সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...
  • দেশত্যাগ...
    আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা ...
  • পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা
    মানস চক্রবর্তীকবিতা কি বিনােদনসামগ্রী? তর্ক এ নিয়ে আপাতত নয়। কবিতা কি আদৌ কোনাে সামগ্রী? কোনাে কিছুকে পণ্য হয়ে উঠতে হলেও তার একটা যােগ্যতা দরকার হয়। আজকের দিনে কবিতা সে-অবস্থায় আদৌ আছে কি না সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। কবিতা নামে একটা ব্যাপার আছে, ...
  • হে মোর দেবতা
    তোমারি তুলনা তুমি....আজ তাঁর জন্মদিন। আমার জংলা ডায়রির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা উড়িয়ে দিলুম তাঁর ফেলে যাওয়া পথে।দাঁড়াও পথিকবর....জন্ম যদি তব অরণ্যে," সবুজ কাগজেসবুজেরা লেখে কবিতাপৃথিবী এখন তাদের হাতের মুঠোয়"(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)মহাভারত...
  • বেকার ও সমীকরণ
    'বেকার'-এই শব্দটি আমাকে আজন্ম বিস্মিত করেছে। বাংলায় লেখাপড়া শিখে, এমনকী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, সে কী বাংলায় পদার্থবিদ্যার বিদ্যা বালানীয় চর্চা! যেমন, 'ও বিন্দুর সাপেক্ষে ভ্রামক লইয়া পাই।' ভ্রামক কি রে? ভ্রম না ভ্রমণের কাছাকাছি? না, ভ্রামকের ...
  • ধানবাদের রায়বাবু
    অরূপ বসুবেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিলাম, ভাল নেই ধানবাদের রায়বাবু। অরুণকুমার রায়ের স্মিত হাসিমুখ ছবির সঙ্গে সেই খবর পড়ে অনেকেই বিচলিত হয়েছিলেন। এখন লিখতে হচ্ছে, ধানবাদের রায়বাবু আর নেই! যে খবর ইতিমধ্যেই অনেকের হৃদয়, মন বিবশ করেছে। রায়বাবু নেই, কিন্তু ...
  • চন্দ্রকান্ত নাকেশ্বর
    চন্দ্রযান-৩ যখন ফাইনালি টুক করে চাঁদে নেমেই পড়ল তখন 'বিশ্বে সে কী কলরব, সে কী মা ভক্তি, সে কী মা হর্ষ'-র মধ্যে বোম্বে ফিল্ম কোম্পানি ঠিক করল একটা ছবি বানাবে। চন্দ্রযান-১ যখন চাঁদে গেছিল, তখন একটুও ফুটেজ পায়নি। কিন্তু তারপর মঙ্গলযান নিয়ে একটা আস্ত ছবি হয়ে ...
  • পাখিদের পাঠশালা
    'আচ্ছা, সারা দেশে মোট কতজন ক্যান্ডিডেট এই পরীক্ষাটা দেয়?', লোকটা সিগারেটে একটা টান দিয়ে প্রশ্ন করলো।-'জানা নেই। তবে লাখ দশেক তো হবেই।', আমি বললাম।- 'বাব্বা! এতজন! সিট কতো ?'-'বলতে পারব না। ভাল কলেজ পেতে গেলে মেরিট লিস্টে যথেষ্ট ওপরে নাম থাকতে হবে।'-' তার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খান - ভালোবেসে খান

সুকান্ত ঘোষ

লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায় – তবে কিনা যত বড় লেবু তত বেশী সময় লাগবে তেতো হতে, ততক্ষণ আপনি কচলে যান। আমার ক্ষেত্রে এই কচলানোটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল ঠাওর করতে পারছি না, কিন্তু আপাতত আমি রীতিমত ফেড-আপ – বিদেশী খাবারের সাথে আমার কত ফ্যামিলিয়ারিটি, সেই বোঝানোর জন্য বাঙালী তথা জানাশুনা ভারতীয়দের নিদারুণ প্রচেষ্টা দেখে দেখে! কার বাড়িতে দিদিমা পিৎজা বানাতো – দাদু তিনতলার ছাদে অলিভ গাছ লাগিয়ে ছিলেন, কার মামা ছোটবেলায় বার্গার খেয়ে খেয়ে এখন পুরোপুরি অবিস এবং অম্বলের রুগি, কার দেশের বাড়িতে পাঁঠা দিয়ে থাই গ্রীন কারি হত, অ্যাভোকাডো দিয়ে পাস্তা কার স্কুল লাইফে ফেভারিটি টিফিন ছিল – ইত্যাদি, ইত্যাদি। এমন ফেড আপ আমি আগে হতাম ফেলে আসা চল্লিশ বিঘে আমবাগান, পঞ্চাশ বিঘে দিঘী এবং ততসহ হামেশা কুড়ি-ত্রিশ কিলো কাতলার গল্প শুনে। তাহলে সব বাঙালী বা ভারতীয়ই কি এক গোত্রের? মোটেই না – আমি মেজরিটির কথা বলছি মাত্র। না হলে খোদ কোলকাতাতেও বিদেশী রেষ্টূরান্ট চলছে কি করে? সে যতই ইণ্ডিয়ানাইজড্‌ হোক না কেন সেই বিদেশী খাবার! আর্ট-কালচার লাইনের সাথে এই লাইনের আঁতেলদের একটা প্রগাঢ় প্রধান মিল আছে, সেটা হল এই যে উভয় ক্ষেত্রেই ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশী। এটা বোঝা কি খুবই কষ্টের যে - যিনি খান, তিনি খান – এবং তিনিই কম ফাটান। গ্রীক স্যালাড আমি বুঝি তা পাঁচজনকে জানাবার জন্য দাদুকে দিয়ে ছাদে অলিভ গাছ লাগানোর সত্যি কি কোনও দরকার ছিল?

শ্রেষ্ঠ খাবার – এই কনসেপ্টটাই গোলমেলে। সর্বমতগ্রাহ্য ইউনিভার্সালি ভালো খাবার বলে দাগিয়ে দিয়ে গেলানো এবং চালানোর চেষ্টা করা তো আরোই জটিল মনস্তাত্ত্বিক আলোচনায় পর্যবসিত হতে পারে। আমি খাই, আমি খেয়েছি, আমি খেতে ভালোবাসি – এই তিন জিনিস নিয়ে আলোচনায় ভারতীয় জিনের মধ্যে ঘুঁষে থাকা কম্পিটিটিভ ব্যাপারটা রীতিমত প্রকট হয়ে পরে – সত্যের সাথে মিথ্যার রেশিওটা কন্ট্রোলের বাইরে চলে গিয়ে কখন যে ককটেল তেতো করে দেয় সেই খেয়াল আমাদের থাকে না! উচ্ছে খেতে ভালো লাগে না সেই বলাটা মা আর বউয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হিষ্টরিক্যালি। কিন্তু সুশি বা পাস্তা খেতে ভালো লাগে না এটা কি লোক সমাজে স্বীকার করা যায় নাকি?

কিন্তু প্রশ্ন হল কেন যাবে না? কেউ কি মাথার দিব্বি দিয়েছে নাকি যে সব খাবার ভালো লাগতেই হবে? নাঃ – কেউ দেয় নি। কোন নাম্বার কাটা যাবে নাকি যদি বলি কাঁচা হ্যারিং খেতে ভালো লাগে না? নাঃ – কেউ নাম্বার কাটার জন্য বসে নেই! কিন্তু ভাই বউয়ের খোঁচার হাত থেকে তুমি কি বাঁচাতে আসবে? আমি সেবার সরল মনে বললাম, সুশি জিনিসটা ঠিক আমার আসে না – পাশ থেকে বঊয়ের কি নিদারুণ গোঁত্তা – কেন, তুমি কি ভুলে গেলে সেই বার বেড়াতে গিয়ে অত ভালো সুশি খেলাম আমরা! কোথায় বেড়াতে গিয়ে সেই নিয়ে আর চটকানোর সাহায্য পেলাম না।

মোদ্দা কথা আমার বক্তব্য হল, বিদেশীরা যেমন সহজে বলতে পারে ভারতীয় খাবার আমার সহ্য হয় না – আমরা ভারতীয়রা কেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারব না যে স্প্যানিশ পাইয়া বা ইতালিয়াল রিসত্তো আমার সহ্য হয় না (যদি সত্যি অপছন্দের হয় আর কি)? বিদেশী খাবার সহ্য হয় না বলতে আমাদের বুক দুরুদুরু করে – কৈ, পাছন্দ নয়, সেটাও তো বুক ফুলিয়ে সচরাচর আমরা বলি না? ঐতিহাসিকরা এই জিনিসটায় তেমন নজর দেন নি – মনে হয় অনেক গবেষণার অপশন খালি রয়েছে। যদিও আমার গবেষণা বলছে এই সবের পিছনেই আছে ইনফিওরিটি কমল্পেক্স! তবে তেমন খ্যামতাওলা গবেষক হলে হয়ত প্রমান করে দেখাতে পারতেন যে আমাদের মধ্যে দাসত্বের বীজ ঢুকে থাকার জন্য সাদা প্রভুদের খাবার ভালো নয় বলতে আমাদের মধ্যে প্রবল অনিহা। এমনকি এর মধ্যে সাব-অলটার্ণ, সাব-মেসিভ, মেসোজিনিক, পোষ্টমডার্ণ বা মার্কসীয় তত্ত্ব ঢুকে থাকাও আশ্চর্য নয়! এ এক সোনার খনি, তেমন কোন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন নি এখনো বিশেষ কেউ – থিওরী ছড়াবার এই চান্স।

সাদা সাহেবদের মধ্যে এই আলোচনায় বৃটিশরা আসবে না – কারণ তিনশো বছর কাছাকাছি থেকেও ভারতীয়রা ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি যে মালগুলো ভারতে আসার আগে কি খেয়ে বাঁচত! নিজেদের বিয়ার এবং তারপর ভারতীয় কারি খেয়ে তৃপ্তির টেঁকুর ইংরেজরা না তুললে বিদেশে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্টের আজকের এই রমরমা ব্যবসা খাড়া হত না! এক সাদা চামড়া তো অন্য সাদা চামড়ার কথাই শুনবে তাই না? না হলে আমরা কানের গোড়ায় ঘ্যানঘ্যান করেও কি বিয়ারের পর কারি খাওয়াতে পারতাম সাদাদের? কেবলমাত্র ঘ্যান ঘ্যান করে সর্বত্র কোন খাবারকে পুশ করা গেলে বিদেশে আজকে কার্ড-রাইস আর ধোসার রমরমা হত – চিকেন টিক্কার নয়! বৃটিশরা বিন্ধ্য পর্বত পেরিয়ে তেমন সুবিধা করতে না পারার জন্য শুধু সাউথ ইন্ডিয়ানরাই বেঁচে যায় নি, ভারতীয় খাবার প্রতি আগ্রহ থাকা বিদেশীরাও বেঁচে গেছে – না হলে চিকেন টিক্কা মশালা নয়, রসম্‌ খেয়ে আশ মেটাতে হত!

কিছুদিন আগে বন্ধুরা আমাকে জানালো পুরাকালের বিখ্যাত ফোন কোম্পানী নোকিয়া-র মাথা নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছে এই বলে যে – আমরা হেরে গেলাম, অথচ আমাদের কোন দোষ ছিল না! অন্যদল তার্কিক বন্ধু জানালো, আসলে মাথা বলেছেন, আমাদের ‘তেমন’ কোন দোষ ছিল না! স্ট্রেস দিতে হবে ‘তেমন’ শব্দটির উপর। আরেকদল খাবারের প্লেট নিয়ে ব্যুফে অ্যাটাক করার ফাঁকে জানিয়ে গেল যে – এই ভাবেই হেরে যেতে হয়! ব্যুফের দিকে ভেসে যেতে যেতে ডপলার এফেক্টের মত ‘ডারউইন’, ‘ডারউইন’, ‘সারভাইভাল’, ‘ফিটেষ্ট’ এই সব জটিল শব্দবন্ধের উল্লেখ শুনলাম মনে হল। তো আমি সোমবার অফিসে এসে নোকিয়া কোম্পানীর গল্প আমার কলিগ মুথাইয়া মণিমারণ – কে শোনালাম। মন দিয়ে শুনে মণিমারণ বলল – কিন্তু, আমি তো আর মোবাইল বিক্রীর ব্যবসায় নেই! আমি বুদ্ধি যেহেতু প্রখর, তাই চট করে বুঝে গেলাম যে মণিমারণ বলতে চেয়েছে, আমাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে চলতে হয় না! এবার আরো বুদ্ধিমান পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, এতো লোক থাকতে আমি সেই গল্প মণিমারণকে শোনাতে গেলাম কেন?

মণিমারণ তামিল, মণিমারাণের বউ আরো নিখাদ তামিল – বাড়িতে তামিল চ্যানেল ছাড়া টিভি চলে না, তামিল খাওয়া ছাড়া অন্য কিছু ভাবার তো প্রশ্নই নেই! আমি মণিমারণকে কোথাও বেড়াতে যেতে দেখি নি – কেবল সিঙ্গাপুর, সেখান থেকে চেন্নাই – সেখান থেকে কোচি। এই চলছে বছরের পর বছর। এর প্রধান কারণ হল – মণির বউ তামিল ছাড়া অন্য খাবার খেতে পারে না। মানে বাকি সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারও নয় – নর্থ ইন্ডিয়ান তো বিজাতীয় বস্তু! একবার আমি মণিকে বালি বেড়াতে যেতে প্রায় কনভিন্স করে ফেলেছিলাম। বালির কুটা বীচের কাছে ডিস্কভারী হোটেল খুঁজে দিলাম যার লাগোয়া রয়েছে ভারতীয় রেষ্টুরান্ট ‘কুইন’। সব ঠিক ছিল – কিন্তু শেষ মুহুর্তে আবিষ্কৃত হল যে কুইল নর্থ ইন্ডিয়ান ক্যুজিন – তাই সেই বালি প্ল্যান বাতিল। মণি সিঙ্গাপুরের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট – তা ভারত যাবার সময় সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে ট্রেন্সফারের সময় মণি সপরিবারে চেক-আউট করে সিটিতে গিয়ে মণির বঊয়ের একমাত্র পছন্দের রেষ্টুরান্টকে খেয়ে এসে আবার চেন্নাই ফ্লাইট ধরে। তো সব জেনেই আমি ওই নোকিয়ার গল্পটা শোনাতে গিয়েছিলাম মণিকে – এই ভাবে সে এমন চললে মণি তো অবলুপ্ত হয়ে যাবে কোন এক দিন – কিন্তু পরিবর্তে মণি আমাকে এক অমোঘ জ্ঞান দিল – তাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে খেতে হয় না, বা লোককে ইমপ্রেসড করার জন্য খেতে! আহা রে – এটা যদি অনেক বাঙালী এবং ততসহ অনেক প্রবাসী ভারতীয় বুঝত। আমার চোখে মণিমারণ জাতীয় ব্যক্তিরা হচ্ছে গিয়ে লেজেন্ড – স্বজাতীয় চাপের কাছে মাথা না নুইয়ে নিজের খাদ্য-পছন্দ অকুন্ঠিত ভাবে স্বীকার করা – সে এক লুপ্তপ্রায় গুণ।

নিজের খাওয়া বিশ্বাসের উপর গোঁড়া থাকার জন্য মণিকে আমার শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা হয় – কোন হাঙ্কি পাঙ্কি নেই, লোক দেখানো নেই – আমার ভালো লাগে না অন্য খাবার, তাই খাবো না! বাঃ বাঃ, কি ফিলোসফি! এই সরল – কিন্তু কি কঠিন সেই মেনে চলা। বিশ্বাস হয় না এই জিনিস মেনটেন করা কি শক্ত? জিজ্ঞেস করুন তা হলে দেবু-দা কে –

দেবু-দা কে আমি যাই বলি, তা সে আগে থেকেই জানে – পৃথিবীর সব খাবার তার পছন্দ, কিন্তু বাঙালী খাবার ছাড়া সে খেতে পারে না। আপনি তার সামনে অন্য কোন দেশের খাবার নিয়ে মুখ খুলবেন নি – তার আগেই দেবু-দা জানিয়ে দেবে সেই খাবার তা চাখা। দেবু-দা হোটেল কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে – মানে, ইসে, হল-গিয়ে সহ অসংখ্য অর্ধ-তৎসম শব্দ সহযোগে, কোম্পানী বিদেশে পাঠাবার আগে দেওয়া কালচারাল অ্যাওয়ারনেশ ট্রেনিং-এ পই পই করে না-করতে বলা আমেরিকান অ্যাকসেন্টে বাঙালী উচ্চারণে যা বলল তার বাঙলা সারমর্ম হল –

- অ্যাই মেয়ে, তুমি আশেপাশে কোন ভালো রেষ্টুরান্ট সাজেষ্ট করতে পারো?
- কি ধরণের রেষ্টূরান্ট চাইছেন স্যার?
- ইয়ে, মানে – তোমাদের টাউনে যে রেষ্টুরান্ট বিখ্যাত আর কি
- তাহলে স্যার আপনি আমাদের শহরের ফেমাস লেবানীজ রেষ্টুরান্টটা ট্রাই করতে পারেন। যদি চান, আমি বুক করে দিতে পারি

লেবানীজ রেষ্টুরান্টের নাম শুনে দেবুদার অন্ডকোষ প্রায় শুকিয়ে এসেছে – সারাদিন মিটিং ঠেঙ্গিয়ে ডাল দিয়ে ভাত চটকে তন্দুরি সাঁটাবার তালে ছিল। লেবানীজ খাবার কি ভাবে, কোথা দিয়ে খায় দেবুদার জানা নেই – এবং আরো বড় কথা, জানার ইচ্ছেও নেই –

- কিন্তু এখন তো রাত হয়ে গ্যাছে – ক্যাব পাবার সমস্যা
- চিন্তা নেই স্যার, আমাদের হোটেলের ট্রান্সপোর্ট ড্রপ করে দেবে

দেবুদা এবার পুরোপুরি ফেঁসে গ্যাছে, অণ্ডকোষ শুকাবার পালা শেষ, এবার অন্ডকোষ ঘেমে উঠছে – শেষ প্রশ্নটা আসার আগে এতো ভনিতা করতে হচ্ছে – একেবারে বেলাইন হয়ে যাবার আগে –

- ইসে, তুমি কি আশে পাশে কোন ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট জানো বাই এনি চান্স? একচ্যুয়ালি আমার বন্ধুরা -----

কোন দরকার ছিল তো না এত কথার – ভারতীয় হয়ে ভারতীয় খাবার পছন্দ করা এমন কিছু লজ্জার ব্যাপার তো আর নয়! কিন্তু ওই যে বললাম, সবাই মণিমারণ হতে পারে না!

জোর করে সিনেমা, গান, রাজনীতি, খেলা, ওপেরা, গলফ, সাহিত্য – সমর সেন থেকে ফৈয়জ খান – সব ঠিক আছে – কিন্তু খাওয়া নিয়ে এই সব ছেনালীর এবং আঁতলামির কি মানে? বড় কষ্ট হয় – খাওয়া নিয়ে এহেন দ্বিচারিতা ঠিক না – যেখানে প্রামাণিত যে আমাদের জন্ম এবং বিবর্তন দুই হয়েছে খাবার জন্য – খাবার জন্যই সব, খাবার জন্যই আমরা – সেই ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ঠিক রাখতে পারলে তবেই না জাতি উন্নতি করতে পারবে! খাদ্য বিষয়ে আঁতলামো জাতিকে পিছিয়ে দেয় সেই বিষয়ে আমার কোন সন্দেহই নেই আজকাল! ইংরাজীতে বলতে গেলে – The fate of a nation depends on the way that they eat - কার উক্তি জানতে গুগুল সার্চ করুন।

আমার বন্ধু সাধন যে জীবনে উন্নতি করতে পরেছে (এখন এক কলেজের প্রফেসর – আমার কাছে সেটাই উন্নতির মাপকাঠি) তার প্রধান কারণ ছিল সে খাবার বিষয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে কুন্ঠিত হত না। সেই বি ই কলেজ থেকেই বুঝেছিলাম ওর হবে – সেই যে বার আমরা হোষ্টেল মেসে বসে গোপাল ঠাকুরের রাঁধা কষা মাংস, রুমালি রুটি, ফ্রায়েড রাইস সাঁটাচ্ছি, পাশের টেবিল থেকে চশমা চোখে লম্বু সুপ্রিয় মুখে ফ্রায়েড রাইস তুলেই ওয়াক, ওয়াক শব্দ করতে করতে বেসিনের দিকে ছুটল। কি হল কি হল প্রশ্নের ফাঁকে জানা গেল সুপ্রিয়র ফ্রায়েড রাইসে কুঁচো চিঙড়ি পড়ে গিয়েছিল – জৈন ধর্মালম্বী হবার জন্য কোন দিন মাছ মাংস খায় নি, তাই গন্ধ লেগে গ্যাছে – ফলতঃ বমন। সাধন আড়কানে শুনে নবম রুমালী রুটিতে নিমজ্জিত হতে হতে বলল – “ধুররররররররররররর বোকাচোদা”। মুখের গ্রাস শেষে হাড় চুষতে চুষতে ফাইন্যাল ভারডিক্ট – “যত্ত সব বাল ছাল নিরামিশাষীর দল”। খুবই সাটল ব্যাপার – কিন্তু বাঘের বাচ্চাদের এই ভাবেই আলাদা করা যায় অযুত ভেড়াদের থাকে।

তাহলে আমি কি মণিমারণের দলে? নাকি সাধনের? নাকি দেবুদার পদ্ধতির সমর্থনে কলম ধরছি? আমি কারো দলে নই – সিম্পল কথা বলতে চাইছি, আমার মতে বাইরে বেরিয়ে শুধুমাত্র ভারতীয় খানায় আবদ্ধ না থেকে, অন্য কিছু ট্রাই করলে অসুবিধাটা কোথায়? তবে কিনা – প্রথম বার অন্তত খেতে হবে, না খেলে আপনি বুঝবেন কি করে যে সে খাবার আপনার ভালো লাগবে না? খেয়ে দেখুন – নিতান্তই না ভালো না লাগলে আবার ফিরে যান আলু পোস্ত, রসম, রাজমা যাই হোক না কেন। তবে প্লীজ পরে আবার ফাটাবেন না থাই থেকে ভিয়েতনাম নিয়ে! না জেনে তর্ক করা আমাদের মজ্জাগত – আর্ট, কালচার লাইনে সেটা টলারেট করছি কোন ক্রমে। আর্ট-কালচার জিনিসগুলি লাইফে এশেনশিয়াল নয়, ফাউ – কিন্তু খাবার তো আর তা নয়! কোন জিনিস না খেয়ে সেই খাওয়া বিষয়ক জ্ঞান দেওয়া নিয়ে আমি খুবই মনোকষ্টে আছি। আমি জানি না আমার মত সাফারার আরো কেউ আছেন কিনা – থাকলে এই সাফারিং বন্ধ করার জন্য একটা আন্দোলন করার দরকার। নিদেনপক্ষে কলেজস্ট্রীটে একটা জমায়েত, বা একটা পিটিশনে সই –

তবে একটা কথা, বিদেশী খাবার খেতে হলে তাকে মর্যাদা দিয়েই খাওয়া উচিত বলে আমার ধারণা। মানে অরিজিন্যাল খাবারের গুষ্টির-তুষ্টি পুজো করে, তাকে সেই অরিজিন্যাল নামে ডাকার ঘোরতর বিরোধী আমি। সেই দিন এক গভীর প্রবন্ধে পড়লাম যে, ‘নুনু’ থাকা মানেই ‘পুরুষ’ নয়! আমি যদিও সারা জীবন তাই জানতাম – এমনকি ডাক্তারেরাও তাই জানত মনে হয়! বাচ্ছা পয়দা হল মায়ের পেট থেকে – ডাক্তারকাকু ছোট্ট নুনু নেড়েচেড়ে দেখে, গুল্লি গুল্লি বীচি ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে লিখে দিল বার্থ সার্টিফিকেটে ‘মেল’। কোন সমস্যার কিছু দেখি নি – আমার মত আরো লাখো লাখো পাবলিকও কিছুও ভুল দ্যাখে নি। কিন্তু না! সেই প্রবন্ধ পড়ে বুঝলাম যে ‘মেল’ হলেও সে ‘পুরুষ’ কনফার্মড নয়! ‘মাল’ হয়ে যাবার চান্সও আছে সুযোগ মত – বা ‘মেল’ ও ‘মাল’-এর মাঝামাঝি। আমি তো দেখলাম, বাঃ এতো বেশ ভালো যুক্তি! তো আমি যুক্তি দিলাম – ‘নুনু’ থাকলেই যেমন পুরুষ হয় না, তেমনি পাস্তা রাঁধলেই প্রকৃত ইতালিয়ান খাওয়া হয় না! গুচ্ছের সর্ষের তেল, গোল গোল (বা লম্বা লম্বা) ময়দার ফালি, তার মধ্যে মাংসের কুচো এবং তাতে কেনা সাদা বা লাল শস ঢেলে দিলেই পাস্তা এক্সপার্ট হওয়া যায় না! চিনুদা যেহেতু এক্সট্রা স্মার্ট তাই আরোএককাঠি উপরে গিয়ে বলল –

- যাই বলিস, এই ইতালিয়ানরা পিৎজায় ট্যামেটো শসের ব্যবহার ঠিক জানে না
- কেন চিনুদা, ওই তো পিৎজা বেসে রয়েছে শস
- কোথায় শস? আর আমার সাথে বেস মারাস না! ছড়ানো কোথায় উপরে? এর থেকে আমাদের কলকাতায় পিৎজা অনেক ভালো

চিনুদা ‘কেচাপ-এর কথা বলছিল – আমি অবশ্য জানি না কোলকাতায় কোথায় পিৎজার উপরে কেচাপ ছড়িয়ে (অ্যাজ এ জেনারেল প্র্যাকটিশ) সার্ভ করে! করলে তাদের ব্যান করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে -

এবার প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই আমি ভারতীয় খাবার নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে খেতে বলছি, তাহলে রেষ্টুরান্টে ঢুকে হাত দিয়ে খাওয়া, বা বেশ জোর করে খেয়ে ঢেঁকুর তোলা – এ সম্পর্কে আমার মতামত কি? এগুলি আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর ভিতরে অনেক গভীর জিনিস লুকিয়ে আছে। হাত দিয়ে খেয়ে বা আচমকা ঢেঁকুরে তুলে কত সম্পর্কের কুঁড়ি অকালে ঝরে যেতে দেখেছি। সেই ক্ষেত্রে আমার ডিফেন্স হল – মানুষ তো বিবর্তিত হয়েছে, অস্থানে হাত দিয়ে নাই বা খেলেন? আগে মানুষ ন্যাংটো হয়ে থাকত বলে এখনো থাকবে নাকি? আমার সমীক্ষা বলছে – রুটি, নান, লুচি, ধোসা জাতীয় খাদ্য, মানে যেগুলি ছিঁড়তে হয় সেগুলি হাত দিয়ে খাওয়া ‘সভ্য’ সমাজে অল্যাউড – বিখ্যাত বিদেশী হোটেলের ইন্ডিয়ান সেকশানেতেও। তবে হাত দিয়ে ভাত-মাংস খাওয়া নৈব-নৈব চ! অবশ্য টুরিষ্ট প্রধান জায়গা হলে, এবং খুব দামী ইণ্ডীয়ান রেষ্টুরান্ট না হলে, হাত দিয়ে ভাত চটকে আপনি একা খাবেন না – ভারত থেকে আগত শত শত কেশরী বা ডায়মণ্ড ট্র্যাভেলস্‌ ছাপ মধ্যবিত্ত আপনাকে সঙ্গ দেবে। তবে মনে রাখবেন “Animals feed themselves; men eat; but only wise men know the art of eating” – এবার আপনি মানুষ হবেন নাকি শিক্ষিত জন্তু, সেটা আপনার ব্যাপার!

আমার বন্ধু কুমার দোশীর সাথে একদিন আমষ্টারডাম রেড লাইট ডিষ্ট্রিক্ট এলাকার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট ‘কামাসূত্র’ তে খেতে গেছি। সেই রেষ্টূরান্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল এক ডাচ কলিগের কাছ থেকে। কুমার সেখানে গিয়ে ডাল, পালক পনীর, মিক্সড ভেজ, নান এই সব ভেজ ডিসের ওর্ডার দিয়ে ফেলল – একযাত্রায় আর পৃথক ফল হয় কেন সেই ভেবে আমিও কষ্ট করে ভেজ খাব ঠিক করলাম। তো সেদিন দেখলাম কুমারের ভেজ খাওয়া টলারেট করার থেকেও তার প্রবল বিদেশী রেষ্টুরান্টে বসে হাত দিয়ে চটকে খাওয়া টলারেট করা আরো বেশী চাপের! কুমার ধ্যান না মেডিটেশন কি যেন সব করত – সেই সব করে মনে হয় সে লোকলজ্জা জাতীয় ক্ষুদ্র বিষয়ের অনেক উর্দ্ধে উঠে যেতে পেরেছিল। কিন্তু আমি পারি নি – তার ফলে খাব কি, চোখ নামিয়ে কোন ক্রমে সময় অতিবাহিত করছি। একবার বললাম, কুমার ভাই, হাত দিয়ে না চটকালেই কি নয়? কুমার বলল, সুকি ভাই, টেনশনের কিছু নেই – এর রেড লাইট ডিসট্রিক্টে মূল কাজের মধ্যে একটা হল চটকানো, অনেক লোক এখানে শুধু চটকাতেই আসে – তাই বিন্দাস! আমার খাওয়া দেখার থেকে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখার রয়েছে পাশের জানালায়। আমি দেখলাম অকাট্য যুক্তি। তবুও মিনমিন করে বললাম – আরে সেতো সবাই মাংস নিয়েও এখানে ঘাঁটতে আসে, তোর মত নিরামিষ আর কে আছে? বাইরে বরফ পড়ছে, সাদা সাদা তুলোয় ঢেকে গেছে পুরানো বাড়ির ফাঁকের গলি, ফুটপাথ – আর আমি দেখছি কুমারের ডান হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে আসা সাদা রঙের রায়তা! সাদা কি সত্যিই শান্তির রঙ নাকি বেদনার? যাই হোক মূল কথা হল, কুমার বুক ফেলিয়ে খেল – আর আমি মরলাম চক্ষু লজ্জায়। এই কুমারও এক লেজেন্ড – সবাই কুমার হতে পারে না।

আমার এক চেনাশুনা ব্যক্তি নারায়ণ যার নাম সে আদপে নিরামিশাষি ব্রাহ্মণ। অর জন্যে সবাই নিরামিষ খাবারই অ্যারেঞ্জ করত – কিন্তু ওই যে মাল সেই হীনমন্যতায় ভুগত। সব জায়গাতে বলে, আমি অফসোরে জাহাজে থেকে তেলের পাইপ লাইন পেতেছি ১৬ বছর – আমিষ তো কোন ছাড় – অফসোরে থাকতে হলে যা পাবি তাই খেতে হবে। আত আমাকে বাঁচতে গিয়ে বিফ, পর্ক সব খেতে হয়েছে! ভালো কথা, আমার ইচ্ছে ছিল নারায়ণ বিফ (মানে স্টেক এর কথা বলছি) কি ভাবে খায় সেটা দেখার। ফর্ক-নাইফ দিয়ে নাকি আমরা যেমন কাটলেটের পিস তুলে কামড় মারি ঠিক তেমন ভাবে স্টেকে ডুবে যেতে! কিন্তু হায়, আমি এতো গুলো বছরেও বিফ তো কোন ছাড়, নারায়নকে চিকেনও খেতে দেখলাম ন। যেই দিনই একসাথে খাবার খেতে যাই, সেই দিনই ওর কিছউ একটা ব্রত বা পুজো বা অন্য কোন কারণ থাকে আমিষ না খাবার! অন্য নারায়ণ সাধনা করে পেতে হলেও, এই ধরণের নারায়ণ আমাদের চার পাশে পর্যাপ্ত ছড়িয়ে আছে তা বলাই বাহুল্য!

কে এল এম (এখন আবার এয়ার ফ্রান্স জুড়ে গ্যাছে) এয়ারলাইন্স যে খুব একটা কাষ্টমার ফ্রেন্ডলি, এ কথা তার পরম মিত্রও বলতে পারবে না। আমি আর ঈকেশ ভাই বিজনেস ট্রিপে যাচ্ছি বিজনেস ক্লাসে। তেল কোম্পানী আর যাই হোক, বিজনেস ক্লাস আর ফাইভ স্টার হোটেল প্রোভাইড করতে কোন দিন কার্পণ্য করে না। ঈকেশ ভাই প্রবল নিরামিষাশী – এবং আগাম ভেজ মিল অর্ডার করা থাকে। সেদিন কোন কারণে বিজনেস ক্লাসেও ভেজ মিল শেষ হয়ে গ্যাছে! ঈকেশ ভাইকে অন্য খাবার দিয়ে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে – কিন্তু ভাই সেই ‘হিন্দু ভেজিটেরিয়ান’ মিল ছাড়া খাবে না! সুন্দরী এয়ার হোষ্টেস উপরের একটা বোতাম খোলা স্কার্ট পড়ে প্রায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে ঈকেশের সামনে অন্য খাবার পেশ করার জন্য! কিন্তু ঈকেশ ভাই সেই গোঁ – আমি মনে মনে এই বার বলি সাবাস! কোম্পানীর পয়সায় এলে এই এক জিনিস, না হলে এমনিতে তো আমাদের বরাদ্দ সেই ক্যাটেল ক্লাস এবং নিদারুণ তুরুচ্চ। এখন বিজনেস ট্রিপের সময় আমাদের পিছনে ঝলমল করে বহুজাতীক কোম্পানীর ছাতা – যাদের সাথে এয়ার লাইন্সের মিলিয়ন ডলারের কারবার। আমি এবার ফিসফাস করে বলি – সাবাস! সাদা মেয়ে খান্ত দিল – তারপর কোথা থেকে পেল বলতে পারব না, কিন্তু মাইক্রোওয়েভে ঈকেশ ভাইকে ভাত, ডাল, আলুভাতে করে মাঝ আকাশে খাওয়ালো! ঈকেশ ভাই লেজেন্ড – সবাই ঈকেশ ভাই হতে পারে না।

তবে লেজেন্ডদের নিয়েও বেদনার দিক থাকতে পারে – যেমন থাকতে পারে চরম সুন্দরী নায়িকার অর্শ রোগ। কথা হল গিয়ে, একসাথে কারবার না করলে আমি পুরোটা টের পাবেন না। একবার এই ঈকেশভাইয়ের সাথে সুইজারল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে তেমনই মোহভঙ্গ হয়েছিল – প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটে বাজতে না বাজতেই রেন্টাল কাঠের বাড়িতে ফেরার তাড়া! কি না গিয়ে রেঁধে খেতে হবে – আর সারাদিন ঘুরে বেড়াবার সময় রাতে কি রান্না হবে সেই নিয়ে আলোচনা। পাহাড়ের চূড়া থেকে কেবল্‌ কার-এ করে নামছি – মনে হয় পৃথিবীর সুন্দরতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে থাকা কাঁচের সেই কেবল্‌ কার! আমি ভাবছি আকাশ, আমি ভাবছি মৃদু মৃদু কবিতা, গাছের গায়ে লেগে থাকে বরফ গলা জল – ওদিকে ঈকেশ ভাই চাইছে আলোচনা মাটিতে পা ঠেকিয়ে কোন গ্রসারী স্টোর্সে ঢোকা যায় সেই নিয়ে! তেমনি হয়েছে আবার জার্মানীর শ্যাম্পেন প্রভিন্সে রাত এগারোটার সময় এক নিঃঝুম ছোট শহরে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট খোঁজা। আমি বলছি জার্মানদের সংস্কৃত ভাষার উপর যতটা ইন্টারেষ্ট ততটা ইন্টারেষ্ট ভারতীয় খাবরের উপর নেই – ঈকেশ ভাই বলছে, না, আমি গুগুল ম্যাপে দেখে বেরিয়েছি! সেই খুঁজে খুঁজে এক দরজা, দরজায় টোকা, ঢুকে পরণের কোট হুকে ঝুলিয়ে আরেকটা দরজা খুলেই হাঁ! এমন আশর্য হতেও মাঝে মাঝে ভালো লাগে – বসার জায়গা নেই রেষ্টুরান্টে, জার্মানরা তন্দুরী নান, মসালা চিকেন সাঁটাচ্ছে! অনেক পরে বসার সীট পেলাম – শেষ পাতে মালিকের সাথে খাওয়া, তবে সে এক অন্য গল্প – পরের কোন এক পর্বে।

আমি বলি কি, খান – ভালোবেসে খান। যদি হাড় চুষতে ভালো লাগে তাহলে চুষুন। কেমন করে চুষবেন সেটা আপনার ব্যাপার। চোষার ধরনটা নিয়ে আঁতলামো করুণ, কিন্তু চোষা ফাঁকি দিয়ে নয়! চোষার আনন্দ নিজে নিন – কিছু জিনিস নেওয়াতে আনন্দ, কিছু জিনিস দেওয়াতে।

কিংবা ব্রিলাট-সাভারিন (Jean Anthelme Brillat-Savarin) এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি একবার ভেবে নিন – “Tell me what you eat, and I shall tell you what you are” মানে মোদ্দা কথায় নিজেকে যদি প্রকৃত চিনতে চান, তাহলে নিজের খাদ্যাভাসে সাচ্চা থাকুন – সেখানে ছড়ালে নিজেকে আর চেনা হয়ে উঠবে না! আরো একধাপ এগিয়ে – “The discovery of a new dish confers more happiness on humanity, than the discovery of a new star.”


2048 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 61 -- 80
Avatar: সুকি

Re: খান - ভালোবেসে খান

রোবু,
আরে কোন ব্যাপার নয়। ক্ষমা-টমা এই সব বলে লজ্জা দেবেন না। আপনি যে উদারতা দেখিয়ে আপনার ভুল শব্দ প্রয়োগটা এখানে ফিরে এসে স্বীকার করলেন, এটাই একটা অনেক বড় ব্যাপার (অন্তত আমার কাছে) - সবার এই গুণটা থাকে না।

হ্যাঁ, কিছু কিছু পয়েন্ট এসেছে ভাবার মত - যে দুটি নিয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে ইন্টারেষ্টেড তার একটা হল

১। একক-এর উল্লিখিত লেখায় 'বিসদৃশ' ব্যাপারটা
২। ঈশান-এর উল্লিখিত 'কথ্য' ভাষায় লেখার স্টাইলটা নিয়ে

এই লেখাটা লেখার পর আমি পড়ে দেখেছি এবং মনে হয়েছে একক যেটা পয়েন্ট আউট করেছেন সেটা কোন কোন অংশে সত্যি।

আর কথ্য ভাষা নিয়েও কিছু বক্তব্য আছে, কারণ ঈশাণ মূল সুরটা ধরতে পেরেছেন। চান্স পেলে এই নিয়ে দুই চার কথা বলব।


Avatar: pi

Re: খান - ভালোবেসে খান

আচ্ছা, এয়ারহোস্টেসের চাকরির ক্রাইটেরিয়া কী ? খুঁজলে কীসব অদ্ভুত সব আসছে, এগুলো নির্ঘাৎ ভুলভাল হবে।

এই ফর্সা রঙ, অবিবাহিতা, এগুলো ক্রাইটেরিয়া থাকে ?

The basic skills that any air hostess should have are:

Age should be between at lest 18 to 21 years old
Should know how to swim.
Should have good eyesight.
Good command on English, Hindi and on other language in case of international.
Her passport should be valid in all over the world.
Air hostess should be Punctual and should be dedicated toward their job.
Should have the skill, how to work in a team
Air hostess should have calm and polite nature.
She should be physically fit
Pitch of the voice and the voice should be clear which should be understandable to all the passengers.
She should have fair complexion.
Air hostess should be unmarried.
She should have flexible nature because of the working hour.

নাঃ, আরো একজায়গায় পেলাম। এই ওয়েট হাইট রেশিও ও ক্রাইটেরিয়ার ই বা কী কারণ ? ফিটনেস দেখার জন্য তো মেডিক্যাল ফিটনেসই যথেষ্ট হবার কথা।

She should be 12th Pass
Some airlines prefer graduates with specialization in Hotel Management and Tourism.
Should be in between age group of 18 to 25 years.
Should have minimum height of 157.5 centimetres.
Should have weight proportion to height
Mastery in spoken Hindi, English and any other foreign languages will be an added advantage.
Should be unmarried ( Not all airlines have this condition)
Normal eyesight of 6/6 uncorrected in both eyes
Should hold an Indian Passport
Fair to clear complexion
Good Health / Physically fit
Pleasing personality
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

এত এক্সপ্লিসিট ফিসিকাল ডিটেল সব কোম্পানি লেখেনা । আন ম্যারেড , হাইট , ওয়েট আর জাস্ট প্রপর্শনেট ফিগার লেখা থাকে ।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

এই জন্যই তো ওই মহিলা বিলিওনিয়ারের নাম দিয়েছিলাম, যাঁর মাথা থেকে বিকিনি বিমান বালার কনসেপ্টটা বেরিয়েছে। আমি, একজন পুরুষ, যদি ওই পেলেনে উঠে 'উফ কী থাই' বলি, তাইলে আমি 'সেক্সুয়াল অবজেক্টিফিকেশন' করছি, অতএব আমি মিসোজিনিস্ট, এই তো যুক্তি। কোশ্নো হল ওই মহিলা, নগুয়েন থি, যাঁর মাথা থেকে এই আইডিয়া বেরিয়েছে, তিনি তাহলে কি? মহিলা মিসোজিনিস্ট?

একই প্রশ্ন সানন্দা জাতীয় 'মহিলা পত্রিকা'র এডিটোরিয়াল টিম প্রসঙ্গে, যাঁরা সেক্সুয়ালি অবজেক্টিফায়েড মহিলাশরীর ক্রমাগত ছেপে চলেছেন। একই প্রশ্ন গাদা গাদা মহিলা পরিচালিত বুটিক প্রসঙ্গে, যাঁরা 'সেক্সুয়ালি অবজেক্টিফাই' করার জন্য রিভিলিং পোশাক আশাক বানিয়ে চলেছেন। এবং একই প্রশ্ন সেই সমস্ত মহিলাদের প্রতি, যাঁরা নিজেদের সেক্সুয়ালিটিকে প্রকাশ করার জন্য প্রসাধন করেন (ধরুন লিপস্টিক মেখে থাকেন)। এঁরা কি সবাই মহিলা মিসোজিনিস্ট? জানতে চাই।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

মহিলা হয়ে অন্য মহিলা কে অবজেক্টিফাই করার মধ্যে কনফ্লিক্ট দেখিনা। সম্ভব তো।

কিন্তু একজন রিভিলিং পোষাক পরে সেক্সুয়ালিটি প্রকাশ করলেন আর অন্য একজন তাকে বাটার স্কচ আইসক্রিম ভাবলেন দুটো এক জিনিস নাকি? মামু একক এদের লজিকের এরকম অবস্থা কেন?
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

উঁহু। পোশ্নো হল ওই এয়ারলাইন্স মালকিন বা পত্রিকার সম্পাদিকা, যাঁর বস্তুতই বাটার স্কচ আইসক্রিমটি প্লেটে সাজাচ্ছেন, তাঁরা কি মিওসোজিনিস্ট? এ কথা কইবেন্না, যে তাঁরা ওই পোশাকগুলির 'আবেদন' সম্পর্কে কিচ্ছু না জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই কোশ্নোটির উত্তর চাই।

আর এছাড়া আপনার সেক্সুয়ালিটি আপনি এক্সপ্রেস করতেই পারেন। দেখে আহ্লাদিত হয়ে কেউ 'আহা কি সেক্সি, যেন বাটার স্কচ' ভাবতেই পারেন। কনফ্লিক্টটা কোথায় সেটাই বুঝতে পারছিনা। এখানে অবশ্যই বিরক্ত করার প্রশ্ন আসছেনা, ধরে নেওয়া হচ্ছে, আপনার নাকের ডগায় গিয়ে কেউ 'আয় তোকে খাবো' বলে জ্বালাচ্ছেনা। সে হলে অন্য প্রশ্ন।
Avatar: sosen

Re: খান - ভালোবেসে খান

টিম বৃথাই এই কষ্টটা করছে। হানি সিং টই অলওভার আগেইন।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

সোসেন ও অল ওভার এগেইন। :-) একটাই তো সিম্পুল প্রশ্ন রে বাবা। ওই মহিলা বিলিওনিয়ার কি মিসোজিনিস্ট? উত্তর দিতে কষ্টটা কিসের তো বুঝিনা। কনসেপ্টে গড়বড় থাকলে অন্য কথা।
Avatar: dd

Re: খান - ভালোবেসে খান

আমাকে জিগালেই তো ল্যাটা চোকে রে বাবা।

শুনুন। মিসোজিনিস্ট মানে যে মে'মানুষদের অতি অপছন্দো করে। হেট করে। দু চোক্ষে দেখতে পারে না। সেটাই মিসিজিনিস্ট।

অন্য মে মানুষদের সাজিয়ে গুজিয়ে সে ব্যবসা করতে চায়, সেটা মরালি খারাব হতেই পারে কিন্তু নারী বিদ্বেষী নয়। যেমতি পুরুষ ক্রিউদের স্যুট বুট টাই,ক্লীন শেভেন হ্যান ত্যান কল্লে সেটা পুরুষ বিদ্বেষী হয় না।

অতএব আমরা কন্ক্লুড করি যে ঐ মহিলা বিলিওনেয়ার মিসোজিনিস্ট নয়। কিউ ই ডি।

Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

আবার মনে হচ্ছে সেই পুরনো আলোচনা গুলো শুরু হবা , সেই "পুষ্প কি আপনার জন্য ফুটে ? " লাইনে । ছেলেরা প্রমান করার চেষ্টা করবে সীতার পা ছাড়া অন্যদিকে তাকানো মানেই খ্রাআপ , সামনে দিয়ে যে বিকিনি পরিহিতা হেঁটে যাচ্ছেন তিনি মোটেউ কাওকে প্রভোক করছেন না । আর মেয়েরা প্রমান করার চেষ্টা করবেন ইচ্ছে হয়েছে বিকিনি পরেছি , কারো ভালো লাগবে বলে নয় । এ এক অদ্ভূত প্রহেলিকা যুক্তিমালা :( কেও ভাবের ঘরে সত্যি টা বলবে না যে প্রভোক করেছি বেশ করেছি , দূর থেকে দ্যাখ , অনুমতি ছাড়া কাছে এলে কানের গোড়ায় দেব । কিরকম আপাদমস্তক পুরুষতন্ত্রে ঢাকা পরা একটা ফেমিনিস্ম পয়দা হয়েছে যারা নিজেদের রাইট টু প্রভোক তাই ছেড়ে দেয় :(( সেক্সুয়ালিটি এক্সপ্রেস আবার কি ? বাছুর নাকি যে ন্যাজ না তুললে এঁড়ে বকনা বোঝা যাবেনা । রীভিলিং পোশাক পরেছে প্রভোক করবে বলে । বেশ করেছে । লেট দেম এনজয় রাইট টু প্রভোক । কিন্তু কেও কারো ঘাড়ের উপর বা নাকের ডগায় গিয়ে জ্বালিও না যতক্ষণ না ওপর পক্ষ ক্লিয়ার সিগন্যাল দিচ্ছে । সেটা এন্সীয়র করো । তা নয় যত মরালিটি মাথার ভেতর ঢুকে কে কাকে কি ভাববে সেটাও ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা এসব একদম ক্রিসচিয়ান পাপবোধ থেকে আসে :|


যাঁরা এত সিওর হয়ে গ্যাছেন বিশ্বব্যাপী মিসজিনি নিয়ে তাঁদের দুটো জিনিস সাজেস্ট করছি । আগেও করেছি। একটা এরিয়েল ল্যাভি র "ফিমেল শভিনিস্ট পিগ " । অতি খাজা বই , কিন্তু গোটা থিওরি টা যে নিজেই নড়বড়ে সেটা বইটা পড়লে বোঝা যায় ।

দ্বিতীয় হচ্ছে : রিসেন্ট সনি লীয়নি-র সাক্ষাত্কার নিয়ে বিভিন্ন ফোরাম এ লম্ফঝম্প ও প্রবন্ধের ঢল নাব্ছিল , সবাই নানাদিকে মন্তব্য করছিল ....দুরকম মন্তব্য আসছিল লিবারাল দের থেকে । একটা হচ্ছে সানি দারুন বলেছে । এটা বেশি বলছিল ছেলে রা । মেয়েদের মধ্যে বেশিরভাগ লাইক দিচ্ছিল বা ভার্বালি আলোচনার সময় সাপোর্ট করছিল হু -হা করে , কিন্তু ফোরাম এও খেয়াল করেছি / সামনে আলোচনা তেও , মেয়েরা অনেকেই বলছিলেন এই মহিলা পর্ন করে মেয়েদের অব্জেক্তিফাই করেছে , এতদিন ধরে প্লে বয় -পেন্ট হাউসে পারফেক্ট ফিগার মডেল হয়ে থেকেছে ,ভাইটাল স্ট্যাট এর কনসেপ্ট এনরিচ করেছে , এখন বড় বড় কথা ।

তাহলে কি সানি মিসজিনিস্ট ? তাহলে লিবারেল রা অত উদ্বাহু নাচ্চ্ছিল যে ? এটা হোম ওয়ার্ক দিলুম :) একটু ভাবুন একটা শব্দ আঁকড়ে না থেকে । কোথাও একটা মেয়ে ভার্সাস মেয়ে আছে । যেটা পুরুষ ই ইনজেক্ট করেছে সিস্টেম টায় । গিলটি ফিলিং জাগানোর জন্যে । নিজে ঘাড়ের ওপর গিয়ে পরার দুর্বলতা কে কন্ট্রোল করার জন্যে অন্যের রাইট টু প্রভোক কেড়ে নেওয়া নেওয়া । যেটা খুব ন্যাচেরাল রাইট ।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

ডিডিদার থিয়োরি অনুযায়ী মেয়েদের সাজানো (মানে বিকিনি পরানো) তো মিসোজিনিস্ট নয় বোঝা গেল। বিকিনি পরা মেয়েদের দিকে জুলজুল করে তাকানো মিসোজিনিস্ট কিনা বোঝা গেলনা।
Avatar: dd

Re: খান - ভালোবেসে খান

না।

বোঝা না গ্যালেও ওটা মিসোজিনি না।

আচ্ছা আপনেরা দ্যাখেন্নি আর্শোলা মাকরসা নিয়ে খুব ঘ্যান্না পিত্তি। সেটা পোকাজিনি। হিটলারের ছিলো ইহুদীজিনি। আইসিসের বাকীসবাইজিনি।

এবারে বুঝলেন?
Avatar: dd

Re: খান - ভালোবেসে খান

বা ধরুন আমার দুর্দান্তো ঢ্যাঢ়শজিনি আছে। আমি খাই না রাঁধিনা বিকিনি পড়াই না জুল জুল করে তাকাই না। মুখ ভেটকে তাকাই।

ব্যাস। ইনাফ।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

না না আমি আর কষ্ট কচ্ছিনা যে যেমন বোঝে সেরকমি ভালো। ছুটি ঃ-)

সুকিকে মানে চেক না করে মিসোজিনিস্ট ইঙ্গিত করার জন্য সরি চেয়ে নিচ্ছি।
Avatar: pi

Re: খান - ভালোবেসে খান

কিন্তু এয়ারহোস্টেসের চাকরির জন্য এরকম প্রোপোর্শানেট ফিগার, অবিবাহিত, এসব ক্রাইটেরিয়াই বা চাওয়া হয় কেন ? ওনাদের কাজের যে কথা বলা হল, তার সাথে এগুলোর কী সম্পর্ক ? আর কে একজন প্রশ্ন করেছেন দেখলাম, সব সময় সুন্দরীদেরই নেওয়া হয় কেন ?
তাহলে কি এম্প্লয়াররাই অব্জেক্টিফিল্কেশন করে দিচ্ছেন ?
Avatar: sosen

Re: খান - ভালোবেসে খান

আমি অল ওভার আগেইন হচ্ছি না কারণ আমার কনসেপ্টে গড়বড় নেই আদৌ। আমি এই ধরনের লেখাকে মিসোজিনিস্ট মনে করি কারণ মিসোজিনির একটি বহু আলোচিত প্রাইমারি কম্পোনেন্ট হচ্ছে হাসিঠাট্টা, ব্যবহার, অত্যাচার যে কোনো প্রকারে মহিলাদের দেহ(অথবা অস্তিত্ব) সম্পর্কিত সেল্ফ-কনশাসনেস তৈরি করতে প্ররোচিত করা, এবং নারীরা তাদের বুকের দিকে যে কেউ তাকিয়ে থাকলে নিজের যৌন আকর্ষণ নিয়ে গর্বিত বোধ করে এটা একটা যত্ন করে তৈরি করা মিথ। মেয়েরা মিসোজিনির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এই সেল্ফ কন্টেম্প্ট কম্পোনেন্টে, কারণ তাঁরা সক্রিয়ভাবে এটা বয়ে চলা মেইনটেইন করেন, জেনারেশন থেকে জেনারেশনে। এখন এককের পয়েন্ট হলো, মেয়েরা যদি আদৌ পাত্তা না দ্যায় তাহলেই এটা ভেঙ্গে যাবে-হয়তো। ভেঙ্গে গেলেও ফ্যাক্ট যে মিসোজিনি থেকেই এটার জন্ম, তা ঘুচবে না। যৌনতা অত্যন্ত ভালো বস্তু, কিন্তু রাস্তার মোড়ে বা বাসে কি মাল রে! শুনতে শুনতে এবং উপেক্ষা করতে করতেই যারা আমরা বড় হয়েছি তাদের আরেকটু উপেক্ষা করতে বলার সহৃদয় উপদেশ নাই বা দিলেন।

যাই হোক, ডেফিনিশন নিয়ে সুখী থাকুন। আকবা।
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

আরে খী অদ্ভূত । কলেজে সভাপতি বরণে সবচে দেখতে-শুনতে সুন্দর মেয়েটিকে এগিয়ে দেওয়া হয় ক্যানো ? সেখানে তো কোনো কনসিউমার রিলেশন ও নেই । তাও হয় । আর এখানে একজন হোস্টেস মানে তিনি গেস্ট দের ওয়েলকাম করবেন -ফেসিলিটেত করবেন -এদ্ভার্স সিচুএশন এ হেল্প করবেন । সবকটাই তাঁর কাজ । ফর্সা -ভাইটাল স্ট্যাট এসব নিয়ে মাথা ঘামানো তো হবেই । চোখের সামনে আকর্ষনীয় চেহারা নিয়ে ওয়াক করে যাওয়া টাও কাজ বৈকি । শুধু খাবার দেওয়া আর বেল্ট বাঁধতে সাহায্য করার জন্য তো দুটো মুষটান্ডা রাখলেও হত :)
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

আগের পোস্ট , এআর হোস্টেস সংক্রান্ত পোস্ট এর উত্তরে ।
Avatar: pi

Re: খান - ভালোবেসে খান

যে মুহূর্তে বলা হচ্ছে, আকর্ষণীয় চেহারা নিয়ে বা তার সাহায্যে কিচ্চু করাটাও তাঁর কাজের মধ্যে পড়ে, সেটা কি তাহলে অব্জেক্টিফিকেশন হয়ে গেল না ?

সেটাই বলতে চাইছি।

এখানে পোস্টগুলো পড়ে মনে হল, শুধু খাবার দেওয়া, বেল্ট বাঁধা, অসুবিধেয় সাহায্য করাটা কাজ। সেখানে চেহারা ইত্যাদির কম্পোনেন্ট আনাই অব্জেক্টিফিকেশন। তাই জিগাচ্ছি। বিকিনিবালা অব্দি যদি নাও যায়, এমনি বিমানবালাদের ক্ষেত্রেও তো তাহলে এম্প্ল্যমেন্ট সূত্রেই অবজেক্টিফিকেশন হয়ে যাচ্ছে, সেইটা পয়েন্ট আউট করছি।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

সোসেন ঐ প্রেজেন্টেশনটা মনে আছে, কসমেটিক্স কিভাবে অবজেক্টিফিকেশন প্রোমোট করে আর জেনারেশন কে জেনারেশন সেইটা ফলো করে সেইটা? আমার মনে পড়ছেনা ভদ্রমহিলার নাম, কিন্তু টকটা ঘ্যামা ছিলো। তবে এটাও হয়ত হানি সিং এ আলোচনা হয়ে গেছে।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 61 -- 80


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন