Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নিলামওয়ালা ছ'আনা

Sarit Chatterjee

নিলামওয়ালা ছ'আনা
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় / ছোটগল্প

পাঁচতারা হোটেলটাকে হাঁ করে তাকিয়ে দেখছিল সুদর্শন ছিপছিপে লম্বা ছেলেটা। আইপিএল-এর অকশান হবে এই হোটেলেই দুদিন পর। তারকাদের পাশাপাশিই সেদিন ভাগ্যনির্ণয় হবে ওর মতো কয়েকজন প্রায় নাম না জানা খেলোয়াড়ের। পাঁচতারায় ঢোকার সৌভাগ্য হয়নি কখনো তাই পরশুর আগেই আজ একবার সব ঘুরে দেখে যেতে চায় উজান।

আজ দুবছর হলো ফার্স্ট ডিভিশন খেলছে উজান। ওপেনিং-এ খেলে। যারা ওকে খেলতে দেখেছে, বলেছে জাত ব্যাটসম্যান ও। কিন্তু সিজানে সাতটা সেঞ্চুরি করার পরও বেঙ্গল রঞ্জি টিমে ডাক না পেয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ওর। বাড়িতে চরম অশান্তি চলছে, রুবির বাড়ি থেকেও চাপ দিচ্ছে, এমন সময় একটা ম্যাচে কামাল করে দিল উজান। চতুর্থদিনের ভেঙে পড়া পিচে একা লড়ে গেল সারাদিন। দিনের শেষে তিন ওভার বাকি থাকতে ওদের শেষ জুটি যখন জয়লাভ করল তখন ওর স্কোর ৯৬ নট আউট। পরদিন কাগজে অনেকটা জায়গা নিয়ে বেরল খবরটা। তার মাসখানেক পর এল আইপিএল থেকে নিমন্ত্রণ। কিন্তু তা বলেই যে কোনো টিম ওকে কিনবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ওর বেস প্রাইস, কুড়ি লক্ষ টাকা। না কেনার চান্সই বেশি। ও কপি-বুক ব্যাটসম্যান, টি-টোয়েন্টি ওর স্বাভাবিক খেলা নয়।

হোটেলের গেট দিয়ে ঢুকতেই বুকটা ঢিপঢিপ করছিল ওর। এক অপূর্ব দেখতে সুন্দরী ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে চোখ তুলে উজানের দিকে তাকাল। উজানের গায়ে ওর ক্লাবের জার্সি। নিজেকে যে হাস্যকর রকমের বেমানান লাগছে সেটা বেশ ভালোই বুঝতে পারছিল ও। একজন মাঝবয়সী লোক ওকে দেখে হঠাৎ এগিয়ে এল, মৃদু হেসে ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করল, আপনি উজান আচার্য়া না?
: হ্যাঁ।
: আমি হাসান মেহমুদ। আপনার স্টোরিটা আমিই করেছিলাম। গ্ল্যাড টু মিট ইউ।
: থ্যাংকিউ স্যর।
: তুমি আজকে এখানে? অকশান তো পরশু।
: একটু দেখে যেতে চাইছিলাম স্যর।
: এস, তোমাকে কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

নন্দিনী গোয়েঙ্কার বয়েস চল্লিশ পার হলেও তাঁকে বিগতযৌবনা বলা যায় না। ওজন সামান্য বাড়লেও এখনো যথেষ্ট সুন্দরী। আট বছর আগে শীর্ষের অভিনেত্রীদের দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার আগেই তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেশের প্রথম সারীর ব্যবসায়ী সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সঙ্গে। গোটা দেশ এখন তাঁর দিকে ঈর্ষার দৃষ্টিতে তাকায়। গতবছরের আইপিএল-এর রানার আপ টিমের আজ মালকিন তিনি।

নন্দিনী মক্ষিরাণীর মতো তার পারিষদ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে লিফ্ট থেকে বেরতেই ওর চোখ পড়ল নতুন ছেলেটার দিকে। তিলোত্তমা অভিনেত্রীর মুখের ভাবে লেশমাত্র পরিবর্তন হলো না। শুধু পাশের মেয়েটির কানে কানে কিছু একটা বলে তিনি এগিয়ে গেলেন ওদের দিকে।
: আরে মেহমুদ সাব, আপ কো হি তলাশ রহে থে হম।
: আরে বাপ রে! মল্লিকা এ হিন্দুস্তান হমে খোজ রহেঁ হ্যাঁয়, কেয়া নসিব হ্যায় হমারি!
: আপ তো দিল্লগি কর রহে হ্যাঁয় জনাব। কুছ গুফতগু করনি থি আপসে।

দু'জনে অল্প দূরে সরে আসে। নন্দিনী পরিষ্কার বাংলায় বলে ওঠে, কে ছেলেটা?
: উজান। উজান আচার্য। ওপেনিং ব্যাট। জাত ব্যাটসম্যান।
: রঞ্জি খেলেছে?
: না, তবে খেলা উচিত ছিল। কিন্তু সিলেকশন কীভাবে হয় সে তো জানেনই ম্যাডাম। এই তো কদিন আগে একটা ৱ্যাংক টার্নার-এ সারাদিন ব্যাট করে টিমকে জিতিয়েছে। ক্লাস প্লেয়ার।
: আপনার সিদ্ধান্তের ওপর আমি ভরসা করি মেহমুদ সাব। একবার কথা বলা যাবে?
: অবশ্যই! আমি ডেকে দিচ্ছি।
: না, এখানে না। আমার ঘরে। দশমিনিট পর।

উজান বেশ ঘাবড়ে গেছিল। নন্দিনী গোয়েঙ্কা ওর সাথে দেখা করতে চায়! দরজায় টোকা দিতেই নন্দিনী দরজা খুলে হেসে ওকে অভ্যর্থনা জানাল।
: কম ইন উজান।
: গুড ইভনিং ম্যাম।
: কল মি নন্দিনী। ম্যাম শুনতে একটু কেমন যেন লাগে।
: ওমা! আপনি তো পরিষ্কার বাংলা বলেন!
: আমি তো বাঙালিই। যদিও আলিগড়ে বড়ো হয়েছি।
: স্যরি, জানতাম না। তবে আপনার প্রায় সব সিনেমাই দেখেছি।
: তাই? কেমন লাগে আমাকে সিনেমায় দেখতে?
: অপূর্ব! আপনি সে সময়ে আমার হার্টথ্রব ছিলেন।
: সেকি! তুমি তো তখন নেহাৎ ছোট ছিলে, তাই না?
মাথা নিচু করে হাসে উজান। বলে, ক্লাস পালিয়ে আপনার ছবি দেখতে যেতাম। একবার বাবার হাতে মারও খেয়েছিলাম।
হাহা করে হেসে ওঠে নন্দিনী। উজানের হাত ধরে সোফায় নিয়ে এসে বসায়। তারপর সামনের সোফাটার পিঠে দুহাত রেখে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতেই জিজ্ঞাসা করে, কী ধরণের খেলোয়াড় তুমি?
: ওপেনিং ব্যাট।
: আর?
: ভালো ক্লোজ-ইন ফিল্ডার।
: কীরকমের ব্যাটসম্যান?
: স্টেডি। মেথডিকাল। তবে অ্যাগ্রেসিভও হতে পারি।
: তুমি বুঝতে পারছ তো তুমি টি-টোয়েন্টিতে মিসফিট?
: না, আমি চেষ্টা করলে ...
: ডোন্ট আরগু উইথ মি ইয়ংম্যান! তুমি একজন ক্লাসিকাল ব্যাটসম্যান। আমাকে বলো কেন তুমি আইপিএল খেলতে চাও?
: আমার ... আমার টাকাটা খুব দরকার। ইটস্ আ নেসেসিটি!
: গুড। তার মানে নেসেসিটি কী তুমি সেটা বোঝো? তাই তো?
উজান মাথা নিচু করে বসে থাকে। বাবার মুখটা মনে পড়ে, মনে পড়ে ফ্যাক্টরির কালিঝুলি মাখা হাতদুটো।
: আপনি আমাকে কী জন্যে ডেকেছিলেন?
: তোমার কী মনে হয়?
: আমি ... আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
: লেট মি মেক এ ডিল উইথ ইউ উজান। তুমি এই সিজন আমার টিমে খেলবে। আর বেঞ্চে বসে না, মাঠে নেমে। কিন্তু আমারও একটা নেসেসিটি আছে। সেটা তোমায় পুরো করতে হবে।

চমকে নন্দিনীর মুখের দিকে তাকায় উজান। সামান্য হাঁপাচ্ছে নন্দিনী। কিন্তু চোখ উজানের চোখ থেকে নড়ছে না। চোখ সরিয়ে নেয় উজান। নিজেকে কাঁটাতারের বেড়ায় সার্চলাইটের আলোয় আটকে পড়া অসহায় উদ্বাস্তুর মতো লাগে। ঘরের মধ্যে অনেক্ষণ শুধু দু'জনের নিশ্বাসের শব্দ শোনা যায়। শেষে উজানই আবার কথা বলে।
: আমি একজনকে ভালোবাসি।
: দ্যাটস্ নাইস। কী নাম ওর?
: রুবি।
: আমিও একজনকে ভালোবাসতাম। সে অবশ্য এক যুগ আগের কথা। অনেকটা তোমার মতোই দেখতে ছিল জানো।
: আমায় একটু ভাবতে সময় দিন।
: বেশ তো, এখন সাড়ে আটটা বাজে। আমি দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। কেমন?

রাতের কলকাতা। কত শত মানুষের স্বপ্ন এখানে প্রতিদিন আধপেটা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। শত সহস্র নিওনবাতির নিচে নেমে আসে দুঃসহ অন্ধকার। কেউ ফিরেও দেখে না।
যেমন আজ বছর বাইশের ছেলেটা রাস্তার ওপাশে একটা গলির মুখে এক আধো অন্ধকার জায়গায় চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকগুলো স্বপ্ন আজ তার চোখে। কিন্তু তার দাম যে অনেক।
পকেট থেকে একটা কয়েন বার করে উজান। ওর লাকি কয়েন। অনেক ম্যাচে এই কয়েন দিয়েই টস জিতেছে সে। দুবার সেটাকে লুফে নিয়ে হঠাৎ টান মেরে ওটাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় উজান। অন্ধকার গলির ভেতর ধাতব শব্দটা অল্পক্ষণেই মিলিয়ে যায়।
আর কোনোদিকে একবারও না তাকিয়ে বড়ো রাস্তাটা পার করে উজান।

১৩০২২০১৭

212 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন