটা বানিয়ে খাইয়ে দিন না,আসলে আমার শাড়িটা এত দামী।
স্তম্ভিত হয়ে জানিয়ে দিলাম,আমার দ্বারা হবে না।ওরে বাবা,সে কী গজগজ,আপনার দুই ছেলে,তাদের দুধ খাওয়ান নি,এইটুকু করতে হাত ভেঙ্গে যাচ্ছে নাকি,শাড়িটাও তো অর্ডিনারি আরো কত কী।
বিরক্ত হয়ে এয়ার হোস্টেসকে ডাকলাম,জানলার পাশের দক্ষিনী মহিলাও সায় দিলেন,তখন থামল।
সে তুলনায় এই লেখক তো দেবদূত।
Avatar: kumu

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

দক্ষিণী
আমি কিন্তু বাচ্চাদের আদর করার বিরুদ্ধে নই মোটেই,কিন্তু বিনাকারণে এইরকম দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা দেখলে গা জ্বলে।মেয়েটি যদি অসুস্থ হত তবে নিশ্চয়ই সাহায্য করতাম।
Avatar: de

Re: দি গ্ল্যামার অফ বিজনেস ট্রাভেল,দুধেতে পটিতে

আমি হাঁ হয়ে গেলাম পড়ে -

আমার কন্যা বাচ্চা আর তার মা কাছাকাছি দেখলেই অন্ততঃ দুটো রো পিছনে কোনভাবে চেঞ্জ করে নেয় - বলে ইভিল ক্যারেকটারদের সঙ্গে আমি ট্রাভেল করি না ঃ))

আমাকে দেখলে এমনিতেই খুব একটা দায়িত্বশীল মনে হয় না বলে বোধহয় আমার কাছে কেউ বাচ্চা গছাতে আসে না - এমনিতেই বাচ্চা সহ মার কাছে বাবাকেও বসানোর জন্য সিট ছেড়ে দেওয়াই সবচে ভালো - এটা আমি অনেকবার করেচি -


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন