সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...
  • দেশত্যাগ...
    আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা ...
  • পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা
    মানস চক্রবর্তীকবিতা কি বিনােদনসামগ্রী? তর্ক এ নিয়ে আপাতত নয়। কবিতা কি আদৌ কোনাে সামগ্রী? কোনাে কিছুকে পণ্য হয়ে উঠতে হলেও তার একটা যােগ্যতা দরকার হয়। আজকের দিনে কবিতা সে-অবস্থায় আদৌ আছে কি না সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। কবিতা নামে একটা ব্যাপার আছে, ...
  • হে মোর দেবতা
    তোমারি তুলনা তুমি....আজ তাঁর জন্মদিন। আমার জংলা ডায়রির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা উড়িয়ে দিলুম তাঁর ফেলে যাওয়া পথে।দাঁড়াও পথিকবর....জন্ম যদি তব অরণ্যে," সবুজ কাগজেসবুজেরা লেখে কবিতাপৃথিবী এখন তাদের হাতের মুঠোয়"(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)মহাভারত...
  • বেকার ও সমীকরণ
    'বেকার'-এই শব্দটি আমাকে আজন্ম বিস্মিত করেছে। বাংলায় লেখাপড়া শিখে, এমনকী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, সে কী বাংলায় পদার্থবিদ্যার বিদ্যা বালানীয় চর্চা! যেমন, 'ও বিন্দুর সাপেক্ষে ভ্রামক লইয়া পাই।' ভ্রামক কি রে? ভ্রম না ভ্রমণের কাছাকাছি? না, ভ্রামকের ...
  • ধানবাদের রায়বাবু
    অরূপ বসুবেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিলাম, ভাল নেই ধানবাদের রায়বাবু। অরুণকুমার রায়ের স্মিত হাসিমুখ ছবির সঙ্গে সেই খবর পড়ে অনেকেই বিচলিত হয়েছিলেন। এখন লিখতে হচ্ছে, ধানবাদের রায়বাবু আর নেই! যে খবর ইতিমধ্যেই অনেকের হৃদয়, মন বিবশ করেছে। রায়বাবু নেই, কিন্তু ...
  • চন্দ্রকান্ত নাকেশ্বর
    চন্দ্রযান-৩ যখন ফাইনালি টুক করে চাঁদে নেমেই পড়ল তখন 'বিশ্বে সে কী কলরব, সে কী মা ভক্তি, সে কী মা হর্ষ'-র মধ্যে বোম্বে ফিল্ম কোম্পানি ঠিক করল একটা ছবি বানাবে। চন্দ্রযান-১ যখন চাঁদে গেছিল, তখন একটুও ফুটেজ পায়নি। কিন্তু তারপর মঙ্গলযান নিয়ে একটা আস্ত ছবি হয়ে ...
  • পাখিদের পাঠশালা
    'আচ্ছা, সারা দেশে মোট কতজন ক্যান্ডিডেট এই পরীক্ষাটা দেয়?', লোকটা সিগারেটে একটা টান দিয়ে প্রশ্ন করলো।-'জানা নেই। তবে লাখ দশেক তো হবেই।', আমি বললাম।- 'বাব্বা! এতজন! সিট কতো ?'-'বলতে পারব না। ভাল কলেজ পেতে গেলে মেরিট লিস্টে যথেষ্ট ওপরে নাম থাকতে হবে।'-' তার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

সুকান্ত ঘোষ

ইস্কুলের সেক্রেটারীর কি মাহাত্ম্য সে বোঝার বয়স তখনো হয় নি, কিন্তু পটল বিষয়ীর মহিমা বোঝার মত বয়স হয়ে গিয়েছিল। সবে আনন্দমার্গ ইংরাজী মিডিয়াম স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে মেমারী বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে ক্লাস ফাইভে ঢুকেছি – সেক্রেটারী কি জিনিস জানা নেই – পটল বিষয়ীকে চিনি না। এমন অবস্থায় দুরদার করে চলে এল হাইস্কুলে আমার প্রথম সরস্বতী পুজো আর তখনি একদিন দুম্‌ করে সেক্রেটারী পটল বিষয়ীর ব্যাপারটা ক্লীয়ার হয়ে গেল। এক সিনিয়ার দাদা ফিসফাস করে আমাদের জানালো পটল বিষয়ীর সেক্রেটারী রয়ে যাবার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে সর্ষের তেল। আমরা জানতে চাইলাম ‘রয়ে’ যাওয়া মানে কি? দাদা বলল, আরে বোকা, গাব গাছের আঠা দেখেছিস? কোনদিন জামায় লাগিয়েছিস? ওই গাব আঠা যেমন জামায় লেগে থাকে, বারবার কাচলেও যায় না, তাকেই বলে ‘রয়ে’ যাওয়া। দাদা আরো জানালো যে তার দাদার আমলেও নাকি ইস্কুলের সেক্রেটারী ছিল পটল বিষয়ী – এমনকি সে তার বাবাকে জিঞ্জেস করলে বাবা জানায়, ঠিক মনে করতে পারছি না, তবে মনে হয় আমাদের সময়েও পটল বিষয়ীয় ছিল।

এতো প্রশ্নের পর আর আমরা সর্ষের তেল কি ভাবে, কোথায় পটল বিষয়ী কাজে লাগায় জানার সাহস পেলাম না। অতঃপর আমাদের মন ছুঁক ছুঁক – অন্য দাদাদের কাছে ঘুর ঘুর করছি। একদিন সাহস করে আমরা জিঞ্জেস করে ফেললাম – দাদা, ওই পটল বিষয়ী আর তেলের ব্যাপারটা যদি আমাদের শিখিয়ে দাও। যা জানা গেল তা হল এই – প্রতি বার ইস্কুলের সরস্বতী পুজোর সময় লুচি ভাজার সর্ষের তেলটা পটল বিষয়ী দান করে। তখনো আমাদের দিকে ডোনেশন ব্যাপারটা তেমন চালু হয় নি – সবাই দান করত। আমাদের ক্লাসমেট (বাই দি ওয়ে আমাদের তখন ক্লাসমেটও ছিল না – বন্ধু ছিল। তবে সেই বিষয়ক আঁতেল মার্কা লেখা পরে হবে) দেবুর বাবার মেমারী স্টেশন বাজারে মনোহারী দোকান ছিল। তাই তেল, গুড়, চাল এই সব ম্যাসিভ স্কেলের জিনিস সম্পর্কে দেবুর হালকা ধারণা ছিল। দেবু প্রশ্ন করল – সব লুচি ভাজতে যা তেল লাগবে সব পটল দেবে? সে তো অনেক লুচি গো! প্রশ্ন শুনে সিনিয়র ঘাবড়ে গেল – সে তার সিনিয়র ডেকে আনলো। ঠিক সমাধান পাওয়া গেল না প্রশ্নের – কেউ বলল পটল মাত্র এক টিন তেল দেয়, কেউ বলল দু-টিন। সব লুচি ভাজতে মোট কয় টিন তেল লাগে তার আইডিয়া না থাকার জন্য এই প্রশ্ন অমিমাংসিত থেকে গেল।

কিন্তু দেবু মেমারীর ছেলে – আমি তো আর ঠিক মেমারীর নয়, মেমারীর পাশের গ্রাম নিমোর। তেল নিয়ে খটকা লাগার আগে, আমার আরো বেসিক খটকা ছিল – সরস্বতী পুজোর সাথে লুচির কি সম্পর্ক! তার পর এল বিষ্ময় – পুজোতে নাকি স্কুলের সব ছেলেকে লুচি খাওয়ানো হয়! ভাবা যায়! আশে পাশের ইস্কুলের কোন কোনটায় খিচুড়ি খাওয়ায় শুনেছি – যেমন রসুলপুর স্কুল। তা বলে লুচি! জাষ্ট ভাবতে পারছিলাম না আমার সেই ক্ষুদ্র ব্রেন দিয়ে। আরো পরে জেনেছি যে মেমারী স্কুলের এই লুচি খাওয়া ব্যাপারটায় একটা প্রচ্ছন্ন গর্ব লুকিয়ে আছে – সেই গর্ব রসুলপুর স্কুলকে টেক্কা দেবার আবেশ। মাধ্যমিকের রেজাল্টে মেমারী সব সময় রসুলপুরকে টেক্কা দিতে পারত না বলে আমরা রিভেঞ্জ নিতাম এই বলে যে, আমাদের সরস্বতী পুজোয় লুচি হয়, তোদের হয়!

মেনু খুবই সিম্পল – লুচি, ছোলার ডাল, আলুর দম, বোঁদে, চাটনী এবং দুটো করে রসগোল্লা। সে এক আলাদা স্বর্গীয় স্বাদ – লুচি ঠান্ডা হয়ে জুতোর সুকতলা হয়ে গেছে, কোই পরোয়া নেই – আলুর দমে আলুর থেকে খোসা বেশী ভাসছে, তাই সই – বোঁদে আগের দিন থেকে ক্লাস সিক্স সেকশন ‘এ’ মেঝেতে পড়ে থেকে গন্ধ হয়ে গেছে, তাতে যেন স্বাদ আরো খুলেছে। তবে পটল বিষয়ী শুধুই একা দান করত বললে ভুল বলা হবে – পটল বাবুর দেখাদেখি মেমারির আরো বিজনেস ম্যানেরা এগিয়ে এল – নারান কুন্ডুর আলুর গদি থেকে আওয়াজ এল, ওরে দু বস্তা আলু নিয়ে যাস। সোমেশ্বর তলার পাশে কাঁচাবাজারে যে ফুল কপি বিক্রী হল না, সেগুলি ফেলে দেবার বদলে বলা হল – নিয়ে যাস রে। অবশ্য সেই বাতিল ফুলকপির ঝুড়ির উপরে ছড়ান থাকতো কিছু পুষ্ট ফুলকপি – ঠিক যেমন ফুলসজ্জার বিছানায় ছড়ানো থাকে প্রথাগত ভাবে গোপালের পাপড়ি – সবই সিম্বলিক ব্যাপার।

ক্লাস ফাইভ থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত শুধুই খেয়ে চলে আসা – ক্লাস নাইন থেকে যুক্ত হল ফেরার পথে মেমারী রসিকলাল স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের পথে উঁকি ঝুঁকি। তবে সেই কৈশোরের প্রেম অঙ্কুরদগমের থেকেও বেশী চার্মিং ছিল স্কুলে সরস্বতী পূজোর দায়িত্ব সামিল হওয়া, বিশেষ করে ভাঁড়ারে ঢোকার অধিকার। ক্লাশের মনিটর এবং ‘ফার্ষ্ট’ বয় হবার জন্য স্যারদের দেওয়া রোল গুলির মধ্যে কোনটা আমি চুজ্‌ করব সেই নিয়ে চ্যালেঞ্জ আসে নি কোনদিন। তা আমার ভোজ এবং পুজোর কম্বিনেশানের মধ্যে ভোজ-পুজোর অর্ডার অব্‌ প্রেফারেন্সটাই সহি মনে হয়েছিল সেই বয়েস থেকেই পুজো-ভোজ এই অর্ডারের থেকে। ফলতঃ রোল নাম্বার ওয়ান আমি গেলাম ভাঁড়ারের দিকে, আর রাম-শ্যাম-যদু-মধু সহ নানা রোল নাম্বার গেল পুজার সাজ সরঞ্জাম সহ কদমা, তিলে প্যাটালি, মুড়কি ইত্যাদি ইত্যাদি কেনার দিকে।

পুজোর দিকে সকাল সকাল স্কুলে গিয়ে দেখলাম অলরেডি অ্যাসেম্বলি লাইন চালু হয়ে গ্যাছে – সবাই কেমন তেল দেওয়া মেশিনের মত খাবার তৈরীতে লেগে গেছে। তখনই প্রায় ক্লাশ সিক্সের ‘বি’ সেকশনের ঘরের অর্ধেক খবরের কাগজ বিছানো আর প্রায় জানালা পর্যন্ত লুচি ভেজে ভরিয়ে তোলা হয়েছে। আমার তো সেই দেখে প্রায় ইয়ে ট্যাঁকে উঠে যাবার অবস্থা। আমি বাসুদেব স্যারকে বললাম – ইহা কি হইয়াছে? বাসুদেব স্যার বলল, ইহা হইয়াছে কারণ কোন এক জ্ঞানী এবং সমাজসংস্করক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে পুজোরে খাবারের লুচি বিতরণের পলিসিতে চেঞ্জ আনেন। আগে নাকি জন প্রতি আটটা মত লুচিতে সীমাবদ্ধ থাকত ব্যাপার – কিন্তু তিনি বলিলেন যে সবাইকে ভর-পেট লুচি খাওয়ানো হবে, অর্থাৎ ঢালাও লুচি পরিবেশিত হবে। এর ফলে নাকি ওই আটটা লুচির সসীম পরিসীমা ইলাষ্টিক ব্যান্ডের মত বাড়তে থাকে। আমি সন্দেহের চোখে বললাম স্যারকে, কত আর বাড়বে স্যার! বাসুদেব স্যার আমার অজ্ঞানতা ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখে জানালেন রবি হেমব্রম চল্লিশ, সজল ক্ষেত্রপাল সাঁইত্রিশ এমন সব স্ট্যাটিস্টিক্স। বললা, ওরা তো স্যার খাবেই। স্যার বললেন, ওরে শুধু ওরা নয়, গড়ে প্রায় কুড়িটা করে লুচি ধরতে হবে পার হেড। তোর কাকার ছেলে কটা লুচি খায় তুই জানিস না? আবার ওদের দোষ দিচ্ছিস? তবে কিনা আগে থেকে যতই বানিয়ে রাখিস, ঠিক সময়ে দেখবি লুচি দিয়ে যোগান দিতে পারছিস না।

স্যারের কথা সঠিক প্রমাণিত হল – সেই পাহাড় প্রমাণ লুচি কয়েক ব্যাচের মধ্যেই শেষ হয়ে গেল। তারপর পুরো বলিুডি-হলিউডি সিনেমার জেলের মধ্যে পাবলিকের থালা বাজানোর মতন দৃশ্য। লুচির ঝুড়ি নিয়ে ঘরে ঢোকা মাত্রই, দাদা এই দিকে, দাদা এই দিকে – বলে টেবিল বাজিয়ে চিৎকার। সে এক রণক্ষেত্র প্রায়। যাই হোক বাকি তেমন কিছু গল্প নেই – প্রতি বছর সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি। রসিকলাল বালিকা বিদ্যালয় আমাদের টেক্কা দিয়েছিল এই মর্মে যে, ওদের পুজোতে লুচির সাথে ফ্রায়েড রাইস পরিবেশন করে। কিন্তু রসিকলালে তো আর ছিল না রবি হেমব্রম, সজল ক্ষেত্রপাল বা আমার কাকার ছেলেরা। ওই সব পালক পালক মেয়েরা কতটা খেতে পারে সেই সম্পর্কে নিজেদের মনে একটা ধারণা তৈরী করে নিয়ে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম যে খাওয়া-দাওয়া বিষয়ে রসিকলালের সাথে কম্পিটিশনে ঢোকা মানে নিজেদের লেভেল নিচে নামানো। তা ফ্রায়েড রাইসের অন্তর্ভুক্তি আমাদের কনফিডেন্সে কোন টাল খাওয়াতে পারে নি।

এতো গেল সরস্বতী পুজোর নিরামিষ খাওয়া – এর প্রায় উল্টোদিকে আমাদের ছোটবেলা জুড়ে ছিল আমাদের পাশের গ্রাম ‘কেজা’-র ঝাপান। কেজার ঝাপান হত জৈষ্ঠ মাসে, কালী পুজা উপলক্ষ্যে। সে নাকি বিশাল জাগ্রত কালী ছিল বা এখনো আছে। ফলে মানত দেওয়া পাঁঠা বলির হিড়িক পড়ে যেত – কেজার কালিতলায় রক্তে বন্য বয়ে যেত লিট্যারেলি। সেই অনেক অনেক দিন আগে আমাদের বাচ্ছা বেলায় প্রায় ১২০০ থেকে ১৪০০ মত পাঁঠা বলি হত পুজোর দিন সকালে। আমাদের গ্রামের অনেক পরিবারও প্রতি বছর পাঁঠা বলি দিত নিয়ম করে। প্রবলেম ছিল একটাই – একই দিনে নানা বাড়িতে নিমন্ত্রণ। কি যে লস্‌ হত বলে বোঝানো যেত না। এমন দিন গ্যাছে যে তিন বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেয়েছি এক রাতের বেলায় – প্রবলেম হয় নি, কারণ মেনু ছিল সাধারণ। ভাত, মাংস, একটা তরকারী, চাটনী আর হয়ত বা মিষ্টি। অ্যাডজাষ্ট করে খেয়ে নিলেই হত, কিন্তু কোনটা অ্যাডজাষ্ট করব সেটা ঠিক করাই ছিল মূল ব্যাপার। সাধারণত মাংস-ই থাকত মেন টারগেট, ব্যতিক্রম আমার আরেক জ্যাঠার ছেলে পিকুল।

পরিবারের মধ্যে গ্রামের দিকে নিমন্ত্রণের ধরণ থাকে দুই ধরণের – খুব বেশী মেলামেশা পরিবারের মধ্যে না থাকলে নিমন্ত্রণ হয় পরিবার প্রতি একজনার। আর ক্লোজ ফ্যামিলিদের মধ্যে নিমন্ত্রণ হাঁড়ি-বাড়ন্ত বা কেবল বউ-দের, এমন ভাবেও হয়। পরিবার প্রতি একজনা নিমন্ত্রণ ক্যাটাগরী সামলাতাম আমরা তিন জন তিন ভাইয়ের ফ্যামিলি থাকে। বড় দাদুর পরিবার থেকে গোপালদা, ছোটদাদুর দিক থেকে পিকুল এবং মেজো অর্থাৎ আমার দাদুর পরিবার থেকে আমি। আমাদের এই তিনজনের টিমকে গ্রামের সবাই এমনকি পাশের গ্রামের অনেকেও চিনত। এমনভাবেও নিমন্ত্রণ করা হয়েছে যে- “গোপাল, পিকুল আর সুকানের নেমত্তন্ন রইল গো”। কেউ কিছু মনে করে নি – নিজেদের নাম দিয়ে নেমত্তন্ন পেয়ে কলার যতটা উঁচু হত, পরবর্তী জীবনে বেশ কিছু নামজাদা অ্যাকাডেমিক পুরষ্কার পেয়েও কলার ততটা ওঠে নি। তবে তার কারণ বুঝতে গেলে গ্রামের দিকে লোকেদের আগেকার দিনে নিমন্ত্রণ বিষয়ক সাইকোলজি কেমন ভাবে কাজ করত জেনে নিতে হবে। আপ্যায়ন ছিল খুবই এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার – আর কে আপ্যায়ণ করছে সেটা। হতে পারে তুমি প্রভুত বড়লোক – কিন্তু নেমন্তন্নের দিন এই এক্সপেক্টেশন থাকবে যে তুমি বা তোমার কোন ইমিডিয়েট ফ্যামিলির সিনিয়র মেম্বার আপ্যায়ণ করবে। কিছুই না – জাষ্ট এই বলা যে, আরে এসো এসো বা আয়, আয় বা কখন এলি, পরের ব্যাচেই তা হলে বসে পড়িস। এমনো হয়েছে যে আমার কাকা অনেক ক্ষণ নিমন্ত্রণ বাড়িতে দাঁড়িয়ে থেকে আপ্যায়ণ না পেয়ে না খেয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে।

আপ্যায়ন ছাড়া আরোও একটা ব্যাপার ছিল আমাদের দিকে তা হল, সামনা-সামনি নিমন্ত্রণ করা। মোবাইল ফোন তো তখন ছিল না, এমনি গ্রামে ঘরে টেলিফোনও তেমন বেশী কিছু চল ছিল না। ফলে নিমন্ত্রণ করার সহজ পথ ছিল চিঠি পাঠানো। কিন্তু শুধু চিঠি পাঠিয়ে নিমন্ত্রণ খুব একটা উদার চোখে দেখা হত না। তবে সেই সব জটিল সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা অন্য কোন খানে করা যাবে ক্ষণ। এই পুজোর খাওয়ার সাথে যে সামাজিক অভ্যাস যুক্ত ছিল তা হল – ডাকতে যাওয়া। অর্থাৎ কখন খেতে যেতে হবে সেটা বলতে আসা। সেই কাজটা করত আমাদের গ্রামের চিঠি বিলি করার পিওন মিতা ময়রা (ছেলে)। এমনি দিন গেছে যে আমি, গোপালদা, আর পিকুল বিকেল থেকে না খেয়ে ড্রেস করে বসে আছে কখন মিতা ময়রা ডাকতে আসবে – আসে আসে করে রাত নটার সময় মিতা ময়রা এল – তার পর আমাদের খাওয়া যাওয়া।

গোপালদার সাথে খেতে গিয়ে যতটাই আনন্দ, পিকুল ততটাই খামতি ডেকে আনত খাওয়া ব্যালেন্সে। আমার জানামতে পিকুল খুব বেশী দিন তরকারীর পরিসীমা ছাড়িয়ে মাংসে গন্ডীতে পৌঁছতে পারে নি। বেচারা তরকারী খেতে এত বেশী ভালোবসত যে মাংস পরিবেশীত হবার আগেই ডাল-তরকারী খেয়ে পিকুল পেট ভরিয়ে হাত তুলে ঢেঁকুর তুলত। গোপালদা ছিল নিঃশব্দের কারিগর – বেশি কথা বার্তা বলতে পছন্দ করত না, মন থাকত মূল বিষয়ে। আমাদের মধ্যে একমাত্র গোপালদাই তিনটি নিমন্ত্রণ বাড়ি খেত কোনটাতেই খাবার পরিমান না কমিয়ে! ফিজিক্সের লজিকে যে কিছু গোলামাল আছে তা আমি ‘ট্রাবল উইথ ফিজিক্স’ বই পড়ার আগে গোপালদার খাওয়া দেখেই শিখতে পেরেছিলাম। এমনকি এখন ভাবতে বসে দেখি হয়ত লিমিট থিওরীর লিমিটেশনের উদাহরনও ছিল গোপালদার খাওয়া। গোপালদার গোটা নিমো গ্রামে রিপিট নিমন্ত্রণ সাড়ার একমাত্র কম্পিটিশন ছিল মোড়লদের শৈলেন। শৈলেনের ছেলের পেটে বলির পাঁঠার মাংস ঠিক হজম না হবার জন্য ফ্যামিলির সব দাবাওয়াত সে নিজের সারত।

কিন্তু পুজোর বলির মাংস রান্না এত সহজ নয় – খুব আধুনিক কালের বৌমারা অনেক ফাইট দিয়ে তাদের রেসপেকটিভ হেঁসেলে ‘মিট মশালা’ জাতীয় জিনিস ঢুকিয়েছে। বলির মাংস রান্না হবে ঝোল-ঝোল – কথায় বলে কচি পাঁঠার ঝোল। সেই ঝোলকে কনটামিনেটেড করা অনেক শ্বাশুরী ঠিক চোখে দেখে নি – নয় তুমি থাকবে হেঁসেলে, নয়ত আমি। এই বলে অনেক শ্বাশুরী সন্ধ্যের ভাঁটে বা টি ভি সিরিয়ালে মুখ ডোবালো। শ্বাশুড়ি-বৌমা ব্যাপার মিটলেও, যে জিনিস মেটার চান্স ছিল না, তা হলে একটা মাত্র পাঁঠা বলি দিয়ে নিমন্ত্রিত সবার পেট ভরানো। বলি দেবার জন্য পাঁঠা সিলেক্ট করা হত সাধারণত দশ কেজির নীচে – সাত থেকে আট কিলো অপ্টিমাম। মানে গিয়ে সলিড মাংস দাঁড়াতো পাঁচ থেকে সাত কেজি। পাঁঠার মাংসে প্রতি কেজিতে পাঁচ জন লোক খাবে সেই হিসাবে ২৫ থেকে ৩৫ জন লোকের মাংসের জোগান দিতে পারত সেই শহীদ হয়ে যাওয়া পাঁঠা। তাহলে কি হবে? আরে ফ্যামিলির লোকই তো ২০ জন! যারা গোঁড়া ধর্ম ভক্ত তারা বলি দিতে লাগল একাধিক পাঁঠা, আর বাকিরা চালু করল ‘কনটামিনেশন’। মানে হল গিয়ে বাজার থেকে পাঁঠার মাংস কিনে নিয়ে এসে মিশিয়ে দেওয়া। আমার বাড়িতেও তাই চালু হল – ঠাকুমা আপত্তি করলে বাবা বলল, প্রসাদ তো করে দিচ্ছি নাকি? মানে পুজোর বলির পাঁঠার মাংস মিশিয়ে দেওয়া হল কেনা মাংসের সাথে। ঠাকুমা কুঁই-কাঁই করে মেনে নিল শেষে।

পুজোর পাঁঠা অনেকে বাড়িতে পালন করত – এতে পয়সার সাশ্রয় বেশী হত। কারণ বড় পাঁঠার দাম সাপ্লাই-ডিম্যান্ড এর উপর নির্ভর করে বাড়ত-কমত। আর তা ছাড়া আমাদের দিকে তেমন পাইকেরের চল ছিল না পুজোর পাঁঠা নিয়ে ডিল করার জন্য। নিজেদেরই খুঁজতে বেরুতে হত একখনি নিখুঁত পাঁঠা। নিখুঁত ব্যাপারটি কিন্তু এখানে লক্ষণীয় – পাঁঠা দাগি হয়ে গেলে কিন্তু তাকে আর বলি দেওয়া যায় না ঠাকুরের উদ্দেশ্যে। দাগী অর্থে চোট পাওয়া, গায়ে গরম জল ছুঁড়ে দেওয়া, সাপে কেটে বেঁচে যাওয়া, রেলে হালকা ধাক্কা খেয়ে প্রাণ টিকিয়ে রাখা – এই সব। তাই পাঁঠা কিনতে গিয়ে বারবার ক্লারিফাই করতে হত- হ্যাঁরে, মাল দাগী নয়ত? মানুষে মানুষে অবিশ্বাস দিন দিন বাড়তে থাকে – তাই অনেকেই নিজেরা পাঁঠা পালতে শুরু করে চোখে চোখে রাখা শুরু করল। বলির দিন যত এগিয়ে আসবে, টেনশন ততই বাড়বে। একবার স্টেশনের কালি পুজোর ঠিক আগের দিন পালিত পাঁঠা ট্রেনের তলায় চলে গেল – চারিদেকে হায় হায়। আমার বন্ধু হাবা ডিক্লেয়ার দিল যে পরের বার থেকে ব্যাক-আপ থাকবে পাঁঠার। সবাই ভেবে দেখে বলল, ঠিকই, ঠিকই – খুবই যুক্তিযুক্ত কথা। গাঁজাখোর বরুণ মাথা চুলকে বলল যে, ব্যাক-আপো যদি এক পালে থেকে মানুষ হয়, তাহলে সেই ব্যাক-আপও ফেল করতে পারে। আফটার অল পাঁঠা তো! এক জন গেলেই আরেকজন ফলো করবে দেখাদেখি। সবাই বলল এও ঠিক ঠিক। তার পর স্টেশনে পুজো কমিটি জরুরী মিটিং ডেকে ঠিক করল যে, দুই পাঁঠা পালিত হবে দুই আলাদা পালে – তাদের নিজেদের মধ্যে যেন কদাচিত সাক্ষাত না হয় এবং তারা যেন জানতে না পারে যে তারা একে অপরের ব্যাক-আপ। এক পাঁঠা গেল হাবার কাছে – অন্য পাঁঠা মানুষ হতে লাগল সুধীরের কাছে।

পাঁঠা বলি দেওয়া বেশ এক চমকপ্রদ ব্যাপার। কেজার ঝাপান ছাড়া আমাদের নিমো গ্রামের ঝাপানেও পাঁঠা বলি হত। কিন্তু আমাদের গ্রামের ঝাপান তেমন ইন-ক্লুসিভ ছিল না, অন্তত পুজো জিনিসটা। কারণ গ্রামে আরো অনেক কিছুর মতই এই ঝাপান এবং ঝাপানের জায়গা সবই ছিল আমাদের ঘোষ গুষ্টির অধিন। অর্থাৎ, পুজো করবে আমাদের বামুন, পুজো যাবে আমাদের বাড়ি থেকে, ঝাপানের তোলা তুলবে আমাদের বাড়ির লোকেরা ইত্যাদি ইত্যাদি। নিমোর ঝাপান হয় প্রতি বছরের পয়লা ভাদ্র মনসা পুজো উপলক্ষ্যে। সেই ঝাপানে অনেকে পুজো দিলেও পাঁঠা বলি হত খুব কম। পাঁঠা বলি করত কামারে – আর আন-রোমাণ্টিক ভাবে কামার আসত কামারপাড়া থেকে। এই এতো এতো বছর ধরে একই লোক আমাদের বাড়িতে বলি দিয়ে আসছে – কিন্তু আমরা প্রায় কেউই তার নাম জানি না। তাকে কামার বলেই ডাকতাম আমরা – সাকুল্যে বছরে দেখা হত দুই বার – বাড়ির দূর্গা পুজোয় সে আসত নবমীর দিন বলি দিতে। আর সেই পয়লা ভাদ্র ঝাপানে পাঁঠা বলি দিতে। তবে আমাদের বাড়ির দূর্গা নাকি নিরামিশাষী – তাই বাড়িতে নবমীর দিন বলি দেওয়া হত আখ, কলা, ছাঁচি-কুমড়ো ও শসা। সেই সবের সিম্বলিক অর্থ নিয়ে আলোচনা অন্য সময় – মূল ব্যাপার হল, বলি কিন্তু দিত কামার সেই একই রকম পেশী ফুলিয়ে। আমাদের এই ধরণা গড়ে উঠেছিল যে তিন গাছি আখ এবং একটি দশ কেজি পাঁঠা বলি দিতে সম পরিমান শারীরিক এবং মানসিক শক্তির দরকার হয়।
চৈত্র মাসের শেষ চার দিন গ্রামে শিবের গাজন উপলক্ষ্যে ফল এবং ভোগ। এখানে ফল অর্থে শুধু ফল নয় – একটা দিনও বটে। গাজনের প্রথম দিনকে বলা হত মহা-হবিষ্যি, দ্বিতীয় দিন ফল, তৃতীয় দিন নীল এবং শেষ দিন ঝাঁপ সহ চরক। আমার ঘোষ বংশের পূর্বপুরুষেরা গ্রামের প্রায় সব জিনিসেই মাথা গলিয়েছেন – তাহলে এই ফল-ই বা বাকি থাকে কেন! গাজনে সন্ন্যাসীরা ফলের দিন নিজেদের বাড়িতে ফল খেতে যাবার আগে কাদের বাড়িতে ফল খাবে? অব্‌-কোর্স ঘোষ বাড়িতে। তবে সেই খাওয়া খুবই মনোহর লাগত আমার কাছে ছোট বেলায়। আমাদের ঠাকুর দালানে সার দিয়ে সাদা কাপড়, গলায় পৈতে এবং উত্তরীয় লাগানো সন্ন্যাসীরা বসে পড়েছে – তবে মাটিতে তো আর বসা যাবে না – আমাদের ছোটদের কাজ ছিল ছিল দুই গাছি করে খড় পেতে দেওয়া। খাবার দেওয়া হত কলাপাতায় – প্রথমে বেলের সরবত, পরে ডাল ভিজোনো সহ গুড় এবং তারপর নানা বিধ ফল। বাজারে ঐ চৈত্র মাসে যা যা ফল পাওয়া যায় সব সার্ভ করা হত। আখরোট, সবেদা, সহ সুগন্ধী জামরুল। অনেক দিন পর্যন্ত সেই সব ফল আসত আমাদের বাড়িতে ব্যাগ বা বস্তা করে কোলকাতা থেকে। বড় জ্যাঠা আমাদের দোকানের মাল বড়বাজারে কিনতে গিয়ে সেই ফলও আনত।

গাজনে সন্ন্যাসীরা নিজেরা যে ভোগ রান্না করত সে আমার কাছে রহস্যই রয়ে গ্যাছে – প্রতি বার সেই ভোগ রান্না করতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলত। একবার থাকতে না পেরে ঠাকুমার কাছে অনুযোগ জানালাম – ঠাকুমা বলল, ধুর বোকা, ওটা তো ইচ্ছে করেই পুড়িয়ে ফেলা হয়। পুড়িয়ে ফেলা অর্থে এখানে সেই চালের পায়েসকে কাঠের আগুনে আঁচ দিয়ে ধরিয়ে ফেলা। সুখে থাকতে ভুতে কিলানোর মত সবাই হাঁড়ির চারিদিকে বসে অপেক্ষা করবে কখন মাল ধরে যাবে – সে এক আন-সলভেবল মিষ্ট্রি। গাজনের প্রথম তিন দিন বিকেলে সেই ভোগ রান্না হত – খেতে বেশ মিষ্টি মিষ্টি বলে আমিও বাটি হাতে লাইনে দাঁড়াতাম রন্ধন পদ্ধতি নিয়ে ডিফারেন্স অব্‌ ওপিনিয়ন থাকা সত্ত্বেও।

গাজন শেষের পরের দিন, অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের দিন, নিজেদের পৈতে খুলে ফেলার আগে সন্নস্যারী আবার অনেক বাড়িত মুড়ি খেতে যেত। তবে ডাক পেলে তবেই যেত – আর যথারীতি আমাদের বাড়িতে সেই ডাক বরাদ্দ ছিল প্রতিবার। খুবই পাতি মেনু – মুড়ি, আলুর দম, বোঁদে এবং দুই খান রসগোল্লা। একবার আলুর দাম ভালো পাওয়ায় আলু পাইকের রায়েদের বাপি সন্ন্যাসীদের ডেকে খাওয়ালো মুড়ি এবং দুই-খান রসগোল্লার বদলে নিয়ম ভেঙে পেট ভর্তি মিষ্টী। বলল এতে করে নাকি সন্ন্যাসীদের আশীর্বাদ পাওয়া যাবে এবং ফলতঃ পরের বারে আরো বেশী লাভ আলুতে। যাদের বিশ্বাস করার তারা বিশ্বাস করল - আর বলতে নেই পরের বার থেকে সন্ন্যাসীরা এতো বেশী নিমন্ত্রণ পেতে লাগল যে মেজো জ্যাঠা বলতে বাধ্য হল, স্কাউন্ড্রেল সব – মিষ্টী খাইয়ে আশীর্বাদ কিনছে!
আশীর্বাদ কেনা যেত কিনা বলতে পারব না – কিন্তু আশীর্বাদ ভিক্ষা করতে অনেক দূর দূর থেকে গাজনে সন্ন্যাসীদের কাছে আসতে দেখেছি। বিশেষ করে ‘ফল’ নিতে – ‘ফল’ নেওয়া অর্থে নিঃসন্তান মহিলারা জলে ডুব মেরে সে ভেজা কাপড়ে শিব দালানে দাঁড়িয়ে থাকত, আর সন্ন্যাসীরা ঝাঁপ মারতে মাচায় উঠার আগে নিজেদের কোঁচড় থেকে আলোচাল এবং কিছু ফল বের করে সেই সন্তান কামনায় প্রার্থনারত মহিলাদের দিত খেতে। আমাদের গ্রামের শিব নাকি বহুত জাগ্রত – দুনিয়া ট্রীটমেন্ট করে ফেল মহিলা আমাদের গ্রামে ফল নিয়ে সন্তানবতী হয়েছে এমন খবর বাজারে আছে।

তাহলে আর রইল গিয়ে পীর বাবার সিন্নি – আমাদের গ্রামে হিন্দু মুসলমান সবার কাছেই সে এক আকর্ষনীয় অনুষ্টান ছিল। মাত্র এক বিকেলের ব্যাপার – পীর তলায় মালসার ছড়াছড়ি। পীর বাবার আশীর্বাদের থেকেও আমাদের কাছে ইন্টারেষ্টিং ছিল সোনা ময়রার তৈরী ছোলা-গুড় এবং গুড়-বাদাম। এতো ভুয়া ছোলা এবং বাদাম সোনা ময়রা কি ভাবে সংগ্রহ করত সে আমাদের কাছে এক বিষ্ময় ছিল। মানে সেই গুড়-বাদামের সমাহারে একটি, কেবল একটি ভালো, পুষ্ট, তেতো নয় এমন বাদাম খুঁজে পাওয়া আমাদের কাছে এক চ্যালেঞ্জ স্বরূপ ছিল।

শুরু করেছিলাম সরস্বতী পুজার গল্প দিয়ে – প্রায় গল্পেই থেকে যায় নষ্টালজিয়া – আমি রোমন্থান করি আর ভাবি আমরা কেবল পিছিয়ে গেছি সময়ের সাথে – আগেকার দিন এই ছিল, এমন ছিল, কত ভালো ছিল, আন্তরিক ছিল। কিন্তু সব সময় এমন হয় না, অনেক সময় অবাক হয়ে দেখি, আমাদের গ্রাম এগিয়েও গ্যাছে। সেই বার আমষ্টারডাম থেকে এক সন্ধ্যেবেলা বাড়িতে ফোন করেছি ডিউটি পালনের জন্য – কেউ ফোন ধরল না। পরের দিন জানলাম আমাদের ঘোষ পাড়ায় সেই বার থেকে ঠিক হয়েছে যে সরস্বতী পুজোর একদিন পাড়ায় কারো বাড়ি রান্না হবে না। পাড়ার সবাই একসাথে খাবে – পুজোর প্যান্ডেলের ধারে রান্না হবে, আর লম্বা রাস্তায় ত্রিপল পেতে খাওয়া দাওয়া। অনেকের মনে সন্দেহ ছিল সেই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, কারণ পাড়ায় একে অপরের সাথে গলায় গলায় ভাব – এমন অপবাদ শত্রুও দিতে পারবে না! কিন্তু বিষ্ময়ের সাথে ব্যাপারটা খুবই হিট করে যায় – এমনকি আমার বাবাও আজকালকার ছেলেদের মন খুলে প্রশংসা করে। আমি আমষ্টারডামের জানালা দিয়ে সামনের ক্যানেল দেখি, আর ভাবি আজ প্রায় পঁচিশ বছর হয়ে গেল আমরা আমাদের ঘোষ পাড়ার পুরানো বাড়ি ছেড়ে পুকুরের অপরদিকের পাল পাড়ার বাসিন্দা হয়েছি, কিন্তু ঘোষ পাড়ার গন্ধ আজও আমাদের গা থেকে যায় নি! স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে ভাবি – ঠিক আছে, যা ভাবি, তার সাথে এই লেখার কোন সম্পর্ক নেই।


935 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 3 -- 22
Avatar: dd

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

সুকান্তের এই স্মৃতি বিজড়িত খাওয়ার গল্পো গুলি প্রচন্ড ভালো।

আরো হোক
Avatar: potke

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

ডিডি দাকে ক্ক। আরো হোক।
Avatar: Abhyu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

খুব ভালো লেখা। বিশেষ করে শেষ প্যারাটা।
Avatar: সুকি

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

যাঁরা লেখা পড়লেন এবং কমেন্ট করলেন সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

মহুয়া,
আপনি ঠিক জায়গায় পয়েন্ট আউট করেছেন - আমার লেখায় লুচি ভাজার জায়গায় সর্ষের তেল লেখা অন্যমনস্কতার পরিচায়ক হয়ে গেছে। সর্ষের তেলে রান্না হত বাকি তরকারি এবং যা কিছু। কারণ সর্ষের তেল ছাড়া তরকারীর স্বাদ খোলে না এটা আমাদের দিকে চলে আসা এক চিরন্তন সত্য। আমার স্মৃতি যদি বিট্রে না করে তবে সানফ্লাওয়ার ওয়েল দিয়ে আমি আম-জনতার অনুষ্ঠানে আমাদের বাচ্ছা বেলায় লুচি ভাজতে দেখি নি। এমনকি বাড়িতেও লুচি ভাজতে সানফ্লাওয়ার ওয়েলের এন্ট্রি অনেক পরে। তখন মাস-স্কেলের অনুষ্ঠানে লুচি মূলত ভাজা হত ডালডা বা রেপসিড ওয়েলে।

আর একটা ঘটনা যেটা লিখতে ভুলে গেছি তা হল - ওই স্টেশনের কালী পুজোয় ব্যাক-আপ পাঁঠারা দুই জায়গায় মানুষ হতে থাকলেও গাঁজারু বরুণের রেকমেণ্ডশনে আরো একটা সতর্কমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বরুণ পরামর্শ দেয় যে, পাঁঠাদের সামনে কালী পূজো নিয়ে আলোচনা করা যাবে না। পাঁঠারা নিজেরা যদি বুঝে ফেলে, তাহলে হয়ত বলির আগের দিন নিজেরা ইচ্ছে করে ইনজিওরড হয়ে যেতে পারে! প্রাণের ভয় কার আর না আছে! বরুণের কথা সবার যুক্তিযুক্ত মনে হল - এবং পুজো কমিটি ফরমান জারি করল যে পাঁঠা আশেপাশে থাকলে কালী পুজোর গল্প করা যাবে না। ফলে দেখা গেল বিকেলে স্টেশনে বসে পাবলিক পুজো নিয়ে আলোচনা সবে শুরু করেছে, এমন সময় চায়ের দোকান থেকে করিম-কা আওয়াজ দিল, অ্যাই চুপ, চুপ, পাঁঠা আসছে। দেখা গেল হাবা ছাগল চরিয়ে ছাগলের পাল নিয়ে বাড়ি ফিরছে। সবাই চুপ করে থাকল - অনেকে আবার এদিক ওদিক তাকাতে থাকল - পাঁঠাদের চোখের দিকে তাকাল না। ধীর লয়ে অনন্ত সময় নিয়ে পাঁঠা স্টেশন পার হলে আবার পুজোর গল্প শুরু।
Avatar: Abhyu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

কি যে ভালো!
Avatar: Bratin

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

সুকান্ত র লেখা বরাবরের মতো ই উপভোগ্য।

দু টি বক্তব্যঃ-

লেখাটা পড়ে হঠাৎ মনে পড়ে গেল আমাদের স্কুলেও টিফিন দিত। সামান্য কিছু ই কিন্তু বৈচিত্রপূর্ণ।


চার টে বিস্কুট থেকে শুরু করে আলুর চপ, সিঙ্গারা, লাড্ডু থেকে গরম কালে ত্তরমুজ অবধি একটা করে চপ জনপ্রতি জেনেও এজসাথে চার টে চপ নিয়ে জাগলিং করতে যাওয়া এক নাসা সায়েন্টিস্ট সুদীপের নাম খামোকা "লোভী" হয়ে যাওয়া।

আমরা তখন সেভেনে। অনির্বাণ কুন্ডু থার্ড হবার জন্যে পুরো স্কুল যে লুচি মাংস খাওয়ালো হয়েছিলো।
Avatar: Bratin

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

ও টা আসলে " কী যে ভালো" হবে।
Avatar: শিবাংশু

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

বাহ, খাবারের গল্পে সুকান্তকে মনিটর করা হলো.... :-)
Avatar:  ব

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

দ্বিতীয় টি হল পুজোয় বলি প্রসঙ্গে।

আমাদের গ্রামের বাড়ি য়ে কালী পুজো হয়। বহু দিন থেকে পুজোর বয়েস সেজকাকার বয়েসে থেকে এক বেশী। অর্থাৎ ৬৮।

আগে এক টাই পুজো ছিল। বেশ কিছু দিন হল এখন পালা হয়। দাদু রা দুই ভাই ছিল। এক বার ওদের পুজো । এক বার আমাদের। ছোট বেলায় এই পুজো ঘিরে খুব উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল। সেই সময় পুরো পুজোর ছুটি টাই তো গ্রামের বাড়ি তে কাটাটাম। পোঁটা কাকা
কীভাবে এক মেটে , দো মেটে থেকে আস্তে আস্তে কালী প্রতিমা তৈরী করে ফেলতো । সেই নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের অবধি ছিল না। ঠাকুরের চোখ আঁকা, ঘাম তেল মাখানো এই সব ই আমরা ছোটরা প্রচন্ড আগ্রহের সাথে দেখতাম। একটু বড় হতে ঠাকুরের সাজ পড়ানোর দায়িত্ব এলো। নকাকা মেন লোক। আমর সবাই অ্যাসিন্ট্যান্ট। । ঠাকুরের চুল , শিবের জটা ছাড়া ও মা কালী র একট একট করে গয়্না কোথায় পড়ানো হবে সে অনেক জটিল ক্যালকুলেশন!!

পুজোর আগের দিন রতে ফুল তুলতে যাওয়া একটা বড় কাজ ছিল। আমর বেরোতাম প্রায় ১/২ টার সময় সেই সময় ফুল তোলা ছাড়াও লোকের বাড়ি তে শেকল তুলে দেওয়া ( বাড়ির একটাই এনট্যার্ন্স), দু চার পিস ডাব সরিয়ে দেওয়া ইত্যাদি ভালো ভালো কাজ আমরা করে থাকতাম

ঢাকী দের ঢাক বাজানো নিয়ে আমর খুব উৎসাহ বোধ করতাম। মাঝে মাঝে বাজানোর চেষ্ট করতাম। কারা- দগরা ছাড়া একটি বড় ঢাক এবং বাংলা কাঁসি। এই ছিল মোটমুটি উপকরণ।

পুজোর উপোস টা বেশ কষ্টদায়ক। এখানে ঢাল/নিঢাল এবং লুচিঢাল ( সেজকাকা র আবিষ্কার) তিন প্রকার ছিল)। আমি ঢাল অর্থাৎ চা খাওয়া যাবে বাট নো জল ( এখানে আইনের ফাঁক টা হচ্ছে নেশার জিনিস খাওয়া যাবে)। । পুজো শেষ হতে হতে সেই ভোর ৫/৫ঃ৩০। সেই সময় গরম গরম লুচি । কপির তরকারী। আলুর দম, বোঁদে এবং রসোগোল্লা। আহা।

তবে গত ১২/১৩ বছর আমাদের বাড়ি তে বলি বন্ধ হয়ে গেছে। মূলতঃ সেজকাক র উদ্যোগে। আগে ৪ টে বলি হত। বাড়িতে দুটো আর বাজারে দুটো।

অকারণ সেই রক্তপাতে কার ই বা মঙ্গল নিহিত আছে? এই বেশ ভালো...


বাজারে গ্রামের সমস্ত বাড়ির পুজো আলাদা করে এখানেও পুজো দেওয়া হও। বিসর্জনের আগে এই বাজারে ই সমস্ত প্রতিমা জড়ো হয়। তারপারে। খানিক বাজি টাজি ফাটিয়ে আর ঢাক ঢোল বাজিয়ে লোকের কানের বারোটা বাজিয়ে দিয়ে তারপরে প্রামের রামসাগরে প্রতিমার নিরঞ্জন।



Avatar: kumu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

সুকান্তর লেখা খুব উপভোগ্য।
রিফাইন্ড সানফ্লাওয়ার তেল চালু হয়েছে সম্ভবতঃ ১৯৯০ থেকে।তার আগে ডালডার প্রচলনই বেশী ছিল বা রেপসিড।
প্রসঙ্গত গতকালের আনন্ডবাজারে মা ঠাকুমার রান্না শীর্ষক একটি লেখায় দেখলাম সর্ষের তেল ও ঘি এর মিশ্রণ ব্যবহার করে রান্নার কথা।এটা কখনো শুনিনি।
Avatar: d

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

আমি কক্ষণো সর্ষের তেলে ভাজা লুচি খাই নি। আঅমাদের চেনা পরিমন্ডলে ভোগের লুচি গাওয়া ঘী আর এমনি লুচি ডালডায় ভাজা হত। এরপর ৭০ দশকের শেষের দিকে হঠাৎ ডালডা নিয়ে প্রচুর নেগেটিভ প্রচার হতে শুরু করায় বাদাম তেল এলো ডালডার পরিবর্তে।

দারুণ লেখা বলাই বাহুল্য।
Avatar: Abhyu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

আজকাল বিলাসিতা অত্যন্ত বেড়ে গেছে। চিরকাল দেখে আসছি লুচি জলে ভাজা হয়। ঘিতে লুচি ভাজা খুবই অন্যায় - কে বলেছিলেন বলতে পারো?
Avatar: Abhyu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

তবে সরষের তেলে ভাজা লুচি বোধ হয় আমি খেতে পারবো না!
Avatar: Ruchira

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

অভ্যু,
জল দিয়ে লুচি ভাজা -
দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথের বড়দাদা
Avatar: ব

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

সেই নারকেল গাছ আঁকা হলুদ রঙের ডালডা র কৌটো তো। ওটাই মনে আসছে। সর্ষের তেল এ ভাজা লুচি ঠিক মনে করতে পারছি না।
Avatar: Titir

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

লেখাটা পুরানো স্মৃতি উস্কে দিয়ে গেল। হুবহু এক না হলেও কিছু কিছু এক্কেবারে এক। ঐ যে নিমন্ত্রণের কথা, আমাদের ওখানে সকালবেলায় একজন এসে বলে যেত। বুলি ছিল ওমুক বাড়িতে বৌভাত বা অন্নপ্রাশনে 'শাকান্নে'র (ছোটবেলায় ভাব্তাম সাগ্গন্নে বলছে, পরে জ্যাঠামশায় বললেন ওটা শাকান্ন হবে। শাক আর অন্ন) নিমন্ত্রণ। এই রকম নিমন্ত্রণ হলে বাড়ির ছেলেরা যাবে। যদি বলত 'হাঁড়ি বন্ধ' তবে মেয়ে বৌরা যাবে। আর যদি বলত 'সবান্ধব, আত্মীয় কুটুম্বসহ হাঁড়ি বন্ধ' তবে গুষ্টি সুদ্ধ সবাই যাবে।
Avatar: Abhyu

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

এক্কেবারে ঠিক, রুচিরাদি। প্রমথনাথ বিশীর লেখায় পড়েছিলাম মনে হয়।
Avatar: সুকি

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

অনেকেই পড়লেন মনে হচ্ছে - খুব আনন্দ পেলাম, আরো বেশী আনন্দ পেলাম এই দেখে যে অনেকেই এই লেখার সূত্রে পুরানো দিনের রোমন্থন করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন।

সর্ষের তেলের লুচি আমি অনেক বার খেয়েছি নানা কারণে - একদমই উপাদেয় নয়।
Avatar: পাগলা‌দাসু

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

অভূতপূর্ব।
হবিস‍্যি নিয়ে গুগুলে সার্চ করতে গিয়ে জানি না কি ভাবে এই লেখাটি পেলুম। একেবারে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেললাম।
অসাধারণ। ছবির মতোন storytelling.
সকলের মনের মধ্যেই একটু শৈশবের মিষ্টি স্মৃতি লুকিয়ে থাকে। কখনো সখনো উপযুক্ত ট্রিগার পেলে সেটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আপনার লেখা টি পড়ে সেই অবস্থা।
অজস্র ধন্যবাদ। বেঁচে থাকুন । আর ও লিখুন। আমরা পড়ে বাঁচি।
Avatar: b

Re: ভোজ-পুজো অথবা পুজো-ভোজ

এ তো ভালো কথা নয়! হবিষ্যি দিয়ে গুগল সার্চ করাতে সুকি-র লেখা আসছে! ব্যাটা নাগপুরের বাসিন্দে হল নাকি?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 3 -- 22


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন