সুকান্ত ঘোষ RSS feed

কম জেনে লেখা যায়, কম বুঝেও!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

খান - ভালোবেসে খান

সুকান্ত ঘোষ

লেবু বেশী কচলালে তেতো হয়ে যায় – তবে কিনা যত বড় লেবু তত বেশী সময় লাগবে তেতো হতে, ততক্ষণ আপনি কচলে যান। আমার ক্ষেত্রে এই কচলানোটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল ঠাওর করতে পারছি না, কিন্তু আপাতত আমি রীতিমত ফেড-আপ – বিদেশী খাবারের সাথে আমার কত ফ্যামিলিয়ারিটি, সেই বোঝানোর জন্য বাঙালী তথা জানাশুনা ভারতীয়দের নিদারুণ প্রচেষ্টা দেখে দেখে! কার বাড়িতে দিদিমা পিৎজা বানাতো – দাদু তিনতলার ছাদে অলিভ গাছ লাগিয়ে ছিলেন, কার মামা ছোটবেলায় বার্গার খেয়ে খেয়ে এখন পুরোপুরি অবিস এবং অম্বলের রুগি, কার দেশের বাড়িতে পাঁঠা দিয়ে থাই গ্রীন কারি হত, অ্যাভোকাডো দিয়ে পাস্তা কার স্কুল লাইফে ফেভারিটি টিফিন ছিল – ইত্যাদি, ইত্যাদি। এমন ফেড আপ আমি আগে হতাম ফেলে আসা চল্লিশ বিঘে আমবাগান, পঞ্চাশ বিঘে দিঘী এবং ততসহ হামেশা কুড়ি-ত্রিশ কিলো কাতলার গল্প শুনে। তাহলে সব বাঙালী বা ভারতীয়ই কি এক গোত্রের? মোটেই না – আমি মেজরিটির কথা বলছি মাত্র। না হলে খোদ কোলকাতাতেও বিদেশী রেষ্টূরান্ট চলছে কি করে? সে যতই ইণ্ডিয়ানাইজড্‌ হোক না কেন সেই বিদেশী খাবার! আর্ট-কালচার লাইনের সাথে এই লাইনের আঁতেলদের একটা প্রগাঢ় প্রধান মিল আছে, সেটা হল এই যে উভয় ক্ষেত্রেই ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশী। এটা বোঝা কি খুবই কষ্টের যে - যিনি খান, তিনি খান – এবং তিনিই কম ফাটান। গ্রীক স্যালাড আমি বুঝি তা পাঁচজনকে জানাবার জন্য দাদুকে দিয়ে ছাদে অলিভ গাছ লাগানোর সত্যি কি কোনও দরকার ছিল?

শ্রেষ্ঠ খাবার – এই কনসেপ্টটাই গোলমেলে। সর্বমতগ্রাহ্য ইউনিভার্সালি ভালো খাবার বলে দাগিয়ে দিয়ে গেলানো এবং চালানোর চেষ্টা করা তো আরোই জটিল মনস্তাত্ত্বিক আলোচনায় পর্যবসিত হতে পারে। আমি খাই, আমি খেয়েছি, আমি খেতে ভালোবাসি – এই তিন জিনিস নিয়ে আলোচনায় ভারতীয় জিনের মধ্যে ঘুঁষে থাকা কম্পিটিটিভ ব্যাপারটা রীতিমত প্রকট হয়ে পরে – সত্যের সাথে মিথ্যার রেশিওটা কন্ট্রোলের বাইরে চলে গিয়ে কখন যে ককটেল তেতো করে দেয় সেই খেয়াল আমাদের থাকে না! উচ্ছে খেতে ভালো লাগে না সেই বলাটা মা আর বউয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হিষ্টরিক্যালি। কিন্তু সুশি বা পাস্তা খেতে ভালো লাগে না এটা কি লোক সমাজে স্বীকার করা যায় নাকি?

কিন্তু প্রশ্ন হল কেন যাবে না? কেউ কি মাথার দিব্বি দিয়েছে নাকি যে সব খাবার ভালো লাগতেই হবে? নাঃ – কেউ দেয় নি। কোন নাম্বার কাটা যাবে নাকি যদি বলি কাঁচা হ্যারিং খেতে ভালো লাগে না? নাঃ – কেউ নাম্বার কাটার জন্য বসে নেই! কিন্তু ভাই বউয়ের খোঁচার হাত থেকে তুমি কি বাঁচাতে আসবে? আমি সেবার সরল মনে বললাম, সুশি জিনিসটা ঠিক আমার আসে না – পাশ থেকে বঊয়ের কি নিদারুণ গোঁত্তা – কেন, তুমি কি ভুলে গেলে সেই বার বেড়াতে গিয়ে অত ভালো সুশি খেলাম আমরা! কোথায় বেড়াতে গিয়ে সেই নিয়ে আর চটকানোর সাহায্য পেলাম না।

মোদ্দা কথা আমার বক্তব্য হল, বিদেশীরা যেমন সহজে বলতে পারে ভারতীয় খাবার আমার সহ্য হয় না – আমরা ভারতীয়রা কেন বুক ফুলিয়ে বলতে পারব না যে স্প্যানিশ পাইয়া বা ইতালিয়াল রিসত্তো আমার সহ্য হয় না (যদি সত্যি অপছন্দের হয় আর কি)? বিদেশী খাবার সহ্য হয় না বলতে আমাদের বুক দুরুদুরু করে – কৈ, পাছন্দ নয়, সেটাও তো বুক ফুলিয়ে সচরাচর আমরা বলি না? ঐতিহাসিকরা এই জিনিসটায় তেমন নজর দেন নি – মনে হয় অনেক গবেষণার অপশন খালি রয়েছে। যদিও আমার গবেষণা বলছে এই সবের পিছনেই আছে ইনফিওরিটি কমল্পেক্স! তবে তেমন খ্যামতাওলা গবেষক হলে হয়ত প্রমান করে দেখাতে পারতেন যে আমাদের মধ্যে দাসত্বের বীজ ঢুকে থাকার জন্য সাদা প্রভুদের খাবার ভালো নয় বলতে আমাদের মধ্যে প্রবল অনিহা। এমনকি এর মধ্যে সাব-অলটার্ণ, সাব-মেসিভ, মেসোজিনিক, পোষ্টমডার্ণ বা মার্কসীয় তত্ত্ব ঢুকে থাকাও আশ্চর্য নয়! এ এক সোনার খনি, তেমন কোন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হন নি এখনো বিশেষ কেউ – থিওরী ছড়াবার এই চান্স।

সাদা সাহেবদের মধ্যে এই আলোচনায় বৃটিশরা আসবে না – কারণ তিনশো বছর কাছাকাছি থেকেও ভারতীয়রা ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি যে মালগুলো ভারতে আসার আগে কি খেয়ে বাঁচত! নিজেদের বিয়ার এবং তারপর ভারতীয় কারি খেয়ে তৃপ্তির টেঁকুর ইংরেজরা না তুললে বিদেশে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্টের আজকের এই রমরমা ব্যবসা খাড়া হত না! এক সাদা চামড়া তো অন্য সাদা চামড়ার কথাই শুনবে তাই না? না হলে আমরা কানের গোড়ায় ঘ্যানঘ্যান করেও কি বিয়ারের পর কারি খাওয়াতে পারতাম সাদাদের? কেবলমাত্র ঘ্যান ঘ্যান করে সর্বত্র কোন খাবারকে পুশ করা গেলে বিদেশে আজকে কার্ড-রাইস আর ধোসার রমরমা হত – চিকেন টিক্কার নয়! বৃটিশরা বিন্ধ্য পর্বত পেরিয়ে তেমন সুবিধা করতে না পারার জন্য শুধু সাউথ ইন্ডিয়ানরাই বেঁচে যায় নি, ভারতীয় খাবার প্রতি আগ্রহ থাকা বিদেশীরাও বেঁচে গেছে – না হলে চিকেন টিক্কা মশালা নয়, রসম্‌ খেয়ে আশ মেটাতে হত!

কিছুদিন আগে বন্ধুরা আমাকে জানালো পুরাকালের বিখ্যাত ফোন কোম্পানী নোকিয়া-র মাথা নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছে এই বলে যে – আমরা হেরে গেলাম, অথচ আমাদের কোন দোষ ছিল না! অন্যদল তার্কিক বন্ধু জানালো, আসলে মাথা বলেছেন, আমাদের ‘তেমন’ কোন দোষ ছিল না! স্ট্রেস দিতে হবে ‘তেমন’ শব্দটির উপর। আরেকদল খাবারের প্লেট নিয়ে ব্যুফে অ্যাটাক করার ফাঁকে জানিয়ে গেল যে – এই ভাবেই হেরে যেতে হয়! ব্যুফের দিকে ভেসে যেতে যেতে ডপলার এফেক্টের মত ‘ডারউইন’, ‘ডারউইন’, ‘সারভাইভাল’, ‘ফিটেষ্ট’ এই সব জটিল শব্দবন্ধের উল্লেখ শুনলাম মনে হল। তো আমি সোমবার অফিসে এসে নোকিয়া কোম্পানীর গল্প আমার কলিগ মুথাইয়া মণিমারণ – কে শোনালাম। মন দিয়ে শুনে মণিমারণ বলল – কিন্তু, আমি তো আর মোবাইল বিক্রীর ব্যবসায় নেই! আমি বুদ্ধি যেহেতু প্রখর, তাই চট করে বুঝে গেলাম যে মণিমারণ বলতে চেয়েছে, আমাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে চলতে হয় না! এবার আরো বুদ্ধিমান পাঠক প্রশ্ন করতে পারেন, এতো লোক থাকতে আমি সেই গল্প মণিমারণকে শোনাতে গেলাম কেন?

মণিমারণ তামিল, মণিমারাণের বউ আরো নিখাদ তামিল – বাড়িতে তামিল চ্যানেল ছাড়া টিভি চলে না, তামিল খাওয়া ছাড়া অন্য কিছু ভাবার তো প্রশ্নই নেই! আমি মণিমারণকে কোথাও বেড়াতে যেতে দেখি নি – কেবল সিঙ্গাপুর, সেখান থেকে চেন্নাই – সেখান থেকে কোচি। এই চলছে বছরের পর বছর। এর প্রধান কারণ হল – মণির বউ তামিল ছাড়া অন্য খাবার খেতে পারে না। মানে বাকি সাউথ ইন্ডিয়ান খাবারও নয় – নর্থ ইন্ডিয়ান তো বিজাতীয় বস্তু! একবার আমি মণিকে বালি বেড়াতে যেতে প্রায় কনভিন্স করে ফেলেছিলাম। বালির কুটা বীচের কাছে ডিস্কভারী হোটেল খুঁজে দিলাম যার লাগোয়া রয়েছে ভারতীয় রেষ্টুরান্ট ‘কুইন’। সব ঠিক ছিল – কিন্তু শেষ মুহুর্তে আবিষ্কৃত হল যে কুইল নর্থ ইন্ডিয়ান ক্যুজিন – তাই সেই বালি প্ল্যান বাতিল। মণি সিঙ্গাপুরের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট – তা ভারত যাবার সময় সিঙ্গাপুর এয়ারপোর্টে ট্রেন্সফারের সময় মণি সপরিবারে চেক-আউট করে সিটিতে গিয়ে মণির বঊয়ের একমাত্র পছন্দের রেষ্টুরান্টকে খেয়ে এসে আবার চেন্নাই ফ্লাইট ধরে। তো সব জেনেই আমি ওই নোকিয়ার গল্পটা শোনাতে গিয়েছিলাম মণিকে – এই ভাবে সে এমন চললে মণি তো অবলুপ্ত হয়ে যাবে কোন এক দিন – কিন্তু পরিবর্তে মণি আমাকে এক অমোঘ জ্ঞান দিল – তাকে তো আর লোকের পছন্দের উপর নির্ভর করে খেতে হয় না, বা লোককে ইমপ্রেসড করার জন্য খেতে! আহা রে – এটা যদি অনেক বাঙালী এবং ততসহ অনেক প্রবাসী ভারতীয় বুঝত। আমার চোখে মণিমারণ জাতীয় ব্যক্তিরা হচ্ছে গিয়ে লেজেন্ড – স্বজাতীয় চাপের কাছে মাথা না নুইয়ে নিজের খাদ্য-পছন্দ অকুন্ঠিত ভাবে স্বীকার করা – সে এক লুপ্তপ্রায় গুণ।

নিজের খাওয়া বিশ্বাসের উপর গোঁড়া থাকার জন্য মণিকে আমার শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা হয় – কোন হাঙ্কি পাঙ্কি নেই, লোক দেখানো নেই – আমার ভালো লাগে না অন্য খাবার, তাই খাবো না! বাঃ বাঃ, কি ফিলোসফি! এই সরল – কিন্তু কি কঠিন সেই মেনে চলা। বিশ্বাস হয় না এই জিনিস মেনটেন করা কি শক্ত? জিজ্ঞেস করুন তা হলে দেবু-দা কে –

দেবু-দা কে আমি যাই বলি, তা সে আগে থেকেই জানে – পৃথিবীর সব খাবার তার পছন্দ, কিন্তু বাঙালী খাবার ছাড়া সে খেতে পারে না। আপনি তার সামনে অন্য কোন দেশের খাবার নিয়ে মুখ খুলবেন নি – তার আগেই দেবু-দা জানিয়ে দেবে সেই খাবার তা চাখা। দেবু-দা হোটেল কাউন্টারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে – মানে, ইসে, হল-গিয়ে সহ অসংখ্য অর্ধ-তৎসম শব্দ সহযোগে, কোম্পানী বিদেশে পাঠাবার আগে দেওয়া কালচারাল অ্যাওয়ারনেশ ট্রেনিং-এ পই পই করে না-করতে বলা আমেরিকান অ্যাকসেন্টে বাঙালী উচ্চারণে যা বলল তার বাঙলা সারমর্ম হল –

- অ্যাই মেয়ে, তুমি আশেপাশে কোন ভালো রেষ্টুরান্ট সাজেষ্ট করতে পারো?
- কি ধরণের রেষ্টূরান্ট চাইছেন স্যার?
- ইয়ে, মানে – তোমাদের টাউনে যে রেষ্টুরান্ট বিখ্যাত আর কি
- তাহলে স্যার আপনি আমাদের শহরের ফেমাস লেবানীজ রেষ্টুরান্টটা ট্রাই করতে পারেন। যদি চান, আমি বুক করে দিতে পারি

লেবানীজ রেষ্টুরান্টের নাম শুনে দেবুদার অন্ডকোষ প্রায় শুকিয়ে এসেছে – সারাদিন মিটিং ঠেঙ্গিয়ে ডাল দিয়ে ভাত চটকে তন্দুরি সাঁটাবার তালে ছিল। লেবানীজ খাবার কি ভাবে, কোথা দিয়ে খায় দেবুদার জানা নেই – এবং আরো বড় কথা, জানার ইচ্ছেও নেই –

- কিন্তু এখন তো রাত হয়ে গ্যাছে – ক্যাব পাবার সমস্যা
- চিন্তা নেই স্যার, আমাদের হোটেলের ট্রান্সপোর্ট ড্রপ করে দেবে

দেবুদা এবার পুরোপুরি ফেঁসে গ্যাছে, অণ্ডকোষ শুকাবার পালা শেষ, এবার অন্ডকোষ ঘেমে উঠছে – শেষ প্রশ্নটা আসার আগে এতো ভনিতা করতে হচ্ছে – একেবারে বেলাইন হয়ে যাবার আগে –

- ইসে, তুমি কি আশে পাশে কোন ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট জানো বাই এনি চান্স? একচ্যুয়ালি আমার বন্ধুরা -----

কোন দরকার ছিল তো না এত কথার – ভারতীয় হয়ে ভারতীয় খাবার পছন্দ করা এমন কিছু লজ্জার ব্যাপার তো আর নয়! কিন্তু ওই যে বললাম, সবাই মণিমারণ হতে পারে না!

জোর করে সিনেমা, গান, রাজনীতি, খেলা, ওপেরা, গলফ, সাহিত্য – সমর সেন থেকে ফৈয়জ খান – সব ঠিক আছে – কিন্তু খাওয়া নিয়ে এই সব ছেনালীর এবং আঁতলামির কি মানে? বড় কষ্ট হয় – খাওয়া নিয়ে এহেন দ্বিচারিতা ঠিক না – যেখানে প্রামাণিত যে আমাদের জন্ম এবং বিবর্তন দুই হয়েছে খাবার জন্য – খাবার জন্যই সব, খাবার জন্যই আমরা – সেই ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ঠিক রাখতে পারলে তবেই না জাতি উন্নতি করতে পারবে! খাদ্য বিষয়ে আঁতলামো জাতিকে পিছিয়ে দেয় সেই বিষয়ে আমার কোন সন্দেহই নেই আজকাল! ইংরাজীতে বলতে গেলে – The fate of a nation depends on the way that they eat - কার উক্তি জানতে গুগুল সার্চ করুন।

আমার বন্ধু সাধন যে জীবনে উন্নতি করতে পরেছে (এখন এক কলেজের প্রফেসর – আমার কাছে সেটাই উন্নতির মাপকাঠি) তার প্রধান কারণ ছিল সে খাবার বিষয়ে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে কুন্ঠিত হত না। সেই বি ই কলেজ থেকেই বুঝেছিলাম ওর হবে – সেই যে বার আমরা হোষ্টেল মেসে বসে গোপাল ঠাকুরের রাঁধা কষা মাংস, রুমালি রুটি, ফ্রায়েড রাইস সাঁটাচ্ছি, পাশের টেবিল থেকে চশমা চোখে লম্বু সুপ্রিয় মুখে ফ্রায়েড রাইস তুলেই ওয়াক, ওয়াক শব্দ করতে করতে বেসিনের দিকে ছুটল। কি হল কি হল প্রশ্নের ফাঁকে জানা গেল সুপ্রিয়র ফ্রায়েড রাইসে কুঁচো চিঙড়ি পড়ে গিয়েছিল – জৈন ধর্মালম্বী হবার জন্য কোন দিন মাছ মাংস খায় নি, তাই গন্ধ লেগে গ্যাছে – ফলতঃ বমন। সাধন আড়কানে শুনে নবম রুমালী রুটিতে নিমজ্জিত হতে হতে বলল – “ধুররররররররররররর বোকাচোদা”। মুখের গ্রাস শেষে হাড় চুষতে চুষতে ফাইন্যাল ভারডিক্ট – “যত্ত সব বাল ছাল নিরামিশাষীর দল”। খুবই সাটল ব্যাপার – কিন্তু বাঘের বাচ্চাদের এই ভাবেই আলাদা করা যায় অযুত ভেড়াদের থাকে।

তাহলে আমি কি মণিমারণের দলে? নাকি সাধনের? নাকি দেবুদার পদ্ধতির সমর্থনে কলম ধরছি? আমি কারো দলে নই – সিম্পল কথা বলতে চাইছি, আমার মতে বাইরে বেরিয়ে শুধুমাত্র ভারতীয় খানায় আবদ্ধ না থেকে, অন্য কিছু ট্রাই করলে অসুবিধাটা কোথায়? তবে কিনা – প্রথম বার অন্তত খেতে হবে, না খেলে আপনি বুঝবেন কি করে যে সে খাবার আপনার ভালো লাগবে না? খেয়ে দেখুন – নিতান্তই না ভালো না লাগলে আবার ফিরে যান আলু পোস্ত, রসম, রাজমা যাই হোক না কেন। তবে প্লীজ পরে আবার ফাটাবেন না থাই থেকে ভিয়েতনাম নিয়ে! না জেনে তর্ক করা আমাদের মজ্জাগত – আর্ট, কালচার লাইনে সেটা টলারেট করছি কোন ক্রমে। আর্ট-কালচার জিনিসগুলি লাইফে এশেনশিয়াল নয়, ফাউ – কিন্তু খাবার তো আর তা নয়! কোন জিনিস না খেয়ে সেই খাওয়া বিষয়ক জ্ঞান দেওয়া নিয়ে আমি খুবই মনোকষ্টে আছি। আমি জানি না আমার মত সাফারার আরো কেউ আছেন কিনা – থাকলে এই সাফারিং বন্ধ করার জন্য একটা আন্দোলন করার দরকার। নিদেনপক্ষে কলেজস্ট্রীটে একটা জমায়েত, বা একটা পিটিশনে সই –

তবে একটা কথা, বিদেশী খাবার খেতে হলে তাকে মর্যাদা দিয়েই খাওয়া উচিত বলে আমার ধারণা। মানে অরিজিন্যাল খাবারের গুষ্টির-তুষ্টি পুজো করে, তাকে সেই অরিজিন্যাল নামে ডাকার ঘোরতর বিরোধী আমি। সেই দিন এক গভীর প্রবন্ধে পড়লাম যে, ‘নুনু’ থাকা মানেই ‘পুরুষ’ নয়! আমি যদিও সারা জীবন তাই জানতাম – এমনকি ডাক্তারেরাও তাই জানত মনে হয়! বাচ্ছা পয়দা হল মায়ের পেট থেকে – ডাক্তারকাকু ছোট্ট নুনু নেড়েচেড়ে দেখে, গুল্লি গুল্লি বীচি ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে লিখে দিল বার্থ সার্টিফিকেটে ‘মেল’। কোন সমস্যার কিছু দেখি নি – আমার মত আরো লাখো লাখো পাবলিকও কিছুও ভুল দ্যাখে নি। কিন্তু না! সেই প্রবন্ধ পড়ে বুঝলাম যে ‘মেল’ হলেও সে ‘পুরুষ’ কনফার্মড নয়! ‘মাল’ হয়ে যাবার চান্সও আছে সুযোগ মত – বা ‘মেল’ ও ‘মাল’-এর মাঝামাঝি। আমি তো দেখলাম, বাঃ এতো বেশ ভালো যুক্তি! তো আমি যুক্তি দিলাম – ‘নুনু’ থাকলেই যেমন পুরুষ হয় না, তেমনি পাস্তা রাঁধলেই প্রকৃত ইতালিয়ান খাওয়া হয় না! গুচ্ছের সর্ষের তেল, গোল গোল (বা লম্বা লম্বা) ময়দার ফালি, তার মধ্যে মাংসের কুচো এবং তাতে কেনা সাদা বা লাল শস ঢেলে দিলেই পাস্তা এক্সপার্ট হওয়া যায় না! চিনুদা যেহেতু এক্সট্রা স্মার্ট তাই আরোএককাঠি উপরে গিয়ে বলল –

- যাই বলিস, এই ইতালিয়ানরা পিৎজায় ট্যামেটো শসের ব্যবহার ঠিক জানে না
- কেন চিনুদা, ওই তো পিৎজা বেসে রয়েছে শস
- কোথায় শস? আর আমার সাথে বেস মারাস না! ছড়ানো কোথায় উপরে? এর থেকে আমাদের কলকাতায় পিৎজা অনেক ভালো

চিনুদা ‘কেচাপ-এর কথা বলছিল – আমি অবশ্য জানি না কোলকাতায় কোথায় পিৎজার উপরে কেচাপ ছড়িয়ে (অ্যাজ এ জেনারেল প্র্যাকটিশ) সার্ভ করে! করলে তাদের ব্যান করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে -

এবার প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই আমি ভারতীয় খাবার নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করে খেতে বলছি, তাহলে রেষ্টুরান্টে ঢুকে হাত দিয়ে খাওয়া, বা বেশ জোর করে খেয়ে ঢেঁকুর তোলা – এ সম্পর্কে আমার মতামত কি? এগুলি আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর ভিতরে অনেক গভীর জিনিস লুকিয়ে আছে। হাত দিয়ে খেয়ে বা আচমকা ঢেঁকুরে তুলে কত সম্পর্কের কুঁড়ি অকালে ঝরে যেতে দেখেছি। সেই ক্ষেত্রে আমার ডিফেন্স হল – মানুষ তো বিবর্তিত হয়েছে, অস্থানে হাত দিয়ে নাই বা খেলেন? আগে মানুষ ন্যাংটো হয়ে থাকত বলে এখনো থাকবে নাকি? আমার সমীক্ষা বলছে – রুটি, নান, লুচি, ধোসা জাতীয় খাদ্য, মানে যেগুলি ছিঁড়তে হয় সেগুলি হাত দিয়ে খাওয়া ‘সভ্য’ সমাজে অল্যাউড – বিখ্যাত বিদেশী হোটেলের ইন্ডিয়ান সেকশানেতেও। তবে হাত দিয়ে ভাত-মাংস খাওয়া নৈব-নৈব চ! অবশ্য টুরিষ্ট প্রধান জায়গা হলে, এবং খুব দামী ইণ্ডীয়ান রেষ্টুরান্ট না হলে, হাত দিয়ে ভাত চটকে আপনি একা খাবেন না – ভারত থেকে আগত শত শত কেশরী বা ডায়মণ্ড ট্র্যাভেলস্‌ ছাপ মধ্যবিত্ত আপনাকে সঙ্গ দেবে। তবে মনে রাখবেন “Animals feed themselves; men eat; but only wise men know the art of eating” – এবার আপনি মানুষ হবেন নাকি শিক্ষিত জন্তু, সেটা আপনার ব্যাপার!

আমার বন্ধু কুমার দোশীর সাথে একদিন আমষ্টারডাম রেড লাইট ডিষ্ট্রিক্ট এলাকার ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট ‘কামাসূত্র’ তে খেতে গেছি। সেই রেষ্টূরান্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল এক ডাচ কলিগের কাছ থেকে। কুমার সেখানে গিয়ে ডাল, পালক পনীর, মিক্সড ভেজ, নান এই সব ভেজ ডিসের ওর্ডার দিয়ে ফেলল – একযাত্রায় আর পৃথক ফল হয় কেন সেই ভেবে আমিও কষ্ট করে ভেজ খাব ঠিক করলাম। তো সেদিন দেখলাম কুমারের ভেজ খাওয়া টলারেট করার থেকেও তার প্রবল বিদেশী রেষ্টুরান্টে বসে হাত দিয়ে চটকে খাওয়া টলারেট করা আরো বেশী চাপের! কুমার ধ্যান না মেডিটেশন কি যেন সব করত – সেই সব করে মনে হয় সে লোকলজ্জা জাতীয় ক্ষুদ্র বিষয়ের অনেক উর্দ্ধে উঠে যেতে পেরেছিল। কিন্তু আমি পারি নি – তার ফলে খাব কি, চোখ নামিয়ে কোন ক্রমে সময় অতিবাহিত করছি। একবার বললাম, কুমার ভাই, হাত দিয়ে না চটকালেই কি নয়? কুমার বলল, সুকি ভাই, টেনশনের কিছু নেই – এর রেড লাইট ডিসট্রিক্টে মূল কাজের মধ্যে একটা হল চটকানো, অনেক লোক এখানে শুধু চটকাতেই আসে – তাই বিন্দাস! আমার খাওয়া দেখার থেকে আরো বেশী গুরুত্বপূর্ণ জিনিস দেখার রয়েছে পাশের জানালায়। আমি দেখলাম অকাট্য যুক্তি। তবুও মিনমিন করে বললাম – আরে সেতো সবাই মাংস নিয়েও এখানে ঘাঁটতে আসে, তোর মত নিরামিষ আর কে আছে? বাইরে বরফ পড়ছে, সাদা সাদা তুলোয় ঢেকে গেছে পুরানো বাড়ির ফাঁকের গলি, ফুটপাথ – আর আমি দেখছি কুমারের ডান হাতের আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে আসা সাদা রঙের রায়তা! সাদা কি সত্যিই শান্তির রঙ নাকি বেদনার? যাই হোক মূল কথা হল, কুমার বুক ফেলিয়ে খেল – আর আমি মরলাম চক্ষু লজ্জায়। এই কুমারও এক লেজেন্ড – সবাই কুমার হতে পারে না।

আমার এক চেনাশুনা ব্যক্তি নারায়ণ যার নাম সে আদপে নিরামিশাষি ব্রাহ্মণ। অর জন্যে সবাই নিরামিষ খাবারই অ্যারেঞ্জ করত – কিন্তু ওই যে মাল সেই হীনমন্যতায় ভুগত। সব জায়গাতে বলে, আমি অফসোরে জাহাজে থেকে তেলের পাইপ লাইন পেতেছি ১৬ বছর – আমিষ তো কোন ছাড় – অফসোরে থাকতে হলে যা পাবি তাই খেতে হবে। আত আমাকে বাঁচতে গিয়ে বিফ, পর্ক সব খেতে হয়েছে! ভালো কথা, আমার ইচ্ছে ছিল নারায়ণ বিফ (মানে স্টেক এর কথা বলছি) কি ভাবে খায় সেটা দেখার। ফর্ক-নাইফ দিয়ে নাকি আমরা যেমন কাটলেটের পিস তুলে কামড় মারি ঠিক তেমন ভাবে স্টেকে ডুবে যেতে! কিন্তু হায়, আমি এতো গুলো বছরেও বিফ তো কোন ছাড়, নারায়নকে চিকেনও খেতে দেখলাম ন। যেই দিনই একসাথে খাবার খেতে যাই, সেই দিনই ওর কিছউ একটা ব্রত বা পুজো বা অন্য কোন কারণ থাকে আমিষ না খাবার! অন্য নারায়ণ সাধনা করে পেতে হলেও, এই ধরণের নারায়ণ আমাদের চার পাশে পর্যাপ্ত ছড়িয়ে আছে তা বলাই বাহুল্য!

কে এল এম (এখন আবার এয়ার ফ্রান্স জুড়ে গ্যাছে) এয়ারলাইন্স যে খুব একটা কাষ্টমার ফ্রেন্ডলি, এ কথা তার পরম মিত্রও বলতে পারবে না। আমি আর ঈকেশ ভাই বিজনেস ট্রিপে যাচ্ছি বিজনেস ক্লাসে। তেল কোম্পানী আর যাই হোক, বিজনেস ক্লাস আর ফাইভ স্টার হোটেল প্রোভাইড করতে কোন দিন কার্পণ্য করে না। ঈকেশ ভাই প্রবল নিরামিষাশী – এবং আগাম ভেজ মিল অর্ডার করা থাকে। সেদিন কোন কারণে বিজনেস ক্লাসেও ভেজ মিল শেষ হয়ে গ্যাছে! ঈকেশ ভাইকে অন্য খাবার দিয়ে প্রলোভন দেখানো হচ্ছে – কিন্তু ভাই সেই ‘হিন্দু ভেজিটেরিয়ান’ মিল ছাড়া খাবে না! সুন্দরী এয়ার হোষ্টেস উপরের একটা বোতাম খোলা স্কার্ট পড়ে প্রায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে ঈকেশের সামনে অন্য খাবার পেশ করার জন্য! কিন্তু ঈকেশ ভাই সেই গোঁ – আমি মনে মনে এই বার বলি সাবাস! কোম্পানীর পয়সায় এলে এই এক জিনিস, না হলে এমনিতে তো আমাদের বরাদ্দ সেই ক্যাটেল ক্লাস এবং নিদারুণ তুরুচ্চ। এখন বিজনেস ট্রিপের সময় আমাদের পিছনে ঝলমল করে বহুজাতীক কোম্পানীর ছাতা – যাদের সাথে এয়ার লাইন্সের মিলিয়ন ডলারের কারবার। আমি এবার ফিসফাস করে বলি – সাবাস! সাদা মেয়ে খান্ত দিল – তারপর কোথা থেকে পেল বলতে পারব না, কিন্তু মাইক্রোওয়েভে ঈকেশ ভাইকে ভাত, ডাল, আলুভাতে করে মাঝ আকাশে খাওয়ালো! ঈকেশ ভাই লেজেন্ড – সবাই ঈকেশ ভাই হতে পারে না।

তবে লেজেন্ডদের নিয়েও বেদনার দিক থাকতে পারে – যেমন থাকতে পারে চরম সুন্দরী নায়িকার অর্শ রোগ। কথা হল গিয়ে, একসাথে কারবার না করলে আমি পুরোটা টের পাবেন না। একবার এই ঈকেশভাইয়ের সাথে সুইজারল্যান্ড বেড়াতে গিয়ে তেমনই মোহভঙ্গ হয়েছিল – প্রতিদিন বিকেল সাড়ে চারটে বাজতে না বাজতেই রেন্টাল কাঠের বাড়িতে ফেরার তাড়া! কি না গিয়ে রেঁধে খেতে হবে – আর সারাদিন ঘুরে বেড়াবার সময় রাতে কি রান্না হবে সেই নিয়ে আলোচনা। পাহাড়ের চূড়া থেকে কেবল্‌ কার-এ করে নামছি – মনে হয় পৃথিবীর সুন্দরতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে থাকা কাঁচের সেই কেবল্‌ কার! আমি ভাবছি আকাশ, আমি ভাবছি মৃদু মৃদু কবিতা, গাছের গায়ে লেগে থাকে বরফ গলা জল – ওদিকে ঈকেশ ভাই চাইছে আলোচনা মাটিতে পা ঠেকিয়ে কোন গ্রসারী স্টোর্সে ঢোকা যায় সেই নিয়ে! তেমনি হয়েছে আবার জার্মানীর শ্যাম্পেন প্রভিন্সে রাত এগারোটার সময় এক নিঃঝুম ছোট শহরে ইন্ডিয়ান রেষ্টুরান্ট খোঁজা। আমি বলছি জার্মানদের সংস্কৃত ভাষার উপর যতটা ইন্টারেষ্ট ততটা ইন্টারেষ্ট ভারতীয় খাবরের উপর নেই – ঈকেশ ভাই বলছে, না, আমি গুগুল ম্যাপে দেখে বেরিয়েছি! সেই খুঁজে খুঁজে এক দরজা, দরজায় টোকা, ঢুকে পরণের কোট হুকে ঝুলিয়ে আরেকটা দরজা খুলেই হাঁ! এমন আশর্য হতেও মাঝে মাঝে ভালো লাগে – বসার জায়গা নেই রেষ্টুরান্টে, জার্মানরা তন্দুরী নান, মসালা চিকেন সাঁটাচ্ছে! অনেক পরে বসার সীট পেলাম – শেষ পাতে মালিকের সাথে খাওয়া, তবে সে এক অন্য গল্প – পরের কোন এক পর্বে।

আমি বলি কি, খান – ভালোবেসে খান। যদি হাড় চুষতে ভালো লাগে তাহলে চুষুন। কেমন করে চুষবেন সেটা আপনার ব্যাপার। চোষার ধরনটা নিয়ে আঁতলামো করুণ, কিন্তু চোষা ফাঁকি দিয়ে নয়! চোষার আনন্দ নিজে নিন – কিছু জিনিস নেওয়াতে আনন্দ, কিছু জিনিস দেওয়াতে।

কিংবা ব্রিলাট-সাভারিন (Jean Anthelme Brillat-Savarin) এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি একবার ভেবে নিন – “Tell me what you eat, and I shall tell you what you are” মানে মোদ্দা কথায় নিজেকে যদি প্রকৃত চিনতে চান, তাহলে নিজের খাদ্যাভাসে সাচ্চা থাকুন – সেখানে ছড়ালে নিজেকে আর চেনা হয়ে উঠবে না! আরো একধাপ এগিয়ে – “The discovery of a new dish confers more happiness on humanity, than the discovery of a new star.”


1956 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 104 -- 123
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

১। "চিরকাল রিসিভিং এন্ডে থাকতে থাকতে বিরক্ত একজন মেয়ে পাঠক কখনই "লাগিয়ে এলাম " কে এপ্রিশিয়েট করতে পারবেন না , এবং পুরুষ পাঠক ও পারবেন না কারণ এটা তাঁর মনে একটা অকারণ গিল্ট এর জন্ম দেবে ।"

এই জায়গাটা কি একক আরেকটু বিস্তৃত লিখবে? বিশেষতঃ অকারণ শব্দটা? আমরা কি ধরে নিচ্ছি যে পাওয়ার গেমের রিসিভিং এন্ডে থাকাদের রাগ বিরক্তি অনীহা এগুলো অকারণ? নাকি যেসব পুরুষেরা সেটা অ্যাকনলেজ করে তাদের বন্ধুদের অনুরূপ কথোপকথনে গিল্ট বোধ করে সেটা অকারণ? মানে যেকোন একটা বা দুটোই হতে পারে কেন লিখে দিলে ভালো হয়।

একটাও যদি "অকারণ" মনে হয়, সেক্ষেত্রে আরেকটা প্রশ্ন থাকবে। যেকোন পাওয়ার গেমেই যারা রিসিভিং এন্ডে থাকে, যেমন ধরা যাক মাইনরিট, মার্জিনালাইজ্ড জনগোষ্ঠী (উদাহরণস্বরূপ দলিতদের কথা বলা যেতে পারে, বা আদিবাসীদের কথা) তাদের কথা ভাবার সময় উচ্চবর্ণের যে গিল্ট কাজ করে (প্রিভিলেজ জনিত গিল্ট) সেটাও কি এই ফর্মুলায় অকারণ নয়? যদি বাই চয়েস পাওয়ার এক্সিকিউট করার লক্ষণগুলোর প্রতি ইনসেনসিটিভ হওয়াকে সমর্থন করি, ঘুরিয়ে সেই পাওয়ার গেমকেই সাপোর্ট করলাম না কি?
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

আর একটি ছোট টীপ্পনি "চুদে দেওয়া" প্রসঙ্গে। একক এবং সুকির আলোচনা সম্ভবত অসাবধানতার জন্যই চুদে দেওয়ার প্রেক্ষিত বাদ পড়ে গেছে। চুদে দেওয়া রতিক্রিয়ার সমতুল্য নয়, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা ধর্ষণ বোঝায়। যেমন কিনা, রিভিলিং পোষাক পরলে চুদে দিয়ে শিক্ষা দিতে হয়। বা ধরা যাক, পরীক্ষায় কঠীন প্রশ্ন হলো, তো, কেউ এসে বলে আজ পুরো চুদে গেছি- অর্থাৎ এগজামিনার ধর্ষণ করলেন। এবার একক, সুকি, মামু ইত্যাদি টক গাইরা একটু ভেবে বলুক চুদে দেওয়া শব্দবন্ধ প্রতির আপত্তি শুধুই ভিক্টোরিয়ান মরালিটি বলে দাগিয়ে দেবে কিনা। পার্ক স্ট্রীটের ঘটনার কত দিন হলো যেন?
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

"চোদাচুদি করা " এবং "চুদে দেওয়া " এক নয় , লিখেছি তো ! শান্ত হয়ে ভালো করে পড়ো :) আমি ততক্ষণ রান্না নাবাই । অন্য প্রসঙ্গের উত্তর পরে লিখছি ।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

আমি শান্তই আছি, হ্যাঁ রান্না করে লেখো। তুমি কী লিখেছো দেখে নিও একবার, জাস্ট ইন কেস ;-)
Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

মেয়েদের বন্ননা করে যা প্রাণে চায় লিখুন। তারা কি ভাবল না ভাবল তাতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। চরিত্রচিত্রণ সঠিক হওয়া চাই। আর নিউটনের প্রথমসূত্রের যেন লঙ্ঘন না হয়।
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

আমি আগে ভাবি , তাপ্পর লিখি :) এইযে ।


"রতিক্রিয়া একটি যৌথ ক্রিয়া । "চুদে দেওয়া" তা নয় । "লাগানো"ও নয় । যে কোনো তন্ত্রের মতই পিতৃতন্ত্রের কিছু ডাইগ্রেসিভ দিক আছে যার প্রধান হলো নারী কে রিসিভিং এন্ড এ বসানো । আমরা লাগালাগি করিনা । লাগাই "


এর থেকে এটুকু বোঝা যাচ্ছেনা যে আমি একটা ভাষার স্ট্রাকচার দেখাচ্ছি যেখানে যৌথ এবং একপাক্ষিক এই দুইরকম ক্রিয়াপদ( প্রথম টা ক্রিয়া বিশেষ্য ) উপস্থিত থাকার পরেও একপাক্ষিক ক্রিয়ার ব্যবহার ই বেশি । সেটার কারণ মানুষ ওভাবেই ব্যাপার টা প্রজেক্ট করে । লোকে বলে "লাগিয়ে এলাম " , "লাগালাগি করে এলাম " বলে না । দ্বিতীয় টা যৌথ ক্রিয়া । কিন্তু বলার চল নেই ।আর কত পরিস্কার করে লিখব ।

প্রসঙ্গত : চোদার সিমিলার ফ্লেভারের সংস্কৃত বোধ হয় রম ধাতু থেকে আসা রম্যতে । আর লাগানোর সেম ফ্লেভারের সংস্কৃত , উপ পূর্বক গম ধাতু । কারণ দেখছি এই দুটো ক্রিয়াপদ আবার যৌথ একশন নয় । এক পাক্ষিক । আসা করি যাঁরা পড়ছেন তাঁরা "একশন " আর "পার্টিসিপেশন " এর পার্থক্য খেয়াল রাখবেন ।

বরং চোদা শব্দ খানিকটা হলেও ব্যাপক অর্থ । মানে এটা ইংলিশ ফাক এর মতই , ফ্রেন্ডলি-মন্দ-নিউট্রাল সমস্ত অর্থে ব্যবহৃত ।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

আরে কি মুশকিল, আমি তো সেটাই হাইলাইট করছি, যে একটা ডমিন্যান্স আরেকটা পার্টিসিপেশন। তা তুমি অকারণ কোনটাকে বললে? ডমিনেট করার প্রতি বিরক্তিকে? এইটাই মূল প্রশ্ন ছিলো।
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

"এই জায়গাটা কি একক আরেকটু বিস্তৃত লিখবে? বিশেষতঃ অকারণ শব্দটা? আমরা কি ধরে নিচ্ছি যে পাওয়ার গেমের রিসিভিং এন্ডে থাকাদের রাগ বিরক্তি অনীহা এগুলো অকারণ? নাকি যেসব পুরুষেরা সেটা অ্যাকনলেজ করে তাদের বন্ধুদের অনুরূপ কথোপকথনে গিল্ট বোধ করে সেটা অকারণ? মানে যেকোন একটা বা দুটোই হতে পারে কেন লিখে দিলে ভালো হয়।"

না , যাঁরা রিসিভিং এন্ডে আছেন তাঁদের ফিলিং নিয়ে কথা বলিনি । তাঁদের তো বিরক্ত হবার -গাল দেবার অধিকার আছেই , কারণ পোলারিটি চেঞ্জ না হতে হতে রিসিভিং এন্ডে থাকাই ডেসটিনি হয়ে দাঁড়িয়েছে , হুইচ ইস ফাকিং ডিস্গাস্তিং ।

আমি , পুরুষদের গিল্ট ফিলিং কে অকারণ বলেছি সেইসব ক্ষেত্রে যেখানে তারা নিজেরা এরকম কোনো আচরণ করেনি । অকারণ কারণ এই ফিলিং এর উত্স ও গন্তব্য ম্যাপদ নয় । যে বন্ধুটি ওরকম শব্দ ব্যবহার করছে তার রিয়ালিটি -তার ভাষা কেবল তার ই রিয়ালিটি ও তার ই ভাষা । এটাকে একটা বিশাল ছাতার মত ভেবে নিজের রিয়ালিটি ও ফিলিং কে তার সঙ্গে এক করে দেখা ........দিস ইস ক্রিসচিয়ান মরালিটি । ক্যারিং ব্রিকস ইনসাইড ইওর ব্রেইন । ফেলো ফিলিং থাক অসুবিধে নেই । যিনি অপমানিত বোধ করছেন তাঁর প্রতি ফেলো ফিলিং রাখার জন্যে নিজের মধ্যে গিল্ট ফিলিং ডেকে আনতে হবে এরকম মনে করিনা , এই আর কি :) একটা ফেলো ফিলিং যদি গিল্ট এর ফ্রেমওয়ার্কের উপর তৈরী হয় সেটা কোনদিন এমন কাওকে কাছে টানতে পারেনা যে আমার সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে । আলটিমেটলি বন্ধুত্বের নামে ভেড়ার পালের অন্যতম ভেড়ায় পরিনত হয় মানুষ ।


এই যে সুবিধাভোগী শ্রেনীর গিল্ট ফিলিং এর কথা বললে এটা কি কোনো দামী অনুভুতি বলে মনে হয় আদৌ ? কিসের জন্ম দেয় এটা ? জন্ম দেয় ফলস হাইটেনিং অফ দি আদার -এর । ইউরোপিয়ান দের চিরকাল গিলটি ফিলিং ছিল যে তারা ওরিয়েন্ট কে শোষণ করেছে । সেই গিলটির ফ্রেমওয়ার্ক জন্ম দিয়েছে ওরিয়েন্টাল মিষ্টিসিসম নামক একটি ঢপ এর চপের যাতে তারা তার আড়ালে ওরিয়েন্ট এর ক্ষমতাকে নিজেদের ক্যাপসুলের মধ্যে পুরে রাখতে পারে । আমেরিকান রা গিলটি ফিলিং এ ভুগেছে যে তারা এবরিজিন দের সঙ্গে কোনো কালে অন্যায় করেছে , সেই গিলটি ফিলিং থেকে তারা সেই এবরিজিন দের নিয়ে ন্যাচেরালিস্ট ভগবান টাইপের মিথ বানিয়েছে । গুচ্ছ কাচ্চ সিনেমা । এবরিজিন রা যে কুলে সেই কুলে । আমাদের আগের শতকের লোকেরাও কি গিল্ট ফিলিং এ ভোগেনি পুরুষ তন্ত্র নিয়ে ? তার ফল হয়েছে : মেয়েরা মায়ের জাত এই থিওরি । আর এই সময়ে শুরু হয়েছে পুরুষতন্ত্রের গিল্ট ফিলিং ফেমিনিস্ম এর রূপ ধরে । পুরুষ একটা কার্পেট থিওরি বানিয়েছে মেয়েরা প্রভোক করার জন্যে রীভিলিং পোশাক পরেনা ,কারণ আসলে সে নিজে, মেয়েদের "রাইট টু প্রভোক" ছেড়ে দিতে রাজি নয় । যে কোনো প্রভকেসনের প্রতি সে নিজে দুর্বল সেটা ঢাকতে এত আয়োজন। একটা বিশাল ভিক্টোরিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক তৈরী হচ্ছে চারপাশে যার ভেক টা প্রগতিশীল । আমার এরকমই মনে হয় । এর থেকে যারা সত্যি প্রবলেম ফীল করছে তাদের কোনো ভবিষ্যত সুবিধে দেখিনা , সাময়িক মলম হওয়া ছাড়া ।

অপ্রেসর কখনো অপ্রেসড কে আউট অফ গিল্ট ফিলিং কিছু দিতে পারেনা । নিজের সুবিধে বাড়ানো ছাড়া । বরং হেট্রেড ভালো । আঘাত ভালো । ওতে পাওয়ার ট্রান্সফার হয় । অনিচ্ছাতেও ।
Avatar: Ekak

Re: খান - ভালোবেসে খান

"বিরক্তি " কে নয় । পার্টিকুলারলি "গিল্ট" কে । ওপরের পোস্ট এ উত্তর আছে । বিরক্তি তো পাশে কেও যা যা শব্দ করে জিভ ছুললেও হয় :)) বিরক্তি কোনো মরাল স্ট্যান্ড নয়। জাস্ট রিয়েকশন । গিল্ট ইস ডিফারেন্ট ।
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

বেশ, আমি সেটাই বোঝার চেষ্টা করছিলাম। আর বোঝার সবথেকে ভালো উপায় হলো তোমায় দিয়ে আরো টাইপ করানো। ঃ-)
গিল্ট তোমার কয়েনেজ, আমি মেনে নিই নি, প্রশ্ন করেছি। গিল্ট তো নাও হতে পারে। ফেলো ফিলিং যদি হয় তো আপত্তি তো থাকতেই পারে, প্রতিবাদ তো আসতেই পারে। পুলিশ এসে বন্ধুকে ক্যালালে আপত্তি করিনা? তাহলে এখানে করলে গিল্ট ভাবা কেন? অপ্রেসর আর অপ্রেসড এর মধ্যে যা হয় তার বিরোধীতা বল্লেই তো হয়। আমি তো বলিনি পুরুষতন্ত্রের ইতিহাসের ব্যাগেজ বইছিনা, আমি স্রেফ অন স্পট একটি অপ্রেশনকে অ্যাড্রেস করছি। এভাবে ভাবা যায়?
Avatar: Tim

Re: খান - ভালোবেসে খান

বইছি* হবে। ঃ-))
Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

“ আসলে এটা শুধু পরিবেশ এর ব্যাপার ও না । কোথাও একটা পাঠকের দর্শন এর ব্যাপার ও । আসলে কি হয় , ভাষা একটা দর্শন -একটা ভ্যালু সিস্টেম কে প্রজেক্ট করে । রতিক্রিয়া একটি যৌথ ক্রিয়া । "চুদে দেওয়া" তা নয় । "লাগানো"ও নয় । যে কোনো তন্ত্রের মতই পিতৃতন্ত্রের কিছু ডাইগ্রেসিভ দিক আছে যার প্রধান হলো নারী কে রিসিভিং এন্ড এ বসানো । আমরা লাগালাগি করিনা । লাগাই ।” যে জিনিসটা মগজে ঢুকছেনা, তা হল এই ভ্যালু সিস্টেম কি স্ট্যাটিক কিছু? তা যদি না হয় তাহলে এর বিবর্তন কি ভাবে হয়? মঙ্গল গ্রহের পিপিং নিশ্চই এই ভ্যালু সিস্টেমের বিবর্তনে ভূমিকা নেবেনা।


Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

কোন কাজ করে আমরা গর্বিত বা লজ্জিত হই। এখন এই গর্ব বা লজ্জা ব্যাপারটা সমাজ আমাদের শেখায়। প্রশ্ন হল কেন শেখায় আর কিভাবে শেখায়। চিত্রকরের একঅর্থে কোন দায় নেই আবার একভাবে দেখলে একেবারে দায় নেই তাও বলতে বাঁধে।
Avatar: সে

Re: খান - ভালোবেসে খান

"এখন এই গর্ব বা লজ্জা ব্যাপারটা সমাজ আমাদের শেখায়। প্রশ্ন হল কেন শেখায় আর কিভাবে শেখায়।"
কেন শেখায়টার উত্তর আমার পার্সপেক্টিভ থেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য শেখায়। যে ব্যাপারটা কারো কাছে গর্বের সেটা রিসিভিং এন্ডে লজ্জার - এইরকম পরম্পরা চালু করলে অনেক সুবিধা। ক্ষমতায়নের সুবিধা।
যে পার্টি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, সে তার স্বার্থে এবং ক্ষমতার জোরে এটা চালু করে। একটা মেয়ে যদি প্রচার করে যে সে দশজনের সঙ্গে শুয়েছে তাহলে তার গর্ভজাত সন্তানের মাতৃত্বে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু সন্তানের পিতা কে, সেটা আনক্লিয়ার। সেইজন্য তাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয়। রামায়নেই তার প্রমাণ রয়েছে। কলঙ্ক শব্দটা রিসিভিং এন্ডের জন্যেই বেশি প্রযোজ্য হয়। তাছাড়া পিতৃতন্ত্রের মডেলও কাজ করে।
ইসলামে একাধিক স্ত্রী থাকলে সন্তানের পিতার বা মাতার পরিচয়ে সমস্যা হয় না। উল্টোটা হলে সমস্যা হত। তাই এভাবে ব্যাপারটা তৈরী করা হয়েছে। সন্তানের পিতৃপরিচয়ের সঙ্গে সম্পত্তির অধিকার জড়িত।
Avatar: সে

Re: খান - ভালোবেসে খান

এই কারণেই জেরিমি কাইল শো এ ডিএনএ দিয়ে পিতৃত্ব প্রমাণ করতে দলে দলে লোক ছুটে আসে। মাতৃত্ব প্রমাণের ডিএনএ টেস্ট করতে কেউ আসে না।
Avatar: সে

Re: খান - ভালোবেসে খান

অন্য একটা টইয়ের বিষয়ও এখানে কিছুটা খাটে। গৃহবধূ নামক ব্যাপারটা এত বেশি মাত্রায় যুগ যুগ ধরে চলছে শুধু সন্তানপালন করবার জন্য মা কে দরকার বলেই না, মেয়েদের ঘরে রেখে দেবার জন্যেও। প্রোটেক্ট করে রাখো, অন্য কেউ "চুদে না দেয়"। ঘরের বাইরে, পরিবারের গণ্ডির বাইরে বেরোলে সেই চান্স বেড়ে যায়, সেটাকে মিনিমাইজ করো, তাকে বোঝাও ঘরে থাকাই তোমাকে সাজে, ঘরের কাজই তোমার কাজ, অন্নবস্ত্র বা রোজগারের ভার পুরুষ নেবে, তুমি ঘরে থেকে গেরস্থালি সামলাও সন্তান ধারণ ও পালন করো, পুরুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না, সে জানবে যা তার নারীর গর্ভে যে সন্তান বাড়ছে সেই সন্তানের পিতা হবার সম্ভাবনা তারই সবচেয়ে বেশি - নারী ঘরের ভেতরেই ছিল। এই নিয়ম বানিয়ে ফেললে সংশয় কমে যায়। নারীর গর্ভে সন্তান এলে তা বাইরে থেকে বোঝা যায়, তার পেট বড়ো হতে থাকে, কিন্তু সন্তান ভূমিষ্ট হবার পরেও প্রমাণ করা যায় না সন্তানের পিতা কে। ক্রমাগত বাপের মত মুখ, বাপের মত গায়ের রং, বাপের মত চাউনি, এইসমস্ত বলবার রেওয়াজ আছে। এগুলোর মধ্যে কিছুটা হলেও প্রমাণ করবার একটা চোরাস্রোত আছে।
"চুদে দিলাম" শব্দবন্ধের মধ্যে নিজের ক্ষমতা বড়াই করে বলবার ব্যাপার আছে। আমি ক্ষমতা রাখি, পাওয়ারফুল।
Avatar: করঞ্জাক্ষ

Re: খান - ভালোবেসে খান

আমার বোধহয় আরেকটু বুঝিয়ে লেখা উচিত ছিল। নইলে ভুল বোঝার অবকাশ থেকে যায়। প্রশ্ন হল হাবার “লাগিয়ে” এসে গর্বিত না লজ্জিত হওয়ার কথা। আরো খুলে বললে সমাজ কি তাকে উৎসাহ দিচ্ছে? গতকাল যদি দিয়েও থাকে তারমানে কি আজকেও দিতে হবে? ঠিক কি ভাবে সমাজ তাকে এই উৎসাহ বা নিরুৎসাহের কথা জানাবে?

বলে রাখি সমাজ একটা স্ট্যাটিস্টিকাল কনসেপ্ট। কোন বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ নয়।
Avatar: সে

Re: খান - ভালোবেসে খান

গতকাল আজ এবং আগামীকালও গর্বের ব্যাপার। স্ট্রাকচার পাল্টানো অনেক কঠিন। আমার আপনার জীবদ্দশায় হবে না।
Avatar: সে

Re: খান - ভালোবেসে খান

স্ট্যাটিসটিক্স জানিনা, তবে সন্তানের ওপরে পিতার নাম/ পদবীর সিলমোহর, স্ত্রীর ওপরে স্বামীর পদবীর সিলমোহর, এগুলোর স্ট্যাটিসটিক্স দেখুন। ক্ষমতা প্রকাশ পায়। কিছু প্রগতিশীল বিয়ের পরে পদবী বদলান না কিন্তু সন্তানের পদবী পিতার পদবীই হয়, সেই সিলমোহর লাগে। ইনসিকিওরিটির খেলা। সেখানেই ক্ষমতার গল্প। যত ক্ষমতা, তত গর্ব।
Avatar: ঈশান

Re: খান - ভালোবেসে খান

হ্যাঁ, লেখা হয়নি। যৌন স্ল্যাং নিয়ে কথা হচ্ছিল। 'লাগানো' 'চুদে দেওয়া/যাওয়া', মূলত এই দুটোই।

প্রথমেই বলি, এই স্ল্যাংগুলির মধ্যে ক্ষমতার রাজনীতি অবশ্যই আছে। কিন্তু সেটাকে ধর্ষণের সঙ্গে ইকুয়েট করা যায়না। এতে একটা দাতা-গ্রহিতা ব্যাপার আছে, যেটা সামাজিকভাবে স্বীকৃত, এরা সেটাকেই প্রোমোট করে। তার চেয়ে বেশি কিছু না।

ওই 'যাওয়া/দেওয়া' শব্দবন্ধ কখন ব্যবহার করা হয়? কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক।

১। "ভাইভাতে মাইরি কী ঠাপ কী ঠাপ দিল। পুরো চুদে গেলাম'।

২। "আমার সঙ্গে লাগতে এলে এমন চুদে দেবনা, ঠ্যালা টের পাবে"।

যৌন অর্থে প্রয়োগ আর লিখলাম না। মোটামুটি একই রকম। যদি সমস্ত সম্ভাব্য শব্দপ্রয়োগ খুঁটিয়ে দেখেন, এখানে ফোকাস একটা জায়গাতেই, যৌনতার অ্যাকটিভ/প্যাসিভ দ্বৈততে। যেখানে ধরেই নেওয়া হয়, যৌনতায় একপক্ষ অ্যাকটিভ, অন্যজন প্যাসিভ। একজন প্লেজার পায়, অন্যজন দেয়। একপক্ষ দাপায়, অন্যপক্ষ মেনে নেয়। এটা এই দ্বৈতের প্রয়োগ, ধর্ষণের না। যেখানে সামাজিক সংযোগ নেই, সেখানে এই শব্দবন্ধ প্রযুক্ত হয়না। যেমন ছিনতাই হলে, ডাকাতি হলে, পুলিশ ঠ্যাঙালে, তার বর্ণনায় এই শব্দবন্ধ প্রযুক্ত হয়না।

তা, এই স্ল্যাং গুলো সেটাই প্রকাশ করে, যেটা সামাজিকভাবে 'স্বীকৃত' একটা দ্বৈত। যেটাকে আমরা ভদ্রভাবে রেখে ঢেকে রাখি। এই ব্যবস্থায় একজন মহিলা সত্যি সত্যিই ভাবেন, যে, যৌনক্রিয়া হল এমন একটু কাজ, যেখানে তিনি কিছু দেন, এবং পুরুষটি কিছু নিয়ে নেয়। আমাদের গোটা ব্যবস্থা, টিভি সিনেমা, সাহিত্য সবই এই ধারণার উপরে তৈরি। 'শ্লীল' সাহিত্যে যখন আপনি "যাঃ অসভ্য" বাক্যবন্ধটি পড়েন (বা ধরুন বিরিঞ্চিবাবার যাঃ মানেই হ্যাঁঃ ) 'শ্লীল' সিনেমায় যখন দেখেন, একটি পুরুষ মহিলাকে ধরতে চাইছে, আর সে বারবার চকিত চাউনি দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে হাত, তখন বস্তুত এই সামাজিক ভাবে স্বীকৃত ধারণাটিকেই প্রোমোট করা হয়, যে, মহিলা কিচ্ছু 'দিচ্ছেন' এবং কষ্ট করে সেটা নিতে হবে। রতিক্রিয়ার যে সামাজিক ধারণা (মেন অন টপ), সেটাও এই একই গপ্পের অংশ। সমতা এখানে নেই। কোত্থাও নেই। সামাজিকভাবেই নেই। পুরুষের মধ্যেও নেই, নারীর মধ্যেও নেই। আমাদের তথাকথিত 'শীলিত' শিল্পকলা এই সাজামিক ক্ষমতাবিন্যাসকে রেখে ঢেকে প্রকাশ করে।

এই নেওয়া/দেওয়া দ্বৈতও খুব বৈপ্লবিক সাবভার্সিভ কিছু করে এমন না। কিন্তু সে এই শিল্পের চাদরটিকে সরিয়ে নেয়। সিনেমার পুরুষের হাত সরিয়ে মেয়েটি যখন বলে 'যাও তো হ্যংলামি কোরোনা' তখন তার মধ্যে একটা ক্ষমতা-প্রকরণের মেসেজ থাকে (অর্থাৎ, পুরুষ হ্যাংলা, সে কিছু 'চায়'), কিন্তু মিষ্টি রোমান্টিকতার চাদরে সেটা ঢেকে দেওয়া হয়। আর অশীলিত ডিসকোর্স এই চাদরটা সরিয়ে দেয়। সে 'হ্যাংলামি'কে এক কথায় বলে 'ভালোবাসা না বাল/ শুধুই চোদার তাল'।

এবার ভিক্টোরিয়ানপনা কোথায়? 'অমহিলাটি দিচ্ছে এবং পুরুষটি নিচ্ছে' এই ধারণা আমরা সবাই সামাজিকভাবে শেয়ার করি। কিন্তু সেটা স্পষ্ট করে শুনলেই শীলিত মন ছি ছি করে ওঠে। সত্যিই কি পাওয়ার প্লে টা আমরা বদলাতে চাই? চাইলে আমাদের আক্রমনের কেন্দ্র হওয়া উচিত সামাজিক 'স্বীকৃতি'টি। সেটা না করে আমরা আক্রমণ করি বাস্তবতার বর্ণনাটিকেই। অর্থাৎ, এসব কথা বোলোনা বাপু। যা হচ্ছে হোক, কিন্তু সেসব চোখে না দেখলেই হল। ইহাই ভিক্টোরিয়ানপনা।

পুঃ এখানে আমি একটা জিনিস ক্লিয়ার করে দিতে চাই। যে, এটা টিম বা অন্য কোনো ব্যক্তিবিশেষের ভিক্টোরিয়ানপনা না। এটা একটা সামাজিক দৃষ্টির অংশ, যার অংশ আমি নিজেও। বস্তুত যারা খিস্তি দেয়, তারা সাধারণভাবে মহিলাদের সামনে দেয়না। দিলে আমরা মেনে টেনেও নিইনা, সামাজিকভাবেই। এই ভিক্টোরিয়ানপনাটুকু আরেকটা সামাজিক বাস্তব, তাতে রাম বা শ্যাম বা যদু বা মধুর আলাদা করে খুব বেশি কিছু করার নেই। সামাজিক ধারণা গুলো বদলালে ভাষার প্রয়োগ বদলাবে। 'চোদা' খিস্তিটা উঠে যেতে পারে, কিংবা 'ফাক' বলার মতো বাঙালি মহিলারাও অনায়াসে 'চুদে দেব' বলবেন হয়তো কোনো এককালে। কিন্তু শুধু ভাষা বদলে বাকিটা বদলাবেনা। তাই ভাষার যেখানে যে স্পেসটুকু আছে থাকতে দিন। মঞ্চে উঠে খিস্তি আমরা করিনা, লোকসভায় করিনা, সাহিত্যের পাতায় 'গাই টক' আর 'গার্ল টক' এর একটু জায়গা থাক না। তাতে রিয়েলিটির প্রতি নজরই রাখা যায়। আর তো কিছু না।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7]   এই পাতায় আছে 104 -- 123


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন