Swarnendu Sil RSS feed

Swarnendu Silএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

Swarnendu Sil

দুর্গাপুজোর মাঝে কিছু অদ্ভুত পোস্ট চোখে পড়ল ফেসবুকে... এক ধরণের কাউন্টার-প্রোপাগ্যান্ডা... মহিষাসুর 'অসুর' নামের কোন আদিবাসী উপজাতির লোককথার এক রাজা... যাকে সাদাচামড়ার ( implying, depending on the context, উচ্চবর্ণের বা ইন্দো-ইউরোপীয় ) দুর্গা কৌশলে হত্যা করে... আর তাই দুর্গাপুজো তাদের কাছে শোকের দিন...

এমন পোস্ট অবশ্য এবছরই প্রথম নয়, এর আগেও 'হুদুর-দুর্গা' ইত্যাদি নিয়ে লেখালিখি চোখে পড়েছে...

যাই হোক, ইতিহাস বিকৃতি এই হনুমানদের ভারতবর্ষে একরকম গা-সওয়া হয়ে যাচ্ছে বা গেছে বলা চলে... কিন্তু হনুমানদের বিরোধীদেরও সেই একই রাস্তায় হাঁটতে দেখলে ভবিষ্যৎ ভেবে একটু ডিপ্রেসসড লাগে এখনো... আমার কাছে অন্তত ইতিহাস বিকৃত করে কি বলছের থেকে এই অভিসন্ধিমূলক বিকৃতিটাই মৌলবাদের সমার্থক... সেই থেকেই কিছু কথা লেখা...

এই ধরণের propaganda য় subscribe যারা করেন তারা কি আদৌ মানুষের ইতিহাসে মাতৃপূজার ইতিহাস ও সেই সংক্রান্ত মতগুলো নিয়ে সামান্যও ওয়াকিবহাল? মহিষাসুর কোন আদিবাসী উপজাতীয় রাজা বা নেতা তো দুরে থাকুক, আদৌ কোন মানুষকে ( অর্থাৎ কোন ব্যক্তিকে, কোন individual কে, সে মানুষ, দেবতা, অসুর, রাক্ষস যাই হোক না কেন) রিপ্রেজেন্ট করে কি না আদৌ...

নাকি রিপ্রেজেন্ট করে, আজ্ঞে হ্যাঁ, বন্য মহিষকে... অন্যত্র বন্য ষাঁড়কে... এই অন্যত্রটা বুঝিয়ে বলি... একজন মহিলা ও একটা ষাঁড়, সঙ্গে কোন একটা big cat, মানুষের সংস্কৃতির ইতিহাসে এই symbol টার বয়স কত জানেন? ৯৫০০ বছর... আজ্ঞে হ্যাঁ, একটাও শূন্য বেশী দেখেন নি... সাড়ে নহাজারই লেখা ওটা... সবচেয়ে পুরনো এমন সিম্বল পাওয়া গেছে চাতালহয়ুক এ ...

https://en.wikipedia.org/wiki/%C3%87atalh%C3%B6y%C3%BCk

এই পেজেই ছবি পাবেন... দুটো লেপার্ড বা প্যান্থারের ওপর বসে থাকা mother goddess....... মন্দিরগুলোয় ষাঁড়ের শিং, ষাঁড়ের খুলি ভর্তি... দেওয়ালে ষাঁড়ের ছবি ও ...

cattle domestication এর সামান্য আগে-পরে... মোটামুটি সেই সময় থেকেই ( ৭৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ মোটামুটি ) থেকেই এই সিম্বলটার অস্তিত্ব আছে...এবং যাকে নিওলিথিক রেভল্যুশন বলা হয় সেই থেকেই... আর্য-অনার্য, উচ্চ বর্ণ-নিম্ন বর্ণ, আদিবাসী জনজাতি এইসব ভাগাভাগি আস্তে তখনো বহু সহস্রাব্দ বাকি, এমনকি ইন্দো-ইউরোপীয় material culture এর জন্মলাভ তখনো কয়েক হাজার বছর ভবিষ্যতের গর্ভে...

এই নিওলিথিক কালচার প্যাকেজ-এর ছড়িয়ে পড়া ( উৎপত্তিস্থল মোটামুটিভাবে লেভান্ত, আজকের সিরিয়া-ইরাক-প্যালেস্তাইন-ইজরায়েল-লেবানন অঞ্চল) ... পুবে ও পশ্চিমে... এবং পুবে বন্য ষাঁড় এর বন্য মহিষে ট্রান্সফর্মড হয়ে যাওয়া ( মোষ বা water buffalo ভারতীয় উপমহাদেশে অথবা চীনে domesticated হয় প্রথম ) ... এগুলো জানার দুর্ভাগ্যক্রমে কোন শর্টকাট নেই... definitive account ও কম... without controversy ও নয় সেগুলো... তবু বই আছে... পড়ে দেখতে পারেন... একটা ১৯৫৯ এর ক্লাসিক,
জেমস এর কাল্ট অফ দ্য মাদার গডেস ...
https://books.google.ch/books/about/The_Cult_of_the_Mother_goddess.htm
l?id=ppyAoAEACAAJ&redir_esc=y


এছাড়াও
https://books.google.ch/books/about/The_Birth_of_the_Gods_and_the_Orig
ins_of.html?id=z4epGQpNyucC&redir_esc=y


সুমেরীয় বা মেসোপটেমিয়ার Ananna-Ishtar এর ছবি ও গুগল সার্চ দিলেই পাবেন... একটা দিলাম নিচে...সিংহবাহিনী দুর্গার সাথে মিলিয়ে নিন নিজেরাই...


http://67.media.tumblr.com/fd18556dbf36472c7e76fde7f082692e/tumblr_inl
ine_nkkr7xbnIg1qhe44g.jpg


প্রাচীন সিম্বলগুলোকে নাহয় একটু রেহাইই দিলেন আপনাদের আইডেন্টিটি পলিটিক্স এর থেকে...

যাই হোক, নবমীর রাত ফুরতে চলল... আপাতত এইটুকুই ...

[ লেখাটা ফেসবুকে লিখি গতকাল... এখানেও দিলাম আজ... অবিকৃতভাবেই...
সব্বাইকে শুভ বিজয়া ]

2657 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: Blank

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

ভাল লেখা। আরো যত্ন করে বিস্তারিত লেখার অনুরোধ রইলো।
Avatar: r2h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

Avatar: রৌহিন

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

থ্যাঙ্কস স্বর্ণেন্দু। উত্তরবঙ্গে ভুটান বর্ডারে এই অসুর বংশের কিছু মানুষ আছেন - তাছাড়া সাঁওতাল পরগণা এবং অন্যান্য জায়গাতেও। এরা সত্যিই মহিষাসুরের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান থাকেন শুনেছি - যদিও সেই চেতনা ঐতিহাসিক নয় এটা অনুমান করাই চলে। এদের নিজস্ব লিপিও আছে। এসব নিয়ে একটু কাজ করার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে। তার আগে এই লেখাটা আমার কাছে মূল্যবান একটা রেফারেন্স হয়ে থাকল - তবে আরো একটু ডিটেলে লেখো না। অনুরোধ রইল।
Avatar: ranjan roy

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

একই দাবি রাখলাম।
Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

@r2h

দুটো লিঙ্কের জন্যই ধন্যবাদ... শিবাংশুদার টই টাও পড়া হল এইজন্যে...

@ব্ল্যাঙ্ক, রঞ্জনদা ও রৌহিন,

নিওলিথিক এ চাষবাস ও পশুপালন শুরু হওয়া এবং ধর্মবিশ্বাস ব্যাপারটারই একরকম আবির্ভাবের ইতিহাসটুকু, সেখানে এই সিম্বলিজম... সম্ভাব্য কারণ এরকম সিম্বলের... এই নিয়েই সামান্য আর একটু লিখতে পারি মাত্র, তার বেশী তো সাধ্য নেই...ঘট তো ঠনঠনে...

তবে এই বিশেষ দাবিটার বিরুদ্ধ যুক্তি প্রচুর... ফলত এই বিশ্বাস অনৈতিহাসিক হওয়ার সম্ভাবনাই বহু বহুগুণ বেশী...
Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

বিশেষ দাবিটা মানে আর্য-অনার্য যুদ্ধ থেকে দুর্গাপুজোর উৎপত্তির দাবিটা ...
Avatar: Blank

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

স্বাভাবিক। মাতৃ পুজা হিসেবে দেখলে এই ধরনেই উৎসব প্রাক আর্য। আবার স্ট্রাকচারাল দুর্গা রুপে দেখলে, সিংহবাহিনী দেবী আসে গুপ্ত যুগের পরে ( বা তার সমসাময়িক)। ততদিনে অনার্যরা বা পুরনো জাতিগোষ্ঠী গুলো আর থ্রেট নয়। মৌর্য দের সময় থেকেই অনার্য গোষ্ঠী গুলো কে আর থ্রেট হিসেবে নেওয়া হতোনা।
Avatar: Sayantani

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

এটাকে ইতিহাসের নির্মাণ বলা যেতে পারে, এবং কিংবদন্তীর উপর ভর করে ইতিহাস নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, বিনির্মাণ শুধু 'অসুর' জনগোষ্ঠীর লোক করছেন বলা ঠিক নয়। কারণ এই ধারা প্রায় আবহমান কাল থেকে চলে আসছে, বিশেষত ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে । যেমন ধরুন, বাঙালি আদতে লড়াকু জাত, যাকে বলে মার্শাল রেস্, তা প্রমান করার জন্য গুরুসদয় দত্ত রায়বেশে নাচিয়ে গোষ্ঠীকে ঘটোৎকচের উত্তরাধিকারী হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। কিংবদন্তীর দ্বারা ইতিহাস নির্মাণ খুবই কমন ব্যাপার, 19 বা 20 শতকের বাঙালি ভদ্রলোকের মধ্যেও তা প্রবল ভাবে ছিল।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

ইনভেনশন অফ ট্র্যাডিশন ইত্যাদি খুব কমন। বিশেষ কোরে রাজনইতিক প্রয়োজনে। তাই স্বর্নেন্দুর বক্তব্য খুব সেনসিবল হলেও রাজনইতিক তর্ক জিনিসটায় এই ইনভেন্টেড ট্র্যাডিশনের ব্যবহার প্রচেষ্টা একটা থাকে। তিলক এর গনেশ উত্সব জেরকম একটা দিক তেমন ই মায়àঅবতীর পার্ক নির্মানে একটা উত্তর দেওয়ার প্রভ্হেষ্টা বা যয় ভী অহ্লোগান
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

জয় ভীম শ্লোগান এই সব চাপান উতোর আটকানো মুশকিল।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

জয় ভীম শ্লোগান এই সব চাপান উতোর আটকানো মুশকিল।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

জয় ভীম শ্লোগান এই সব চাপান উতোর আটকানো মুশকিল।
Avatar: কল্লোল

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

আমার দুটো কথা আছে।
১) ৭৭-৭৯ আমি ডেবরায় থাকতাম প্রায় বছরে ছয় মাস। থাকতাম এক আদিবাসীর বাসায়, সম্প্রতি মারা গেছেন, গুণধর মূর্মূর পরিবারের সাথে। ওঁরা সাঁওতাল। ওঁদের গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বহু মুন্ডাও থাকতেন। একবারই দূর্গাপূজার সময় ছিলাম। ওঁদের কিন্তু পরব হয় তখন - শোকের পরব। ওঁরা গান গাইতে থাকেন, তার মূল বক্তব্য প্রায় এক - আমাদের রাবণ রাজা ভালো রাজা ছিলো, তাকে মারতে তুই রামকে মদত দিলি কেন। এসব গান কিন্তু সাঁওতাল ও মুন্ডারী দুভাষাতেই হয়।এটা ওঁদের বহুদিনের পরম্পরা।
২) মাতৃ মূর্তি, সিংহ ও মহিষ বা ষাঁড় বহু পুরোনো প্রতীক। মা বা নারী উর্বরতার সাথে যুক্ত বহুকাল। এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে দর্গা-মাহিষাশুরের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু সম্পর্ক স্থাপন করেন ভারতে আসা আর্যরা। তারা ভারতীয় অনার্যদের এই প্রতীককে নিজেদের দেবতা বানান। পুরাণে দেখুন দূর্গা কিন্তু আর উর্বরতার প্রতীক নন। আর্য পুরাণমতে তার উপস্থিতি কোথাও ছিলো না। তাকে তৈরী কারেন আর্য দেবতারা। তারাই তাকে নিজেদের অস্ত্র ও সমবেত শক্তি দান করেন, অনার্যদের সাথে লড়ার জন্য। এই আখ্যান অনার্যদের এতোকালের চলে আসা মাতৃধারনাকে অস্বীকার করে। ঐ সময়েই (খ্রীঃপুঃ ২ থেকে ৫ শতাব্দী পর্যন্ত - যতদিন না কামরূপ/প্রাগজ্যোতিষে নরকাসুরকে উচ্ছেদ করা যাচ্ছে) এই প্রক্রিয়া সমানে চলেছে। এই প্রক্রিয়াতেই পূর্বোত্তরের তান্ত্রিক দেবীদের (৬৪ যোগিনী) একজনকে (মহাকালী) আর্যরা নিজেদের দেবতা বানিয়ে ফেলেন, এমনকি তার সাথে শিবের মতান্তরে সোমেশ্বরের বিয়েও দিয়ে দেন (কালিকাপুরাণগুলি দ্রষ্টব্য)। মজা হলো এই বিয়ের আখ্যান মহাকালীকে দিয়ে শুরু হলেও, শেষ পর্যন্ত তাকে কালী(ঘোরবর্ণা নারী) ও শেষটায় উমা বা পার্বতীতে (তপ্তকাঞ্চণবর্ণা) রূপান্তরিত করা হয়। অথচা মহাকালী কালো নারী অর্থে নয়, বরং মহাকালের স্ত্রীলিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃত ছিলেন) - কালিকাপুরাণগুলির প্রথমাংশ দ্রষ্টব্য)।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

কল্লোলদা কিছু লিখছে দেখলেই ভালো লাগে, মোটামুটি সুস্থা আছে এটা ভেবে ভালো লাগে। কল্লোল দা আমি চারটি সাঁওতাল গ্রামে রাজনীতি করার সূত্রে সম্পৃক্ত ছিলাম, আমি দুর্গা পুজোর সময়ে আমি কোন পরব দেখিনি। বাদনা পরব যেটা হত, সেটা এই সময়ে পড়তো, সেটা শুনেছি ডোমেস্টিকেটেড পশু দের সেলিব্রেশন, তবে বুলফাইট গোছের যে খেলা হয় অনেক জায়গয় শুনেছি মোষ বা ষাঁড় নিয়ে সেটা দেখিনি। মেনলি সেজে গুজে নাচ দেখেছি। তবে ভাদ্র মাসে কাজের অভাব ইত্যাদিতে বাজে অবস্থা থাকতো, আশ্বিন কার্তিকে সেটা সব সময়ে রিকভার করতো তা না। পরে শিল্পী বাঁধন দাসের তৈরী মুর্তী কে ঘিরে একটা আইকন এর পুজো আরম্ভ হল, সেটা এমনিতে সেদিনের কথা, যে যা পারে গ্যাস দেয়। কোনো নৃতাত্ত্বিক ভিত্তি আছে কিনা জানা নেই। তবে আমি সম্পূর্ণ ভাবে কৃষির সংগে এমনকি লো ওয়েজ কাজের সংগে জড়িত লোকেদের দেখেছি।শুধুই ক্যাটল হার্ড ম্যানেজ করে এরকম ট্রাইবের মানুষের সংগে মেনস্ট্রীম রাজনীতি করার সুযোগ পাইনি।

তুমি যে তত্ত্ব টা শেয়ার সেটা মোটামুটি স্বীকৃত তত্ত্বর একটা অংশ, যে হিন্দু নামক প্যান্থিয়োন নানা জিনিস অ্যাডপ্ট করছে, এবং প্যান্ঠিয়ন এর মধ্যেই ক্ষমতার বিন্যাসের একটা পরিবর্তন হচ্ছে। এবং এটাও আমি এগ্রি করি, যে মাদার কাল্ট বা সেক্স কাল্ট বা অ্যানিমাল ডোমেস্টিকেশনের সংগে কৃষি ভিত্তিক সমাজে পুজার বা অফারিং এর ট্র্যাডিশন আসবে। তবে বক্তব্য হল, কখন কোনটা কোন কমিউনিটি কেন ব্যাবহার করবে, সে মানে বলা খুব ই মুশকিল, একটা ইনভেনটেড ট্র্যাডিশন যথেষ্ট রিসেন্ট না হলে, তার পুরোটা ট্রেস করাও মুশকিল। যত টা নিশ্চিত ভাবে আমরা বলতে পারি, ধরো বম্বে অঞ্চলে ১৮৬০স অব্দি মুহরম বড় উৎসব ছিল (সত্যেন থাকুরের মেমোয়ার) ১৮৯০ এর দশকের গণেশ উৎসব এর পর থেকে সেটা ধীরে ধীরে আর প্রধান থাকছে না, এটা বলা যায়, কয়েক হাজার বছর আগে, প্যানথিয়ন এর কোন পরিবর্তন, কোন রাজনইতিক পট বরিবর্তন, সামাজিক পরিবর্তনের দিকে দিক নির্দেশ করে, বলা টাফ। তাও এই এ ও জেম্স, হার্ম্যান কুলকে , কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইটন, রামশরণ শর্মা , সুকুমারি এরা নানা স্ক্রিপচারের এভিডেন্স উদ্ধার করে যতটা পারেন, সিন্ক্রেটিজম এর এবং পরিবর্তনশীল প্যান্থিয়ন এর একটা কার্যকারণ বের করার চেষ্টা করছেন। এবং সেটা কে গ্লোরিয়াস হিন্দু ভারতবর্ষ ঐতিহ্য ইত্যাদি প্রচার থেকে যতটা আলাদা করতে গিয়ে পুরাণ ছাড়াও অন্যান্য সোর্স দেখতে হচ্ছে।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

***এবং সেটা কে গ্লোরিয়াস হিন্দু ভারতবর্ষ ঐতিহ্য ইত্যাদি ধরণের ইতিহাস বা নৃতত্ত্ব রচনার পদ্ধতি থেকে থেকে যতটা পারা যায় আলাদা করতে গিয়ে পুরাণ ছাড়াও অন্যান্য সোর্স দেখতে হচ্ছে। সবটাই টেক্স্ট সোর্স নয় অবশ্যই।
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

আর আমি যেটা বলছিলাম, রাজনৈতিক প্রয়োজনে ইন্ভেন্টেড চিহ্ন বা অর্চনা এ মানে অসংখ্য এবং চলমান। এ মানে আটকানো প্রায় অসম্ভব ঃ-)))
Avatar: h

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

*'হিন্দু নামক প্যান্থিয়ন' টা টেকনিকালি ভুল বলেছি।
Avatar: T

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

হনুদা কে ক। তাও মৌর্য যুগের পর থেকে পুরাণ, স্মৃতি, বিবিধ প্রত্নলেখ থেকে কিছুটা উদ্ধার করা যায়। তার আগে পুরোটাই বেশ ঘাঁটা। কারা অন্ত্যজ শ্রেণী এবং কারা নয়, উৎপাদন ব্যবস্থায় কাদের স্থান কোথায় কিছুই খুব নির্দিষ্ট নয় (রামশরণ শর্মা)। সমাজ তখন একটা জায়মান অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেইসময়ের কৃষিব্যবস্থার প্রাথমিক অবস্থা থেকে গুপ্তযুগের সময়কার কৃষিব্যবস্থা অনেক পরিণত, এবং সেই সঙ্গে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণীর স্থানও। অ্যাতো লৌকিক দেবদেবীর উৎপত্তি মূলত গুপ্ত অনওয়ার্ড। লোকে কুড়ুল এবং লাঙলের লোহার মাথা, (ওটাকে যেন কি বলে, যা ত্তারা) আবিষ্কার করতেই গোটা গাঙ্গেয় অববাহিকা জুড়ে হুড়মুড়িয়ে জঙ্গল কেটে সাফ করে কৃষিজমী তৈরী এবং সেইসঙ্গে একধারসে হুড়মুড়িয়ে দেবদেবী। এটা করতে গিয়ে লোকবল জোগাড় করার জন্য বা বেসিক্যালি কারুশিল্পীদের দখলে আনার জন্য বিভিন্ন জনগোষ্টীর আত্তীকরণ শুরু হয়। সে মানে উদুম ক্যালাকেলি। এসময় আগেকার দিনের দেবতা/ রাতের দেবতা কনসেপ্ট থেকে স্পেশালাইজড দেবদেবী সেট তৈরী হচ্ছে এবং সেই সংক্রান্ত লৌকিক উপাখ্যান বা জাস্টিফিকেশন ইত্যাদি হ্যানা ত্যানা। তো এই বিজয়ী বিজিত থিয়োরী সেখানে ফিট করে। মানে এ ছাড়া আর কিই বা হতে পারে। বলা যেতে পারে ঐ খান থেকেই বর্তমান বিবিধ দেবদেবীদের আসল চলন শুরু। ফলে সাড়ে নহাজার বছর আগে সিংহবাহিনী ছিল এ ব্যাপারটার খুব কিছু ভ্যালু নেই, কারণ তাতে পরবর্ত্তীতে দেবতা নির্মাণে কিছুমাত্র ইতরবিশেষ হয়নি।
Avatar: Sayantani

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

এটাই বলছিলাম
ইনভেনশন অফ ট্র্যাডিশন খুব কমন জিনিস। এই নিয়ে hobsbawm সাহেব এর এডিটেড একটা ভালো বই আছে. তাতে এই আবিষ্কারের কারণ খুব সুন্দর ভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে তো বোঝাই যাচ্ছে মেজরিটি র ওনস্লট ঠেকাতে প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ এই ট্র্যাডিশন এর সাহায্য nichhen
Avatar: sswarnendu

Re: দুর্গা, নিওলিথিক উত্তরাধিকার

Sayantani ও h এর বক্তব্য একদমই ঠিক, কিন্তু আজকের পরিস্থিতিতে আরএসএস এই নিয়ে যা করে চলেছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে অন্যদেরও সেই রাস্তায় হাঁটতে দেখলে ভয় হয় বইকি... আর তাছাড়া, রাজনৈতিক টুল হিসেবেও এইটা খানিকটা self-defeating ই মনে হয়... কারণ আমার সামান্য জানাবোঝায় নিওলিথিক মাতৃপূজাকে 'আর্য' প্যান্থিওনে এনগালফ করে নেওয়াটাই ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রোজেক্ট, তাই সেটাকেই আরও বেশী মান্যতা/ বৈধতা দিয়ে সেইটার বিরুদ্ধে এফেক্টিভলি লড়া যায় কতদূর আমার খুব সন্দেহ আছে।

T ও কল্লোলদা দুজনেই লিখেছেন যে এই নিওলিথিক কাল্টের লেগ্যাসি দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে ইররিলেভেন্ট। তা নিয়ে এমনিতে খুব বলার কিছু নেই, সেটা আপনাদের মত, আমি সেই মতে সহমত নই এইটুকু বলতে পারি। দুরকম কেন, বহু বহু রকম মত থাকার অবকাশ রয়ে যায়নি, এত ডেফিনিটিভলি কিছু জানা আছে এমন যেহেতু বিষয়টা আদৌ নয়।

কিন্তু তবুও আলোচনার স্বার্থে আমার কিছু প্রশ্ন আছে...
কল্লোলদা লিখলেন "এর সাথে প্রত্যক্ষভাবে দর্গা-মাহিষাশুরের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু সম্পর্ক স্থাপন করেন ভারতে আসা আর্যরা।" --- কেন? এর খানিক উত্তর ওইখানেই পরের লাইনেই, "তারা ভারতীয় অনার্যদের এই প্রতীককে নিজেদের দেবতা বানান।" এবং তাছাড়াও "এই আখ্যান অনার্যদের এতোকালের চলে আসা মাতৃধারনাকে অস্বীকার করে।" এবং এরপরের কল্লোলদা যা লিখেছেন সেই পুরোটাই আমি এমনিই এগ্রি করি... আর h ও লিখেইছেন, এই অ্যাডপ্ট/ অ্যাসিমিলেট/ এনগালফ করাটা মোটামুটিভাবে স্বীকৃত মতই ...

কিন্তু এতে তো ঠিক উলটো জিনিসটাই দেখায়, নয় কি? নিওলিথিক ট্র্যাডিশনের পরম্পরায় তৈরি এই মাতৃপূজা বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় না থেকে থাকলে রুলিং এলিট সেটাকে আদৌ অ্যাপ্রোপ্রিয়েট করতে চাইবেই বা কেন, যাবেই বা কেন?

ঠিক এই যুক্তিতেই আমার মনে হয় যে T এর " ফলে সাড়ে নহাজার বছর আগে সিংহবাহিনী ছিল এ ব্যাপারটার খুব কিছু ভ্যালু নেই, কারণ তাতে পরবর্ত্তীতে দেবতা নির্মাণে কিছুমাত্র ইতরবিশেষ হয়নি।" এইটাও খানিকটা ভুলই... সাড়ে নহাজার বছর আগেই শুধু থেকে তারপর মাঝে লোপ পেয়ে গেলে ইতরবিশেষ নাই হতে পারত, কিন্তু সেই সময় থেকে এই অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনের সময় পর্যন্ত চলমান কন্টিন্যুইটিটা অবশ্যই ইতরবিশেষ ঘটিয়েছে, নইলে দেবতা নির্মাণের প্রয়োজনটাই পড়ত না, বেদের ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, মিত্র এসবকে বহুগুণ সাইডলাইন করে আগে আদৌ এই প্যান্থিওনে ছিলই না এমন দেবতা নির্মাণের তো আরই না ...

প্রসঙ্গত, christianity তে ( এবং Hebrew pantheon এও ) এই appropriation তুলনামুলকভাবে well-studied, ইওরোপে prehistory ও historical যুগে mother goddess cult এর বিবর্তন ও ... eastar এর দিন ( spring equinox, Ishtar এর পুজোর দিন ), madonna with the child, মানে jesus কে কোলে নিয়ে mary র সিম্বলটা ওই একই ধারার বিবর্তনে তৈরি আইসিস ও হোরাস থেকে ইত্যাদি...





মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন