Swarnendu Sil RSS feed

Swarnendu Silএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

Swarnendu Sil

আরও একবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আমাদের এই চিরন্তন প্রশ্নটার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে -- আমরা কিভাবে শিখি, কিভাবে চিন্তা করি। আলফা গো জিরো সেই দিক থেকে টেকনোক্র্যাট দের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ।
দাবার শুধু নিয়মগুলো বলে দেওয়ার পর মাত্র ৪ ঘণ্টায় শুধু নিজেই নিজের সাথে খেলে দাবা খেলা শিখে আজকের সবচেয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিন স্টকফিশের সাথে ১০০টা ম্যাচে ২৮টা জিতেছে, একটাও হারেনি আর ৭২টা ড্র, অবিশ্বাস্য। হ্যাঁ, স্টকফিশকে তার ওপেনিং লাইব্রেরি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, ঠিকই। কিন্তু তাও অবিশ্বাস্য।
মানুষের শেখার ক্ষমতার একচেটিয়া শ্রেষ্ঠত্ব আজ প্রশ্নের মুখে। কি ফয়সালা হবে তার সে ভবিষ্যতই বলবে। আপাতত আমি খুশী যে স্টকফিশ তার 'ওপেনিং লাইব্রেরি' ব্যবহার না করে এই ফল। কারণ, জ্ঞান আমার বিশ্বাসে, ক্লোসড সিস্টেম পদ্ধতিতে শেখা যায় না। নিজে নিজের সাথে বন্ধ ঘরে খেলে খেলাটা শিখে ফেলল, এ সত্যিই টেকনোক্র্যাটের দার্শনিক এল ডোরাডো।
কিন্তু টেকনোক্র্যাটের ফ্যান্টাসির বাইরে সে বাস্তব জীবন, সেখানে জ্ঞান জীবনের সাথে ওতপ্রোত পরতে পরতে জড়িয়ে। জীবনে জীবন যোগ করেই শিখতে হয় ও শেখা যায়, বন্ধ ঘরে নয়। প্রকৃতির সন্তানের জন্য 'ওপেনিং বুক' ছিল, আছে, থাকবে। প্রকৃতি নিজেই সেই চলমান, বহমান, ঘটমান 'ওপেনিং বুক।'
তাই 'ওপেনিং বুক' ছাড়া স্টকফিশ আসলে প্রকৃতি থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষ, যে মানুষ প্রকৃতির নয়, এই টেকনোক্র্যাটিক 'সভ্যতা' র সন্তান। তাই ক্রমশ যন্ত্র হতে থাকা মানুষকে একদিন না একদিন যন্ত্র ছাপিয়ে যাবে এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে অবাক বা ব্যথিত হইনি। কারণ আসল মীমাংসা সেদিনই হওয়া সম্ভব যেদিন আমরা ফের হোমো স্যাপিয়েন্স হব, হোমো ইকোনমিকাস বা হোমো টেকনোলজিকাস নয়।

আলফা গো জিরো সংক্রান্ত খবরের লিঙ্ক ( আরও বহু আছে ) ঃ
https://www.chess.com/news/view/google-s-alphazero-destroys-stockfish-
in-100-game-match


461 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dd

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

এটা খুব ইন্টেরেস্টিং তো।

প্রায় ৪৫ বছর আগে যখন প্রথম চাকরীতে ঢুকি সে সময়ে আমার এক আম্রিগাবাসী মামা আমাকে একটা কেলকুলেটর দিয়েছিলেন - সেগুলো তখন LEDতে চলতো। কলকেতার ঐ হুমদো কোম্পানীর সব বড়ো সাহেবরা পর্যন্ত্য আমাকে ডেকে এনে হাঁ করে দেখতেন কেলকুলেটরের কেরামতি। বিজ্ঞানের/প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সবাই চমকে গেছিলো।

সেইখান থেকে এতো দ্রুত দুনিয়া পাল্টে গেলো যে এখন হাঁপ ধরে যায়।

এই AI নিয়ে এরম আরো কিছু খবরা খবর থাকলে - স্বর্ণেন্দু বা যে কেউ লিখলে - খুব খুসী হব।
Avatar: dc

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

" কারণ, জ্ঞান আমার বিশ্বাসে, ক্লোসড সিস্টেম পদ্ধতিতে শেখা যায় না"

এটা কি অ্যানথ্রোপোমরফিক স্টেটমেন্ট হয়ে গেল না? এই মহাবিশ্বে সব লার্নিং সিস্টেমকেই কি ওপেন সিস্টেমে বা এক্সপেরিয়েন্স থেকেই শিখতে হবে? একদমই নন-হিউম্যান লার্নিং সিস্টেম তো ছেড়েই দিলাম, মানুষের ডিজাইন করা কোন সিস্টেমও, যদি তার মধ্যে সেল্ফ-রিয়েলাইজেশান চলে আসে, নিজের মতো করে শিখতে পারে না? আর এমনও তো হতে পারে যে সেই শেখার ধরন একেবারেই নতুন কিছু হলো, এমন কোন পদ্ধতি যা মানুষ একেবারেই ভাবতে পারে না?
Avatar: Ribhu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

ওপেন সিস্টেম বলতে ঠিক কি বুঝিয়েছেন লেখক? মানে লার্নিং এলগোটা ডিফাইনড নয়? তা না হলে যেকোনো মেশিন লার্নিংই তো রিওয়ার্ড/ পানিশমেন্ট বেসড কোনো ভাবে। মানে বলতে চাইছি খেলাটায় জিৎ/ হার হলো কিনা সেইটা তো বলে দেওয়া হচ্ছে আর সেটা লার্নিং প্রসেস কে ড্রাইভ করছে।

ডিসি কে, নিজের মতো করে মানুষ (শিশু ) কিভাবে শেখে, এটা আমার খুব ইন্টারেস্ট এর জায়গা, স্পেসিফিকালি ল্যাংগুয়েজ। মানে চমস্কির ইউনিভার্সাল গ্রামার থিওরি না মানলে, শেখাটা পানিশমেন্ট/রিওয়ার্ড বেসড। কোনো রেফারেন্স থাকলে দেবেন প্লিজ।
Avatar: dc

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

পানিশমেন্ট/রিওয়ার্ড মডেলের কথা তো পড়েছি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে স্বর্ণেন্দু বাবু যেটা লিখেছেন, সেটা বড্ডো বেশী হিউম্যান সেন্ট্রিক হয়ে গেছে। দেখা যাক, উনি কিছু রিপ্লাই দিলে আলোচনাটা আরেকটু এগনো যাবে। মেশিন লার্নিং এর ফিলোজফি নিয়ে এই মুহূর্তে ডগলাস হফস্ট্যাডটার এর কিছু লেখাপত্রর কথা মাথায় আসছে, নিশ্চয়ই পড়েছেন।
Avatar: T

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

রিভুকে ক। রিগ্রেট মিনিমাইজেশন :) এবং বিবিধ ট্রি ব্রাঞ্চ সার্চ। রেভোলিউশনারি নয়। আজকাল স্ট্র্যাটেজি বেসড গেম ডিজাইনে জনতা ইউজ কচ্চে।
এ বাদে মেশিন লার্নিং বা এ আই এর ফিলোজফি নিয়ে আলোচনা চালানোই যায়।
Avatar: b

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

ওপেন সিস্টেম মানে বোধ হয় বাইরে থেকে ইন্সপিরেশন। বাথটাবে জল ছলকানো, টাকে আপেল পড়া এইসব আর কি।
Avatar: sswarnendu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

"খেলাটায় জিৎ/ হার হলো কিনা সেইটা তো বলে দেওয়া হচ্ছে আর সেটা লার্নিং প্রসেস কে ড্রাইভ করছে।"

সে তো বুঝলাম, কিন্তু নিজের সাথে খেলে!

আমি ওপেন সিস্টেম/ ক্লোজড সিস্টেম বলতে সেটাই বলতে চেয়েছি। মানে আমি ও আমার প্রতিপক্ষ একই অবস্থায়, শুরুতে দুজনেইই শুধু দাবার নিয়ম জানি মাত্র। শুধু নিজের সাথে নিজে খেলে খেলে দাবার ৬০০ বছরের ওপেনিং থিওরি ফিগার আউট করে ফেলল, আমি মেশিন লার্নিং নিয়ে কিছুই জানি না বলতে গেলে। কিন্তু এখানের রিপ্লাইগুলো পড়ে যতটা রোজকার ব্যাপার মনে হচ্ছে সেরকম সম্ভবত নয় ব্যাপারটা। আমার বোঝার ভুল হতেই পারে, জনতা লিখুক। বুঝতে চাই।

আমার দেওয়া লিঙ্ক এ পেপারটাও আছে। আমি সেইটা বিশেষ বুঝিনি, কিন্তু এখানে জনতা সেটা সম্ভবত সহজেই পড়ে বুঝতে পারবে।
Avatar: Rivu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

না না রোজকার ব্যাপার তো একেবারেই নয়। ভয়ানক সিগনিফিকেন্ট জাম্প। আমার শুধু ওপেন লার্নিং টার্মটায় অসুবিধে ছিল।
Avatar: sswarnendu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

জাম্পটা নিয়ে আর একটু বিশদে লিখুন না। মানে দাবার ইঞ্জিন নতুন কিছু না আদৌ, সেগুলোর মানুষকে এলেবেলে করে দেওয়াও নয়। কিন্তু তাদের 'ইভ্যালুয়েশন ফাংশন' এ মানুষের খানিক ভূমিকা আছে। মানে কিছু পজিশনাল কন্সিডারেশন সেগুলোর মধ্যে ইমপ্লিসিটলি আছে শুরু থেকেই। শুধুই ব্রুট ফোর্সে ক্যাল্কুলেট করেই কেল্লা ফতে করার উচ্চাশা বহুকাল মাটি নিয়েছিল, কারণ দাবার সার্চ ট্রি সেইটা করার পক্ষে বিরাট।

তাই আমার কাছে এইটা ভীষণ ধাঁধার। কোন ওপেনিং ডাটাবেস নেই, এন্ডগেম টেবলবেস নেই, গেম ডাটাবেস নেই, মানুষের তৈরি ইভ্যালুয়েশন ফাংশন ও নেই। শুধুই নিজের সাথে নিজে খেলে খেলে শিখে ফেলছে, শুধু দাবার নিয়মটুকু জেনে আর একটা রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং অ্যাল্গো দিয়ে, আমার কাছে এইটা দার্শনিকভাবে ট্রু ক্রিয়েটিভিটির খুব কাছাকাছি।
Avatar: T

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

খুব স্বাভাবিক যে গেম ইঞ্জিন গুলো চেস সার্চ ট্রি এক্সহস্টিভলি সার্চ করবে না। কেনই বা করবে, ভোর হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে। তো, ন্যাচারেলি লক্ষ্যটা এটাই থাকে যে কিভাবে সার্চ ট্রি ব্রাঞ্চ ইভ্যালুয়েশন কমানো যায় এবং খুব তাড়াতাড়ি অপটিমাম মুভ কষে বার করা যায়। এইটা মাথায় রেখে প্রথমে মিনিম্যাক্স অ্যালগোরিদম বার করা হয়। মিনিম্যাক্স অ্যালগোরিদমের উন্নততর ভার্সন হিসেবে পরে আসে আলফা-বিটা প্রুনিং অ্যালগোরিদম। আদতে গেম সার্চ ট্রির বিবিধ ডালপালা কিভাবে ছেঁটে ফেলা যায়, প্রুনিং তারই কৌশল। এইকাজে প্রতিটি ট্রি ব্রাঞ্চের প্রতিটি নোডে দুই পক্ষের পজিশনের উপর ভিত্তি করে একটি ইভ্যালুয়েশন ফাংশন বলে দিত এই নোডের এখন কি অবস্থা। এই ভ্যালু ব্যবহার করা হত আদতে অন্যান্য ব্রাঞ্চ বা ডালপালা ছাঁটতে। আমরা যেসব চেস প্রোগ্র্যাম খেলতুম, যথা আগেকার জিএনইউ চেস বা হালফিলের স্টকফিশ ইত্যাদি সবই এই আলফা বিটা প্রুনিং টেকনিক ব্যবহার করে। ধরা হয় এটিই সবচেয়ে ফাস্টেস্ট টেকনিক।
কিন্তু এইটা ছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে। সেটা হচ্ছে মন্টিকার্লো ট্রি সার্চ। এখানেও ট্রির ডালপালা ছাঁটা অন্যতম উদ্দেশ্য, কিন্তু সেটা কিভাবে করা হচ্ছে তার মধ্যে তফাত আছে। এইক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে সেটা হ'ল, বিভিন্ন চাইল্ড নোডগুলোর মধ্যে কোনটাকে সিলেক্ট করে আরো গভীরে যাওয়া হবে, ফর মোর ডিপার অ্যানালিসিস, সেটা একটি নির্দিষ্ট সূত্রের উপর নির্ভর করে। যেকোনো সার্চ প্রবলেমের ক্ষেত্রে একটা মেজর ইস্যু হচ্ছে এক্সপ্লোরেশন ভার্সেস এক্সপ্লয়টেশন। মানে পরশপাথর খোঁজার ব্যাপারে বেশী বেশী জায়গায় খুঁজবেন না কোনো একটি জায়গায় বেশী কোরে খুঁজবেন, সেই ডিলেমা। তো, একটা হিউরিস্টিক রুল মেনে ট্রি এর চাইল্ড নোড গুলোর কোন টা ধরে এগোনো হবে সেটা ঠিক করা হয়। ফাইনাল আউটকাম মানে জিতলেন না হারলেন তার উপর ভিত্তি করে চাইল্ড নোডের ভ্যালু (কতগুলো ম্যাচ খেলে কতগুলোয় জিতলেন) আপডেটেড হতে থাকে। কোনো পজিশনাল সিচ্যুয়েশনের উপর নয়। ফলে এই সার্চের সুবিধে হচ্ছে যে এর কোনো ইভ্যালুয়েশন ফাংশন দরকার পড়ে না। জাস্ট গেম রুল গুলো বললেই হয়। পুরোনো টেকনিক। কিন্তু মন্টি কার্লো ক্যানো? কারণ এই ব্যাপারটা বারবার রিপিটেড হতে থাকে। প্রতিবার ট্রি নতুন নতুন গেম সিকোয়েন্স এবং আউটকাম খুঁজে পায়। যতক্ষণ না থামাচ্ছেন চলতেই থাকে। ইন জেনারেল এই কাজটা কিন্তু স্লো, মানে আলফা বিটা প্রুনিং এর তুলনায়।
কিন্তু যদি এর মধ্যে 'হিউম্যান টাচ' দেওয়া যায়? মানে, এ তো বার বার বিভিন্ন গেম খেলে চলেছে। অর্থাৎ, কিছু ইনপুট (পজিশন) এবং আউটপুট (উইন/ড্র/লস) পাওয়া যাচ্ছে। যদি এইবার এদের মধ্যে একটা ফাংশন ফিট করানো যায়। যদি এই ফাংশনের প্যারামিটার গুলো প্রতিবার মন্টিকার্লো ইটারেশনের সাথে সাথে আপডেটেড হতে থাকে। ফলে একটা মুভ সিকোয়েন্স থেকে জেতার প্রবাবিলিটিও বেরিয়ে আসতে পারে। তাহলে যেটা হতে পারে সেটা হল মন্টিকার্লো ট্রি সার্চকে আরো ভালো শিকারী কুকুরে পরিণত করা যায়। সব চাইল্ড নোড ইভ্যালুয়েশনের দরকার নেই। যেটা জেতার প্রব্যাবিলিটি ম্যাক্সিমাম করছে সেই ব্রাঞ্চটাই নেওয়া যেতে পারে। এরপর ঐ নির্দিষ্ট জেতার প্রব্যাবিলিটি অনুযায়ী চাল দিয়ে এগিয়ে গেলেই হল।
ঠিক এই কাজটাই এই পেপারে একটা ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক দিয়ে করা হয়েচে। ডিপ লার্নিং প্রচুর ভেলকি দেখাচ্ছে, ফলে এরকম যে হবে সেটা এক্সপেক্টেড। আলফা জিরো তাই স্টকফিশকে হারাতে পেরেছে।
কিন্তু এইবার মাথায় রাখতে হবে যে উল্টোপক্ষ অর্থাৎ স্টকফিশ কিন্তু তার চেস ওপেনিং ডেটাবেস ব্যবহার করেনি।
এছাড়া আরেকটা ব্যাপার যেটা সেটা হল, চেস বা গো খেলায় উন্নততর প্রোগ্যামের আবিষ্কারকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পিনাকল বলে একটা প্রচার চলে। কিন্তু এটা মানতে অসুবিধে আছে। কারণ, খুব সামান্য কম্পিউটর ভিশনেই এখনো প্রচুর সমস্যা রয়ে গেছে, যার সমাধান এ আই এর বিবিধ অ্যাচিভমেন্টের জন্য নেসেসারি। তো, আমরা যেটা দেখতে পাচ্চি, যেটা হল বিভিন্ন সমস্যার কাস্টমাইজড সমাধান যা ঠিক ইন্টেলিজেন্স বলে বোধহয় বলা যায় না। সামগ্রিক ভাবে মানুষের বুদ্ধি ও চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতার তুলনীয় অর্থে এ.আই এখনো শিশুস্তরেই রয়ে গেছে। ফলে ঐ মানুষ অবশেষে দ্বিতীয় না ভাবাই ভালো।
Avatar: sswarnendu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

T,
অনেক ধন্যবাদ। এই টীকাটা খুব উপকারে লাগল আমার পক্ষে। আমার ধারণা সাধারণভাবে আমার মত যারা মেশিন লার্নিং এর কিছুই জানে না কিন্তু সাধারণভাবে এই জিনিসগুলো নিয়ে উৎসাহী তাদেরও কাজে লাগবে।

আপনি অনুমতি দিলে এই পোস্ট টা কি আমার ফেসবুক প্রোফাইলে এই নিয়ে একটা পাবলিক পোস্ট দিয়েছিলাম ( বস্তুত হুবহু সেইটার বয়ান-ই এখানে দিয়েছি, টই-এর শিরোনামটা এখানে যোগ করা ), তার তলায় কোট করতে চাই। আপনার তো নাম জানি না, তাই T বলেই দেব। নইলে আপনি অনুমতি করলে আপনার নামসহ ও আপনি ফেসবুকে থাকলে আপনাকে ট্যাগ করেও দিতে পারি।

মানে অনেকেই পোস্টটায় উপকৃত হবে।
Avatar: sswarnendu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

ওহ হ্যাঁ,
আপনি নিজে ফেসবুকে থাকলে আপনি নিজেই কমেন্ট হিসেবে এইটা লিখে এলেও অবশ্যই চলবে।
আমার পোস্ট এখানে
https://www.facebook.com/sswarnendu/posts/1928506533832383

Avatar: T

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই। T নামেই দিয়ে দিন।
Avatar: sswarnendu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

অনেক ধন্যবাদ।
Avatar: rivu

Re: আলফা গো জিরোঃ মানুষ কি সত্যিই অবশেষে দ্বিতীয়?

T যা লিখেছেন তার থেকে বেটার কিছু সংক্ষেপে লেখা সম্ভব ছিল না। পরে কখনো একটু বড়ো করে লেখার ইচ্ছে রইলো যতটুকু বুঝি। "তো, আমরা যেটা দেখতে পাচ্চি, যেটা হল বিভিন্ন সমস্যার কাস্টমাইজড সমাধান যা ঠিক ইন্টেলিজেন্স বলে বোধহয় বলা যায় না" এইটা ভীষণ সত্যি। এবং আমার মনে হয় এই জেনেরিক ইন্টেলিজেন্স এর প্রচেষ্টা থেকে বেরিয়ে এসে বেসিক কগ্নিশন (ভিসুয়াল, খুব স্বল্পমাত্রায় ল্যাঙ্গুয়েজ
) এর দিকে ফোকাস করা হয়েছে বলেই আপাতত এ আই এর এতো বার বাড়ন্ত। নরভিগ এর বই এ বোধ হয় এরকম একটা কথা ছিল যে এরোপ্লেন বানানোর জন্যে রাইট ব্রাদার্স পাখি কি ভাবে ওড়ে সেটা না ভেবে এরোডিনামিক্স এর ফিজিক্স এর উপরে ফোকাস করেছিলেন, তাই শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়।



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন