Soumyadeep Bandyopadhyay RSS feed

নিজেকে পল্লবগ্রাহী মনে করে কলার তোলেন | অল্প কিছুদিন হলো জলচর থেকে উভচর হওয়া সম্ভব হয়েছে | প্রচুর নিষিদ্ধ বস্তু সেবন করে করে শীঘ্র খেচর হবার সম্ভাবনা ও প্রচুর | বর্তমানে আন্টার্কটিকায় হনুমান সম্পদ নিয়ে বিশদ গবেষণায় ব্যস্ত |

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

মেনু

Soumyadeep Bandyopadhyay

মেনু

কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি আর প্রায় থামছেই না | কখনো সপসপে নায়িকা ভেজানো স্টাইল ,কখনো আবার ধজভঙ্গ বুড়োর হিসুর মত...টিপ টিপ টিপ টিপ | যে গলিটা বড়রাস্তা কে জুড়েছে , সেটা এই বস্তিকে ভুলে গেছে কবেই | সামনের পুরনো বাড়ীগুলোর কালচে লাল পাঁজর ফুঁড়ে আগে দিনের ঘন্টা দুএক রোদ পৌঁছাত | আস্তে আস্তে বাড়ীগুলো মরে ক্রমে ফ্ল্যাট হয়ে যাওয়ায় সে আলো কবেই বন্ধ | এখন এই বর্ষা কালে , কালো কালো তার জালি ঘেরা জানলায় শ্লেষ্মার মতো ধূসর পর্দা জড়িয়ে আছে | কোণের যে ফাটা জায়গাতে ছেলে ছোকরারা মুততো , সেই জায়গাটায় বৃষ্টির জল আসে না শুধু এমোনিয়ার গন্ধে ভারী হয়ে রয়েছে | পাশে অযত্নে ঝাঁকরা বুনো টগর গাছের ফুলগুলোই যা ভরসা | এখানেই সাতটা পরিবারের গোটা চল্লিশ লোক গুঁজে গুঁজে থাকে | তিনজন ভাড়ার অটো চালায় , সেই অটো গুলো পর পর ভিজছে ,জলের কল ঘিরে মেয়ে বউদের টক মিষ্টি কথা জমে উঠছে | এক কালে নাকি লাটু বাবুদের খাস জমি ছিল এটা | একটা ক্ষয়াটে বুড়ো আসত ভাড়া নিতে , শেষ পর্যন্ত ১০০ টাকা প্রতি ঘর অবধি ভাড়া উঠেছিল | আজ প্রায় ৭-৮ বছর , বুড়োটা মরেছে বোধয় আর কেউ ভাড়া নিতে আসেনা | এরাই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া ঝাঁটি করে , মারা গেলে কাঁধ দেয় , নিউ ফ্রেন্ডসক্লাবে রাতে ক্যারাম খেলে ,ঋতু মেনে পুজো করে ভোটেতে ডিউটি দেয়, সামনের একচিলতে বারোয়ারী উঠোনে দৈনন্দিন দোল খায় সাংসারিক অন্তর্বাস | এমন সময় পিন্টু রা উঠে গেল ওদের ঘরটা ছেড়ে | তিন মাস আগেই বিয়ে করেছিল | প্রেমের বিয়ে তাও আবার বনেদী বাড়ী | শ্বাশুড়ীর সাথে ঠিক ঠাক ঠোকা ঠুকি শুরুর আগেই , দু দিনের জ্বরে বুড়ী হাওয়া | আরেক ছেলে মিলিটারিতে চাকরি করে, জবলপুরে | তাই বেশ হাত পা ছড়িয়ে থাকার জায়গা হতো দুজনের কিন্তু ওই , বারোয়ারী পায়খানা যেতে খুব আপত্তি বউ এর | বসাক গিন্নি শুনে মুখ ভেটকে বলেছিল , যত্ত ঢং | অবশেষে এটাচড বাথের সন্ধানে উত্তর ছেড়ে দক্ষিনের শহরতলী পাড়ি দিল ওরা | এখানে ঘর খালি করে কেউই যায় না , পিন্টুরাও বসিয়ে দিয়ে গেল এক খড়বরে বুড়োকে | তার সাথে একটা মাত্র কালো বা এককালের খয়েরী একটা ছেঁড়া খোঁড়া ব্যাগ | পিন্টুর কোন এক সম্পর্কিত পিসেমশাই না কে যেন হয় | বসাক গিন্নি আবারও নাক কুঁচকালো | কোথা থেকে কোন ভিখারী কে বসিয়ে দিয়ে গেল, চুরি চামারী করে সব শেষ করে দেবে | বাকিরাও যে বিশেষ খুশী হলো তা নয় | কয়েকদিন বাদেই বোঝা গেল যে , এসব চিন্তা অমূলক | বুড়ো যাকে বলে একদম ই সাত চড়ে রা না কাটা পাবলিক | একমাত্র পায়খানার লাইনে ছাড়া আর মাঝে মাঝে টাইম কলে জল নিতে না দেখা গেলে ও যে আছে সেটা বোঝাই যেত না |

এসব জায়গায় যা হয়, মানুষ নিজের রোজকার দুবেলা ভাত আর রোববারে চিকেনের বন্দোবস্ত করতে এত ব্যস্ত থাকে এসব নতুন লোকের আনাগোনা মজে যাওয়া নর্দমায় হটাত বুজ্কুরি ওঠার মতই ক্ষণস্থায়ী | তাই দুদিন বাদে নতুন বুড়ো কে লোকে ভুলেই গেল |


কয়েকদিন একটু ধরে যাবার পর আবার প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হলো | সব বাড়ীতেই থৈ থৈ করছে কালো জল | ইঁট জড়ো করে উঁচু করে রাখা খাটের পায়া ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে মরা আরশোলা , কাঠের টুকরো , হাবিজাবি কাগজ | পিন্টুদের পাশের ঘর যাদব দের, কাজে বেরোতে পারেনি আজও | একটাই ১২*১২ ঘর দুভাগ করে, একদিকে ও , বউ আর দুই মেয়ে থাকে | পাশের ঘরে বুড়ো বাপ মা | এখানে সব ঘরই পাশাপাশি হওয়ায় সবার ঘরের আওয়াজ সবার ঘরে চেনা | নতুন বিয়ের পর খাটের আওয়াজ ,টিভির আওয়াজ ছাপিয়ে ওঠা শীত্কার , মাঝে মাঝে বউ বাচ্চা বেয়াদপী করলে দু একটা চড় চাপড় ..সবই এজমালী এখানে |
টিভিতে অনেকদিন বাদে দূরদর্শন ,কারণ কেবল বন্ধ | খবর পড়ছেন প্রসান্ত রায় | রাজ্য জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি , বিপদসীমা পেরোব কি পেরোব না ভাব বেশির ভাগ নদীর | দূরপাল্লার ট্রাক ঢুকতে পারছে না শহরে, বাজারে দাম আগুন | কোমর জল পেরিয়ে ভাঙ্গা বাজারে গিয়েও দু এক গাছি শাক ছাড়া কিছু আনতে পারেনি | দুদিন ধরে এখন শুধু ডিমের ঝোল চলছে বাড়ীতে | সেই খেয়ে অলস ভাবে পাছা চুলকাতে চুলকাতে একটা বিড়ি ধরাচ্ছিল যাদব, বউ বাইরের উঠোনে বসে ও বাড়ীর সুমি র মায়ের সাথে আসন্ন মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা নিয়ে বিশেষ আলোচনায় ব্যস্ত | এমন সময় পাশের ঘর থেকে একটা ঘরঘরে আওয়াজ পেল যাদব | একঘেয়েমী কিছুটা কাটানোর জন্য দেওয়ালে কান রাখলো যাদব | শুনলো , বুড়ো ফ্যাসফ্যাস করে বলছে..আহ পোলাও তা বানিয়েছে তো জব্বর | কিন্তু এত কিসমিস বাদাম দিলে, এতেই তো মুখ মেরে যাবে | পাঁঠার মাংসে এত চর্বি ...কি বুদ্ধি | এরপর জলের গ্লাসের ঠনঠন আওয়াজ , একটা বেশ জোরালো ঢেকুরের আওয়াজ পেলো বোধয় | অস্ফুটে একটা খিস্তি করলো যাদব, শালা আমরা এখানে শুকনো ভাত পাব কিনা জানিনা , এ শালা একা একা পোলাও প্যাঁদাচ্ছে | একটা উদাসী বিড়ি ধরালো এই ভেবে |

রাতে বৃষ্টি আরো বাড়লো | একতলায় আর রান্না করার উপায় নেই , তাই এখানে সবাই এখন রান্না করছে পাশের একটা আধখান তৈরী হয়ে বাকিটা পার্মিশন না পাওয়া একট বাড়ীর সিঁড়ির ধাপে | ভাত ডাল সবজি শেষ করে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল পরের আইটেমের জন্য, বউ বলল ডিম নেই আর | একটা ছিল, দুই মেয়ে কে ভাগাভাগি করে দিয়ে দিয়েছে, ওরা শুধু ডাল সবজি দিয়ে কিছুতেই ভাত খেতে চাইছেনা | মা বাবা এমনিতেও রাতে বিশেষ কিছু খায়না | কিন্তু, কাল থেকে বাজারে কিছু না পেলে , হরিমটর কপালে | সকালে ঘুম ভাঙ্গলো গয়েশ জ্যাঠার চেল্লামিল্লি তে | আকাশ কালো হয়ে ঝুঁকে আছে একটা নোংরা তেরপলের মত – পরের বৃষ্টির প্রস্তুতি | গয়েশ জ্যাঠা আগে রাজনীতি করত , দল পাকানো পুরনো অভ্যেস | যা বলল, তার সারমর্ম হলো, সবাই মিলে ঠিক হয়েছে, সবার ঘরের খাবার দাবার মিলিয়ে , গণ খিচুড়ী উত্সব চলবে যদ্দিন না বাজারে যাওয়া যাচ্ছে | খরচও কম পড়বে , মজাও হবে | প্ল্যান টা বেশ জোরালো, মানতেই হবে | বাড়ীতে জানাতে বউ আর মেয়েদের তো খুব ফুর্তি , একটা বনভোজন এর মতো ব্যাপার | মা তো চিরকাল হিসেবী ,বললো যে সব চাল ডাল একসাথে বের করে দিস না ,আগে দেখ বাকিরা কি দিচ্ছে | যাই হোক, সবাই মিলে জুলে ভালই খাওয়া দাওয়া হলো , রান্নায় সবাই হাত লাগালো , পরিবেশনেও | অসম্পূর্ণ বাড়ীটার ছাদে , একটা তেরপল খাটিয়ে দিলো পাড়ার ভিয়েন ক্যাটারারের ম্যানেজার শম্ভু | চাতালে জল জমে থাকলেও, সেখানেই বেশ উতরে গেল ব্যাপারটা | যাদবের পরে খেয়াল হলো, আরে বুড়ো তো আসেনি | তারপর ভাবলো, যা পোলাও মাংস মারাচ্ছে, ওর বয়ে গেছে এই খিচুড়ী খেতে আসতে | বিকেলে বউ বলল , দুপুরে শুনি ঘর থেকে , ও বলছিল, বাটার ফ্রাই টা নাকি নেতিয়ে গেছে , কফির সাথে যাচ্ছে না | ওটা কি গো ? ওতে কি মাখন থাকে? ভাবছি মেয়ে দুটোকে সন্ধ্যেতে একবার ওই পাশের ঘরে পাঠিয়ে দেব | তখন ও জলখাবার খায়, বাচ্চা দুটো অন্তত কিছু খেতে পাবে , শুধু খিচুড়ি খাইয়ে আর রাখা যায় বলো? বুড়োটা না ওদের খুব ভালো বসে, সেদিন হাতছানি দিয়ে ডাকছিল | আমি ভয়ে যেতে দি নি | কিন্তু, ও না রোজ ভালো মন্দ কত কিছু খায়, ওই ব্যাগ ভরে বোধয় টাকা আছে আমি সিনেমাতে দেখেছি এরম হয় | যাদব খিঁচিয়ে উঠল , উফ যাও তো এখান থেকে | যত ভিখিরির দশা –কে কি খেল না খেল সবেতে নজর দেওয়া চাই | চা নিয়ে এস ঝট করে এক কাপ | কপট রাগে পেছন নাড়িয়ে বেরিয়ে গেল রুপোলি |

সন্ধ্যে থেকে বৃষ্টি ধরে এলো , রাতে থেমে এলো প্রায় | পাড়ার লক গেট খুলে দিয়েছে ,জল ও নামা শুরু হয়েছে | ভাত ভাজা খেয়ে রাতে শুতে গেল যাদব | বৌকে সাবধানে সাপটাচ্ছিলো নীচে, যাতে ওপরে খাতে শুয়ে থাকা পুঁচকি দুটোর ঘুম না ভেঙ্গে যায় | এমন সময় কানে এলো , পাশের দেয়ালের ওপারে বুড়ো বলছে ওরে মাছের কালিয়া কি এত ভাজলে হয়, শক্ত চামড়া হয়ে গেছে তো | লোকে খাবে কি করে? এসব কি আর আজকালকার ক্যাটারার রা পারে..কালিয়া বানাত সতু ঘোষ ...সে যেন মুখের মধ্যে একসাথে মসলার তুবড়ি ...আরো কত হাবি জাবি কথা, সব না বোঝা গেলেও মাঝে মাঝে ওর তৃপ্ত ঢেকুর শোনা যাচ্ছিল খুব স্পষ্ট, আর সাথে একটা খসখসে আওয়াজ | আওয়াজ শুনে সদ্য জাগা যাদব শিথিল হয়ে হতাশ বৌএর থেকে আলাদা হয়ে যায় | সিলিং এর দিকে চোখ রেখে অক্ষম খিস্তি মারে , ঢ্যামনা বুড়ো নিজে খেলে হয় না না, আবার শোনাতে হবে কি খাওয়া হচ্ছে | এবার পুজোর চাঁদা তোমার থেকে ৫০০ টাকার এক পয়সা কম নেব না | কাল থেকে অফিস যেতেই হবে , লাস্ট তিন দিন যাওয়া হয়নি | বাবার পাইলসের একটা ওষুধ আনতে হবে , ছোট মেয়ে একটা চুলের ক্লিপ চেয়েছে | আগের টা নাকি দিদি ভেঙ্গে দিয়েছে..এসব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতেই কখন ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়াল নেই |

ঘুম ভাঙ্গলো আবার দরজার বাইরে ধাক্কাধাক্কি তে , এবারে সন্তু | চারদিকে রোদ চকচক করছে , গাছের পাতা গুলো যেন নতুনের মত ঝলমলে | নর্দমা গুলো শুধু প্লাস্টিক প্যাকেট জমে জ্যাম হয়ে রয়েছে..পাঁকের গন্ধ উঠে আসছে সেখান দিয়ে |

জল নেবে যাবার আনন্দে সন্তু রা ক্রিকেট খেলছিল রাস্তায় | ছক্কায় বল এসে পড়েছে ওর ঘরের পিছনে, বুড়োর ঘরটার ঠিক পাশে | পিছনের দরজার ছিটকিনি খুলে বলটা নিতে যাবে , এমন সময় চোখ পড়ল বুড়োর জানলার ভিতর | পিন্টুদের রেখে যাওয়া খাটটাতে কিরম অস্বাভাবিক ভাবে হাঁটু মুড়ে শুয়ে আছে বুড়ো | কেমন একটা সন্দেহ হলো যাদবের | চারদিকে আলো আঁধারী তে বিশেষ দেখা যাচ্ছেনা , শুধু মনে হচ্ছে অনেক কাগজ ছড়িয়ে আছে আশেপাশে | আপ্রাণ কড়া নেড়েও যখন দরজা খুললনা বুড়ো , দু তিনজনকে নিয়ে ঘরের দরজা ধাক্কা মেরে ভেঙ্গে ঘরে ঢুকলো যাদব |

একটা ভ্যাপসা গন্ধ ঘরে, লাইট জ্বালিয়ে ফ্যান টা চালাল যাদব | ওর ওই নোংরা ব্যাগ টার চেন খোলা | সেখান থেকে বাইরে অনেক কাগজ এদিক ওদিক উড়ে গেল | বুড়োর মুখে সেইরকম একটা কাগজ আধা আধি ঢোকানো , কাগজটার ফর্মা খুব চেনা | মেনুকার্ড | আয়েশে চোখ বন্ধ করে যেন ঘুমোচ্ছে ও | দাঁত, আর কাগজের সংযোগস্থল থেকে শুকনো লালার দাগ নেমে গেছে গলা অবধি | আরও তিন চারটে মেনু কার্ড এদিক ওদিক ছিঁড়ে খুঁড়ে ছড়ানো | কিছু না খাওয়া বাটার ফ্রাই, কালিয়া আর পোলাও ওর মধ্যে খুঁজলে যে পাওয়া যাবে, এ ব্যাপারে যাদবের আর কোনো সন্দেহ ছিল না |







387 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: kihobejene

Re: মেনু

bhalo laglo; shesher twist ta interesting - apni guruchandali -r bonoful howar dike egochchen :-)
Avatar: সে

Re: মেনু

ভয়ঙ্কর।
Avatar: কল্লোল

Re: মেনু

গল্পর ভাবনাটা সাংঘাতিক। উপমার ক্ষেত্রে একটা নিরীক্ষার চেষ্টা, সব জায়গায় যে লাগসই হয়েছে, তা নয়। তবে গল্পের মুডটা রাখতে হয়তো কিছুটা সাহায্য করেছে। কিন্তু আর একটু সতর্ক হওয়া যেতো হয়তো।
প্রথমবার পোলাও খাওয়াটা আর একটু খেলিয়ে আসলে ভালো লাগতো। কেমন যেন মনেই হলো উনি স্বপ্ন দেখছেন। যেটা ক্লাইমেক্সের পক্ষে ক্ষতিকর। ওনার ব্যাগটা নিয়ে খেলা যেতো। টাকা-পয়সা আছে কি? নাকি অন্য কিছু, বা মাঝে মাঝে ওনার ঘর থেকে আমিনিয়া টাইপের রেস্টুরেন্টের খাবার প্যাকেটের ধ্বংসাবশেষ উড়ে আসতো, কিংবা, হাত মোছা টিস্যু, যাতে বিরীয়ানির গন্ধ লেগে। তাহলে জমে যেতো।
তবে অনেককাল পর জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর ঘরানার গল্প পড়লাম।


Avatar: সুরমান আলি মল্লিক

Re: মেনু

এতো সহজ ভাষায় কুড়ানো কথায় সাজানো গল্প খানি কি বলব।মজা পেলাম। ধন্যবাদ


Avatar: b

Re: মেনু

দারুণ গল্প।

Avatar: সৌম্যদীপ

Re: মেনু

বনফুল! কি বলছেন দাদা । উৎসাহের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। কল্লোল বাবু, নকশাল আন্দোলন ও কারাবাস নিয়ে বইটা কী আপনার লেখা? বইটি আমার ও বাবার খুব পছন্দের। আপনার পয়েন্ট গুলো ভাববো। আর জ্যোতি রিনদ্র নন্দী পড়া হয়নি, অনেক কিছুর মতো।
Avatar: সৌম্যদীপ

Re: মেনু

এই লেখাটি রসে বশে ওয়েব ম্যাগ এবছরের নববর্ষ সংখ্যায় প্রকাশিত।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন