Sarit Chatterjee RSS feed

Sarit Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পেরেক

Sarit Chatterjee

পেরেক
সরিৎ চট্টোপাধ্যায় (গল্প)

আচমকা এক পশলা বৃষ্টি এসে চুব্বুর করে ভিজিয়ে দিল দু'জনকে।
প্রিন্সেপ ঘাট। বিকেল পাঁচটা। লোকজনের ভিড় কমে এসেছে। হঠাৎ রিমি হেসে উঠল, এই, এবার চল তো, নাহলে এবার পুলিশ এসে ঘাড় ধরে তুলে দেবে!
- ইল্লি! মামারবাড়ি আর কি! ইউ আর নাও মাই ল-ফুলি ওয়েডেড ওয়াইফ অ্যান্ড, রাইট নাও আমার একটা চুমু খেতে খুব ইচ্ছে করছে।
- এই না! ধ্যাৎ। অসভ্যতা কর না, লোক রয়েছে।
- বিয়ের চারমাসের মধ্যেই সব প্রেম বাষ্প হয়ে গেল ম্যাডাম? ছাতাটা বার কর না -
- হ্যাঁ, কী শখ! এতক্ষণ সপসপে ভিজে এখন ছাতার তলায় --! বাড়ি চল।
- নো ওয়ে। বৌকে অনেক আদর করেছি, নাও আই ওয়ান্ট মাই প্রেমিকা ব্যাক। কাছে এস।

জেমস সাহেবের স্মৃতিসৌধর অনতিদূরে চাইনিজ ছাতার আড়ালে এক অন্য স্থাপত্যশিল্পের সন্ধানে মেতে ওঠে দু'জনে।
কিছুক্ষণ পর মুখ সরিয়ে নিয়ে প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে রিমি বলে, ছিঃ, এটা একজিবিশনিজম।
- হোক গে যাক। বাট ইটস্ ড্যাম এনজয়েবল!
- অনি, দু'জন কমপ্লিটলি লজিকাল মানুষ একসাথে এরকম পাগলামি কিভাবে করতে পারে তাই ভাবছি।
- মস্তিষ্কে কিছু অনিষ্পন্ন রাসায়নিক অবিমিশ্র প্রতিক্রিয়ার যোগফল বোধহয়।
- কী?
- কেমিকাল লোচা, নিজের মাথার দিকে আঙুল দিয়ে দেখায় অনির্বাণ।
- তুমি এরকম বোম্বাস্টিক বাংলা কী করে শিখলে বল তো? পড়েছ তো ওই ট্রিগনোমেট্রি আর ক্যালকুলাস!
- আমার প্রথম প্রেমিকা বাংলায় কবিতা লিখতেন।
- কী সব্বনাশ! তারপর?
- বেকায়দায় পড়ে আবার সহজপাঠ থেকে শুরু করলাম।
- তা, কতদূর গড়িয়েছিলেন সেই সহজ পাঠ?
- এখন কানেক্টিকাট-এ থাকেন। নির্ভুল ইয়ানকি অ্যাক্সেন্টে বাংলা বলেন।
- যত্তসব পাগল!
- আমার ছোট থেকেই ধারণা সব মানুষই কম-বেশি পাগল, বা অন্তত আংশিক ছিটগ্রস্ত।
- মোটেই না।
- যেমন ধর আমার বাবা।
- ধ্যাৎ, বাবার মধ্যে আবার কী পাগলামি দেখলে? একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ!
- আপাতদৃষ্টিতে তাই।
- তার মানে?
- সবে তো চারমাস এসেছ ম্যাডাম, কিছু জিনিস ওই ক্রমশ প্রকাশ্য হলেই ভাল।

রিমি শ্বশুরবাড়িতে খুব খুশি। বাপ-ছেলের সংসারের হাল ফিরিয়ে দিয়েছে ও এই ক'মাসে। অনি'র মা ও ছোট থাকতেই মারা যান। রুদ্রালোক একা হাতে মানুষ করেছেন ছেলেকে। উনি কলেজে ফিজিক্স পড়ান। শান্ত ছোটখাটো চেহারার মানুষটা প্রথম দিন থেকেই রিমিকে কীভাবে যে আপন করে নিয়েছে, বলে বোঝানো যায় না। চুলবুলে ছটফটে রিমি আজ পুরোদস্তুর গৃহিণী। ক'মাস আগের স্বাধীন উশৃঙ্খল জীবন আর তার মনেই পড়ে না। আসলে সব মেয়ের মধ্যেই হয়ত এই নিজের সংসার করার ইচ্ছেটা থাকে। শাশুড়ির সংসারে তাই এসে ভিড় করে মনমালিন্য, টানাপোড়েন। শাশুড়িও তো মেয়ে।
রিমি জানে ও আজকালকার আধুনিক মেয়েদের মত নয়। ও জানে ও সাধারণ। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের শ্যামলা রঙের বৈশিষ্টহীন মধ্যমেধার এক মেয়ে। অনি কলেজে ওর চেয়ে দু'ব্যাচ সিনিয়র ছিল। প্রায় ছ'ফুট লম্বা সুদর্শন বয়ফ্রেন্ডের পাশে ওকে যে কতটা বেমানান লাগত রিমি বুঝত। গোড়ার দিকে কিছু দ্বিধা সংশয় ওকে সহজ হতে দিত না। পরে বুঝত সেটা ছিল শুধুমাত্র ওর নিজের ইনসিকিউরিটি।
দু'কামরার ছোট ফ্ল্যাটটাকে ঘিরে এক অদ্ভুত মায়ার জগত গড়ে নিয়েছে রিমি। কেউ কিছু বলে নি। মাসখানেক পর কারো মনেই পড়ত না এই পরিবারটা আগে কী করে চলত। রুদ্র প্রথম কয়দিনের পর পরম সোয়াস্তির সাথে ফিরে গেছিল তার নিজস্ব দুনিয়ায়। তার খবরের কাগজ, কলেজ আর অল্প লেখালিখি নিয়ে সে সন্তুষ্ট।

ইদানীং রিমি খেয়াল করেছে অনি আর রুদ্র পরস্পরের সাথে খুব অল্পই কথা বলে। এতগুলো বছর কি ওরা এভাবেই কাটিয়েছে? দুটো তো মানুষ; কী করে থাকে ওরা বাপু কথা না বলে!
একদিন রাতে কথাটা নিজেই তোলে রিমি। খাওয়ার পর অনি অফিসের ল্যাপটপটায় কিছু কাজ নিয়ে বসেছিল। রিমি পোশাক পাল্টে বিছানায় এসে বসে।
- আচ্ছা অনি, সেদিন হঠাৎ বললে কেন যে বাবার --
- কী? আমি আবার কী বললাম? স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই অনির্বাণ বলে ওঠে।
- ওই যে বললে, ছিট আছে!
- ও! ও এমনি।
- ধ্যাৎ, অমন কথা কেউ এমনি এমনি বলে নাকি? আচ্ছা, তোমরা দু'জনে এত কম কথা বল কেন?
- বোধহয় জেনেটিক প্রবলেম।
- মোটেই না। আমার সাথে বাবা কত গল্প করে। আর তুমি তো কথার আণ্ডিল। শুধু নিজেরা --
- জানি না রিমি। ছোট থেকেই বাবা কাজের কথা ছাড়া খুব একটা কিছু বলে না। আমরা বোধহয় এতেই অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
- আর ওই ছিট?
- পেরেক।
- পেরেক?
- বাবা মাঝেমধ্যে মেঝেতে পেরেক ঠোকে।
- কেন?
- জানি না। রোজ না, মাঝেমাঝে। কখনো মাস, কখনো বা দু'মাস পর হঠাৎ একদিন একটা তিন ইঞ্চি পেরেক হাতুড়ি দিয়ে শোওয়ার ঘরের মেঝেতে ঠুকে ফেলে।
- সেকি!
- তুমি খেয়াল কর, কিছু না হলেও দু'শো পেরেক পোঁতা আছে বাবার ঘরে।
- তুমি কখনো জিজ্ঞাসা কর নি?
- না। ওই সময় বাবার মুখটা কেমন যেন থমথমে হয়ে যায়। আমি বহুবার আড়াল থেকে দেখেছি।

পরদিন রুদ্র কলেজে বেরোনোর পরই রিমি ছুটে যায় ওর ঘরে। জানলা দিয়ে একফালি রোদ এসে পড়েছিল খাটের পাশে। আলোর ছোঁওয়ায় চিকচিক করছিল পেরেকের মাথাগুলো। অথচ এর আগে কখনো চোখে পড়ে নি রিমির। মোজায়েক করা মেঝের নকশার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে শ'য়ে শ'য়ে ধাতব বিন্দু।
মেঝের ওপর বসে পড়ে রিমি। হাত রেখে অনুভব করে নীরব রাতের অবশেষ শৈত্য। কত শত রাতের স্মৃতি লুকিয়ে আছে এদের মাঝে? কী এমন কারণ থাকতে পারে!
সেদিন আর কাজে মন বসে নি রিমির। রাতে খেতে বসে আড়চোখে বারবার সে তাকাচ্ছিল রুদ্রর মুখের দিকে। খুঁজছিল কিছু সংকেত, এই অদ্ভুত রহস্যের কোনো এক ব্যাখ্যা।

পরদিন মা'র সাড়ে দশটা নাগাদ ফোন এলো। রোজ ওই সময়ই করে। আজ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ মা প্রশ্ন করে উঠল, কী হয়েছে রে রিমি?
- কই, কিছু না তো।
- তখন থেকে হুঁ হাঁ করে যাচ্ছিস, কিছু একটা হয়েছে। বল আমায়!
- একটা কথা বলবে মা? মেঝেতে পেরেক ঠোকে কেউ কখনো দেখেছ?
- মানে?
- মানে আমিও জানি না। বাবা, মানে অনি'র বাবা মাঝেমাঝে মেঝেতে পেরেক ঠোকেন।
- সেকি রে! কেন?
- জানি না। ও বলল বহুবছর ধরেই নাকি এমন করেন।
- কী অদ্ভুত!
- আমি তো কাল থেকে আর কিছু ভাবতেই পাচ্ছি না। অথচ অনি হেসে উড়িয়ে দিল ব্যাপারটা। বলল, সব মানুষেরই নাকি মাথায় একটু-আধটু অমন ছিট থাকে।
- মানুষ মারা গেলে মাটিতে পেরেক ঠোকা হত।
- কী বলছ!
- হ্যাঁ রে, আমি দেখেছি। শেষবার যেখানে শরীরটা রাখা হয়, ওই মাথার কাছে মেঝেতে একটা পেরেক পোঁতা হত। তোর শাশুড়ি --
- কিন্তু, তা বলে বছরের পর বছর --!
- কিছু কারণ হবে হয়ত। তুই এসব মাথা থেকে বার করে দে।
- আমি একবার জিজ্ঞেস করি, বাবাকে?
- খবরদার না। কী দরকার? সবারই তো কিছু যায়গা থাকে, নিজস্ব।

সমাপতন ব্যাপারটা রিমি বিশ্বাস করে। তাই সেদিন রাতে যখন কথার পিঠে ঠিক এই কথাটাই অনির্বাণ বলল খুব একটা অবাক হল না। সোহাগ পর্ব চলছিল। দিনের শেষে এই সময়টুকু সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দেয়। বরের কাছটিতে ঘেঁসটে বসে রিমি বলছিল, তুমি ছোটবেলায় খুব ভাল ছাত্র ছিলে, তাই না?
- কী করে জানলে?
- বাবা বলছিল। আচ্ছা, রোজ সকালে ঘুম থেকে তুলে চান করানো, খাওয়ানো, স্কুলে পাঠানো - সব বাবা করে দিত?
- সব। একা হাতে। বাবা রান্নাবান্না বিশেষ জানত না। সকালে, ভাত ডাল আলুসেদ্ধ ছিল আমাদের স্ট্যান্ডার্ড খাবার। রোববার বা ছুটির দিন বাবা রুটি মাংস কিনে আনত।
- আর পড়ানো?
- বাবা। খুব যত্ন নিয়ে পড়াত। কিন্তু জান, কখনো রিপোর্ট কার্ড ভাল করে পড়েও দেখত না।
- এখনো আছে, ওগুলো?
- দু-একটা থাকতে পারে। তবে আমি ডায়েরিতে সব লিখে রাখতাম।
- তুমি ডায়েরি লিখতে? আমি পড়ব!
- আরে ধুর! ওতে তেমন কিছু নেই। কচি মনের কচকচানি।
- হোক গে! আমি পড়ব।
- রিমি, সবারই তো একটা নিজস্ব যায়গা থাকে, থাকা দরকারও, তাই না?
- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও? মুখটা কেমন যেন হয়ে যায় রিমির। অনির্বাণ সেটা খেয়াল করে। হেসে বলে, তুমি জান তো তুমি একটি ভিক্টোরিয়ান যুগের মডেল? জাস্ট দেড়'শ বছর লেট জন্মেছ।
- বেশ করেছি। রিমি গোমড়া মুখে বলে।
- নারীবাদীরা দেখলে শিওর কেস খাবে কিন্তু।
- ওগুলো সব আপদ। কথা ঘুরিও না, তুমি আমায় ওগুলো দেবে কিনা বল?
- কী হবে পড়ে? স্কুল ছাড়ার আগেই লেখা-টেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম।
- আমার চাই, ব্যস!
- আচ্ছা, এই যে বরের ওপর জুলুম করা - এটারও কি তোমরা ট্রেনিং নাও?
- উঁহু, ওটা জেনেটিক। বলেই খিলখিল করে হেসে ওঠে রিমি। দাঁড়াও, দেখাচ্ছি তোমার জেনেটিক্স, বলে অনির্বাণ এক ঝটকায় কাছে টেনে নেয় ওকে।
অনেকটা সময় পর, তৃপ্ত পরিশ্রান্ত অনির্বাণের চোখে তখন ঘুমের আবেশ নেমে এসেছে। ওর বুকের কাছে মাথা রেখে নিঃশ্বাসের ওঠা পড়া থেকে রিমি বুঝতে পারে ও ঘুমিয়ে পড়েছে। এক অদ্ভুত অনুভূতি হয় রিমির ভেতরে। সেই মুহূর্তে অনুভব করে, এক নতুন অতিথ যেন আশ্রয় নিলো তাদের মাঝে। এক বিষণ্ণ ভাল লাগার দোলাচলে ভাসতে থাকে রিমি। সেদিন ঘুমটা ভাল হয় না। ভোররাতে স্বপ্ন দেখে রিমি, রুদ্র খবরের কাগজ পড়ছেন, আর একটা পেরেক নিয়ে সেটার বিভিন্ন জায়গায় ছোঁয়াচ্ছেন। আর ছোঁওয়াতেই জায়গাগুলো পুড়ে গিয়ে এক একটা গর্ত তৈরি হচ্ছে।

পরদিন অফিসে বেরোনোর আগে কুলুঙ্গি থেকে একটা টিনের বাক্স নামিয়ে রিমির হাতে তুলে দিল অনি। আমার শৈশব, বলে ও হাসল ঠিকই তবু কোথায় যেন একটু বেসুরো ঠেকল রিমির।
তিনদিন লাগল রিমির সবক'টা ডায়েরি শেষ করতে। ডায়েরি বলতে স্কুলের পুরনো খাতা। পড়ার সময় ও যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিল। খুব চেনা কারোর অচেনা জীবন পাতায় পাতায় অক্ষরে অক্ষরে পরতে পরতে মিশে আছে। কাঁচা হাতের লেখা ধীরে ধীরে পাল্টাচ্ছে। প্রথম দিকে শুধু তারিখ আর ছোট্ট কোনো এক ঘটনা। স্কুলের রেজাল্ট। কিছু পাতা ফাঁকা। কিছু পাতায় শুধু তারিখ আর একটা তিরের চিহ্ন। পরে, নিজের কিছু ভাবনা, কিছু অভিজ্ঞতা। রিমির চোখের সামনে এক মুখচোরা শৈশব ক্রমশ পরিণত হয়। জন্ম নেয় এক আত্মবিশ্বাসী তরুণ।

রুদ্র লক্ষ করে রিমির অন্যমনস্ক হয়ে থাকা। তৃতীয় দিন আর থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে রিমি? শরীর খারাপ?
- না বাবা।
- কিছু একটা হয়েছে। আমায় বলে দেখতে পার।
- বাবা, মানুষ খুশি কিসে হয়?
- সে যা চায়, তা পেলে পরে।
- যদি সেটা না পায়, তাহলে? সে খুশি থাকতে পারে না?
- জীবনটা তো ঐকিক নিয়মে চলে না রিমি। এক জায়গার নিরাশা অন্য জায়গায় ভাল কিছু হলে মন ভাল করে দেয় বৈকি।
- আর যদি কারো জীবন একরঙা হয়?
- সমূহ বিপদ মা। শুধু যে দুঃখ পাবে তা না, লোকে যেই বুঝবে ঠিক ওই ব্যাপারে ব্ল্যাকমেল করবে।
- তাহলে উপায় কী?
- হয় নিজেকে অনেকগুলো মাত্রায় ছড়িয়ে দাও, আর নাহলে ওই একজনকে অতটা ভালবেসো না।
- তা কি হয়, বাবা? কেউ কি হিসেব কষে ভালবাসে?
- বাসে না। তাই তো এত কষ্ট সংসারে।

রুদ্রর কথাগুলো সারাদিন ভাবতে থাকে রিমি। তাহলে কি বাবা নিজেই সেই ভুল করেছিল? রিমি শাশুড়ির ছবি দেখেছে, খুব সুন্দর দেখতে ছিলেন। আচ্ছা, কী হয়েছিল ওনার? কী অসুখ করেছিল? ও কি অনিকে জিজ্ঞেস করবে একবার? অদ্ভুত, ডায়েরিতে মায়ের কোনো উল্লেখই নেই!

এই ক'দিনে আর ডায়েরিগুলোর কথা ওঠে নি। আজ অনির্বাণ নিজে থেকেই প্রশ্ন করল, কি, পড়া হল?
- হ্যাঁ।
- কী বুঝলে? বলেছিলাম তো ওতে কিস্সু নেই।
- তোমাকে আরেকটু চিনলাম, রিমি হেসে বলে।
- আর?
- আর কী? নিজেই তো বললে কিছু নেই।
অনির্বাণ কয়েক মুহূর্ত কী যেন খোঁজে রিমির চোখে, তারপর কথার মোড় ঘোরাতে বলে, ছাড়, বল আজ রাতে কী খাওয়াচ্ছ?
- কাঁচকলা; তারপর ওর মুখটা দেখে হিহি করে হেসে যোগ করে, কোপ্তা।
- জি রান্নাঘরের রেসিপি?
- উঁহু, তোমার মা'র রেসিপি।

চমকে ওঠে অনির্বাণ। বহুবছরের যত্নে গড়া কবচটা এক অসতর্ক মুহূর্তে ভেঙে খান খান হয়ে যায়। ও ছিটকে সরে গিয়ে পড়ার টেবিলে দু'হাতে ভর দিয়ে মাথা নিচু করে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। ওর গোটা শরীর তখন এক জ্বরগ্রস্ত রুগীর মত কাঁপছে। রিমি ভাবতেই পারে নি এমন কিছু হতে পারে। ছুটে গিয়ে ও অনির্বাণকে জড়িয়ে ধরে। অজান্তেই রিমি কাঁদছে। কিছু না জেনেও ও বুঝতে পারে যে ভয়ানক কিছু একটা হতে চলেছে। কোনরকমে অস্ফুট স্বরে ও বলে, কী হয়েছে অনি, প্লিজ, আমায় বল?
অনি'র শরীরটা শক্ত হয়ে যায়। ওর মুখের খুব কাছে এসে রিমি আবার বলে, প্লিজ!
- আমার মা'য়ের রেসিপি তুমি কোথায় পেলে?
এই কণ্ঠস্বর রিমির একেবারেই অচেনা। ঢোঁক গিলে ও বলে, ডায়েরির একটা পাতায় লেখা ছিল।
- একবার দেখাবে?
রিমি দৌড়ে গিয়ে খাতাটা নিয়ে এসে ওর হাতে দেয়। অনির্বাণ অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে তুঁতে রঙের অক্ষরগুলোর দিকে। আর রিমি তাকিয়ে থাকে ওর চোখের দিকে।
- কী হয়েছিল মা'র?
- কার অ্যাকসিডেন্ট।
- সেকি! কিভাবে?
- জানি না। মনে নেই কিছু।
রিমি স্পষ্ট দেখতে পেল দেওয়ালটা আবার উঠে আসছে। এক মুহূর্তের জন্য আর কিছু বলবে না ভেবেও অজান্তেই কথাগুলো মুখ ফসকে বেরিয়েই গেল, তুমি সব জান, শুধু আমায় বলতে চাও না!
দেওয়ালটা সম্পূর্ণ হল। কয়েক সেকেন্ড ওর চোখের দিকে তাকিয়ে ডায়েরিটা ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে অনির্বাণ হঠাৎ হেসে বলল, সত্যিই মনে নেই রিমি। বড্ড খিদে পেয়েছে। কিছু দাও না।

সম্পর্কে কখনো কিছু সন্ধিক্ষণ এমন হয়ত আসে যা স্থায়ী একটা ছাপ ছেড়ে যায়। শত চেষ্টাতেও আর ফিরে পাওয়া যায় না অতীতের সারল্য। না চাইলেও আসে। রিমি বুঝেছিল অনির্বাণের অতীত তার জন্য নিষিদ্ধ। সেখানে সে বাইরের লোক।

কয়েকদিন পর এক ছুটির দিনে অনির্বাণ একটা বই পড়ছে। রিমি মাংসটা প্রেশারে চাপিয়ে হাতটাত ধুয়ে পাশে এসে বসে। অনির্বাণ বইটা নামিয়ে আড়মোড়া ভেঙে বলে, যাই বল, মাংস না হলে কি আর রোববার হয়? বেশ গন্ধ ছেড়েছে কিন্তু!
- রেওয়াজি খাসি। রিমি মুখ টিপে হাসে।
- বল বল। কোন বাঙালি পুরুষের বিয়ের পর ওজন বাড়ে নি দেখাও আমায়! সব তোমাদের চক্রান্ত!
- ইস্! তোমায় মোট্টেও বলি নি। রিমি হাসতে থাকে।
- তোমায় আজ অন্যরকম দেখাচ্ছে।
- কিরকম?
- কেমন যেন --, সামথিং ডিফারেন্ট।
- গ্যাসের সামনে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলে ওরকম দেখায়। বাকি দিন তো আর দেখতে পাও না!
- নেক্সট সানডে - আই উইল কুক মাদাম!
- রক্ষা কর! তার চেয়ে বল তো, ডায়েরির ওই তির চিহ্নগুলোর মানে কী?
- তুমি এখনো ওগুলো নিয়ে --! আচ্ছা বলছি। কিছু দিন বাবা যেদিন ওই পেরেক পুঁতত আমি লিখে রাখতাম। একটা প্যাটার্ন খোঁজার চেষ্টা করতাম। তারপর, মাথা-মুণ্ডু কিছু খুঁজে না পেয়ে আর লিখি নি।
- প্যাটার্ন আছে।
- মানে?
- আমি খানিকটা আন্দাজ করেছিলাম ব্যাপারটা। প্রথমে চোখে পড়ে নি। কিন্তু একটা ডেফিনিট প্যাটার্ন আছে।
- কিরকম? অনির্বাণ সোজা হয়ে উঠে বসে।
- তোমার প্রতিটা রেজাল্ট, ট্রফি জেতার পরের পাতায় ওই চিহ্ন আছে।
- ইম্পসিবল! দেখাও আমায়!

রিমি সব ডায়েরিগুলো নিয়ে আসে। অনির্বাণ পাতার পর পাতা উল্টে যায়, রিমি আঙুল দিয়ে দেখাতে থাকে। এক সময় দেখা শেষ হয়। দু'জনে চুপ করে বসে থাকে। শেষে, রিমি বলে ওঠে, কিছু বল অনি!
- বলব রিমি। তবে এখনই বলব না। একটু ভাবতে দাও।
প্রেশার কুকারের সিটিটা বেজে ওঠে। রিমি আর কিছু না বলে উঠে যায়।

বিকেলের চায়ের কাপ হাতে রিমি রুদ্রর ঘরে ঢোকে। বলে, বাবা, চা।
- দাও, বলে কাপটা হাতে নেয় রুদ্র। রিমি নিজের কাপটা হাতে নিয়ে একটা চেয়ারে বসে। এই বিকেলের চা হল ওদের আড্ডার সময়। সাধারণত অনি'র ফিরতে দেরি হয়। আজ যদিও বাড়িতে, তবে এখনো দুপুরের ভাতঘুম চলছে।
রিমি হঠাৎ বলে ওঠে, বাবা, তুমি গাড়ি চালাতে পার?
- না মা। গাড়ি থাকলে তো শিখব।
- তাহলে মা অ্যাকসিডেন্টে --!
কথাগুলো বলা মাত্রই রিমি বুঝতে পেরে চুপ করে যায়। রুদ্র'র হাতটা সামান্য কেঁপে ওঠে, কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয় সে। তারপর চায়ের কাপে ধীরেসুস্থে এক চুমুক দিয়ে নিজের মনেই হেসে মাথা নাড়ে। রিমির ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখটা দেখে কপট রাগ দেখিয়ে বলে ওঠে, গোয়েন্দাগিরি হচ্চে?
- না না বাবা! ও সেদিন বলল --, তাই --
- মজা করছিলাম মা। তুমি জানবে সেটাই তো স্বাভাবিক। তোমার জানার একশবার অধিকার আছে। বল, কী জানতে চাও?
- মা'র কী হয়েছিল?
- উনি সেদিন ওনার বন্ধুর গাড়িতে ছিলেন। অ্যাকসিডেন্টে দু'জনেই মারা যান।
- বন্ধু?
- তার বেশিই হয়ত কিছু ছিলেন। তবে আমি জানতাম না।

অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে রিমি মানুষটার দিকে। নিশ্চিন্তে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। মুখে কোনো কষ্টের লেশ মাত্র নেই। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ও আবার জিজ্ঞেস করে, অনি এসব জানে না, না?
- বোধহয় জানে। তখন ওর পাঁচ, খুব ছোট তো ছিল না। তবে আমাদের এ নিয়ে কখনো কথা হয় নি। বড় হয়ে নিশ্চয়ই বুঝেছে। হয়ত বা চেনাশোনার মধ্যে কেউ কখনো কোনো ইঙ্গিত দিয়েছে।
- অদ্ভুত! এত বছরে একবারও তোমরা --!
- কী লাভ হত বল? ও বেশ সুস্থভাবেই বড় হয়েছে। সেদিকে আমি লক্ষ রেখেছি।
- আর এই পেরেক?
হাহাহাহা করে হেসে ওঠে রুদ্র। হাসতে হাসতে চোখে জল এসে যায়, তবু হাসতে থাকে। রিমি রীতিমত ঘাবড়ে যায়, উনি সত্যি পাগল নন তো? শেষে রুদ্র কোনরকমে হাসি থামিয়ে বলে, আজ পাঁচমাস ধরে ভয়ে ভয়ে আছি রিমি, কবে তুমি এই প্রশ্নটা করবে ভেবে। আমি কিন্তু তোমাদের বিয়ের পর আর একটাও পেরেক পুঁতি নি।
রুদ্র'র হাসিটা এতই সঙ্ক্রামক ছিল যে রিমিও হেসে ফেলে। তারপর বলে, আমি এই দুমাস হল লক্ষ করেছি বাবা। আর কারণ ভেবে ভেবে পাগল হয়ে যাচ্ছি!
ধীরে ধীরে রুদ্র'র হাসিটা থেমে যায়। রিমির মুখের দিকে তাকিয়ে বোধহয় নিজের মনেই কিছু ভাবতে থাকে। তারপর খুব শান্ত গলায় বলে, মানুষ যতই ভাবুক সে নিজেকে চেনে, ততই জীবন তা'কে চমকে দেয়। আমার খুব অহংকার ছিল জান, ভাবতাম খুব বুদ্ধি আমার। সব কিছু মেটিকুলাসলি প্ল্যান করে চলতাম সেই স্কুলে পড়ার দিন থেকেই। তারপর কলেজ, চাকরি, সুন্দরী পাত্রী দেখে বিয়ে - কোথাও আটকাই নি। ভুলটা কোথায় হল জান, সেদিন বলছিলাম না, জীবন একমাত্রিক হলে পরেই বিপদ; সেটাই হল। বড্ড ভালবেসেছিলাম।
- ইস্! ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে আমার।
- জানি। আমি একটু আগে একটা অর্ধসত্য বলেছিলাম মা। তোমার শাশুড়ির মৃত্যুর আগে অবধি সত্যিই আমি কিছুই বুঝতে পারি নি। কিন্তু তারপর সবই জানতে পারি। ওদের সম্পর্ক বিয়ের বহু আগে থেকেই ছিল। তোমার শাশুড়ির নিজের ছোট ভাই ছিল সে।

স্তম্ভিত বাকরুদ্ধ রিমি তাকিয়ে থাকে রুদ্র'র মুখের দিকে। কানে যা শুনছে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না। রুদ্র বিছানা থেকে নেমে জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কিছুক্ষণ বাইরে তাকিয়ে থাকে। তারপর রিমির দিকে পিছন ফিরেই আবার শুরু করে এতদিনের পাথর চাপা ইতিহাস।
- ওর বাড়িতে সবাই জানত। লুকিয়ে বিয়ে দিয়েছিল। প্রত্যেকে নিখুঁত অভিনয় করে গেছিল অতগুলো বছর। কিন্তু সে ঘটনাও আমি মেনে নিয়েছিলাম। যেটা মানতে পারি নি - আজও মেনে নিতে বুক ফেটে যায় সেটা হল তোমার স্বামী, আমার সন্তানের জন্মের সত্য। নরাণাং মাতুলক্রমঃ! হাঃ! যত বড় হয়েছে তত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দু'জনের চেহারার সাদৃশ্য। যতবার ওর মুখের দিকের তাকিয়েছি আরেকজনের মুখ ভেসে উঠেছে চোখের সামনে। যতবার ও ক্লাসে টপ করেছে, যতবার ও মেডেল নিয়ে এসেছে - -!
- ততবার পেরেক!
চকিতে ঘুরে দাঁড়ায় রুদ্র, নিঃশ্বাস ফুলছে, নাকের পাতা ফুলে উঠেছে, চোখদুটো সরু করে রিমিকে যেন বিঁধে ফেলতে চায়।
- কী করে জানলে?
- অনি'র ডায়েরিতে --, তারিখগুলো --
রিমি থেমে যায়। রুদ্র'র চোখের পাতা শুধু কেঁপে ওঠে কয়েকবার। তারপর ধীরে ধীরে, ওর চোখের সামনেই আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে রুদ্র। একটা ম্লান হাসি ঠোঁটের এক কোণে দেখা দেয়। আবার স্বাভাবিক গলায় বলে, হ্যাঁ, ওটা তোমার ওই প্রেশার কুকারের সিটির মত। নাহলে, কোনদিন হয়ত দুম করে ফেটে যেতাম।
- কিন্তু তুমি অনিকে -- , মানে তোমার তো আর কোনো দায় ছিল না সেদিন --
- তা কী হয় নাকি! পাঁচবছর আমি তো জানতাম ওই আমার ছেলে। কী যে বল তুমি রিমি --
- অনি কিন্তু এসব কিচ্ছু জানে না।
- জানার প্রয়োজনও দেখি না মা। এটা নাহয় তোমার আমার মধ্যেই থাক না।

সেদিন রাতে রিমি ঘুমন্ত অনির্বাণের মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। সে জানে তার শরীরের মধ্যেও আজ একজন বড় হচ্ছে। একটা অদ্ভুত অনুভূতি ঘিরে ধরে ওকে।
মনে মনে নিজেকেই বলে, যা হয় হবে, অতশত হিসেব করে আমি ভালবাসতে পারব না।
মুখটা নামিয়ে অনি'র কপালে আলতো করে একটা চুমু খায় রিমি।

-------------------০-------------------

396 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: আরিব্বাস

Re: পেরেক

অন্যরকম লেখা
Avatar: dd

Re: পেরেক

ইয়েস। ধাক্কা দেওয়া লেখা।
Avatar: dc

Re: পেরেক

ভালো লাগলো।
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: পেরেক

ধন্যবাদ। 😊
Avatar: d

Re: পেরেক

হুঁ গল্পটা ধাক্কা দেওয়া।
Avatar: ranjan roy

Re: পেরেক

বেশ অন্যরকম, ভাল লেখা।
Avatar: রৌহিন

Re: পেরেক

খুব ভালো লাগলো
Avatar: ঝর্না

Re: পেরেক

অসম্ভব ভালোলাগল "পেরেক" গল্পটা...
Avatar: AS

Re: পেরেক

এক্দম অন্যরকম খুব ভালো লাগল
Avatar: Titir

Re: পেরেক

অন্যরকম লেখা। বেশ লাগল।
Avatar: Sarit Chatterjee

Re: পেরেক

অনেক ধন্যবাদ
Avatar: রোবু

Re: পেরেক

ভালো লাগলো।
Avatar: সে

Re: পেরেক

গল্পটার সাবজেক্ট বাংলা সাহিত্যে এখনো নতুন/কম ব্যবহৃত। বেশ ভাল লাগল কিন্তু একটা খটকা ঐ পেরেক পোঁতা নিয়ে। হয়ত সিম্বলিত কিছু, যেমন কফিনে পেরেক মারা বা অন্যকিছু। ঐ পেরেক পার্টটা আরোপিত মনে হয়েছে, গল্পের মূল প্রসঙ্গের অবতারণা করবার জন্য যেন জোর করে পেরেক আনা হয়েছে- এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা।
Avatar: সে

Re: পেরেক

সিম্বলিক*
Avatar: d

Re: পেরেক

এই মৃতদেহ যেখানে রাখে তার মাথার দিকে পেরেক পোঁতার প্রথা আমিও দেখেছি। আমাদের বাড়ীতে নয়, কিন্তু পাড়ার কিছু বাড়ীতে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল যে মৃতের আত্মা ঐ শেষ শোয়ানো জায়গাটা থেকে সহজে যেতে চায় না, তাই ঐ লোহা পুঁতে আত্মার প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করা হয়।

সেই হিসেবে এখানে পেরেক পোঁতার সিম্বলটা আমার ঠিকই লেগেছে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন