Abhijit Majumder RSS feed
Abhijit Majumder খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বড়দিন

Abhijit Majumder

না, আমাদের ছোটবেলায় বাড়িতে কখনো ফ্লুরিজের কেক আসে নি। নাহুমসেরও না। আমাদের ভাঙাচোরা ভাড়ার বাড়িতে ওইসব নাম শুনিই নি কখনো। ইন ফ্যাক্ট, মনে আছে ফ্লুরিজের নাম প্রথম পড়ি সত্যজিতের কোনও একটা গল্পে। আমার মা রান্না করত কেরোসিন স্টোভে। কখনো কেক-টেক বেক করেন নি ভদ্রমহিলা। করতে জানেন বলেও মনে হয় না। পিঠেপুলি, পাটিসাপ্টা করেছেন অনেক। তবে সে গল্প অন্যদিন।

তার মানে কি আমাদের বাড়িতে বড়দিনের কেক হত না? হতই তো। কেক আসত জলযোগ থেকে। ফ্রুটকেক। আমরা বলতাম পাঁউরুটি কেক। আর আসত মায়ের অফিস ক্যান্টিন থেকে পেস্ট্রি। চকলেটের ওপর সাদা আইসিং। দেখে মনে হত পেস্ট্রিটা আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। আমরা বলতাম দাঁত কেক। হ্যাঁ, পেস্ট্রিকেও আমরা তখন কেকই বলতাম। ওই যে বললাম, আমাদের মধ্য কলকাতার সরু গলিতে কেক আর পেস্ট্রির কোনও পার্থক্য ছিল না।

ঠিক যেমন পার্থক্য ছিল না ধর্মে-ধর্মে। আমাদের দশ ভাড়াটের বাড়ির একতলার একটা ঘরে যে প্রতিবেশী দম্পতি থাকতেন, তাঁদের মধ্যে স্বামীটির গলায় পৈতে দেখতাম। শুনেছিলাম স্ত্রীটি নাকি আদতে ছিলেন খ্রিস্টান। অতশত অত ছোটবেলায় বুঝতাম না শুধু দেখতাম সারা ডিসেম্বর মাস জুড়ে এজমালি ছাদে রোদ খেত কাজু, কিশমিশ, চেরি। বাড়ির বাচ্চারা, মানে আমরা শীতের রোদে ডিসেম্বরের ছুটিতে ছাদ দাপিয়ে কুমীর-ডাঙা, কানামাছি খেলার ফাঁকে সেখান থেকে তুলে নিতাম দু-এক টুকরো। তারপর বড়দিনের আগে সেইসব কাজু-কিশমিশ দিয়ে সেই ভদ্রমহিলা কেক বানাতেন। তার এক টুকরো আমাদের ঘরেও পৌঁছত। ঠিক যেমন আমাদের লক্ষীপুজোর নাড়ু-বাতাসা পৌঁছে যেত ওদের ঘরে। ধর্ম ইত্যাদি তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় তখনো আমাদের জীবনের নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়ায় নি।

তারপর যীশু বুড়ো হয়েছেন। সান্তার পাকা চুলের সাদা ছাপ এখন ধরতে শুরু করেছে আমাদের মাথায়। কলকাতার বাইরে থাকাকালীনই খবর পেয়েছি সেই কেক বানানো ভদ্রমহিলা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। সেই দশ ভাড়াটের বাড়ি ছেড়ে বাচ্চারা একে একে নিজেদের ডাঙা খুঁজে নিয়েছে। আমিও পাড়ি জমিয়েছি আরব সাগরের পাড়ে। সান্তা এখন নতুন শিশুদের জন্য ঝুলি ভরে নতুন নতুন গিফ্ট আনে। তার ওপর কি কোথাও লেখা থাকে, লাভ দাই নেবারস? ঝগড়াঝাঁটি, কথা কাটাকাটির পরেও যে লক্ষীপুজোর নাড়ু হাতে করে গিয়ে দাঁড়াতে হয় প্রতিবেশীর দরজায়, তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হয় বড়দিনের কেকের টুকরো, ইদের সেমাই, লেখা থাকে সেইসব গল্পের কথা?

437 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: Abhijit Majumder

Re: বড়দিন

Abhijit Majumder এর লেখা পড়লাম এইমাত্র। বড়োদিনের কেক, ঈদের সিমুই আর লক্ষ্মীপুজোর নাড়ু মিলেমিশে একাকার হয়ে গেলো। চোখে জল এনে দিলেন মশাই। চমৎকার লেখা
Avatar: Kakali Sinha Roy.

Re: বড়দিন

আমাদের ছোটবেলার সাথে ভীষণ মিল খুঁজে পেলাম । সত্যিই স্মৃতি সততঃই সুখের ।
Avatar: Kakali Sinha Roy.

Re: বড়দিন

আমাদের ছোটবেলার সাথে ভীষণ মিল খুঁজে পেলাম । সত্যিই স্মৃতি সততঃই সুখের ।
Avatar: aranya

Re: বড়দিন

ছুঁয়ে যাওয়া।
স্কুলকালে একটিই মুসলিম বন্ধু ছিল - নাসের। প্রাণের বন্ধুও বলা যেতে পারে, ধর্মের কথা কেউই ভাবে নি, হলফ করে বলতে পারি।
৩৫ বছর পর আবার দেখা, গল্প করছিল স্কুলের পর আমার বাড়ি এসে নাকি দুধ-কলা-মুড়ি খেত, এখনও মনে আছে ওর, আমি ভুলে গেছি
Avatar: Suhasini

Re: বড়দিন

দিনগুলো ফিরে আসুক, দূরে থাকা মানুষগুলো বাড়ি ফিরুক।

Avatar: মানবেশ

Re: বড়দিন

লেখাটা মন ছুঁয়ে গেল।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন