Binary RSS feed

Binary এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সিটি লাইটস

Binary

ভোর ছটায় যখন ইমন , হিয়াকে স্কুলের মেন গেটের সামনে নামিয়ে দিয়ে গ্যালো তখন আকাশে প্রায় মধ্য রাত। জানুয়ারির মাঝামাঝি , গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বাইরের তাপমান দেখাচ্ছে শুন্যে-র পঁচিশ ডিগ্রী নিচে। রাস্তায় বরফের পুরু চাদর , সাইডওয়াকের বরফ কেটে তৈরী করা পায়ে চলার রাস্তা টুকু বাদ দিলে বাকি চরাচর , ঘাস জমি , স্কুলের ফ্রন্টইয়ার্ড , ব্যাকইয়ার্ড প্রায় সবটাই উপর্যুপরি তুষারপাতে হাঁটু সমান। তবে এনিয়ে বিশেষ আশ্চর্য্য হওয়ার কিছু নেই। বছরের এই সময় , এই তাপমান আর এই বরফের পাহাড় নিয়মমাফিক। স্কুলের সামনে একটা হলুদ কালো স্কুল বাস দাঁড়িয়ে আছে , ছাড়বে আর পনের মিনিট পরে. হিয়াদের আজকে স্কুলে ফিল্ডট্রিপ। কানাডিয়ান সমাজতত্ব বিষয়ক।তো , হিয়া আর ওর বারোক্লাসের আরো জনা পনের ছেলে মেয়ে , সঙ্গে তিন জন শিক্ষক শিক্ষিকা , বসে উঠে বাস ছেড়ে দেওয়া পর বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ি ঘোরায় ইমন। আজ শনিবার। এত ঠান্ডায় ঠিক কি রকম ফিল্ডট্রিপ , জানে না ইমন , কিন্তু তিন চার পর্দা জামা, তার ওপর ওভারকোট , গোবদা ভারী বরফের জুতো , দস্তানা , হুনুমানটুপী পরা ছেলেমেয়ে গুলোকে দেখে একটু মায়া-ই হয় ইমনের। তাও একটা ভরসা , যে বিকেল চারটেবাজার আগেই ফিরে আসবে ওরা।

শহর ছাড়িয়ে হাইওয়ে সেভেন দিয়ে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার যাওয়ার পরে একটা মেঠো ক্রসরোডের দাঁড়ায় স্কুল বাস। ক্রিস্টিনা (সমাজতত্ব-র পার্শ্ব শিক্ষিকা) সবাই কে বাস থেকে নামতে বলে। গত দুতিনদিন তুষার পাতে , পায়ের নিচে স্তরীভূত বরফের চাদর। হাইওয়েতে সাধারনত রোজ-ই দুই বার করে তুষার পরিষ্কার হয়ে থাকে , কিন্তু এই মেঠো রাস্তা-য় পা দিয়ে-ই গোড়ালি পর্যন্ত বরফে ডুবে যেতে হয়। বাসের ড্রাইভার বাদে ওরা সবাই বাসের সামনে জড়ো হয়ে দাঁড়ায়। বাতাসের ঝাপটায় শরীরের যেটুকু অংশ খোলা আছে , সেটুকু তীব্র জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। এতোক্ষোন বাসে-র ওম গরমে এমিলি , লিওনি , হিয়া আর কোনোর হাহা হিহি , রক মিজিক-এর গল্প , সিনেমার গল্প করছিল মশগুল হয়ে , এখন একদম সবাই চুপ মেরে গ্যাছে। ক্রিস্টিনা হাত তুলে সবাই কে উদ্দেশ্য করে বলে ..

"গাইজ , দিস ইস দা প্লেস , হোযার হি ওয়াস ড্রপড অফ অন জানুয়ারী ইলেভেন্থ , ইন মিড নাইট টুয়েন্টি ইয়ার্স ব্যাক , .... উই উইল স্টার্ট ফ্রম হিয়ার " .......

****
রাত সাড়ে দশটার সময় মিডটাউন প্লাজা-র বাইরে ঘুপচি মত একটা শেডের তলায় বসে ঝিমুচ্ছিল পনোক্ক। কোকেন -এর নেশায়। রাত নটা পর্যন্ত যতক্ষন মিডটাউন প্লাজা খোলা ছিল , ততক্ষোন ভেতরে একটা বেঞ্চিতে কাত হয়ে শুয়েছিল , তারপর প্লাজা বন্ধ হওয়ার সময় সিকিউরিটির কালো উর্দির ওপর হলুদ ভেস্ট পরা ষন্ডামত গার্ড এসে ঘেঁটি ধরে বাইরে বের করে দিয়ে গ্যাছে। যদিও দুপুরে কোকেনের পুরিয়া ইনহেল করেছিল ও , সেই ঝিমুনি এখনো কাটেনি , তবুও ঠান্ডা বাঁচাতে আরো একবার নাকে টেনে নিয়েছে, প্লাজা থেকে বাইরে আসার পর। এই জানুয়ারিতে , বাইরের তাপমান হিমাঙ্কের কুড়ি পঁচিশ ডিগ্রী নিচে। পনোক্কর গায়ে তুলোর ভারী কোট , তাতে তিন পরতি ময়লা , মাথায় তুলোর টুপি আর হাতে দস্তানা , সব-ই মিডটাউন প্লাজা-র 'লস্ট ফাউন্ড' ড্রাম থেকে কুড়িয়ে পাওয়া , বেঢোপ আর বোটকা গন্ধ।

পনোক্ক একজন , বেওয়ারিস আবরিজিনাল , নেটিভ ইন্ডিয়ান। বা ফ্রাস্টনেশন। বয়স আনুমানিক তিরিশ। কাজ কম্ম কিছু করে না , বেকার নেশাখোর। শহরের আনাচে কানাচে এরকম বেওয়ারিস ফ্রাস্টনেশন প্রচুর ঘুরে বেড়ায়। পনোক্ক-র জন্মের কোনো ঠিক নেই। মা কে দেখেছে , তবে বাবা কে জানে না। ওর মায়ের ৭ টা ছেলেমেয়ে ছিল , মানে ওর সহোদর সহোদরা , তবে একএক জন একএক বাপের। জ্ঞান হওয়ার পর থেকে অবশ্য একজন বদরাগী মাঝবয়সী মোটাসোটা লোককে মায়ের সাথে থাকতে দেখেছে পনোক্ক , যে লোকটা ওদের ভাইবোন কে ধরে বেদম পিটতো বিনা কারণে। যেখানে থাকত ওরা , সেটা সরকার থেকে দেওয়া ঘেটো মত ফ্ল্যাট বাড়ি।ফ্ল্যাট বাড়ি সুদ্ধু সবাই সোশাল ওয়েলফেয়ারে দিন কাটানো লোকজন। আশি শতাংশ লোক , পুরুষ মহিলা , ছেলে বুড়ো নেশাখোর। বা মাতাল। সমাজ কল্যাণ দপ্তরের চেষ্টায় ইস্কুলে ভর্তি হয়েছিল একবার , কিন্তু ক্লাসফোরের পর আর পোষায়নি বলে পালিয়ে এসেছিল। গোডাউন আর ওয়ারহাউসে মুটেগিরির কাজ করেছিল বিভিন্ন সময়ে , কিন্তু ওর-ও জীবনটা এই তিরিশ বছর বয়েসেও এখন কোকেন নির্ভর। মুটেগিরির কাজ আবার পেলে হয়ত আবার করবে , কিন্তু আপাতত , সোসালওয়েল ফেয়ারের ভাতার ওপর বেঁচে আছে , যার অর্ধেক যায় দুবেলা স্যান্ডুইচ খেতে আর অর্ধেক সিদ্ধ-নিষিদ্ধ নেশার জিনিষে।

আর হ্যা , ওর একজন গার্লফ্রেন্ড -ও আছে। সেই মেয়েটা ওর থকে প্রায় ছয় সাত বছরের বড় , কিন্তু এরকম ছন্ন ছাড়া নয়। কিছুদুর পড়াশোনা করেছে , একটা ইস্কুলের জেনিটার সার্ভিসে কাজ করে। তো সেই মেয়েটাই পনোক্ক-কে একদিন রাস্তাথেকে তুলে এনে বাড়িতে রেখেছিল। যদিও এখন সেখানেই থাকে পনোক্ক, তবে প্রায়-ই চিত্কার ঝারপিট লেগেই থাকে গার্লফ্রেন্ড-এর সাথে। আর এরকম হলে মেয়েটা ওকে গলাধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয় , দু-চারদিন চার্চের হোমলেস শেল্টার -এ কাটিয়ে আবার গার্লফ্রেন্ড-এর কাছে ফিরে যায় পনোক্ক।

আজকে সেই রকম একটা গার্লফ্রেন্ড-এর কাছে গলাধাক্কা খাওয়া দিন ছিল। মিডটাউন প্লাজা-র বাইরে ঘুপচি মত শেড-এর তলায় বসে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ভাবছিল , আরেকটু রাত হলে , হেঁটে হেঁটে ফিফথ এভিনিউ-এর হোমলেস শেল্টারে গিয়ে ঘুম লাগবে। অবশ্য ওখানে যাওয়ার একটা মুশকিল হলো , যে ওর পকেটে এখনো কোকেন-এর দুটো আস্ত পুরিয়া। হোমলেস শেল্টারে-র গার্ডগুলো দারুন সেয়ানা , পুরিয়া পকেটে নিয়ে ঢুকলেই পুলিশে খবর দেবে। তো ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ঠিক কি করবে ঠিক করতে পারছিল না পনোক্ক।

তো এইসব ভাবনার মাঝামাঝি , সামনের ফুটপাথে একটা পুলিশের গাড়ি থামে। রাতের টহলদার গাড়ি। কালো লেদার জ্যাকেট আর উর্দি পরা দুটো টহলদারী পুলিশ নাম গাড়ি থেকে। শেতাঙ্গ। পেশী বহুল চেহারা। ঝিমিয়ে থাকা পনোক্ক-কে ধাক্কা মেরে জিগ্গেস করে

- হাই ম্যান , হোয়াট আর ইউ ডুইং হিয়ার ?
- নাথিং
- হোয়াট নাথিং ? আর ইউ হাই ?
- নো নো
- হোয়াটস ইন ইউওর পকেট ?
- নাথিং

পুলিশের মোটামুটি জানাই থাকে যে এরকম লোক নিষিদ্ধ ড্রাগ সঙ্গে নিয়ে ঘোরে। প্রতিদিন না হলেও প্রায় প্রতি সপ্তাহের তিন/চার দিন এরকম কোকেন সহ লোক ধরা পরে। হাজতে নিয়ে আসা হয়, তারপর কেস , কোর্ট , ডিটেনশন ক্যাম্প , রিহ্যাবসেন্টার। তো , পনোক্ক উঠে, সটকে পরার তালে ছিল , কিন্তু বিশালাকায় দুজন পুলিশের সাথে পেরে ওঠে না। ওকে দেওয়ালে ঠেসে ধরে হ্যান্ডকাফ লাগায় , পকেট থেকে কোকেন -এর পুরিয়া দুটো বের করে নেয় , তারপর গাড়িতে তুলে বলে , " লেটস গো টু পোলিশ স্টেশন"।

***
হিয়া-রা গোড়ালি ডোবা বরফে মেঠো পথ ধরে পশ্চিম দিকে হাঁটতে সুরু করে , লাইন করে , সামনে ক্রিস্টিনা। হওয়ায় আর ঠান্ডায় সকলের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগার। দিগন্ত বিস্তৃত সাদা বরফের প্রেরি জমি। পেছনে পূব আকাশে দিক চক্রবালের সামান্য ওপরে সূর্য্য। দিনের আলো সবে ফুটেছে। পশ্চিমে বহুদূরে নাক বরাবর আবছা একটা গ্রেনএলিভেটারের অবয়ব। তার কাছাকাছি হয়ত বা একটা দুটো মনুষ্য বসতি , বা একটা বাড়ি। হিয়া-রা জানে ওটা 'পিয়ার্স টাউন'। দূরত্বটা চোখের আন্দাজে ঠাহর না হলেও হিয়ারা এটাও জানে , মানে ক্রিস্টিনা আগের দিনের ক্লাসে বলেছিল "ইট ওয়াস সিক্স কিলোমিটার্স ফ্রম হোযার হি ওয়াস ড্রপড অফ"। কিন্তু এখন সেটা ভাবার মত কোনো কোনো অবস্থা ওদের ছিল না। পায়ের মোটা জুতোর নিচ থেকে প্রবল ঠান্ডা উঠে আসছে , নাকের ডগা ঠান্ডায় রক্ত বর্ণ।

***
পনোক্ক-কে গাড়িতে তোলার পর পুলিশ দুজন ঠাট্টার ছলে আলোচনা করে , কি আর হবে ব্যাটা কে ফাড়িতে নিয়ে গিয়ে , সেই তো খরচা করে লকআপে রাখতে হবে , খরচা করে আদালতে তুলতে হবে , তারপর খরচা করে রিহ্যাব -এ পাঠাতে হবে। ব্যাটা-রা সোসাইটি-র স্ক্যাম। ওয়েলফেয়ারের টাকায় কোকেন টানে।

পেছনের সিটে ঝিমন্ত পনোক্ক-কে নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে যাওয়ার বদলে হাইওয়ে সাত-এ ওঠে পুলিশের গাড়ি। তারপর , অন্ধকার মধ্যরাতে , বাইরে যখন শৈত্য প্রবাহ -৩০ , বরফ ঢাকা প্রেইরি প্রান্তরের পঞ্চাশ কিলোমিটার মত গিয়ে , গাড়ি থামে। পেছনের সিট্ থেকে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দেওয়া হয় পনোক্ক-কে। তারপর বলা হয়

"হাঁটা লাগা শালা , হূউইইইই যে দুরে দেখছিস টাউনের আলো , ওখানে থাকতে পাবি " ......

অবশ্য তার আগে খুলে নয়া হয় হাতকড়া , যাতে পুলিশের কোনো চিহ্ন না থাকে।

***
দেড় কিলোমিটার চলার পর , যখন ওদের কারো আর এক পাও হাঁটতে ভাললাগছিলো না। প্রবল ঠান্ডায় ওরা বিদ্ধস্ত। তখন একটা জায়গায় একটু ঢালু হয়ে যাওয়া রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ক্রিস্টিনা বলে , "হি ওয়াস ফাউন্ড হিয়ার , ফাইব ডে'স আফটার "।

ওখান থেকে ওরা ফিরে আসে স্কুল বাসে।প্রবল ঠান্ডায় সবাই জড়োসরো। ফেরার পথে কফি সপে গরম কফি আর স্যান্ডুইচ খায় সবাই। যদিও আর ঠান্ডা লাগছে না ওদের , কফিশপের ওমে সবাই চাঙ্গা , তবুও কেন জানি কারো হাহাহিহি করতে ভালো লাগছিল না ওদের।

***
কুড়ি বছর আগে , পুলিশে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দেওয়ার পর পনোক্ক-র দেহ পাওয়া গেছিল পাঁচ দিন পরে , সেই ঢালু জায়গায় , যেখানটা ক্রিস্টিনা দেখিয়েছিল হিয়াদের। হাইপোথার্মিয়ায় মৃত , কিন্তু জানুয়ারির প্রবল ঠান্ডায় শরীরে পচন ধরে নি। হয়ত দূরের 'পিয়ার্স টাউনের' আলোর দিকে হাঁটতে হাঁটতে , ওই পর্য্যন্ত এসে দম ফুরিয়ে গিয়েছিল ওর।


------------
গল্পটা এখানেই শেষ হলেও একটা ছোট উপসংহার আছে। এনকাউন্টার হত্যা নিয়ে আমাদের দেশীয় আরক্ষাবাহিনী-র বদনামের গল্প এমন কিছু অবাক করার মত নয়। তার অনেকটাই সত্যি , অনেকটাই আধা সত্যি , কিছুটা অতি রঞ্জিত। তবে আমাদের দেশের পুলিশ হেফাজতে মানবধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস বহু পুরনো , যুগ পাল্টে পাল্টে গ্যাছে , কিন্তু এই অসামাজিক পুলিশি প্রবৃত্তি পরিবর্তন হয় নি।

কিন্তু কথাটা ঠিক পুলিশি অত্যাচারের নয় , কথাটা একটা বোধের , যেটা অনেক মানুষের থাকে না , তারা মাঝে মাঝে পুলিশে কাজ করে , আমাদের দেশেও আবার পশ্চিমী উন্নত সমাজেও।

312 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: রৌহিন

Re: সিটি লাইটস

ভালো লাগলো পড়ে। বিশেষতঃ উপসংহারেরর অংশটুকু
Avatar: sosen

Re: সিটি লাইটস

সত্যি ঘটনা?
Avatar: 4z

Re: সিটি লাইটস

স্টারলাইট ট্যুর। এটা কি নীল স্টোনচাইল্ডের কেসটা?
Avatar: Binary

Re: সিটি লাইটস

হ্যাঁ , সেটাই । ফোজ্জি
Avatar: Binary

Re: সিটি লাইটস

তবে , হুবহু নয়
Avatar: পড়লাম

Re: সিটি লাইটস

পড়ে থম্‌ মেরে বসে রইলাম।
Avatar: 4z

Re: সিটি লাইটস

সেটা বুঝেছি বাইনারিদা।
Avatar: hu

Re: সিটি লাইটস

পড়লাম
Avatar: Binary

Re: সিটি লাইটস

যদিও নীল্ স্টোনচাইল্ড-এর নজিরটা সবচেয়ে বেশি পাব্লিসাইজড , কিন্তু ওটা ঠিক আইসলোতেড ঘটনা নয়। ষ্টারলাইট-ট্যুর এক সময় আমাদের পুলিশী হেপাজতে 'কম্বল ধোলাই' -এর মত কুখ্যাত ছিল। তবে আশার কথা এই যে, এখানে নাগরিক সমাজে সচেতনতা-ও বেশি , "ফিল দ্য পেইন , টু রিয়ালাইস দ্য ভালনারেবল পিপল"
Avatar: 4z

Re: সিটি লাইটস

ঐ সময়ে বেশ কিছু কেস সামনে আসে কিন্তু প্রায় প্রত্যেকটাতেই প্রমাণের অভাবে কারোর কোন সাজা হয় না। আসল ঘ্টনাগুলো ঘটে যাওয়ার প্রায় এক দশক পরে ইনভেস্টিগেশন শুরু হলে অবশ্য কি প্রমাণই বা আর পাওয়া যায়। ড্যারেল নাইট বেঁচে যাওয়ায় দোষী অফিসারদের আট মাসের জেল হয়।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন