Garga Chatterjee RSS feed

Garga Chatterjeeএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

Garga Chatterjee

প্রতি বছর বিশ্বের কিছু নামী সংস্থা দুনিয়ার সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল রেঙ্কিং তালিকা এনে উপস্থিত করেন। কোন বছরেই কোন তালিকাতেই সেখানে ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ২০০-র মধ্যে আসে না। সেই নিয়ে এখানকার কিছু লোক একটু চিন্তা ব্যক্ত করেন। আর কেউ কেউ বলেন ওসব রেঙ্কিং আসলে পশ্চিমা দুনিয়ার চক্রান্ত, যাতে কিনা আমাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয় (তারা বেমালুম চেপে যান যে শ্রেষ্ঠ ২০০-র তালিকায় একাধিক এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, থাকে চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়)। যেসব পন্ডিত মনে করেন যে সমগ্র বিশ্ব একমাত্র আমাদেরকে কোণঠাসা করার জন্য এই শ্রেষ্ঠত্বের তালিকা থেকে আমাদেরগুলিকে বাদ দ্যান, তাদের জানা উচিত, এই ধরণের বিশ্ব-ষড়যন্ত্র মার্কা ধারণা গভীর মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক ধারা বা ধর্মীয় ধারা এমন ভাবে নিজেদের সকল বিশ্বের ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে প্রচার চালায়। এই সব সেয়ানা কারবারীদের চেনা প্রয়োজন। এরা কেউ অসুস্থ নয় – ষড়যন্ত্রের শাঁক দিয়ে নিজেদের ভেতরের পচনের মাছ ঢাকার একটা নিষ্ফলা চেষ্টা করেন এরা। এর ফলে বন্গায়ে শিয়াল রাজা হয়ে অন্যান্য রদ্দি শেয়ালদের থেকে বাহবা পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্ব-দরবারের বেঞ্চিতে এক ইঞ্চি জায়গা-ও জোটে না।

এই ধরা যাক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০-টা বিশ্ববিদ্যালয় – সেগুলির কিছু বৈশিষ্টের দিকে একটু মন দিয়ে দেখি। তারপর নিজেদের সাথে তুলনা করি। আপাতত টাইমস হায়ার এডুকেশন রেন্কিং মেনে চলি, যদিও কিউ.এস এবং এ.আর.ডাব্লু.ইউ, এই দুটিও যথেষ্ট খ্যাতনামা। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় একটা তফাত হলো যে এই শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্নাতক স্তরের কোর্সগুলো মূলতঃ হয় সেই দেশের প্রচলিত মাতৃভাষায়। এবং সেই দেশে ইস্কুল্গুলির, পাঠ্যবই-এর মধ্যেও মাতৃভাষার দাপট-ই বেশি – এটা কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন চৈনিক, সুইডিশ, ইংরেজি, জাপানি, জার্মান, অর্থাত যে সব দেশের মাতৃভাষার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শ্রেষ্ঠ ৫০-এর তালিকায় আছে, এই সকল ভাষার ক্ষেত্রেই সত্যি। আমাদের এই বাংলাদেশে তথা দিল্লি-তে অনেক পন্ডিত বলেন যে মাতৃভাষায় ব উচ্চ-শিক্ষা হলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। তথাকথিত এক আন্তর্জাতিক পরিসরের দোহাই দিয়ে বলা হয় এইসব। তথ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে মাতৃভাষা-হীন উচ্চ-শিক্ষা দিয়ে ইংরেজি-ভাষা প্রচলিত দেশের জন্য প্রযুক্তি-ব্যবসার ঝাঁকা-মুটে বা মূলতঃ শ্বেতাঙ্গ বাচ্চাদের আমদানি করা ‘বৈচিত্রময়’ অধ্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃভাষাকে দুরে রেখে উত্কর্ষ তৈরী কঠিন। রাজনৈতিক নেতারা যতই ‘সেন্টার ও এক্সেলেন্স’ লেখা শ্বেতপাথর উদ্বোধন করে জনগণ-কে ধোঁকা দিন, এক্সেলেন্স-হীনতার এই ফাঁকি এইসব রেঙ্কিং তালিকায় ধরা পড়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষিত ইস্কুলের গন্ডি পেরুনো যে শিক্ষার্থী-সমাজ, যারা কিনা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদেরকে অবহেলা করে, প্রান্তিক করে দিয়ে, হীনমন্যতায় ভুগিয়ে তাদের মেধা সম্পদ নষ্ট করা হয়। এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয় দেশ ও জাতি। অবশ্যই এর পিছনে রয়েছে আমার মতো ইংরেজিতে পরা ভদ্রলোকের বাচ্চার কায়েমী স্বার্থ। এই মাতৃভাষায় শিক্ষিত সমাজকে প্রান্তিক করে রাখা নিয়ে রেঙ্কিং হলে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়-গুলি যে বিশ্বে প্রথম ৫০-টি স্থান অধিকার করবে, এ নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। তবে নিজেদের কায়েমী স্বার্থকে কি করে সর্বসাধারণের স্বার্থ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষমতা ও প্রাধান্য ধরে রাখতে হয়, তার ইন্টেলেকচুয়াল ট্রেনিং দিতে আমরা ওস্তাদ। পশ্চিমবঙ্গে অধ্যাপকের চাকরি লোভনীয়। নানা দেশের অধ্যাপকের মাস মাইনের সঠিক তুলনা (অর্থাৎ সেই পরিমাণ অর্থের সেই দেশে ক্রয়ক্ষমতা – যাকে বলে পারচেসিং পাওয়ার) করলে দেখা যায় যে এদেশের অধ্যাপকেরা গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশের অধ্যাপকদের থেকে বেশি ক্রয়ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের পিছিয়ে থাকাটা টাকাকড়ির কারণে না।

কি কি দেখা হয়েছে এই সব রেন্কিং-এ ? রয়েছে গবেষনার খ্যাতি ও পরিমাণ, শিক্ষা-দানের খ্যাতি, তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ‘সাইটেশন ইম্পেক্ট’-এ। অর্থাৎ এই যে জনগণের টাকা নিয়ে বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার আয়োজন, তাতে যা পয়দা হচ্ছে, তা কি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বে অন্যদের নজরে আসছে, তারা কি সেগুলির কথা বলছেন, নিজেদের কাছে ব্যবহার করছেন ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূলতঃ জ্ঞান দেবার জায়গা, নতুন জ্ঞান তৈরী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গৌণ। এর ফল খুব সহজ। আমরা এখুনো হা-পিত্যেশ করে বসে থাকি সাহেব-মেম-রা নতুন কি বার করলো। যেহেতু নিজেদের উঠোনে হয়না সেসব কাজ, তাই আমদানি করা জ্ঞান সিলেবাস ভুক্ত করতেও হয়ে যায় বিরাট সময়ের ব্যবধান। আর এই কারণেই চলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি-ছাটার সময়ে দেশে আশা স্বজাতীয় পরিযায়ী পাখি অধ্যাপকদের নিয়ে একটা আদেখলাপনা। সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে বিদেশে কে কত নাম করলো। ফলে গবেষনার বিষয়-গুলিও মূলতঃ হয়ে যায় বিদেশের সমাজের মাথাব্যথার উপশম করার ‘আন্তর্জাতিক’ প্রকল্পে হাত লাগানো বা শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতকুলের আভ্যন্তরীণ বিতর্কে নাক গলিয়ে জাতে ওঠার চেষ্টা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এদেশের ব্যবস্থা ঠিক এই ধরনের আচরণ-কে পুরস্কৃত করে।

অথচ এহেন গুরুদের প্রশ্নবিদ্ধ করার সংস্কৃতিকেও এখানে বেশ জোর দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। যেখা চিত্ত হওয়ার কথা ভয়-শূন্য, সেখানে সামন্ত্রতান্ত্রিক গুরুবাদের ঠেলায় তৈরী হয় ত্রাসের পরিবেশ। প্রশ্ন করতে নেই, নিলে স্যার রেগে যাবেন, তারপর স্যার তার ক্ষমতা-মতো ‘দেখে নেবেন’, তখন কে বাঁচাবে ? জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা এমন এক জিনিস, যেখানে সব কিছুকে অনাবৃত করতে হয়। যেখানে যুক্তির শানিত ব্যবহারে অধ্যাপক-কে কাছাখোলা করাটাই শ্রেয়, সেইসব ক্ষেত্রে গুরুর ঘরের সামনে মাথা নোয়ানোকে মনে করা হয় আদর্শ ব্যবহার। মেধার বিকাশের জন্য গুরু-ভজনা নয়, গুরু-মারা বিদ্যা আয়ত্ত করা প্রয়োজন। এবং দরকার সেই ধরনের গুরু, যারা ছাত্রদের গুরু-মারা জ্ঞানচর্চা করতে উত্সাহিত বোধ করেন, ‘আমি জানি না’ -পরিষ্কারভাবে এই বাক্যটি ভাবে বলতে পারেন সকলের সামনে। এক্সেলেন্স ফলে মানুষের মাঝে মুক্তচিন্তার অঙ্গনে, শিক্ষামন্ত্রীর বাণীতে না, ফলকে না, অধ্যাপকের চেয়ারে রাখা তোয়ালের নিষ্ফলা ‘মর্যাদা’তেও না।

মতান্তর ও বিতর্ক হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। ক্ষমতার সান্নিধ্য মুক্ত-চিন্তার কাছে বিষময়। ঠিক সে কারণেই চিরকাল-ই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ত্বের সাথে মেধা ও উত্কর্ষের একটা সম্পর্ক থেকেছে আর ক্যাম্পাসে সরকারপন্থী ছড়ি ঘোরানোর রাজনীতি জন্ম দিয়েছে গতদিনের প্রফেসর অনিল ও আজকের প্রফেসর শঙ্কুদের। এই বাংলার অন্যতম ভালো বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা-সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়না, উপাচার্যের টুকলি-করা গবেষণা-পত্র ধরা পড়েও চাকরি থেকে সে বরখাস্ত হয় না – সসম্মানে ফিরে যায়ে পুরনো আস্তানায় – আরেক ‘উত্কর্ষ’ কেন্দ্রে, নিরাপত্তার নাম করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সিসিটিভি নজরদারী চালানো হয়। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তা ও আলোচনার বিষয় কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষ, অধ্যাপক-বেশী চোরেরা আসল অধ্যাপকদের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসেন, খাঁকি জামাপরা পুরুষ সরকারী কর্মীরা
সুরক্ষার নামে যুবক-যুবতীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে কখন-কোথায়-কি করছে, তা টিভি-তে দেখার মত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে, সে দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব-বরেণ্য তালিকায় নেই, এতে এত আশ্চর্যের কি আছে। তবুও এর মধ্যেই যাদবপুরের নয়া উপাচার্য্য সুরঞ্জন দাস যাদবপুরে সিসিটিভি-গুলি নামিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুরুটি ভালো। কার তাতে কি, আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি।

765 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 19 -- 38
Avatar: pi

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

ঋভু, আমি কিন্তু কোন এক্সট্রিমের কথা বলছি না। যেখানে এ বি সি ডি গোমাংস হতে হবে। অন্তত এইরকম ফেজে সেটা বলার প্রশ্নই ওঠে না। ইংরাজী পড়তে পারা আর ইংরাজীতে পেপার লেখার মধ্যে কিন্তু মোটামুটি অনেক যোজনই তফাত , আলোকবর্ষ না হোক ঃ)

ইংরেজী তে পড়া বা লেখা কোনোটাই তো তুলেও দিতে বলছিনা। মাতৃভাষার মিনমিন করা অপশনটায় একটু তাগত আনতে বলছি।
এই অব্দি।


Avatar: PT

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলেমেয়েরাও PhD করতে এসে দিব্য ইন্জিরি লেকচার শুনে কোর্স ওয়ার্ক করে। এক বছরের মাথায় ইন্জিরিতে ভাইভা দেয়, দু বছরের মাথায় ইন্জিরিতে রেজিস্ট্রেশন সেমিনার দেয় আর পাঁচ বছরের মাথায় ইন্জিরিতে থিসিস লিখে, ইন্জিরিতে PhD ডিফেন্দ করে ইন্জিরি বলা দেশে পোস্টডক করতে চলে যায়। কয়েকশ এরম কেস তো দেখলাম-ভাষার কারণে কারো কোথাও আটকালো বলে শুনিনি তো!! তবে অবশ্যই রকমফের আছে।
JU বা এমনকি IACS-এও বড্ড বেশী মাছের ঝোল-ভাতের গন্ধ। ওসব স্থান-মাহাত্ম্য!!
Avatar: pi

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

এই আপাত ভাবে , বা অন্য কোন লেভেলে অবস্থানের কারণে যাকে দিব্বি লাগে, সেই 'দিব্বি' র পিছনের ডে ইন ডে আউট স্ট্রাগলটা দেখেই বলছি। এবং সেই সময়ও ও এনার্জিটা বিষয়ের পিছনে ব্যয় করতে পারলে আরো কত ভাল হতে পারতে, সেটা ভেবে বলছি। আর , আর , এই স্ট্রাগলটা করতে গিয়ে যারা একটা লেভেলে পৌঁছতেই পারলো না, কিন্তু বিষয়ের উপর দখলে কিছু কমতি ছিলো না, মাতৃভাষায় ভালমতন অপশন থাকলে তাদের হারাতে হত না, সেই কথা ভেবে বলছি।

আর হ্যাঁ, আমার অভিজ্ঞতাটা খালি জে উ র ভিত্তিতে নয়।


Avatar: ঈশান

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

এইটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। ২৫০ মিলিয়ান গবেষণাপত্র অনুবাদ করা অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু ৬ বিলিয়ান লোককে পৃথিবীর জনসংখ্যা আর কি, ভুল হলে একটু ঠিক করে নেবেন), ধরে ইংরিই শেখানো তুলনায় সোজা ব্যাপার? নাকি কম খরচের?
Avatar: rivu

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

দুটো ব্যাপার আছে: পেপার পড়া আর পেপার লেখা। পেপার/ বই পড়ার জন্যে যে ইংরেজি লাগে, সেটা আমার মনে হয় হায়ার সেকেন্ডারী লেভেলে পাওয়া যায়। অফ কোর্স তারপরেও ডিকশনারি কনসাল্ট করতে হয়, কিন্তু মোটামুটি মানে বোঝা যায়। পেপার লেখার ইংরেজি অনেক বয়সেও সহজে আসেনা, প্রচুর ঘষটাতে হয়। সে আপনি বাংলা মিডিয়ামে পড়ে আসুন বা ইংরেজি মিডিয়ামে।

আমার মতে, এখানে তর্কটা দুটো জিনিস নিয়ে (এটা ইশানের লাস্ট পোস্টের জন্যেও)। প্রথমতঃ, উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি একমাত্র মিডিয়াম অফ ইনস্ট্রাকশন হওয়া উচিত কিনা। আমার মনে হয় ভারতের সিচুএশোনে সেটা প্রায় বাধ্যতা মূলক। চায়না জাপানের উদাহরণ এই জন্যেই খুব একটা প্রযোজ্য নয়। ভারতে ম্যাক্সিমাম ইউনিভার্সিটিতেই বিভিন্ন ভাষার লোক পড়তে যায়। যদুপুরে আমাদের ক্লাসেই বেশ কিছু অবাঙালি ছেলে পুলে ছিল। এইবারে সেরকম ব্যাপার না থাকলে আঞ্চলিক ভাষায় পড়ানো যেতে পারে, কিন্তু সেইটা প্রফেসরের দিস্ক্রিষণ। উত্তর কিসে লেখা হবে? ইংরিজিতে না লিখলে আমাদের মেনে নিতে হয় কোলকাতার প্রফেসর রাজস্থানে গিয়ে পড়াতে পারবেনা। অবশ্য যদুপুরে এর ঘটনাটা পড়ে যতদুর বুঝেছি রুল হিসাবে উত্তর ইংরেজিতে লেখা বাধ্যতামূলক নয়। সেটা না থাকলে ইংরেজিতে উত্তর না লেখার জন্যে কাউকে হেনস্থা করাটা জাস্ট ইল্লিগাল।

দ্বিতীয়তঃ, উচ্চ শিক্ষায় ইংরেজি ভাষা এনকারেজ করা উচিত কিনা। আমার মনে হয় অবশ্যই করা উচিত।
চাকরির দিক দিয়ে দেখলে সুবিধা পাওয়া যায়, কিন্তু সেটা অন্য ফোকাস। আন্তর্জাতিক গবেষণায় পার্টিসিপেট করতে গেলে পেপার পড়ার মত ইংরেজি জানাটা বাধ্যতামূলক। এইবারে পেপার লেখার প্রশ্ন। অবশ্যই ইংরেজির জন্যে ইউনিভার্সিটি গুলোতে টেকনিকাল রাইটিং এর ক্লাস চালু করা উচিত। যারা সাইকোলজিতে পিএইচডি করতে যাচ্ছে, তাদেরও মিনিমাম লেভেলে স্ট্যাট পড়তে হয়। তাহলে ইংরাজি নয় কেন?

যাকগে, ডেটা ছাড়া আর পলিসি এনালিসিস না করাই ভালো।

Avatar: rivu

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

ঈশানকে, ছয় বিলিয়ন লোক কে ইংরেজিতো এমনিই শেখানো হচ্ছে। এটা একটা ওয়েল এক্স্প্তেদ মিডিয়াম অফ কমিউনিকেশন। আরেকটা ব্যাপারটা বুঝছিনা। উচ্চ শিক্ষার জন্যে লোকজনকে তো অন্য বিষয় সম্পর্কে জানতেই হয়। মানে কেমিস্ট্রির লোক অঙ্ক জানার জন্যে সময় দেয়, সোশ্যাল সাইন্সের লোকজনকে স্ট্যাট পড়তে হয়, সিনেমার লোকজনকে সাহিত্যের ইতিহাস। তাহলে ইংরেজিতে এফর্ট দেওয়া কি সমস্যা?
Avatar: ঈশান

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে ইংরিজিতে উত্তর লিখতে হত। অসুবিধে হত। বছর খানেক হয়েছে। বাংলায় লিখতে দিলে সুবিধে হত। কোনো সন্দেহই নেই।
Avatar: ঈশান

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

"এমনি" বলে কিছু হয়না। ওর একটা খরচা আছে তো। সেটা শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গ। চালু পদ্ধতি বলে খরচা হয়না এমন তো না।
Avatar: rivu

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

হ্যান সুবিধা হতনা সেটাতো কেউ বলছেনা। সেতো যেকোনো বিষয় পড়তে গিয়েই হতে পারে। কেমিস্ট্রি পড়তে গিয়ে কারো ইনর্গানিক এ অসুবিধা হতে পারে, সে হয়ত অর্গানিকটাই পড়বে সারা জীবন। তাহলে সেটা কাটিয়ে দেবে না কেন? ইংরেজিতে সরগড় হয়ে গেলে পরে কি সুবিধা পাওয়া যায়না?
Avatar: sm

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

সুরঞ্জন বাবু চরম ভুল করলেন সি সি টি ভি নামাতে বলে। বিশ্ব বিদ্যালয়ের চত্বরে কি ঘটছে সে সম্মন্ধে এত রাখ ঢাকের কি আছে? কাল যদি কোনো ছাত্রীর সঙ্গে ওই রকম শ্লীলতা হানির পুনরাবৃত্তি ঘটে বা রাজনৈতিক খুনো খুনি ঘটে যায়, তখন ভিকটিমের পরিবার কে কি বলা হবে ?
সেটা ভেবে রেখেছেন তো?
Avatar: rivu

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

""এমনি" বলে কিছু হয়না। ওর একটা খরচা আছে তো। সেটা শিক্ষাব্যবস্থার অঙ্গ। চালু পদ্ধতি বলে খরচা হয়না এমন তো না।" সেকেন্ডারী এজুকেশন এ ইংরেজি শিক্ষার কস্ট বেনিফিট এনালিসিস হবে কি এখন?
Avatar: sm

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

আরে লোকে তো গুগুল ট্রান্সলেটর ইউস করে ভিন্ন ভাষী লোকজনের সঙ্গে কমুনিকেট করছে, নাকি । কয়েক বছর পরে থিসিস মায় কলেজের পড়া, উত্তর লেখা সব কিছুই সুবিধে মতন ট্রান্সলেট করা সম্ভব হবে।
জয় কাকু।
Avatar: PT

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

ভাষা শেখানোর খরচার কথাটা বেশী করে মনে আসে যখন ১২ বছর ধরে ভাষা শেখানো হয়। জার্মানরা ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে মোটামুটি ভাবে দক্ষ করে দেওয়ার পদ্ধতি তৈরি করেছে। সুইডেনেও ঐ রকম স্ট্রাকচারে ভাষা শেখানো হয়।
Avatar: b

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

এই সময়ের লেখাটা পড়েছি। যদি ছাত্রটির (এবং এই সময়-এর) ভার্শন সত্যি হয় তবে চরম অমানবিক কাজ হয়েছে।
Avatar: Free Rock

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

যে সমস্ত গুরুরা টেটের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় ঢোকে তাদের আর কত ভালো কোয়ালিটি হবে ? আজকাল পার্টিকে মোটা টাকা দিলেই যত কম নম্বর পাও না কেন তুমি শিক্ষক হতে পার | এই ধরনের শিক্ষকরা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে ?

এদের কাছ থেকে কিই বা আশা করা যায় |
Avatar: AP

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

টেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো ! কোন দেশের গপ্পো বলছেন ?
Avatar: pi

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

ঃ)
Avatar: Blank

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

উনি বলছেন গুচ তে লিখতে গেলে টেট দিতে হয়
Avatar: সমবেত সঙ্গীত

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

পাগলা খাবি কী, ঝাঁঝেই তো মরে যাবি
পাগলা খাবি কী।
Avatar: pi

Re: আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

প্রথদিকের মন্তব্যগুলো মিস করে গেছিলাম। আজ পড়তে গিয়ে বেশ মজা লাগলো। আই এস আই এর ফ্যাকাল্টিদেরও আজকাল ফ্রাস্টু নামাতে হচ্ছে ঃ)
ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরি না করলে ফ্রাস্টু খেতে হয়, সে অবশ্য আগে শুনেছি।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 19 -- 38


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন