ঋক আর কিছুনা RSS feed

ঋক আর কিছুনাএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

ঋক আর কিছুনা

*********বাউণ্ডুলে পিঁপড়ের গল্প*******

মহারাজ গল্প টল্প লেখেন না, যা দেখেন তাই। তা আমার সাথে সেদিন এক মক্কেলের মুলাকাত হয়েছিলো, নচ্ছারটা যদিও আমায় নানান কু কথা বলেছে, তাও বন্ধুত্বের খাতিরের ওর কথা গুলো বলে গেলাম।

'এই শোন একটা গাড়ি আসছে বুঝলি একটু চমকাবি নাকি?'
'ইয়েস পাগলা, সন্ধ্যে থেকে বৃষ্টি, একটা লোক নেই বাইরে যে তাড়া করবো, লেজটা নেতিয়ে পড়ে আছে তখন থেকে। চল যাই।'
'দাঁড়া আরেকটু কাছে আসুক, নে রেডি ওয়ান টু থ্রি... ঘ্যাঁক ঘ্যাঁক ঘৌ ঘৌ ঘোঁয়াওওও'।

লাল আর কালো রঙের এ নেড়ি দুটো পাড়ার মস্তান কুকুর। আমার মতো নিরীহ কালো পিঁপড়ে অব্দি এদুটোকে দেখতে পারিনা। আমার নাম মাঠাংবুরু। আমাদের পিঁপড়েদের, দলে থাকাই নিয়ম আর মাটির নীচে কিন্তু আজকাল সুযোগ সুবিধে এতো বেড়ে গেছে খালি মাটির নীচে থাকা আর পোষায় না মশাই সত্যি বলতে কি। দল বেঁধে পরিশ্রম খারাপ লাগে এমন বলছি না দিব্যি লাগে কিন্তু আমার যে ঘুরতেও ভারী ভাল্লাগে। পিঁপড়েদের পাড়া ডিফাইন করা আছে। মাটির মধ্যে দিয়ে দিয়ে পুরো দুনিয়ার পিঁপড়েদের সাথে কানেক্ট করাই যায় কিন্তু আমরা সীমানা পেরোইনা খুব একটা। একটা চিনির দানা খুঁজে নাও, হেঁইয়ো হেঁইয়ো করে সবাই মিলে নিয়ে এসো তারপর খেয়ে দেয়ে ঘুম লাগাও এই তো কাজ আমার আর ভাল্লাগলোনা।

সেবার একটা মানুষ ছেলের ঘরে ঢুকেছিলাম কত কষ্ট মষ্ট করে মাইরি, দেওয়াল বাইলাম প্রথমে তারপর ঘরে ঢুকে বুড়ো টিকটিকিটাকে এড়িয়ে টিউবলাইটের পাশ দিয়ে সোজা নেমে গিয়ে খাটে উঠেছিলাম। হালকা একটা সুগন্ধ পেয়েই গেছিলাম খাটে নইলে খামোখা আমাদের মানুষের খাট বিছানায় আগ্রহ নেই বাপু। এহ কি বলব মশাই এই মানুষ ছেলেটার মাথায় আবার ছাগল ছাগল গন্ধ। হাঁ করে ঘুমাচ্ছিলো টের পেলো না, আমি একবার একটু টেস্ট করে দেখলাম, এতো যেমন খারাপ গন্ধ তেমন খারাপ স্বাদ! এহ মুখটাই নষ্ট হয়ে গেলো। আমাদের দলটা এগিয়ে গেছে তখন, ওহ খাজার টুকরো, আহা তাই বলো এটারই সুগন্ধ আসছিলো। ও হ্যাঁ আমি মানুষের ভাষা শিখে নিয়েছি, খুব কঠিন কিছুনা তবে ভারী বোকার মতন। আমাদের জ্ঞানী পিঁপড়ে ভাষা এর থেকে ঢের বেশী এগিয়ে। এরা কত কি বলে সারাদিন ধরে, কত কি করে কেন কিচ্ছু বোঝা যায় না।

খাজা আমার ভারী ভাল্লাগে, মিষ্টি মাংস সবই ভাল্লাগে। আমাদের পাড়ার হুড়ুম, একবার একটা লোকের রুমালে ঢুকে পড়েছিল, সদ্দি মোছা রুমাল। এহেহে বেচারী তিনদিন সমানে হেঁচেছে। যা বলছিলাম এই খাজা টাজা খেয়ে আমার কেমন জানি ঘুম ঘুম পেলো একটু। পাবার কথা না, আমাদের টাইম মেনেই সব হবার কথা, গর্তে ফিরে আরামে ঘুমাবো খানিক এরকমই ঠিক ছিলো। তা আমি একটু অন্যরকম নাকি, আমার বুড়ো ঠাকুর্দা বলে, ভালো না সেটাই বলে, আমি বিশ্বাস করিনা অবশ্য। দিব্যি,হেঁইয়ো হেঁইয়ো করে কাজ করি, মানে খাবার খুঁজে দিই, তারপর সবাইকে ডাকি, একসাথে খাই, ফুলের ডাঁটি দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে ঘুমাই তাহলে? ও হ্যাঁ আমি আসলে খাবার খুঁজতে যাবার সময় এপাড়া ওপাড়া ঘুরে টুরে যাই। মানে হয়ত সামনে খাবার আছে কিন্তু আমি ঘুরতে ঘুরতে, কার্ণিশ দিয়ে যাবার সময় ডিগবাজি খেয়ে, লাল ডেঁয়োদের সাথে একটু আড্ডা মারি তারপর যাই। রোজ এক রাস্তায় এক কাজে যেতে ভাল্লাগে? কুত্তোগুলোর কানে একটু কামড়ে দিই, বেড়ালে লেজে সুড়সুড়ি দিয়ে দিই, চড়াইটার সাথে সুখ দুঃখের কথা বলি। খালি মানুষগুলোর সাথে কিছু কথা হয়না। ওরা যেন কেমন পানা। সারাক্ষণ হাঁই হাঁই করে চেঁচাচ্ছে, নয় কেঁউ মেঁউ করে মারামারি করছে। আর কি বোকা কি বোকা, আমাদের একটা কথাও বোঝে না। এই চোপ বলল যখন সেদিন লাল মস্তান লোটন, আরে যার কথা শুরুতে বলছিলাম, সে, তাতে বোকা মানুষ গুলো ভাবলো আহ্লাদ করেছে বুঝি!! আবার একটা কেক কিনে দিলো। লোটনটাও পেজো আছে, "ব্যাটা কিপ্টে" বলে কপাত করে খেয়ে নিলো।

এইসব হরেক জিনিস দেখতে গিয়েই দেরী হয়ে যায় আমার। আমাদের দলের সবাই বলে, মাঠাংবুরু একটা কুলাঙ্গার, একটা অপদার্থ, পিঁপড়েদের নিয়মানুবর্তিতা জগত বিখ্যাত তার অপমান করে। আরে জগত বিখ্যাত কারা বলছে ওই বোকা মানুষ গুলো, সেটা ভুলে গেলি। ওদের কাছে ভালো সাজার কি দায় তোদের। পিঁপড়ে না গরু কে জানে বাবা! তা যেই ঘুম ভাঙলো দেখি সবাই চলে গেছে আমায় ফেলে, প্রথমটা ভারী অভিমান হলো। একটু কেঁদেও নিলাম, যদিও পিঁপড়েরা কাঁদে না এম্নিতে, আমরা খালি ঝুমঝুম করে গান গাই। যেমন ওই গানটা তো আমার ভারী পছন্দের।

"ঘুংটিমাটিং চিংটিমা, না দিলে কি খাচ্ছিনা, ঘিজিং ঘুজিং কামরাঙা, যাচ্ছে সেপাই কামড়ানা।"

তবুও কেঁদে নিলাম একটু কি করবো অমন দুম করে একা হয়ে গেলে দুঃখ হয়না। আরে এ মানুষ ছেলেটা তখন থেকে হাঁ করে ঘুমোচ্ছে দেখি। আচ্ছা পা টিপে টিপে একবার এর কানের মধ্যে গিয়ে দেখবো কি আছে? অন্ধকার গুহায় আমরা কক্ষনো ঢুকিনা খাবারের সম্ভাবনা না থাকলে তাও যাই নাকি একবার? ভিতরটা চ্যাটচ্যাটে নাহ থাক। একটা কামড় দেবো? নাহ যার মাথায় ছাগল ছাগল গন্ধ সে মানুষের স্বাদ কি ভালো হবে? এক কাজ করি এর পকেটে ঢুকে আরাম করে আরেকটু ঘুমিয়ে নিই।

আরে একি এতো উঁচুতে উঠে গেলাম কখন। মেঝেটা নড়ছে! ওহ না মানুষ ছেলেটা এগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তাই। দাঁতে সাদা ফেনা করছে আর একটা কাঠি দিয়ে ঘষছে কেন? না বাবা পয়লা সুযোগেই এর পকেট থেকে পালাতে হবে, হয়ত থাবা দিয়ে পিষেই দিলো। গুটিগুটি বেরিয়ে এসেছি। কি একটা ভালো খুশবাই আসছে না? কি বলছে? 'বিস্কুটের কৌটোটা দাও না মা'? বিস্কুট!! আমি তো খুব খাই এগুলো। কি ভালো খেতে হয়।

গুটিশুটি মেরে মানুষ ছেলেটার পাশে বসে রইলাম। এরা আবার পিঁপড়ে দেখলেই পিঁপড়েদের মাথায় আকাশ নামিয়ে দেয়! চিন্টুলুয়ার বাবা তো এভাবেই গেলো, একটু গায়ে উঠে গেছিলো।কি করে যেন। তারপরেরি চিন্টুলুয়ার মা দেখেছিলো চার পাঁচটা কিলবিলে প্রাণী, মানুষে তাদের আঙুল বলে পোষে চিন্টুলুয়ার বাবার দিকে এগিয়ে এলো আর তাদের দুটো প্রাণী ক্রমে কাছাকাছি এসে গেলো আর চিন্টুলুয়ার বাবা মরে গেলো।
সাবধানে সরে এসে বসলাম। এর থাবায় পড়লেই হয়েছে একেবারে। পেট ভরা থাকলে মাঠাংবুরুর মতো পিঁপড়েই হয়না। আমার পাশের দুর্গে একটা মেয়ে থাকে, ভারী ভালো পিঁপড়ে। কিরকম নরম করে তাকায়, আর গান কি চমৎকার গায় সে কি বলবো! আমি মাঝে মাঝে যাই ওদের দুর্গের ওখান দিয়ে কিন্তু আমার কথার তরঙ্গকে স্রেফ কাটিয়ে দেয় সে। ও বুঝলে না বুঝি? আমরা তো ভালোবাসার কথা চেঁচিচে মেচিয়ে বলি না কক্ষনো। ধরো আমার বউ পিঁপড়ে বা হবু বউ পিঁপড়ে অনেএএক দূরে আছে তখন একটা ফুলের পাপড়ির মধ্যে শুয়ে শুয়ে ডাক পাঠাতে হয়। আমরা যেহেতু ঝগড়াঝাঁটি করিনা, মারামারিও না তাই আমাদের কথা হয় খালি কাজের নয়তো গানের।
সত্যি বলতে এ যে আমার খুব ভালো লাগে তা নয়, মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে ওই দুর্গটার সামনে গিয়ে জোরে জোরে বলি ওই মেয়ে আমার পিঁপড়েনি হবি?

এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম একটু। উঠে একটু আড়মোড়া ভেঙে একটু হাঁটাহাঁটি করছি। একটা চ্যাটালো জায়গা থেকে কি সব গান আর আওয়াজ আসছে, একজন মানুষ খুব মাথা নাড়ছে। গুটি গুটি আবার ছেলেটার পকেটে গেলাম, আবার দেখি উঁচুতে উঠে গেছি ফের, কোনোতে আঁকড়েমাকড়ে ঝুলে ঝুলে দেখছি, ভালো দেখতেও পাচ্ছিনা নীচ অব্দি, এত্তো নীচু। আবার সেই খাজার জায়গাটায় এসে গেলো ছেলেটা, কিন্তু খাজার গন্ধ আর পাওয়া যাচ্ছেনা, আমার আবার একটু খিদে খিদে পাচ্ছে। একটু হেঁটে হেঁটে এগিয়েছি, আরে কি বিশাল একটা গুঁতো খেলাম বাপস, আমি উলটে পড়েছি, আমার হাত পা সব শুন্যে। ফের এক পাক খেয়ে সোজা হয়েছি, কষ্ট হলেও এমন শক্ত কিছু না, শুনি সেই ছেলেটা বলছে ব্যাটা ফের সোজা হয়ে গেলো, মেরেই দিই ব্যাটাকে!!

আরিব্বাস বলেকি!! পাঁই পাঁই করে ছুট দিলাম, কিন্তু ফের গুঁতো আর আমি উল্টেছি, ছেলেটা ধরে ফেলেছে আমায়। কোথায় যাবো? কি করে বাঁচবো? আমি কামড়াতে পারিনা, কামড়ালেও বাঁচা যায় তা না তাও, হঠাৎ কি হলো আগেই বলেছি আমি অন্যরকম, পুরোটা বলিনি, আসলে আমি অনেক কিছু পারি মাঝে মাঝে। খুব খুব ভয় পেয়ে আমি মনে মনে চেষ্টা করলাম ওই ছেলেটার মনের সাথে যদি কন্ট্যাক্ট করতে পারি যদি, যদি কোনো ভাবে ওকে আমার কথা শোনানো যায়।
'মাঠাংবুরু বলছি, আমি মাঠাংবুরু বলছি, আমি ভালো পিঁপড়ে, আমি কামড়াই না। বন্ধু হবে? বন্ধু হবে? বন্ধু হবে?'
কতক্ষণ কেটেছে জানিনা, ভাবলাম মরেই গেছি।হঠাৎ শুনতে পেলাম ছেলেটা ভাবছে, "আমার সাথে পিঁপড়েটা কথা বলল? আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি তবে"?

তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম," না না পাগল না, আমি মাঠাংবুরু, আমিই তোমার সাথে কথা বলছিলাম। আমি পিঁপড়ে কিন্তু আমি মানুষের সাথে কথা বলতে পারি ইয়ে মানে মাঝে মাঝে পারি।"
তারপর কি বলব কতক্ষণ যে লাগলো ছেলেটাকে বোঝাতে ব্যাপারটা, আগেই জানি মানুষগুলো বোকা হয়, তাই বলে এতো হ্যাঁ!!
ছেলেটা ভালোই, ওর নাম ঋক, বন্ধু হয়ে গেছে আমার, দিব্যি কদিন ছুটি কাটিয়ে নিচ্ছি এখানে। আমার বাড়ির লোকেরা খুঁজবে হয়ত, ভাবতেই পারবে না মানুষের পকেটে করে ওদের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ভাবলেই হাসি পায়। ঋক দেখলাম লোটনদের ভারী ভয় পায়, আমি লোটনের কানে সুড়সুড়ি দিয়ে দিয়েছি টুক করে ব্যাস ও ভয় দেখাবে কি বন বন করে নিজের লেজ নিজেই তাড়া করে গেলো।

সেদিন গাড়ির ড্যাশবোর্ডে ঘুরে ঘুরে দেখছি সব আর গান গাইছি, হ্যাঁ আমি এখন আরো সব জিনিসের নাম জেনেছি যা খাবার না। তা হঠাৎ দেখি একটা জলার ধারে দাঁড়িয়ে পড়ে ঋকও পেল্লায় চেঁচামেচি লাগিয়েছে, ওদের ভাষায় গান আর কি। দুজন গাইছি বেশ নিজের মতো, দেখি একটা শিং নেড়ে হেলেদুলে সাদা গরু আসছে। আমি এমনিতে ভারী আলাপী পিঁপড়ে, আমাদের এলাকার সব্বাইকে আমি চিনি। এটা অবশ্য অন্য পাড়া। কাছে গিয়ে বললুম, গুডমর্নিং স্নো হোয়াইটদি, খবর কি? সব ভালো তো? সে তো মহা ঘাবড়ে গেছে, বলছে সে আবার কি রে। হাহাহা, আমি তো এ কদিনে প্রচুর গল্প শুনেছি, ওই হাঁ হাঁ করে চেঁচানোটা সইতে পারলে ছেলেটা নেহাত মন্দ না। স্নো হোয়াইটের সাথে কথা বলে জানা গেলো, আমার গানে না হলেও, ঋক ব্যাটার আওয়াজে তার খুবই অসুবিধে হয়েছে, গুঁতোতেই আসবে ঠিক করেছিলো। আমি আবার তাকে বুঝিয়ে ঠান্ডা করি, মহা মুশকিল! যাকগে বাবা যাই এখন।

একটা পাতার নৌকো পেয়েছি আজ এই ঝিলটার উপর হাউসবোট বানিয়ে ঘুমোবো। একটা গুড়ের বাতাস নিয়ে নিয়েছি দুদিনের জন্য নিশ্চিন্দি। ঠিক করেছি দুদিন ঘুরে, মহারাজের বাড়িতে(ওই ব্যাটা নিজেকে মহারাজ বলে খালি) ফিরে বালিশে মাথা রাখবো একদিন, একটু নলেন গুড় পিঠে দিয়ে খেয়ে ফের বাড়ি ফিরবো। জলের মাঝখানটা ভারী পরিষ্কার। দিব্যি নীচ অব্দি দেখা যায়, ব্যাঙ আছে একটা,সাপ আছে একটা, দুটো সাদা মাছ আছে এ পাড়ায়। মাছটার সাথে গল্প হলো খানিক, বেচারা ভারী ভয়ে আছে, মাঝে মাঝেই নাকি ওদের দল থেকে মাছ নেই হয়ে যায়। খাবার ভেসে আসে, খেতে যায় আর ব্যাস উড়ে যায়। নেহাত ওর লোভ টভ একটু কম তাই এখনো বেঁচে আছে। মাছ টাকে একটা মুড়ি দিলাম, বাতাসার সাথে খাবো বলে এনেছিলাম। একটা মুড়িতে ওর কিছুই হবে না অবশ্য, কিন্তু মাছটা তাতেই খুশি হয়ে ডিগবাজী খেয়ে চলে গেলো। উফফ ঘুম ঘুম পাচ্ছে। একটু ঠ্যাঙ নাচিয়ে ঘুমিয়ে নিই। পাতাটা ভেসে যাক যেখানে খুশি।

ঘুম ভাঙলো রোদ মুখে পড়তে, পাতাটা ধারে এসে আটকে আছে। এটা কোন পাড় অত চিন্তা আমরা করিনা, বাতাসাটার আর্ধেক আছে এখনো, থাকগে। এখানে ঘাসের উপর শিশির আছে, সাবধানে যেতে হবে, পিছলে পড়লেই হয়েছে আর কি, হাড় ভেঙে দ হয়ে পড়বো। আরে ওখানে ওটা কি হচ্ছে? একটা মেলা বসেছে না? এটা কোন পাড়া কে জানে, ওই কাঠপিঁপড়ে দাদাকে জিজ্ঞেস করবো? এম্নিতে কাঠপিঁপড়েদের আমি এড়িয়ে চলি, খুব রাগী হয় বাবা কি দরকার, একটা রদ্দি মারলেই গেছি। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ও দাদা কিসের মেলা হচ্ছে গো এসময়?
- আরে লাল ডেঁয়ো একটা ভালো শিকার করেছে, সব্বার ফিষ্টি তাই, তা তুইও আয় না। নাচ গান হবে।
ব্যাস আমিও জমে গেলাম ওখানে, দিন পাঁচেক ফুলের মধুর নেশা করে, গান গেয়ে, কাঠে কাঠে ড্রাম পিঠে কোথা দিয়ে কেটে গেলো।

মেলা ফুরোতে ফের হাঁটতে বেরিয়েছি। ওই ব্যাটা মহারাজ এর কথা মাথা থেকেই বেরিয়ে গেছিলো। তা রাস্তা ভুল হবার কিছু নেই, টুকটুক করে হাঁটছি, একটা পানকৌড়িকে বললাম একটু ডানায় নেবে কিনা পাত্তাই দিলো না। যাকগে। আরে একটা কালো গরু আসছে ওর শিং এ চড়ে যাওয়া যায় কিনা দেখি তো। কিন্তু এমনি বললে কাটিয়ে দিতে পারে, তাও একবার বলে দেখি। কাছে গিয়ে বলি, " এই যে ম্যাডাম কৃষ্ণকলি, আমি মাঠাংবুরু। বলছি আমাদের পাড়াটা এখান থেকে সাত রোদের পথ আমি হাঁটলে, তুমি তোমার শিং এ একটু এগিয়ে দিতে পারোনা?
- কিন্তু আমি তো অতদূর যাবো না। আমার গোয়াল তো কাছেই, অবশ্য তাতেও তোমার হাফ রাস্তা হয়ে যাবে। এসো।
গল্প করতে করতে গান গাইতে গাইতে সে রাস্তা খুব তাড়াতাড়িই ফুরিয়ে গেলো। শিং এ বসে রাস্তাটা ভারী ভালো লাগে, উঁচু যেন পাখির মতো। আকাশে মিঠে শীত শীত রোদ। কিচকিচ করে বক বক করছে চড়াই পাখি, দূরে মাছরাঙা ডুব দিচ্ছে। একটা কুকুর লেজ উলটে শুয়ে আছে। কৃষ্ণকলির মনটা বড় নরম। আমায় ছাড়তে গিয়ে দেখি চোখ ছলছল করছে, আরে পাগলী, আমি একজন পিঁপড়ে অমন মন খারাপ করে নাকি। আচ্ছা আমি আসবো মাঝে মাঝে।

তাড়াতাড়ি পা চালালাম। চারিদিকে এতো বন্ধু ছড়িয়ে থাকে বলেই আমার ঘরে মন টেকে না যে। সেই ব্যাটা মহারাজের খোঁজ নিতে হবে, কেমন আছে কে জানে, প্রথম মানুষ বন্ধু আমার, আমার কথা শুনতে পেয়েছিলো, আমায় আইস্ক্রীম খাইয়েছে, গাড়ি চড়িয়েছে। আচ্ছা এবার আবার খিদে পাচ্ছে আমার, একটা মিষ্টির দোকান দেখছি, যাই একটু খেয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে খন।
আহাহা কি সুন্দর গন্ধ হ্যাঁ। মিষ্টির দোকানে ঢুকলে।এই জন্যই মন ভালো হয়ে যায়। দোকানদারের চোখের আড়ালে দিয়ে গিয়ে একটু ছানার কুল্ফি খেয়ে নিলুম। আহ বেড়ে বানায় কিন্তু এটা। যাই এট্টু ঘুমিয়ে নিই বরং তারপর যাবো।

আরেবাপরে পেল্লায় ঘুমিয়েছি দেখছি, রোদ নেই আর। তবে খাবারের অভাব নেই, অনেকগুলো মিষ্টি হয়ে গেছে থালায় থালায়। আমাদের চিকরিপিং যদি এখানে এসে পড়তো, খাবার ফেলে কোথাও যেতই না, ব্যাটা খাবার পেলে আর কিছুই চায় না। খেয়ে মুখ মুছে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম। রাস্তায় গাড়িগুলো ঘোঁৎঘোঁৎ করে বেরিয়ে যাচ্ছে, একটু খেয়াল করে হাঁটতে হবে। চাপা না পড়ে যাই আবার। "
"ঝুঝুমঝুম ঝুঝুমঝুম টগবগাবগরে যাচ্ছি আমি মাঠাংবুরু, পিঁপড়েরাজা রে।"
গান গাইতে গাইতে যাচ্ছি, ক্রমে রোদ এলো, আরে একটা কাঠবিড়ালি না? "ও কত্তা বাদাম টাদাম জুটলো?"
কাঠবিড়ালি পিড়িক পিড়িক করে তাকিয়ে, লেজে ভর দিয়ে একটা বাদাম খেতে খেতে বলল, হুঁ হুঁ, চলবে নাকি?
- না ভায়া তুমি খাও, আমার আজ পেট ভরা আছে। তা এবারে বাদামের মরশুম কেমন হে? বর্ষায় তো সব ভাসিয়ে দিলো এবার, পেলে রসদ?
- আর বোলো না ভায়া, এই হতভাগা মানুষগুলোর জন্য এই অবস্থা, এতো বোকা কি করে হয় কে জানে বাবা, গাছ টাছ কেটে একাকার, আজকাল আবার লম্বা লম্বা কি বসিয়েছে...
-টাওয়ার। টাওয়ার বলে ওগুলো।
--আরে হ্যাঁ রে বাবা ওই টাওয়ারের চক্করে পরলে বুঝবি, সোজা পরপার হয়ে যাবি। ওই কোনোরকমে দুটো কচুরির আলুর দম জোগাড় হয়েছে। আসলে ফাস্টফুড খেয়ে তোদের বৌদির আবার গেঁটে বাত হয়েছে, তাই কচুরি খাচ্ছিনা আজকাল আমরা।
- এহে, তাহলে তো খুবই মুশকিল হে। সাবধানে থেকো। আসি তবে হ্যাঁ। মাঠাংবুরুকে মনে রেখো।

তারপর অনেক গাড়ি, বাস, রোল চাউমিন পেরিয়ে আমাদের পাড়ার কাছে এলাম। লোটন যথারীতি বদামি করছে। ল্যাজে সুড়সুড়ি দিতে পারতাম, থাক, পরে হবে। মহাপ্রভুটি দেখেনি আমায়, উপুর হয়ে হাঁ করে ঘুমুচ্ছে। খ্যা খ্যা, আমি একটা লাফ মেরে নাকের উপর উঠে হুইইই বলে চমকে দিয়েছি। ধড়ফড় করে উঠে বসেছে। খ্যা খ্যা, খৌ খৌ। তারপর আর কি দু মক্কেলে পেল্লায় আড্ডা হলো গল্প হলো। সব অবশ্য বলা যাবে না কিন্তু এই যে লেখাটা মহাপ্রভু লিখছে এটা আমি পাশে বসে বললাম বলেই না। মাঠাংবুরু নামে এক পিঁপড়ে গল্প না হলে।লোকে জানবে কি করে।
আমি আপাতত যাবো আমার দুর্গে ফেরত। ওই পিঁপড়েনীটার জন্য মন খারাপ করছে একটু। দেখে আসি একবার। তারপর আবার বেরিয়ে পড়বো, মহাপ্রভুর সাথে বন্ধুত্ব হয়েই গেল যখন আবার কথা হবে সবার সাথে,আমার এডভেঞ্চারের গল্পের সাথে।

343 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: dd

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

বাহবা বাহবা। বাহা বাহা বাহা।
Avatar: দ

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

আরে বা বা বা।
গুচ্চ্ছের কালীপটকা বোম আর মরনজিৎএর মধ্যে মিত্তি গপ্প।

Avatar: aranya

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

দারুণ
Avatar: de

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

খুব ভালো - আ মেলায় লেখো না কেন? যত্তসব হাবিজাবি গপ্পো থাকে - এ'রম গপ্পো পেলে খুব ভালো হোতো!
Avatar: দ

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

ও হ্যাঁ যেটা জিগ্যেস করতে ফিরে এলাম পিঁপড়ের এমন সাঁওতাল নাম কেন? মারাংবুরু র একদম কাছাকাছি।
Avatar: ঋক আর কিছুনা

Re: বাউন্ডুলে পিঁপড়ের গল্প

ধন্যবাদ dd, দ, অরন্য,de।
@de, আ মেলায় নেবে না মনে হয়।
@দ, সাঁওতাল টাইপ হলো না? আমি অত ভেবে চিন্তে রাখিনি, প্রচলত মানুষের নাম থেকে আলাদা কিছু হিসেবে রেখেছি যা মনে এসেছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন