সিকি RSS feed

অচল সিকির খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বসন্ত এসে গেছে ...

সিকি

গল্পটা ঠিক গুরমেহরকে নিয়ে শুরু হয় নি। শুরু হয়েছে তার দুদিন আগে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রামজাস কলেজে দুদিনব্যাপী ডিবেটের অনুষ্ঠান ছিল, বিষয় ছিল প্রতিবাদের সংস্কৃতি। তো, সেই ডিবেটের দ্বিতীয় দিনে আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার, উমর খালিদ।

এই অবধি পড়েই নিশ্চয়ই আন্দাজ করে নিয়েছেন কেন অচল সিকি আবার এক বছর বাদে বসে গেছে মন কি বাত লিখতে? বিচ্ছিন্নতাবাদী, রাষ্ট্রবিরোধী, আফজল গুরুর সমর্থক, “ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে” বলে স্লোগান দেওয়া “ভামপন্থী” উমর খালিদকে সেদিন বলতে না দেওয়ায় সিকি নিশ্চয়ই প্রচণ্ড ব্যথিত? নিশ্চয়ই ফ্রিডম অফ স্পীচ নিয়ে সাতকাণ্ড লিখতে বসেছে আজ?

নাঃ, সেই রকমের ব্যথা পাবার মত কিছু হয় নি। তেমন কোনও উদ্দেশ্য নিয়ে আমি আজ লিখতে বসি নি। বিজেপি যে আদর্শে দীক্ষিত রাজনৈতিক দল, তাদের জাতীয়তাবাদের ধারাপাত মহারাষ্ট্রের একটি বিশেষ শহরে যে দলটি দ্বারা রচিত হয়, তাদেরই ছাত্র সংগঠন এবিভিপি যে এর চেয়ে কোনও উন্নত প্রক্রিয়ায় ভিন্নস্বরকে চুপ করিয়ে দিতে শেখে নি, সে আমরা আজ থেকে নয়, অনেক অনেক আগে থেকে জেনে এসেছি। এর চেয়ে উন্নত শিক্ষা এদের নেই, তাই এ বিষয়ে বিশেষ কিছু না বলাই ভালো। মুশকিল হয়ে গেল মাঝখান থেকে গুরমেহর কৌরের একটি ছোট পোস্টার হাতে ছবি বাজারে প্রকাশিত হয়ে যাওয়ায়। এবিভিপির সুশিক্ষিত ছাত্রদের হাতে মার খেয়ে তখন দিল্লি ইউনিভার্সিটির একাধিক ছাত্রছাত্রী জখম, একজন অধ্যাপককে মাটিতে ফেলে পেটে লাথি মারা হয়েছে, তিনি এখন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ইন্টারনাল ইনজুরি নিয়ে – বেশ একটা ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে ফেলা গেছে, আর কোনও শালা এই শুওরের বাচ্চা কমিউনিস্ট দেশদ্রোহীদের রামজাস কলেজে দ্বিতীয়বার আনার কথা ভুলেও ভাববে না, সেই সময়ে কিনা – মাত্র কুড়ি বছর বয়স্ক একটা মেয়ে হাতে একটা পোস্টার নিয়ে ছবি তুলে সোশাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিল – যাতে লেখা, এবিভিপি, আমি তোমাদের ভয় পাই না, আমি একা নই – সারা ভারতের ছাত্রছাত্রী আমার সাথে আছে? ভাবা যায়?

মানে, এবিভিপি বা আরএসএস – এমনিতেই অত্যধিক মাত্রায় ফিউডাল মনোবৃত্তির দল, মনুবাদকে মাথায় নিয়ে চলে, এদের দলের মেয়েরাও আদর্শ ভারতীয় নারীর সংস্কৃতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেন, যার পরিণতি হিসেবে আমরা পাই ইয়েল কলেজ থেকে পাশ করে মন্ত্রী হওয়া দুর্গাভক্ত শ্রীমতি স্মৃতি ইরানী জাতীয় রুচিশীল সংস্কৃতিবান মহিলাদের, সেখানে একটি কচি খুকি, হুট্‌ করে বলে বসল কিনা, নট অ্যাফ্রেড অফ এবিভিপি? এমনি কোনও মেয়ে বললে হয় তো ভারতমাতার নামে জয়ধ্বনির নিচে চাপা পড়িয়ে দেওয়া যেত আওয়াজটা, কিন্তু এই মেয়েটি আবার এমনি যে-সে মেয়ে নয় – রীতিমত শহিদের বেটি। এর বাবা, মনদীপ সিং ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের শহীদ। ও, ও, সরি, সরি, মাপ করবেন, ভারত সরকার “শহীদ” শব্দটি সরকারিভাবে গ্রাহ্য করে না। মৃত সৈন্য মনদীপ সিং।

ভাবছেন, ইয়ার্কি মারছি? আজ্ঞে না, ইয়ার্কি নয়, খাঁটি সত্যি কথা। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনির কোনও কর্মী, কোনও রকমের অ্যাকশনে যদি মারা যান, তাঁকে সরকারের তরফ থেকে “শহীদ” আখ্যা দেবার কোনও অবকাশই নেই – মাত্র তিন মাস আগে লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই তথ্যটি দিয়েছেন, আর কেউ নয়, স্বয়ং গৃহরাজ্যমন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

"The ministry of defence has informed that the word ‘martyr’ is not used in reference to any of the casualties in Indian armed forces. Similarly, no such term is used in reference to the central armed police forces and Assam Rifles personnel who are killed in action or on any operation."

৬ই ডিসেম্বর, ২০১৬, লোকসভায় দাঁড়িয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে এই বক্তব্য রাখেন মাননীয় মন্ত্রী শ্রী কিরেন রিজিজু, যা লোকসভার রেকর্ডে রাখা রয়েছে। তো, সেই হিসেবে কারগিল যুদ্ধে “মৃত” সৈনিক মনদীপের কন্যা গুরমেহরের এই বয়ান ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে ন্যাশনালিজমের ঠিকাদারদের, কারণ এতদিন অবিসংবাদিতভাবে তারা নিজেরাই মনে করত সেনাবাহিনির গর্ব আর দেশের সম্মান রক্ষা করার একমাত্র হর্তাকর্তাবিধাতা, ন্যাশনালিজমের দেশব্যাপী একমাত্র ঠিকাদার, সেখানে একজন মৃত সৈনিকের মেয়ে কিনা, দেখা যাচ্ছে, আরেকটা ভিডিও দিয়ে রেখেছে সোশাল নেটওয়ার্কে – যাতে সে হাতে লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে দেখাচ্ছে, তাতে লেখা অনেক কিছু, তার মধ্যে লেখা ইংরেজিতে ন’টি শব্দ – বাংলা করলে দাঁড়ায়, পাকিস্তান আমার বাবাকে মারে নি। মেরেছে যুদ্ধ।

আর যায় কোথায়! কলেজ ক্যাম্পাসে এবিভিপির নিজেদের জাতীয়তাবাদী লজ্জা নিবারণের একমাত্র ডুমুরপত্র ছিল এই “ভারতীয় সেনা, শহীদ হবার জন্য বর্ডারে দাঁড়িয়ে রাত জাগছে” রেটোরিক, সেইটাও কিনা ছিনিয়ে নিয়ে গেল জালন্ধরের এক তরুণী, তাও আশপাশের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মরসুমে? অতএব, নামিয়ে দাও নিজেদের পুষে রাখা আইটি সেল, যারা ইদানিং “আইএসআই” স্বীকৃতি পেয়েছে – জানেন নিশ্চয়ই? এ আইএসআই ভারতীয় মানক ব্যুরো নয়, পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সাথে যোগসাজস পাওয়া গেছে বিজেপির আইটি সেলের কর্মীদের, পরপর ধরা পড়েছে তারা।

ভিডিওটি নতুন নয়। এটি প্রথম ফেসবুকে দেওয়া হয় গত বছর এপ্রিল মাসে, Voice of Ram পেজ থেকে, যেটি চালায় রাম সুব্রহ্মনিয়ম নামে এক যুবক। কিছুদিন আগে পর্যন্ত তার পেজের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে শান্তির বার্তার আদানপ্রদান করা। সেই পিসকিপিং প্রসেসের মধ্যে দিয়েই এসেছিল গুরমেহরের এই ভিডিওটি। আমি যে হেতু শুরু থেকেই এই পেজটির ফলোয়ার, তাই ভিডিওটি তখনই আমার চোখে পড়েছিল, দেখেছিলাম, শেয়ার করেছিলাম নিজের ফেসবুক ওয়ালে, ভালো লেগেছিল বেশ। একটা মেয়ে তার নিজের জীবনদর্শনের পরিবর্তনের কথা বলছে নীরবে, যা কিনা অনেকটা আমারও মনের কথা। গত বছর মন কি বাত বাড়তি পর্বে আমি হুবহু এক কথাই লিখেছিলাম, দেশ কি মারে? দেশ মারে না। যে আতঙ্কবাদ, উগ্রপন্থার দোষে দোষী বানানো হচ্ছে পাকিস্তানকে, সেই উগ্রপন্থার বলি কি তারা নিজেরা নয়? কম রক্ত ঝরে সে দেশে? নেহাত দেশটার নাম পাকিস্তান, তাই ফেসবুকে “মার্কড সেফ” খেলা জমে ওঠে না, “জে সুইস করাচী” ট্যাগলাইনে ভরে ওঠে না ফেসবুকের প্রোফাইল। মারে কিছু স্বার্থান্বেষী যুদ্ধবাজ রাজনীতিবিদরা, তাদের বীরত্ব দেখানোর তাগিদে, দেশের মধ্যে “জাতীয়তাবাদ”এর সুড়সুড়ি দিয়ে দেশের লোককে ক্ষেপিয়ে তোলার তাগিদে। সেনসেশন তৈরি করা হয় দেশভক্তির নামে, দু দেশেই, ঘৃণা ম্যানুফ্যাকচার করা হয়, তার পরিণতি হিসেবে এক দিক মদত দেয় উগ্রপন্থায়, অন্যদিক বছর বছর তার সামরিক অস্ত্রসম্ভার বাড়িয়ে চলে। যুদ্ধ হলেও সেনা মরে, যুদ্ধ না হলেও মরে। দু দিকেই।

সে কথা থাক। হচ্ছিল গুরমেহরের কথা। প্রায় ছ মাস আগের একটি ভিডিও, যাতে উনিশ বছুরে তরুণীটি বলছে, দু বছর বয়েসে বাবাকে হারিয়েছি, বাবা কী জিনিস জানতে পারি নি। খুব রাগ হত, পাকিস্তান আমার বাবাকে মেরেছে – মনে করতাম। আমার যখন ছ বছর বয়েস, একটা ছুরি নিয়ে এক বোরখা পরা মহিলাকে মারতে গেছিলাম, মনে করেছিলাম আমার বাবার মৃত্যুর জন্য সে-ই দায়ী। তার পরে মা আমাকে বোঝায়। এখন বুঝি, পাকিস্তান মারে নি আমার বাবাকে, মেরেছে যুদ্ধ। চাইলে এই সমস্ত যুদ্ধ এড়ানো যেত, এড়ানো যায়। আমি এখন তাই শান্তির পক্ষে কথা বলি। যদি শত্রুতা ভুলে আমেরিকা আর জাপান বন্ধু হতে পারে, দু দুটো বিশ্বযুদ্ধের তিক্ত স্মৃতি ভুলে গিয়ে জার্মানি আর ফ্রান্স বন্ধু হতে পারে, তা হলে আমরা কেন পারব না?

কেউ বিশেষ দ্যাখে নি। জাতীয়তাবাদী ভক্তের দলের চোখ এড়িয়ে গেছিল এই ভিডিওটা। কোনও শোরগোল ওঠে নি তখন, অথচ, “অ্যান্টিন্যাশনাল” শব্দটাকে কয়েন করে তখন দিল্লি সমেত গোটা দেশ উত্তাল। বেশ কয়েক মাস আগে ছাড়া পেয়েছে কানহাইয়া, উমর খালিদ, অনির্বাণ, তাদের বিরুদ্ধে সিডিশনের একটি চার্জও প্রমাণ করা যায় নি, তাতেও ভক্তদের হুঙ্কার থামানো যায় নি, এদিকে উরিতে তখন ঘটে গেছে সন্ত্রাসবাদী হামলা, কাশ্মীরে নিরাপত্তারক্ষীর গুলিতে মারা গেছে বুরহান ওয়ানি, মাত্র দেড় মাস আগে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ ঘোরালো ছিল।

কিন্তু গুরমেহরকে কেউ চিনত না তখন। সমস্ত ফোকাস তখনও ছিল জেএনইউয়ের দিকে, তাই কে গুরমেহর, কী উদ্দেশ্যে তার ভিডিও বানানো হয়েছে, কেউই খোঁজ রাখে নি। আমি নিজেও ভুলে গেছিলাম নামটা। মনে পড়ল যখন এই কদিন আগে, টানা তিনদিন সভ্য জগত থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পরে আমি আবার নেট কানেকশনের জগতে ফিরে এসে পুরনো ফেসবুকের স্টেটাস পড়তে শুরু করলাম, ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি। ততদিনে এবিভিপি তাদের অতিপ্রিয় মনুস্মৃতির বাতলানো পথে মেয়েটিকে “ঠোস জওয়াব” দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। শুনলাম গ্রাফিক চিত্রসহ তার কাছে মেসেজ গেছে, কী ভাবে তাকে রেপ করা হবে। এত বড় সাহস, যে তার শহীদ বাবা শুধু নয়, দেশের যাবতীয় আর্মি জওয়ানদের অপমান করে? বলে কিনা এবিভিপিকে ভয় করে না, এবিভিপির বিরুদ্ধে কথা বলে? ততদিনে ভক্তের দল খুঁজে পেয়ে গেছে সেই ছ’মাসের পুরনো ভিডিও, তার আগেপিছের কোনও কথা নিয়ে তো ট্রোল করা চলে না, তাই বেছে নেওয়া হল ন’টি শব্দ, পাকিস্তান ডিড নট কিল মাই ড্যাড, ওয়ার কিলড হিম। ট্রোলের বন্যা বয়ে গেছে, “রসিক” হিসেবে টুইটারে খ্যাত ক্রিকেটার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ তাঁর রসবোধের পরিচয় দিয়ে দিয়েছেন টুইটারে, সেটিকে রসিকতা মনে করে শেয়ার করে ফেলেছেন আর এক বলিউডের অভিনেতা। কিরেন রিজিজু বড় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তখন, মেয়েটির মন কে বিষাক্ত করল, শালা লেফটিস্টগুলো করেছে নিশ্চয়ই, নইলে কেন বীর শহীদ সেনানীদের এই মেয়েটি অপমান করবে? লক্ষ্য করুন, সেই কিরেন রিজিজু, যিনি তিন মাস আগেই লোকসভায় দাঁড়িয়ে অন রেকর্ড বলেছেন, “শহীদ” শব্দটি মৃত ভারতীয় সেনাদের ক্ষেত্রে ভারত সরকার অনুমোদন করে না।

আক্রমণের লক্ষ্য যখন একটি মেয়ে, তখন তো আক্রমণ করা অনেক সহজ হয়ে দাঁড়ায়। খানকি মাগী বল্‌, ওর শরীরের বাঁকের বিশদ বর্ণনা দে, জড়িয়ে দে ওর নাম র‍্যান্ডম কোনও একটা ছেলের সাথে, তা সে যে বয়েসের হোক না কেন, ধর্ষণের হুমকি দে, এতে যা সুখ পাওয়া যায়, সে সুখ তো অন্য কিছুতে মেলে না।

গুরমেহর আজ পরিচিত মুখ, চাপে পড়ে গুরমেহরের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে বাধ্য হয়েছে দিল্লি পুলিশ, তার পরেও সে দিল্লি ছেড়ে আপাতত চলে গেছে পঞ্জাবে নিজের বাড়িতে।

আমরা, যারা তত-পরিচিত-নই সাধারণ মানুষরা, যারা একই রকম ভাবে সোশাল নেটওয়ার্ক সাইটে বিচরণ করি, তাদের সুরক্ষার ভার কে নেয়?

গুরমেহরের খুব কাছাকাছি ধরণের একটা ঘটনা ঘটে গেল আমারই পরিচিত সার্কলে। দু বছর আগে এক ব্যক্তি রামকৃষ্ণ-সারদামণি-বিবেকানন্দ-নিবেদিতার সম্ভাব্য যৌনজীবন নিয়ে একটা পোস্ট করেছিল ফেসবুকের একটা ক্লোজড গ্রুপে। যদিও ঠিক মুখরোচক কেচ্ছা বানানোর উদ্দেশ্যে সেটা সে লেখে নি, বরং সেই ধরণের কিছু লেখাপত্তর নিয়ে বাজারে ইতিমধ্যেই দু তিনটে বই আছে, কিন্তু ভক্ত তো ভক্ত। পূজ্য ভগবানের যৌনজীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া তাঁরা মেনে নেবেন কেন? এই কলকাতা শহরেই অনেকদিন আগে বাংলা দৈনিকের রবিবাসরীয়র শয়ে হয়ে কপি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল, কারণ সেখানে সেই সপ্তাহের বিষয় ছিল নেতাজির বিয়ে এবং এমিলিয়া শেঙ্কলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় থেকে পরিণয়ের কাহিনি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, যিনি নাকি মরেন নাই, ঘরেও ফেরেন নাই, তিনি বিবাহ করিতে পারেন, এইটা হজম করবার মত পাচনশক্তি তখনকার ভক্তদের ছিল না। নেতাজি যেমন বিয়ে করতে পারেন না, তেমনি লেনিনের নিতম্ব থাকতে পারে না (কোনও এক সিনেমায় লেনিনের চরিত্রটির পেছনদিক নগ্ন অবস্থায় দেখানো হয়েছিল, তাতে লেনিনভক্তরা খচে গেছিল বেদম), রামকৃষ্ণ বা সারদামণিরও যৌনজীবন থাকতে পারে না।

কিন্তু কেউ যদি ভুল করে লিখে ফেলে সেই সব নিয়ে? নব্বইয়ের দশকে কাগজ পোড়ানো হয়েছিল, কিন্তু এখন তো সোশাল মিডিয়ার যুগ। হরদম সেখানে বসছে ক্যাঙারু কোর্ট, নেমিং অ্যান্ড শেমিংএর আসর, আর কোনও পুরনোই এখানে পুরনো হয় না। কোনও এক ভক্তের চোখে পড়ে সেই দু বছর আগের পোস্টটি, তিনি সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে হিংস্রভাবে শেয়ার করতে শুরু করেন, এবং এক দিনের মধ্যে শুধু ফেসবুক নয়, আরও বিভিন্ন সোশাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্মে সেই স্ক্রিনশট ভাইরাল করে দেওয়া হয়। ফলে, বিভিন্ন ধরণের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ভক্তের দল ছেলেটির মুণ্ডু চাইতে শুরু করে, কেউ অতি সাবধানে তার বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর খুঁজতে শুরু করে, এবং আক্রমণের লক্ষ্য অচিরে খুঁজে নেয় সম্ভাব্য মহিলা টার্গেটদের। তার স্ত্রী, তার মা, তার বোনকে নিয়ে মুখরোচক যৌনগন্ধী কমেন্ট চারদিকে ছড়াতে তো শুরু করেই, ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছিলাম, এ সমস্তকিছুই হয় প্রথমে গণহারে রিপোর্ট করে তার প্রোফাইল সাময়িকভাবে ডিঅ্যাক্টিভেট করানোর পরে, যখন ছেলেটির নিজের তরফে ডিফেন্ড করবার মত কোনও প্ল্যাটফর্মই আর নেই। এর পরে আক্রমণ শুরু হয় যে গ্রুপে দু বছর আগে কমেন্টটি পোস্ট হয়েছিল, সেই গ্রুপের সঞ্চালিকার ওপর। যেহেতু তিনি লিঙ্গচিহ্নে মেয়ে, অতএব, আক্রমণের পদ্ধতিটা স্বাভাবিকভাবেই সহজ হয়ে যায়। রেপ থ্রেট থেকে শুরু করে এমন সুন্দর পানু ছড়া বানিয়ে বাজারে ছাড়া হয়, যাতে আরো আরো বেশিমাত্রার লোক মজা লুটতে পারে। ভার্চুয়ালি একটা মেয়েকে যতরকম ভাবে বুলি করা সম্ভব, সবই করা হল। আর এইসব ছড়া-কবিতা, কোনও অর্ধশিক্ষিত গোঁয়ারগোবিন্দের লেখা নয়, রীতিমত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির যৌথ রচনার ফসল।

ভক্তি, অন্ধই হয়। যে জিনিস তর্কের মাধ্যমে, আলোচনার মাধ্যমে, এমনকি দরকার হলে শালীন বাদানুবাদের মাধ্যমেও নিষ্পত্তি করে ফেলা যায়, ভক্তেরা সেখানে ব্যবহার করে লাঠি, ইঁট, বেল্ট, আর ভার্চুয়াল ট্রোল ব্রিগেড। ছোট করে বলতে গেলে, ভায়োলেন্স। আলোচনায় লাগে যুক্তির প্রয়োগ, ভক্তি তো যুক্তির পথে হাঁটে না।

এমন কি, এ নিয়ে সরব হবার পরে এ-ও শোনা গেছে, ইঁট ছুঁড়লে তো ভাই পাটকেল খেতেই হবে। অমন নোংরা একটা জিনিস লিখলে তো ব্যাকল্যাশের জন্য তৈরি থাকতেই হবে। ভক্তদের সেন্টিমেন্টকে আক্রমণও করবে, তারপরে পালটা গালাগাল বা রেপ থ্রেট বা ডেথ থ্রেট খেলে বা তোমার নামে পানু ছড়া লিখে শেয়ার করলে তুমি আঁচল আঙুলে পাকিয়ে নাকে কাঁদবে, দুটো তো একসাথে চলে না বাপু!

তাই হবে হয় তো। বাক্‌স্বাধীনতা, ফ্রিডম অফ স্পীচ বলে একটা শব্দবন্ধ আছে বলে জানি, কিন্তু কোনখানে, কতদূরে তার সীমারেখা, কখন সেটা বাক্‌স্বাধীনতা আর কখন সেটা অ্যাবিউজ, কে তা নির্ধারণ করবে? মানুষের ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ওপরেই সেসব নির্ভর করে বলে জানি, তবে আজকালকার দিনে বিচারবুদ্ধিরও এত বেশিমাত্রার ভ্যারিয়েশন দেখা যায়, মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে অবাক হতেও ভুলে যাই।

ছেলেটির লেখাটি আপত্তিকর ছিল, মেনে নিলাম। সে যা লিখেছিল, সেটা রামকৃষ্ণ-সারদামণি-বিবেকানন্দ ভক্তদের আহত করার পক্ষে যথেষ্ট ছিল, এবং সেটার প্রতিবাদ প্রতিবাদের ভাষাতেই করা যেতে পারত। ইন ফ্যাক্ট, ছেলেটি পরে জানিয়েছিল, সে কেন লিখেছিল সেই লেখাটি – ফেসবুকের সেই গ্রুপে কিছু উগ্র সদস্য মহম্মদকে নিয়ে যৌনগন্ধী কটূক্তি করে চলেছিল। এই ছেলেটি তাতে আপত্তি জানালেও তাতে লাভ হয় নি, ছেলেটি তাতে জানায় যে এতে মুসলমানদের সরাসরি অনুভূতিতে আঘাত হানা হচ্ছে। তাতেও সেই মহম্মদ-ব্যাশিং তো কমেই না, বরং চলতে থাকে। তাদের একটা শিক্ষা দেবার জন্য ছেলেটি তখন এই লেখাটি লেখে, রামকৃষ্ণ-সারদামণিকে নিয়ে, এইটা বোঝাবার জন্য যে তাদের সম্মাননীয়, আরাধ্য কাউকে নিয়ে কটূক্তি করলে সেটা কতটা আঘাত হানতে পারে অনুভূতিতে। এবং, আবারও, লেখাটি কাল্পনিক কিছু ছিল না, বাজারচলতি দু তিনটি বইয়ে এই নিয়ে বিস্তারিত চর্চাও আছে। বইগুলি খোলাবাজারেই কিনতে পাওয়া যায়।

কিন্তু ভক্তরা তো ক্রিটিসিজম পড়েন না – তাঁরা ভক্তিমার্গেই বিচরণ করেন। অতএব, যা হবার তাই হল। প্রথমে ছেলেটির বলার প্ল্যাটফর্ম কেড়ে নেওয়া হল, তারপরে শুরু হল তার পরিবারের লোকজনকে জুড়ে স্ল্যান্ডারিং, এর পরে লেখাটি “পোস্ট হতে দেওয়ার” অপরাধে সঞ্চালিকার নামে সিরিজের পর সিরিজ আদিরসাত্মক চুটকি, ছড়া। কে না জানে, এই পদ্ধতিতে একটা মেয়েকে যত সহজে “কাত” করে দেওয়া যায়, যে অনির্বচনীয় ধর্ষকাম মর্ষকাম অনুভূত হয়, তেমনটি আর কোনও কিছুতে হয় না!

ভার্চুয়াল দুনিয়ায় দিল্লি পুলিশও নেই, আর কিরেন রিজিজু বা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বাংলা পড়েন বলে শুনি নি – ফলে এ রকম হাজার হাজার সাইবার বুলিয়িংএর ঘটনা ঘটে যেতেই থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে।
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
যাক গে। হচ্ছিল গুরমেহরের কথা, আর ছাত্রদের প্রোটেস্ট মার্চের কথা। আমি তখন একলা বেরিয়ে পড়েছিলাম আমার বাইক নিয়ে, বরফের দেশে। ফেরার পথে, ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি, যখন ফোনের নেটওয়ার্ক পেলাম, জানলাম কী কী হয়ে গেছে রামজস কলেজে, জানলাম কী কী ভাবে ছ’মাসের পুরনো পোস্ট তুলে এনে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে গুরমেহরকে, এমনকি এর পরেও নিজেদের দেশভক্তির প্রমাণ দেখাতে এক মেগা সাইজের জাতীয় পতাকা মাথার ওপর বিছিয়ে ধরে এবিভিপি এক প্রস্থ মিছিলও করে ফেলেছে ইউনিভার্সিটির নর্থ ক্যাম্পাসে। এবিভিপির হাতে আক্রান্ত শিক্ষক, প্রশান্ত চক্রবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাঁর শরীরের ভেতরে ক্ষত তৈরি হয়েছে ছাত্রদের লাথি খেয়ে। প্রতিবাদে দিল্লি ইউনিভার্সিটির সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা পথে নামবে ২৮শে ফেব্রুয়ারি। জমায়েত হবে এসজিটিবি খালসা কলেজের সামনে।

আমি বাড়ি পৌঁছবো ২৭ তারিখ রাতে। একদিন বাড়তি ছুটিও রয়েছে হাতে। অতএব, যেতেই হবে।

সাড়ে বারোটায় ছিল জমায়েতের সময়, তাও পৌঁছতে পৌঁছতে পৌনে দুটো বেজেই গেল। বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন থেকে বেরোবার পরে পরেই পুলিশের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মত। ছাত্র মার্গ, যেটা বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ ক্যাম্পাসের মুখ্য এন্ট্রান্স, সেখানে প্রতিটা মোড়ে মোড়ে মোটা মোটা ভেস্ট পরা দিল্লি পুলিশ, সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড দেওয়া, কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, অবশ্য পায়ে হেঁটে চলে যাওয়াই যাচ্ছে। চারদিকে অল্পবয়েসী ছেলেমেয়েদের ভিড়, অভিমুখ এক দিকেই।

পরিচিত যে জনের থেকে মিছিলের খবর পেয়েছিলাম, তাকে ফোন করে জানলাম খালসা কলেজ থেকে মিছিল এগিয়ে এসেছে, এই মুহূর্তে তারা আছে রামজস কলেজের সামনে।

রামজস পর্যন্তও এগোতে হল না, দেখা হয়ে গেল মিছিলের সঙ্গে। সে এক দৃশ্য বটে, দেখামাত্র বঙ্কিম হয়ে বলতে ইচ্ছে করে – এ যৌবনজলতরঙ্গ রোধিবে কে? হাজারে হাজারে ছাত্রছাত্রী একজোট হয়ে স্লোগান দিচ্ছে, এবিভিপি গো ব্যাক, গো ব্যাক গো ব্যাক। খানিক এগোতেই পরের ঝাঁকের মুখে হইহই করে এই মরশুমের নতুন স্লোগান – আরে এবিভিপি, কাহে so creepy? দিল্লির ছাত্রছাত্রীদের মিছিলের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যেটা সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মিছিলে দেখা যায় না – সেটা হচ্ছে ডফলি। এক একটা ঝাঁক একটা ডফলি নিয়ে তাতে তাল তোলে, আর সেই তালে তালে চলতে থাকে স্লোগান। তার সাথে চলে হাততালি। হাতের তালে তালে কয়েক হাজার তরুণ তরুণীর একটা সমুদ্র তখন ছাত্র মার্গে আছড়াচ্ছে, গর্জাচ্ছে। তারই মাঝে অন্যরকমের তাল, কান পেতে শুনলাম সেই ঝাঁকে কোরাস চলছে – দেখনা কিতনা তাকত আজ বাজু-এ-কাত্‌ল মেঁ হ্যায়, সরফরোশি কি তমন্না অব্‌ হমারি দিল মে হ্যায়।


https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/16903530_165277212142269
3_3636591896552502701_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/16904730_165276839475639
9_7112854522454520551_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17039271_165276656142324
9_7359795930558125832_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17097545_165276636808993
5_550580542141239379_o.jpg


দুদিন আগে এই রাস্তা দিয়েই লম্বা একটা জাতীয় পতাকা নিয়ে এবিভিপির মিছিল বেরিয়েছিল, নিজেদের ন্যাশনালিজম প্রমাণ করতে। কতজন ছিল সেই মিছিলে? জানি না, আমি ছিলাম না সেদিন, তবে আজকের ভিড়ের সাথে নিশ্চয় তুলনীয় নয় সেই মিছিল। আজ ধারেকাছে নেই কোনও এবিভিপির ছাত্র? …

রাস্তা জুড়ে মিছিল চলেছে, দুপাশে মোটা দড়ি নিয়ে কর্ডন করে সাথে সাথে চলেছে দিল্লি পুলিশের দল, আমি ছিলাম বাঁদিকের ফুটপাথে, সেখানে অন্যান্য সাধারণ মানুষজনের সাথে আমিও ছিলাম, পাশ থেকে মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও তুলছিলাম, হঠাৎ শুনতে পেলাম আমার পেছনদিক থেকে গুটিকয় ছেলে বেশ আবেগের সঙ্গে স্লোগান লাগাচ্ছে, বন্দে মাতরম, ভারত মাতা কি জয়।

স্লোগানটা আমি একা শুনতে পাই নি, আমার পাশ দিয়ে মিছিলের যে অংশটা চলে যাচ্ছিল, তারাও শুনতে পেয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তালির রিদমটা জোরদার হয়ে গেল – আরে এবিভিপি, কাহে সো ক্রিপি? আরে এবিভিপি, কাহে সো ক্রিপি?

ভারতমাতার সন্তানেরা একেবারে ফুস্‌ হয়ে গেল। মিছিল এগোতে থাকল, আমরা ঢুকলাম আর্টস ফ্যাকাল্টির চত্ত্বরে। সেখানে তখন মেলা বসে গেছে। হাজারে হাজারে ছাত্রছাত্রী। মাথা গুণে শেষ করা যাচ্ছে না। চত্বরের মাঝে বিবেকানন্দের মূর্তির নিচে তখন চলছে বক্তৃতা। বক্তব্য রাখছেন যাঁরা, তাঁদের কাউকেই আমি চিনি না, তার মধ্যে একজনকে চিনলাম, তিনি দিল্লি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর (DUTA) প্রেসিডেন্ট নন্দিতা নারায়ণ। হাসতে হাসতে বলছিলেন, এই এবিভিপির ছাত্ররা, এরাও তো আমার ছাত্রই, সন্তানতুল্য, বলতে বাধ্য হচ্ছি, এদের ইম্যাজিনেশন পাওয়ার বড় কম। এরা দেশপ্রেমী আর দেশদ্রোহীর বাইরে কিছুই বোঝে না, যে কোনও বিষয় নিয়ে এদের সামনে আনলে এরা সেটাকে এই দুভাবেই বিচার করার চেষ্টা করে, এর বাইরে এরা কিছুই বোঝে না, বুঝতে চায় না।

আরেকটি ছেলে, বোধ হয় আইসা বা অন্য কোনও দলের সম্পাদক, সুন্দর মার্জিত বক্তব্যে জানিয়ে গেল তার প্রতিবাদ, বার বার বলল, ওরা মারপিটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, কিন্তু আমরা মারপিটে যাবো না, আমরা ওদের বার বার আলোচনায় ডাকব, ওরা আমাদের আলোচনায় অংশ নিতে বাধা দিলেও আমরা ওদের আলোচনায় অংশ নিতে ডাকব। আর সবার আগে আমরা সব্বাই মিলে ওদের জানিয়ে দেব, এবিভিপি, যতই গায়ে হাত তোলো, আমরা তোমাদের ভ-য় পা-ই না। মুহূর্তে কয়েক হাজার জনতার ঠোঁট নড়ে উঠল একসাথে –

নহী ডর কিসি কা আজ
নহী ডর কিসি কা আজ
নহী ডর কিসি কা আজ, এক দিন –
ও হো, মন মে হ্যায় বিশ্বাস
পুরা হ্যায় বিশ্বাস,
হম হোঙ্গে কামিয়াব, এক দিন।


https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/16992364_165276604475663
4_5156682050176221134_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17017218_165276536809003
5_8103446190333572263_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17022396_165276462142344
3_4118441705020958047_n.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17038929_165276572142333
3_2889974754832949979_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17039302_165277284142262
1_2281966092396312144_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17039346_165276470809010
1_3110529327795023215_o.jpg


আস্তে আস্তে কিছু চেনা মুখের দেখা পাচ্ছি এবারে। শুদ্ধব্রতদার সাথে আগে ফোনে কথা হয়েছে, ভার্চুয়ালি আমরা যুক্ত, সামনাসামনি আলাপ হয় নি কখনও, আজ ছোট করে আলাপচারিতাটা সেরে নিলাম। সামনে দেখলাম শেহলা এসেছে, কানহাইয়া এসেছে, উমর খালিদকে দেখতে পেলাম না যদিও, বিবেকানন্দ মূর্তির নিচে তখন বক্তৃতা শুরু করেছেন যোগেন্দ্র যাদব। এই মানুষটি যখন কথা বলেন, মুগ্ধ হয়ে শুনতে হয়।

কী বললেন উনি? আমি আর কী বলব? নিজেই শুনে নিন।


https://www.youtube.com/watch?v=SU80QrjIMDI

এর পরে বললেন ডি রাজা, সীতারাম ইয়েচুরি, সমস্ত তো শোনার সময় হয়ে উঠল না – শেহলার বক্তৃতাও শোনার ইচ্ছে ছিল, শুনে আসা গেল না – আমার ফেরার সময় হয়ে এল, আর বেশিক্ষণ থাকা যাবে না। ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলাম। ভিড় তখন ছড়িয়ে গেছে আর্টস ফ্যাকাল্টির চত্বরে। বেশির ভাগ জনতাই তখনও বক্তৃতা শুনছে, কিন্তু ইতিউতি ছেলেমেয়েরা গোল হয়ে বসে গান ধরেছে –

অ্যায় শ্‌শালা –
আভি আভি হুয়া য়কীঁ,
কী আগ হ্যায় মুঝ মে কহিঁ
হুয়ি সুবহ্‌, ম্যায় জল্‌ গয়া
সুরজ কো ম্যায় নিগল গয়া
রু-ব-রু রোশনি …

আরেক দল তখন রঙীন চক বিলি করছে ছেলেমেয়েদের মধ্যে, আর ছেলেমেয়েরা তাদের মনের কথা উজাড় করে লিখছে চত্বরের মেঝেতে। আর খুশিতে মাথা নাড়াচ্ছে রঙীন ফুলের দল।


https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17038877_165276948808962
3_5512714481122677469_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17016957_165277065808950
6_547527839468000833_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17015990_165276721475651
7_5289586613417768966_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/16992331_165276698475654
0_7067544858312894429_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/16992195_165277240808933
1_1358755626003278237_o.jpg



https://www.youtube.com/watch?v=RDsXskajhHM

https://www.youtube.com/watch?v=FiesUPEoehg

ফিরে আসার পরে খবর পেলাম, জমায়েত ভাঙার পরে আইসার দুজন ছাত্রকে গেটের বাইরে একলা পেয়ে বেদম পিটিয়েছে এবিভিপির দুই কীর্তিমান। প্রশান্ত আর বিনায়ক। পুলিশের সামনেই। পুলিশ অবশ্য হস্তক্ষেপ করায় বেঁচে যায় ছেলেদুটি। এবিভিপির এই দুই গুণ্ডাকে পুলিশ আপাতত গ্রেফতার করেছে, আর নিজেদের মুখ বাঁচাতে এবিভিপি তাদের পার্টি থেকে বহিষ্কৃত করেছে আজ।

দিনের শেষে, এমন একটা ঢেউয়ের সাক্ষী হতে পেরে নিজেরই খুব ভালো লাগছিল। আমি নিজেই গুণগুণিয়ে গান গাইছিলাম, আমার খুব প্রিয় গান –

স্লোগান দিতে গিয়ে, আমি ভিড়ে গেলাম দলে,
গলায় তেমন সুর খেলে না,
হোক বেসুরো পর্দা বদল,
তবুও আমি সবার সাথে মিলিয়ে দিলেম গলা –
ঘুচিয়ে দিয়ে একলষেঁড়ে চলা।
জুটলো যত আমার মত
ঘরের খেয়ে বনের ধারে মোষ তাড়ানোর উল্টো স্বভাব
মোষ তাড়ানো সহজ নাকি?
মোষের শিংয়ে মৃত্যু বাঁধা
তবুও কারা লাল নিশানে
উশ্‌কে তাকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ে
স্লোগান।


https://www.youtube.com/watch?v=BGysGKJPW08


https://www.youtube.com/watch?v=A7bSQKArtC4


https://www.youtube.com/watch?v=LeaaWXXFhqU


https://www.youtube.com/watch?v=Csu-SD2jkCk


https://www.youtube.com/watch?v=FNpDkDMyY0I


https://www.youtube.com/watch?v=h0uivjT_YtA


https://www.youtube.com/watch?v=yB5tX3K3VpQ


https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17015658_165276882142302
3_6396251179620946382_o.jpg



https://achalsiki.files.wordpress.com/2017/03/17038492_165277471142243
4_1037105368865376673_o.jpg

+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++



গতকাল (৪ঠা মার্চ) দিল্লিতে এরই সূত্র ধরে হয়ে গেল আরেকটি প্রতিবাদ মিছিল। মান্ডি হাউস থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পর্যন্ত, সিটিজেন্স প্রোটেস্ট মার্চ।

বেশি লেখার তো কিছু নেই, ছবিগুলোই সব কথা বলে দেবে। বেঙ্কাইয়া নাইডু সেদিন বলছিলেন না, এইবারে "আজাদী" বললেই সিডিশনের চার্জ লাগিয়ে দেবেন? ... কাল পার্লামেন্ট স্ট্রীটের সমস্ত পিচ রাস্তা ছাত্রছাত্রীরা ভরিয়ে দিয়েছিল আজাদীর স্লোগানে, রঙবেরঙের চক দিয়ে। যেদিকে তাকাও, খালি লেখা "আজাদী", "আজাদী", "আজাদী"।


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0009.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0010.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0011.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0013.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0014.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0015.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0016.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0017.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0019.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0021.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0022.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0025.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0026.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0027.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0028.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0029.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0035.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0037.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0038.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0039.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0040.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0043.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0044.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0047.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/DSC_0048.JPG


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_153315.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_155626.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_160027.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_160059.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_160146.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165059.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165119.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165135.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165151.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165207.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165237.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165335.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165354.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165358.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165417.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165638.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165739.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_165759.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_170037.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_170125.jpg


https://dl.dropboxusercontent.com/u/93753248/Temp/20170304_170535.jpg

এর সাথে শেহলা রশিদের গান, উমর খালিদের বক্তৃতা, সীতারাম ইয়েচুরি, নিখোঁজ নাজীবের মা - আর সেদিন দিল্লি ইউনি-তে যারা এবিভিপির হাতে আর পুলিশের হাতে মার খেয়েছিল তাদের স্পিচ, সব মিলিয়ে রইল এই কোলাজ।


https://www.youtube.com/watch?v=AJoGFYJ216Y


https://www.youtube.com/watch?v=ht6eHJlMdEo


https://www.youtube.com/watch?v=uovsqLplvqg


https://www.youtube.com/watch?v=G28D9JO8rPs


https://www.youtube.com/watch?v=YjyhRY1uJTc


https://www.youtube.com/watch?v=-YUm5izJW8c


https://www.youtube.com/watch?v=bjSz8VGhQMg


https://www.youtube.com/watch?v=2o_FlPuNzqA


https://www.youtube.com/watch?v=0jO2h8llE9g

4162 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 76 -- 95
Avatar: AP

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

আলোচনা অনেকদুর এগিয়ে গেছে, কিন্তু এমন একটা বিষয়ে নিজের সমর্থন বা বিরোধিতাটুকু স্পষ্ট করে জানানো একটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
প্রথমত ঃ সিকির মূল পোস্ট অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুলিখিত। গুরমেহরের ওপর আক্রমণ আর ইপ্সিতার ওপর আক্রমণ যে আদতে একই ঘটনার দুটো প্রকাশ সেটা খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। এটা শুধু গুরমেহরের প্রতি বা সেই ইস্যুতে দিল্লীর জনগণের প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানানোর পোস্ট ছিল না, তাই আলোচনা যেভাবে এগিয়েছে সেভাবেই এগোনোর কথা ছিল। কিছু কিছু কথা বার বারই বলতে হয় যেভাবে ইপ্সিতা কে বলতে হচ্ছে শাক্যর পোষ্টকে সাপোর্ট করেনি, শাক্যকে বলতে হচ্ছে তার পোস্টটা একটা অলোচনার অংশ, সেটাও দু বছর আগের আর সে জন্য সে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার ক্ষমা চেয়েছে। সিকির পোস্ট এই কথাগুলো বলার সুযোগ করে দিয়েছে।

দ্বিতীয়তঃ ইপ্সিতার দিকে এই কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির বিভিন্ন পর্যায়ে বার বার যে কথা মনে এসেছে, হয়তো ইপ্সিতাকেও সে কথা শুনতে হয়েছে যে ও কেন চুপ করে যাচ্ছে না, এই কদর্য কথা গুলো কেন পুনরাবৃত্তি হতে দিচ্ছে। কিন্তু ৪ ঠা মার্চের পোস্টে ইপ্সিতা তার যে অবস্থানের কথা লিখেছে সেটা সত্যিই ভেবে দেখার মত। কদর্য কথায় মেয়েরা 'অসুবিধেয়' পড়বে ভেবেই তাদের দিকে কদর্য কথা ছোঁড়া হয়, যাতে তারা চুপ করে যায়। ঠিক সেই কারণেই যে কোনো ঝামেলায় মেয়েরা জড়িয়ে না থাকলেও খুঁজে খুঁজে বার করা হয় কাকে আক্রমণ করা যায়। যেমন এই ক্ষেত্রে শাক্যজিতের স্ত্রী বা মা বা শাশুড়ি। তাই চুপ করে না গিয়ে এই আলোচনায় পুরোপুরি অ্যাক্টিভ থাকা যে আসলে এই মানসিকতার প্রতি উদাসীন থাকা ইপ্সিতার এই অবস্থান আমার যথার্থ মনে হয়েছে।

তৃতীয়ত ঃ, বামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-সারদা দেবী-নিবেদিতা, এই মানুষ গুলোর সম্মানহানি হচ্ছে মনে করে যাঁরা এহেন কান্ড ঘটাচ্ছেন আর যাঁরা পরোক্ষভাবেও সেগুলো সমর্থন করছেন (মোদীর স্টাইলে) ধরে নেওয়া যায় তাঁরা সবাই এঁদের আদর্শে শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু তাঁদের চিন্তা ভাবনার দৈন্য দেখে খুব অবাক ও হতাশ হতে হচ্ছে। শাক্যজিতের সার্কাজম সারদা দেবী বা নিবেদিতার গায়ে লাগছে আর তাঁদের আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের আচরণের হীনতা তাঁদের গায়ে লাগছে না ? এঁদের গুরুদের কাছ থেকে এই শিক্ষাই পাওয়ার ছিল ? (রামকৃষ্ণের লাগছে ব্যথা বুঝছে নাকো তারা !) নিশ্চিত ভাবেই 'না'। অর্থাত এঁরা নিজেরা কোনো আদর্শেই বিশ্বাসী নন, স্রেফ সুযোগ পেলে 'ভাবাবেগে লেগেছে' 'ভাবাবেগে লেগেছে' বলে চেঁচিয়ে চারটি গাল পাড়ার লাইসেন্স জোগাড় করে নিজ নিজ খার (ক্ষার ?) মেটাতে আগ্রহী। লক্ষ্য আর উপলক্ষ্য বদলে বদলে যায়, এই আর কি !
Avatar: AR

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

যেহেতু ফেবুগুরু থেকে ব্যান হয়েছি (হেফাজতে) ইসলামের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়ে, তাই দুয়েক কথা এখানেই বলে যাই। শাক্যর পোস্ট আর ইপ্সিতার হ্যারাসমেন্ট বোধহয় এই আলোচনার বিষয়বস্তু ছিলনা, জে এন ইউ আর শ্যালা রশিদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তো এই চুদিরপুতেদের (যেঁ বা যারা এই আলোচনা শুরু করেছেন) কাছে আমার প্রশ্ন, শ্যালা রশিদ যেঁ আলিগড় ইউনিভার্সিটি থেকে লাথ খেল, টা নিয়ে কেন কথা বলবেন না। আর এই বালের আলবাল ভাট বকিয়েরা, আপনাদের কাছেও একই প্রশ্ন?
Avatar: AR

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

এখানেও কি এডমিন আছে? পছন্দমত কথা না বললেই ব্যান করে দেয়?

Avatar: Ishan

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

হ্যাঁ। ব্যক্তিগত আক্রমণ, খিস্তিখাস্তা এখানেও অ্যালাউড না।
Avatar: b

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

কোথায়? আলোচনা তো শুরু হয়েছিলো রামজস কলেজ আর উমর খালিদকে নিয়ে।

Avatar: to AR

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

ভাষা সংযত করুন মহাশয়। প্রশ্ন করুন অবশ্যই। খেউড় করবেন না।
Avatar: amu

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

Avatar: indiatoday

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

http://indiatoday.intoday.in/story/suhana-syed-muslim-woman-abuse-thre
aten-hindu-devotional-song/1/899601.html

Radical Islamists troll, threaten, abuse Muslim woman for singing Hindu devotional song
Avatar: Amit Sengupta

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

pi কে ও অন্যান্যদের,
World women's day তে রিলিজ হওয়া "Naked"short film টা দেখুন।
Kalki Koechlin and Ritabhari ।

Computer এর পেছনে লুকিয়ে থাকা কমেন্টওয়ালাদের বিরুদ্ধে।
Avatar: সাতমার পালোয়ান

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

আপাতত, এইটেই রেলিভ্যান্ট টই। এখানেই দিয়ে রাখি। অর্ণবের রিপাবলিক নিয়ে কিছু আর্টিকল "দ্য ওয়্যার"-এ বেরিয়েছিলো। রাজীব চন্দ্রশেখর (অর্ণবের বস) সেগুলো ব্যান করার জন্যে কোর্টে যায় - যার ফলে সেই আর্টিকলগুলো তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু যেহেতু এটা ইন্টারনেটের দুনিয়া, সেই আর্টিকলগুলো ওয়েবক্যাশ থেকে তুলে চেক রিপাবলিকের একটা আর্কাইভে স্টোর করে রেখেছে। ব্যান করবো বল্লেই করা যায় না - এইটা রাজীব আর অর্ণব ভুলে গেছিলো। তিনটে আর্টিকলের লিংক দিলাম - প্রথমটা যেখানে এই ঘটনার কথা বলা আছে, আর বাকি দুটো ওই দুটো আর্টিকলের লিঙ্ক।

http://www.altnews.in/dear-rajeev-chandrasekhar-articles-wanted-banned
-archived-czech-website-now/


Arnab's Republic, Modi's Ideology - http://archive.is/ayuDs

In Whose Interests Do Our Soldiers March - https://archive.is/ODFIC
Avatar: RA

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

আমি খিস্তিবাজ, ফ্যাতাড়ুও বলা যায়, তোরা চুতমারানি দের সখী সখী ভাব গলিয়ে দেবার জন্যই এখানে ঢুঁ দিলাম। ইশান বালটা কে? সৈকত বন্দ্যো? আমাকে ব্যান করেছিস, এখানে তোদের ভদ্রলোকত্বে গু দিয়ে ঢিল মেরে যাব, কথা দিলাম।

শাক্য বালটা ভালো লেখে, আজকেও ভাং খেয়ে বামইস্লামিক পেয়ার নিয়ে লিখেছে। তবে ব্যাটা একচক্ষু হরিণ, এই বালের আঁতেল মার্কা, তোরা জেরম। তবে মনে রাখিস, একচক্ষু হরিণেরা লাথ খেতে খেতে ডাইনোসর হয়ে যায়।

মহাকাশ হতে গুখেগো শকুন হাগিয়া যাবে তোদের গায়
গুরুচণ্ডালী শুধু বাটপাড় নয় তদুপরি অসহায়।
Avatar: to RA

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

আবার খেউড়!! কি বলতে চাইছেন স্পষ্ট করে লিখে দিন না ভাই। খামোখা গালাগালি করছেন কেনো। বক্তব্য রাখুন।
Avatar: dc

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

মহাকাশ থেকে হাগলে সে তো রিএন্ট্রি স্টেজেই জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাবে, মাটিতে আমাদের গায়ে পৌঁছবে কিকরে?
Avatar: শঙ্খ

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

আরেকটি টেকনিকাল কোস্নো : মহাকাশে ওড়া কসমিক শকুন, সে গু পায় কিকরে? ভগবানের গু?
Avatar: দ

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

সম্পুরক প্রশ্ন
শকুনের স্বাভাবিক খাদ্য তো গু নয়। তাহলে মহাকাশে গিয়ে, যেখানে গু পাওয়াই মুশকিল, শকুন হঠাত ফুড হ্যাবিট বদলে ফেলল কেন?
Avatar: Ekak

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

ওরে শকুন , নবারুণ ওটা ডিস্টোপিয়া লিকেছে যে এই বামবিদ্রোহী দের হাতে অস্ত্র মুখে স্লোগান কিছুই আর থাকবেনা , মাটি থেকে তো অলরেডি বিচ্ছিন্ন তাই আকাশে উড়ে উড়ে খিস্তি দিয়ে আর ঈর্ষা থুড়ি গু ছুঁড়ে দিন কাটাতে হবে । ওটা কোনো আশার কথা নয় ।

লিখলো ডিস্টোপিয়া আর তাকে ইউটোপিয়া ভেবে ভক্তকুল হেগেমুতে চিত্তির :):)
Avatar: :oD

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

ছন্দে ও ভুল অছে। দুটো লাইনেই। নীরেন চক্কোত্তির কবিতার ক্লাস রেফার করলুম। "হাগিয়া যাবে" কে "হাগিবে" করলে তাও হত, সেকেন্ড লাইনে খুব ঘষামাজা দরকার। "শুধু বাটপাড় নয়" কে অনেক ভেবে দেখলাম, 'বাটপাড় বটে" করলে আধাখ্যাচড়া মতো হচ্ছে।

কাজু রিভিউ করুক।
Avatar: correction

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

মহাকাশ হতে গু-খেগো শকুন হাগিবেক তব গায়
গুরুচণ্ডালী ঘোর বাটপাড়, তদুপরি অসহায়।
Avatar: shokun

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

@ কারেকশন
আপনি একেবারে gone কেস মহায়। চাপ নেবেন না। হালকা হয়ে এসে শুয়ে পড়ুন।
Avatar: pi

Re: বসন্ত এসে গেছে ...

পাকিস্তনে এদের দেশদ্রোহী বলছে না। যাহোক, উদ্যোগটা ভাল লাগল। এরকম ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এরকম পিস লেটার লেখার উদ্যোগ ভাইরাল করা গেলে বোধহয় ভাল হয়।
আবারো আনন্দ পটবর্ধন মনে পড়ে গেল।

https://www.youtube.com/watch?v=J4VpDLY0hhU

As BJP had a grand Holi after their thumping victory in UP polls, a Pakistani girl has penned a letter to Prime Minister Narendra Modi appealing to him to work as harbinger of peace “if he wants to win more elections in future.”

Aqeedat Naveed (11), in her letter to the PM, said that governments of Pakistan and India should buy more books, instead of bullets, to start a new chapter of peace between the two countries. “Both countries should resolve that they will not buy guns, but will provide free medicines to hundreds of thousands of ailing people of both the nations,” she says.

Aqeedat’s father Ahmed Naveed, an assistant professor in National College of Arts (NCA), Lahore, informed HT through a mail about her letter to Modi. Aqeedat and her brother Moarikh Naveed (14) also spoke to HT over phone.


The two-page handwritten letter, dated March 13, by Aqeedat says both countries will benefit by maintaining good relations with each other.

Aqeedat has earned accolades in her country for writing letters in support of peace and tolerance to world leaders, including that of India and Pakistan.

In another letter, Aqeedat and her brother Moarikh Naveed (14) have written to Pakistan’s chief of army staff Qamar Javed Bajwa congratulating him for the success of the recently launched operation ‘Radd-ul-Fasaad’ against terrorists. She praised him for his efforts to restore peace.

The duo also drew the attention of Pakistan Prime Minister Nawaz Sharif to the condition of Sikhs in Khyber-Pakhtunkhwa province, where the Sikhs continue to live without basic necessities.

Aqeedat studies in Class 5 at Cathedral School, Lahore while Moarrikh is in Class 8 in the same school.

Peace letter writing was Moarrikh’s idea. He said, “I took this idea from my syllabus and started writing letters for peace.” Aqeedat just followed him.

The siblings want to see tourists in Pakistan like India. Aqeedat feels that just because they don’t have any relatives here, they cannot travel to India. She wants to see Taj Mahal and Delhi. She also thinks many children from India may be wanting to visit Lahore.

Earlier, too, the kids have written letters to leaders in India. “PM Modi sent a greeting card to us in return,” claimed Moarrikh’s father.

Read more

‘Aao Dosti Karein’: Schoolchildren share letters of peace across Indo-Pak border

Indian ambassador in Islamabad Gautam Bambawale also answered Aqeedat’s letter. Aqeedat also received a greeting card from 2016 Nobel peace prize winner and Colombian president Juan Manuel Santos.

When foreign minister Sushma Swaraj was unwell some time back, Aqeedat wished her a speedy recovery through a letter.

She has written to Bihar CM Nitish Kumar, home minister Rajnath Singh and President Pranab Mukherjee among others.

The kids strongly believe that India and Pakistan can become good friends.

http://www.hindustantimes.com/education/pak-girl-writes-to-modi-makes-
impassioned-plea-for-peace/story-rPbogSh53ffGEZyr9vOQAK.html?li_source
=LI&li_medium=recommended-for-you


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5]   এই পাতায় আছে 76 -- 95


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন