Manash Nath RSS feed

Manash Nathএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পেয়ারাগাছ

Manash Nath

দোতালার রান্নাঘরের জানালা দিয়ে হাত বাড়ালেই ছোঁয়া যায় পিয়ারা গাছের ডালটাকে। তার লালচে কচিপাতা সাদা সাদা ফুল আর তীব্র সবুজ গুটিগুটি ফলগুলি আমাদের সামনেই বেড়ে ওঠে।
                   শহরে বড় গাছের জন্য জায়গা আর কোথায়? শহর উপকন্ঠে দু-তিন কাঠা জমিতে যে মধ্যবিত্ত বাড়ি বানায়, কর্পোরেশন এর সিলিং মেনে আর না মেনে হোক.... সে আর গাছ লাগানোর জন্য কেন মাথা ঘামাবে! যদিও বেঁচে থাকতে অক্সিজেন লাগে আর অক্সিজেন এর জন্য গাছ লাগে এ তাদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা দুলেদুলে মুখস্ত করে কিন্তু নিজের বাড়ি বানানোর সময় সে একটুও জায়গা ছাড়ে না গাছ লাগানোর জন্য! যেটুকু ফালি থাকে সেটাও সিমেন্ট দিয়ে মুড়ে দেয়.... কে জানে বাবা যদি মাটি থেকে দেওয়ালে ড্যাম্প লেগে যায়!আর ফ্ল্যাটবাড়িতে তো জায়গাই নেই,ছাড় থাকলে সেখানে গাড়ির পার্কিং আর সেই গাড়ির উপর যদি আশেপাশের দৈবাৎ বেঁচে থাকা গাছ থেকে পাতা উড়ে এসে পড়ে তবে উদুম ঝগড়া! তবুও কিছু লোক সখ করে টবে শুধু নয় মাটিতেও গাছ লাগায় আর চারপাশে ঠাসাঠাসি ঘর বাড়ির মধ্যে দিয়ে তেরছা করে আসা রোদ্দুর চুষে নিয়ে তারা বেড়েও ওঠে।
           এই যেমন রান্নাঘর থেকে ছুঁতে পারা পেয়ারা গাছটি এখন ফলে ভরে উঠেছে। হাতের নাগালেই বেশ কয়েকটি ডাঁসা পিয়ারা, রোজই লক্ষ্য করি আর ভাবি আর একটু পুরুষ্টু হোক। তা আজ ঘুম থেকে উঠে দেখলাম একটা বুলবুলি এসে আমার তেগে রাখা পেয়ারাটা দিয়ে ভূরিভোজ করছে। একা নয় ব্যাটা জুটিতে জুটেছে আর মহা আনন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে পিয়ারা খাচ্ছে। আমার তো একদম হিংসা হলো না বেশ লাগলো.... খাক খাক।
                 একবার এক পিয়ারাচাষির সাথে কথা হয়েছিল। তবে চাষি বলতেই যেমন মাথায় টোকা, খর্বুটে, ঋণ মকুব করে দেওয়ার সরকারি ফরমানের আশায় বসে থাকা ছবি প্রবন্ধের পাতা থেকে যেমন উঠে আসে এ তেমন নয়। বেশ জীন্স পরা নতুন পালসার হাঁকানো চাষিভাই। লার্জ স্কেলে পিয়ারা চাষ করে এছাড়া লিচুরও বাগান আছে। তা কথায় কথায় সে বলছিল এই যে বাজারে আমরা ঝকঝকে পিয়ারা দেখতে পাই তা আনতে নাকি ছ ছবার অসুধ ছড়াতে হয়!! তাদের নামগুলোয় খুব অদ্ভুত!!  যেমন ফুল থেকে কুষি ধরলেই দেওয়া হয় "ওস্তাদ", তারপর ধরুন একটু বড় হলেই দেওয়া হবে " বক্সার"!!! গাছের গায়ে স্প্রে করতে হয় এই অসুধ মানে বিষ গুলি। কোন পোকা হবে না..... কোন প্রজাপতি মথ ডিম পেড়ে যাবে না ফলে শুঁয়োপোকা হবার চান্স নেই। কোন মৌমাছি, বোলতা, ভিমরুল বিরক্ত করবে না আর তাদের খেতে কোন পাখিও আসবে না। যদি কোন ত্যাদড় পাখি এসেও পড়ে মরবে..... ততক্ষণাৎ বিষ খেয়ে মরবে। আর যদি তাতেও না মরে, রাতের অন্ধকারে বাদুড় যদি পিয়ারা খেতে আসে তাদের জন্য গাছময় বিছান আছে জাল!!  বাঁকানো নখে জড়িয়ে গেলেই হল.. আর ছাড়াতে হচ্ছে না।
                  জঙ্গলে নাকি নিয়ম আছে একে অপরকে মেরে খেতে হয়। ডারউইন সাহেবও নাকি বলে গিয়েছেন যোগ্যরা ছাড়া আর কেউ টিঁকবে না ! কি জানি সত্যিই এমনটা হবে কিনা! আমার বাড়ি আমার জমি আমার দেশ আমার পৃথিবী.... গাছপালা আলো হাওয়া সব আমার। বাদবাকি সব ফালতু। হ্যাঁ,মনে পড়ে গেল.... এই সব মহার্ঘ্য ফল চাষের কোন কোন বাগানে একটু বড় হলেই ফলগুলির গায়ে প্লাস্টিকের জ্যাকেট পরিয়ে দেওয়া হয়। প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যে বেড়ে ওঠে লিচু আম পিয়ারা।শুনে বেশ রূপকের মত মনে হল আরকি!


183 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন