সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খান - ভালোবেসে খান

সুকান্ত ঘোষ

লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায় – তবে কিনা যত বড় লেবু তত বেশী সময় লাগবে তেতো হতে, ততক্ষণ আপনি কচলে যান। আমার ক্ষেত্রে এই কচলানোটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল ঠাওর করতে পারছি না, কিন্তু আপাতত আমি রীতিমত ফেড-আপ – বিদেশী খাবারের সাথে আমার কত ফ্যামিলিয়ারিটি, সেই বোঝানোর জন্য বাঙালী তথা জানাশুনা ভারতীয়দের নিদারুণ প্রচেষ্টা দেখে দেখে! কার বাড়িতে দিদিমা পিৎজা বানাতো – দাদু তিনতলার ছাদে অলিভ গাছ লাগিয়ে ছিলেন, কার মামা ছোটবেলায় বার্গার খেয়ে খেয়ে এখন পুরোপুরি অবিস এবং অম্বলের রুগি, কার দেশের বাড়িতে পাঁঠা দিয়ে থাই গ্রীন কারি হত, অ্যাভোকাডো দিয়ে পাস্তা কার স্কুল লাইফে ফেভারিটি টিফিন ছিল – ইত্যাদি, ইত্যাদি। এমন ফেড আপ আমি আগে হতাম ফেলে আসা চল্লিশ বিঘে আমবাগান, পঞ্চাশ বিঘে দিঘী এবং ততসহ হামেশা কুড়ি-ত্রিশ কিলো কাতলার গল্প শুনে। তাহলে সব বাঙালী বা ভারতীয়ই কি এক গোত্রের? মোটেই না – আমি মেজরিটির কথা বলছি মাত্র। না হলে খোদ কোলকাতাতেও বিদেশী রেষ্টূরান্ট চলছে কি করে? সে যতই ইণ্ডিয়ানাইজড্‌ হোক না কেন সেই বিদেশী খাবার! আর্ট-কালচার লাইনের সাথে এই লাইনের আঁতেলদের একটা প্রগাঢ় প্রধান মিল আছে, সেটা হল এই যে উভয় ক্ষেত্রেই ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশী। এটা বোঝা কি খুবই কষ্টের যে - যিনি খান, তিনি খান – এবং তিনিই কম ফাটান। গ্রীক স্যালাড আমি বুঝি তা পাঁচজনকে জানাবার জন্য দাদুকে দিয়ে ছাদে অলিভ গাছ লাগানোর সত্যি কি কোনও দরকার ছিল?

শ্রেষ্ঠ খাবার – এই কনসেপ্টটাই গোলমেলে। সর্বমতগ্রাহ্য ইউনিভার্সালি ভালো খাবার বলে দাগিয়ে দিয়ে গেলানো এবং চালানোর চেষ্টা করা তো আরোই জটিল মনস্তাত্ত্বিক আলোচনায় পর্যবসিত হতে পারে। আমি খাই, আমি খেয়েছি, আমি খেতে ভালোবাসি – এই তিন জিনিস নিয়ে আলোচনায় ভারতীয় জিনের মধ্যে ঘুঁষে থাকা কম্পিটিটিভ ব্যাপারটা রীতিমত প্রকট হয়ে পরে – সত্যের সাথে মিথ্যার রেশিওটা কন্ট্রোলের বাইরে চলে গিয়ে কখন যে ককটেল তেতো করে দেয় সেই খেয়াল আমাদের থাকে না! উচ্ছে খেতে ভালো লাগে না সেই বলাটা মা আর বউয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হিষ্টরিক্যালি। কিন্তু সুশি বা পাস্তা খেতে ভালো লাগে না এটা কি লোক সমাজে স্বীকার করা যায় নাকি?

কিন্তু প্রশ্ন হল কেন যাবে না? কেউ কি মাথার দিব্বি দিয়েছে নাকি যে সব খাবার ভালো লাগতেই হবে? নাঃ – কেউ দেয় নি। কোন নাম্বার কাটা যাবে নাকি যদি বলি কাঁচা হ্যারিং খেতে ভালো লাগে না? নাঃ – কেউ নাম্বার কাটার জন্য বসে নেই! কিন্তু ভাই বউয়ের খোঁচার হাত থেকে তুমি কি বাঁচাতে আসবে? আমি সেবার সরল মনে বললাম, সুশি জিনিসটা ঠিক আমার আসে না – পাশ থেকে বঊয়ের কি নিদারুণ গোঁত্তা – কেন, তুমি কি ভুলে গেলে সেই বার বেড়াতে গিয়ে অত ভালো সুশি খেলাম আমরা! কোথায় বেড়াতে গিয়ে সেই নিয়ে আর চটকানোর সাহায্য পেলাম না।

মোদ্দা কথা আমার বক্তব্য হল, বিদেশীরা যেমন সহজে বলতে পারে ভারতীয় খাবার আমার সহ্য হয় না – আমরা ভারতীয়রা কেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারব না যে স্প্যানিশ পাইয়া বা ইতালিয়াল রিসত্তো আমার সহ্য হয় না (যদি সত্যি অপছন্দের হয় আর কি)? বিদেশী খাবার সহ্য হয় না বলতে আমাদের বুক দুরুদুরু করে – কৈ, পাছন্দ নয়, সেটাও তো বুক ফুলিয়ে সচরাচর আমরা বলি না? ঐতিহাসিকরা এই জিনিসটায় তেমন নজর দেন নি – মনে হয় অনেক গবেষণার অপশন খালি রয়েছে। যদিও আমার গবেষণা বলছে এই সবের পিছনেই আছে ইনফিওরিটি কমল্পেক্স! তবে তেমন খ্যামতাওলা গবেষক হলে হয়ত প্রমান করে দেখাতে পারতেন যে আমাদের মধ্যে দাসত্বের বীজ ঢুকে থাকার জন্য সাদা প্রভুদের খাবার ভালো নয় বলতে আমাদের মধ্যে প্রবল অনিহা। এমনকি এর মধ্যে সাব-অলটার্ণ, সাব-মেসিভ, মেসোজিনিক, পোষ্টমডার্ণ বা মার্কসীয় তত্ত্ব ঢুকে থাকাও আশ্চর্য নয়! এ এক সোনার খনি, তেমন কোন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন নি এখনো বিশেষ কেউ – থিওরী ছড়াবার এই চান্স।

সাদা সাহেবদের মধ্যে এই আলোচনায় বৃটিশরা আসবে না – কারণ তিনশো বছর কাছাকাছি থেকেও ভারতীয়রা ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি যে মালগুলো ভারতে আসার আগে কি খেয়ে বাঁচত! নিজেদের বিয়ার এবং তারপর ভারতীয় কারি খেয়ে তৃপ্তির টেঁকুর ইংরেজরা না তুললে বিদেশে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্টের আজকের এই রমরমা ব্যবসা খাড়া হত না! এক সাদা চামড়া তো অন্য সাদা চামড়ার কথাই শুনবে তাই না? না হলে আমরা কানের গোড়ায় ঘ্যানঘ্যান করেও কি বিয়ারের পর কারি খাওয়াতে পারতাম সাদাদের? কেবলমাত্র ঘ্যান ঘ্যান করে সর্বত্র কোন খাবারকে পুশ করা গেলে বিদেশে আজকে কার্ড-রাইস আর ধোসার রমরমা হত – চিকেন টিক্কার নয়! বৃটিশরা বিন্ধ্য পর্বত পেরিয়ে তেমন সুবিধা করতে না পারার জন্য শুধু সাউথ ইন্ডিয়ানরাই বেঁচে যায় নি, ভারতীয় খাবার প্রতি আগ্রহ থাকা বিদেশীরাও বেঁচে গেছে – না হলে চিকেন টিক্কা মশালা নয়, রসম্‌ খেয়ে আশ মেটাতে হত!

কিছুদিন আগে বন্ধুরা আমাকে জানালো পুরাকালের বিখ্যাত ফোন কোম্পানী নোকিয়া-র মাথা নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছে এই বলে যে – আমরা হেরে গেলাম, অথচ আমাদের কোন দোষ ছিল না! অন্যদল তার্কিক বন্ধু জানালো, আসলে মাথা বলেছেন, আমাদের ‘তেমন’ কোন দোষ ছিল না! স্ট্রেস দিতে হবে ‘তেমন’ শব্দটির উপর। আরেকদল খাবারের প্লেট নিয়ে ব্যুফে অ্যাটাক করার ফাঁকে জানিয়ে গেল যে – এই ভাবেই হেরে যেতে হয়! ব্যুফের দিকে ভেসে যেতে যেতে ডপলার এফেক্টের মত ‘ডারউইন’, ‘ডারউইন’, ‘সারভাইভাল’, ‘ফিটেষ্ট’ এই সব জটিল শব্দবন্ধের উল্লেখ শুনলাম মনে হল। তো আমি সোমবার অফিসে এসে নোকিয়া কোম্পানীর গল্প আমার কলিগ মুথাইয়া মণিমারণ – কে শোনালাম। মন দিয়ে শুনে মণিমারণ বলল – কিন্তু, আমি তো আর মোবাইল বিক্রীর ব্যবসায় নেই! আমি বুদ্ধি যেহেতু প্রখর, তাই চট করে বুঝে গেলাম যে মণিমারণ বলতে চেয়েছে, আমাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে চলতে হয় না! এবার আরো বুদ্ধিমান পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, এতো লোক থাকতে আমি সেই গল্প মণিমারণকে শোনাতে গেলাম কেন?

মণিমারণ তামিল, মণিমারাণের বউ আরো নিখাদ তামিল – বাড়িতে তামিল চ্যানেল ছাড়া টিভি চলে না, তামিল খাওয়া ছাড়া অন্য কিছু ভাবার তো প্রশ্নই নেই! আমি মণিমারণকে কোথাও বেড়াতে যেতে দেখি নি – কেবল সিঙ্গাপুর, সেখান থেকে চেন্নাই – সেখান থেকে কোচি। এই চলছে বছরের পর বছর। এর প্রধান কারণ হল – মণির বউ তামিল ছাড়া অন্য খাবার খেতে পারে না। মানে বাকি সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারও নয় – নর্থ ইন্ডিয়ান তো বিজাতীয় বস্তু! একবার আমি মণিকে বালি বেড়াতে যেতে প্রায় কনভিন্স করে ফেলেছিলাম। বালির কুটা বীচের কাছে ডিস্কভারী হোটেল খুঁজে দিলাম যার লাগোয়া রয়েছে ভারতীয় রেষ্টুরান্ট ‘কুইন’। সব ঠিক ছিল – কিন্তু শেষ মুহুর্তে আবিষ্কৃত হল যে কুইল নর্থ ইন্ডিয়ান ক্যুজিন – তাই সেই বালি প্ল্যান বাতিল। মণি সিঙ্গাপুরের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট – তা ভারত যাবার সময় সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে ট্রেন্সফারের সময় মণি সপরিবারে চেক-আউট করে সিটিতে গিয়ে মণির বঊয়ের একমাত্র পছন্দের রেষ্টুরান্টকে খেয়ে এসে আবার চেন্নাই ফ্লাইট ধরে। তো সব জেনেই আমি ওই নোকিয়ার গল্পটা শোনাতে গিয়েছিলাম মণিকে – এই ভাবে সে এমন চললে মণি তো অবলুপ্ত হয়ে যাবে কোন এক দিন – কিন্তু পরিবর্তে মণি আমাকে এক অমোঘ জ্ঞান দিল – তাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে খেতে হয় না, বা লোককে ইমপ্রেসড করার জন্য খেতে! আহা রে – এটা যদি অনেক বাঙালী এবং ততসহ অনেক প্রবাসী ভারতীয় বুঝত। আমার চোখে মণিমারণ জাতীয় ব্যক্তিরা হচ্ছে গিয়ে লেজেন্ড – স্বজাতীয় চাপের কাছে মাথা না নুইয়ে নিজের খাদ্য-পছন্দ অকুন্ঠিত ভাবে স্বীকার করা – সে এক লুপ্তপ্রায় গুণ।

নিজের খাওয়া বিশ্বাসের উপর গোঁড়া থাকার জন্য মণিকে আমার শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা হয় – কোন হাঙ্কি পাঙ্কি নেই, লোক দেখানো নেই – আমার ভালো লাগে না অন্য খাবার, তাই খাবো না! বাঃ বাঃ, কি ফিলোসফি! এই সরল – কিন্তু কি কঠিন সেই মেনে চলা। বিশ্বাস হয় না এই জিনিস মেনটেন করা কি শক্ত? জিজ্ঞেস করুন তা হলে দেবু-দা কে –

দেবু-দা কে আমি যাই বলি, তা সে আগে থেকেই জানে – পৃথিবীর সব খাবার তার পছন্দ, কিন্তু বাঙালী খাবার ছাড়া সে খেতে পারে না। আপনি তার সামনে অন্য কোন দেশের খাবার নিয়ে মুখ খুলবেন নি – তার আগেই দেবু-দা জানিয়ে দেবে সেই খাবার তা চাখা। দেবু-দা হোটেল কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে – মানে, ইসে, হল-গিয়ে সহ অসংখ্য অর্ধ-তৎসম শব্দ সহযোগে, কোম্পানী বিদেশে পাঠাবার আগে দেওয়া কালচারাল অ্যাওয়ারনেশ ট্রেনিং-এ পই পই করে না-করতে বলা আমেরিকান অ্যাকসেন্টে বাঙালী উচ্চারণে যা বলল তার বাঙলা সারমর্ম হল –

- অ্যাই মেয়ে, তুমি আশেপাশে কোন ভালো রেষ্টুরান্ট সাজেষ্ট করতে পারো?
- কি ধরণের রেষ্টূরান্ট চাইছেন স্যার?
- ইয়ে, মানে – তোমাদের টাউনে যে রেষ্টুরান্ট বিখ্যাত আর কি
- তাহলে স্যার আপনি আমাদের শহরের ফেমাস লেবানীজ রেষ্টুরান্টটা ট্রাই করতে পারেন। যদি চান, আমি বুক করে দিতে পারি

লেবানীজ রেষ্টুরান্টের নাম শুনে দেবুদার অন্ডকোষ প্রায় শুকিয়ে এসেছে – সারাদিন মিটিং ঠেঙ্গিয়ে ডাল দিয়ে ভাত চটকে তন্দুরি সাঁটাবার তালে ছিল। লেবানীজ খাবার কি ভাবে, কোথা দিয়ে খায় দেবুদার জানা নেই – এবং আরো বড় কথা, জানার ইচ্ছেও নেই –

- কিন্তু এখন তো রাত হয়ে গ্যাছে – ক্যাব পাবার সমস্যা
- চিন্তা নেই স্যার, আমাদের হোটেলের ট্রান্সপোর্ট ড্রপ করে দেবে

দেবুদা এবার পুরোপুরি ফেঁসে গ্যাছে, অণ্ডকোষ শুকাবার পালা শেষ, এবার অন্ডকোষ ঘেমে উঠছে – শেষ প্রশ্নটা আসার আগে এতো ভনিতা করতে হচ্ছে – একেবারে বেলাইন হয়ে যাবার আগে –

- ইসে, তুমি কি আশে পাশে কোন ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট জানো বাই এনি চান্স? একচ্যুয়ালি আমার বন্ধুরা -----

কোন দরকার ছিল তো না এত কথার – ভারতীয় হয়ে ভারতীয় খাবার পছন্দ করা এমন কিছু লজ্জার ব্যাপার তো আর নয়! কিন্তু ওই যে বললাম, সবাই মণিমারণ হতে পারে না!

জোর করে সিনেমা, গান, রাজনীতি, খেলা, ওপেরা, গলফ, সাহিত্য – সমর সেন থেকে ফৈয়জ খান – সব ঠিক আছে – কিন্তু খাওয়া নিয়ে এই সব ছেনালীর এবং আঁতলামির কি মানে? বড় কষ্ট হয় – খাওয়া নিয়ে এহেন দ্বিচারিতা ঠিক না – যেখানে প্রামাণিত যে আমাদের জন্ম এবং বিবর্তন দুই হয়েছে খাবার জন্য – খাবার জন্যই সব, খাবার জন্যই আমরা – সেই ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ঠিক রাখতে পারলে তবেই না জাতি উন্নতি করতে পারবে! খাদ্য বিষয়ে আঁতলামো জাতিকে পিছিয়ে দেয় সেই বিষয়ে আমার কোন সন্দেহই নেই আজকাল! ইংরাজীতে বলতে গেলে – The fate of a nation depends on the way that they eat - কার উক্তি জানতে গুগুল সার্চ করুন।

আমার বন্ধু সাধন যে জীবনে উন্নতি করতে পরেছে (এখন এক কলেজের প্রফেসর – আমার কাছে সেটাই উন্নতির মাপকাঠি) তার প্রধান কারণ ছিল সে খাবার বিষয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে কুন্ঠিত হত না। সেই বি ই কলেজ থেকেই বুঝেছিলাম ওর হবে – সেই যে বার আমরা হোষ্টেল মেসে বসে গোপাল ঠাকুরের রাঁধা কষা মাংস, রুমালি রুটি, ফ্রায়েড রাইস সাঁটাচ্ছি, পাশের টেবিল থেকে চশমা চোখে লম্বু সুপ্রিয় মুখে ফ্রায়েড রাইস তুলেই ওয়াক, ওয়াক শব্দ করতে করতে বেসিনের দিকে ছুটল। কি হল কি হল প্রশ্নের ফাঁকে জানা গেল সুপ্রিয়র ফ্রায়েড রাইসে কুঁচো চিঙড়ি পড়ে গিয়েছিল – জৈন ধর্মালম্বী হবার জন্য কোন দিন মাছ মাংস খায় নি, তাই গন্ধ লেগে গ্যাছে – ফলতঃ বমন। সাধন আড়কানে শুনে নবম রুমালী রুটিতে নিমজ্জিত হতে হতে বলল – “ধুররররররররররররর বোকাচোদা”। মুখের গ্রাস শেষে হাড় চুষতে চুষতে ফাইন্যাল ভারডিক্ট – “যত্ত সব বাল ছাল নিরামিশাষীর দল”। খুবই সাটল ব্যাপার – কিন্তু বাঘের বাচ্চাদের এই ভাবেই আলাদা করা যায় অযুত ভেড়াদের থাকে।

তাহলে আমি কি মণিমারণের দলে? নাকি সাধনের? নাকি দেবুদার পদ্ধতির সমর্থনে কলম ধরছি? আমি কারো দলে নই – সিম্পল কথা বলতে চাইছি, আমার মতে বাইরে বেরিয়ে শুধুমাত্র ভারতীয় খানায় আবদ্ধ না থেকে, অন্য কিছু ট্রাই করলে অসুবিধাটা কোথায়? তবে কিনা – প্রথম বার অন্তত খেতে হবে, না খেলে আপনি বুঝবেন কি করে যে সে খাবার আপনার ভালো লাগবে না? খেয়ে দেখুন – নিতান্তই না ভালো না লাগলে আবার ফিরে যান আলু পোস্ত, রসম, রাজমা যাই হোক না কেন। তবে প্লীজ পরে আবার ফাটাবেন না থাই থেকে ভিয়েতনাম নিয়ে! না জেনে তর্ক করা আমাদের মজ্জাগত – আর্ট, কালচার লাইনে সেটা টলারেট করছি কোন ক্রমে। আর্ট-কালচার জিনিসগুলি লাইফে এশেনশিয়াল নয়, ফাউ – কিন্তু খাবার তো আর তা নয়! কোন জিনিস না খেয়ে সেই খাওয়া বিষয়ক জ্ঞান দেওয়া নিয়ে আমি খুবই মনোকষ্টে আছি। আমি জানি না আমার মত সাফারার আরো কেউ আছেন কিনা – থাকলে এই সাফারিং বন্ধ করার জন্য একটা আন্দোলন করার দরকার। নিদেনপক্ষে কলেজস্ট্রীটে একটা জমায়েত, বা একটা পিটিশনে সই –

তবে একটা কথা, বিদেশী খাবার খেতে হলে তাকে মর্যাদা দিয়েই খাওয়া উচিত বলে আমার ধারণা। মানে অরিজিন্যাল খাবারের গুষ্টির-তুষ্টি পুজো করে, তাকে সেই অরিজিন্যাল নামে ডাকার ঘোরতর বিরোধী আমি। সেই দিন এক গভীর প্রবন্ধে পড়লাম যে, ‘নুনু’ থাকা মানেই ‘পুরুষ’ নয়! আমি যদিও সারা জীবন তাই জানতাম – এমনকি ডাক্তারেরাও তাই জানত মনে হয়! বাচ্ছা পয়দা হল মায়ের পেট থেকে – ডাক্তারকাকু ছোট্ট নুনু নেড়েচেড়ে দেখে, গুল্লি গুল্লি বীচি ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে লিখে দিল বার্থ সার্টিফিকেটে ‘মেল’। কোন সমস্যার কিছু দেখি নি – আমার মত আরো লাখো লাখো পাবলিকও কিছুও ভুল দ্যাখে নি। কিন্তু না! সেই প্রবন্ধ পড়ে বুঝলাম যে ‘মেল’ হলেও সে ‘পুরুষ’ কনফার্মড নয়! ‘মাল’ হয়ে যাবার চান্সও আছে সুযোগ মত – বা ‘মেল’ ও ‘মাল’-এর মাঝামাঝি। আমি তো দেখলাম, বাঃ এতো বেশ ভালো যুক্তি! তো আমি যুক্তি দিলাম – ‘নুনু’ থাকলেই যেমন পুরুষ হয় না, তেমনি পাস্তা রাঁধলেই প্রকৃত ইতালিয়ান খাওয়া হয় না! গুচ্ছের সর্ষের তেল, গোল গোল (বা লম্বা লম্বা) ময়দার ফালি, তার মধ্যে মাংসের কুচো এবং তাতে কেনা সাদা বা লাল শস ঢেলে দিলেই পাস্তা এক্সপার্ট হওয়া যায় না! চিনুদা যেহেতু এক্সট্রা স্মার্ট তাই আরোএককাঠি উপরে গিয়ে বলল –

- যাই বলিস, এই ইতালিয়ানরা পিৎজায় ট্যামেটো শসের ব্যবহার ঠিক জানে না
- কেন চিনুদা, ওই তো পিৎজা বেসে রয়েছে শস
- কোথায় শস? আর আমার সাথে বেস মারাস না! ছড়ানো কোথায় উপরে? এর থেকে আমাদের কলকাতায় পিৎজা অনেক ভালো

চিনুদা ‘কেচাপ-এর কথা বলছিল – আমি অবশ্য জানি না কোলকাতায় কোথায় পিৎজার উপরে কেচাপ ছড়িয়ে (অ্যাজ এ জেনারেল প্র্যাকটিশ) সার্ভ করে! করলে তাদের ব্যান করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে -

এবার প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই আমি ভারতীয় খাবার নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে খেতে বলছি, তাহলে রেষ্টুরান্টে ঢুকে হাত দিয়ে খাওয়া, বা বেশ জোর করে খেয়ে ঢেঁকুর তোলা – এ সম্পর্কে আমার মতামত কি? এগুলি আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর ভিতরে অনেক গভীর জিনিস লুকিয়ে আছে। হাত দিয়ে খেয়ে বা আচমকা ঢেঁকুরে তুলে কত সম্পর্কের কুঁড়ি অকালে ঝরে যেতে দেখেছি। সেই ক্ষেত্রে আমার ডিফেন্স হল – মানুষ তো বিবর্তিত হয়েছে, অস্থানে হাত দিয়ে নাই বা খেলেন? আগে মানুষ ন্যাংটো হয়ে থাকত বলে এখনো থাকবে নাকি? আমার সমীক্ষা বলছে – রুটি, নান, লুচি, ধোসা জাতীয় খাদ্য, মানে যেগুলি ছিঁড়তে হয় সেগুলি হাত দিয়ে খাওয়া ‘সভ্য’ সমাজে অল্যাউড – বিখ্যাত বিদেশী হোটেলের ইন্ডিয়ান সেকশানেতেও। তবে হাত দিয়ে ভাত-মাংস খাওয়া নৈব-নৈব চ! অবশ্য টুরিষ্ট প্রধান জায়গা হলে, এবং খুব দামী ইণ্ডীয়ান রেষ্টুরান্ট না হলে, হাত দিয়ে ভাত চটকে আপনি একা খাবেন না – ভারত থেকে আগত শত শত কেশরী বা ডায়মণ্ড ট্র্যাভেলস্‌ ছাপ মধ্যবিত্ত আপনাকে সঙ্গ দেবে। তবে মনে রাখবেন “Animals feed themselves; men eat; but only wise men know the art of eating” – এবার আপনি মানুষ হবেন নাকি শিক্ষিত জন্তু, সেটা আপনার ব্যাপার!

আমার বন্ধু কুমার দোশীর সাথে একদিন আমষ্টারডাম রেড লাইট ডিষ্ট্রিক্ট এলাকার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট ‘কামাসূত্র’ তে খেতে গেছি। সেই রেষ্টূরান্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল এক ডাচ কলিগের কাছ থেকে। কুমার সেখানে গিয়ে ডাল, পালক পনীর, মিক্সড ভেজ, নান এই সব ভেজ ডিসের ওর্ডার দিয়ে ফেলল – একযাত্রায় আর পৃথক ফল হয় কেন সেই ভেবে আমিও কষ্ট করে ভেজ খাব ঠিক করলাম। তো সেদিন দেখলাম কুমারের ভেজ খাওয়া টলারেট করার থেকেও তার প্রবল বিদেশী রেষ্টুরান্টে বসে হাত দিয়ে চটকে খাওয়া টলারেট করা আরো বেশী চাপের! কুমার ধ্যান না মেডিটেশন কি যেন সব করত – সেই সব করে মনে হয় সে লোকলজ্জা জাতীয় ক্ষুদ্র বিষয়ের অনেক উর্দ্ধে উঠে যেতে পেরেছিল। কিন্তু আমি পারি নি – তার ফলে খাব কি, চোখ নামিয়ে কোন ক্রমে সময় অতিবাহিত করছি। একবার বললাম, কুমার ভাই, হাত দিয়ে না চটকালেই কি নয়? কুমার বলল, সুকি ভাই, টেনশনের কিছু নেই – এর রেড লাইট ডিসট্রিক্টে মূল কাজের মধ্যে একটা হল চটকানো, অনেক লোক এখানে শুধু চটকাতেই আসে – তাই বিন্দাস! আমার খাওয়া দেখার থেকে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখার রয়েছে পাশের জানালায়। আমি দেখলাম অকাট্য যুক্তি। তবুও মিনমিন করে বললাম – আরে সেতো সবাই মাংস নিয়েও এখানে ঘাঁটতে আসে, তোর মত নিরামিষ আর কে আছে? বাইরে বরফ পড়ছে, সাদা সাদা তুলোয় ঢেকে গেছে পুরানো বাড়ির ফাঁকের গলি, ফুটপাথ – আর আমি দেখছি কুমারের ডান হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে আসা সাদা রঙের রায়তা! সাদা কি সত্যিই শান্তির রঙ নাকি বেদনার? যাই হোক মূল কথা হল, কুমার বুক ফেলিয়ে খেল – আর আমি মরলাম চক্ষু লজ্জায়। এই কুমারও এক লেজেন্ড – সবাই কুমার হতে পারে না।

আমার এক চেনাশুনা ব্যক্তি নারায়ণ যার নাম সে আদপে নিরামিশাষি ব্রাহ্মণ। অর জন্যে সবাই নিরামিষ খাবারই অ্যারেঞ্জ করত – কিন্তু ওই যে মাল সেই হীনমন্যতায় ভুগত। সব জায়গাতে বলে, আমি অফসোরে জাহাজে থেকে তেলের পাইপ লাইন পেতেছি ১৬ বছর – আমিষ তো কোন ছাড় – অফসোরে থাকতে হলে যা পাবি তাই খেতে হবে। আত আমাকে বাঁচতে গিয়ে বিফ, পর্ক সব খেতে হয়েছে! ভালো কথা, আমার ইচ্ছে ছিল নারায়ণ বিফ (মানে স্টেক এর কথা বলছি) কি ভাবে খায় সেটা দেখার। ফর্ক-নাইফ দিয়ে নাকি আমরা যেমন কাটলেটের পিস তুলে কামড় মারি ঠিক তেমন ভাবে স্টেকে ডুবে যেতে! কিন্তু হায়, আমি এতো গুলো বছরেও বিফ তো কোন ছাড়, নারায়নকে চিকেনও খেতে দেখলাম ন। যেই দিনই একসাথে খাবার খেতে যাই, সেই দিনই ওর কিছউ একটা ব্রত বা পুজো বা অন্য কোন কারণ থাকে আমিষ না খাবার! অন্য নারায়ণ সাধনা করে পেতে হলেও, এই ধরণের নারায়ণ আমাদের চার পাশে পর্যাপ্ত ছড়িয়ে আছে তা বলাই বাহুল্য!

কে এল এম (এখন আবার এয়ার ফ্রান্স জুড়ে গ্যাছে) এয়ারলাইন্স যে খুব একটা কাষ্টমার ফ্রেন্ডলি, এ কথা তার পরম মিত্রও বলতে পারবে না। আমি আর ঈকেশ ভাই বিজনেস ট্রিপে যাচ্ছি বিজনেস ক্লাসে। তেল কোম্পানী আর যাই হোক, বিজনেস ক্লাস আর ফাইভ স্টার হোটেল প্রোভাইড করতে কোন দিন কার্পণ্য করে না। ঈকেশ ভাই প্রবল নিরামিষাশী – এবং আগাম ভেজ মিল অর্ডার করা থাকে। সেদিন কোন কারণে বিজনেস ক্লাসেও ভেজ মিল শেষ হয়ে গ্যাছে! ঈকেশ ভাইকে অন্য খাবার দিয়ে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে – কিন্তু ভাই সেই ‘হিন্দু ভেজিটেরিয়ান’ মিল ছাড়া খাবে না! সুন্দরী এয়ার হোষ্টেস উপরের একটা বোতাম খোলা স্কার্ট পড়ে প্রায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে ঈকেশের সামনে অন্য খাবার পেশ করার জন্য! কিন্তু ঈকেশ ভাই সেই গোঁ – আমি মনে মনে এই বার বলি সাবাস! কোম্পানীর পয়সায় এলে এই এক জিনিস, না হলে এমনিতে তো আমাদের বরাদ্দ সেই ক্যাটেল ক্লাস এবং নিদারুণ তুরুচ্চ। এখন বিজনেস ট্রিপের সময় আমাদের পিছনে ঝলমল করে বহুজাতীক কোম্পানীর ছাতা – যাদের সাথে এয়ার লাইন্সের মিলিয়ন ডলারের কারবার। আমি এবার ফিসফাস করে বলি – সাবাস! সাদা মেয়ে খান্ত দিল – তারপর কোথা থেকে পেল বলতে পারব না, কিন্তু মাইক্রোওয়েভে ঈকেশ ভাইকে ভাত, ডাল, আলুভাতে করে মাঝ আকাশে খাওয়ালো! ঈকেশ ভাই লেজেন্ড – সবাই ঈকেশ ভাই হতে পারে না।

তবে লেজেন্ডদের নিয়েও বেদনার দিক থাকতে পারে – যেমন থাকতে পারে চরম সুন্দরী নায়িকার অর্শ রোগ। কথা হল গিয়ে, একসাথে কারবার না করলে আমি পুরোটা টের পাবেন না। একবার এই ঈকেশভাইয়ের সাথে সুইজারল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে তেমনই মোহভঙ্গ হয়েছিল – প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটে বাজতে না বাজতেই রেন্টাল কাঠের বাড়িতে ফেরার তাড়া! কি না গিয়ে রেঁধে খেতে হবে – আর সারাদিন ঘুরে বেড়াবার সময় রাতে কি রান্না হবে সেই নিয়ে আলোচনা। পাহাড়ের চূড়া থেকে কেবল্‌ কার-এ করে নামছি – মনে হয় পৃথিবীর সুন্দরতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে থাকা কাঁচের সেই কেবল্‌ কার! আমি ভাবছি আকাশ, আমি ভাবছি মৃদু মৃদু কবিতা, গাছের গায়ে লেগে থাকে বরফ গলা জল – ওদিকে ঈকেশ ভাই চাইছে আলোচনা মাটিতে পা ঠেকিয়ে কোন গ্রসারী স্টোর্সে ঢোকা যায় সেই নিয়ে! তেমনি হয়েছে আবার জার্মানীর শ্যাম্পেন প্রভিন্সে রাত এগারোটার সময় এক নিঃঝুম ছোট শহরে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট খোঁজা। আমি বলছি জার্মানদের সংস্কৃত ভাষার উপর যতটা ইন্টারেষ্ট ততটা ইন্টারেষ্ট ভারতীয় খাবরের উপর নেই – ঈকেশ ভাই বলছে, না, আমি গুগুল ম্যাপে দেখে বেরিয়েছি! সেই খুঁজে খুঁজে এক দরজা, দরজায় টোকা, ঢুকে পরণের কোট হুকে ঝুলিয়ে আরেকটা দরজা খুলেই হাঁ! এমন আশর্য হতেও মাঝে মাঝে ভালো লাগে – বসার জায়গা নেই রেষ্টুরান্টে, জার্মানরা তন্দুরী নান, মসালা চিকেন সাঁটাচ্ছে! অনেক পরে বসার সীট পেলাম – শেষ পাতে মালিকের সাথে খাওয়া, তবে সে এক অন্য গল্প – পরের কোন এক পর্বে।

আমি বলি কি, খান – ভালোবেসে খান। যদি হাড় চুষতে ভালো লাগে তাহলে চুষুন। কেমন করে চুষবেন সেটা আপনার ব্যাপার। চোষার ধরনটা নিয়ে আঁতলামো করুণ, কিন্তু চোষা ফাঁকি দিয়ে নয়! চোষার আনন্দ নিজে নিন – কিছু জিনিস নেওয়াতে আনন্দ, কিছু জিনিস দেওয়াতে।

কিংবা ব্রিলাট-সাভারিন (Jean Anthelme Brillat-Savarin) এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি একবার ভেবে নিন – “Tell me what you eat, and I shall tell you what you are” মানে মোদ্দা কথায় নিজেকে যদি প্রকৃত চিনতে চান, তাহলে নিজের খাদ্যাভাসে সাচ্চা থাকুন – সেখানে ছড়ালে নিজেকে আর চেনা হয়ে উঠবে না! আরো একধাপ এগিয়ে – “The discovery of a new dish confers more happiness on humanity, than the discovery of a new star.”


2052 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 81 -- 100
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

কেজানে অব্জেক্তিফিকেষণ কিভাবে হচ্ছে আমি বুজ্ছিনা :( প্রডাকশন রিলেশন তো । এনাটমি বই কে কি অব্জেক্তিফিকেষণ বলি ? বলিনা কারণ অতি অর সাবজেক্ট এন্ড অবজেক্ট । ক্লিয়ার দিফায়ন্দ স্টেট । এয়ার হোস্টেস এর নিখুঁত ভাইটাল সত্যট থাকবে , সুন্দরী হবেন এসব জেনেই তো মেয়েরা এয়ার হোস্টেস একাডেমি তে ভর্তি হন । ওটা প্রডাকশন রিলেশন এর কন্ট্রাক্ট এর অঙ্গ ।

কোথাও এরকম তো নয় যে ক্লাসে ফিজিক্স পড়াতে দিয়ে বলছে পলকা ডট স্কার্ট পরে যাবেন ! উইদিন কন্ট্রাক্ট প্রডাকশন রিলেশন কিভাবে অব্জেক্তিফিকেষণ হয় আমার সিরিয়াসলি মাথায় ঢুকছেনা :)
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

সবই হল। কিন্তু ওই মহিলা মিসোজিনিস্ট কিনা ডিডিদা ছাড়া আর কেউ সৎসাহস দেখিয়ে কইলেন্না। যাঁরা কইলেন্না তাঁরা কিন্তু কেউ লাজুক নন, সুকি প্রসঙ্গে ঝপ করে মিসোজিনিস্ট ট্যাগাতে খুবই ভোকাল ছিলেন। :-)

বলাবাহুল্য, ডিডিদাকে ক।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

ছবিও দিয়ে দিই। দেখলেই আপুনাদের গা জ্বলে যাবে। কিন্তু এটা যাঁরা মাথা থেকে বেরিয়েছে, তাঁর সম্পর্কে নীরব থাকবেন। :-)



https://assets.bwbx.io/images/im2NwcHb76uQ/v1/-1x-1.jpg

Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

ওহো গোটা গোটা করে বলা হয়নি বলে কনফিউশন আছে নাকি? অবজেক্টিফাই করছেন সেই মহিলা। সোসেনবর্ণিত পথে উনি মিসোজিনির হাতিয়ার। হলো?
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

না হলনা। হাতিয়ার মানে 'অস্ত্র হিসেবে কাজ করছেন'। ওতে 'আহা বেচারি মহিলা' হল। 'মিসোজিনিস্ট' হলনা।
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

বাহ সোন্দর ছবি , আমার অবশ্য এই হাওয়াইআন ঝুল্লু ঝুল্লু লুস এন্ডস এর চে ফুল বডি পেইন্টিং বেশি পছন্দ । বেশ প্রতিবার ট্রিপে আলাদা আলাদা থীম পেইন্ট হবে । কখনো বাঘ ,কখনো পাখি , কখনো টেকনো থীম ।

ফ্লাইটের ভেতরের মত বোরিং জায়গা পৃথিবীতে কমই আছে :|
Avatar: sosen

Re: খান - ভালোবেসে খান

এই মেয়েগুলোকে দেখলে গা জ্বলে যাবে? কোনো কিছুই তো জ্বলল না।

চোখের দোষ।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

কিন্তু মিসোজিনির অভিযোগ থেকে তো রোবু আর আমি দুজনেই সুকিকে রেহাই দিয়ে দিয়েছি হুহা স্পিডে। সেটা কি ইগনোর দিচ্চো?

ডাকাত সর্দারের ডান হাত ডাকাতই হয় তো, বেচারা কেন হবে। ইনিও তাই, আমি এঁকে পরিভাষায় কি বলে তোয়াক্কা না করে মিসোজিনিস্টই বলবো।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

ইগনোর দিইনি তো। সেখানেই স্টিক করে হানিসিং ইত্যাদি টেনে না আনলে তক্কের কিছুই ছিলনা ও তো। :-) আমি তো রোবুর সঙ্গে তক্কো করছিনা।

তা, এই মহিলাকে যখন মিসোজিনিস্ট বলাই হল, দুইখান কথা কই। ব্যাপারটা কী বিপজ্জনক দিকে যাচ্ছে দেখো। এই নগুয়েন থি মোসোজিনিস্ট। অপোন্না সেন (সানন্দার সম্পাদক) একই সূত্রে মিসোজিনিস্ট। পুনম পান্ডে (নিজেকে রসোগোল্লার মতো প্রেজেন্ট করেন), মিসোজিনিস্ট। আরেকটু লম্বা করে টানলে যে মেয়ে শরীর দেখিয়ে ডিস্কো যায়, সেও মিসোজিনিস্ট। এইভাবে টানতে থাকলে যারা লিপিস্টিক লাগান, ভুরু প্লাক করেন (সবই তো অবজেক্টিফিকেশনের চক্কর), সবই মিসোজিনি, মেল গেজের চক্কর ইত্যাদি। 'চয়েস' বলতে আর কি কিছু বাকি রইল?

এর মধ্যে, আগেই পড়লাম, যাঁরা লিপস্টিক লাগান তাঁরা বাদ। কেন বাদ সেটা এস্টাবলিশ করে দিলে ভালো হয়। যাঁরা লিপস্টিক লাগান, তাঁরা কি যৌনভাবে নিজেকে অবজেক্টিফাই করছেন না, ঠিক যেমন ভাবে অবজেক্টিফিকেশন হয় বিকিনিতে?
Avatar: pi

Re: খান - ভালোবেসে খান

একক, আমার বক্তব্য তো ছিল, এই টইয়ের যুক্তিতে সেটা অবজেক্টিফিকেশন হয় ( মিসোজিনিস্ট অব্দি গেলাম ই না)।

Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

তোমার পয়েন্ট বুঝলাম। কিন্তু মেয়েদের শরীর বলতেই অবজেক্ট ফর সেক্সুয়াল প্লেজার ছাড়া আর কিছু দেখতে না পাওয়া কি আমাদের খুব নিরাপদ কোন গন্তব্যে পৌঁছে দেয়? ওরা তো গাই টক করছে বলার মধ্যে কি তাতে প্রশ্রয় নেই? এই ভাবনার মধ্যে কি ইন্ট্রুশনের প্রিমিটিভ স্টেজ লুকিয়ে নেই, যে আরে আমার জন্যই তো সেজেছে, বাজিয়ে দেখিইনা একবার?
আমার অভিজ্ঞতা কিন্তু অন্য কথা বলে।
Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

ঈশেনবাবু এমন সোজা পেপারে পরীক্ষা নিচ্ছেন কেন? তারপর প্রশ্ন করবেন যেখানে প্রস্টিটিউশন লিগাল সেখানে সেরকম কোন সার্ভিস নেওয়া মিসোজিনি কিনা? আমি অবশ্য কনসেপ্টটা সদ্য শিখিচি।
Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

ঐসব বিমানসেবিকাদের সব সময় দাঁত বের করে রাখতে হয় নাকি! সেকি ভাল দেখাবে? হাসি নেই কিন্তু দন্তপাটি বিকশিত।
Avatar: pi

Re: খান - ভালোবেসে খান

আরো প্রশ্ন ছিল।
কোন সেক্স ওয়ার্কারের বা কোন মডেলের শরীর নিয়ে বলা বা যৌনতা টেনে আনা মিসোজিনিস্ট বা অবজেক্টিফিকেশনের আওতায় পড়বে ? বলা বলতে পাড়ার মোড় থেকে এঁদেরকে ডেকে শুনিয়ে চেঁচিয়ে বলে বলে উত্যক্ত করা বলছি না।
Avatar: sosen

Re: খান - ভালোবেসে খান

জাস্ট "ফিমেল" শব্দটাকেও মিসোজিনির উদাহরণ ধরা হয়। এইসব বড়ো বড়ো ব্যাপার ছেড়েই দিলাম।
দেখো, থিংকিং ব্যাকওয়ার্ড ইন আ প্যাটিয়ার্কিয়াল সোসাইটি ইজ নট ইজি। নাথিং ইজ সেট ইন স্টোন কোনটা কিসের আওতায় পড়বে, যখন পুরো সিস্টেমটা এইভাবে তৈরি হয়েছে এবং তুমি কাঁটা বেছে মাছ খাওয়ার চেষ্টা করছো। থিওরি উঠে আসছে প্রত্যেকদিন, বেসিক বিচ থিওরি, নিও-মিসোজিনি, তার কোনোটাই ডেফিনিটিভ নয়, তবে ডিস্ক্রিমিনেশন যেখানে প্রথমেই থাকে সেটাকে অ্যাড্রেস করা পার্সোনাল পরিসরে সম্ভব। চাইলে। না চাইলে নয়। এমপ্লয়মেন্ট ইক্যুইটি বলে অ্যাট্রাকটিভনেস যদি জবের ইনহেরেন্ট রিকোয়ারমেন্ট হয় তা হলে এম্প্লয়ার ক্যান ডিসক্রিমিনেট। ফর্সা মেয়ে চাইছে, এটাকে কি করে আটকানো যায় কেউ ভাবছে না, উল্টে হ্যাঁ কনজিউমার চাইছে বলছে? কালো হয়ে জন্মেছে বলে একটা মেয়ে এয়ারহস্টেস হতে পারবে না, এটা কিন্তু কেউ বলছে না। আবার কালোদের দেশে তো হচ্ছে, তাহলে যে ফর্সা হওয়া জবের ইনহেরেন্ট রিকোয়ারমেন্ট নয় সেটা নিয়ে কেউ মামলা করছে না, চিৎকার করছে না। উলটে কিঞ্চিৎ ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মাখছে, কারণ ঐ মূলগত ব্যাপার নিয়ে তো আমরা চিন্তিত নই। চোখের ক্ষিদে তো চিরকাল মিটছে, নাহয় চোখকে একটু উল্টোপথে শেখানো হোলো? অবশ্য তাহলে প্রগতি হয় না। আমাদের কার কার কাছে বিমানসেবিকার ভাইটাল স্ট্যাট সত্যি জরুরি কে জানে।


Avatar: Bhagidaar

Re: খান - ভালোবেসে খান

এট্টা কথা বলি?
এই থ্রেডে যারা যারা লেখার অংশবিশেষকে মিসোজিনিস্ট বলছেন, তাঁরা কথাটাকে "সেক্সিস্ট" এর সঙ্গে গোলাচ্ছেন্না তো?
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

এইভাবে ইতিহাস লিখলে যেকোনো ঐতিহাসিকের মার খাওয়া অবশ্যম্ভাবি। ধরুন প্রথমেই বলে দিলাম আকবর নরখাদক ছিলেন, গরীব মানুষকে চিবিয়ে খেতেন। তারপর প্রশ্ন করলে বললাম, দেখুন অতীতের সিচুয়েশন কী ছিল ভেবে বার করা খুব কঠিন, কে গরীব মানুষ খেতেন আর কে খেতেন না বোঝা ভারি শক্ত, সবারই খাবার চান্স ছিল ... এ নিয়ে নানারকম থিয়োরি বেরোচ্ছে, ইত্যাদি প্রভৃতি।
এরকম ব্যাখ্যা দিলে আপনার গরীব দরদ নিশ্চয়ই বোঝা যাবে, কিন্তু সেজন্য আপনার থিয়োরিটিকে কেউ ছাড় দেবেনা।

আপনাদের পুরো প্রোপোজিশনে বা তত্ত্বেই কোনো প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। 'ফিমেল' বা 'ছেলেবেলা' শব্দগুলিকে আজকের যুগে দাঁড়িয়ে মিসোজিনির বাহক কেন বলব? শব্দের উৎস সন্ধান করে? ও থেকে আদপেই কিছু বোঝা যায়? ওভাবে ভাবলে 'গার্ল' হল ফিমেল-শভিনিস্ট শব্দ, আর 'কিড' চাইল্ড অ্যাবিউজের হাতিয়ার। :-)

বস্তুত থিয়োরি কচ্চেন করুন, যেখানে যে যত খুশি করুন, কিন্তু থিয়োরি কল্লেই নানাপ্রকার প্রশ্নের উত্তর দেবার দায়ও থেকেই যাবে সেই ফ্রেমওয়ার্কের। সেগুলোকে এড়িয়ে গেলে কোনো থিয়োরিই দাঁড়াবেনা। (কোশ্নোগুলি আর রিপিট কল্লমনা)।
Avatar: :)

Re: খান - ভালোবেসে খান

হ্যাঁ, গোলাচ্ছেন। কিন্তু সে ওরা গোলাতেনই। কেবল সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
Avatar: sosen

Re: খান - ভালোবেসে খান

ইতিহাস ও থিওরি কোনোটাই আমার না, তবে ঐ ইয়ে, এখনো ঠিক পড়া করে আসুন বলতে পারিনা। যাগ্গে।
Avatar: সুকি

Re: খান - ভালোবেসে খান

টিম,
রোবুর মত আপনাকেও ধন্যবাদ - আসল কথায় ফিরে এসে ভুল শব্দ প্রয়োগ ইত্যাদি ক্লারিফাই করার জন্য। এই সততার জন্য আপনার ধন্যবাদ প্রাপ্য আমার তরফ থেকে।


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 81 -- 100


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন