Salil Biswas RSS feed

[email protected]
Salil Biswasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

“আপনাকে বলছি স্যার” – ফিরে দেখা (২)

Salil Biswas

“আপনাকে বলছি স্যার” – ফিরে দেখা (২)
হালিসহর সভা

সেই সভায় আলোচনার বিবরণ। প্রায় সম্পাদনা না করে। এটা দ্বিতীয় অংশ। আরো আসবে।
ওখানে বলা হয়নি এরকম কয়েকটা কথা এখানে যোগ করেছি।


তীর্থঙ্করঃ তবুও বোধ হয় একটা রাস্তা আছে। নেই কি?
সুমিতাঃ না, সবথেকে বড় কথা হচ্ছে এই সরকারই তাদের সিলেবাসে বড় বড় কথা ......।।
সলিলঃ এই … এই সবাই প্রশ্ন করবেন আমি উত্তর দেব এটা কিন্তু হবে না।
সুমিতাঃ না, এই বইটা পড়ে আমার খুব মনে হয়েছিল, এর বাংলা অনুবাদটা পড়ে দেখেছি আমরা, সহজ ভাষায় লেখা। মূলটা পড়িনি, নিশ্চয় সহজ ভাষাতেই লেখা হয়ে থাকবে। যারা লিখেছিল, তাদের বয়স খুবই অল্প। একটা জায়গায় আমার, শেষের দিকটায়, দ্বিতীয় ভাগের শেষের দিকটায়, ধর্মীয় বিশ্বাসের একটা জায়গা। তারা খ্রীস্টান হবার জন্যই হয়ত খ্রীস্টান ধর্মের প্রতি তাদের একটা আনুগত্যের জায়গা দেখা গেছে, শেষ দিকটায় খানিকটা প্রকাশ পেয়েছে বলে আমার অন্তত মনে হয়েছে। তো সেই জায়গাটা থেকে আমার মনে হচ্ছিল যে ছাত্রদের এই স্কুলিং-এর পাশাপাশি তাদের গার্জিয়ানদেরও যদি কোনোভাবে নার্চারিং-এর একটা ব্যবস্থা করা যায় বা সেরকম একটা চিন্তা-ভাবনা রাখা যায় কিনা, মানে শুধু ছাত্রদের দিয়ে, মানে ছাত্ররা স্কুলে একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। কিন্তু বাড়িতে বাবা-মা এঁদের সাথে ...। তাঁদের ধর্মচর্চাটা, সেই বিশ্বাসটা তাদের ভীষনভাবে প্রভাবিত করতে থাকে। ফলতঃ সেখানে একটা কিছু করা যায় কিনা, এইটা, আর একটা, একদম প্র্যাকটিক্যাল প্লেনে একটা জিনিস, দুটো কোয়েশ্চন আমার আছে, সেটা হচ্ছে, কিছুদিন আগে, মানে আমি জখন চার পাঁচ বছর আগে ক্লাস এইট নাইনে পড়তাম, সেই সময় কো-ক্যারিকুলার বলে একটা ক্লাস এক্সট্রা দেওয়া হত। গান নাটক ইত্যাদির জন্য, কিন্তু সেগুলোকেও প্রায় সিলেবাস এর মত করেই চাপিয়ে দেওয়া হত। ওই সময় গান করতে ইচ্ছে না করলেও গান করতে হবে, আঁকতে না ইচ্ছে করলেও আঁকতে হবে। তো ওটাকেও একটা সিলেবাস-এর পার্ট করেই নিয়ে যাওয়া হত। পড়ার থেকে ওটাকে আলাদা কিছু মনে হত না। বা ওই সময় খেলতেই হবে। খেলার পিরিয়ডেই খেলতে হবে। ওইসময়ে খেলতে হয়ত ইচ্ছে করছে না, গল্প করতে ইচ্ছে করছে, সেটা করা যাবে না। খেলার সময় খেলতে হবে। খুব রুটিন মাফিক খেলতে হবে। যেদিন যেই খেলাটা বলে দেবে। এইটা একটি। আরেকটা হচ্ছে এই যে মানে, ওখানে ডোপোস্কুওলা বলে ওখানে যেটা বলা হয়েছে, এটা আজকে তাদের যে প্রাইভেট টিউশান সেটারই একটা এক্সটেনডেন্ট ফর্ম বলা যাবে কি? ডোপোস্কুওলা সম্পর্কে আমার খুব একটা ধারণা গড়ে ওঠেনি।
সলিলঃ ডোপোস্কুওলা ব্যাপারটা ওখানে যেটা বলা আছে, সেটা কিন্তু টিউশান নয়। সেটা কিন্তু স্কুলের টিচাররাই আর কিছু ছাত্র কনটিনিউ করে যাচ্ছেন পড়ানোটা। কারন বারবিয়ানা স্কুলের রুটিন ছিল সকাল আটটা থেকে বোধহয় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা। আমাদের শ্রমজীবি স্কুলের রুটিনটা তাই। ডোপোস্কুলা বলতে যা হয় তা হল যে, যে ছেলেটি পিছিয়ে আছে, বা মেয়েটি পিছিয়ে আছে, তাকে অন্যরা মিলে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই অন্যরা যারা তাদের মধ্যে শিক্ষকও থাকবে। কিন্তু টিউশানি যখন পয়সা দিয়ে সেই প্রশ্নটা তো ওঠেই না, আর এখন তো, কালকেই একটা হাসির জিনিস পড়ছিলাম, এখন সব স্কুলে গিয়ে ইউনিফর্ম স্কুল থেকে নিতে হয়, বই স্কুল থেকে নিতে হয়, জুতোটাও পর্যন্ত স্কুল থেকে নিতে হয়। শুধু শিক্ষাটা অন্য জায়গায় নিতে হয়। এখন সেইটা ডোপোস্কুলা নয়।
আরেকটা কথা হচ্ছে যেটা ধর্মের কথা। এটা খুব একটা গোলমেলে ব্যাপার, মজাটা হচ্ছে বারবিয়ানা স্কুল যিনি তৈরি করেছিলেন, তাঁর নাম হচ্ছে ডন লোরেঞ্জো মিলানি। আর এই বইটা যিনি লিখেছেন ‘নিপীড়িতের শিক্ষাবিজ্ঞান’, তাঁর নাম হচ্ছে পাওলো ফ্রেইরি। এরা দুজনেই কিন্তু ধর্মযাজক। দুজনই প্রিস্ট। এবং আজকে দক্ষিণ আমেরিকায় একটা ধর্মের একটা অন্য অঙ্গ কাজ করছে সেটাকে বলে লিবারেশান থিওলজি। সেখানে, আমার কাছে একটা ছবি আছে, দেখাতে পারলে আপনাদের ভালো লাগত। ছবিটার নাম হচ্ছে ক্রাইস্ট দা গেরিলা। আজকে যদি ক্রাইস্ট থাকতেন তিনি অবশ্যই গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিতেন। (এই কথাটা আমি এইখানে যোগ করছি, ওই আলোচনায় বলা হয়নি। এই কথাটা বলেছিলেন কামিলো তোরেস রেস্ত্রেপো।) এবং এই ছবিটাতে আছে ক্রাইস্টের কাঁধে একটা অটোমেটিক রাইফেল। এবং সাউথ আমেরিকাতে বহু উদাহরণ আছে যেখানে একজন প্রিস্ট (ইনিই কামিলো তোরেস), যিনি গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, যখন যোগ দিয়েছেন তাকে সবাই বলেছে, আপনি তো অন্যরকম জীবনে অভ্যস্ত, আপনি আমাদের বাচ্চাদের পড়ান। আপনি আমাদের অন্য কাজে থাকুন। উনি বলেছেন না, আমি বন্দুক হাতে যুদ্ধে যাব। এবং উনি যুদ্ধে গেছেন, এবং সে যুদ্ধে তিনি মারাও (১৯৬৬) গেছেন। সুতরাং ধর্ম ব্যাপারটা … যেমন আজকে আসতে আসতে আমাদের আলোচনা হচ্ছিল, যে ঐ সুমন-এর গানটাকে একজন একটু পালটে বলছেন। ‘আমি চাই ধর্ম বলতে সবাই বুঝবে মানুষ শুধু’ আছে তো ? উনি লিখছেন, ‘ধর্ম বলতে সবাই জানবে খোঁয়ার শুধু’। তো এইটা তো ঘটনা। কিন্তু আবার ‘অন রিলিজিয়ান’ বইতে লেখা হচ্ছে যে, আমি যদি একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিকে ডেকে বলি যে, তুমি একজন আফিমখোর, তোমাকে তোমার ভাবনা পালটাতে হবে। আমি সেই মানুষটাকে তাহলে চিরতরে হারাব। Religion is the opium of the people. ঠিকই, কিন্তু আমি কি তাকে ডেকে বলব, যে তুমি একজন আফিমখোর! (এটা বলেছেন জর্জ থম্পসন) কিন্তু সেটা করবনা। আমি তাকে অন্যভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব। কিন্তু এটা নিয়ে আলোচনার অনেক জায়গা আছে। কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিপ্লবী আন্দোলনে আসবেন না এরকম নাও হতে পারে। আসবেন, এমনই হতে পারে। এবং ওরা যখন ক্রাইস্ট এর কথা বলছেন যখন ওরা ওই বারোজন শিষ্যের কথা বলছেন তখন ওদের জায়গা থেকে কেন বলছেন কথাটা , সেটা ভাবার দরকার আছে। এবং আরেকটা জিনিস হচ্ছে এই যে, গার্জিয়ানদের কথা বললে, যে এখানে আপনাকে বলছি স্যার বইটার একটা প্রধান বক্তব্য হচ্ছে যে যারা অভিভাবক, তাদের সংগঠিত হতে হবে। ওই যে আছে না, একজন জিজ্ঞেস করেছেন, এই গাছটা কী গাছ? শিক্ষিকা গাছের নাম বলতে পারেননি, উলটো ভুল একটা নাম বলেছেন। এইটা যখন বাড়িতে গিয়ে সেই ছাত্র বলছে, তখন ছাত্রের মা-বাবা বলছে, কে রে মহিলা? একটা গাছের নাম জানেনা, সে আবার বাচ্চাদের পড়াতে এসেছে? তো এব্যাপারে তো আমরা অনেকেই গিলটি। আমাদের ঘরের বাইরের গাছের নাম জিজ্ঞেস করলে আমি বলতে পারিনা। আমাদের স্কুলের বাইরে একটা কদম গাছ আছে। হ্যা, আমি সেটাকে দীর্ঘদিন শিরীষ গাছ বলে জানতাম। এইরকম কান্ড তো আমরা করেই থাকি। কাজেই গার্জিয়ানদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের ডেকে আনা, তাদের সঙ্গে আমাদের ইন্টার অ্যাকশান হতে হবে, যারা জ্ঞানার্জন সহায়ক তাদের ইন্টারঅ্যাকশান হতেই হবে। বা ছাত্রদের ক্ষেত্রে আরো অনেক কথা বলা, এগুলো তো খুব জরুরি দরকার।
জনৈক শ্রোতাঃ (দুঃখের কথা তাঁর নাম পাইনি) ক্রাইস্ট দা গেরিলা যে কথাটা আপনি বললেন, অ্যাকচুয়ালি ক্রাইস্টদের যে শিষ্যরা ছিল, তাদের সঙ্গে কিন্তু অস্ত্র ছিল। ... যখন রোমান সৈন্যরা ওইভাবে অ্যাটাক করতে আসে ক্রাইস্ট কিন্তু তাদের বলেন যে এই সামান্য অস্ত্র দিয়ে তুমি এদেরকে কিছু করতে পারবে না, তোমরা অস্ত্র সংবরণ করো। সুতরাং ক্রাইস্টদের যে দঙ্গল ছিল তাদের নিয়ে ক্রাইস্টদের একটা আন্দোলন করতে যাবার মতো একটা প্রবণতা হয়ত ছিল। পরিস্কার করে বলা যাবে না।
সলিলঃ না, বলা যাবে না।
শ্রোতাঃ সুতরাং ক্রাইস্টকে গেরিলা ভাবলে এখন খুব যে সচকিত হতে হবে তা নয়।
সলিলঃ হ্যাঁ। মানে, ক্রিশ্চিয়ানিটি যখন প্রথম আসে মধ্যপ্রাচ্যে, তখন তো ওটা রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটা লড়াই ছিল। ইহুদীদের লড়াই। সেই লড়াইটা পরবর্তীকালে ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে গেছে, ভুল দিকে চলে গেছে। গণ্ডগোল হয়ে গেছে, এমন সব কান্ড সব ধর্মেই আছে। এবং আপনারা তো নিশ্চয় জানেন যে চৈতন্যদেবের যে কাজ (ভক্তি কাল্টের উদ্ভব নিয়ে তেমন সমাজ-সচেতন কাজ হয়েছে কি? আমি পড়িনি। আমাকে একবার সুপ্রকাশ রায় বলেছিলেন কাজটা করতে। আমি একেবারেই উপযুক্ত নই, ছিলামও না। স্যার আমাকে ক্ষমা করবেন।) সেটা তো সাধারণ মানুষদের নিয়ে, এবং তিনি তো সত্যি সত্যি পুরীতে গিয়ে আহা কৃষ্ণ বলে সমুদ্রে ডুবে যাননি। তাকে তো বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল। কে মেরেছিল? মেরেছিল তো আমাদের তথাকথিত হিন্দু লোকজনই মেরেছিল। কাজেই হিন্দুরা এখন মারে তখন মারত না, এটা ঘটনা নয়। এবারে, এই জায়গাটা, অ্যাজ আই সেইড, কন্টকিত জায়গা। ভাবা দরকার আছে।
সলিলঃ অভিভাবকদের কথায় আসি। ঠিকই, যেটা একটু আগে অভিভাবকদের সম্পর্কে আমি বললাম, অভিভাবকরা যদি সংগঠিত হন, যদি ভাবনা-চিন্তা করেন, তাহলে আমরা অনেকটা এগোতে পারি। কিন্তু আমি যখন বলছি যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এই চক্রটা ভাঙ্গা দরকার, তখন যে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক ভাবে আসে তাহলে জীবিকা অর্জনের কি হবে? জীবিকা অর্জনের দিকটাও তো ভাবতে হবে। ঘটনা। জীবিকা অর্জনের দিকটাও তো ভাবতে হবে। খুব ভাল হত যদি এসব কিচ্ছু না করতে হত, কিন্তু হবেই। কিছু করার নেই। কিন্তু মাধ্যমিকের কথাটা রাখতেই হচ্ছে, মাধ্যমিক পাশ করতে হবে। শ্রমজীবীতে আমরা কিছু লোক যেটা ভেবেছি সেটা হচ্ছে, মাধ্যমিকের পরে কেউ আমাদের শ্রমজীবী বিদ্যালয় বা পাঠশালা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়বে না। বা পড়তে পারবে না। বা আমরা পড়াতে পারবো না। এবার মাধ্যমিকে যারা ফেল করবে, তারা কোথায় যাবে? তাদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি? তাদের যদি আমরা একটা অন্য পথ না দেখাতে পারি, তাহলে এসব কথাগুলো তাদের বলতে পারা যাবে না। অভিভাবকরা, তাঁরা মানেন যে কথাগুলো সত্যি, কথাগুলো ঠিক । কিন্তু তবুও তারা সেটা গ্রহণ করবেন না। এই যে আমি বলছিলাম, গার্জিয়ানরা আমাদের স্কুলে এসে খুব খুশি, তাদের ভীষণ ভালো লাগে, তারা মনে করছেন এটাই করা উচিত। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তারা এটাও ভাবছেন যে আমার মেয়েটার বিয়ে হবে কি করে? আমার ছেলেটা কোথায় চাকরি করবে, কোথায় কী করবে? তার একটা পথ করে দেওয়ার জন্য শ্রমজীবী থেকে ভাবা হচ্ছে, একটা ব্রিজ কোর্স করিয়ে, তাদের একটা ডিপ্লোমা কোর্স-এ নিয়ে গিয়ে কোনো একটা কাজের চিন্তা করা হবে। যেটা ডক্টর্স অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারে, নার্সিং হতে পারে, বা চিকিৎসার সঙ্গে সংযুক্ত আরও কিছু হতে পারে, যেটা করা আমাদের সুবিধে, কারণ হাসপাতালটা আছে। কিন্তু আমার এখানে প্রশ্ন, আমি ওদের কাছে করেছি, অনেক ছেলেমেয়ে, অন্তত চারটি ছেলেমেয়ে আমাকে এসে বলেছে, স্যার, আমি তো ডাক্তার হব না, আমি তো নার্স হব না, আমি তো হেমাটোলজিস্ট হব না, প্যাথলজিস্ট হবনা, আমি তো মাস্টার হতে চাই, শিক্ষক হতে চাই।
আমরা অনেকে চিরদিন বলে এসেছি, যে শিক্ষক হতে চাই বলে যারা আসেন, তারা ধাঁ করে শিক্ষক হয়ে যান, কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া। সেটা ঠিক না। সেই সূত্রে বলি, যে অনেকে মনে করেন বারবিয়ানা স্কুল, মানে আপনাকে বলছি স্যার বইটা বলে যে পরীক্ষায় পাশ করার কোন দরকার নেই। বারবিয়ানা স্কুল কিন্তু কোথাও সে কথা বলেনি। অনেকে মনে করেন বারবিয়ানা স্কুল বলে যে পরীক্ষায় এত কড়াকড়ি করার দরকার নেই। তা কিন্তু না। পরীক্ষায় কড়াকড়ির কথাই বলে কিন্তু বারবিয়ানা স্কুল। কার পরীক্ষায়? থ্রি থেকে, ফোর থেকে, ফাইভ থেকে, সিক্স থেকে তাদের নয়, তাদের পরীক্ষাগুলো সহজ হয়। তাদের বই খুলে লিখতে দেব, খাতা দেখে নিতে দেব, কিন্তু শিক্ষকদের পরীক্ষা? শিক্ষকদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনরকম আপোষ করা চলবে না, এটা কিন্তু বলে বারবিয়ানা স্কুল। সুতরাং ফেল করানো চলবে না এটা একটা ব্র্যান্ডেড কথা বলে ধরে নিয়েছে বারবিয়ানা তা কিন্তু ভুল। আরেকটা হচ্ছে শৃঙ্খলার কথা, ডিসিপ্লিন। বারবিয়ানা স্কুল কিন্তু কঠোর শৃঙ্খলার কথা বলে। মারধোরের শৃঙ্খলা নয়, ভেতরের শৃঙ্খলা।
এক শিক্ষিকা শ্রোতাঃ (সরি, দিদি, আপনার নামটাও পাইনি।) বইটাতে আছে যে ছাত্রটি নিজে পড়ছে সেই পরবর্তীতে শিক্ষক হচ্ছে, সে বলছে যে আমি একটা অংক করতে পারছি না, সেটা যারা আমার কাছে করছে অংকটা, তাদের খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে, যে আমিও তাদেরই মত। মানে সবার ক্ষেত্রে এক রকম হওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে পারফেক্ট সেই তো, যে ওই অংকটা একবারেই করে দিচ্ছে, তা আপনি যে বললেন, শিক্ষক হতে হবে যে খুব কঠোর প্রশিক্ষ্ণণের মধ্যে দিয়ে, দুটো কথা মিলছে কি?
সলিলদাঃ না, আপনি যেটা বলছেন সেটা ঠিকই, যে বারবিয়ানা স্কুল বলছে সবাই মিলে চেষ্টা করে করে, যে পিছিয়ে আছে তাকে নিয়ে এগোতে হবে, সেওতো একজন শিক্ষক, এটা হওয়া উচিত। কিন্তু আমি বলছি যিনি শিক্ষকতাকে জীবিকা হিসেবে নিয়ে দায়িত্ব হিসেবে নিয়ে কাজ করতে আসবেন, তার যে প্রশিক্ষণ সেখানে কোন সমঝোতা চলবে না। এইটা বারে বারে বলা হচ্ছে।
সুমিতাঃ না, আমি একটু বলতে পারি, উনি যা বলছেন, সে আসলে ছাত্রই, মানে আসলে সেখানে ছাত্ররা নিজেরা মিলে অঙ্কটার উত্তর বের করার চেষ্টা করছে। সে কিন্তু প্রশিক্ষিত শিক্ষক নয়। আর সলিলদা যার কথা বলছেন ইনি, হচ্ছেন মানে শিক্ষকতাকে জীবিকা হিসেবে নিচ্ছেন। তার প্রশিক্ষণের কথা বলছেন।
সলিলদাঃ কাজেই, এখন শ্রমজীবী বিদ্যালয়ের ছাত্রদের আমরা একটা পথ করে দিচ্ছি, এটা তুমি হতে পারো, তুমি মাধ্যমিক পাশ করে, কয়েকটা অপশন পেতে পারো।
এক শিক্ষিকা শ্রোতাঃ আমার এখানেও একটা বক্তব্য আছে, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ বলতে আমরা কী বুঝছি?
সলিলদাঃ বলছি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ... ...
এক শিক্ষিকা শ্রোতাঃ আমরা যখন শিক্ষক হিসেবে জয়েন করছি আমরা দেখছি যে বি এড ট্রেনিং নিতে হচ্ছে, কিন্তু সেখানে আদৌ কি কিছু আমরা শিখছি?
অন্য একজনঃ এটা তো ফর্ম্যাল স্কুলের জন্য।
সলিলদাঃ বারবিয়ানাতে কিন্তু ফর্ম্যাল শিক্ষকদের কথাই বলা হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কিন্তু সেই প্রশিক্ষণটা, আপনি যেটা বলছেন, যে ওই বি এড, ইত্যাদি। বি এড-টা তো কোন প্রশিক্ষণই নয়। ওটা তো, একটা ফালতু অকাজের জিনিস। বেকার। ইটালিতে, সেই সময়কার ইটালিতেও, বা অন্য ইউরোপিয়ান দেশে, আমেরিকায় শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণটা হয় সেটা কিন্তু খুব ভাল প্রশিক্ষণ (প্রচলিত শিক্ষার আদর্শ অনুযায়ী) হয়। সেটা এই বি এড-এর মত একেবারই নয়।
আমার মনে আছে ছোটবেলায় একটা ছড়া পড়েছিলাম,
আশা মোদের সব ফুরালো পড়তে এসে বিটি
টাকার লাগি হয় পড়িতে ইন্সটিংকট হেরিডিটি

তো ইন্সটিংকট আর হেরিডিটি সম্বন্ধে যা একটু আধটু দেখেছি ওতে তা ভীষণ ভয়াবহ। আর যা কিছু পড়তে বলা হয়, তার একটাও স্কুলে প্রয়োগ করা হয় না। ধরুন, আমি সব ছাত্রদের বলছি তোমরা কেউ ক্লাস কামাই করবে না, বলে আমি একটা ক্লাসে আড়াইশো ছেলেমেয়ে ভর্তি করলাম, করে, একশ জনের বসার ব্যবস্থা করলাম। তার মানে আমি কি, আমি তো বলে দিচ্ছি যে দেড়শ’ জন এসো না। তারপরে তাদের আমি পারসেনটেজের জন্য পরীক্ষায় আটকাচ্ছি। মানে...আগে থেকে তৈরি একটা...প্রহসন, হ্যাঁ। প্রহসন, একদম।
এইখানে ওই আবার একটা ভাবনা, যে ভাবনার কিন্তু আবার বিপদ আছে, ......আমি যেই মুহুর্তে তাদের একটা ট্রেনিং এর জায়গায় নিয়ে গেলাম, ডক্টর’স অ্যাসিস্ট্যান্ট হবে, বা নার্স হবে, বা এইটাই তাকে আমি শেখাতে শুরু করলাম, তাহলে কি আমি শিক্ষা একটু সংকোচন করলাম না?
যে ছেলেটা পুরুলিয়াতে থাকে, আমি যদি বলি, যে তাকে সমুদ্র বা অ্যান্টার্টিকা সম্পর্কে কিছু শেখানোর দরকার নেই, তাহলে তো নিশ্চিত ভাবে আমি তার শিক্ষাকে সংকুচিত করলাম।

(চলবে।) বাকিটা শুনে শুনে লিখে দিচ্ছেন সুনন্দা। ১২ তারিখের পর আবার এখানে দেবো।


228 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন