তির্যক RSS feed

বারোটা বেজে গেছে, কোন কিছুই আর নিতান্ত সোজাসুজি নয়।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

তির্যক

ঘরকন্না ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প

যে জীবন ফড়িং-এর দোয়েলের, মানুষের সাথে তার যে দেখা হয় না, সেকথা জানাই ছিল। কিন্তু যেসব জীবন মানুষের-মানুষীরই, তাদের আশেপাশেই থেকেও সেইসব জীবনের সাথেও যে মানুষের আসলে দেখা হয় না, তাও মাঝে মাঝে এমনভাবে জানতে পেরে অবাক হতে হয়।
এই ক’দিন আগে আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রবন্ধ ‘ঘরের কাজের জন্য মাইনে দেবেন না কেন ?’ পড়ে নানাজনের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো পড়তে পড়তে কথাগুলো মনে হল। সেদিনটা দোলের ছুটির পরের দিন, কাগজের প্রিন্ট বেরোয় নি তাই লেখাটা শুধু আবাপ’র ওয়েব সংস্করণেই বেরিয়েছিল, যাঁরা পড়েছেন তাঁরা প্রায় সবাই উচ্চশিক্ষিত, উচ্চবিত্তও। এবং মহিলারা বেশির ভাগই কর্মরতা। তাই এই লেখা, এই ‘ঘরের কাজের জন্য মাইনে’র ধারণা হয়তো সরাসরি তাঁদের জন্য নয়। যে মধ্যবিত্ত / নিম্ন মধ্যবিত্ত গৃহবধুদের কথা ভেবে এই লেখা, তাঁদের হয়ত এই লেখা পড়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু তাঁদের যে আমরা একেবারেই চিনি না, এমনও তো নয় ! কিন্তু দেখা গেল এই লেখা যাঁরা পড়েছেন সেই পাঠকগোষ্ঠীর সিংহ ভাগ মহিলা ও কিছু পুরুষ এই ব্যাপারটায় নানাভাবে আপত্তি ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। লেখকের কাছে প্রতিটি মতামতই মূল্যবান, বিরুদ্ধ মতামত বেশীই মূল্যবান কারণ তা প্রায় টর্চের আলোর মত যেকোন ধারণার অন্ধকার কোণায় আলো ফেলে দেখিয়ে দেয় তার ভুল ভ্রান্তি। উল্টোদিকে বিরুদ্ধ মত যারা পোষণ করেন, লেখকেরও দায় থাকে তাঁদের বোঝার ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়া।
তাই প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো গৃহশ্রমের / গৃহকর্মের মূল্যায়নই এই লেখার মূল কথা। গৃহকর্ম বলাই বেশী ভালো কারণ ততটা শ্রমসাধ্য নয় কিন্তু অনেকটা যত্ন ও ভালোবাসা (এবং আত্মত্যাগ) মেশানো যে সব ছোট ছোট কাজ একটা ঘর কে সংসার করে তোলে আর গৃহবধু কে পরিচারিকার থেকে আলাদা করে সেগুলোর কথাও এখানে ভাবা হয়েছে। সেই গৃহকর্ম যাতে একটা সম্মানজনক পেশায় পরিণত হতে পারে এবং গৃহবধুও নিজেকে বঞ্চিত না ভাবেন বা ‘আমি তো কিছু করি না’ জাতীয় হীনম্মন্যতায় না ভোগেন, সেই জন্য তাঁর একটা নিয়মিত বেতনের কথা ভাবা, যেটা তাঁর স্বামীর বেতনের একটা অংশ (ধরুন ২০%)হিসেবে নিয়মমাফিক সরাসরি তাঁর কাছে আসবে (যেভাবে ডিভোর্সী স্ত্রীর কাছে আসে)। স্বামী এখানে এমপ্লয়ার নন, দাতা তো ননই, তাঁর রাজী হওয়া না হওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই। যেভাবে ট্যাক্স, পি এফ এর টাকা কাটা যায় সেই ভাবেই নিয়মমাফিক তাঁর বেতন থেকে স্ত্রীর বেতন কাটা হবে (অবশ্যই যদি স্ত্রী চাকরী না করেন)। সেই বেতন ঘরের কাজের দরুণ মহিলাটির নিজস্ব উপার্জন, আর এই উপার্জনই তাঁকে স্বনির্ভর করে তুলবে। নিজের ছোটখাটো চাহিদার জন্য স্বামীর কাছে হাত পাততে হবে না, কৈফিয়ৎ দিতেও হবে না। একজন গৃহবধু সসম্মানে বলতে পারবেন ‘আমি ঘরের কাজ করি’।
এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অজস্র যুক্তি ও আপত্তির মধ্যে প্রথমই হল, গৃহবধুর আর আলাদা করে কাজ কি ? ঘরের সব কাজই তো পরিচারিকা করেন, বাচ্চাকে পড়ান টিউটর আর স্কুলে নিয়ে যায় পুলকার বা স্কুলবাস। তাছাড়াও এইসব মহিলারা স্বামীর কাছ থেকে মোটা টাকা হাতখরচা পান, তাতেই তাদের শখ-আহ্লাদ দিব্য মিটে যায়। আর খাওয়া-পরা সমেত সংসারের বড় খরচ তো পুরুষটির(স্বামী)উপার্জন থেকেই হয়, এর পর আবার মাইনে কিসের ! এই কথাগুলো পড়েই মনে হয়েছিল আমরা কবে খিড়কি থেকে সিংহদুয়ারের বাইরের পৃথিবীটা চিনতে শিখব ! অথচ আমরা যে একেবারেই সংবেদনশীল নই তাও নয়, গায়ক অভিজিৎ যেদিন রাস্তায় থাকা মানুষদের গালাগাল দিয়েছিলেন, সেদিন আমরা তাঁকে ছেড়ে কথা বলিনি। বাড়ির পরিচারিকাদের এমনকি যৌনকর্মীদেরও শ্রমিকের সম্মান দেওয়া নিয়ে আমরা ভাবি। তাহলে গৃহবধুদের ব্যাপারে আমরা এত উদাসীন কেন !
আসলে আমরা অনেকেই নিজেদের চাকরী করা জীবনটা দেখতে পাই, পাশের বাড়ির / ফ্ল্যাটের গৃহবধুর আরামের জীবনটা দেখতে পাই আর দেখতে পাই নীচের তলার বাসিন্দা আমার ‘কাজের মাসি’র কঠিন জীবনটা। এর বাইরে মধ্যবিত্ত সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন উপার্জন স্তরের বাসিন্দা যে গৃহবধুরা তাঁদের জীবনটা আমরা দেখতেই পাই না। এই শহর কলকাতায় আমাদের আশেপাশেই তাঁরা থাকেন, কোনো একটা সরকারী ইস্কুলের গেটের কাছে ছুটির সময়টা একটু দাঁড়াবেন, বাচ্চাদের নিতে আসা মায়েদের কথায় কান দেবেন, তাঁদের চেহারা-সাজগোজের দিকে নজর দেবেন, বুঝতে পারবেন গৃহবধু কাকে বলে। একপর্ব রান্নাবান্না সেরে বরকে কাজে পাঠিয়ে বাচ্চাকে নিতে এসেছেন, গিয়ে বাকি রান্নাটা সারতে হবে, ফেরার পথে হয়ত এটা ওটা বাজারও করে নিতে হবে। ঠিকে কাজের লোক একটা এঁদেরও আছে, বাসন মেজে ঘর মুছে কি সপ্তাহে একদিন কিছু কেচে দিয়ে যায়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। রোজকার কাচাকাচি, ঘরগোছানো, বাচ্চাকে স্নান করানো, খাওয়ানো, পড়ানো, জামা কাপড় ইস্ত্রী করা, অতিথি আপ্যায়ন, অসুখে সেবা, এই সব কাজ এঁরা নিজের হাতেই করেন। এই ডিউটি নিয়ে কিছু বলার নেই, এঁদেরও নেই, আমারও নেই কিন্তু দিনের শেষে এঁরা কেন নিজেদের ‘স্বনির্ভর’ মনে করবেন না, উপার্জনের প্রশ্নে মাথা নীচু করে থাকবেন, সেই প্রশ্ন আমাকে ভাবায়। কারণ এটাই বাস্তব, পয়লা বৈশাখে নিজের মাকে একটা শাড়ী দিতে গেলে এই মহিলাদের বরের কাছে হাত পাততে হয়, আর হাত পাতলেই সব সময় হাত ভরে এমনও নয়। এই জীবনটা ‘আমাদের’ নয়, কিন্তু মধ্যবিত্ত-নিম্ন মধ্যবিত্ত সমাজের ওই প্রান্তে যে বিরাট সংখ্যক মহিলা বাস করেন যাদের স্বামীরা ছোটখাটো চাকরী বা ব্যবসা করেন, তাঁদের জীবনটা এইরকমই।
কিন্তু নিয়ম যদি করতেই হয় তাহলে তা সকলের জন্যই করতে হবে আর তাতে আখেরে কিছুটা যাতে সুরাহা হয় সেটাই দেখতে হবে। স্বামীর মাইনের / উপার্জনের কিছু নির্ধারিত অংশ যদি স্ত্রী-র হাতে আসে আর মহিলাটি যদি তার থেকেই পরিচারিকার মাইনে দেন তাহলে একটা কিছুটা সুরাহা হতে পারে। কারণ সে ক্ষেত্রে যিনি বেশির ভাগ কাজ নিজের হাতে করেন আর যাঁর সব কাজ পরিচারিকা করে দেয় তাঁদের মধ্যে উপার্জনগত ভাবে একটা তফাৎ থাকবে। স্বামীকে আর আলাদা ভাবে বৌকে হাত-খরচ দিতে হবে না, আর স্ত্রীও নিজের এই উপার্জনের কতটা সংসারে খরচ করবেন, কতটা নিজের হাতে রাখবেন সেটা তিনিই ঠিক করবেন। কিন্তু তাঁকে স্ব-নির্ভর বা উপার্জনক্ষম নন একথা আর বলা যাবে না কারণ মাসের শেষে তাঁর হাতেও নিয়ম করেই কিছু টাকা আসছে আর সেই টাকাটা তাঁর স্বামী দিচ্ছেন না। এই কথাটিই এই ব্যবস্থার মূল কথা আর এই কথাটা হয়তো অনেকের নজর এড়িয়ে গেছে তাই আবার লিখতে হল।
কিন্তু যাঁরা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মতামত দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকেই বুঝতেই পারছেন না, বাড়ির কাজ যা অনেকটা নিজের জন্যও করা, যা ভালবেসে করা তার জন্য মাইনে কেন ! পুরুষেরা কেউ কেউ আরও এক পা এগিয়ে বলেছেন যে মাইনে থেকে ভাগ দিতে হলে তো কাজের লোক রাখলেই হয়, বিয়ে করার দরকার কিসের ! আর মেয়েরা অনেকেই একটা কথা বলেছেন যে সংসারের পেছনে একজন মহিলার যা অবদান তা কি টাকা দিয়ে মাপা যায় ! অর্থাৎ নিজের সংসারে কাজ করে টাকা নিতে তাঁদের ‘ইগো’তে লাগছে। আবারও বুঝিয়ে বলি, দেখুন, একটা রাস্তায় যানজটের জন্য দেরী হলে সেই দেরীর দরুণ ক্ষতিটুকুও অর্থমূল্যে মাপা যায় কারণ তা দেশের উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করে। ওপরে যেসব কাজের তালিকা দেওয়া হয়েছে, তা সমেত একটা পূর্নাঙ্গ সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিয়ে গৃহবধুরা যে তাকে তাকে সুষ্ঠু ভাবে চালান, সেটা কাজের মানুষটির(পড়ুন পুরুষটির)উৎপাদনশীলতাকে ও কর্মক্ষমতাকে নিশ্চই প্রভাবিত করে কিন্তু সেই বিরাট পরিমাণের শ্রম আমাদের অর্থনীতিতে উহ্যই থেকে যায় যুগের পর যুগ তার কোন ‘মূল্যায়ন’ হয় না, এটা কতটা সঙ্গত সেটা ভেবে দেখার সময় হয়েছে। সংসারের ‘সমস্ত’ কাজের জন্য কাজের লোক রাখা এমনিতেই সম্ভব নয়, যতটা রাখা সম্ভব তার জন্যও খরচের অঙ্ক বিরাট। কিন্তু সেই খরচ দিয়েও একজন গৃহবধুর মত পরিষেবা পাওয়া যায় না, এইটা ছেলেদের ও মেয়েদের সবাইকেই বুঝতে হবে। সেভাবে দেখতে গেলে কোনো পেশাতেই পেশাগত দক্ষতা, যত্ন ও ভালোবাসা টাকা দিয়ে মাপা যায় না; যে যত্ন নিয়ে একজন আদর্শ ডাক্তার একটি শিশুর জন্ম ঘটান বা যে ভালোবাসা নিয়ে একজন শিক্ষক কঠিন বিষয়কে সহজ করে শেখান তাও কি টাকায় মাপা যায় ? তবু সেই সব পেশার ক্ষেত্রেই আমরা আর্থিক মূল্যায়নকে মেনে নিয়েছি কারণ এ ছাড়া আর কোন রাস্তা নেই। তাই গৃহকর্মকে একটা পেশা হিসেবে সম্মান দিলে তার মূল্যায়নের কথাও ভাবতে হবে।
কিন্তু হয়নি এযাবৎ। আর সেই জন্যই কেউ গৃহকর্মকে পেশা হিসেবে ভাবতে পারেন না আর সেই ভাবেই সংসারের ছোটবড় কাজগুলো অকিঞ্চিৎকর হয়ে ওঠে। কিন্তু সে কাজগুলো না করলে যে চলবে এমনও নয়। খেতে আপনাকে হবেই, গৃহবধু রান্না না করলে রান্নার লোক রাখা, না হলে হোম ডেলিভারী। রান্নার লোকের ওপর তদারকি না করলে রান্না খারাপ, তেল বেশি, পরপর ক’দিন খারাপ / একঘেয়ে রান্না খেলে একদিন বাইরের খাওয়া চাইই। তার মানে রান্না-খাওয়া ব্যাপারটা একেবারে এলেবেলে নয়, কিন্তু যখন তা বাড়ির বৌটি করছেন তখন আমরা সেটা আলাদা করে ভাবছি না। সেই রকমই অন্যন্য কাজও। কাউকে না কাউকে সেগুলো যত্ন করে করতেই হয়, না হলে পরিবারের ধারণা দাঁড়ায় না। তাই বিয়ে করাটা নারী-পুরুষ কারুর কাছেই সমাজসেবা নয়, নারীর যেমন নিরাপত্তা চাই, পুরুষেরও দিনের শেষে নিজের সংসার নিজের ভালোমন্দ দেখার মানুষ দরকার।
তবে এখানে ঘরের কাজ মূলতঃ মেয়েরা করেন এবং পুরুষ বাইরেই কাজ করেন বলেই বার বার ‘গৃহবধু’ বলা হয়েছে, তবে আসলে এটা গৃহশ্রমের মূল্যায়নের গল্প। তাই যে নারী বাইরে কাজ করতে চান করুন, যে পুরুষ ঘরে কাজ করতে চান করুন (সেই ‘কি’ আর ‘কা’ এর গল্প), বেতনের নিয়মটা আলাদা কিছু হবে না কারুর জন্য। দুজনেই বাইরে কাজ করলে ঘরের কাজ তাঁরা কিভাবে করবেন সেটা নিজেরাই ঠিক করবেন কারণ সে ক্ষেত্রে মহিলাটিরও নিজের মত জানানোর যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। কিন্তু ঘরের তথাকথিত ‘মেয়েলী’ কাজগুলো সে মেয়েরা করুন বা ছেলেরা করুন, কাজ হিসেবে যে কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, সেটাই মনে করানোর জন্য এবং তাকে স্বীকৃতি দেবার জন্য এই নিয়ম।
গৃহশ্রমের এইভাবে মূল্যায়নকে যারা সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার করতে পারেন না দেখা গেছে তারা এর বাস্তবায়ন নিয়ে ভয়ানক চিন্তিত। যেমন গৃহবধু যদি ‘মাইনে’ পান তাহলে ইনক্রিমেন্ট, পি এফ, গ্রাচুইটি, ইত্যাদি কি ভাবে হবে, সি-এল, ই-এল এর সুযোগ থাকবে কিনা, আরো ভালো ‘মাইনে’ পেলে গৃহবধুর চাকরী বদলানোর সুযোগ থাকবে কিনা ইত্যাদি। বোঝাই যাচ্ছে এর অনেক কিছুই স্রেফ বিরোধিতা করার জন্য বলা, কিন্তু লেখকের দায় থাকে সব প্রশ্ন নিয়েই ভাবার। তাই এই ধরনের সমস্যারও কিছু সমাধানের কথা ভাবতে হয়। স্ত্রীর বেতন যেহেতু স্বামীর বেতনের একটা অংশ হিসেবে আসবে, সে ক্ষেত্রে স্বামীর আয় যেমন যেমন বাড়বে, স্ত্রীরও সেই অনুপাতেই বাড়বে, পেনশনও পাবেন সেই ভাবেই। কিন্তু দেশের সমস্ত চাকরীর শর্ত যেমন একরকম নয়, সেইরকম এই চাকরী থেকে ‘ছাঁটাই’ এর প্রশ্ন নেই কারণ বর এর এমপ্লয়ার নন, মহিলাই বা চাকরী ‘বদলানো’-র কথা ভাবতে পারবেন কি করে, নিজের স্বামী সন্তান ছেড়ে অন্য সংসারে অন্য স্বামী-সন্তানের মাঝখানে ফিট করে যাওয়া কি বাস্তব সম্মত কথা হল ! যাঁরা এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা সম্ভবতঃ এত কিছু না ভেবেই বলেছেন। কিন্তু এর পর থেকে এইরকম প্রশ্ন করার আগে আশা করব একটু ভেবে করবেন। আর সি-এল-ই-এল ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বলব আপনি যেমন অফিসে প্রয়োজনমত ছুটি নেন, গৃহবধুও দরকার মত নেবেন, তখন ঘরের কাজ কিভাবে হবে তা তিনিই ঠিক করবেন। তবে এই সব অনেক প্রশ্নই অবান্তর কারণ গৃহবধু পরিচারিকা নন, নিজের দায়িত্বেই তিনি সংসারের নানাদিক দেখে থাকেন। বিনা পারিশ্রমিকেই। শুধু পারিশ্রমিক নিলেই তাঁকে ভাড়া করার কাজের লোকের সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়া উচিৎ নয়। গৃহবধুকে তাঁর জায়গায় রেখে তাঁর পরিষেবাকে সম্মান জানাবার জন্যই এই ভাবনা।
এই নিয়ম চালু হতে গেলে প্রাথমিকভাবে হয়তো অনেক মেয়েরা নিজেরাই এই পারিশ্রমিক নিয়ে চাইবেন না। কিছুটা চক্ষুলজ্জা (নিজের সংসারে কাজ করে পয়সা নেবো ! ছিঃ, লোকে কি বলবে ), কিছুটা ইগোয় লাগা (আমার দায়িত্ব কি টাকায় মাপা যায় !) যে কথা আগে বললাম। কিন্তু ‘সাফারার’ এর মতামত নিয়ে নিয়ম চালু করতে গেলে হয়তো সতীদাহ-বিধবা বিবাহ-বহুবিবাহ কিছুই রদ করা যেত না। কিন্তু যখনি একটা নিয়ম চালু হয়, কিছু মানুষ তার সুবিধে পেতে শুরু করেন, তখনই আস্তে আস্তে সেটা অর্থবহ হয়ে ওঠে। তার বাস্তবায়নের নানা সুবিধে অসুবিধেও তখনই সামনে আসে আর তার সংশোধনেরও রাস্তা খোলা থাকে। কিন্তু প্রস্তাবটা গোড়ায় বিনাশ করে দিলে এ সব কিছুই আর হয়ে ওঠে না।
গৃহশ্রমের মূল্যায়নের এই মডেল একটি ধারণা মাত্র। মানে এটা নিয়েও যে ভাবা দরকার আর এভাবেও যে ভাবা যেতে পারে, সেইটা জানানো। এভাবেই যে হতে হবে তা কোথাও দাবী করা হয়নি কিন্তু কিভাবে হতে পারে সেইটা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। কিন্তু মজার কথা হল, যাঁরা বিরোধিতা করেছেন তাঁরা কেউ কিন্তু কোনও সমাধান দেননি, শুধু নানারকমের প্রশ্ন তুলে ঠাট্টা-তামাশা করেই কর্তব্য সেরেছেন। তবু এই অবকাশেই এই বিষয় নিয়ে দু-চারটে কথা আবারও লেখার সুযোগ হল, এটাই বা কম কি !


6396 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19]   এই পাতায় আছে 350 -- 369
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

ঘরে রান্না করা শাক, নানা রকম পাতা পুতি খেতে খারাপ হবে কেন ? খুবই ভাল হয়। এরকম নানা রান্না চালুও আছে। আছে বলেই লোকজন বেঁচে বর্তে থাকে।
আমি এখন নিজের খেতে ক'রে রান্না করে খেয়ে ও টেস্ট করে বলছি। ওলকপি , ফুলকপি, বাঁধাকপি পাতাই ধরা যাক, এমনি লোকে ফেলে দেয়। কিন্তু কী পুষ্টি ! রান্না করলেও ভালৈ লাগে। এবার পেস্টিসাইড নিয়ে কথা হলে সেটা আলাদা বড় ইস্যু। আমি যাঁদের নিয়ে কাজ করি, তাঁরা নিজেদের জমিতে এটুকু একটু আধটু ফলিয়ে নিতেই পারেন। আমি এখন সম্পূর্ণ অর্গ্যানিক পদ্ধতিতে চাষবাস করেও দেখছি, কেমন কী ফলন হয়।

আমি যেসব বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করি, তারা ম্যাগির টেস্ট পায়নি, আফোর্ড করতে পারেনা। আই সি ডি এস এর খিচুড়ি ভালই খেয়ে থাকে। কয়েকটা খায়না
Avatar: Ekak

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

বেঁচে বর্তে তো মানুষ খুব বাজে কন্ডিশন এও থাকে :( পেস্তিসায়দ নিয়ে কথা বলছিনা । ওসব টানলে অন্যদিকে চলে যাবে বিষয় । আমার বক্তব্য খুব ডেফিনিট এক্ষেত্রে । সমস্ত মাল্টিন্যাশনাল ফুড জায়েন্ট ব্যবসা করছে টেস্ট এন্ড ফ্লেভার এর ওপর । সবার কাছেই নিউত্রিষণ হলো সেকেন্ড প্রায়োরিটি । কারণ মানুষ আগে স্বাদ দেখে । স্বাদ ভালো লাগলে সেটাই বার বার খায় । ফুলকপি বাঁধাকপি এসব ভালো জিনিস অবস্যই কিন্তু ছতব্যালায় মা ওরকম একগুচ্ছ সবজি দিয়ে নুডল রান্না করে দিলে তিন চামচ খাওয়ার পরেই কাক -গরু খুঁজতুম । স্বাদ একটা বিশাল ফ্যাক্টর যেটা আমাদের সরকার ভাবে না । আমাদের একটা জেনেরাল ধারণা আছে যে গরিব মানুষ এমনি খেতে পায়না তার আবার স্বাদ নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কি হবা । আলটিমেটলি যা ঘটে তা হলো লোকে নিউত্রিবাস ফুড ফেলে মাল্টি ন্যাশনালের পাউচ ফুড কিনে খায় । তিন টাকা -পাঁচ টাকার প্যাকেট এ ওই করেই নেবেছে মার্কেট । এই জায়গাতে না লড়লে , লোকজন কে নিউত্রিশাস ফুড এর মেনু দিয়ে কি কাজ হবে । সন্দেহ হ্যাস ।
Avatar: avi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আমার এক কাজিন বাংলার এক জেলা শহরের এক নামী স্কুলে তখন নাইন বা টেনে পড়ত। একদিন শুনলাম তার নাকি রক্তাল্পতা ধরা পড়েছে। তার মা ফোন করেছিলেন। মেয়ে নাকি ফিজিক্যাল শেপের লোভে ভালো খাওয়াদাওয়া করে না এসব অভিযোগ। আয়রন সাপ্লিমেন্টের কথায় জিজ্ঞেস করলাম, ওদের স্কুল থেকে ট্যাবলেট দেওয়া হত কিনা। তাতে জানলাম একটু উপরের সোস্যাল স্ট্রাটার মায়েদের নাকি ওখানে জেনারেল কনশেনসাস স্কুল থেকে দেওয়া এসব হাবিজাবি জিনিস না খাওয়ানো। তার পরিবর্তে নিজেরা আলাদা ভাবে এটা নিয়ে ভেবেছেন কিনা, তার উত্তর নেগেটিভ। প্রসঙ্গত সে সিঙ্গল চাইল্ড, এমনিতে যত্নের অভাব নেই।
আর একটা গল্প। আমাদের পাড়ায় এক উঠতি পেডিয়াট্রিশিয়ান তখন সবে প্র‍্যাকটিস শুরু করেছেন। আগে পেরিফেরির বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে তখন থিতু হয়েছেন। ক'দিন পরে দেখি দলে দলে কচিকাঁচা, একদম নিউ রিলিজ ইনক্লুডেড, এসে রুটিনমাফিক টীকাগুলো তাঁর থেকে চড়াদামে কিনে যায়। দু-একজন পরিচিত মা-বাবার সাথে কথা বলে জানলাম ডাক্তারবাবু তাঁদের জানিয়েছেন হাসপাতাল থেকে দেওয়া হাবিজাবি ওষুধ বা টীকা না নিতে। ওদিকে আমি তখন কমিউনিটি মেডিসিন নিয়ে তারকেশ্বরে আছি, রিভার্স কোল্ড চেইন সরকারি স্তরে ভালোই মনিটরড হয় দেখছি রোজ, বস্তুত ওই পুরো মেগা ব্যাপারটা একজন ডাক্তার ব্যক্তিগতভাবে কিভাবে সামলান সে নিয়েই আমি সন্দিহান, এসব শুনে আমি পুরো হাঁ।
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আই সি ডি এসের খিচুড়ি বেশিরভাগ বাচ্চা একসাথে বসে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে খায়। খুব ছোটদের সাথে তাদের মায়েরা থাকেন। আরো ছোট হলে মায়েরা খিচুড়ি নিয়ে যান। বা কাজে বেরোতে হলেও।
তো, একসাথে বসে তো তারা মোটামুটি ভালোই খায়। একটি দুটি ছাড়া।
মিড ডে মিলের জন্যও রীতিমতন টান আছে।

এই খাবারগুলো নানারকম কম্পোনেন্ট মেপেজুখেই বানানোর জন্য বলা থাকে, আরো স্টাডি হচ্ছে, ইম্প্রুভমেন্টের চেষ্টাও। একবার অন্ততঃ এই খিচুড়ি খেয়ে থাকলে ( বেশি রোগা হলে বেশি খিচুড়ি), অনেকটা পুষ্টিই কভারড হতে পারে। আর এখনো অব্দি কোন মায়ের কাছে ম্যাগি বা নুডলস ( ম্যাগি এখানে এখনো ব্যানড), খেয়ে অন্য খাবার ফেলে দেওয়ার অভিযোগ শুনিনি, আমি যে সেকশনের মধ্যে কাজ করি , তাদের মধ্যে। এখানকার গ্রামগুলোর মুদির দোকানে এসব তেমন আভেলেবেইল বলেও দেখিনি।


Avatar: S

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আগের একটা লিন্কে দেখলাম এক্জন বাচ্চার জন্যে বছরে ৬৫০-১৫০০ বরাদ্দ হয়। ওতে কি শুধু ওষুধ, টীকা ইত্যাদিই দেওয়া হয় নাকি আরো কিছুও আছে? সেক্ষেত্রে আমার তো বেশ কমই মনে হলো। অথচ হিসাবে দেখছি একটা বড় অংশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে আর ওভারহেডেই চলে যাচ্ছে। এটা কি ঠিক ভাবছি?
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

অভি, একেবারেই এরকম হয়। এবার আমার আত্মীয়াদের প্রেগন্যান্সি , বাচ্চা হওয়া এবং তদ্দজনিত ডাক্তারি পরামর্শ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা আপনার সাথে মিলে যাচ্ছে। রুটিন ফ্রিতে পাওয়া টিকা যে দামে প্রাইভেট ঝকঝকে ক্লিনিক থেকে কিনছেন মা বাবারা, দেখে হাঁ হয়ে গেলাম !
Avatar: Ekak

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

সরকার যেখান থেকে কেনে সেগুলো তো ইন্টারনাল প্রকীয়র্মেন্ট । ফুল সাবসিডি পায় । কাজেই দের হাজারে এফর্দ করা অসম্ভব নাও হতে পারে । শুনে কম লাগছে বটে । গদাধর প্রকল্পে প্রতি একশ বাচ্চা পিছু প্রতি মাসের খরচ এর চে অনেক বেশি । অবস্য মিশন ওসবে কোনো সাবসিডি পায় না ।
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

প্রতিদিন বাচ্চা ও মা প্রতি মোটামুটি পাঁচ টাকার খাবার বরাদ্দ থাকে। ৫০০-৮০০ কিলোক্যালোরির খাবার।
এটা রাজ্যভিত্তিক, কোথায় কী দেওয়া হয়।

http://images.indianexpress.com/2015/06/egg.jpg

এই আইসিডিএস এর বাজেট কাট নিয়ে বা বাড়ানো না নিয়ে তো নানা কথা হচ্ছে। অবশ্য আমাদের আলোচনার ইস্যুর মধ্যে এসব পড়েনা। পাব্লিক হেল্থ আর কবেই বা ইস্যু হল ।
অঙ্গনওয়াড়ি দিদি, তাঁদের হেল্পাররাও কাজের তুলনায় খুব কম টাকা পান। আশাদের কথা তো ছেড়েই দিলাম। রোজ এঁদের কান্নাকাটি শুনি। আর কাজের বহর বেড়ে যাওয়ার ফিরিস্তি। বিধবা ভাতা, সাক্ষরতা, আরো গাদা গুচ্ছ স্কিম, সব এঁদের দেখতে হয়, রোজের এই খিচুড়ি রেঁধে খাওয়ানো, সব রেকর্ড মেইনটেইন, পড়ানো, শেখানো আর গুচ্ছ রুটিন প্রোগ্রাম ছাড়াও। তাও মেয়েরা কাজ করছেন, নিজেদের বাড়ির কাজের বাইরে বেরিয়ে, দেখলে খুব ভাল লাগে। বাড়িতে কেবল নিজের বাচ্চার জন্য কাজ না ক'রে, অন্যদের জন্যেও করছেন দেখলে। আর হ্যাঁ, সেটার জন্য আলাদা পরিশ্রম হয়, আলাদা স্কিলের ব্যবহার হয়। এটার সাথে বাড়িতে এই একই কাজ করাকে গুলিয়ে দিতে দেখলে অবাকই লাগে। নিন, টইকে পথে ফিরিয়ে এনে দিলাম ঃ)

Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আরেকটা বেলাইন কথা বলে এতে ইতি টানবো। এই খিচুড়ি খেতে বেশ সুস্বাদু হয় , দিদিরা খুব জোরজার করলে টেস্ট করতে হয় ঃ)। তো, বাচ্চাদেরও অপছন্দ করার বিশেষ কারণ নেই। অনেকেই চেটেপুটে খায়।
Avatar: S

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

"পাব্লিক হেল্থ আর কবেই বা ইস্যু হল ।"

এডুকেশন, হেল্থ, আর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ছাড়া কোনো দেশ অর্থনৈতীক ভাবে এগোয় না। একেবারেই ক্যাপিটালিস্ট মডেল।
Avatar: ঈশান

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

এরা সব শহুরে ছেলেপুলে রে। আইসিডিএস অঙ্গনওয়াড়ি এসবের নাম শোনেনি। আমার মামার বাড়ির পাশে খিচুড়ি বানানো হত। হেবি গন্ধ বেরোতো। কিন্তু তখন বড়ো হয়ে গেছি আর চেয়ে খাওয়া যায় না। :-)

ফালতু কথা থাক। গরীবদের খাবারের চয়েস নিয়ে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় 'পুওর ইকনমিক্স'এ ইয়াব্বড়ো স্টাডি করেছেন। তার নানা দিক আছে। আলোচনাটা অবিকল এই নিয়ে। খুব মোটা দাগে বললে, 'লোকে কলা না খেয়ে তেলেভাজা খায় কেন' এইরকম। তাতে স্বাদ একটা ফ্যাক্টর বটে, কিন্তু যদ্দুর মনে পড়ছে লাইফ স্টাইলও একটা বড়ো ফ্যাক্টর ছিল। যেমন লোকে চিপস খায় লাইফ স্টাইলের আকর্ষণে। যদিও ওই টাকায় কলা খেলে তার পুষ্টি ক্যালরি সবেরই উন্নতি হত।

উদাহরণগুলো সবই বানিয়ে বললাম। খুব অথেন্টীক লিখলাম বলে ধরবেন না। ক্যালরি নিয়ে পড়লেই মনে হয় মাস্টার স্বাস্থ্যচর্চা করিয়ে দিচ্ছে, তাই খুব মন দিয়ে পড়িনি। এইটা নিয়ে পাই বা অন্য কেউ আলাদা টই খুলে বিশদে লিখলে, আম্মো নাহয় আরেকবার রিডিং দিয়ে অথেন্টিক ভাবে খানিকটা টুকে দেব।
Avatar: S

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

অঙ্গনওয়াড়ি শুনেছিলাম। হ্যাঁ হেল্থকেয়ার স্কিম নিয়ে আমার খুব লিমিটেড ধারণা।
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

হ্যাঁ, অভিজিত বিনায়কদের ঐ স্টাডি পড়েছিলাম। নিজে দেখে এখন মনে হয় ঠিকই। খুব প্রত্যন্ত গ্রামের যেমন অসুবিধে অনেক আছে, একটা সুবিধে হল, এই ধরণের লাইফস্টাইলের হাতছানির সুযোগ তেমন বেশি নেই। তবে কালে কালে কী হবে, কে জানে। অন্য কিছু না থাকলেও একটু আফোর্ড করতে পারলেই আর বিদ্যুৎ এলেই দেখি ডিশ টিভি চলে এসেছে। তবে ভিতরের দিকের দোকানে ( সে এমনিতেই সংখ্যায় খুব কম) সেরকম সাপ্লাই নাই।
দেবর্ষিদাদের লেখাতেও এই নিয়ে একটা আলোচনা ছিল, যদ্দুর মনে পড়ছে। ক্যালরি কন্সাম্পশন কমে যাওয়া নিয়ে।
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আর বলা হয়নি , সকাল সকাল উঠে তির্যকের পোস্ট দেখে বেশ বিরক্ত লেগে গেছে, আবারো প্রশ্নগুলো সব এড়িয়ে যাওয়া আর একটা জিনিস তুলে নিয়ে অপব্যাখ্যা। এ নিয়ে আর কচলাতে ভাল লাগছে না, তাই ঐ তর্ক বা ইন্টারাকশনে যাবোনা।


Avatar: Ekak

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

ভুটানে এই সমস্যা টা অলরেডি ঢুকে গ্যাছে । দুনিয়ার কোরিয়ান প্যাকেজ ফুড । বাচ্চারা হামলে পরে ওই খায় ।
Avatar: জ

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

বাচ্চাদের কী খাওয়ানো হচ্ছে, সরকার/বাড়ি/ স্কুল/ গরীব/বড়লোক এরাজ্য/ ওরাজ্যে, কেন বাচ্চা খায় (নিজের বা মা-বাবার ইচ্ছেমতো) বা খায় না; খেলে বা না খেলে কী হতে পারত-- এসব নিয়ে খুব কাজের কথা হচ্ছে এখানে।

এই আলোচনাটা যেহেতু অন্য জিনিস নিয়ে শুরু হয়েছিল, তাই কেউ এই মূল্যবান আলোচনা খুঁজেই পাবে না পরে। সেটা দূঃখের বিষয়।

অন্য একটা টই না কী বলে খোলা যায় না বাচ্চা/ধাড়ি খাদ্য নিয়ে?

এখানের মূল আলোচনাটাও হয়তো তাতে রক্ষা পায়।
Avatar: dc

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আমার মনে হয় এই আলোচনাটা আর এগোতে গেলে স্পেসিফিক ডেমোগ্রাফিক প্রোফাইল দিয়ে করা উচিত (আগে পিনাকি বলেছিলেন), নাহলে একেবারেই জেনারাইজড আলোচন হয়ে যাচ্ছে। তির্যক নিজেই বলেছেন যে এই সমস্যা বা তার সমাধান সবার জন্য না। কাজেই কোন হাউজহোলড ইনকাম গ্রুপ বা রেঞ্জ এর জন্য এই আলোচনা সেটা উনি লিখে দিলে ভালো হয়।
Avatar: Tirjak

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

ডিসি,
আপনি প্রশ্নটা আগেও করেছেন। তারপর আলোচনাটা অন্যখাতে চলে গেছিল বলে উত্তর দেওয়া হয়নি। তবে আপনি মূল আলোচনায় ফিরতে চেয়েছেন বলে ধন্যবাদ। খুব পরিস্কার করে ইনকাম রেঞ্জ বলা খুব সহজ নয়। তবে মোটের ওপর লো ইনকাম থেকে মিডল ইনকাম গ্রুপের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই নিয়মের প্রভাব স্পষ্ট হবে বলে আমার ধারণা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরশিক্ষককারী প্রতিষ্ঠানের করণিক কিম্বা গ্রুপ ডি কর্মী, প্রাইমারী ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এই রকম (মোটের ওপর আয়ের সীমা ১০০০০ থেকে ৫০০০০ অবধি) একটা বেশ বিস্তৃত অংশের কর্মীরা পড়ে যাবেন। সকলের বেতনের স্কেল আমি খুব ভালো জানি না তবে খুব একটা এদিক ওদিক হবে না বলেই মনে হয়। এই উপার্জন রেঞ্জের মানুষের সংসারে একাধিক সহায়িকা রাখা সম্ভব হয় না। সাধারণতঃ তাঁদের স্ত্রীরা মাঝারি কিম্বা স্বল্পশিক্ষিত মহিলা যাঁদের পক্ষে কি কি কাজ জোটানো সম্ভব আর তার বেতনের হার কেমন সে বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আমি এর আগে কাউকে লিখেছি, পড়েছেন নিশ্চই। এই বেতনে কাজ করে একাধিক পরিচারিকা রেখে সংসার চালানো (শুধু বাইরে কাজ করার তাগিদে) এঁদের পক্ষে কোনোভাবেই সুবিধেজনক হয় না। তাই এই নিয়মের সুবিধে এঁরাই সরাসরি পাবেন।
বাস্তবায়নের বিষয়ে অরিন্দম যা লিখেছেন পড়েছেন তো ! তার চেয়ে ভালো কিছু আমারও জানা নেই, উনি অনেক স্কীমের কথা লিখেছেন জার আওতায় এনে এই নিয়মকে কার্জকরী করা জেতে পারে। সে গুলো আমার বেশ সুচিন্তিতই মনে হয়েছে। আকাও বলেছেন দেখলাম যে সরকারের পক্ষে এই হিসেব রাখা খুব অসম্ভব কিছু নয়, এই সুযোগে আকা ও অরিন্দমকেও ধন্যবাদ দিয়ে গেলাম।
Avatar: pi

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

ঘরে বাইরে কাজ করলে মেয়েদের উপর ঘরের কাজের চাপ ইত্যাদি প্রসঙ্গে এখানে প্রাসঙ্গিক মনে হল বলে দিলাম।

রাকা দাশগুপ্তের এই পোস্টটার সাথে ভীষণভাবে একমত।

'Dept of Science and Technology has launched a “Mobility Scheme”named KIRAN, " which will address relocation issue of women scientists working in regular position in Government Organizations. The Mobility Scheme is aimed to provide an opportunity to women scientists who are facing difficulties in their present job due to relocation (marriage, transfer of husband to any other location within the country, attending ailing parents, and accompanying children studying in different city) and will act as filler while searching other career option at new place.The initiative intends to provide a harmonious environment during early phases of women scientists where they would like to stay active in research in addition to attending and fulfilling other responsibilities in the domestic front. "
***************************************************************************
First of all, kudos to DST for this initiative. This will be really helpful to a large number of women scientists across the country, who are struggling to maintain a proper work-life balance. Many of them are often forced to sacrifice their careers, or make compromises. Relocation to a place of their choice can definitely be a good solution. This is especially true for the "two-body problem", i.e, when a scientist couple cannot find jobs is the same city, and have to live apart.
However, there is still a problem. By ensuring that women may relocate so that they can simultaneously pursue a scientific career and fulfill domestic responsibilities, aren't we conforming to the notion that "domestic responsibilities" are only for women? What if a man want to relocate for the very same reason (marriage, transfer of wife to any other location within the country, attending ailing parents, and accompanying children studying in different city) ? Won't he get a chance? A friend of mine is an experimentalist and has set up a lab of her own - for this couple it would be much more convenient if the husband can move to her city rather than she moving to his.
The initiative is definitely a very positive one and will change the lives of a great many people. Only, it would be even better if the scope of "relocation due to family reasons" can be extended to cover men as well.'
Avatar: de

Re: নারীদিবস ঃ ২। ‘ঘরকন্যা’দের বেতনক্রম ঃ কিছু সংযোজন

আরে এটা তো ভীষণ ভাবেই সত্যি - সরকারী চাগ্রীর ক্ষেত্রে রিলোকেট শুধু মেয়েদেরই করতে দেয়। আমাদের এখানে শুধুমাত্র মহিলারাই অ্যাপ্লাই করতে পারেন হাসব্যান্ডের কাছাকাছি পয়েন্টে ট্রান্স্ফারের, ছেলেরা পারে না। স্টিরিওটাইপিং -

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10] [11] [12] [13] [14] [15] [16] [17] [18] [19]   এই পাতায় আছে 350 -- 369


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন