Debabrata Chakrabarty RSS feed

Debabrata Chakrabartyএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...
  • ‘দাদাগিরি’-র ভূত এবং ভূতের দাদাগিরি
    রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে, শ্যাওড়া গাছের মাথায়, পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে, ছাপাখানায় এবং সুখী গৃহকোণে প্রায়শই ভূত দেখা যায়, সে নিয়ে কোনও পাষণ্ড কোনওদিনই সন্দেহ প্রকাশ করেনি । কিন্তু তাই বলে দুরদর্শনে, প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানেও ? আজ্ঞে হ্যাঁ, দাদা ভরসা ...
  • আর কিছু নয়
    প্রতিদিন পণ করি, তোমার দুয়ারে আর পণ্য হয়ে থাকা নয় ।তারপর দক্ষিণা মলয়ের প্রভাবে, পণ ভঙ্গ করে, ঠিক ঠিকখুলে দেই নিজের জানা-লা। তুমি ভাব, মূল্য পড়ে গেছে।আমি ভাবি, মূল্য বেড়ে গেছে।কখন যে কার মূল্য বাড়ে আর কার কমে , এই কথা ক'জনাই বা জানে?এই না-জানাদের দলে আমিই ...
  • একা আমলকী
    বাইরে কে একটা চিৎকার করছে। বাইরে মানে এই ছোট্টো নোংরা কফির দোকানটা, যার বৈশিষ্ট্যহীন টেবিলগুলোর ওপর ছড়িয়ে রয়েছে খাবারের গুঁড়ো আর দেয়ালে ঝোলানো ফ্যাকাশে ছবিটা কোনো জলপ্রপাত নাকি মেয়ের মুখ বোঝা যাচ্ছে না — এই দোকানটার দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কেউ চিৎকার করছে। ...
  • গল্পঃ রেড বুকের লোকেরা
    রবিবার। সকাল দশটার মত বাজে।শহরের মিরপুর ডিওএইচেসে চাঞ্চল্যকর খুন। স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী পলাতক।টিভি স্ক্রিণে এই খবর ভাসছে। একজন কমবয়েসী রিপোর্টার চ্যাটাং চ্যাটাং করে কথা বলছে। কথা আর কিছুই নয়, চিরাচরিত খুনের ভাষ্য। বলার ভঙ্গিতে সাসপেন্স রাখার চেষ্টা ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২
    মহাভারতের কথা অমৃতসমান ২চিত্রগুপ্ত: হে দ্রুপদকন্যা, যজ্ঞাগ্নিসম্ভূতা পাঞ্চালী, বলো তোমার কি অভিযোগ। আজ এ সভায় দুর্যোধন, দু:শাসন, কর্ণ সবার বিচার হবে। দ্রৌপদী: ওদের বিরূদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই রাজন। ওরা ওদের ইচ্ছা কখনো অপ্রকাশ রাখেন নি। আমার অভিযোগ ...
  • মহাভারতের কথা অমৃতসমান
    কুন্তী: প্রণাম কুরুজ্যেষ্ঠ্য গঙ্গাপুত্র। ভীষ্ম: আহ্ কুন্তী, সুখী হও। কিন্তু এত রাত্রে? কোনও বিশেষ প্রয়োজন? কুন্তী: কাল প্রভাতেই খান্ডবপ্রস্থের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব। তার আগে মনে একটি প্রশ্ন বড়ই বিব্রত করছিল। তাই ভাবলাম, একবার আপনার দর্শন করে যাই। ভীষ্ম: সে ...
  • অযোধ্যা রায়ঃ গণতন্ত্রের প্রত্যাশা এবং আদালত
    বাবরি রায় কী হতে চলেছে প্রায় সবাই জানতেন। তার প্রতিক্রিয়াও মোটামুটি প্রেডিক্টেবল। তবুও সকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়া, মানে মূলতঃ ফেবু আর হোয়াটস অ্যাপে চার ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখলাম। বলাই বাহুল্য সবগুলিই রাজনৈতিক পরিচয়জ্ঞাপক। বিজেপি সমর্থক এবং দক্ষিণপন্থীরা ...
  • ফয়সালা বৃক্ষের কাহিনি
    অতিদূর পল্লীপ্রান্তে এক ফয়সালা বৃক্ষশাখায় পিন্টু মাষ্টার ও বলহরি বসবাস করিত । তরুবর শাখাবহুল হইলেও নাতিদীর্ঘ , এই লইয়া , সার্কাস পালানো বানর পিন্টু মাষ্টারের আক্ষেপের অন্ত ছিলনা । এদিকে বলহরি বয়সে অনুজ তায় শিবস্থ প্রকৃতির । শীতের প্রহর হইতে প্রহর ...
  • গেরিলা নেতা এমএন লারমা
    [মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে লেখকের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, তার প্রায় এক দশকের গেরিলা জীবন। কারণ এম এন লারমাই প্রথম সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখান। আর তাঁর ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

Debabrata Chakrabarty


'The Rojava Revolution is the Paris Commune under German siege ,Mardrid during the Spanish civil war,and Stalingrad during the second world war'

জর্জ অরওয়েল তার স্পেনের গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ‘ Homage to Catalonia’ শুরু করছেন এইভাবে ‘ In the Lenin Barracks in Barcelona, the day before I joined the militia,I saw an Italian militiaman standing in front of the officer’s table.’। ফ্যাসিবাদি বিরোধী ১৯৩৬-১৯৩৯সালের সেই লড়াই হাজারো স্বাধীনতাকামী মানুষের সাথে পেয়েছিলো অরওয়েল, হেমিংওয়ে ,নরমান বেথুন এমনকি ইরানের প্রধানমন্ত্রীর মত ব্যাক্তিত্বকেও । ৫৩ টী দেশের গনতন্ত্রকামী ছাত্র যুবা শ্রমিক লেখক শিল্পীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্রিগেডের অপ্রশিক্ষিত সদস্যদের স্পেনের কমরেডের সাথে ভাঙ্গা রাইফেল নিয়ে যে জীবনপন লড়াই তা ছিল এক বৈকল্পিক সমাজব্যবস্থা রক্ষা সাথে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিরোধ । স্পেনের জনতার সেই গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই , নারী স্বাধীনতার বৈপ্লবিক পথ এবং বৈকল্পিক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন ফ্রাঙ্কোর ফ্যাসিবাদী শক্তি দমন করেছিলো এক রক্তাক্ত পথে। ‘ Homage to Catalonia’ সেই ইতিহাসের এক অনন্য দলীল।

স্পেনের সেই অসমাপ্ত বিপ্লবের প্রায় ৭৫বছর পরে আমাদের বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী ‘আবদুল্লা ওচালানের’ ( Abdullah Öcalan) 'ডেমোক্রাটিক কনফেডারিলিসম’ বা ‘রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্র’ তত্বর ভিত্তিতে সিরিয়া তুরস্কের সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে ঘটে চলছে এক অভূতপূর্ব ‘সামাজিক বিপ্লব ‘ । একদিকে তুরস্কের ফ্যাসিবাদী সরকারের তীব্র অসহযোগিতা, কঠিন 'এমবারগো’র খাড়া প্রাচীর অন্যদিকে ধর্মান্ধ ইসলামিক স্টেট (ISIS ) এর চূড়ান্ত বর্বরতা এবং প্রত্যহ সম্মুখ যুদ্ধ ,একই সাথে পেছনে ফেলে আসা হাজারো বছরের চূড়ান্ত রাষ্ট্রীয় দমনের ইতিহাস । এই চরম প্রতিকূলতা এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের বীভৎসতার মধ্যেও ৫০লক্ষের অধিক কুরদ এবং অন্যান্য জনজাতি ১৮৪০০ স্কোয়ার কিলোমিটারের এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আবদুল্লা ওচালানের প্রদর্শিত পথে ২০১২ সাল থেকে গড়ে তুলছেন ‘ রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্রের ‘ এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ‘ Rojava Revolution”। আমাদের বর্তমান সময়ের সম্ভবত সবথেকে উচ্চাভিলাষী বৈপ্লবিক এক সামাজিক পরীক্ষা নিরীক্ষা।

মূলত পশ্চিমের মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা এই অঞ্চল থেকে হাজারে হাজারে মানুষের ইউরোপ অভিমুখে আশ্রয় সন্ধানের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার বিবরণ, সাথে ইসলামিক স্টেট নামক বর্বর ধর্মান্ধগনের সিরিয়া এবং ইরাকের ঐতিহাসিক স্থানগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার সংবাদ, নিরস্ত্র অন্য ধর্মের অসহায় নাগরিকের গণহত্যার বীভৎসতা ,মহিলাদের যৌন দাসী হিসাবে ব্যবহারের কদর্যতার সম্বন্ধে প্রত্যহ অবগত হচ্ছি। মার্কিন এবং রাশিয়ার সম্রাটদের ইসলামিক স্টেট বিরোধী হুমকি এবং মাঝে মাঝে বিমান হানার খবর আমাদের আশ্বস্ত করছে যাক বিশ্বের প্রধান নেতাগণ ইসলামিক স্টেট এর বর্বরতার অবসানে এতদিনে সত্যিই কিছু কাজের কাজ করছেন । অথচ একই সময়ে এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে অভূতপূর্ব যে বিপ্লব সংগঠিত হচ্ছে যা প্রকৃত অর্থে একাধারে ইসলামিক স্টেটের অগ্রগতি রুখে দিচ্ছে পাল্টা সামরিক অভিযানে অন্যদিকে তত্বগতভাবে পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং তথাকথিত গনতন্ত্র ,কম্যুনিস্ট আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের ধারনা এবং ইসলামিক স্টেট এর নিরঙ্কুশ মুসলিম মৌলবাদ কে আক্রমণ করছে আবদুল্লা অকালনের তত্বের বাস্তব প্রয়োগে তার খবর আমাদের কাছে প্রায় অজ্ঞাত। যদিও রাজনৈতিক ইতিহাস পরিচিতি বিনা উল্লেখে রোজাভা'র মহিলা যোদ্ধাদের চিত্র আমাদের কাছে মাঝে মাঝে পরিবেশিত হচ্ছে বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে । এমনকি বামপন্থী বুদ্ধিজীবী শক্তি যা এখনো কিছুটা জনমত তৈরিতে সক্ষম আশ্চর্যজনক ভাবে তারাও এই অসাধারণ ‘ রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্রের ‘ ম্যাসিভ স্কেল এ ঘটে চলা সামাজিক বিপ্লবের বিষয়ে পাথরের মত নিস্তদ্ধ ।

প্যারিস কমিউন টিকে ছিল মাত্র ৭০-৮০ দিন , স্পেনের বিপ্লব তিন বৎসরের কিঞ্চিৎ অধিক , অন্যদিকে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতেতে 'রোজাভা বিপ্লব’ টিকে আছে তিন বৎসরের অধিক সময়। সম্প্রতি রোজাভা তার প্রাথমিক সংবিধানটি বিপুল গণভোটে পাস করেছে -এই সংবিধানের অন্যান্য অনেক বৈপ্লবিক সিধান্তের সাথে অন্যতম বৈপ্লবিক সিধান্ত ‘বাল্য বিবাহ এবং বহুবিবাহপ্রথা নিষিদ্ধ' । আরব মুসলমান প্রধান দুনিয়াতে যা প্রথম এবং অভূতপূর্ব। এই অসাধারণ সামাজিক বিপ্লব , তার সমস্ত প্রতিকূলতা অগ্রাহ্য করে টিকে থাকা , বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ক্রম প্রসার এবং সেই নিয়ে পৃথিবীর সমস্ত বিষয়ে জ্ঞানবান বুদ্ধিজীবী বিশেষত বামপন্থী বুদ্ধিজীবী গনের অদ্ভুত নীরবতা বিষয়ে David Graeber সম্প্রতি তার Gurdian এ প্রকাশিত এক লেখায় বলেছেন ঃ- “Is the world -and this time most scandalously of all, the international left- really going to be complicit in letting history repeat itself?”


রোজাভা বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ঃ- কুরদ লড়াইয়ের ইতিহাস
A mountain river has many bends.
—From a Kurdish folk song

পৃথিবীর সব থেকে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা কুরদদের এই ধারাবাহিক স্বাধীনতার আন্দোলনের ইতিহাসে এত বাঁক , এত উথাল পাথাল, এত বিশাল জটিলতা এবং এত বিভিন্ন পথ এই দীর্ঘ সময়ে তা অতিক্রম করেছে তাকে ব্যাখ্যা করা প্রায় অসম্ভব । প্রায় 3 কোটির অধিক জনসংখ্যার এই কুরদরা মধ্য এশিয়ার 'নন আরব' রাষ্ট্রহীন এক অদ্ভুত স্বাধীনতা প্রিয় জনজাতি । বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সাম্রাজ্য এবং সরকার দ্বারা ব্যবহৃত ,নিপীড়িত এই জনজাতির স্বাধীনতা এবং সতন্ত্রতার লড়াই এর ইতিহাসের সন্ধান আবদুল্লা ওচালান খুঁজে পেয়েছেন সেই সুমেরীয় সভ্যতার সময় থেকে।ভাষা গত এবং এথেনেসিটির দিক থেকে এরা পারস্য বা ইরানিদের জাতিগত ভাই গোত্রের। কুর্দিস্তান বা বর্তমানের সিরিয়া, তুরস্ক ,ইরান এবং ইরাকের সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী এই জনজাতির ছোট ছোট নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা পারস্য, আরব ,গ্রিস এমনকি রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা আক্রান্ত এবং অধিকৃত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে । প্রতিটি সাম্রাজ্যই এই স্বাধীনতা প্রিয় কুরদ জনজাতির বশ্যতা আদায়ে অসমর্থ হওয়ায় নামিয়ে এনেছে আক্রমণ । কুরদ রা ক্রমে দুর্গম থেকে অতি দুর্গম পাহাড়ি এলাকার আশ্রয়ে নিজেদের স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে দীর্ঘকাল ধরে । কুরদ রা তাই বলেন “the Kurds have no friends but the mountains” ।

বিভিন্ন সময়ের লড়াই ,আধিপত্য কারী সাম্রাজ্যের দুর্বল হওয়া এবং বিভিন্ন উপায়ে অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের প্রাক্কালে অবশেষে ১৫০০ সাল নাগাদ কুরদ জনজাতি বর্তমানের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক ধরনের স্বশাসনের স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয় । অটোমান সাম্রাজ্য উনবিংস শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ৩০০-৩৫০ বৎসরের অধিক সময়কালে কুরদ দের এই অটোনমি নিয়ে বিশেষ একটা মাথা ঘামায়নি । কিন্তু ১৮৩০-৩৫ সাল নাগাদ অটোমান সাম্রাজ্য এই স্বাধীন কুরদ এলাকাকে কস্তনাতিনওপোলের অধীনে নিয়ে আসতে ব্যগ্র হয়ে পরে । ছোট খাট যুদ্ধ বিগ্রহ অবশেষে ১৮৪৭ সালে বদর খান বেগ এর নেতৃত্বে কুরদদের এই বিদ্রোহ এক বিশাল যুদ্ধের আকার নেয় । অটোমান সাম্রাজ্য এই বিদ্রোহ দমন করে চূড়ান্ত নির্মমতার সাথে । শুরু হয় ১৭০ বছরের ধারাবাহিক নিপীড়ন এবং কুরদ স্বাধীনতার এক অনন্য আন্দোলনের ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তৎকালীন তুরস্কের রাজতন্ত্র অনুগামী ‘ইয়ং তুর্কস’ পার্টি পরিকল্পিত ভাবে জনজাতি নিধনের যে অভিযান টি চালায় তা ইতিহাসে 'আর্মেনীয়ন জেনোসাইড' হিসাবে কুখ্যাত । ১০ ‘লক্ষের অধিক আর্মেনীয় হত্যার এই অভিযানের সাথেই চলতে থাকে কুরদ'দের ওপর আক্রমণ । ১৯১৬ সাল থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে প্রায় ৭০০,০০০ র অধিক কুরদ জনজাতি কে সেই সময় বলপূর্বক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয় । অবশেষে ১৯২০ সালের আগস্ট মাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হওয়ার পর কুরদ দের প্রতি এই দমনের ধারাবাহিকতায় সাময়িক বিরতি ঘটে । পরাজিত অটোমান সাম্রাজ্য প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়ী পক্ষের সাথে অবমাননামূলক Treaty of Sevres চুক্তি সাক্ষর করতে বাধ্য হয় ।এই চুক্তি অনুসার অটোমান সাম্রাজ্যের তুর্ক প্রধান অঞ্চল গুলি কে বাদ দিয়ে জয়ী পক্ষ নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী বাকি সাম্রাজ্য ভাগ বাঁটোয়ারা করে নেয় ।বালির ওপর দাগ কেটে সীমানা সৃষ্টি হয় বর্তমান আরব দুনিয়ার । আজকের সিরিয়া এবং তার পার্শ্ববর্তী চলে আসে ফ্রান্সের প্রভাবে , ইরাক হয়ে পরে ইংল্যান্ডের অধীন ,আর কুর্দিস্তানের বিসয় টি ছেড়ে দেওয়া হয় এক রেফারেন্ডামের ফলাফলের ওপর । সদ্যগঠিত আর্মেনিয়া, ব্রিটিশ প্রভাবিত ইরাক, ফ্রান্স প্রভাবিত সিরিয়া এবং তৎকালীন খণ্ডিত অটোমান সাম্রাজ্যের অবশিষ্ট অংশ বর্তমান তুরস্কের মধ্যে স্বাধীন কুর্দিস্তানের সীমানা কি হওয়া উচিৎ এ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলতে থাকে । ভারসাই চুক্তির অবমাননাকর শর্ত যেমন পরবর্তীতে জার্মান জাতীয়তাবাদ এবং হিটলারের উত্থানের কারণ ঠিক সেইভাবেই Treaty of Sèvres এর অবমাননাকর শর্ত কেমাল আতাতুর্ক এর নেতৃত্বে তুরস্কের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জন্ম দেয় । ১৯২২ সালে কেমাল আতাতুর্ক এর নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে তুরস্ক থেকে সুলতানেত এর অবসান ঘটে । আতাতুর্কের এই উগ্র জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফলে ব্যবস্থা পরিবর্তন ব্রিটেন এবং অন্যান্য অ্যালায়েড শক্তি কে বাধ্য করে এক নূতন চুক্তির উপস্থাপনা করতে। এই চুক্তিটিকে আমরা Treaty Of Lausanne হিসাবে জানি। ১৯২৩ সালে সাক্ষরিত এই নূতন চুক্তি অনুসার কুরদদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কুর্দিস্তান কে পুনরায় কেমাল আতাতুর্ক এর তুরস্কর সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হয় । Treaty of Sèvres এর মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া স্বাধীন কুর্দিস্তানের স্বপ্ন এবং আপাত শান্তি মাত্র কয়েকবছরের ব্যবধানে Treaty of Lausanne এর মাধ্যমে ডেকে আনে পুনরায় রাষ্ট্রীয় দমন পীড়নের ইতিহাস ।

চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আতাতুর্ক ৬৫ টি বিভিন্ন ধরনের ডিক্রি জারি করে কুরদ দের অস্তিত্বই অস্বীকার করার জাতীয়তাবাদের নামে এক নিষ্ঠুর দমনের খেলা খেলতে থাকেন। কুরদ অঞ্চলের সমস্ত জনজাতিকে’'পাহাড়ি তুর্ক’ বলে নূতন নামাকরন করা হয় । যে কোন পাবলিক স্পেস, স্কুল কলেজে কুরদিশ ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় । কুরদ দের উৎসবগুলি রাতারাতি নিষিদ্ধ হয়ে যায় । কুরদিশ বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে নামাঙ্কিত রাস্তা ঘাট,শহর এমনকি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামও বিশুদ্ধ তুর্কীয় নামে পরিবর্তিত করা হতে থাকে । কুরদদের গোষ্ঠীর জমি দখল করে নেওয়া হতে থাকে । কুরদ কমুইনিটি ফান্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়। কুরদিস রাজনৈতিক সংগঠন , কুরদদের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রতিষ্ঠান শেষ করার পর্ব চলতে থাকে এক কথায় কুরদ অসিত্বই মিটিয়ে দেওয়ার পর্ব চলতে থাকে । ,Treaty of Lausanne র মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে কুর্দিস্তান কে বর্তমানের সিরিয়া , তুরস্ক ,ইরাক এবং ইরানের মধ্যে চার টুকরো করে দেওয়া হয় এক কলমের খোঁচায়।

Rojava revolution বর্তমানের যে ভৌগলিক সীমানায় সংগঠিত হচ্ছে সেই সিরিয়া চুক্তিবলে ফ্রান্সের অধীন আধা কলোনি আধা স্বাধীন এক রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত হয় । চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার সময় সিরিয়ার জনজাতির ১৮% ছিল কুরদ (বর্তমানে ভারতে মুসলমান জনসংখ্যা ১৪-১৬% ) সিরিয়ার বৃহত্তম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সিরিয়ার আরব এবং অন্যন্য জনজাতি ফ্রান্সের আধিপত্যর বিরোধে সংগঠিত করতে থাকেন অসংখ্য ছোট খাটো বিদ্রোহ । সিরিয়ার আরব সম্প্রদায়ের এই বিদ্রোহ দমন করতে ফ্রান্স পরিচিত ডিভাইড অ্যান্ড রুল সাম্রাজ্যবাদী পলিসি অবলম্বনে বিভিন্ন নন আরব ট্রাইব যেমন কুরদ ,খ্রিস্টান ,দ্রুযে এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে লোক জন নিয়ে তাদের সাম্রাজ্যবাদী সৈন্যবাহিনীটি গড়ে তোলে। সিরিয়ার আরবদের মধ্যে সংখ্যালঘু এবং কুরদ বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠার এ এক অন্যতম প্রধান কারন । ১৯৪৬ সালে ফ্রান্সের কবল থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সিরিয়া সাথে সাথে আভ্যন্তরীণ শত্রুদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা শুরু করে । প্রায় ২০০,০০০ লক্ষের অধিক Kurd দের পরিচয় পত্র কেড়ে নেওয়া হয় ,কুরদ রা হয়ে পরে এক stateless সংখ্যালঘু জনজাতি , রাষ্ট্রীয় মদতে আভ্যন্তরীণ শত্রুদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হতে থাকে । জমি হারা ,নাগরিকত্ব হারা কুরদ এবং অন্যান্য জনজাতি পরিবর্তিত হতে থাকেন দাস শ্রমিকে। কুরদ এলাকার সমস্ত গ্রাম শহর ইত্যাদি নাম বদলে দেওয়া চলতে থাকে ,সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে অন্য এলাকা থেকে আরব বেদুইনদের এনে কুরদদের এলাকায় বসতি গড়ে দেওয়া হয়। আরব বেদুইন দের অঞ্চল প্রধান থেকে পুলিস প্রধান হিসাবে নিযুক্ত করা চলতে থাকে সাথে উস্কে দেওয়া হতে থাকে কুরদ বিরোধী জাতীয়তাবাদ । ফ্রান্সের দাবাড় বোড়ে হিসাবে ব্যবহৃত কুরদ জনজাতি হয়ে পরে সিরিয়ার আরব সম্প্রদায়ের গণশত্রু । চলতে থাকে কুরদিস সংস্থা এবং প্রথার নিষিদ্ধকরণ ,হাজারো কুরদ নাগরিক এবংট্রাইবাল নেতাদের কে তুচ্ছ অজুহাতে গ্রেপ্তার এবং গুপ্তহত্যার এক মহোৎসব চলে সিরিয়ার স্বাধীনতার পরবর্তী প্রায় একযুগ ধরে ।

অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের অবশেষে ইরাক ইরান সিরিয়া এবং তুরস্কের নব্য জাতীয়তাবাদী এবং মৌলবাদী সরকারগুলির কুরদ নিপীড়নের মধ্যে এক ধরনের সাজুস্য বর্তমান । নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া , গন উচ্ছেদ , ভাষা ,প্রথা এবং সংস্কৃতির ওপর নিষেধাজ্ঞা । সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠন গুলির নিসিদ্ধ্বকরন। ছোট খাট অজুহাতে সামরিক অভিযান ,খেত ,শস্য বোমাবর্ষণ ইত্যাদি । সাদ্দাম হুসেনের ১৯৮৬-৮৯ সাল জুড়ে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগে ১০০,০০০ -২০০,০০০ কুরদ জনজাতির নিধন সম্ভবত দীর্ঘকাল ধরে এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলে আসা কুরদ নিপীড়নের সর্ববৃহৎ গণহত্যার উধাহরন । এই দীর্ঘ সময় জুড়ে সভ্য জগত বিশেষত পশ্চিমের শক্তিগুলির ডিপ্লোম্যাটিক নীরবতা ,আশ্চর্যজনক উদাসীনতা সাথে সময়ে সময়ে কুরদ দের উস্কে দিয়ে নিজেদের তেলএর ভাণ্ডারের ওপর দখল এবং আঞ্চলিক স্বার্থ বজায় রাখার জটিল খেলা কুরদ জনজাতি বুঝতে শুরু করে রক্ত এবং নিপীড়নের বিনিময়ে ১৯৭০ দশকের শেষের দিক থেকে । জন্ম হয় Abdullah Öcalan এর নেতৃত্বে কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টির ।

কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠা ঃ- কুরদ আন্দোলনের নূতন গতিপথ

এই ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা , ২৫ বছরের যুবা আবদুল্লা ওচালান ১৯৭৩ সালে মাত্র ৬জন সাথী নিয়ে এক সংগঠন গড়ে কুরদ প্রশ্ন বিভিন্ন ফোরামে প্রচার করতে থাকেন। সেই সময়ে কুরদ দের আন্দোলনের চেহারাটা ছিল কতকটা আমাদের দেশের ১৯২০-৩০ দশকের ব্রিটিশ বিরোধিতার আন্দোলনের মত । একদিকে কুরদ অভিজাত সম্প্রদায়ের কংগ্রেসি মার্কা আন্দোলন আর অন্যদিকে কিছু বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর সশস্ত্র আন্দোলন এবং গ্রামের দিকে ট্রাইবাল গোষ্ঠীপতিদের বিছিন্ন সরকার বিরোধী প্রতিরোধ । আবদুল্লা ওচালান এবং তার রাডিক্যাল সংগঠন প্রথমেই এদের বিরোধিতার মুখে পরেন ,কিন্তু ধীরে ধীরে ছাত্র যুবা দের সমর্থন, গ্রামে বসবাস করে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে লেগে থাকার ফলে সেই সংগঠনের সমর্থন বৃদ্ধি পায় দ্রুত । সে গনসংগঠনের ভিত্তিতে ১৯৭৮ সালে তার ২৩জন সাথী কি নিয়ে গড়ে তোলেন কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টি(PKK)। ওকালানের সামনে তখন রয়েছে চারটি রাষ্ট্র জুড়ে কুরদ দের ওপর দমন পীড়নের ধারাবাহিকতা। Treaty of Lausanneর মাধ্যমে কুরদ দের সাথে বঞ্চনার ইতিহাস। বিশ্বজুড়ে রুসিয়া লবি এবং আমেরিকা, ন্যাটোর ঠাণ্ডা যুদ্ধের পর্যায় , চীনের ,ভিয়েতনামের প্রতিরোধের ইতিহাস এবং সারা পৃথিবী জুড়ে মাওবাদী গেরিলাযুদ্ধের কৌশলে বিভিন্ন সংগঠনের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা একই সাথে প্রথাগত ট্রাইব ভিত্তিক অকার্যকরী বিচ্ছিন্ন কুরদ সংগ্রামের চিত্র। এই শিক্ষার ভিত্তিতে আবদুল্লা ওচালান পি.কে.কে স্বাধীন কুর্দিস্তানের দাবীতে এক সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন হিসাবে গড়ে তোলেন । ওচালানের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা ,অসাধারণ বাগ্মিতা ,কম্যুনিস্ট সংগঠন গড়ে তোলার দক্ষতা এবং কুরদদের দীর্ঘকালীন স্বাধীন কুর্দিস্তানের স্বপ্ন সফলের বিশ্বাস্য বিকল্প হিসাবে পি.কে.কে র গ্রহণযোগ্যতা অকালান কে এক জনপ্রিয় সর্বজনগ্রাহ্য নেতা হিসাবে পরিবর্তিত করতে থাকে । কুরদ জনতা ওকালানের নূতন নামাকরন করেন Apo ,কুরদ ভাষায় 'কাকা ‘ । পার্টি গঠনের সাথে সাথেই কিছু হাই প্রোফাইল গেরিলা আক্রমণ ,দক্ষিণ তুরস্ক জুড়ে সফল গেরিলা বোমাবর্ষণের ধারাবাহিকতা এবং সেই সময়ের তুরস্ক জুড়ে সরকার বিরোধী ছাত্র , শ্রমিক আন্দোলন ,কুর্দিস্তানের লড়াই এ প্রথম মহিলা গেরিলা বাহিনি সৃষ্টি পি.কে.কে স্বাধীন কুর্দিস্তানের সংগ্রামকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায় যে তৎকালীন তুরস্কের সরকার আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রার্থী হতে বাধ্য হয় । কুরদ জনজাতির এক আঞ্চলিক আন্দোলন আবদুল্লা ওচালান এবং পি.কে.কের নেতৃত্বে সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষনে সক্ষম হয় ।

সেই সময়ের তুরস্কে দক্ষিণপন্থি এবং বামপন্থিদের আভ্যন্তরীণ লড়াই। ছাত্র যুবা শ্রমিক দের স্ট্রাইক এবং সরকার বিরোধী আন্দোলন সাথে পি.কে.কের আন্দোলনের ডামাডোলে বিধ্বস্ত অশান্ত তুরস্কে শান্তি প্রতিষ্ঠার বাহানায় ১৯৮০ সালের শেষের দিকে সামরিক অভ্যূথানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে MGK( ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ) । সমস্ত রাজনৈতিক দল ,ট্রেড ইউনিয়ন ব্যান করে দেওয়া হয় , ভেঙ্গে দেওয়া হয় পার্লামেন্ট এবং সমস্ত সরকারী সংস্থা - মার্শাল ল এবং কারফিউ জারী করে চলতে থাকে এনকাউন্টার এবং ধরপাকর । পি.কে.কের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতা ধরা পড়েন ,মিলিটারি বেশ কিছু আভিযান প্রতিহত করে , পি.কে.কের তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বের মুক্তাঞ্ছল মিলিটারি আক্রমণের মুখে পড়ে,তুরস্কের ভেতরে থেকে লড়াই করার বাস্তবিক অসুবিধার কারনে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা লেবানন ,সিরিয়া ,পশ্চিম ইউরোপ এবং ইরাকের কুরদ এলাকায় আত্মগোপন করেন । পি.কে.কে তার গেরিলা বাহিনীর শক্তিক্ষয় এড়াতে ট্রেনিং বেস সিরিয়ার উত্তরে তুরস্ক সীমানায় দুর্গম কুরদ এলাকায় প্রতিষ্ঠাপিত করে । এই সময়ে গ্রেপ্তার এড়াতে আবদুল্লা ওচালান লেবাননে তার HQ স্থাপন করে কুর্দিস্তানের সপক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং জনমত তৈরির কাজ করতে থাকেন । মাত্র বছর দুয়েক পূর্বে গড়ে ওঠা পি.কে.কে প্যালেস্টাইন লিবারেসান অরগানাইজেসান ,কমুইনিস্ট লিগ অফ ইরান এবং মার্কসিস্ট আর্মেনিয়ান গেরিলা গ্রুপের সমর্থন পেতে থাকে । একই সময়ে কুরদ দের প্রশ্নর আন্তর্জাতিক পরিচিতির উদ্যেশে পি.কে.কে ইউরোপ জুড়ে তুরস্কের এমব্যাসি দখল এবং বোমাবর্ষণ চালাতে থাকে । এই অবস্থা চলতে থাকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত। অবশেষে ১৯৮৪ সাল নাগাদ তুরস্কে পুনরায় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় ফিরে আসে , মিলিটারি শাসনের অবসান ঘটে ।নূতন নির্বাচিত সরকার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃউদ্ধারের স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন গুলির চাপে রাজনৈতিক বন্দিমুক্তি এবং হৃত গনতান্ত্রিক অধিকারগুলি ফিরিয়ে দেওয়ার এক প্রক্রিয়া শুরু করে। এই অপেক্ষাকৃত সুবিধাজনক অবস্থানে পি.কে.কে পুনরায় তাদের সিরিয়া/তুরস্কের সীমানায় আশ্রয় গ্রহণকারী গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের তুরস্কের ভেতরে নিযুক্ত করতে থাকে । অতি অল্প সময়ের মধ্যে পি.কে.কে মিলিটারি শাসনের সময় হারানো জমি পুনঃউদ্ধারে সক্ষম হয় ,১৯৮৪ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হয় ফুলস্কেল গেরিলা যুদ্ধ । মূলত দক্ষিণ তুরস্কে এই অভিযান সীমাবদ্ধ থাকলেও ইস্তাম্বুলও চলে আসে এই যুদ্ধের আওতায় । একই সাথে পি.কে.কে তার কোর এরিয়া কুরদ প্রভাবিত এলাকায় গেরিলাযুদ্ধের ফাঁকে সামাজিক সুরক্ষা , মহিলাদের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা , গ্রামের দিকে কুরদিস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কাজের মাধ্যমে জনসমর্থনের ভিত্তি বাড়াতে থাকে। ১৯৭৮ সাল থেকে চলে আসা পি.কে.কের নেতৃত্বে এই গেরিলাযুদ্ধ বর্তমানে কারাগার বন্দী আবদুল্লা ওচালান এবং তুরস্ক সরকারের মধ্যে এক সমঝোতার অবশেষে ২০১৩ সালে এক শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আপাত এক শান্তির অবস্থানে বর্তমান ।

স্তালিনবাদি ‘গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’র শুঁয়োপোকা থেকে ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম’র প্রজাপতি তে বিবর্তন ঃ-

আবদুল্লা ওচালান এবং পি.কে.কের প্রতিষ্ঠাতা অধিকাংশ নেতাগনের কেউই ঠিক ডাই-হার্ড কম্যুনিস্ট ছিলেন একথা বলা যাচ্ছেনা । তাদের স্বপ্ন ছিল স্বাধীন কুরদিস্তান প্রতিষ্ঠা, পথ ছিল সশস্ত্র আন্দোলন । সময়ের দাবীতে এবং তৎকালীন সারা পৃথিবী জুড়ে চলে আসা বিভিন্ন মাওবাদী গেরিলা সংগঠনের অনুসরণে আবদুল্লা ওচালানের ব্যক্তিত্বশীল নেতৃত্বে অন্যান্য সব কম্যুনিস্ট পার্টির মতোই 'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’র স্তালিন বাদী পলিটব্যুরো ,কেন্দ্রীয় কমিটি ইত্যাদি ছকে বাঁধা পথেই পি.কে.কে গড়ে ওঠে । তৎকালীন তুরস্কে আরও ছোট ছোট লেনিনপন্থি ,ট্রটস্কি পন্থি , অ্যানারকিস্ট এমনকি টিটো পন্থী দলগুলির উপস্থিতি থাকলেও আবদুল্লা ওচালানের নেতৃত্বদানের সক্ষমতা ,সবল সংগঠন ,গেরিলা যোদ্ধা সংগ্রহের এবং কুর্দিস্তানের দুর্গম পাহাড়ে তাদের মিলিটারি ট্রেনিং দেওয়ার নেটওয়ার্ক , বিপুল পরিমাণে মহিলা সদস্যের উপস্থিতি সারা তুরস্ক জুড়েই পি.কে.কে কে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বিরোধী প্রধান মুখ হিসাবে অতি দ্রুততার সাথে প্রতিষ্ঠা করতে থাকে । ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৯৭ সালের অন্ত্যভাগ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে তুরস্ক, লেবানন ,সিরিয়াতে বসবাস করে 'গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’র কঠিন পার্টি ডিসিপ্লিনের স্তালিন বাদী পন্থা অনুসরণে ওচালান কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনা করেছেন । সেই ডিসিপ্লিন এতটাই কঠিন ছিল যে পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ,দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং একই সাথে অকালানের স্ত্রী 'কেশীরে ইয়িলডিরিম' কে তুরস্কের গোয়েন্দা বাহিনীকে তলে তলে পার্টির খবর পাচার করার অভিযোগে পার্টি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ওচালানের সমর্থনেই গৃহীত হয় ।

সেই সময়ে বিশ্বজুড়ে একই সাথে দু তিনটি ঘটনা ঘটতে থাকে । তুরস্কের অভ্যন্তরে পি.কে.কের মাওবাদী ধারায় সংগ্রামের পদ্ধতি ,অতিরিক্ত বল প্রয়োগ , কখনো সাধারণ নাগরিকের উপর গেরিলা হানা এবং তৎপরবর্তী সরকারী দমনের ধারাবাহিকতা অপেক্ষাকৃত লিবারেল সমর্থকদের পার্টির প্রতি কিছুটা বিরূপ করে তোলে । পি.কে.কে.র আন্দোলনের ফলে কুরদদের প্রশ্ন সারা বিশ্বে আলোচিত এবং তুরস্ক সরকারের মানবধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি দেশের ভেতরে এবং বাইরে আলোচ্য বিষয় হিসাবে উঠে এলেও অনাবশ্যক হিংসা বিদেশী সমর্থকদের মধ্যেও বিরূপ মতামতেরও সৃষ্টি করতে থাকে ।

ন্যাটোর বৃহৎ সহযোগী তুরস্কের এবং আমেরিকার চাপে পি.কে.কে সন্ত্রাসবাদী সংস্থা হিসাবে ঘোসিত হয় । ব্যাঙ্ক একাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয় । ওচালান তখন সিরিয়াকে কেন্দ্র করে তার সংগ্রাম টি পরিচালনা করছেন , তুরস্ক সরকার সিরিয়া কে এই বলে হুমকি দেয় যে ওচালান কে বহিষ্কার না করলে ফল ভালো হবেনা। সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের সম্ভাবিত যুদ্ধ এড়াতে আবদুল্লা ওচালান রুসিয়াতে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন ।আবদুল্লা ওচালানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন রুশ পার্লামেন্ট ২৯৮-০ ভোটে পাস করলেও তুরস্কের এবং আমেরিকার চাপে রুসিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়েলেতসিন প্রেসিডেন্সিয়াল ভেটো প্রয়োগে আবদুল্লা ওচালানের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন । ওচালান রুসিয়া পরিত্যাগ করে ইউরোপে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন । রুসিয়ার এবং সমাজতান্ত্রিক ব্লকের প্রায় অবলুপ্তি,চীনের পুঁজিবাদী পথ অবলম্বন, মার্কসবাদী তত্বের অবলম্বনে প্রলেতারিয়েট ডিক্টেটারশিপ রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা ,স্তালিন পন্থী কঠিন কমিউনিস্ট স্ট্রাকচারের কর্তৃত্বশালী আচার তাকে ধীরে ধীরে মার্কসবাদী পথের মাধ্যমে কুরদ প্রশ্ন সমাধানের সফলতা অর্জন আদৌ সম্ভাব্য কিনা এ বিষয়ে ভাবাতে থাকে ।একই সাথে প্রায় ২০ বছর ধরে চলে আসা গেরিলাযুদ্ধের ফলে প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের প্রানের বিনিময়ে অর্জিত সফলতার হিসাব এবং যে কুরদ স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যেশে ১৯৭৮ সালে তিনি তার পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা আদৌ মাওবাদী গেরিলাযুদ্ধের পথে অর্জন করা সম্ভব কিনা এবং সর্বোপরি কুরদিস সমস্যার অন্য কোন উপায়ে সমাধান সম্ভব কিনা এই সব প্রশ্ন ওচালানকে ভাবাতে থাকে।ওচালান নিষিদ্ধ পি.কে.কের গঠনতন্ত্রের এক আমূল বিকেন্দ্রীকরনের সাথে সাথে গন আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যেশে এবং লিবারেল সমর্থকদের একজোট করার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন । পি.কে.কে স্তালিনবাদি খোলস মুক্ত হতে থাকে ।

সেই সময় তুরস্ক বা সিরিয়ার সীমান্ত থেকে হাজারো মাইল দূরে মেক্সিকোতে ১৯৯৪ সালের ১লা জানুয়ারি NAFTA ( নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট) সাক্ষরিত হয় । এই চুক্তি অনুসার মেক্সিকোর বাজার, চাষিদের জমি উৎপাদিত দেশীয় শস্য সমস্ত কিছু আমেরিকা এবংবাকি স্বাক্ষরকারী দেশের কাছে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় । চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার দিনেই এক অজানা সংগঠন Zapatista National Libaretation Armyর ( EZLN) হাজারো সশস্ত্র মায়া আদিবাসী গেরিলা মেক্সিকোর প্রধান শহর , জেলা শহর আঞ্চলিক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করে । zapatista এক নূতন ধরনের মুক্তির লড়াই , মায়া আদিবাসী সমাজের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার এই যুদ্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার মিশ্রণে এক নূতন ধরনের বামপন্থী চিন্তার ফসল । Zapatista দ্রুত দক্ষিণ মেক্সিকোর জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের স্বয়ংশাসন প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন কোর্রতে সক্ষম হয় । ‘they dont want to sieze power. This is something new .They want to create a democratic process that all Mexicans take part in .They want recognition of indegenious culture , history and autonomy ‘ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিহীন ,পার্টির কন্ট্রোল বিহীন ,পাল্টা রাষ্ট্র শক্তি তৈরি না করে বিপুল জনতার সায়ত্বশাসন অর্জনের এই সফল বামপন্থী পরীক্ষা ওচালান গভীর ভাবে অনুধাবন করেন । পার্টির দুইদিন ব্যাপী কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংএ zapatista আন্দোলনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ এবং কুরদ আন্দোলন সেই পথে পরিচালিত করা যায় কিনা এ নিয়ে বিতর্ক , আলোচনা এবং দলিল প্রস্তুত হয় । ওচালান তার ইউরোপে বসবাস কালীন মার্কস পরবর্তী বামপন্থী লেখা পত্র এবং কুরদদের প্রশ্নের সমাধানে পড়তে থাকেন বাকুনিন , এম্মা গোল্ডম্যান ,ফকাল্ট ইত্যাদি । চলতে থাকে সোভিয়েত পতনের পর বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আত্মবিস্লেসন । অবশেষে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ কারি তুরস্কের সবথেকে বিপদজনক ব্যক্তিত্ব গ্রিসের সহযোগিতায় উপস্থিত হন কিনিয়াতে । ১৯৯৯ সালে CIAর সহযোগিতায় তুরস্কের গোয়েন্দা পুলিস নাইরোবি এয়ারপোর্ট থেকে ওচালান কে অপহরণ করে নিয়ে আসেন তুরস্কে। ওচালানের এই নাটকীয় গ্রেপ্তার কে সরকারী প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে তুরস্কের সরকার পি.কে.কে এবং কুরদ জনতার আন্দোলনের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার কাজে ব্যবহার কোরতে থাকে অন্যদিকে চলতে থাকে তুরস্কের ইতিহাসে বিগত ২২ বছর ধরে রাষ্ট্রের প্রধান শত্রু আবদুল্লা ওচালানের এক হাই প্রোফাইল বিচার।

অসম্ভব প্রাণশক্তির অধিকারী অদম্য ওচালান এই অবসরে জেলখানার ১৫’ x১৫’ কুঠুরির অন্ধকারে আত্মস্থ কোরতে থাকেন বাকুনিন , প্রুধোর রাষ্ট্র বিহীন গনতন্ত্রের আইডিয়া। মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরাক, ইরান সিরিয়া ,তুরস্কে বিভক্ত কুরদ জনজাতির বাস্তব পরিস্থিতি এবং তার দীর্ঘ আন্দোলনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পারস্পেক্টিভে বিচার কোরতে থাকেন সেই আইডিয়ার বাস্তবসম্মত প্রয়োগের সম্ভাবনা । অবশেষে ২০০০ সালে কারাগারের অন্তরালে ওচালানের পরিচয় ঘটে আমেরিকান অ্যানারকিস্ট চিন্তাবিদ 'মুরে বুকচিন' এর Ecology of Freedom and urbanisation without cities নামক পুস্তকটির সাথে । বুকচিনের পুস্তকটির দ্বারা ওচালান এতটাই প্রভাবিত হন যে তার উকিলের মাধ্যমে জেলের ভেতর থেকে সমস্ত সাথিদের এই বইটি পড়তে অনুপ্রানিত করে এক নোট পাঠান । ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় আবদুল্লা ওচালানের প্রথম প্রিসন রাইটিং ‘The roots of civilization ‘। বুকচিনের 'মিউনিসিপ্যালিসিম’ এর দ্বারা প্রভাবিত , মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষত কুরদ দের প্রশ্নের সমাধানে ওচালানের ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ তত্বের প্রথম ডিফেন্স । এই ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ তত্বের তাত্বিক ভিত্তিটি তৈরি হচ্ছে কারাগারের অন্তরালে ৬০০০ বছরের মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস মার্ক্সবাদী দৃষ্টিতে ব্যাখ্যার মাধ্যমে ।

‘The roots of civilization ‘ নামক এই দুই ভল্যুম এর আকর গ্রন্থ পর্যায়ের পুস্তকে আবদুল্লা ওচালান মার্কসবাদী বিশ্লেষনে সুমেরীয় সভ্যতার সময়ে থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস ,নগর রাষ্ট্রের উৎপত্তি , রাষ্ট্রের মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা , পুরুষ প্রধান সমাজের প্রতিষ্ঠা , মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি ,ইসলাম খ্রিস্ট ধর্মের উৎপত্তি এবং পতন থেকে শুরু করে কাপিট্যালের বিস্তার মার্কসবাদী বিশ্লেষনের পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করেছেন । এই অসাধারণ পুস্তকটিকে ৬০০০বছরের ইতিহাসের ব্যাপ্তিতে ওচালানের ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ তত্বের মুল রেফারেন্স হিসাবে আমরা গণ্য করতে পারি । পুরো কুর্দিস্তান আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তন ,সাথে স্তালিন বাদী ‘গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা’ নির্ভর এক সক্রিয় গেরিলাযুদ্ধ পদ্ধতিতে আন্দোলনরত পি.কে.কের চরিত্র পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটি ছিল তার প্রথম ডিফেন্স । স্বাধীন কুর্দিস্তান আরেকটা নূতন রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার সশস্ত্র লড়াইয়ের গতিমুখ পরিবর্তিত হয় 'ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম’ বা কুর্দিস্তান এ 'রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্র ‘ প্রতিষ্ঠার লড়াই এ । ওচালান তাঁর 'ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম’ পুস্তিকার ভূমিকা তে লেখেন ঃ-

‘ The right of self-determination of the peoples includes the right to a state of their own. However, the foundation of a state does not increase the freedom of a people. The system of the United Nations that is based on nation-states has re-mained inefficient. Meanwhile, nation-states have become serious obstacles for any social development. Democratic confederalism is the contrasting paradigm of the oppressed people.’

অসংখ্য স্বাধীনতাকামী কুরদ জনতা, ওচালানের গ্রেপ্তারের পর তাঁর মুক্তির দাবীতে পুরানো গেরিলাযুদ্ধের টেকনিকে পরিচালিত পি.কে.কের নেতা এবং কর্মীগণ ,পশ্চিমের মিডিয়া সাথে তুরস্কের সরকার আবদুল্লা ওচালানের মত দীর্ঘ দুই দশকের ওল্ড স্কুল গেরিলা যুদ্ধের নেতার এই নূতন তত্বের প্রকাশে বিভ্রান্ত হয়ে পরে । সরকার এবং মিডিয়ার মনে হতে থাকে এ হোল নিজেকে ফাঁসীর কড়িকাঠ এবং পি.কে.কে কে অবলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য ওচালানের এক নূতন বুদ্ধিদীপ্ত চাল ।

আবদুল্লা ওচালানের তত্বের সমর্থনে রচিত দ্বিতীয় ডিফেন্স টি প্রকাশ পায় ২০০৪ সালে ঃ- The PKK and the Kurdish question in the 21st Century। প্রথম পুস্তকটি যদি হয় ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ তত্বের মুল রেফারেন্স তবে দ্বিতীয় পুস্তকটি কুর্দিস্তানের লড়াইয়ে পি.কে.কের ভূমিকা ,সফলতা ,ব্যর্থতা ,আত্মবিস্লেসন এবংপি.কে.কের ভবিষ্যতের লড়াইয়ের দিক নির্দেশ । মাইন্ডলেস ভায়োলেন্স এর পরিবর্তে কুরদ জনতার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অর্জন ,রাষ্ট্রের সীমানায় থেকেই রাষ্ট্র প্রচলিত ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রর পরিবর্তে 'ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম’এর ভিত্তিতে জনতার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং গেরিলা মিলিশিয়ার মাধ্যমে তা রক্ষা করার এই দিক নির্দেশ । ওচালান বলেন ঃ- 'Democratic confederalism is based on grass-roots participa- tion. Its decision-making processes lie with the communities. Higher levels only serve the coordination and implementa- tion of the will of the communities that send their delegates to the general assemblies. For limited space of time they are both mouthpiece and executive institutions. However, the basic power of decision rests with the local grass-roots institu- tions.’

এই ১৬ বছরের দীর্ঘ কারাবাসে আবদুল্লা ওচালান লিখেছেন ৫টি পুস্তক ,দশটির অধিক পুস্তিকা ,অসংখ্য প্রবন্ধ ,চিঠি । ২০০৬ সাল থেকে তুরস্কের সরকার দীর্ঘ ৫বছর তার সাথে প্রকাশ্যে এবং গোপনে কারাগারে কুরদ প্রশ্নে নেগোশিয়েসন চালিয়েছেন ,অবশেষে ওচালানের অধিকাংশ দাবী মেনে ২০১৩ সালে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠন হওয়া স্বত্বেও পি.কে.কের সাথে তুরস্ক সরকারের এক শান্তিচুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে । আবদুল্লা ওচালান গত ৪০ বছর ধরে কারাগারের বাইরে এবং ভেতরে কুরদ দের প্রশ্নের সমাধান খুঁজছেন নিরলস আর তার হাতে গড়া পি.কে.কে সেই তত্ব বর্তমানে প্রয়োগ করছে তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

২০০৭ সালের শুরুর দিক থেকে পি.কে.কে তুরস্কের কুর্দিস্তান অঞ্চলে ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ এর তত্বের বাস্তব প্রয়োগ করতে শুরু করে, বর্তমানে তুরস্কের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সমস্ত প্রদেশে (Hakkari, Sirnak, Siirt, Mardin, Diyarbakir, Batman, and Van ) 'ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলিসম’এর ভিত্তিতে জনতার ডিসিশন মেকিং অ্যাসেম্বলি বর্তমান , এই সমস্ত প্রদেশে তুরস্ক সরকারের জনতার ওপর বস্তুত কোন প্রভাবই নেই , সরকারী এবং জনতার শাসনের এক সমান্তরাল ব্যবস্থা ক্রমশ তাঁর বিস্তার বাড়াচ্ছে অতি দ্রুত এমনকি নন কুরদ প্রদেশেও । আমাদের কাছে এই আধাবোধ্য ,বিমূর্ত রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্রের আইডিয়া , রাষ্ট্রের সীমানায় থেকেই রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সশস্ত্র মিলিশিয়া বজায় রাখা এবং তার ইউনিকনেস 'রোজাভা বিপ্লব’ এর মাধ্যমে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রয়োগের উধাহরনে পরিষ্কার হচ্ছে ধীরে ধীরে , পৃথিবী আশ্চর্য হচ্ছে এই যুদ্ধবিদ্ধস্ত অঞ্চলে এক অদ্ভুত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উধাহরনে ।

রোজাভা বিপ্লব ঃ- শুরুর কথা

২০১১ সালে সিরিয়াতে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ পি.কে.কের কাছে আবদুল্লা অকালানের ‘ডেমোক্র্যাটিক কনফেডারিলসম ‘ এর তত্বের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃহৎস্কেলে প্রয়োগের এক অভূতপূর্ব সুযোগের সম্ভাবনা উপস্থিত করে। তিউনেশিয়া , ইজিপ্ট এ সরকারবিরোধী গন আন্দোলন (পশ্চিমের মিডিয়া যাকে ‘ আরব স্প্রিং’ নামে আখ্যা প্রদান করে থাকে) এবং তার প্রভাবে সিরিয়াতে শুরু হয় ‘আসাদ ‘ বিরোধী শান্তিপূর্ণ গন আন্দোলন । জনতা ১৯৭০ সাল থেকে চলে আসা আসাদ পরিবারের বস্তুত এক পার্টির শাসনের ডিক্টেটরশিপ এর পরিবর্তে তুলনামূলক গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য আন্দোলন শুরু করেন । কিন্তু আসাদ তিউনেশিয়া , ইজিপ্ট ,লিবিয়ার গন আন্দোলনের ফল দেখে শঙ্কিত বোধ করতে থাকেন , ১৫ই মার্চ ২০১১ সালে দামস্কাস এর শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্র কামী জনতার মিছিলে আসাদএর বাহিনী গুলিবর্ষণ করে । শান্তিপ্রিয় গনতন্ত্রকামি জনতার আন্দোলন ‘আসাদ’ সরকারের উচ্ছেদ আন্দোলনে পরিবর্তিত হয় । সেই বছরেরই ২৫ এপ্রিল আসাদের বাহিনী আন্দোলন দমন করতে ট্যাঙ্ক কামান সজ্জিত বাহিনী আন্দোলন দমনে ব্যবহার করে ,শুরু হয় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ । ২০১২ সালের মধ্যে সিরিয়ার অর্ধেক ভূখণ্ড চলে যায় আসাদ বিরোধী এবং মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে ।

বিভিন্ন ফ্রন্টে লড়াইরত আসাদবাহিনি যখন দুর্বল তখন ২০১২ সালের ১৯সে জুলাই কোবানে শহরের এক মসজিদে PYD (পি.কে.কে এখনো নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই তুরস্কের ভেতরে এবং সিরিয়া তে পি.কে.কে গড়ে তুলেছে বেশ কিছু গন সংগঠন পি.অয়াই. ডি যার অন্যতম ) এবং তাদের মিলিশিয়া বাহিনী সন্মিলিত মিটিং এ সিধান্ত নেয় বিপ্লব শুরু করার এই মোক্ষম সময় । সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী কোবানে শহরে প্রবেশ এবং কোবানে থেকে বেরোবার সমস্ত রাস্তার দখল নেয়। পার্টির নেতৃত্বে এক সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মহিলা এবং সাধারণ নাগরিকগন সরকারী দপ্তর এবং সামরিক ঘাঁটি ঘেরাবন্দি করে । পি.অয়াই. ডি প্রতিনিধিগন আসাদের মিলিটারি অধিকর্তাদের সাথে আলোচনা চালাতে থাকেন -তাদের দুটি শর্ত দেওয়া হয় ১। ব্যারাক এবং শহর পরিত্যাগ করে নিজ নিজ যায়গায় ফেরত যেতে পারেন ২। সাধারণ নাগরিক হিসাবে আমাদের সাথেও থাকতে পারেন। কোবানের আসাদ বাহিনী যখন উপলব্ধি করে তাদের পক্ষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য পাওয়া দূর অস্ত তখন অন্যনপায় আসাদ বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাক ত্যাগ করে। একটাও বুলেট খরচ না করে কোবানে অঞ্চল আসাদ বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয় শুরু হয় রোজাভা বিপ্লব। জাজিরা(Cizre) কোবানে এবং আফরিন রোজাভার এই তিনটি cantonএ ১৮৪০০ স্কোয়ার কিলোমিটার জুড়ে গত তিন বছর ধরে প্রত্যহ পরিক্ষিত হচ্ছে আবদুল্লা ওচালানের রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্রের এক অভূতপূর্ব সামাজিক বিপ্লব । অসংখ্য কুরদ এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিপ্রিয় মানুষের গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে নূতন পথ আমাদের বুদ্ধিদীপ্ত জগতের বাইরে । জর্জ অরওয়েল স্পেনের বিপ্লবের অভিজ্ঞতা থেকে পরবর্তীতে লিখেছিলেন "But the point to notice is that the people who are in prison now are not Fascists but revolutionaries; they are there not because their opinions are too much to the Right, but because they are too much to the Left. And the people responsible for putting them there are those dreadful revolutionaries at whose very name Garvin quakes in his galoshes – the Communists.” (Spiling the Spanish Beans -Gorge Orwell 1937) বামপন্থী বুদ্ধিজীবীগনের রোজাভা বিপ্লব নিয়ে পাথরের মত নীরবতা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখেনা ।

( বেশ কিছুদিন পূর্বে গুরুর ব্লগে 'আবদুল্লা অচালান’ এর এক প্রাথমিক পরিচিতি প্রকাশের পর কল্লোল বাবু ,রঞ্জন বাবু এবং ডাঃ জয়ন্ত দাস মহাশয় আবদুল্লা অচালানের ডেমোক্রাটিক কনফেডারিলিসম’ বা ‘রাষ্ট্রবিহীন গণতন্ত্র’র বাস্তব প্রয়োগ বিষয়ে একটু ডিটেল এ লিখতে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন । বর্তমানের লেখাটি সেই দিক থেকে পর্ব ২ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে । আমাদের সময়ের সবথেকে উচ্চাভিলাষী বৈপ্লবিক এক সামাজিক পরীক্ষা নিরীক্ষার সাথে পরিচিত হওয়ার এক সামান্য প্রচেষ্টা ,বর্তমান লেখাটির সময় সীমা ২০১২সালের জুলাই মাস রোজাভা বিপ্লব শুরু হওয়ার ক্ষণ পর্যন্ত । ২০১২ পরবর্তী সময় থেকে ২০১৫র কোবানে দখল মুক্ত করার সময়ের বিবরণ এবং রোজাভা কেন এক অসামান্য ঘটে চলা বৈপ্লবিক পরীক্ষা সেই নিয়ে পরবর্তী কোন লেখায় প্রকাশিত করার ইচ্ছা রইল । এই বিষণ্ণ সময়ে রোজাভা বিপ্লব এবং Abdullah Öcalan এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি পরিবর্তনে রোজাভা এক উজ্জ্বল উধাহরন । রোজাভা আমাদের সবল সমর্থনের দাবী রাখে ,রোজাভা কে আমরা স্পেন হতে দিতে পারিনা।) রোজাভা বিপ্লব নিয়ে BBC প্রায় বছর খানেক পূর্বে একটি তথ্যচিত্র প্রস্তুত করেছে লিংক টি সংযুক্ত হলো :-
https://www.youtube.com/watch?v=fKhjJfH0ra4

1338 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 37 -- 56
Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

চারদিকে প্রথাগত রাষ্ট্রের মাঝে পিকেকের যুদ্ধপরবর্তী প্রয়াসকে কোথাও হয়তো আপোষ করতে হতে পারে। একটা কথা ঠিক, ঐ অঞ্চলে আইসিস হঠিয়ে দেওয়া গেলে (তা সে যেই হঠাক) পশ্চিমের পরের টার্গেট হবে পিকেকে। রাষ্ট্রহীন গণতন্ত্র জাতীয় মারাত্মক ব্যাপার পশ্চিম খোলা মনে কোনদিনই মেনে নেবে না। সে ক্ষেত্রে পুতিনের রাশিয়া হয়তো কোন ভূমিকা নিয়ে পারে, হয়তো। তাতেও সন্দেহ আছে। এবার, তেল নিয়ে পিকেকে ভেনেজুয়েলার মত কোন অবস্থান নিতে পারে কি না সেটা দেখার। তবে সে সব অনেক পরের বিষয়। অনেক যদি, কিন্তু, পেরিয়ে।

Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

জ। না, তখন লেখার সাথে মন্তব্য করা যেতো না। পরে অন্য প্রসঙ্গে এই লেখাটির ওপর কিছু মন্তব্য করেছিলেন আকা। সেগুলো খুঁজে এখানে দেবার চেষ্টা করছি।
Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

বিষয়ঃ আজাদ কাশ্মীরঃ আপনার কী মত - এই নামে একটি সুতোয় প্রসঙ্গক্রমে আকা আমার লেখাটি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। নীচে দিলাম।
Name: aka Mail: Country:IP Address : 168.26.215.13 Date:26 Sep 2011 -- 07:04 PM
লেখাটার তিনটি ভাগ - প্রথম, রাষ্ট্র ইত্যাদি নিয়ে মার্ক্স, এঙ্গেলস, হেগেলস, লেনিন, লুক্সেমবার্গ ইত্যাদি কি ভেবেছেন, বলেছেন। দ্বিতীয়, রাশিয়ায় যে সমাজতন্ত্র হয়েছে সেখানে রাষ্ট্র সম্বন্ধে সমাজতন্ত্রের নেতারা যা বলেছেন সেই একই জিনিষ কিভাবে দেখা গেছে। রাষ্ট্র সম্বন্ধে বিভিন্ন তাঙ্কিÄক সমালোচনা সমাজতন্ত্রের প্রবক্তাদের লেখায় পাওয়া গেছে সেই সমাজতন্ত্র যখন ইন প্র্যাকটিস তখন দেখা গেল রাষ্ট্রের ভূমিকা একটু অন্যরকম হলেও আসলে নতুন বোতলে পুরনো ধেনো। এই অবধি বক্তব্য কিছু নেই, সঠিক অবজারভেশন এবং অ্যানালিসিস।

এরপরে কিছু ক্লেম করেছেন যেমন - 'আজকের পুঁজিবাদ মানবতার শত্রু। সমাজতন্ত্র পুঁজিবাদের চেয়ে অনেক কাম্য'। এটা একটা প্রক্ষিপ্ত বাক্য আপনার মনে হওয়ার কথা। কারণ সমাজতান্ত্রিক দুনিয়ায় মানবতার বাড়াবাড়ি ছিল একথা কেউ বলবে না। প্রতি বিপ্লবের দোহাই দিয়ে কত লাশ যে ভলগার জলে ভেসে গেল সে সবাই জানে। তাই এই ক্লেমটির কোন মানেই নেই। যেমন ধরুন কেমোথেরাপি ক্যান্সারের ওষুধ হিসেবে খুব খারাপ, ভয়ংকর সাইড এফেক্ট। কিন্তু তারমানে এইনয় যে রামদেব বাবা খুব ভালো। এক্ষেত্রে যদি ধরে নি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র কেমো তাহলে সমাজতন্ত্রের রাষ্ট্র হল বাবা রামদেবের ওষুধ।

তারপরে বলেছেন কাজের ঘন্টা কমানোর আন্দোলনের কথা। এটা নিয়ে বিশেষ কিছু না বললে বোঝা যাচ্ছে না। যন্ত্র ব্যবহার করলেই কাজ বাজ কমে যায় তা তো না। যেমন ধরুন আইটি গাইজ সারাদিন যন্ত্র নিয়েই কাজ করে, কাজ কম তো নয়। আর এরা মুখে শোষণ শোষণ করে কিন্তু আসলে কিন্তু খাটার পেছনে ইন্সেটিভ আছে। বছরে বছরে হাইক, প্রফিট শেয়ারিং এটসেট্রা এটসেট্রা। তারপর ধরুন গুগুল, সেখানে আবার অল্পবয়সী কলেজ পাশ ছেলেমেয়েরা (মানে গুগুলাররা) গুগুলের ক্যাম্পাসেই থাক। দুকুরে ঘুম পেলে ঘুমোয়, যখন সিনেমা দেখতে ইচ্ছে হয় দেখে, আবার রাত জেগে কাজ করে। তো, আপনার শ্রমিক শ্রেণী আর এই শ্রমিক শ্রেণী কি এক? যদি না হয় তাহলে আপনার জেনেরিক ক্লেমগুলো উন্নততর পুঁজিবাদের ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগে তা আর একটু ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে।

তারপরে যেমন সমস্ত বামপন্থী ভাবের লেখাতে আসে, এসেছে বিশ্বায়ণ ইত্যাদি নিয়ে কিছু কথা। এটা নিয়ে কিছু আলোচনা করতে হলে আগে আপনাকে বিশ্বায়ণ ডিফাইন করতে হবে। নইলে বিশ্বায়ণ, পুঁজির ফ্লো ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই বক্তব্য রাখেন কিন্তু বিশ্বায়ন কি এবং কেন তা খারাপ সেটা এস্টাবলিশ না করেই। বিভিন্ন অ্যানালিসিসের আগে ডেফিনিশন।

তারপরে বক্তব্য রেখেছেন অন্যরকম উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে। তা অন্যরকম উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা মানেই এসে যায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কি কি গলদ সেই নিয়ে অর্থাৎ কিনা মার্ক্সের লেবার থিওরি অফ ভ্যালু। এই নিয়ে কিছু বলতে গেলে মার্ক্সের পরবর্তী কালে যাঁরা এই নিয়ে কাজ করেছেন যেমন সুইজি, বারান, রবিন্সন ইত্যাদিদের ভাবনা চিন্তা না এলে এই নিয়ে কিছু আলোচনা করা খুব জটিল হয়ে পড়ে।

বারান ও সুইজির কাজ সম্বন্ধে - Political Economy of Growth, published in 1956, and their joint work, Monopoly Capital, which appeared in 1964, the basic analytical weapons brought to bear in analyzing capitalist development in underdeveloped and developed countries were variants of orthodox neoclassical and Keynesian political economy. (35) Marxism was, for the most part, reduced to supplying the rhetoric and the moral background of these works.


সুইজি কি মনে করেন - It would appear ... that Marx was hardly justified, even in terms of his own theoretical system, in assuming a constant rate of surplus value simultaneously with a rising organic composition of capital. A rise in the organic composition of capital must mean an increase in labour productivity, and we have Marx?s word for it that higher productivity is invariably accompanied by a higher rate of surplus value. In the general case, therefore, we ought to assume that the increasing organic composition of capital proceeds pari passu with a rising rate of surplus value. If both the organic composition of capital and the rate of surplus value are assumed variable ... then the direction in which the rate of profit will change becomes indeterminate. All we can say is that the rate of profit will fall if the percentage increase in the rate of surplus value is less than the percentage decrease in the proportion of variable to total capital.

নইলে উন্নততর প্রোডাকশন সিস্টেমের যুক্তিটাই ঠিক মতন বোঝা যায় না।

আর গোটা লেখাটাতে চোখে পড়ে নি কিভাবে রাষ্ট্র উঠে গিয়ে নতুন সিস্টেম তৈরি হবে। সেই ফাঁকটা এই লেখাতেও ভরাট হল না।
আরও প্রিসাইসলি বললে সমাজতন্ত্রের দরকারটা এস্টাবলিশ না করলে কেনই বা এত সমাজতন্ত্র নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব। আপনারা এককালে আন্দোলনের অংশীদার ছিলেন, বিরাট স্বপ্ন ছিল, এখন সেই স্বপ্ন ভেঙে গেলেও তারই আশেপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমার কাছে ৭০ এর আন্দোলন, সমাজতান্ত্রিক দেশের স্বর্ণযুগ আসলে গল্প কথা, বাবা রামদেবের ওষুধ।

তাই সমাজতন্ত্র নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতে বললে আমি বলব আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মার্ক্সের পুঁজিবাদের সমালোচনা কতটা গ্রহণযোগ্য সেটা আগে বলুন। পুঁজিবাদের যে বিভিন্ন বিকাশ ঘটেছে সেখান থেকে দেখাতে হবে আসলে পুঁজিবাদ ভয়ংকর খারাপ, নইলে এর কোন প্রয়োজনীয়তা আমার নেই।
Avatar: 0

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

কল্লোল'দা, এক্সেস প্রোডাকশনকে যদি রি-ইনভেস্টেবল্‌ রিজার্ভে/প্রভিশনে বদলে নেওয়া না হয়, তবে তো যে কোনো সংস্থার স্বাভাবিক বৃদ্ধি থেমে যেতে বাধ্য।

কারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ডিম্যান্ড ও সেই সাথে প্রোডাকশন বাড়বেই।
কিন্তু বিগত বছরগুলোর এক্সেস প্রোডাকশনের অন্ততঃ কিছুটার থেকে বদলে নেওয়া (মানে, বাইরে বিক্রীর লাভ্যাংশ) সঞ্চিত রি-ইনভেস্টেবল্‌ রিজার্ভ/প্রভিশন না থাকলে প্রোডাকশন-মিন্স্‌, মানে, অ্যাসেটের অ্যাকোয়্যার-রিনিউয়াল-মেন্টেনেন্স, সব যে থেমে যাবে!
Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

এর উত্তর এক্ষুনি আমার কাছে নেই। তবে, এটুকু বলতে পারি এগুলো আজকের উৎপাদন ব্যবস্থায় সত্যি। কিন্তু ব্যবস্থাটা যদি আলাদা হয়................
Avatar: Ekak

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

ব্যাপার টা একটু আঁক কষে দেখানো হোক না । আইল্যান্ড হিসেবে নয় । এরকম যদি ধরে নেওয়া যায় যে পৃথিবীতে এমন কোনো আইল্যান্ড আছে যা কোনভাবেই কোনরকম বাইরের প্রাকৃতিক -অর্থনৈতিক- সামাজিক বিনিময় থেকে মুক্ত সেখানে সমাজতন্ত্র কিভাবে কায়েম হবে .....এরকম অবাস্তব জিনিস চাইছি না । কিপিং অল এক্সটার্নাল প্যারামিটার ইন্ত্যাক্ত , ঠিক কিভাবে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চলতে পারে তার একটা মডেল আঁক কষে দেখানো হোক । "আলাদা " হতেই পারে নো প্রবলেম ।
Avatar: debabrata

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

রোজাভার ইকনমিক adviser এই রকম বলেছিলেন এক interview এ Hemo: Our main focus for development would be on the social economy. But it will coexist with the open economy and the private economy. For instance, we need factories related to agriculture. We need processing facilities. We need fertilizer, cotton processing. We produce petroleum, but we need facilities to produce plastics, benzene from it. If there is an opening, we can create facilities. We need some kind of common economy, and factories should be communally owned. But we won’t create a state economy, or a centralized economy. It should be locally organized.
Avatar: nilimesh

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

আপনার লেখাটি এবং অন্যদের মতামত পরলাম ,সত্যিই বিসয় টি আমার একদমই অজানা ,নুতন এবং অসাধারণ বিসয় , গুগুল ও করলাম কিছুটা তাতে জ বুঝলাম কুর্র্দ রা মূলত একাই লড়ছেন ,তুস্রস্ক অসহযোগী সুধু তাই না ঘুরপথে নাকি ইসলামিক স্টেট কে সাহায্য করছে এখন এই অবস্থায় কতদিন এই পরিখা টিকবে কে জানে । আপনি পরবর্তী পর্যায় নিয়ে লিখুন আগ্রহ থাকলো -কিন্তু এই গুরত্বপুর্ন বিসয়ে এত কম আগ্রহ একটু অস্চর্জ লাগলো । এই লেখার লিংক কি আমি অনি কথাও দিতে পারি ?


Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

দেবব্রত। তৃতীয় কিস্তির আশায় বসে আছি।
বই মেলার সময় কলকাতায় থাকবো। একটা আড্ডা হোক।

Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

কল্লোল বাবু -আপনি চাপে ফেলে দিচ্ছেন ,পর্ব ৩ নিয়ে ,ঠিক আছে দেখি কত তাড়াতাড়ি নামানো যায় , আপনি আসুন বইমেলার সময় ,নিশ্চয়ই দেখা হবে ।

কল্লোল বাবু আপনি হয়ত জানেন -২০১৪ সালে রোজাভা তাঁদের অঞ্চলে প্রথম ইউনিভার্সিটি স্থাপন করেছেন নিজেদের সামর্থ্যে এই যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতির মধ্যে ,এই নব্যস্থাপিত বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে আইন ,সমাজ বিজ্ঞান এবং ইতিহাস এই তিনটি বিষয় পড়ানো শুরু হয়েছে (অবশ্যই প্রথাগত শিক্ষা নয় ) এই বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের লাইব্রেরির জন্য এক বুক কালেকশান ড্রাইভ চালাচ্ছে সারা বিশ্ব জুড়ে - মাল্টি লিঙ্গুয়াল রাডিক্যাল বইপত্তর খুঁজছেন - বইমেলায় দেখা হোলে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারি, কিছু করতে না পারি দু একটা পুরানো বই তো যোগাড় করে পাঠাতে পারি ?
Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

নিশ্চই।
Avatar: জ

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

nilimesh 23 November 2015 একটা জিনিস জানতে চেয়েছেন, "এই লেখার লিংক কি আমি অনি কথাও [অন্য কোথাও] দিতে পারি ?"
@দেবব্রত, আমার মনে হয় সেটা করলে ভাল হয়।
@এডমিন, সেব্যাপারে নিশ্চয়ই কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
@কল্লোল বাবু, আপনার ওপর এবার ভয়ানক খেপে যাচ্ছি। বইমেলায় আড্ডার কথাটা আমি আপনাকে বললাম, আর আপনি কেবল দেবব্রতকে নেমন্তন্ব করলেন? ঠিকাছে, এক মাঘে বইমেলা যায় না!
দেবব্রত, আপনি কি রোজাভায় যাচ্ছেন বা কেউ যাচ্ছেন বলে জানেন? বইমেলায় বই নিয়ে পাঠাবেন কেমন করে? Médecins Sans Frontières (MSF) এর মতো কোনো সীমানাবিহীন পুস্তকপঠন সংগঠন আছে নাকি?
Avatar: Debabrata Chakrabarty

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

জ আপনি ঠিক বলেছেন , MSF কোবানে তে একটা ১২/২৪ বেড এর হসপিটাল খুলেছে বেশ কিছু দিন , যদিও রোজাভা যাওয়ায় আন্তর্জাতিক কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ,কারন PYD নিষিদ্ধ নয় , কিন্তু ওনারা বই পৌঁছানোর দুটি সহজ উপায় বার করেছেন । ইস্তাম্বুল ,প্যারিস এবং নিউইয়র্ক এ বই কালেকশান সেন্টার করেছেন । আমাদের বই জোগাড় করে ওই অ্যাড্রেসে কুরিয়ার করতে হবে এই পর্যন্ত তাঁর পর রোজাভায় পৌঁছানো তাঁদের দায়িত্ব । হ্যাঁ কুরিয়ার খরচ অবশ্যই আমাদের ।

Avatar: কল্লোল

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

জ। কি মুশকিল, এই দ্যাখো। আরে না না। আড্ডা হবে সবাইকে নিয়ে। নাঃ। নিজের কাছেও ম্যানেজেবল হচ্ছে না - এই অজুহাত।
খুবই লজ্জিত। জ অবশ্যই আসবেন, ও অন্যদেরও আনবেন। জয়ন্তও আসবে। নিলিমেশ আপনিও আসবেন কিন্তু।

এবার বাবুটা কাটিয়ে দেওয়া যায় কি?

Avatar: aranya

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

খুবই ভাল লাগছে, এই ব্লগের সব লেখা, মন্তব্য
Avatar: জ

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

রোজাভা নিয়ে অন্যত্র ই-আলোচনায় দু-একটা লিঙ্ক পেলাম।
আগেই বলে রাখি, এগুলো তলিয়ে পড়িনি এখনো, কিন্তু দুটো কারণে পোস্ট করছি এখানে। প্রথমত, এই লিঙ্কগুলো হারিয়ে যাবে পরে। দ্বিতীয়ত, এখানে লিঙ্কগুলোর কথা নিয়ে যদি কেউ আলোচনা করেন তবেই বহু কিছুর পরিপ্রেক্ষিত আমি বুঝতে পারব, যেটা আমা সীমাবদ্ধ জ্ঞানের কারণে এখন বুঝতে পারছি না।
http://www.troploin.fr/node/83
এটা একটা বড় লেখা।

https://libcom.org/forums/middle-east/rojava-economy-class-structure-1
7102014

এটার মূল প্রশ্নগুলো পড়েছি, কিন্তু তারপর উত্তর-প্রত্যুত্তর পড়তে গিয়ে একটু গভীর জলে তলিয়েছি, থই পাচ্ছি না।

https://peaceinkurdistancampaign.files.wordpress.com/2011/11/rojava-in
fo-may-2014.pdf

এটা বিশাল লেখা, ১৮ পাতা হলেও এত ঠাসবুনোট যে পড়তে পারিনি, তবু পোস্ট করলাম, মাপ করবেন। মনে হল বোধহয় কাজের কথা আছে।
দেখুন প্লীজ।
@কল্লোলদা, পড়ার সময় পাবেন নাকি? পড়লে, দুচারটে কথা বলবেন। খুব বেশি 'এই ফাইনাল কথা' টাইপের কথা হতে হবে তার কোনো মানে নেই। গুরু-তে এইরকম কথার ঝাঁজে অনেক সময় মুখ ঢাকতে হয়েছে বলে বললাম।
@দেবব্রত, আপনি তো অতি অবশ্যই বলবেন।
Avatar: debabrata

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

জ দেখুন দিন দশেক আগেও রোজাভা নিয়ে আমরা প্রায় কিছুই জানতাম না অথচ কত লেখা ইনটারনেট এ আপনি যে লিঙ্ক দিয়েছেন তার মধ্যে কেএন কে -পিকেকের সংগথন যারা তুরস্কে ডেমক্রাটিক কনফেডারেলিস্ম এর তত্ব হাতে কলমে ২০০৫ সাল থেকে প্রয়গ করছে -এই ডকুমেণ্ট টা রোজাভার সিস্তেম বুঝতে হেল্পফুল । লিবকম এর এই পোস্ট টা একটূ বায়াসড ্যদিও লিবকম অনেক পসিটিভ পোস্ট আগে পোস্ট করেছে আর অন্যটি -বায়াসড । লেফট রোজাভা নিয়ে নিস্তবধ আমি আগেই লিখেছি আর অ্যানারকিস্ট রা ৮০% সমরথক।জাস্ট এক মাস আগে হাম্বুরগে তিন দিন ধরে এক কনফেরান্স হয়েছে ভিডিও লিঙ্ক এসেছে -পেপার গুলো বেরোলে আমি লিঙ্ক দেব ফারদার আলোচনার জন্য।
Avatar: জ

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

@দেবব্রত, আপনি লিখেছেন, "যে লিঙ্ক দিয়েছেন তার মধ্যে কেএন কে -পিকেকের সংগথন যারা তুরস্কে ডেমক্রাটিক কনফেডারেলিস্ম এর তত্ব হাতে কলমে ২০০৫ সাল থেকে প্রয়গ করছে -এই ডকুমেণ্ট টা রোজাভার সিস্তেম বুঝতে হেল্পফুল"।
মনে হয় আপনি পিডিএফ-টার কথা বলছেন। ওটা নিয়ে একটু আলোচনা, এখানে বা পরের লেখায়, থাকলে ভাল হয়, কেননা ওটা খুব ঠাসবুনোটের লেখা, ওখানকার খানিক ইতিহাস ভূগোল অর্থনীতি জানা না থাকলে বুঝতে ভুল হতে পারে বলে আমার মনে হয়েছে।
Avatar: 0

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

International Day for the Elimination of Violence Against Women Stop the IS-AKP genocide and feminicide in Kurdistan

"On November 25, 2015, the International Day for the Elimination of Violence Against Women, the Women’s Commission of the Kurdistan National Congress calls on the international community— particularly the United Nations, the European Union, and the National Governments—to stop the IS genocide and feminicide in Kurdistan..."

"...In 2002 the Justice and Development Party (AKP) came to power in Turkey, and ever since then, under Turkish president Recep Tayyip Erdoğan, policies aiming at the subjugation of women have become far more systematic..."

"...The AKP uses sexist discourses to reinforce male dominant society, to naturalize and perpetuate it, by institutionalizing the concepts of 'morals, honor, and tradition.' Its mentality regards women not as individuals but as identical to the institution of 'family' and promulgates the idea that 'woman’s place is her home.'..."

"...The advance of Kurdish women has become a nightmare for the Turkish state and the AKP, which now uses feminicide to resist social change. It has placed new pressures on women active in fighting for women’s rights in Kurdistan. It has intensified the oppression of Kurdish women through the judiciary and arrested many women, even violating their rights in prisons..."

more: http://www.kongrakurdistan.net/en/international-day-for-the-eliminatio
n-of-violence-against-women-stop-the-is-akp-genocide-and-feminicide-in
-kurdistan/

Avatar: Utsav's post

Re: রোজাভা বিপ্লব আপনাকে স্বাগত জানায়

সিরিয়া রাষ্ট্রে অবস্থিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে টার্কির সেনাবাহিনীর আক্রমণ শুরু।

আপাতত যেসব অঞ্চল টার্কি দখল করেছে সেখানে কুর্দিস্তান মিলিশিয়া আর এসডিএফ দ্বারা পরিচালিত কয়েদখানা থেকে আইসিস জঙ্গিদের মুক্ত করা হচ্ছে, তারা আবার সেসব অঞ্চলে ক্ষমতা কায়েম করছে। এখানে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরী যে এই আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াইতে আম্রুদেশের বাহিনী এসডিএফের পাশাপাশি লড়েছিলো। আপাতত ট্রাম্প তাদের পুল ব্যাক করিয়েছে। ;)

এর সাথেই, ফিউচার সিরিয়া পার্টির জেনারেলে সেক্রেটারিকে রাস্তায় গাড়ি থেকে নামিয়ে ধর্ষণ করে পাথর মেরে হত্যা করেছে টার্কির সেনা আর আইসিস বাহিনী। এখানেও মনে করিয়ে দেওয়া জরুরী, টার্কি হচ্ছে NATO ally. ;)

নিচে ঘটনাটির ট্যুইটের লিংক দিলাম। ভিডিও আছে, সেন্সিটিভ লোকজন নিজেদের রিস্কে খুলে দেখবেন।

https://twitter.com/kurdistannews24/status/1183464685200216065?s=19

আর এই নিউজ চ্যানেলের ট্যুইটার হ্যান্ডেল ফলো করলে ঘন্টায় ঘন্টায় আপডেট পাবেন।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 37 -- 56


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন