সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পারফিউম

সুকান্ত ঘোষ

এত প্রশ্ন আমাকে আগে কেউ করেছে কিনা আমার ঠিক মনে পড়ল না। সেই প্রশ্ন কর্তাদের লিষ্টে অন্তর্ভুক্ত আছেঃ

১। অ্যালাপ্যাথি ডাক্তার।

হোমিওপ্যাথি ডাক্তার নয় কিন্তু – তাদের আবার বিরাট রেঞ্জের প্রশ্ন ক্ষেপণের স্বভাব আছে। আমাদের নিমো বাস স্ট্যান্ডের নারাণ ডাক্তার আমার লাইফ প্রশ্নবাণে যাকে বলে জর্জরিত করে দিয়েছিল একবার। সেবার ডান হাতের তর্জনীর তালুর দিকে একটা কি ফোঁড়ার মতন হল – মাল আর ফাটছে না, এদিকে উইকেট কিপিং করতে গিয়ে দেদার লাগছে। বেশ ভজকট অবস্থা। বাপকে বলতেও পারছি না যে কিপিং করতে অসুবিধা হচ্ছে, তা হলে বাপ জেনেশুনে সেই ফোঁড়া হয়ত আর ভালো করার পরামর্শ দেবে না। এমন অবস্থায় ঠাকুমা বলল, তুই আমাদের নবগ্রামের নারাণকে দেখিয়ে আয় না একবার। আমি গেলাম নিমো বটতলায় নারাণ ডাক্তারের চেম্বারে। আগে যেখানে খুকু ডাক্তার বসত, সেখানে হোমিওপ্যাথি ঐতিহ্য মেনে এখন বসত নারাণ ডাক্তার। কিন্তু ঔষুধ দেবার আগে নানা ফ্যাঁকড়া - আমাকে ছোটবেলায় বিড়ালে কামড়েছে কিনা, বা আমি ক্লাস সেভেনে ফেল করেছিলাম কিন্তু স্বীকার করতে লজ্জা পাচ্ছি কেন – এই সব জটিল প্রশ্ন। তখন হাতের ফোঁড়া এমন জ্বালাচ্ছে যে পারলে ক্লাস সেভেনে ফিরে গিয়ে ফেল-ও করে আসতাম যদি নারাণ ডাক্তার ভালো হয়ে যাবার গ্যারান্টি দিত। সে অনেক নেড়ে ঘেঁটে ঔষুধ দিল যা কিনা আবার বাড়ি গিয়ে চালের বস্তায় ঢুকিয়ে রাখতে হত। প্রতি দিন সকালি বাসি মুখে চালের বস্তা থেকে এক পুরিয়া করে বের করে খাওয়া। বলতে নেই, একদিন ফোঁড়া ফেটে গেল – তা ক্রিকেট বলের ক্রমাগত আঘাতে নাকি নারান ডাক্তারের পুরিয়ায়, তা বলতে পারব না।

২। সেপ্টেম্বর ২০০১ ট্রেড সেন্টার ভেঙে পড়ার পর থেকে আমেরিকার ইমিগ্রেশন কাউন্টারের বেরসিক গম্ভীর অফিসার সকল।

সেই অফিসারটা বাদে যে আমাকে ‘সিরামিক’ দিয়ে এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনের পার্টস বানাতে প্রবলেম কি সেটা ব্যাখ্যা করতে বলেছিল।

৩। চাকুরীর ইন্টারভিউ নেওয়া পাবলিক বা এইচ আর।

অবশ্য মিসেস বোস আমাকে একবার অনেক ঘেঁটে দেবার চেষ্টা করেছিলেন, যখন আমি দাবী করেছিলাম যে অবসর সময়ে আমি একটা নাটক লিখেছি রেসেন্টলি।

৪। আমষ্টারডাম শহর থেকে বন্ধুদের জন্য নিয়ে যাওয়া ‘স্ত্রুপ-ওয়াফেল’ নিয়ে টানাটানি করে প্রায় ফেলে দেওয়া বার্মিংহাম এয়ারপোর্টের সেই দুষ্টু কাষ্টমস অফিসারটা – সে আমি যতই বলি না যে ওই ‘স্ত্রুপ-ওয়াফেল’ গুলোতে গাঁজা ভরা নেই!

অথচ আমি এদের খপ্পরে পরতে চাই নি – টুক করে ঢুকে, টুক করে কিনে নিয়ে চলে আসব ভেবেছিলেম। কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে কি আর করা।

লবঙ্গলতিকা – আপনি কি চাইছেন স্যার?
আমি – ওই একটা আর কি।
- তাহলে স্যার কি আপনার নিজের জন্য?
- না, না – আমার বউয়ের জন্য
- আপনার বউ কি রকম জিনিস ভালোবাসে?

আমার দীর্ঘশ্বাস –

এবার লবঙ্গলতিকার অ্যাটাক শুরু হল অন্য দিক দিয়ে

- আপনার বউ কি ফ্লাওয়ারি, নাকি ফ্রুটি ভালোবাসে
- ওই ধরে নাও গিয়ে মাঝামাঝি
- আপনি তা হলে এই গুলো ট্রাই করুন

একের পর এক শিশি বোতল খুলে ভিতরের ড্রপারের মতন জিনিসটা নাকের কাছে নিয়ে আসে। দুনিয়ার নাম-না জানা ফুল-ফলের নাম দেখলাম। চেনা বলতে গোলাপ, দুটো কাঠবাদাম, একটু চন্দন, একটা বেদানা, আর একটা জুঁই, একটু দারুচিনি। একটা অনেক কষ্টে পছন্দ করলাম।

- স্যার, এটা কিন্তু ছেলেদের
- শিশির গায়ে লেখা নেই তো!

আমাকে করুণার দৃষ্টি দিয়ে মেপে নিলেও দয়া বশতঃ কিছু দাবকানি দিল না।

- আসলে স্যার, গন্ধের ইনটেন্সিটি দেখে বুঝে নিতে হবে। এটা আপনি নিজের জন্য নিন বরং।

আমি কি আর বলব, গন্ধের ইনটেন্সিটি শব্দ সমষ্টি শুনে নষ্টালজিক হয়ে পড়লাম। ক্লাস এলেভেন-টুয়েলভে আমাদের সায়েন্সের প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস আমরা ছেলেরা নিজেরাই সামলাতাম। স্যার এবং দিদিমণিরা আমাদের থেকে দূরে থাকতেন সেই গন্ধের ইনটেন্সিটির জন্যই। টিফিন বেলায় ক্রিকেট বা ফুটবল পেঁদিয়ে আমাদের গা থেকে ঘামের যা গন্ধ বেরোত, তাতে করে পরবর্তি জীবনে সৌগতের কথা মত আমরা অ্যানাস্থেটিকসের বিকল্প হতে পারতাম। সৌগত বলত যে, কেবল মাঠের চারদিকে কয়েক পাক দৌড়ে রুগীর নাকের কাছে এসে নাকি বগল তুলে শোঁকালেই কেল্লা ফতে! অপারেশন করানোর আগে ক্লোরফোম অপচয়ের কোন দরকার হত না!

তবে সেই নষ্টালজিয়ায় সু-গন্ধও জড়িয়ে ছিল বৈকী! আমাদের ছোটবেলায় বাপ-কাকাদের দেখতাম সেই এক ইঞ্চি শিশিতে জন্ডিসের সময় পেচ্ছাপের মতন রঙের ‘সেন্ট’ ঢালত রুমালে। পারফিউম বলা তখন দস্তুর ছিল না আর তা গায়ে মাখাও নয়। মাঝে মাঝে পকেট থেকে রুমাল বের করে নাকের কাছে নিয়ে যাওয়া বা বাতাসে একবার ঘুরিয়ে দেওয়া, সেটাই স্বাভাবিক ছিল। আরো একটু বড় হলাম, লাইফে ‘গোল্ডি’ সেন্টের আগমণ ঘটল, ‘চার্লি’-কে টপকে। ‘চার্লি’ থেকে ‘গোল্ডি’ সে এক বিশাল ব্রেক-থ্রু। বেশ কয়েক রাত উত্তেজনায় ঘুমাতে পারি নি বাড়িতে প্রথম ‘গোল্ডি’ ঢোকার পর।

আরো একটু বড় হলাম – নিজের সেন্ট নিজে খুঁজে বের করার ক্ষমতা অ্যাপ্রুভ হবার পর প্রথম স্টপ হল গিয়ে মধুর পানের দোকান। তবে মধুর কাছে আমরা সেন্ট কিনতাম না – কিনতাম তার ভাগনা আমাদেরই বয়সী বাপি-র কাছ থেকে। তার কাছ থেকেই প্রথম শেখা ‘ব্রুটস’ নামক এক জিনিস। তবে কিনা আমরা সবাই অলিখিত জানতাম বিদেশী নাম হলেও মাল সব তৈরী হত নবদ্বীপে। যা কিছু নাম করা সাবান, সেন্ট, পরের দিকে ডিও, তা সবই প্রায় নকল তৈরী হত নবদ্বীপে। কিন্তু মনে হচ্ছে মাঝে একটা স্টেপ বাদ চলে গেল যেই স্টেপে মেমারী পুরানো রেলগেটের কাছে বাদলের দোকানেও এমন নবদ্বীপ জাত বিদেশী জিনিস পত্র কেনা হয়েছিল। তার পর এল গিয়ে শিবপুর – কলকাতার কিছু আঁতেল (এবং শ্রীরামপুরের সৌগত) পাবলিকের কাছ থেকে সভ্য হবার শিক্ষা নেবার জন্য ট্রেনি হয়ে গেলাম অজান্তেই। ডিও স্প্রে এল – ডিও রোল এল, ফ্যান্সি মার্কেট এবং এসপ্ল্যানেড এল।

এই করতে করতে একদিন ডিউটি ফ্রী ‘কুল-ওয়াটার’স। ততদিনে বেশ খানিক আঁতেল হয়েছি। দু চারটে নামও শুনেছি ‘পারফিউমের’ – ছেলেদের এবং মেয়েদের ‘ফারফিউম’ যে আলাদা, সেটা জানতে পেরেছি। কানে তুলোয় ভরা আতর গুঁজে বেরোনোর বয়স যে অনেক দিন পেরিয়ে এসেছি সেটাও মালুম হয়েছিল। এর পর থেকে মোটামুটি ডিউটি ফ্রী-ই আমাকে ঠ্যাকান দিয়ে রেখেছিল। বাহ্যিক জগতে আর পারফিউম তেমন কিনতে বের হতাম না।

যাই হোক, অনেক দিন পর এবার এই ঘটনা হল – আমি সেই লবঙ্গলতিকাকে বললাম যে এই যাত্রায় আমার কেবল বৌয়ের জন্যই কেনার আছে। অনেক টালাবাহানার পর তিনটে শিশি শর্ট লিষ্ট হল। এবার তাদের মধ্যে থেকে ফাইন্যাল নির্বাচন –

- স্যার, আপনার বউ কোথায় যাবে পারফিউম মেখে?
- নানা জায়গায় যাবে
- তা বললে তো হবে না, আরও স্পেসিফিক হতে হবে
- এই উইকেন্ডে বা উইকের মধ্যে বাইরে বেরেনো
- সঙ্গে কে থাকে আর কাদের সাথে দেখা করবেন
- এই ধরো পার্টি, বা একসাথে গল্পগুজব
- ও, তার মানে, আপনি রোমান্টিক ডিনার জাতীয় অকেশনের কথা ভাবছেন না –
- না, মানে সব সময় তো ভাবা হয় না
- তাহলে স্যার গোলাপের সুগন্ধটা নেবেন না। ওটা সাত রকমের গোলাপ দিয়ে বানানো রোমান্টিক গন্ধ
- বেশ, নেবো না – তাহলে কোনটা নেব?
- আপনি স্যার দারুচিনির সাথে মিনোসা ফুল মেশানো গন্ধ টা নিন
- মিনোসা ফুল কি?

বিরাট বোকামো করে বসলাম প্রশ্নটা করে! এদিকে আসুন বলে আমাকে সাইডে নিয়ে গিয়ে ইয়াব্বর ক্যাটালগ এবং ট্যাব ইত্যাদি খুলে বসল। আমাকে ওই দিকে ফোর্থ ফ্লোরের লেবানিজ রেষ্টুরেন্টটা প্রায় হাতছানি দিচ্ছে। অনেক কষ্টে মিনোসা ফুলের হাত থেকে মুক্তি পেলাম। তাহলে এবার কনফিউশন দাঁড়ালো দুটোর মধ্যে।

- স্যার, আপনি এক কাজ করুন। দুই হাতে আপনার আমি দুই গন্ধ লাগিয়ে দিচ্ছি। আপনি সেই গন্ধ লাগিয়ে শপিং কমপ্লীট করে আসুন। কিছু ক্ষণ দেখবের এদের প্রকৃত গন্ধ আপনার কাছে প্রকট হবে
- খুব ভালো প্রস্তাব। (স্বগতঃ আমাকে লেবানন ডাকছে), দাও লাগিয়ে

দুই হাতে লাগিয়ে আমি শপিং মলে ঘুরে বেড়াচ্ছি। ক্রমাগত একবার এই হাত আর অন্যবার সেই হাত শুঁকচি – অনেকে আমার দিকে ট্যারাচোখে তাকাচ্ছে – তবে আমার লা-পরোয়া, গন্ধ বাছতেই হবে। খেতে গিয়ে ‘হামুস’ এর গন্ধের সাথে মিনোসা মিশে এক জটিল ব্যাপার।

লেবানন আমার পেট ঠান্ডা করল – আমি পকেট থেকে একটা কয়েন বার করে টস করে ঠিক করলাম কোন হাতেরটা নেব। দোকানে ফিরে এসে সেই লবঙ্গলতিকাকে বাঁ হাতটা শুঁকিয়ে বললাম – এইটা দেও।

এরপর শুরু হল প্যাকিং – প্যাকিং এর মাঝামাঝি আমার আবার খিদে পেয়ে গেলে আমি আইস্ক্রীম খেতে গেলাম। সেই খেয়ে ফিরে এসে আমি প্যাকিং-য়ের শেষটা দেখতে পেলাম। পয়সা মেটালেও আমাকে কাউন্টারে প্যাকেটটা হস্তান্তর করল না। লবঙ্গলতিকে দরজার কাছ পর্যন্ত এগিয়ে এসে আমাকে প্যাকেটা দিল – বলল, প্লিজ কাম এগেন।

আমি আর ভয়ে পিছু ফিরে তাকালাম না। ঘটনা ‘পারফিউম’ সিনেমার থেকেও জটিল। এই ঘটনা আগে ঘটলে ছেলেটি কেন খুন করছে সেই মনস্তত্ত্ব বুঝতে কোনই প্রবলেম হত না!


400 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: পারফিউম

কিন্তু কফি বিনস শোঁকায় নি বিভিন্ন পারফিউমের গন্ধের মাঝে? কফি বিনস না না শুঁকলে তো নাক নিউট্রালাইজ হবে না হে সুকি।

না না এ মোটেই ঠিক ব্যাকরণ মেনে কেনা হয় নি বাপু।
Avatar: সুকি

Re: পারফিউম

দমুদি, পারফিউম এর ব্যাপারে খুব বেশী কিছু জানি তেমন দাবী করতে পারব না। ওই ডিউটি ফ্রীতেই মোটামুটি ভালো ঘোরাঘুরি - এবং কিছু নামী পারফিউম এর দোকানে। কিন্তু কেউ আমাকে 'কফি বীনস্‌' শোঁকায় নি আজ পর্যন্ত - ইন ফ্যাক্ট এই কনসেপট টাই জানতাম না।
Avatar: .

Re: পারফিউম

কফি বিন্স শুঁকতেই হবে নইলে আগের গন্ধ নাক থেকে যাবে না।
Avatar: একক

Re: পারফিউম

ইন্টেন্সিটিই সব । নইলে তো পাদের গন্ধে আর ফুলের গন্ধে , সেই ইন্ডোল !


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন