Abhinaba Ghosh RSS feed

Abhinaba Ghoshএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

Abhinaba Ghosh

[গোড়ার কথা ]

এই যে আপনি ভাবছেন এই লেখাটা পড়বো, এই হাতটা এগোল মাউসের দিকে, এই ঠিক জায়গায় চেপে ধরে ক্লিক, ব্যাস! চোখ অমনি পড়তে শুরু করল লেখা আর আপনি মজে গেলেন লেখার মধ্যে - জানেন আপনার ব্রেনের কতগুলো অফিস, তার কত কত বড় -মেজ -সেজ -ছোট সাহেব – ফিনান্স অফিসার- লাইব্রেরিয়ান- পিওন -দারোয়ান- ক্যান্টিনের ম্যানেজার একদম ঠিক ঠিক সময়ে ঠিক ঠিক কাজটা করেছে বলে আপনি ঠিক ঠিক লেখাটা পড়তে পারছেন !একটু এদিক ওদিক হলেই হাত লন্ডন যেতে গিয়ে লিলুয়ার টিকিট কেটে বসতো, কিংবা আপনি পড়তেন এক জিনিস, আর মানে বুঝতেন অন্য। হেড অফিসের কাজ কর্ম সব নিক্তি মাপা। কোথাও কারোর এতটুকু ফাঁকি দেওয়ার জো নেই। একটু ডানদিক থেকে বাঁদিক হলেই সব গড়বড়, তা সে হাত-পা নাড়ানোই হোক বা গভীর ভাবনা-চিন্তা করা কিংবা জল তেষ্টা পাওয়া। অসুখ-বিসুখ হলে কিংবা জন্মগত সমস্যা থাকলে এই অফিসের কাজকর্মে গণ্ডগোল দেখা দেয়। সেই গোলযোগেরও রকমফের আছে। কোন অসুখে অফিসের বড়সাহেব ছুটিতে গিয়ে আর ফেরেন না, কখনো অফিসময় সবাই মিলে ধিন্তাধিনা তাধেইধেই করতে শুরু করে, আবার কখনোবা ফিনান্স অফিসার ছুটি নিলে কাজের বারোটা বেজে যায়; মাইনে ঠিকঠাক নাহলে কে আর কাজ করতে চায় বলুন!কোন অসুখে ব্রেন কেমন করে গড়বড় করবে সেটা জানতে গেলেব্রেন এমনি সময়ে ঠিক কিভাবে কাজ করে সেটা বুঝে নেওয়া দরকার। তারও আগে জানতে হবে ব্রেনের নাম-ধাম-সাকিন-ঠিকানা-প্রতিবেশী- প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্ক কেমন-বাড়িতে কে কে আছে-তারা কে কি করে ইত্যাদিইত্যাদি।

ব্রেন বসে থাকে করোটির মধ্যে, একরকমের চাদরমুড়ি দিয়ে। ( চাদরের নাম মেনিঞ্জেস, তার আবার অনেকগুলো ভাগ আছে। ওই মেনিঞ্জেসের একরকম অসুখকে বলে মেনিনজাইটিস। আমাদের দেশে অনেক বাচ্চার এই অসুখ হয়, মারাও যায়, আহা রে!) ঠিক এমনি এমনি চাদরমুড়ি দেয় না, চাদরের ভিতরে মিনি-সুইমিংপুলে ডুব দিয়ে বসে থাকে; যা গরম! আমি হলেও তাই করতুম। ওই সুইমিংপুল আবার বিশেষ তরল দিয়ে তৈরি যা ব্রেনের নানারকম কাজে লাগে। চাদরের ফাঁকফোকর দিয়ে এই তরল খানিকটা ব্রেনের ভিতরে সুড়ঙ্গ- সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে যায়, বাকিটা স্পাইনাল কর্ডের চারপাশে ঘুরঘুর করে। ব্রেনের নিচ থেকে লম্বা ন্যাজের মতো স্পাইনাল কর্ড ঝুলতে থাকে, তাকে ঘিরে রাখে বডিগার্ড মেরুদণ্ড। আর উপরে করোটির অক্ষিকোটরে বসে থাকে চোখ। চোখের রেটিনা আসলে ব্রেনেরই অংশ, লম্বা নার্ভ দিয়ে যুক্ত থাকে ব্রেনের সাথে। এইরকম আর একটা খুচরো ব্রেনের টুকরো হোল অলফ্যাকটরি বাল্ব যা কিনা করোটির নাকের ফুটোর ভিতর দিকে গভীরে লুকনো থাকে। ইনিও লম্বা এক নার্ভ দিয়ে ব্রেনের সাথে জোড়া। অলফ্যাকটরি মানে ঘ্রান- সম্পর্কিত। বাকি চার ইন্দ্রিয়র থেকে এনার একটা বিশেষ পার্থক্য আছে। সেটা পরে বলছি। ব্রেন থেকে মোট বারো জোড়া নার্ভ বেরিয়ে আসে যাদের নানাবিধ কাজ, দুজনের কথা এক্ষুনি বললাম। বাকিদের মধ্যে দশ নম্বরের বিশেষ খাতির। ব্রেনের সাথে আর নানা প্রতিবেশী যন্ত্রপাতি যেমন পাকস্থলি, হৃদপিণ্ড ইত্যাদির নিবিড় সংযোগ রক্ষা করেন এই দশ নম্বরি ভেগাস নার্ভ। বারো জনের মধ্যে ইনি সবচেয়ে লম্বাও বটে। বাকিদের কথা যথাস্থানে হবে। স্পাইনাল কর্ড থেকে একত্রিশ জোড়া নার্ভ বেরোয়। এই বারো জোড়া আর একত্রিশ জোড়া নার্ভ মিলে গোটা শরীরের নানা জায়গায় খবর দেওয়া নেওয়া করে।

আলোচনা আরও এগোনোর আগে বেসিক এক দুটো জিনিস বুঝে নেওয়া দরকার। গোটা ব্রেন আর স্পাইনাল কর্ড তৈরি হয় অনেকগুলো স্নায়ুকোষ বা নিউরোন দিয়ে। কতগুলো ? সেটা আপাতত রহস্য থাকুক, “অনেক অনেক নিউরোন আছে” এটা বুঝলেই আপাতত আমাদের কাজ চলে যাবে। ছোটবেলার জীবনবিজ্ঞান থেকে একটা প্রশ্ন করি? বলুন তো, স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত এবং কার্যগত একক কি? সবাই জানি উত্তরটা, নিউরোন। কিন্তু এই প্রশ্নটা একজন নিউরোসায়েন্টিস্টকে করে দেখুন। তিনি গম্ভীর মুখে মাথা টাথা চুলকে বলবেন- বাপু হে, কথাটা ঠিক, আবার পুরো ঠিক নয়। ঠিক এইখানেই পাঠ্যবইয়ের থেকে বিজ্ঞানের চলন জটিল এবং পৃথক হতে শুরু করে। গঠনগত এবং কার্যগত একক হতে গেলে প্রত্যেকের গঠন আর কাজ একই রকম হতে হবে। তা তো ঠিক নয়। আলাদা আলাদা ধরনের নিউরনের গঠন বা কাজ আলাদা আলাদা। ওই যে এক্ষুনি বলছিলাম বারো জোড়া আর একত্রিশ জোড়া নার্ভ মিলে গোটা শরীরের নানা জায়গায় খবর দেওয়া নেওয়া করে; যারা খবর দেয় আর যারা খবর নেয়, তাদের মধ্যে মিল আছে প্রচুর, ফারাকও আছে বিস্তর। তারা নিউরোন বটে, কিন্তু জাত-কুল-গোত্র আলাদা। খুঁটিয়ে লক্ষ্য করলে তাদের চেহারার ফারাকও স্পষ্ট হয়। কাজের ধরন আলাদা তো বটেই। নার্ভ আর নিউরোনের মধ্যে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন। নিউরনের সরু ন্যাজ হল অ্যাক্সন আর বেশ কয়েকটা মোটা মোটা টিকি হল ডেনড্রাইট। ওই টিকি দিয়ে নিউরোন সিগন্যাল ধরে আর ন্যাজ দিয়ে বের করে দেয় যা কিনা আবার পরের নিউরোনের টিকি খপ করে ধরে ফেলে। এক গোছা সরু ন্যাজ অ্যাক্সন বাণ্ডিল করে র্যা পারে মুড়িয়ে তৈরি হয় একটা নার্ভ। একটা নিউরনের একটাই ন্যাজ। তাহলে বোঝা যাচ্ছে এক একটা নার্ভ হল আসলে অনেক নিউরনের ন্যাজ বাণ্ডিল বানিয়ে চেপে ধরা।
তো ওই যে বারো জোড়া আর একত্রিশ জোড়া নার্ভের কথা বলছিলাম, তারা ব্রেন আর স্পাইনাল কর্ড থেকে বেরিয়ে খবর দিতে যায় বাকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, আবার সেখানে কি হচ্ছে না হচ্ছে সে খবর ও ফেরত নিয়ে আসে। কেউ খবর দেয় শুধু, কেউ শুধু খবর নেয়, কেউ আবার দুইই করে থাকে। এই ফেরত নিয়ে আসাটা হয় পঞ্চেন্দ্রিয়ের দ্বারা- চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা আর ত্বক। প্রত্যেক ইন্দ্রিয়ের জন্যে ব্রেনের নির্দিষ্ট অফিস আছে। খবর সোজা সেখানে গিয়ে পৌঁছয়। সেখান থেকে সিগন্যাল যায় অন্য আর এক অফিসে। সেখানে হিসেব নিকেশ করে দেখা হয় কি করা উচিৎ সিগন্যাল দিয়ে। অনেক সময় লাইব্রেরিতে খবর পাঠিয়ে জিজ্ঞেশ করা হয়- ওহে দেখতো , গতবারে এইরকম যে সিগন্যালটা এসেছিল তাতে ঠিক কি কি খবর লেখা ছিল? কাজের কথা কিছু ছিল? অমুক অমুক ব্যাপারে কিছু বলেছে? লাইব্রেরিয়ানের কাছে যদি ফাইলটা থাকে তো সে পাঠিয়ে দেয় ওই হিসেব কষার অফিসে। অনেক সময়, যা হয় আর কি কাজের চাপে, বেচারা হয়ত ভুলে মেরে দিল ফাইল পাঠানোর কথা। কিংবা গড়িমসি করে বলে দিল- নেই স্যার, ফাইল হারিয়ে গেছে। অনেক সময় হিসেব কষার অফিস সে কথা দিব্যি মেনে নিয়ে নতুন সিগন্যাল পাঠিয়ে দেয় নার্ভের মাধ্যমে, তাতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উদ্দেশ্যে বলা থাকে কি কি করতে হবে না হবে। অনেক সময় আবার লাইব্রেরিয়ানের ফাঁকিবাজি ধরা পড়ে যায়। জোর ধমক খায় সে- চোপরাও হে, ফাইল খুঁজে নিয়ে এসো। সেই ফাইল এলে, তার হিসেব নিকেশ করে হিসেব-কষা-অফিস অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সিগন্যাল পাঠায়। এই হিসেব কষা, লাইব্রেরিতে ফাইল খোঁজা, ধমক দেওয়া- সব কাজ করে ব্রেনের আলাদা আলাদা অফিসের আলাদা আলাদা নিউরোনের দল।

হিসেব কষার অফিস= প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স (ব্রেনের একদম সামনের দিকের অংশ, যা মানুষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উন্নত)
লাইব্রেরি= হিপোক্যাম্পাস (ব্রেনের ভিতরের দিকে লুকিয়ে থাকা লম্বা বাঁকানো পাতের মতো অংশ, স্মৃতিশক্তি ব্যাপারটা মোটের ওপর এরই হাতে)
ধমক দেওয়ার অফিস= খুব জটিল ব্যাপার, আপাতত খালি অ্যাড্রেনালিনের কথা বলছি যা কিনা লোকাস সেরুলিয়াস নামে ব্রেনের তলার দিকে একটা জায়গা থেকে আসে। অন্যান্য অফিসেরও অবদান আছে এতে। সেকথা পরে হবে নাহয়।

এবার ভেবে দেখুন, কি কঠিন ব্যাপারটা। কতগুলো অফিসের কতগুলো নিউরোন সিগন্যাল চালাচালি করলে তবে গিয়ে একটা কাজ হয়। একটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ দিই-

মনে করুন আপনি অফিসে বসে মনের আনন্দে ফেসবুক করছেন। এমন সময়ে ফোন বাজল, স্ক্রিনে বসের নাম। আপনার প্রি ফ্রন্টাল কর্টেক্স ওই একত্রিশ জোড়া নার্ভের কোন একটা বা দুটো দিয়ে খবর পাঠাল আপনার হাতের মাসেলে- বাপু হে, চাকরি রাখতে চাইলে জলদি জলদি ফোনটা ধর। আপনি পড়িকিমরি করে ফোন ধরলেন। ওপাশ থেকে বস জিজ্ঞেস করলেন অমুক কাজটা হয়েছে? এই সিগন্যাল কানের নার্ভের মধ্যে দিয়ে “কানের অফিসে” গেল। সেখান থেকে এক নিউরোন খবর নিয়ে গেল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে, আর একজন গেলো লাইব্রেরি হিপোক্যাম্পাসে চেক করে দেখতে। লাইব্রেরি যথারীতি ল্যাধ খেয়ে বলে দিল ফাইল নট ফাউন্ড। এই খবর ফিরে গেলো প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে। কিন্তু এদিকে প্রিফ্রন্টাল ততক্ষণে সিগন্যাল বিশ্লেষণ করে “অ্যামিগডালা” নামে ইমোশান অফিসকে দিয়ে কনফার্ম করে ফেলেছে যে বসের গলা ভারি, মেজাজ খাট্টা। আজ চাকরি গেলেও যেতে পারে। অতএব খবর গেলো লোকাস সেরুলিয়াসের ধমক অফিসে। অ্যাড্রিনালিন পাঠিয়ে লোকাস সেরুলিয়াস ধমক দিল হিপোক্যাম্পাসে। ব্যাস, ফাইল বেরিয়ে এল, প্রিফ্রন্টালে সিগন্যাল গেলো। ফাইনাল হিসেব নিকেশ করে প্রিফ্রন্টাল আরও একটা দুটো অফিসের সাহায্যে আপনার ভোকাল কর্ডে আর মুখের মাসেলে সিগন্যাল পাঠাল, আপনি বলে উঠলেন, হ্যাঁ স্যার, নিশ্চয়ই। আমি এক্ষুনি আপডেট পাঠাচ্ছি।
ভেবে দেখুন বসের গলা শোনা থেকে শুরু করে আপনার মুখ খোলা পর্যন্ত পুরো কাজটা হল এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। তাহলেই ভাবুন এতগুলো সিগন্যাল পাঠানো, হিসেব কষা এগুলো কত স্পিডে হচ্ছে।
আচ্ছা, এবার মনে করুন তো, যতক্ষণ কথা বলছিলেন বসের সাথে, ততক্ষন চারপাশে কে কি করছে কি বলছে সে ব্যাপারে খেয়াল ছিল? ছিল না তো? যেই ফোনটা রাখলেন অমনি নজরে পড়ল কে ফেসবুকে পিং করেছে, কে কার সাথে বকবক করছে। এর কারণ হল আমাদের ব্রেনের ফিলটার করার ক্ষমতা। ইন্দ্রিয় দিয়ে যা যা ইনফরমেশান ঢোকে, তার সবটা যে হেড অফিসে পৌঁছয় এমন নয়, কিছুটা মাঝ রাস্তায় ফিল্টার হয়ে যায়। এই ফিল্টারদের মধ্যে সবচেয়ে নামজাদা হল থ্যালামাস। তবে শুধু ফিল্টার নয়, অন্যান্য কিছু কাজও এর আছে। মজার ব্যাপার হল, থ্যালামাস অনেক উন্নত একটা সিস্টেম। ভ্রূণ অবস্থার প্রথম দিকে যে ইন্দ্রিয় তৈরি হয় তা হল ঘ্রাণেন্দ্রিয়। তার কাজের জন্যে থ্যালামাস লাগে না। আর থ্যালামাসের ফিল্টার থাকেনা বলেই ঘ্রাণের সাথে আমাদের ইমোশানের এত নিবিড় যোগাযোগ। আজও গোলাপের গন্ধ নাকে এলে ঝটপট পুরনো প্রেম মনে পড়ে যায় এজন্যেই।
তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো এই-

পঞ্চেন্দ্রিয় পঞ্চপাণ্ডব, মহাপ্রস্থানের পথে
চার- পথিমধ্যে কুপোকাত থ্যালামাসের হাতে।
অলফ্যাকটোরি যুধিষ্ঠির বিচক্ষণ ভারি,
পূর্ব হইতে অন্য রাস্তা দেখা ছিল তারই।
(চলবে…)


437 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: pi

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

ইঁট পেতে গেলাম।
Avatar: avi

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

পাগলা সুরুয়াৎ। কিপিটাপ।
Avatar: Titir

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

সহজ সরল ভাষায় কি সুন্দর লেখা।পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
Avatar: শঙ্খ

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

আপনি থাকচেন স্যার। চলুক
Avatar: SS

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

বাহ, সহজ বাংলায় দারুণ লেখা। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
Avatar: Abhinaba Ghosh

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ। ব্রেন, নিউরন, তাদের নিয়ে গবেষণা এবং ব্রেন সংক্রান্ত নানা অসুখের ব্যাপারে নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সহজভাবে তুলে ধরার জন্যে এই সিরিজের অবতারণা। ব্রেন সংক্রান্ত অনেক অনেক মিথ বাজারে ঘোরে। তার কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে, কোনটার ব্যাপারে গবেষণা হয়নি কিন্তু মোটের ওপর একটা বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর আছে। এই রকম কোন বিশেষ বিষয়ে আপনার কৌতূহল থাকলে মন্তব্যে জানাবেন। পরের পর্বে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

ধন্যবাদ।

- লেখক
Avatar: গৌতম

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

বাহ। চমৎকার পরিবেষণ। অপেক্ষায় রইলাম।
Avatar: dd

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

খুব ভালো হচ্ছে।
Avatar: Atoz

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

দারুণ ভালো, খুব ভালো। চমৎকার।
Avatar: পাঠক

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।


" ব্রেন সংক্রান্ত অনেক অনেক মিথ বাজারে ঘোরে। তার কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যে, কোনটার ব্যাপারে গবেষণা হয়নি কিন্তু মোটের ওপর একটা বিজ্ঞানভিত্তিক উত্তর আছে। এই রকম কোন বিশেষ বিষয়ে আপনার কৌতূহল থাকলে মন্তব্যে জানাবেন। পরের পর্বে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।"

আমার কৌতুহল ' ডিপ্রেশন ' নিয়ে - কেন /কিভাবে /কোন কারনে হয় , জিন কি দায়ী ? আগে থেকে জানা যায় কিনা , তার প্রতিষেধক আছে কিনা , চিকিৎসা কি , ওষুধ তুলে নিলে তার এফেক্ট কি , ওষুধে কি আত্মহত্যার প্রবনতা বাড়ে ? যদি উত্তর দেন

ধন্যবাদান্তে

পাঠক
Avatar: prativa

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

চলুক এটা। আগ্রাসী হয়ে পড়লাম।
Avatar: প্রতিভা

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

আগ্রহী হবে।
Avatar: অ

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

অসামান্য! লেখককে অনেক ধন্যবাদ।চলতে থাকুক প্লিজ।আসুক স্বপ্ন,প্রেম আর অহৈতকি অজ্ঞেয় কাজকামের প্রেষণার কথাও।
Avatar: পৃথা

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

চমৎকার পরিবেশন
Avatar: ঋক আর কিছুনা

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

বেড়ে লাগলো ।অ্যামিগডালা নিয়ে , এনএলপি নিয়ে একটু আলোচনা পরের কোনো পর্বে পেলে ভালো লাগবে ।
Avatar: sswarnendu

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

খুব ভাল বিষয়। এই অংশটা সুখপাঠ্যও হয়েছে। চলুক। শুধু লেখককে একটা অনুরোধ, সুখপাঠ্য করতে গিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোর অতিসরলীকরণ হয়ে ভুল ধারণা তৈরি না হয় পাঠক-পাঠিকার সেইটা লেখক একটু মাথায় রাখবেন।

যেমন পড়তে গিয়ে মনে হল এই লেখাটাতেই তলায় একটা ফুটনোট অন্তত লেখক দিয়ে দিলে পারতেন যে ব্রেইনের এই বিভিন্ন কাজের জন্যে বিভিন্ন অংশ ব্যাপারটা খুব রিজিড কিছু নয়, একাধিক অংশ সম্ভবত কোলাবোরেট করে এক একটা কাজে... এমনকি মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন অনেক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই ব্রেইনের অন্য অংশ দিয়ে সেই কাজ দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছে এমনও উদাহরণ আছে, তাই এই এরিয়া ব্যাপারটা খুবই রাফলি বলা, সেইটা বেশ ফ্লুইড হতে পারে বলেই মনে করা হয়।
Avatar: ইন্দ্রাণী

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

অসাধারণ পরিবেশন! এমন একটি জটিল বিষয়কে লেখক যে সহজতায় রূপকথার গল্পের মতন পাঠকের সামনে উপস্থাপন করেছেন প্রশংসা করার মতনই।পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল লেখক যেন পাঠককে পক্ষীরাজের পিঠে চাপিয়ে মস্তিষ্কের অলিতেগলিতে ভ্রমণ করাচ্ছেন। লেখকের উপর প্রত্যাশা বেড়ে গেল, পরের পর্বের জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষায় রইলাম।
Avatar: Ekak

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

বাহ্ , অপেক্ষায় রইলুম ।
Avatar: avi

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

স্বর্ণেন্দুকে ক।
পাঠকের প্রশ্ন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্রবন্ধের দাবি রাখে। পরের কিস্তির অপেক্ষায়।
Avatar: দ

Re: ।।হেড-আপিসের গপ্পো।।

দারুণ দুর্ধর্ষ চমৎকার
পরের অংশ কই?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন