RSS feed

দ'এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • জীবন যেরকম
    কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটা পোষ্ট করেছিলাম “সাচ্‌ ইজ লাইফ” বলে। কেন করেছিলাম সেটা ঠিক ব্যখ্যা করে বলতে পারব না – আসলে গত দুই বছরে ব্যক্তিগত ভাবে যা কিছুর মধ্যে দিয়ে গেছি তাতে করে কখনও কখনও মনে হয়েছে যে হয়ত এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি মানুষ চট করে হয় না। আমি যেন ...
  • মদ্যপুরাণ
    আমাদের ভোঁদাদার সব ভাল, খালি পয়সা খরচ করতে হলে নাভিশ্বাস ওঠে। একেবারে ওয়ান-পাইস-ফাদার-মাদা...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ৩
    ঊনবিংশ শতকের শেষে বা বিংশশতকের প্রথমে বার্সিলোনার যেসব স্থাপত্য তৈরী হয়েছে , যেমন বসতবাটি ক্যাথিড্রাল ইত্যাদি , যে সময়ের সেলিব্রিটি স্থপতি ছিলেন এন্টোনি গাউদি, সেগুলো মধ্যে একটা অপ্রচলিত ব্যাপার আছে। যেমন আমরা বিল্ডিং বলতে ভাবি কোনো জ্যামিতিক আকার। যেমন ...
  • মাসকাবারি বইপত্তর
    অত্যন্ত লজ্জার সাথে স্বীকার করি, আমি রিজিয়া রহমানের নামও জানতাম না। কখনও কোনও আলোচনাতেও শুনি নি। এঁর নাম প্রথম দেখলাম কুলদা রায়ের দেয়ালে, রিজিয়া রহমানের মৃত্যুর পরে অল্প কিছু কথা লিখেছেন। কুলদা'র সংক্ষিপ্ত মূল্যায়নটুকু পড়ে খুবই আগ্রহ জাগে, কুলদা তৎক্ষণাৎ ...
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

আমার শৈশবের অনেকখানি আর কৈশোর ছিল ভারী একলামত| আমি যখন আট নয় বছরের মেয়ে, তখনই আমাকে প্রায় পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে গণ্য করা হত| প্রায় বললাম, কারণ পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত আমার মতামত গ্রাহ্য করা হত না, কিন্তু কাজকর্মে, আচার আচরণে পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত ব্যবহার আশা করা হত| আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম ভাইয়ের আগে জন্মানোয় আমাদের প্রাচুর্য্যের সময়ের পুরোটা, আট বছর ধরে আমি ভোগ করেছি, কিন্তু ভাই মাত্র দুই বছর ----- তাই এখন আর আমার কিছুই প্রাপ্য নয়|

নয় বছর বয়সেই আমার পাড়ার মাঠে খেলাধুলো একদম বন্ধ করে দেওয়া হয়, আমাকে বিকেলে বাড়ী থেকে বেরোতেই দেওয়া হত না, 'বড় হয়ে গেছি' এই অজুহাতে আমার বিকেলের খেলাধুলো বন্ধ হয়| আমার মামাবাড়ী আবার খুব ধার্মিক টাইপেরও ছিল| প্রতিদিন দুইবেলা নিত্যপুজো ছাড়াও প্রতি মাসে পুর্নিমার দিন সত্যনারায়ণ পুজো, দোল, জন্মাষ্টমী, বেশ কয়েকটা সংক্রান্তি, অরণ্যষষ্ঠী (যেটাকে জামাইষষ্ঠী বলে), ইতুপুজো হত| আর হত মাটির মূর্তি কিনে এনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো আর সরস্বতীপুজো| এইসব পুজোর পরে আমাদের চরণামৃত নিতে ডাকত| এইখানে একটা মজা হত| আমি যদি আগেও পৌঁছে যেতাম তবু কিন্তু আমাকে কখনই আগে চরণামৃত বা প্রসাদ দিত না দিদা| ভাই আগে এলে ভাইকে দেবে, তারপর অপেক্ষা করবে কখন মামাতোদিদি আসবে, ওকে দিয়ে তারপর আমাকে| আর যদি মামাতোদিদি আগে পৌঁছয় তাহলে ওকে, তারপর ভাইকে তারপর সবশেষে আমাকে|

তো এইসব দেখে দেখে আমি ক্রমশঃ ঠাকুরবিমূখ হয়ে উঠছিলাম| এদিকে আমার মা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে 'বৈধব্য' পালন করতেন, কতটা স্বেচ্ছায় আর কতটা কোনও এক অনির্দেশ্য পাপের ভয়ে তা সম্ভবতঃ উনি নিজেও তলিয়ে ভাবেন নি কোনওদিন| প্রতিদিন একবেলা আতপচালের ভাত আর মাসে দুটো একাদশীতে অন্নবর্জিত আহার মা'র পেটে সহ্য হত না, নানা গোলমাল লেগেই থাকত কিন্তু তাও নিয়মের পরিবর্তন হত না| বাড়ীতে বেড়াতে আসা সহানুভুতিশীল আত্মীয় প্রতিবেশীদের কেউ কেউ আবার মা'কে আমাদের জন্য মাছ মাংস রান্না না করবার সুপরামর্শ দিতেন --- 'বিধবা মানুষ তুমি কেন আবার আমিষ ঘাঁটবে?' মা যখন জানাতেন যে আমাদের এই বাড়বৃদ্ধির বয়সে মাছমাংস দরকার, তখন এঁরা বলতেন 'মেয়ে তো বড় হয়ে গেছে, দুদিন বাদে শ্বশুরবাড়ী যাবে, ওকেই দাও ওগুলো রান্না করতে|' এইসময় দিদার একেবারে বাঁধা মন্তব্য ছিল 'হুঁঃ রান্না! সারাদিন বই মুহ বইস্যা থাকে, মেয়েরে শ্বশুরবাড়ীর সামনের দরজা দিয়া ঢুকাইয়া পাছদরজা দিয়া বাইর কইর্যাত দিবনে|' অতঃপর আগন্তুকরা এবং উপস্থিত আত্মীয়রা মিলে নয় দশ বছরের 'বুড়োধাড়ি' আমার বিবেক জাগ্রত করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন| এতেকরে ঠাকুর বাকুরের সাথে সাথেই আমি ক্রমশঃ রান্নাবান্নার প্রতিও বিতৃষ্ণ হয়ে উঠছিলাম| কিন্তু সে অন্য গল্প, এখন থাক|

তো, বুড়োধাড়ি আমি রান্না করতে না এগিয়ে গেলে এই সব ঠাকুরেরা নাকি দেখে দেখে পাপ দেবে, মা আমাদের মত সেদ্ধ চালের ভাত খেলেও ঠাকুর পাপ দেবে| আবার ঠাকুর সম্পর্কে বা বড়দের কোনও কাজ সম্পর্কে বেশী প্রশ্ন করলেও ঠাকুর পাপ দেবে| সেই পাপের ফল কখনও যদি পরীক্ষায় খুব খারাপ নম্বর হয় তো কখনও তা বাবার নেই হয়ে যাওয়া,কখনও বা তা আরও অনুচ্চার্য্য অনির্দেশ্য কোনও ভয়| এদিকে ভয়ডর আমার প্রথম থেকেই বেশ কমসম আর সেটা বড়রা জানেও| আমার মায়ের নিয়ম ছিল সন্ধ্যের বাতি জ্বলার আগে ঘরে ঢুকতে হবে| আমার খুব ছোটবেলায়্ আমরা কটকে থাকতাম| সেখানে একবার বিকেলে খেলে ফিরতে দেরী হওয়ায় মা আমাকে একটা ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়| সেই ঘরে মা'র ঠাকুরের ছোট ছোট ছবি, মুর্তি থাকত আর থাকত এটাসেটা সংসারের নানান জিনিষ, বাবার কিছু কাগজপত্র ইত্যাদি| তো, মা'র পরিকল্পনা ছিল আমি কান্নাকাটি করলে ভবিষ্যতে আর দেরী না করার কড়ারে খুলে দেবে| আমি নাকি কান্নাকাটি না করে নিশ্চিন্তে আসন থেকে তুলে ঠাকুর আর ঠাকুরের ছোট্ট ছোট্ট থালা গেলাস জানলা দিয়ে নীচে ফেলছিলাম| আমাদের বাড়ীর পেছনদিকটায় ছিল সুন্নি মুন্নিদের ঘর| একটা উঠোনের চারিদিকে গোলকরে পরপর কিছু ঘর, ৫-৬টা পরিবার থাকত| আমার এসব কিছুই মনে নেই, শুধু আবছা মনে পড়ে থালা গেলাসগুলো নীচের উঠোনে পড়ে একটা সুন্দর ঠননন ঠননন আওয়াজ হচ্ছিল| সুন্নিরা মেথর ছিল, তাই নাকি ভয়ে ঠাকুরের মুর্তি বা ছবিতে হাত না দিয়ে হাঁউমাউকরে চেঁচিয়ে মা'কে ডাকে| তা আমার বছর তিনেক বয়সের এই কালাপাহাড়সদৃশ কর্মটা এইসময় বারেবারে সবাই মা'কে মনে করিয়ে দিয়ে সাবধান করে দেয় যে আমার পাপের পরিমাণের একটা নিয়মিত চেক-ব্যালেন্স দরকার; নচেৎ নিজে তো পাপে ডুববোই সঙ্গে সঙ্গে মা আর ভাইকেও ডোবাবো|

তো এইসব দেখেশুনে আমার ঠাকুর বাকুরে অভক্তি, বিতৃষ্ণা বাড়তে থাকে| অন্যত্র সেকথা লিখেওছি, এখানে আরেকবার টুকে দিই| ক্লাস নাইনে আমাদের সহায়ক পাঠ হিসেবে বাংলায় একটা গল্প আর একটা কবিতার বই ছিল, 'গল্পসংকলন' আর 'কবিতাসংকলন'| কবিতাসংকলনেই পড়ি 'চাঁদ সদাগর' কবিতাটা| এই কবিতাটা আমার একেবারে মাথায় গেঁথে যায়| আমার বাড়ীর খাতায় নীল আর কালো কালির কলম দিয়ে বড় বড় করে লিখে রাখি ----
'শিখাইলে এই সত্য, তুচ্ছ নয় মনুষ্যত্ব, দেব নয় মানুষই অমর
মানুষই দেবতা গড়ে, তাহারই কৃপার পরে করে দেবমহিমা নির্ভর'

চন্নামিত্তি ও প্রসাদ বিতরণের ধরণ দেখে যে বিতৃষ্ণা শুরু হয়েছিল, মায়ের বৈধব্যপালন যার ভিৎ তৈরী করেছিল এই কবিতা তাকে শক্তপোক্ত চারটে দেওয়াল দেয়| তাই এরপরে অতি তুচ্ছ কারণে বড়মামা প্রচন্ড বকে এবং মা বলে 'ঠাকুরকে ডাক যাতে মানুষ হতে পারিস, অনেক বড় হতে পারিস' আমি প্রবল বিতৃষ্ণা ও বিরক্তিতে ভাবি ঠাকুর আবার কী! ঠাকুর ফাকুর সব বাজে কথা| এরপরে যখন দিদাও ছুতোনাতায় গল্প করা নিয়ে বকতে থাকে, পড়াশোনা না করা নিয়ে ব্কতে থাকে, তখন আমি সুযোগ খুঁজতে থাকি, একদিন সুযোগ পেয়েও যাই| দিদাকে নিয়ে ব্ড়মামা, মাইমা আর মা মেজমামার বাড়ী তখন আমি দোতলার ঠাকুরঘরে এসে ঢুকি, ভেতর থেকে দরজা ভেজিয়ে দিয়ে ছোট খাট্ থেকে নামিয়ে আনি রামকৃষ্ণ, সারদামণি, অন্নদা ঠাকুর, কালীঠাকুর, গনেশঠাকুরের ছবি| দেয়াল থেকে পেড়ে আনি কৃষ্ণরাধার ছবি --- তারপর একটা একটা করে ছবির ওপরে উঠে দাঁড়াই, ছবির কাচ যাতে ভেঙে না যায় তাই ঐ ঠাকুরদের বিছানার তোষক নিয়ে ফটোর ওপরে রেখে তার ওপরে দাঁড়াই --- তোষক সরিয়ে ফর মুখগুলোতে পা ঘষি --- সব ফটো জায়গামত রেখে ধার থেকে টেনে আনি লক্ষ্মী আর সরস্বতীর মূর্তি --- এই দুটো ঠাকুরের মূর্তি এনে পুজো হয়, ভোগ দেওয়া হয় আর পুজোর পরের দিন আগের বছরের ঠাকুরের বিসর্জন দেওয়া হয়| এই মূর্তিগুলোর ওপরে দাঁড়ানো যায় না, তাই পা দিয়ে ওদের শাড়ি ডলে দিই, লক্ষ্মী সরস্বতীর মুখে ঘষে ঘষে পায়ের পাতা মুছি --- পায়ের আঙুল দিয়ে মূর্তির মাথার চুলগুলো রগড়ে দিই --- তারপর আবার উঠিয়ে বসিয়ে দিয়ে আসি --- আর মনে মনে বলে আসি যে ঠাকুরের দোহাই দিয়ে দিদারা এত অন্যায় করে, অন্যায় মিথ্যে বলে সেই ঠাকুরকে পা দিয়ে ডলে রগড়ে দিলাম --- ওদের দেখানো 'ঠাকুর দেখবেন ওপর থেকে' এই ভয় আমি মানি না| আমি বহন করি না, কোনওদিন করবও না ওদের উত্তরাধিকার|

সরস্বতীপুজোর সময় অঞ্জলী দিতে হয় বাড়ীতে একবার আবার স্কুলে গিয়েও| বাড়ীতে আমি চেষ্টা করি না দেওয়ার, কিন্তু হয় না| মা জোর করে ধমক দিয়ে হাত বা চুল ধরে টেনে অঞ্জলী দেওয়াতে নিয়ে আসে, কিছুতেই মুখ দিয়ে বেরোয় না 'না আমি অঞ্জলী দেব না', বরং মুখ বুজে ফুল বেলপাতা হাতে নিই --- একটাও মন্ত্র উচ্চারণ করি না বরং মনে মনে আওড়াই 'মানুষই দেবতা গড়ে তাহারই কৃপার পরে করে দেব মহিমা নির্ভর' ---- আবার ফুল বেলপাতা ছুঁড়েও দিই মূর্তির পায়ের দিকে| মনে মনে যা তীব্রভাবে অস্বীকার করে চলি মুখে কিছুতেই তার প্রকাশ হয় না বরং দিব্বি সকলের মন পছন্দ কাজগুলো আপাতভাবে চালু থাকে --- মনে মনে বলি এই ঠাকুরটা আসলে কেউ নয় কিচ্ছু নয় আমরা ফুল বেলপাতা দিচ্ছি তাই --- কিন্তু তাহলে বাকীদের বলে দিচ্ছি না কেন? মা বকবে? মারবে? বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে বলবে 'জিজির বাড়ী চলে যা' --- হ্যাঁ বলতেও পারে ---- তাহলে আপাতত এসব না বলাই ভাল --- যখন স্বাধীন হয়ে যাব, চাকরি করব তখন বলব -- তখন কেউ কিছু বলতে পারবে না -- কিছু বললেও তখন আর আমার কিচ্ছু যাবে আসবে না --- অতএব মনের মধ্যে তৈরী হয়ে ওঠে সুযোগের অপেক্ষায় থেকে আপাতত মিথ্যে ভান করে নেওয়া একটা চতুর মন --- নিজের এই মনটাকে আমি নিজেও ঠিক পুরোটা বুঝে উঠতে পারি কি না কে জানে! এই মন আমাকে দিয়ে চন্নামিত্তি নিয়ে মাথায় ঠেকানোর মত একটা ভঙ্গী করায় --- আমি দুধ-ঘী-মধুর সুস্বাদু তরল জিভ দিয়ে সুড়ুৎ করে টেনে নিয়ে হাতটা পায়ের তলায় মুছে ফেলি| নিজের মনে অবিরাম দ্বন্দ্ব চলতে থাকে, সকলের চোখের আড়ালে এ আমার কেমন প্রতিবাদ? এ তো ভন্ডামি --- মন বলে হ্যাঁ ভন্ডামিই তো, ইস্কুলে ইরাদি যখন বলেছিল 'তোমায় তো মা দেখিয়ে দেন ট্র্যানশ্লেসান' ত্খনও তো বলে ওঠো নি 'না না মা তো কিচ্ছু পড়া দেখায় না আমাকে' সেইটে ভন্ডামি ছিল না? আমি বলি আহা তখন ঐটে বললে মা তো ভীষণ রাগ করত, মন বলে আর এইটে বললে বুঝি ক্যাডবারি কিনে দেবে? আরও অনেক বেশী রাগ করবে| আমি বলি কিন্তু সত্যি যদি সরস্বতী জ্যান্ত হয়ে কম নম্বর পাইয়ে দেয়? মন বলে তাহলে তো বুঝেই যাবে আমরা মানুষরা বানাই না, আর ঠাকুররা রাগ করলে নম্বর কম হয়| আমি ব্যাজার হয়ে বলি তখন বুঝে কি ঘন্টা হবে আমার? মন খুশী হয়ে বলে বলে ধ্যুৎ চল তো আজ তো আর পড়াশোনা নেই, কেউ খোঁজ করবে না, এখন চুপিচুপি ওপরে গিয়ে প্রসাদ আর নবকল্লোলের ছবিগুলো দেখি বরং|

তো, এইসব দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে স্কুল পাশ করে কলেজে ঢুকি আর আরো বেশী করে লোকজনের 'ঠাকুর ঠাকুর' দেখে দ্বিধা কেটে যেতে থাকে, নিজের প্রত্যয়ে স্থির হয়ে উঠতে থাকি| বাড়ীর ধমক, মায়ের হাতের থাপ্পড়, কিল কিছুই আর আমাকে কোনও ঠাকুরের সামনে মাথা নত করাতে, প্রণাম করাতে পারে নি| এইসব বকাবকির মধ্যে এইটুকু লাভ হয়েছে মা মাসে দুবার একাদশী করাটা বন্ধ করেছে আর আতপ চাল খাওয়াটাও| সাদা ব্লাউজ ছেড়ে অল্প কিছুদিন রঙীন ব্লাউজ, শাড়ীর পাড়ের সাথে রং মিলিয়ে, তাও পরতে শুরু করে| কিন্তু ঐটুকুই, ওর চেয়ে বেশী আর কিছু পরিবর্তন করাতে পারি নি, মাছ মাংস খাওয়াতে পারি নি| দীর্ঘ ১৫ - ১৬ বছরের অনভ্যাসে মা'র ততদিনে মাছে গন্ধ লাগে| দিদা, মা, অন্য আত্মীয় পরিচিতরা বলেছে সেরকম সেরকম বিপদে পড়লে ঠিক ঠাকুরকে ডাকবি| নাঃ ডাকি নি| বি এসসি অনার্সে উপর্যুপরি ফেল করে শুরু থেকে আবার শুরু করতে হয়েছে, চাকরী, একটা ভদ্রস্থ আয় হয় এমন চাকরীর জন্য দীর্ঘদিন লড়তে হয়েছে, মন্দার সময় চাকরী থেকে ছাঁটাই হয়ে গেছি ---- কিন্তু তবু কোনওদিন ঠাকুরবাকুরে বিশ্বাস আসে নি আর| এইসব লড়াইয়ের গল্প বলতে গেলে মস্ত উপন্যাস হয়ে যাবে ---- গাড়ী কিনে শোরুম থেকে আনতে গিয়ে দেখেছিলাম শোরুমের লোকজন একটা মোটা গাঁদার মালা, আস্ত নারকেল আর মিষ্টির বাক্স নিয়ে রেডী 'পুজা চড়হানেকে লিয়ে'| তা মালা আর নারকেল ফেরত দিয়ে মিষ্টিটা ওঁদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ায় অল্পবয়সী ছেলেমেয়েগুলো কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত কিঞ্চিৎ খুশী, কিন্তু ভারী অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন একটু বয়স্ক হোমরা চোমরাগণ| একই ব্যপার বাড়ী কিনে পুজো, গৃহপ্রবেশ, হাউস ওয়ার্মিং পার্টি কিচ্ছুটি না করায়| কিন্তু নাঃ আমার মা দিদাদের উত্তরাধিকার আমি আর বহন করি না|

কথা হল এই অস্বীকার না করার জন্য আমার ওপরে যতটা সম্ভব মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, কিন্তু একেবারে প্রাণের আশঙ্কা দেখা দেয় নি| এতদূর যে যায় নি, সে কি নিতান্তই আমি অর্থনৈতিকভাবে এবং সর্বোতভাবে স্বাধীন বলে? না কি লোকজন আসলে অতটা গুরুত্ব দেয় নি, নিজেরা যে যেমন আছে বিশ্বাস আর গোঁড়ামি নিয়ে তেমনি থেকেই গেছে বলে? আমার অবিশ্বাস কাউকে বদলাতে বাধ্য করে নি, অন্য কারো জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলার তেমন সম্ভাবনা নেই বলেই কি আমার অবিশ্বাস আমি চর্চা করে যেতে পারি? পদাবলী কীর্তনকে পাঁঠাবলী কীর্তন বলে অভিহিত করেছি, দুই একবার থানায়ও ফোন করেছি আওয়াজে অতিষ্ঠ হয়ে, কিন্তু কখনও জনমত সংগঠনের চেষ্টা করি নি এই শব্দ দানবের বিরুদ্ধে| বোঝানোর চেষ্টা করি নি ছোট ছোট বাচ্চাদের কানের কি ভীষণ ক্ষতি হয় এই বছরে তিরিশবার বিভিন্ন পুজোর সমাইক অত্যাচারে| যারা চেষ্টা করেছেন অন্যকে বোঝানোর, লিখেছেন অন্ধত্বের বিরুদ্ধে তাঁদের প্রাণ দিতে হচ্ছে একে একে| মহারাষ্ট্র অন্ধশ্রদ্ধা নির্মূলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা নরেন্দ্র দাভোলকর খুন হয়েছেন ২০১৩র আগস্টে, ২০১৫র ফেব্রুয়ারীতে খুন হয়েছেন অভিজিৎ রায়, খুন হয়েছেন তার পরে পরে আরো অনেকে| বিভিন্ন খুনের জাস্টিফিকেশান হিসেবে এসেছে তথাকথিত নাস্তিকতার অভিযোগ| আর অন্যদিকে উদ্দাম হয়ে উঠেছে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের দাপাদাপি| একদিকে গোটা ভারত জুড়ে দাপাচ্ছে ব্রাহ্মণ্য ও উচ্চবর্ণের হিন্দুত্ব আর একদিকে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী জুড়ে দাপাচ্ছে শারিয়া আইনের প্রবর্তনে উন্মুখ সালাফিজম|

এই অদ্ভুত কালো দুঃসময়ে জোর গলায় বলবার সময় এসেছে আমি মানিনা আপনাদের এই ধর্ম ও তার উগ্র প্রচার| আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে প্রকাশ্যে উগ্র ধর্মাচরণ প্রবর্তনে বাধা দেব| আমি আপনার ঘরে ঢুকে দেখতে যাব না আপনার ফ্রীজে বা ভাঁড়ারঘরের মিটসেফে গরু কিম্বা শুয়োরের মাংস রাখা আছে কিনা, ঘরের কোণায় ঠাকুরের পট আছে নাকি নামাজের ব্যবস্থা --- কিন্তু প্রকাশ্যে চৌমাথার ওপরে আপনি এই নিয়ম প্রবর্তন করতে চাইলে আমি বাধা দেব| আমি বিচার চাই সবকটি হত্যাকান্ডের --- বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আপনাকে মনে করিয়ে দেব যে বিচার হয় নি, আমি বিচার চাই| না ফাঁসি চাই না, বিচার চাই|


2039 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 85 -- 104
Avatar: Tim

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

লাইনটা পড়ে তো তিনলাখ লোকের মধ্যে একলাখকে মেরেছিলো মনে হয়। যাই হোক সেই সংখ্যাটাও অনেক, জাস্টিফাই করছিনা, জাস্ট কনফিউশন এড়াচ্ছি।
Avatar: hu

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

সেকুলার রাষ্ট্রের করা ম্যাসাকারকে "সেকুলারিজমের নামে হত্যা" কেন বলা হচ্ছে বুঝতে পারছি না।
Avatar: Robu

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

শ্রীলন্কায় এলটিটিই হত্যাকে কি বৌদ্ধদের দ্বারা হিন্দু হত্যা বলা হবে?
তবে দেবব্রত বাবু, আপনি লিখতে থাকুন, আপনার লেখা পড়তে ভাল লাগে, একমত সবসময় তো হওয়ার দরকার নেই।
Avatar: দেবব্রত

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

Tim আমারই ভুল তিনলাখ কৃষকের মধ্যে ১ লাখ সাফ , আমি পূর্বে ৬৫০০০ লিখেছিলাম, যদিও রেকর্ড একেবারে ঠিক বলা যাচ্ছেনা কিন্তু সংখ্যাটি অনেক । প্রাইমারি সেকুলার স্টেটের কৃষক গণহত্যার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বেদীতে এর পড় জন লকে ,অ্যাডাম স্মিথ আসবেন ।

Hu বলছেন সেকুলার রাষ্ট্রের করা ম্যাসাকারকে "সেকুলারিজমের নামে হত্যা" কেন বলা হচ্ছে বুঝতে পারছি না, আমিও সেই অর্থে বুঝতে পারছিনা ক্রুসেড যার মধ্যে বিশুদ্ধ রাজনীতি বর্তমান তাকে 'ধর্মের নামে হত্যা বলা হবে কেন '? আমি শুধু লুথার কে উধৃত করে সেকুলার স্টেট এর ভিত্তি স্থাপনের প্রাথমিক চিত্র আঁকার চেষ্টা করছি । যেই স্টেট আদৌ শান্তির পারাবত ওড়ায়না বরং আরও বেশী হিংস্র আরও বেশী অসহিস্নু ।

এখন এটি অন্য বিষয়ের পোস্ট এখানে কমেন্ট কলামেই যদি বিস্তৃত প্রবন্ধ রচিত হতে থাকে মুস্কিল , আমি এই বিষয়ে একটা লেখার প্রয়াস করছি - একমত হওয়ার দরকার নেই তবে ঐতিহাসিক সত্যতো পাল্টে দেওয়া যাবেনা ।
Avatar: Robu

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

ফ্যাক্টের ইন্টারপ্রিটেশন যে পাল্টাতে পারে, সেটা এলাউ করবেন তো?
Avatar: lcm

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

দেবব্রত মূল জায়গাটায় কিন্তু গেছেন।
ধর্মের নামে বিধর্মী (বা বিপরীতধর্মী) মানুষ হত্যা, বা, নাস্তিকতার অজুহাতে ধর্মীয় মানুষ হত্যা -- এর বেশির ভাগ, প্রায় পুরোটাই রাজনৈতিক। ক্ষমতার লড়াই।
Avatar: Indrani

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

খুব ভালো লাগলো । অনেক ক্ষেত্রেই একাত্ম বোধ করলাম। না-বলতে পারার সাহস ধরে রাখা জরুরি। সবাই পারেনা, তবে কেউ কেউ পারেও।
Avatar: cm

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

তারমানে ধর্ম নয় মূল মডেল হল কন্ট্রাডিকশন এলিমিনেট কর। এর কারণ ও খুব সোজা, শ্রোডিংগারের বিড়াল বগলে করে ঘোরার কৌশল এখনো সাধারণ জ্ঞানের অংশ হয়ে ওঠেনি।
Avatar: দ

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

শেষের দিকের আলোচনাটা ইন্টারেস্টিং। দেবব্রতর সাথে একেবারেই একমত নই। তবে আপনি যে লেখাটির কথা বলেছেন সেটি লিখুন, সেখানে দ্বিমত জানানো যাবেখন।

'সে' তাতার মুসলিমদের ওপরে অত্যাচারের কথা বেশ বিস্তারিত রাশিয়ার টইতে লিখেছিলেন। কিন্তু ওটা আমার মতে ঠিক নাস্তিক কর্তৃক নাস্তিকতাকে ঢাল রেখে অত্যাচার নয় বলেই মনে হয়েছে। অত্যাচার কখনই সমর্থনযোগ্য কিছু নয়। তবে কার্য্যকারণ অন্য বলে আমার ধারণা।

'জ'-এর এই বক্তব্যটি সামান্য বদলে বলি কেউ যদি নাস্তিক/সন্দেহবাদী বা নিরীশ্বরবাদী কোনও বাবা মা আত্মীয়স্বজনের হাতে ব্যক্তিগত ধর্মাচরণের জন্য (যেটা অন্য কাউকে কোনওভাবে অত্যাচার করে নি) নিজে অত্যাচারিত হয়ে থাকেন, তাঁর কথা আমিও মন দিয়ে শুনব।

কমিনুশ্ট কথাটা আপাতত বাদ রাখছি কারণ সেক্ষেত্রে দেবব্রতর কভার করা অংশটায় ঢুকতে হয়। সেটা আপাতত ঢুকছি না।


Avatar: দ

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

*কমিউনিস্ট
Avatar: দেবব্রত

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

দ - আপনি ভুল বুঝবেন না , তবে আমার সাথে একমত হওয়া মুস্কিল আমার মতামতের নির্জাস এই রকম

১ লোকায়ত ধর্ম ছাড়া সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আদপে আধিপত্যবাদি ,দাসত্বের দর্শন এবং রাজনৈতিক দর্শন
২ তথাকথিত সেকুলার মডেল যেহেতু খ্রিস্টধর্মের মরাল এবং এথিকস অনুসৃত তাই ইহাও তাই এবং এনার হাত ধর্মের মতই রক্তাক্ত এবং প্রমাণিত সত্য যে এই সেকুলার নেসান স্টেট এর মডেল চূড়ান্ত রূপে ব্যার্থ
৩ মিলিট্যান্ট এথিসিম চূড়ান্ত আধিপত্যবাদি ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে ধর্মের তুলনায় অধিক এবং এই এথিসিমের নামে যা কীর্তিকলাপ হয়েছে সেই কাহিনী শুনলে চেঙ্গিস খান গঙ্গায় ডুবে মরতেন ।

৪ জাতীয়তা বাদ নব্য ধর্ম এবং রাষ্ট্র নব্য ঈশ্বর ।

' If God is, man is a slave; now, man can and must be free; then, God does not exist.I defy anyone whomsoever to avoid this circle; now, therefore, let all choose.'
Avatar: ranjan roy

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

পড়ছি, বোঝার চেষ্টা করছি। আসলে সেকুলার স্টেট বলতে মাথায় কমিউনিস্ট স্টেট ঢুকে আছে। অন্যদের, শুধু প্রটেস্ট্যান্ট নয়, জেনারেল ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক গুলোকেও ঠিক সেকুলার বলে মানতে কষ্ট হয়ঃ))।
তাই দেবব্রতর কথা বুঝতে প্রথমে কনটেক্স্ট ও প্রেমিস বদলে নিতে হচ্ছে।
Avatar: দেবব্রত

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

রঞ্জন বাবু
' A secular state is a concept of secularism, whereby a state is or purports to be officially neutral in matters of religion, supporting neither religion nor irreligion.'

রাশিয়া ১৯১৭ । কিন্তু রাষ্ট্রের ভূমিকা থেকে ধর্মের অধিকার বিচ্ছিন্ন করার মূলত ইউরোপিয়ান প্র্যাকটিস ১৫১০-১৫২৫ থেকে শুরু , প্রাথমিক তাত্বিক মার্টিন লুথার । ফ্রেঞ্চ রেভলিউসন ,জন লকে , অ্যাডাম স্মিথ, জেফারসন একে একে রাষ্ট্র পরিচালনায় চার্চের ভূমিকা নগণ্য করে তুলবেন । আমি সেকুলার বলতে এদেরকে মানে আধুনিক ইউরোপ কে বোঝাতে চেয়েছি । কমিউনিস্ট বা সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র অনেক পরের দিকের কথা ।
Avatar: রৌহিন

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

হ্যাঁ একটু দেরী করে এসে বোঝার চেষ্টা আমিও করছি - দেবব্রতর সঙ্গে একমত এখনো হতে পারিনি - কিন্তু ইন্টারেস্টিং লাগছে পড়তে। এবং বেশ কয়েকটা বিষয়ে নতুন করে জানতেও পারলাম। আলাদা প্রবন্ধ হোক - অপেক্ষায় রইলাম - সেখানেও তর্ক করব কিন্তু - যতক্ষণ মনের মধ্যে সন্দেহ থাকছে।
এখানে দ এর প্রশ্নটা আমারও রইল - কেউ নাস্তিক পরিবারে ব্যক্তিগতভাবে ধর্মাচরণ করার জন্য ধিকৃত বা অত্যাচারিত হয়েছেন কি?
আমি কমিউনিজমের সঙ্গে সেকুলারিজমকে গুলিয়ে ফেলছি না। সত্যি বলতে কি, বলশেভিক বিপ্লবোত্তর রাশিয়া বা হালের চীন দেখে মনে হবার যথেষ্ট কারণ আছে যে কমিউনিজমও এদের কাছে একটা ধর্মই। এখন দেবব্রত যে এঙ্গেলটা নিয়ে এসেছেন, সেকুলারিজম এজ আ ভ্যারিয়েশন অব ক্রিশ্চিয়ানিজম, সেটা নিয়ে আমার বিশেষ কিছু জানা নেই - তাই জানছি এবং বুঝতে চেষ্টা করছি। আমি সেকুলার বলতে বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপ, বর্তমান ভারত - এই সব দেশগুলোর কথাই বোঝাতে চেয়েছি - এই ব্রডার ভিউটাকে দেখিনি। তাই এটা আগে জেনে নিই ভালো করে।
ও একটা বিষয়ে একমত - ক্রুসেড সমেত অন্য অনেক যুদ্ধই আসলে রাজনৈতিক - এ বিষয়ে একমত না হয়ে উপায় নেই। জানি এতে আমার নিজের আর্গুমেন্টই হারিয়ে ফেললাম - রাশিয়ার কৃষক হত্যাকে "নাস্তিকতার নামে" না বলে "রাজনৈতিক" বলেছিলাম। কিন্তু তবুও একমত না হয়ে উপায় নেই। ধর্ম আর রাজনীতি একদম অঙ্গাঙ্গী জড়িত। নাস্তিকতা অতটা জড়িত কি না জানিনা।
Avatar: সে

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

আলবানিয়া নিয়ে কথা হবে না? সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে ধর্ম নিষিদ্ধ ছিল।
Avatar: Atoz

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

খুবই ইন্টারেস্টিং আলোচনা হচ্ছে। মন দিয়ে পড়ছি।
Avatar: i

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

বোঝার চেষ্টা করছি। ভালো লাগছে আলোচনা। আজকাল দেবব্রতবাবুর নাম দেখলেই পড়ার চেষ্টা করি সেই টই ...

অন্য প্রসঙ্গেঃ গতকালের 17:16:01 IST র ইন্দ্রাণী আমি নই।
Avatar: জ

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

দেবব্রত,
খুব সুন্দর লিখেছন। একমত হই বা না হই সেটা প্রশ্ন নয়।
একটু মতবিনিময় করার চেষ্টা করি।

দেবব্রত-উক্তি- "আমার মতামতের নির্জাস [নির্যাস] এই রকম
১ লোকায়ত ধর্ম ছাড়া সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আদপে আধিপত্যবাদি ,দাসত্বের দর্শন এবং রাজনৈতিক দর্শন"
আমি, জ, একেবারে একমত।

দেবব্রত-উক্তি- "২ তথাকথিত সেকুলার মডেল যেহেতু খ্রিস্টধর্মের মরাল এবং এথিকস অনুসৃত তাই ইহাও তাই এবং এনার হাত ধর্মের মতই রক্তাক্ত এবং প্রমাণিত সত্য যে এই সেকুলার নেসান স্টেট এর মডেল চূড়ান্ত রূপে ব্যার্থ"

আমি, জ, এখানে কিঞ্চিৎ বিভ্রান্ত। একলাইনে অনেকগুলো কথা বলা হল, যেগুলোর প্রথম স্টেটমেন্ট থেকে দ্বিতীয় স্টেটমেন্ট, বা দ্বিতীয় স্টেটমেন্ট থেকে তৃতীয়টি করোলারি হিসেবে বেরিয়ে আসেনা। ঐতিহাসিকভাবে যে সেকুলারিজম আমরা মূলধারার রাজনীতিকে অনুসরণ করতে দেখি, সেটা খুব সম্ভব ঐতিহাসিকভাবে (আবারও ঐতিহাসিক শব্দটা বললাম ইচ্ছে করেই) খ্রিস্টধর্মের মরাল এবং এথিকস থেকে নিঃসৃত। কিন্তু প্রতিটি মতবাদ, ইজম, বয়ান, সিস্টেম - প্রতিটাই তো অ-স্বয়ম্ভূ। প্রতিটারই ইতিহাস আছে। তার থেকে এটা কি বলা যায়, "তাই ইহাও তাই এবং এনার হাত ধর্মের মতই রক্তাক্ত।"? আমি যুক্তিটি বুঝতে ব্যর্থ, যদিও তথ্য দিয়ে দেখানো যেতেই পারে "এনার হাত ধর্মের মতই রক্তাক্ত"। শুধু জন্মবৃত্তান্ত থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

দেবব্রত-উক্তি- "৩ মিলিট্যান্ট এথিসিম চূড়ান্ত আধিপত্যবাদি ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে ধর্মের তুলনায় অধিক এবং এই এথিসিমের নামে যা কীর্তিকলাপ হয়েছে সেই কাহিনী শুনলে চেঙ্গিস খান গঙ্গায় ডুবে মরতেন।"

আমি, জ, মনে করি মিলিট্যান্ট এথিসিম ঠিক কী ভাবে সংজ্ঞায়িত করছেন, সেটা খুব জরুরী ব্যাপার। তা ছাড়া আলোচনা চলতে পারে না। ধরুন রান্নাঘরে গোমাংস রাখার অভিযোগে ভারতে আখলাককে মারতে একটা মব চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে একদল হিন্দু রুখে দাঁড়াল (মুসলিম থাকতেই পারে, আমি কাহিনীকে সরল করতে চাইছি)। মারামারি হল। আমি দেখলাম, দু দলই গুলি বোমা চালাল (পুলিশ ছিল না, সরলতার জন্য দরে নিই)। তো, দ্বিতীয় দল কি মিলিট্যান্ট এথিস্ট? প্রকরণের দিক থেকে, বলতে হবে, হ্যাঁ। কিন্তু সেটা কি এখন দরকার নয়? এবং, এটা কি "মিলিট্যান্ট এথিসিম চূড়ান্ত আধিপত্যবাদি" বক্তব্যের পক্ষে যাবে?
মানে, "মিলিট্যান্ট এথিসিম চূড়ান্ত আধিপত্যবাদি" বলার চাইতে ""মিলিট্যান্ট মৌলবাদ চূড়ান্ত আধিপত্যবাদি", এটাই এখন অন্তত বেশি সত্য, ও রেলেভ্যান্ট মনে হচ্ছে।

"৪ জাতীয়তা বাদ নব্য ধর্ম এবং রাষ্ট্র নব্য ঈশ্বর।"

আমি, জ, একটু সন্দিহান। মানে রূপক, ঐতিহাসিক তুলনা, এসব ভাল জিনিস, যতক্ষণ তাকে অরিজিন্যালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি না হচ্ছে। ঈশ্বর যেমন ভয়ে ভক্তি আদায় করেছিলেন, রাষ্ট্র তাই করছে। কিন্তু রাষ্ট্র যে মনুষ্য-নির্মিত, সে ব্যাপারটা মানুষের কাছে স্পষ্ট। ঈশ্বর অযৌক্তিক -- এটা নিয়ে অভিযোগ চলত না (এখনও চলে না)। কিন্তু রাষ্ট্র নিয়ে চলে। এরকম অনেক তফাৎ আছে, সেগুলো না বলে "রাষ্ট্র নব্য ঈশ্বর" বলাটা একপেশেমি।

ধন্যবাদ।

Avatar: জ

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

আরে কী কাণ্ড!
আমার 04 March 2016 12:04:30 IST এর পোস্টে খানিকটা অংশ কে জানে কখন ডিলিট করে দিয়েছি!
"রান্নাঘরে গোমাংস রাখার অভিযোগে ভারতে আখলাককে মারতে একটা মব চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে একদল হিন্দু রুখে দাঁড়াল"
এর পরে ছিল এইরকম কিছু,
তারা জন্মসূত্রে হিন্দু, কিন্তু বিশ্বাসে এথিস্ট। মানুষ কী খাবে, তাই নিয়ে ধর্মের খবরদারী ন্যায্য মনে করে না। যারা খরবরদারী করে, তাদের সঙ্গে টক্কর দেবার দরকার মনে করে।
এই অংশটা আমার ভুলে কখন যে ডিলিট হয়ে গেছে!
দয়া করে ওটা মনে মনে ওখানে ঢুকিয়ে নেবেন।
Avatar: ranjan roy

Re: বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

চমৎকার আলোচনা হচ্ছে। আলাদা টই হলে আরও ভালো হয়। অনেকগুলো প্রেক্ষিত ও তাদের ওভারল্যাপিং স্পষ্ট হচ্ছে। আপাতত আমার ভাবনা অনেকটা রৌহিনের মতন।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 85 -- 104


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন