Muradul islam RSS feed

www.muradulislam.me

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নিউ এইজ জিগোলো সার্ভিস

Muradul islam

আমি, দিপু, অপু আর বিপ্রদাশ; চার বন্ধু একসাথে মিলে সন্ধ্যার পরে চা খাই আর জগতের নানাবিদ বিষয় নিয়া আলোচনা করি। আমাদের জীবন প্রায় নিস্তরঙ্গ, তাতে বিশেষ কোন চড়াই উৎরাই নাই। ফলে আমরা জগত সংস্লিষ্ট আলাপের ফুসরত পাই এবং আমাদের মনে হয় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন এক কাজ।

এইসব আলাপের চরিত্র কীরকম হয়, তা হয়ত আপনাদের অনেকেই বুঝতে পারছেন। পরিচিত, দূর পরিচিত মহিলা ও পুরুষদের বিষয়ে, ছেলে ও মেয়েদের বিষয়ে, নানা রাজনৈতিক বিষয় নিয়া, কখনো কখনো হালকা দার্শনিক বিষয়াবলীও আমাদের আলোচনায় চলে আসে। কিন্তু কোন আলাপই আমাদের গভীরভাবে স্পর্শ করত না। আমরা আলোচনা চালাইয়া যাইতাম বিপুল উৎসাহে, আমরা প্রাণপ্রাচূর্যের সহিত তর্ক বিতর্ক করে, নিজেদের মত প্রতিষ্ঠার তীব্র চেষ্টার মাধ্যমে কথা বলতাম; এবং আলাপ শেষ হইলে পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিয়া বাসায় চইলা যাইতাম। সেই রাস্তার পাশে আব্দুল হামিদের চায়ের দোকান, বড় রাস্তা সেইরকমই রইয়া যাইত এবং আমার মনে হয় আমরা সেইখানেই আমাদের সব আলোচনার নির্যাস রাইখা যাইতাম; ফলে ঐ আলাপের কোন প্রভাব আমাদের উপর তেমন পড়ত না।

এইরকমই একদিন আমাদের আলোচনা জমে উঠছিল। সেইদিনের আলাপের বিষয় ছিল আমাদের লাইফ। দিপু বলল, “এইটা একটা গুরুত্বপূর্ন বিষয় যে আমরা সময়রে নিজেদের মত ইউজ করতে পারতেছি। অনেক লোক আছে দেখবা, ধনী, চাকরী করে কিন্তু হালার টাইম নাই।”

আমি বলি, “কথা ঠিক। তবে মানিরও দরকার আছে জগতে।”

অপু বলে, “মানি একটা বিষয়। কিন্তু এইটা মনে রাখতে হবে মানুষের জীবন কিছু আওয়ারের সমষ্টিমাত্র। ধরো কেউ সেভেন্টি ইয়ার বাঁচলে তার ঘন্টা হিশাবে জীবন যা হইল, তারে তিন দিয়া ভাগ দে।”

আমি বলি, “তিন দিয়া ভাগ দিব কেন?”

অপু বলে, “ওইটা ঘুমাইয়া কাটানির সময়।”

এইরূপ সিরিয়াস বিষয়ে আলোচনা চলছিল আমাদের। বিপ্র তখনো আসে নাই। সে আইল একটু পরে। আমরা আব্দুল হামিদরে বললাম, “ও আব্দুল হামিদ, আমাদের চা দেও।”

আব্দুল হামিদ দাঁত বাইর করা একটা হাসি দেয় আর বলে, “বাই, রঙ চা না দুধ চা?”

আমরা বিরক্ত হই। আব্দুল হামিদরে বলি, “কী মিয়া? প্রতিদিন চা খাই, তাও তোমার জিগানি লাগে ক্যান? দুধ চা দেও।”

আব্দুল হামিদ কয়, “না বাই। মাইনষের চয়েজ তো বদলাইয়া যায়। আমার এইখানে কত লোক দেখি দুধ চা খায়, পরে একদিন কয় রঙ চা দেন। আজিব ব্যাপার!”

দুধ চা খাদকের হঠাৎ করে রঙ চা খাওয়া আজিব কেন হয় আব্দুল হামিদের কাছে, তা আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের মনে এটা তার ও আমাদের সামাজিক শ্রেণী পার্থক্যের কারণে। আমরা যে শ্রেণীতে থাকি তার হাসাহাসির বিষয়বস্তুর অনেকই আব্দুল হামিদেরা বুঝতে পারে না, আবার ওদের হাসাহাসির অনেক কিছু আমরা বুঝতে পারি না। এই ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং।

আমরা আব্দুল হামিদের দিক থেকে মন ফিরাই এবং আমাদের আলোচনায় মন দেই।

দিপু বিপ্ররে গাইল দেয়, “হালা, কই ছিলা এতক্ষণ?”

বিপ্র হাসে আর কয়, “একটা দারুণ ঘটনা আছে দোস্ত। বলব কী না ভাবতেছি। তোদের তো আবার পেটে কথা থাকে না। বইলা না আবার কোন বিপদে পড়ি।”

বিপ্র এইভাবে, কোন কথা বলার আগে সাসপেন্স তৈরী করতে পারে। আমাদের মাঝে মাঝে মনে হয় ওর পেটের ভিতরে কয়েকজন আলফ্রেড হিচকক বসবাস করেন আর তারা সেখানে টিনের চালের বাড়িতে থাকেন। বিপ্রদাশ যখন ভাত খায় সেই ভাত ঐ হিচককদের টিনের চালে বৃষ্টি হইয়া ঝরে।

আমি যথাসম্ভব আগ্রহ গোপন কইরা বলি, “কী বিষয়ে ঘটনা?”

বিপ্র হাসে। কিন্তু কথা কয় না। সে মনে হয় কিছু একটা ভাবে।

অপু বলে, “কইয়া ফালা।”

তখন বিপ্র একটু সিরিয়াস হইয়া বলে, “বলব কিন্তু তোমরা কাউরে বলতে পারবা না। এইটা আমারে কথা দিতে হবে।”

আমরা বুঝলাম এইটা সে সিরিয়াসলি বলতেছে। কোন মজার ঘটনাই আছে। কিন্তু কাউরে বলা যাবে না। বেশিরভাগ মজার ঘটনাই এইরকম হইয়া থাকে।

আমরা বললাম, “ঠিক আছে। কাউরে বলব না।”

আব্দুল হামিদ চা দেয়। আমরা চা খাইতে থাকি। বিপ্র চায়ে চুমুক দিয়া বলে,“তোমরা আনুরে চিনো তো?”

আমরা বলি, “আনু? হু ইজ আনু?”

বিপ্র বলে, “আরে আনু, আমার ইস্কুল ফেরেন্ড। ঐ যে একবার থিসিস প্রিন্ট আউট করানির সময় আমার সাথে আইছিল। লম্বা ফর্সা পোলা।”

আমাদের মনে পড়ে এইরকম একটা ছেলেরে আমরা বিপ্রদাশের সাথে দেখছিলাম। কিন্তু তার অবয়ব আমরা মনে করতে পারলাম না। এইরকম কতজনরেই তো আমরা আরো কতজনের সাথে দেখে থাকি।

তবুও বললাম, “হ, মনে পড়ছে। কিন্তু ওরে তো আমরা তেমন চিনি না। তর লগে দেখছিলাম একবার। কেন, কী হইছে তার?”

আমরা দেখলাম বিপ্র উত্তেজনায় ফাইটা পড়তেছে। আমাদের মনে হইল ঘটনাটি বেশ উত্তেজনাকর। আমরাও তার উত্তেজনায় কিয়দাংশ অনুভব করতে লাগলাম।

বিপ্র একটু আস্তে কইরা বলল, “আইজ জানতে পারলাম। হালায় একটা জিগোলো।”

প্রথমে আমরা বুঝলাম না সে আসলে কী বলতেছে। কিন্তু একটু পরেই ঐ ইংরাজি শব্দটার অর্থ আমাদের মাথায় আসল এবং আমরা উৎসুক ও অবাক হইয়া উঠলাম। এরই মধ্যে অপু এক উদ্ভট প্রশ্ন কইরা বসল। সে জিজ্ঞেস করল, “এইটা আবার কী?”

বিপ্র, আমি এবং দিপু একইসাথে বিরক্ত হইয়া উঠলাম অপুর প্রশ্নে। আমাদের ধারনা অনতিদূরে বসে থাকা বয়স্ক কুত্তাটাও বিরক্ত হইয়া উঠছিল অপুর এই নির্বোধ জিজ্ঞাসায়।

আমরা অপুরে বললাম, “হালা বকচুদ, তুই জানস না; এইটা হইল, এই ইয়ে, ধর পুরুষ প্রস্টিটিউট।”

অপুর চোখে বিস্ময় জাইগা উঠে। সে বলে, “ধুর! এইটা হয় নাকী? তাও আমাদের শহরে?”

বিপ্র বলল, “এইটা সব খানেই হয়। খালি জানা যায় না।”

দিপু বলল, “তুই কি বিএ পাশ ফিল্ম দেখছ নাই?”

অপু বলল, “দেখছি। কিন্তু আমাদের এইখানে এসব কী হয়?”

বিপ্র আবার বিজ্ঞের মত বলে, “হয়, হয়। সব খানেই হয়।”

বিপ্র এমনভাবে বলল যেন সে পৃথিবীর অনেক গুঢ় রহস্য জাইনা ফেলছে।

আমাদের প্রচন্ড আগ্রহ হইল জানতে সে কীভাবে আবিষ্কার করল তার বন্ধু আনু একটা জিগোলো।

আমরা বিপ্ররে চাইপা ধরলাম।

তখন সে বলতে শুরু করল, “আমি আর আনোয়ার হুসেন আনু, একই পাড়ায় থাকি। তাই প্রায়ই বিকালে বা রাইতে আড্ডা টাড্ডা দেই। তার সাথে ইস্কুলেও একসাথে পড়ছি। মাঝখানে সে কিছুদিন লন্ডনে ছিল। এক বছর। এরপরে চইলা আসল। গেছিল স্টুডেন্ট ভিসায়। পড়ালেখা শেষ করতে পারে নাই। এখন অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার ধান্ধায় আছে।”

আমরা ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞেস করি, “আচ্ছা বুঝলাম, তারপরে কী?”

বিপ্র বলে, “তো একদিন দুপুরে আমি বারান্দায় বইসা আছি। সেইদিন খুব গরম পড়ছিল। এই গত সপ্তাহে, সোমবারের আগেরদিন। ওইদিন খুব গরম পড়ছিল না?”

আমরা বলি, “হ, দারুণ গরম পড়ছিল।”

বিপ্র বলে, “আমি উদলা হইয়া গিয়া বইলাম বারান্দায়। ঘরে কারেন্ট নাই। বেশী গরম পড়লে কারেন্ট থাকে না এইটা তো জানা কথাই। হালার সিটি কর্পোরেশনের এই নিয়া কোন মাথাব্যথাও নাই।”

আমরা বলি, ‘তা ঠিক। তবে আসল কথায় যা।”

বিপ্র বলে, “তোরা তো জানোছ আমার বাসা গলির একেবারে মুখে। তো আমি বারান্দায় বইয়া দেখলাম একটা কালা গাড়ি আইসা থামল। তারপর দেখলাম সেই গাড়িতে গিয়া উঠল আনু। আর গাড়ি চইলা গেল।”

আমরা বিরক্ত হইয়া বললাম, “এতে তো কিছু প্রমাণ হয় না!”

বিপ্র বলে, “অধৈর্য হইছ না। আমারে পুরাটা কইতে দে।”

আমরা বললাম, “ওকে। কইতে থাক।”

বিপ্র বলল, “সেইদিন আমার কোন সন্দেহ হয় নাই। পরে আমি আরো কয়দিন দেখলাম ঘটনাটা। তোরা তো জানোছ আমি সরল মনের মানুষ। আমি ভাবলাম আনুরে জিগামু সে কই যায়। আমি ভাবছিলাম তার কোন আত্মীয় হবে হয়ত।”

আমরা জিজ্ঞেস করলাম, “তুই বুঝলি কেমনে সেইটা ক?”

বিপ্র বলে, “সেই দিন আমি যাইতেছি একটা ব্যাংকের সামনে দিয়া। ব্যাংকের নাম তোদের কমু না। তো যাইতেছি হঠাৎ দেখলাম একটা গাড়ি আইসা থামল। ওই কালা গাড়িটা।”

আমরা জিগাই, “তারপর?”

বিপ্র বলে, “আমার আগ্রহ হইল। আমি দেখলাম সেই গাড়ি থেকে একজন মহিলা নামলেন। বয়স ধর থার্টি ফাইভ হইতে পারে। নাইমা তিনি ব্যাংকে গিয়া ঢুকলেন।”

আমরা জিজ্ঞেস করি, “তারপর?”

বিপ্র বলে, “আমি গিয়া দাড়োয়ানরে জিগাইলাম, ভাই ঐ যে একজন নাইমা গেলেন গাড়ি থেকে, উনি কে?” দাড়োয়ান বলল, “আপায় আমাদের ম্যানেজার।” তখন আমি বুঝলাম ভদ্রমহিলা সেই ব্যাংকে চাকরী করেন।”

আমরা অধৈর্য হইয়া বলি, “এতেও তো কিছু প্রমাণ হয় না!”

বিপ্র বলে, “খাড়া, বইলা ফেলি পুরাটা। আমিও সেইদিন কিছু বুঝতে পারি নাই। তবে কিছুটা সন্দেহ হইতেছিল। এমন এক মহিলার লগে হালা আনুর কী রিলেশন, এইটা আমি ভাবতেছিলাম। এর মাঝে আমাদের এলাকার লাল্টু ভাইয়ের সাথে দেখা হইল আমার। লাল্টু ভাই পলিটিক্স করেন। এলাকার যেসব ঘটনা কাক পক্ষীও টের পায় না, সেইগুলার খবরও তিনি জানেন। কিন্তু কাউরে বলেন না। কারণ বইলা দিলে রহস্য সাধারণ কথাবার্তায় পরিণত হয়। লাল্টু ভাই কতো কতো রহস্যকথা নিজের পেটের ভিতরে ধইরা রাখেন ও গল্পের ভিতরের গল্প জাইনা থাকেন। পলিটিশিয়ানদের অবশ্য এমন হইতে হয়। আমার সাথে আবার উনার খাতির ভালো।”

বিপ্র বলতে থাকে, “সেইদিন আমি আর লাল্টু ভাই ডাইলপুরি খাইতেছি আর কথা বলতেছি এমন সময় আনুর কথা উঠল। আর তখন তিনি একটা ইঙ্গিতার্থক কথা বইলা উঠলেন যার গুঢ়ার্থ, আনু ওই মহিলার গাড়িতে উইঠা যাইতেছে যে না দেখছে এবং যার মনে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ তৈরী না হইছে, তার বুঝার কোন উপায় নাই। আমি ব্যাপারটা বুইঝা ফেললাম এবং লাল্টু ভাইরে চাইপা ধরলাম, আমারে বলতেই হইব। তখন লাল্টু ভাই আমারে ওয়াদা করাইলেন যে আমি কাউরে বলতে পারব না। আমি ওয়াদা করলাম। এরপর লাল্টু ভাই আমারে সব কাহিনী খুইলা বললেন। পার শটে আনু পায় ৫০০০ টাকা।”

অপু অবিশ্বাসী সুরে বইলা উঠল, “ধুর! এইসব ফাও কথা। এমন হইলে তর লাল্টু ভাই এই কাজ করে না কেন?”

বিপ্র বলল, “আমিও এইটা জিগাইছি লাল্টু ভাইরে। লাল্টু ভাইয়ের পলিটিক্যাল এম্বিশন বেশী। ওইটাই তার ধ্যান জ্ঞান। আর বাপে টেকাটুকা করছে মেলা। তার এসব কইরা কী কোন লাভ আছে? ইজ্জ্বতের দাম আছে না?”

আমরা ভাইবা দেখলাম বিপ্র’র কথা বেশ যুক্তিযুক্ত।

বিপ্র’র বলা ঘটনায় ও তার বলার ধরনে আমরা নিশ্চিত হইলাম আসলেই এমন কিছু হইতেছে।

আমাদের মজা লাগল আর হা হা হু হু ধরণের শব্দ কইরা কিছুক্ষণ হাসলাম আমরা। আমাদের অদ্ভুত ও দীর্ঘ হাসি দেখে আব্দুল হামিদ জিজ্ঞেস করল, “কী বাইয়েরা এত হাসেন ক্যান? চা কী আরেক কাপ কইরা দিমু?”

আমরা তারে পাত্তা দেই না। আরো আরো ঘটনা জানতে বিপ্ররে চাইপা ধরি। বিপ্র জানায় সে আর তেমন কিছু জানে না। তবে অতি শীঘ্রই সে আনুরে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে। সরাসরি জিজ্ঞেস করতে না পারলে পরোক্ষভাবে। আনুর সাথে তার রিলেশন ক্লোজ। ফলে আনু তারে নিশ্চয়ই কিছু কিছু কাহিনী খুইলা বলবে।

অপু বলে, “হালায় তো পুরা বকচুদ।”

আমি কই, “ক্যান? তার তো লাভই হইতেছে?”

অপু কয়, “লাভ হইতেছে ঠিকাছে, কিন্তু কোন ভদ্র ফ্যামিলির পোলা এইসব করব?”

দিপু তখন উইঠা বলে, “ক্যানো? ভদ্র ফ্যামিলির পোলারা লিভ টুগেদার করে না?”

অপু বলে, “কীয়ের সাথে কি মিলাইতে যাছ? কই এইটা আর কই লিভ টুগেদার। দুইটার পার্থক্য আছে, তুই এগুলা বুঝবি না।”

দিপু এতে অপমানিত বোধ করে। সে বলে, “হালা, তুমি ফাও কথা কইবাই। এগুলারে বলে যৌন জেলাসি। আমরাও বুঝি।”

অপু বলে, “জেলাসি না বাল বুঝো তুমি। একটা ভদ্র ফ্যামিলির...”

অপু তার কথা শেষ করতে পারে না। দিপু তারে থামাইয়া দিয়া বলে, “তোমার অই ভদ্র ফ্যামিলি টার্মটাই একটা বুর্জোয়া প্রপঞ্চ।”

প্রপঞ্চ, এই শব্দটা আমি আগে শুনি নাই। তাই জিজ্ঞেস করি, “প্রপঞ্চ আবার কী?”

দিপু বলে, “প্রপঞ্চ মানে হইল গিয়া, ধর এক ধরনের ডিসকোর্স আর কি।”

ডিসকোর্স এর অর্থ কী তাও আমার, অপুর কিংবা বিপ্রর জানা ছিল না। আমরা তখন দিপুরে বলি, “হালা এই ডিসকোর্সটা কী?”

দিপু তখন বিব্রত হয়। আমাদের দিকে সে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায়। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছাইড়া বলে, “এর জন্যই তোদের পড়তে কই। দেরিদা ফুকো গ্রামসি এইগুলা না পড়লে ক্যামনে বুঝাব তোদের। জিনিসটা হচ্ছে আত্মীক ও তাত্ত্বিক। বুইঝা নিতে হয়।”

দিপুর কথায় আমরা বিব্রত হই। আমাদের মনে হয় দিপু এইসব কিছু উল্টা পালটা নাম মুখস্ত কইরা রাখে আর যখন কথায় পারে না তখন এগুলি ব্যবহার কইরা জিততে চায়। আমি হয়ত কিছু একটা বলতে যাইতেছিলাম কিন্তু বিপ্র আমারে থামায়। আলাপ অন্যদিকে চইলা যাইতেছে দেখে সে হস্তক্ষেপ করে ও পুনরায় আনুর কথা তোলে।

বিপ্র বলে, “তোমরা ফালতু কথা বন্ধ করো। আমরা এই নিয়া ঝগড়া করব নাকী?”

তখন আমরা আবার আনুর কথায় ফিরে আসি।

আমাদের মনে অন্য ধরনের আনন্দ হয়। আমরা বিপ্রকে বলি, “ওই তুই, আনুরে এইখানে একদিন নিয়া আয়। ওর সাথে বইয়া চা ইত্যাদি খাই।”

অপু বলে, “আমি আগে কোনদিন জিগোলো দেখি নাই।”

বিপ্র আমাদের অনুরোধ রাখতে আগ্রহ বোধ করে। সে বলে, “আনতে পারি। তয় তোমরা বুঝাতে দিবা না তারে যে বিষয়টা তোমরা জানো। এর মাঝে আমি দেখি ওর থেকে কোন কথা আদায় করতে পারি কি না। তার সাথে আমার সম্পর্ক বেশ ভালো তো। আমার কাছে যদি সব স্বীকার কইরা নেয় তাইলে আরো অনেক কিছু জানা যাবে।”

আমরা সেইদিন আরো অনেক আলাপ করি। আরো অনেক চা খাই। এরপর বাসায় ফিইরা আসি।


এরপরে কয়েকদিন যায়। বিপ্রর কোন খবর নাই। কয়েকদিন পরে বিপ্র আমারে ফোন দেয়। দিয়া বলে, “ঐ আইজ তরা আব্দুল হামিদের চায়ের দোকানে থাকবি। আমি আনুরে নিয়া আসব।”

আমি তারে বলি, “অবশ্যই। নয়া কী জানতে পারলি?”

বিপ্র বলে, “আরে হালা বড় ঘাউড়া! কিছু কয় না। তাই তোরা ওর সামনে বুঝতে দিবি না যে আমরা সব জানি।”

আমি কইলাম, “আইচ্ছা।”

সেইদিন সন্ধ্যায় আমি, অপু আর দিপু বইসাছিলাম আব্দুল হামিদের চায়ের দোকানে। একসময় বিপ্র আসে। আনুরে সাথে নিয়া আসে। আনোয়ার হুসেন আনু একটা শাদা শার্ট পইরা আসছে, এত শাদা যে দেইখা মনে হয় সার্ফ এক্সেলের বিজ্ঞাপন থেকে বাইর কইরা আনা হইছে। আমরা আনুরে দেইখা হাইসা বলি, “কী খবর আনু? কেমন আছো?”

আনু লাজুক মুখে জানায়, “ভালো, তোমরা?”

আমরা বলি, “আমরাও ভালো আনু। তা তোমার কেমন চলতেছে?”

আনু বলে, “এইতো চলতেছে।”

আমাদের মধ্যে অপু একটু ফাইজলা কিসিমের। আমরা আইজ তারে বার বার বুঝাইছি যেন সে ফাইজলামি কইরা কিছু না বলে। কারণ এর সাথে আমাদের বন্ধু বিপ্রদাশের মান সম্মান জড়িত। আর দুই, যদি আনু কিছু সন্দেহ কইরা ফেলে তাইলে আমরা নয়া কোন মুখরোচক তথ্যাদি জানতে পারব না।

কিন্তু মানুষের চরিত্র সহজে বদলে না। অপুর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হইল না।

অপু হঠাৎ বলল, “তা আনু, সব ভালো তো, বিজনেস টিজনেস?”

আনু তখন বেশ অবাক হইয়া বলে, “আমি তো কোন বিজনেস করি না।”

আমি দেখি দিপু আর বিপ্র অপুর দিকে তাকাইয়া তারে যেন সাবধান করে।

অপু মুখে সিরিয়াস ভঙ্গী আনে এবং বলে, “ও, আমি মনে করছিলাম তুমি বিজনেস করো। কী আর করবা, দেশের যা পরিস্থিতি, এই দেশে কি বিজনেস করার অবস্থা আছে। খালি মারামারি। এখন এইখানে যা বিজনেস কইরা মাল বানানি যায় তা ঐ দৌলতদিয়া টাইপ। কী কও?”

এইবার আর চোখের তাকানিতে হয় না। দিপু অপুর গায়ে চিমটি কাইটা তারে সাবধান করতে চায়।

আমরা আনুর অপ্রস্তুত মুখ দেখতে পাই।

এই মুখ দেখে আমাদের হাসি আসতে চায়। কিন্তু সর্বোচ্চ চেষ্টা কইরা আমরা তা আটকাই।

আনু জবাব দেয়, “তা, হইতে পারে।”

অপু বলে, “হ, আনু, আমাদের লগে চা খাও।”

আব্দুল হামিদরে সে ডাক দিয়া বলে, “হামিদ ভাই, আমাদের চা দেন।”

আব্দুল হামিদ আইজ রঙ চা না দুধ চা জিগায় না। সেও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছিলো আমরা আনুরে নিয়া মজার তালে আছি। এখন আমাদের দুধ চায়ের বদলে রঙ চা বা রঙ চায়ের বদলে দুধ চা দিলেও কোন আপত্তি করব না।

আমরা বুঝতে পারছিলাম আনু অস্বস্থি ফীল করতেছে।

অপু বলল, “আনু, চা খাও। শরমাও কেন ভাই?”

আনু বলল, “আরে না, শরম কীয়ের? চা টা গরম।”

তখন অপু বলে, “গরম জিনিসই তো তোমার ভালো লাগে? না ঠান্ডা জিনিশ?”

অদ্ভুত প্রশ্নে আনু ভ্যাবাচেকা খায়। আর আমরা অল্প অল্প হাসি এই প্রশ্নের গুঢ়ার্থ অনুভব কইরা।

আনু হয়ত তা বুঝতে পারে ও আরো বিব্রত হয়।

এইভাবে প্রায় ঘন্টাখানেক আনু আমাদের সাথে থাকে। সে কয়েকবার উঠতে চাইলেও অপু তারে ধইরা রাখে। আমি দেখতে পাই অপু আরো বেশী ফাইজলামি করতে থাকে এবং বিপ্রও তেমন বাঁধা দিতে চায় না যেন। ফলে আমরা সবাই তা উপভোগ করতে থাকি। আর ক্ষণে ক্ষণে আনু আরো বিব্রত হইয়া উঠে। ‘

শেষ পর্যন্ত সে স্থান ত্যাগ করে।

তখন আমি অপুরে বলি, “হালা এমন করলি ক্যান?”

অপু বলে, “চুদির ভাই একটা বকচুদ। ওরে নিয়া ফাইজলামি করব না তো কারে নিয়া করব। ওর সাথে এসব করার রাইট আছে আমাদের। হালায় একটা জিগোলো!”

আমি তখন বিপ্ররে জিগাইলাম, “তুই কিছু কইলি না? পোলাটা বুঝতে পারছে।”

বিপ্র বলল, “ভালোই হইছে। হালারে কত এঙ্গেলে নানাকথা বইলা মূল ঘটনা বুঝতে চাইলাম । কিছুই বলে না। এদের এইভাবেই শটানি উচিত। জিগোলো হালা!”

বিপ্রর কথায় আমরা আবার হাইসা উঠি। সেইদিন আমাদের সবচেয়ে মজার একটি আলাপ হইয়া যায়। অনেক রাত অবধি আমরা এ নিয়া হাসাহাসি করলাম। অপু বিভিন্ন গল্প বানাইল জিগোলো হিশাবে আনু কী কী করে তা নিয়া। আমরা আরো আরো হাসলাম।


সেই রাতে আড্ডা টাড্ডা দিয়া আমি অপু আর দিপু বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। বিপ্র একটা কাজে মিনিট দশেক আব্দুল হামিদের দোকানে থাকে। তারে বিদায় দিয়াই আমরা বাসায় ফিরি।

আমি সবেমাত্র বাসায় আইছি তখন দেখি বিপ্র আমারে ফোন দিছে। আমি ফোন ধরি।

বিপ্র ওপাশ থেকে উৎফুল্ল কন্ঠে বলল, “হালায়, দারুণ জিনিশ পাইছি!”

আমি জিজ্ঞেস করি, “কী জিনিশ?”

বিপ্র বলে, “তোমরা যাইবার পরে আমি তো আব্দুল হামিদের দোকানে বইসা ছিলাম, আর তখন দেখি হালা আনু যেইখানে ছিল ঐ জায়গায় একটা কাগজ পইড়া আছে!”

আমি বলি, “কাগজ পইড়া আছে? তাতে কী হইছে?”

ঐপাশ থেকে বিপ্র মনে হইল লাফাইয়া উঠছে। সে বলল, “কী হইছে না তাই ক! এইটা ঐ মহিলার বাসার এড্রেস! মনে হয় আনুর ব্যাগ থেইকা পড়ছে।”

আমি বললাম, “তুই কি বাসা চিনতি না?”

বিপ্র বলল, “আরে না। জানতাম কোন এলাকায়। তবে বাসা চিনি নাই। আইজ চিনলাম।”

আমি প্রশ্ন করলাম, “এখন কী করবি?”

বিপ্র বলল, “কাইল বিকালে আলোচনা হইব এ নিয়া।”

পরদিন বিকালে সত্যিই আলোচনা হইল আমাদের। আমরা সবাই হাতে নিয়া কাগজখানা দেখলাম। মহিলার নাম, আসল নাম এইখানে বলা ঠিক হইব না, কেউ চিইনা ফেলতে পারেন কোনওভাবে, তাই ছদ্ম একটা নাম দেই, মিলি চৌধুরী। নামের নিচে তার বাসার ঠিকানা সুন্দর কইরা লেখা।

আমরা প্রথমে আলোচনা কইরা ঠিক করলাম ঐ বাসায় যামু আমরা। গিয়া দেখমু কোন সময় হালা আনু ঐখানে যায়। তখন ওরে হাতেনাতে ধরমু ঐ মহিলার লগে।

বাসা খুব সহজেই আমরা বাইর কইরা ফেললাম। এবং এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ কইরা বাইর কইরা ফেললাম প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে দিকে আনু ঐ বাসায় যায়। শনিবারে দুপুরের দিকে। মঙ্গলবারে সন্ধ্যারাইতে।

এই এক সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ কইরা আমরা আমাদের প্রথম পরিকল্পনা বাদ দিলাম। আমরা বুঝতে পারলাম এইভাবে ধরতে গেলে উলটা আমরাই নাজেহাল হইতে পারি। মহিলা বলতে পারে আনু তার পরিচিত। অথবা বলতে পারে আনু তার কাছে কোন কিছ শিখতে যায়। কথায় আছে দুষ্টের কী হয় ছলের অভাব।

প্রথম পরকল্পনা বর্জিত হইল যখন তখন আমাদের মাথায় নয়া পরিকল্পনা আইল, কারণ প্রকৃতি শূন্যস্থান পছন্দ করে না। আমাদের নয়া পরিকল্পনা হইল আমরা অন্য বাসার ছাদ হইতে লুকাইয়া আনু ও মিলি ম্যাডামের লীলাখেলা দেখব।

পাশে একটা বাসাও পাওয়া গেল। দিপুর অল্প পরিচিত ছিল। সেই বাসার মালিক এক বুড়া চাচা, নাম আব্দুল জহির। দিপু এই বাসায় একবার আইছিল তার থিসিসের কাজে, তথ্য সংগ্রহের জন্য।
নির্ধারীত শনিবারে অপু মিলি ম্যাডামের বাসায় যাইবার কিছু আগে আমরা গেলাম ঐ পাশের বাসায়। নিজেরা ব্যাগে চাইরটা বাইনোকুলারও নিয়া নিলাম।

দিপু বাসার চাচারে গিয়া বলল, “চাচা, আমি দিপু, ঐ যে একবার আইছিলাম। আপনার বাসার ডিজাইনের কিছু তথ্য নিয়া গেছিলাম ইউনিভার্সিটিতে কাজের জন্য। ঐটা নিয়া বড় কাজ হইছে, রিসার্চ। বড় পত্রিকায় প্রকাশ হইছে। তা আপনারে জানাইতে আইলাম।”

চাচা মনে করতে পারছিলেন বোধহয়। তিনি বেশ খুশি হইলেন।

দিপু বলল, “আবার আইছি, আপনার ছাদের একটা মাপ নিয়া যামু এইবার।”

দিপু তার আইডি কার্ড দেখাইল। তারে অবিশ্বাসের কোন কারণ ছিল না। তাই চাচা আমাদের ছাদে যাইতে দিলেন। আমরা ছাদে উইঠা সুবিধাজনক এক জায়গা খুঁইজা বাইর করলাম যেখান থেকে ঐ ঘর দেখা যায় জানলা দিয়া।

কিন্তু আমরা নিশ্চিত ছিলাম না এইভাবে কিছু দেখতে পারমু কি না। কারণ বেডরুম তো দেখা যায় না। খালি দেখা যায় ড্রয়িং রুম। তাও দেখতে হয় ছাদের পাশের পাঁচিলের যে ফাঁক আছে সেইদিকে বাইনোকুলার রাইখা।

তবে আমাদের অপেক্ষা করতে হইল না বেশী। আমরা যাওয়ার প্রায় পরপরই দেখলাম মিলি ম্যাডামের দরজা খুইলা গেল আর প্রবেশ করল আনু। আমরা বাইনোকুলারে তারে দেখতেছিলাম আর আমাদের উত্তেজনা যেন আকাশ স্পর্শ করতেছিল বারেবার।

আনু আর মিলি ম্যাডাম দুইজনে খুব দ্রুতই দেখলাম অন্য রুমে চইলা গেল।

ড্রয়িং রুম তথা আমাদের মঞ্চ খালি।

আমি বিপ্ররে কইলাম, “হালা, তর প্ল্যান এইটা বাজে। আগেই বুঝা উচিত ছিল। এইভাবে কি কিছু দেখা যায়?”

বিপ্র বলে, “রিয়েল জিনিশ দেখতে কষ্ট করতে হয়। ইজিলি দেখতে হইলে ইন্টারনেটে যা, এইখানে আইলি ক্যান?”

আমি চুপ মাইরা গেলাম।

আমরা বুঝলাম এইসব রিয়াল জিনিশ দেখতে সাধনার দরকার আছে। তাই নিশ্চুপে বইসা রইলাম। এর মাঝে একবার দিপু উইঠা গিয়া ছাদে আসার দরজাটা লাগাইয়া আসল। তা না হইলে হঠাৎ যদি বাসার মালিক চাচা উইঠা আসেন আর আমাদের এইভাবে দেখেন তাইলে মাইর খাইতে হবে।
প্রায় মিনিট পনের এইভাবে কাটল। আমাদের মঞ্চ তথা ড্রয়িং রুম খালি। হঠাৎই দেখা গেল মঞ্চে আনু আর মিলি ম্যাডাম আইলেন। আমরা টাইট হইয়া বসলাম। দেখতে দেখতে আমরা বুঝলাম তাদের মধ্যে কী নিয়া যেন কথা হইতেছে। তারপর আমাদের কিছু বুইঝা উঠার আগেই আমরা দেখলাম, আনু একটা বড় ধারালো ছুরি বাইর করল। মিলি ম্যাডামরে মেঝেতে ফেলল এবং অনবরত কোপাইল। রক্তের লাল ছিটা আইসা লাগল তার মুখে। সে এক হাত দিয়া তা মুইছাও নিল। আমরা জানলা দিয়া যা দেখা যায় দেখলাম। মেঝেতে মিলি ম্যাডামরে দেখা যাইতেছিল না, কারন মেঝে এইখান থেকে পরিষ্কার আসে না। কিন্তু আনুর কোপের লগে মিলি ম্যাডামের হাত পা ছোঁড়া আমরা দেখলাম এবং আমাদের মনে হইল তার আর্তনাদ আমরা যেন শুনতে পাইছি।

আনু ঘর হইতে দ্রুত বাইর হইয়া গেল।

আমরা বাইনোকুলার ছাইড়া একে অন্যের দিকে তাকাইলাম।

অপু বলল, “এইটা কী হইল? হালায় তো খুন কইরা ফেলল!”

দিপু বলল, “অই! পুলিশে খবর দিতে হইব। চল তাড়াতাড়ি থানায় যাই।”

আমি আর অপু একমত হইয়া দ্রুত উঠতে গেছিলাম তখন বিপ্র আমাদের সবাইরে থামাইয়া বলল, “তোরা মাথা ঠান্ডা কর। পুলিশরে গিয়া কী বলবি? পুলিশ জিজ্ঞেস করবে তোমরা কেমনে দেখলা? কী করতেছিলা ঐখানে? তার উপর আনু আমার বন্ধুও। ফলে আমরা সবাই ফাঁইসা যাইতে পারি।”
বিপ্র’র কথা আমাদের একেবারে যুক্তিযুক্ত মনে হইল।

অপু বলল, “তাইলে এখন কী করা যায়?”

আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আপাতত আমরা এখান থেকে যাব। এরপরে ভাইবা দেখব কী করা যায়।
আমরা ঐদিন চইলা আসলাম। পরদিন আগ্রহ নিয়া আঞ্চলিক পত্রিকার পাতা খুঁইজা খুঁইজা দেখলাম কোন খুনের স্টোরি আইছে কি না। মিলি চৌধুরী খুনের খবর পাইলাম না।

আর বিপ্র কৌশলে গিয়া মিলি ম্যাডামের ব্যাংকে খোঁজ নিয়া আসল। জানা গেল অফিসে তিনি যান নাই।

বিপ্র আনুর বাসায় গিয়া জানল আনুও বাসায় আসে নাই। কোথায় জানি গেছে কাইল বেড়াইতে। বাড়িতে কইয়া গেছে এক সপ্তাহ লাগব ফিরতে।

ডেভিড লিঞ্চ ও হিচকক দেখা আমরা তখন বুঝলাম আনু প্ল্যান কইরাই মিলি ম্যাডামরে খুন করছে।
বিপ্র আনুর বাসায় খোঁজ নিয়া তার পাড়ার ডিশের দোকানের (এস আর এস নেটওয়ার্ক) সামনে দিয়া যাইতেছিল।

তখন ডিশ দোকানে বইসা থাকা লাল্টু ভাই ডাক দিলেন, “ওই বিপ্র, শুইনা যা।”

বিপ্র গিয়া বলল, “কী ভাই?”

লাল্টু ভাই একটা মানিব্যাগ তার দিকে বাড়াইয়া দিয়া বললেব, “এইটা আনু কাইল রাইতে ভুল কইরা ফালাইয়া গেছে এইখানে। তারে পাইলে দিয়া দিছ।”

মানিব্যাগ দিয়া লাল্টু ভাই ডিশের দোকানের বাথরুমে গেলেন।

বিপ্র প্রথমে মানিব্যাগ হাতে নিল। তার মনে হইল যেন এর ভিতরে কোন একটা কিছু আছে। হয়ত খুনের কোন প্রমাণ। সে মানিব্যাগ খুঁইজা দেখল ভিতরে বারোশ টাকা আছে আর একটা কাগজে কিছু মাইয়া নাম আর ফোন নাম্বার লেখা।

দেইখা বিপ্র খুব দ্রুত সেই কাগজটার ছবি তুইলা নিল মোবাইলে।

তারপর চাইয়া দেখল লাল্টু ভাই বাথরুম থেকে আসেন নাই। তখন সে ডিশের দোকানের কর্মচারী মহসিন আলীরে মানিব্যাগ ফিরাইয়া দিয়া বলল, “আমি এখন আরেক জায়গায় যাইতেছি। পরে নিমু। রাইখা দেন।”

আনুর মানিব্যাগ থেকে পাওয়া এই নামগুলা দেইখা আমরা অবাক হইয়া গেলাম।

পাঁচটা নাম; মহিলার নাম বোধহয়। পাশে ফোন নাম্বার। এর মাঝে প্রথম নাম মিলি চৌধুরী। সেই নাম লাল কালি দিয়া ক্রস কাটা।

বাকী নাম, ছদ্মনাম ইউজ হইছে, কারণ আপনাদের চেনার সামান্যতম সুযোগও রাখার কোন দরকার নাই। নামসমূহঃ

ফারহানা আশফাক
প্রমিলা মিত্র
আলমাস খান
শিরিণ চৌধুরী

আমরা এগুলো দেখে বুঝতে পারলাম এরাই হয়ত আনুর নেক্সট টার্গেট। এদেরই সে সম্ভবত জিগোলো সার্ভিস দিয়ে আসছে এবং এখন তাদের একে একে খুন করতেছে। হয়ত এইটাই আনুর নেশা, হয়ত আনু একটা সাইকোপ্যাথ। যেমন আমরা ফিল্মে দেখে থাকি। কিন্তু স্বাক্ষাতে তারে দেইখা তো মানসিক রোগী মনে হইল না। হইতে পারে কোন ঘটনায় আঘাত পাইয়া এমন হইছে সে, আলিফ লায়লার রাজা শাহারিয়ারের মত। কিন্তু তারে গল্প বইলা ভালো করবে, ভুল পথ থেকে ফিরাইয়া আনবে এমন শেহেরজাদ তো নাই জগতে।

আমরা মনমরা এবং চিন্তিত হই, বসে ভাবি এই মহিলারা নিশ্চয়ই মিলি আপার মত সুন্দরী। তাদের আনু হত্যা করবে এইটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা যেহেতু জানি অন্তত কিছু একটা করা দরকার। কিন্তু সেইটা কী?

অনেক ভাবনা চিন্তা কইরা আমরা ঠিক করলাম আমরা এনাদের ফোন দিয়া আনুর ব্যাপারে সতর্ক করব।

যেহেতু চারজন আছেন তাই আমরা দায়িত্ব ভাগ কইরা নিলাম।

আর আসলে আমাদের ফোন দিত ভয় হইতেছিল। তাই আমরা ঠিক করলাম একদিনে সবাইরে ফোন দিয়া আমরা সতর্ক করব না। হিসাব মতে আনুর লিস্টে পরে আছেন ফারহানা আশফাক। আনু এনারেই নেক্সট টার্গেট ধরবে। তাই আমরা তারেই আজকে ফোন দিব। পরেরদিন অন্যজনকে। এইভাবে।

কিন্তু ফোন করবে কে? কেউ রাজী হয় না।

ফলে আমাদের লটারী করতে হইল।

লটারীতে প্রথম নাম উঠল অপুর। সুতরাং, তারেই দিতে হইল প্রথম ফোন।

সে ফোন দিল ঐ নাম্বারে। রিং হইল। দুইবার রিং হইবার পরে এক মহিলা ধরলেন।

আমরা শুনলাম অপু বলতেছে, “আপনে কি ফারহানা আশফাক?”

ওপাশ থেকে কী বলা হইল আমরা শুনলাম না।

অপু বলল, “শুনে্‌ আমি জানি আনু বা আনোয়ার নামে এক ছেলের সাথে আপনার সম্পর্ক বা পরিচয় আছে। এর ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। সে একটা খুনি।”

বলার একটু পরে ফোন কাইটা গেল। আমরা দেখলাম অপুর থতমত মুখ। সম্ভবত ভূত দেখলে লোকের মুখ এমন হয়।

অপু প্রায় কাঁপা গলায় বলল, “ফোন তো কাইটা দিলো রে!”

আমরা বললাম এইটাই হওয়ার কথা।

আমাদের কিছুটা শান্তি লাগল। মনে হইল একটা লোকরে যেন মৃত্যুর হাত হইতে বাঁচাইলাম। তিনি এই কথার পরে নিশ্চয়ই কিছুটা হইলেও সাবধান হইবেন। অন্তত একটা পিস্তল রাখবেন বাসা বাড়িতে। মিলি চৌধুরীর বাড়িতে পিস্তলটা থাকলে তারে হয়ত মরতে হইত না। উনার জন্য আমাদের কিছুটা দুঃখ হইতে লাগল।

পরদিন আবার আমরা বসলাম। অপু তার জ্বরের জন্য যোগ দিতে পারল না। তার দরকারও লটারীতে ছিল না। ফলে আমাদের লটারী হইল। এইবার দিপুর নাম আসল। সে একইভাবে প্রায় মুখস্তের মত অপুর বলা কথাগুলা বলল। মনে হইল অনেক বার প্র্যাক্টিস করছে মনে মনে।

যাইহোক, এইভাবে হইতে লাগল। আমার নাম কোন লটারীতেই আসল না। তৃতীয় দিন আসল বিপ্র’র নাম। ওইদিন আমি আর বিপ্রই ছিলাম শুধু। দিপু গেছিল তার নানার বাড়ি।

বিপ্রও অন্যদের মত বলল।

শেষের দিনে আমি একলা। আমি বিপ্ররে ফোন দিয়া বললাম, “তুই কই? আমি কি একা একা ফোন দিমু নাকী?”

বিপ্র বলল, “আইজ তো তর নামই। আমি আইতেছি তবে দেরী হইব। বাবা আমারে লইয়া যাইতাছে লইয়ারের কাছে।”

আমি জিজ্ঞেস করি, “লইয়ারের কাছে ক্যান?”

বিপ্র বলে, “আর কইছ না। আমাদের কিছু জমি দখল কইরা রাখছে এক হারামি। তুই বন্ধু ফোন দিয়া দে। আমি না গেলে বাবা আমারে পিটাইয়া পিঠের ছাল তুলব।”

আমি অপুরে ফোন দিলাম। তার তো আগেই জ্বর ছিল, কমে নাই। দিপু তার নানার বাড়ি থেকে আসে নাই।

তাই, একা একাই আমারে ফোন দিতে হইল। প্রায় কাঁপা কাঁপা হাতে নাম্বার টাইপ কইরা আমি ফোন দিলাম।

দুই রিং এর পর মহিলা ধরলেন। বললেন, “হ্যালো, কে বলছেন?”

তার কিন্নর কন্ঠ শুইনা আমি চমকাইয়া গেলাম।

অন্যদের বলা কথাগুলা আমার মুখস্থ ছিল। আমি বললাম, “আপনি কি শিরিণ চৌধুরী?”

ওপাশ থেকে ভদ্রমহিলা বললেন, “হ্যাঁ, আপনি কে?”

আমি বললাম, ““আনু বা আনোয়ার নামে যে ছেলের সাথে আপনার সম্পর্ক বা পরিচয় আছে, এর ব্যাপারে সাবধান থাকবেন। সে একটা খুনি।”

প্রায় এক মিনিট বা ত্রিশ সেকেন্ড নিরবতায় কাটল।

ওপাশ থেকে ভদ্রমহিলা বললেন, “আমি তোমারে রাত বারোটার পরে ফোন দিচ্ছি।”

তারপর ফোন কেটে দিলেন।

আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।

চারপাশে তাকাইলাম। লোকেরা যারা আছে সবাই ব্যস্ত, আমার দিকে কেউ তাকাইয়া নাই। তবে আমারও নিশ্চয়ই ভ্যাবাচেকা মুখ ছিল তখন, এইটা বুঝলাম আব্দুল হামিদের কথায়। সে ব্যস্ত ও উদ্বেগী কন্ঠে বলল, “কী হইছে ভাই?”

আমি তার দিকে তাকাইয়া অল্প হাসার চেষ্টা কইরা বললাম, “কিছু না।”

ধাতস্থ হইবার পরে প্রথমেই আমার মনে হইল অপু, দিপু আর বিপ্ররে ফোন দিয়া জানাই। ডায়াল কইরা ফেলছিলাম বিপ্ররে। পরে কাটলাম আর ভাবলাম একই জিনিশ ওদের ক্ষেত্রেও যে ঘটে নাই তার নিশ্চয়তা কী? আমরা তো একই রকম কথাই বললাম।

ঐদিন বাড়িতে গিয়া চিন্তায় চিন্তায় আমার খাওয়া দাওয়া কইমা গেল। বারোটার পরে কী হইতে যাচ্ছে? কী বলবেন মহিলা?

রাতে ফোন আইছিল। বারোটার পরেই। ভদ্রমহিলা আমারে বললেন, “কালকে সেন্ট্রাল পার্কের পিছনে আসবা। সন্ধ্যা ছয়টায়।”

উদগ্র কৌতুহল হইল আমার। অনেকবার মনে হইল অপু, দিপু বা বিপ্ররে জানাই। কিন্তু জানাইলাম না, নিজেরে বিরত রাখলাম কষ্টে।

পরদিন সন্ধ্যা ছয়টায় গেলাম ঐ জায়গায়। মহিলারে দেখলাম। তিনি আমার সাথে পরিচিত হইলেন।
তারপর একসময় তার বাসায় গেলাম ...........................।

এইভাবে মাস খানেক চইলা গেল। আমরা আনু, মিলি চৌধুরীর খুন ইত্যাদির কথা ভুইলা গেলাম। এই এক মাস, গত আট বছরে যা কখনো হয় নাই তাই হইল। মাসে একবারও আমি অপু দিপু আর বিপ্র আড্ডায় মিলিত হইলাম না, ফোনেও কথা কইলাম না।

প্রায় একমাস পরে একটা মেসেজ পাইলাম আমি মোবাইলে।

তাতে লেখা

চুদির ভাইয়েরা,

আমার সাথে ফাইজলামি করছিলা। তাই তোমাদেরও আমার জায়গায় নিয়া আইলাম। নয়া কিছু পোলা আমার দরকার ছিল। তাই এইভাবেই তোমাদিগকে নিয়োগ দিলাম। কাগজ ফালাইয়া গিয়া টোপ ফেলছিলাম। ভাবছিলাম অন্য ভাবে কাজ করমু। পরে দেখি তোমরা আমার পিছা নিছো। তাই, আমার কাজও ইজি হইল কিছু।

পুনশ্চঃ তোমাদের পেমেন্ট মাসশেষে একাউন্টে জমা হইয়া গেছে।

আনোয়ার হোসেন আনু
ফাউন্ডার এবং সিইও, নিউ এইজ জিগোলো সার্ভিস



745 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: নিউ এইজ জিগোলো সার্ভিস

হা হা হা হা
Avatar: dc

Re: নিউ এইজ জিগোলো সার্ভিস

বাঃ ভালো গল্প, মাঝামাঝি অবধি পড়ে ভাবলাম রিং এর মতো নাকি। ভাল্লাগলো।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন