শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

শিবাংশু

"শুধু উদ্দীপনায় কোনো কাজই হয়না ; আগুন জ্বালাইতে হইবে, সঙ্গে সঙ্গে হাঁড়িও চড়াইতে হইবে। ..... আমরা অনেক সময় কল্পনা দ্বারাই খুব বেশি পরিমাণে চালিত হই, দেশের কাজ করিতে হইলে মনে ভাবি যেন ধুমধামের সহিত মস্ত একটা অট্টালিকা গড়িতে হইবে, একটা চূড়া প্রস্তুত করিতে হইবে, যেন কোনো-একটা সমারোহব্যাপার--আমাদের চেষ্টা এইভাবে একটা সুবৃহৎ কল্পনায় পর্যবসিত হইয়া যায়।"

১৯০৪ সালে ৩১শে জুলাই কার্জন রঙ্গমঞ্চে রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয়বার তাঁর 'স্বদেশী সমাজ' প্রবন্ধের পরিবর্ধিত পাঠটি শুনিয়েছিলেন সমবেত বৃহৎ সংখ্যক শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে। এই প্রবন্ধটি সেকালে মানুষের জায়মান স্বাদেশিক বোধের প্রতি একটা আহ্বান হিসেবে ধরা যেতে পারে। আমাদের ভবিষ্যত স্বাধীনতা যুদ্ধের রূপরেখা কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে রবিচিন্তনের একটি জরুরি দলিল এই প্রবন্ধটি। তৎকালীন জনমানসে এই রচনাটির বক্তব্যের প্রতি প্রবল প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গিয়েছিলো। পক্ষে ও বিপক্ষে। উপরের উদ্ধৃতিটি লিখিত প্রবন্ধপাঠের পর কবির পুনশ্চ মৌখিক ভাষণ হিসেবে নথিবদ্ধ রয়েছে। ঠিক এই সময়টিতেই তিনি লেখাটির সূত্রে দেশের নানা প্রধান মানুষের সঙ্গে ভাববিনিময়ও করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন ভগিনী নিবেদিতা। অসুস্থ শরীরে কবি তাঁর বোসপাড়ার বাড়িতে যান ৩০শে জুলাই। নিবেদিতার মতামত কবির কাছে জরুরি ছিলো। নিবেদিতা কী বলেছিলেন জানা যায়না। তবে কিছুটা হয়তো অনুমান করা যেতে পারে এই প্রবন্ধটি উদ্দেশ্য করে কৃষ্ণকুমার মিত্র, সরলা ঘোষাল, পৃথ্বীশচন্দ্র রায়, যতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, বলাইচাঁদ গোস্বামী প্রমুখ রাজনীতিক ও হিন্দু পুনর্জাগরণবাদী বিশিষ্ট মানুষদের প্রবল নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকে এটা স্পষ্ট যে নিবেদিতা'র প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ছিলোনা। এক্ষেত্রে সরাসরি না হোক, কিন্তু অন্যত্র নানাভাবে তিনি 'উদ্দীপনা'র সপক্ষে এবং ইতিহাস সচেতন 'যুক্তি'র বিপক্ষে রাজনৈতিক সওয়াল করে গেছেন। নিবেদিতা'র নির্দেশ গ্রহণ করি বা না করি, এটা সিদ্ধ যে তিনি ছিলেন 'উদ্দীপনা'র মূর্ত প্রতীক।
--------------------------------------------------------
প্লুটার্ক থেকে স্ট্রাভো, ট্যাসিটাস থেকে পসাইডেনিয়াস, সবাই সাক্ষ্য দিয়েছেন কেল্টিক নারীদের সাহস ও বীর্যবত্তার ইতিহাসকে। পসাইডেনিয়াস তা নিয়ে বিশ্লেষণও করেছিলেন, "anthropological comments on the Celts had common themes, primarily primitivism, extreme ferocity, cruel sacrificial practices, and the strength and courage of their women." খ্রিস্টিয় প্রাক মধ্যযুগেও কেল্টিক মহিলারা প্রয়োজন বুঝলে স্বামীকে পরিত্যাগ করতে পিছ পা হতেন না। য়ুরোপের অন্যত্র এ পর্যায়ের নারী স্বাধিকারের কোনও উদাহরণ পাওয়া যায়না। কেল্টিক সমুদায় চতুর্থ শতকে নানাদিকে ছড়িয়ে পড়লেও আয়ারল্যান্ডই ছিলো কেল্টিক জাতির প্রধান যাপনকেন্দ্র। পরবর্তীকালে স্কটল্যান্ড পৃথক হয়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে কেল্টিকরা মানসিকভাবে জর্মনিক বা নর্ম্যানদের অধীনতা কখনও স্বীকার করেনি। মার্গারেট নোবল ছিলেন কেল্টিকভূমির স্কট-আইরিশ ঐতিহ্যের সন্তান। হয়তো সাধারণীকরণ বিপজ্জনক হবে, কিন্তু জাতি হিসেবে কেল্টিকরা জর্মনিকদের থেকে অনেক বেশি আবেগতাড়িত, মিস্টিক ও অকাল্ট প্রবণতায় বিশ্বাসী এবং তাদের স্বাধীনচিত্ততার পরিভাষা জর্মনিক উপজাতি, অর্থাৎ অ্যাংলোস্যাক্সন বা টিউটনিকদের যুক্তিবাদী পরম্পরা থেকে আলাদা। মার্গারেট নিজের জাতিগত এই সব বৈশিষ্ট্যকে জাগ্রত রেখে ভারতবর্ষে এসেছিলেন। এক খ্রিস্টিয় পুরোহিতের কন্যা, মাত্র দশ বছর বয়সে পিতৃহারা হয়ে মাতামহ হ্যামিলটন সাহেবের ছত্রছায়ায় বড়ো হয়ে উঠেছিলেন। হ্যামিলটন ছিলেন একজন প্রথম সারির আইরিশ স্বাধীনতাযুদ্ধের সৈনিক। খ্রিস্টধর্মীয় আত্মত্যাগের আদর্শ এবং স্বাধীন আইরিশ জন্মভূমির স্বীকৃতির উদ্দেশ্যে নিরন্তর সংগ্রাম, এই দুই প্রেক্ষাপট ঘিরে ছিলো মার্গারেটের বেড়ে ওঠার পৃথিবীকে। নবীনবয়সে আরো একটি শোকাবহ ঘটনা, বাগদত্ত দয়িত পুরুষটি'র আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে কাতর করেছিলো। ১৮৯৫ সালের হেমন্তকালে বন্ধু ইজাবেল মার্গেসনের লন্ডনের বৈঠকখানায় মার্গারেট যখন প্রথম নবীন ভারতীয় সন্ন্যাসিটির সাক্ষাৎলাভ করেন তখন তাঁর বয়স আঠাশ বছর। মনোভূমি অপেক্ষা করছিলো কর্ষিত প্রস্তুতি নিয়ে, শুধু বীজ বপনই বাকি ছিলো তখন। ১৯০৪ সালে এক বন্ধুকে লিখছেন, " Suppose he had not come to London that time! Life would have been like a headless dream, for I always knew that I was waiting for something. I always said that a call would come. And it did. But if I had known more of life, I doubt whether, when the time came, I should certainly have recognised it." ১৮৯৫তে প্রথম সাক্ষাৎ, ১৮৯৮তে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে ভারত আগমন এবং ১৯০২ সালের ৪ঠা জুলাই স্বামীজীর জ্বলন্ত চিতার থেকে উড়ে আসা একটুকরো গেরুয়া কাপড়ের সম্পদ আঁচলে বেঁধে আবার ১৬ নম্বর বোসপাড়া লেনে ফিরে আসা। নিজস্ব রাজার থেকে বয়সে মাত্র সাড়ে চার বছরের কনিষ্ঠ স্বঘোষিত 'মানসকন্যা'র স্বল্পদীর্ঘ আয়ুর যাত্রাপথ তার পর একটি ভিন্নমুখী দিক খুঁজে নিয়েছিলো।
---------------------------------------
এখান থেকেই শুরু এই বইটির চর্চা অভিমুখ। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত ভগিনী নিবেদিতার জীবন ও কীর্তি নিয়ে একটি বিশদ, তথ্যবহুল ও বিশ্লেষণী দলিল রচনা করেছেন দু'খন্ডে। শীর্ষক ' জ্বলিছে ধ্রুবতারা'। প্রথম খন্ডে ধরা আছে স্বামীজীর জীবন অবসান পর্যন্ত নিবেদিতার জীবনচর্যা। যদিও প্রথম খন্ডটি আমার পড়া হয়নি এখনও, তবু বিষয় গাম্ভীর্যে দ্বিতীয় খন্ডটি যে সময়কাল'কে ধরে আছে তার ব্যপ্তি আমার বিচারে অধিক। কারণ এই খন্ডটিতে সেই নিবেদিতা'কে নিয়ে চর্চা করা হয়েছে, যিনি রাজার বিপুল, বিকীর্ণ ছায়া অঞ্চলের সুরক্ষা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। যাবতীয় শক্তি ও সীমাবদ্ধতাসহ তিনি কিন্তু একজন একাকী পথযাত্রী। প্রথম অধ্যায়টিতেই বিশদ আলোচনা রয়েছে কেন স্বামীজীর জীবনাবসানের অব্যবহিত পরেই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের গুরুভাইরা নিবেদিতা'কে সেই সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিযুক্ত করলেন। রন্তিদেব নানা তথ্য দিয়ে, বহুভাবে বিশ্লেষণ করে সপ্রমাণ করেছেন ব্রিটিশরাজসরকারের বিরাগভাজন না হতে চাওয়াই মূল কারণ। যদিও ব্যক্তিস্তরে রামকৃষ্ণ মঠ ও সন্ন্যাসিদের সঙ্গে নিবেদিতার সম্পর্ক কোনও ভাবেই হ্রাস পায়নি। আমরা জানি এটিই মঠের ঘোষিত অবস্থান এবং আপত্তি করার মতো কোনও আপাত কারণ আমরা পাইনা। যেহেতু নিবেদিতা নিজে এ ব্যাপারে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য কখনও করেননি, তাই ভিন্নমত হবার অবকাশ অল্প। এ বিষয়ে যদি আমরা একটু পিছিয়ে যাই, তবে হয়তো আরো কিছু ভাবা যেতে পারে। সারাপৃথিবীতে রামকৃষ্ণ ভাবধারার কেন্দ্রীয় পুরুষ ছিলেন বিবেকানন্দ। সারা বিশ্ব বিবেকানন্দের চোখ দিয়েই রামকৃষ্ণ'কে দেখেছে। বিবেকানন্দ যতোটা রামকৃষ্ণের সৃষ্টি, বাস্তবিক বিচারে 'রামকৃষ্ণ' কিন্তু আরো বেশি বিবেকানন্দের সৃষ্টি। অন্তত আমাদের মতো ঐশী আনুকূল্যহীন ইতর মানুষেরা সে রকমই ভেবে থাকে। তাই বিবেকানন্দসহিত আর বিবেকানন্দরহিত মঠের মধ্যে মেরুপ্রমাণ ফারাক হয়ে যায়। ব্যাপারটা তো শুরু হয়েছে সেই বরানগর বাগানবাড়ি থেকেই। শ্রীরামকৃষ্ণের দেহাবসানের পর তাঁর শিষ্যরা যে সন্ন্যাস আত্তীকরণ করেছিলেন তা কিন্তু প্রথাগত সনাতনধর্মীয় সন্ন্যাস গ্রহণের থেকে একেবারে আলাদা। রামকৃষ্ণ ছিলেন একজন গৃহী তন্ত্রসাধক পুরোহিত। কিন্তু চিন্তার বিস্তারে একজন দার্শনিক। প্রচলিত সব প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মবিশ্বাসের শিকড় চিনতে তিনি প্রথাগতভাবে সেই সব ধর্মে দীক্ষা নিয়ে তাদের লোকাচার ও অধ্যাত্ম, সব অঙ্গই নিজে অভ্যাস করে পরীক্ষা করে দেখেছেন। সেখান থেকেই উঠে এসেছিলো, সম্ভবত পৃথিবীর সংক্ষিপ্ততম অধ্যাত্মিক সিদ্ধান্ত, " যত মত, তত পথ।" কিন্তু তাঁর যাবতীয় অধ্যাত্ম সিদ্ধি সত্ত্বেও দিনের শেষে নিজে কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সন্ন্যাসী ছিলেন না। তাই তাঁর শিষ্যরা টেকনিক্যালি গুরু বদল না করে 'সন্ন্যাসী' হতে পারবেন না। ভারতের প্রতিষ্ঠিত ধর্মসংস্থাদের বিধান সে রকমই। শুধু যে গাঙ্গেয় উপত্যকার প্রধান সনাতন ধর্মগুরু গোষ্ঠীরাই নয়, এমন কি শহর কলকাতার ব্রাহ্মণ্যবাদী কুলীন ব্যক্তিরা, যেমন গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, নরেন্দ্রনাথ ও তাঁর গুরু ভ্রাতাদের 'সন্ন্যাসী' বলে মানতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু পার্থক্যটি গড়ে দিয়েছিলেন নরেন্দ্র। যে মেধা, সমর্পণ, প্রস্তুতি নিয়ে তিনি নিজেদের পথ কেটে এগিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের সমালোচকেরা তার সঙ্গে তাল রাখতে পারেনি। আধুনিক ভারতীয় সনাতন ধর্মবোধ ও তার আচার সংহিতা মানে স্বামী বিবেকানন্দের বোধিজাত ও প্রযুক্ত নীতিমালা। প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বামীজী প্রণীত সনাতনধর্মে সামাজিক সেবাকেন্দ্রিক এ জাতীয় দলবদ্ধ অধ্যাত্ম আয়োজনও এর আগে আমরা দেখিনি। সদ্ধর্মে তার প্রচলন প্রথম করেছিলেন তথাগত বুদ্ধ এবং তাঁর হাত ধরে খ্রিস্টিয় সন্ন্যাসিরা। খ্রিস্টিয় সন্ন্যাসিদের আনুকূল্যে এই ধারণাটির সফল প্রয়োগ স্বামীজীকে প্রেরিত করেছিলো সনাতন ধর্মের ক্ষেত্রেও মিশনারি তত্ত্বটিকে রূপায়িত করতে। রামকৃষ্ণ মিশন তারই মূর্ত রূপ। তা ছাড়া ভক্তিবাদী রামকৃষ্ণ দর্শন'কে নিজের প্রয়োজন মতো বৈদান্তিক ছাঁচে ঢেলে স্বামীজী সনাতনধর্মের 'আধুনিক' রূপটিকে প্রয়োগকৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। উল্লেখ্য এই কাজে তিনি ব্রাহ্মদের যোগদান প্রত্যাশা করতেন। সেই জন্য তিনি নিবেদিতা'কে নির্দেশ দেন, "Make inroads into the Brahmos." স্ট্র্যাটেজি হিসেবে আচার্য জগদীশচন্দ্রসহ বহু প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলা হতো। নানা কারণেই বিবেকানন্দ একজন ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তাঁর গুরুভ্রাতারা তা ছিলেন না। স্বামীজীর জীবৎকালে তাঁর নিষেধসত্ত্বেও নিবেদিতা নিয়মিত বিভিন্ন রাজবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তা নিয়ে কেউ সরব হতে সাহস করেননি। নিবেদিতাও নিছক কোনও 'গুরুভগ্নী' ছিলেননা। তিনি ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা, অনুপ্রেরিত, উদ্দীপিত য়ুরোপীয় নারী, যাঁর নিবেদনের অধিকারী শুধু একজন রাজা, যিনি তাঁকে বুঝতে পারেন। কোনও 'মঠে'র প্রথাগত সন্ন্যাসীরা তাঁর উদ্দিষ্ট আশ্রয় ন'ন। দু'টি কারন স্বামীজীর প্রয়াণের মাত্র পক্ষকালের মধ্যে নিবেদিতাকে মঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তার মধ্যে একটি, নিবেদিতার 'রাজনৈতিক কার্যকলাপ' হয়তো প্রধান ছিলো, কিন্তু সঙ্ঘে নারী'র যোগদানের বিরুদ্ধে সনাতনী বিধিনিষেধও নীরবে তাদের ভূমিকা পালন করে গেছে। একটা প্রশ্ন কিন্তু অনুসন্ধিৎসুদের মনে রয়েই যায়। যদি স্বামীজীর অকালমৃত্যু না হতো, তবে ইতিহাস কি অন্যদিকে বাঁক নিতে দ্বিধা করতো ?
স্বামী বিবেকানন্দ কোনও ফোঁটাকাটা ধর্মগুরু ছিলেন না। বরং বলা ভালো তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরু'র এক চিন্তা নায়ক। আরেকটু বিশদে বলা যায় তিনি চিন্তাপরতা থেকে ক্রিয়াপরতার পক্ষেই আজীবন সওয়াল করে এসেছেন। তাঁর গুরু তাঁকে দেখতে চেয়েছিলেন একটা বটবৃক্ষের মতো, যে বহু মানুষকে ছায়া আর শান্তির শুশ্রূষা এনে দেবে। গুহায়িত তপস্যার পুণ্যে শাস্ত্র ও ঐশীদর্শন চর্চা নরেন্দ্রর জন্য তখনই গুরুর বারণ হয়ে গিয়েছিলো। স্বামীজী মূলত ছিলেন এক সংগঠক এবং তার সঙ্গে এক পরিব্রাজক প্রচারক। এই সমস্ত ভূমিকাগুলি পালনের ক্ষেত্রে তাঁর কার্যকারিতা ছিলো পর্বতপ্রমাণ। একটি বিদেশী শক্তির কাছে পদানত দেশের সন্তান হিসেবে তাঁর প্রাথমিকতা ছিলো ভারতসভ্যতার সারসত্ত্বাকে পশ্চিমি দেশের ভোগবাদী সংস্কৃতির পটভূমিকায় পেশ করা ও তুলনাত্মক বিচারে তার উৎকর্ষকে প্রতিষ্ঠা করে যাওয়া। আধুনিককালে তাঁর প্রচেষ্টাটির রণকৌশল স্থির হয়েছিলো য়ুরোপীয় খ্রিস্টিয় যাজকদলের এসিয়া ও আফ্রিকায় খ্রিস্টিয় ধ্যানধারণা প্রচারের মডেলে। তাই তাঁর প্রচারের শৈলিটি ছিলো সতত তুলনামূলক। সনাতন ধর্ম বনাম খ্রিস্টধর্ম, সনাতন ধর্ম বনাম ইসলাম বা নব্য বৌদ্ধ ধর্ম। অবশ্য এই রণকৌশলটির আদি উদ্গাতা ছিলেন বেদান্তধর্মের মুখ্য পুরুষ কালাদি'র শংকরাচার্য। স্বামীজীও সজ্ঞানে তাঁর উপযুক্ত উত্তরসূরি হয়ে উঠেছিলেন। উপলব্ধির মানসলোক ও তার্কিকসত্ত্বার মধ্যে টানাপড়েন, তাঁর রচনাসমূহের মধ্যে প্রায়ই চোখে পড়ে। বিভিন্ন অবস্থানের মধ্যে স্ববিরোধের সংকটে তিনি প্রায় আজীবন দোলাচলিত থেকেছেন। খ্রিস্টিয় যাজক বা বিদেশি ধর্মপ্রচারকদের কথা ছেড়েই দিলাম। তাঁদের প্রতি স্বামীজীর মূল্যায়ন সর্বদাই রীতিমতো আক্রমণাত্মক। তিনি নিবেদিতা'কে নিয়ে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে ভাববিনিময় করতে যা'ন, আবার রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার মতামতও জানিয়ে যান। ব্যক্তিগতভাবে অনাগরিক ধর্মপাল সম্বন্ধে তাঁর আনুকূল্য ম্লান হয়ে যায় নব্য বৌদ্ধদের প্রতি ঘোষণা করা তাঁর জেহাদি মনোভাবে। ব্রাহ্মসমাজ ও থিওসফিস্টদের প্রতি তাঁর জঙ্গি মনোভাব ইত্যাদি থেকে এটা স্পষ্ট যে তাঁর প্রচারকসত্ত্বার আবেষ্টন থেকে তিনি বিশেষ মুক্ত হতে চাননি। হয়তো ভেবেছিলেন এই অবস্থানটিই যুগের দাবি। মানসিকতার দিক দিয়ে নিবেদিতা ছিলেন তাঁর রাজার অবিকল অনুসারী। স্বামীজীর মৃত্যুর পরে দানা বেঁধে ওঠা বোধগয়া'র পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কে নিবেদিতার ভূমিকা ছিলো পূর্ণতঃ তাঁর গুরুর চিন্তাধারার প্রতিফলন। এই প্রসঙ্গটি নিয়ে রন্তিদেব বিশদ আলোচনা করেছেন। হিন্দু মোহান্তের সমর্থনে নিবেদিতার অবস্থান সায় পায়নি তাঁর অতি ঘনিষ্ট জগদীশচন্দ্র, একদা ঘনিষ্ট কাকুজো ওকাকুরা বা অঘনিষ্ট রবীন্দ্রনাথের বিচারে।
---------------------------------------------
নিবেদিতা রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ 'দ্য ওয়েব অফ ইন্ডিয়ান লাইফ' নিয়ে যাজকবৃন্দসহ তাঁর স্বদেশবাসী সম্প্রদায় রীতিমতো নিন্দামুখর হয়ে উঠেছিলো। বস্তুত এই রচনাটিতে নিবেদিতা য়ুরোপীয়দের ভারতমূল্যায়ণের মৌলিক মানদন্ডটিকেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। যে সরলরৈখিক যুক্তিসমূহ দিয়ে ভারতবর্ষের আবহমান জীবনযাত্রাকে য়ুরোপীয় বিচারে ব্যাখ্যা করা হতো তার সারবত্তা নিয়ে জোরালো ভিন্নমত প্রকাশ নিবেদিতাকে তাঁর স্বদেশবাসীর কাছে অপ্রিয় করে তুলেছিলো। এই গ্রন্থটির মুখবন্ধ রচনা করেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। কবি'র যুক্তিসবল অবস্থান আর ভাষাব্যবহার গ্রন্থটির প্রাসঙ্গিকতাকে সমুচিত মর্যাদা এনে দেয়। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে নিবেদিতার সম্পর্কের মধ্যে সর্বদা স্বামীজীর প্রগাঢ় ছায়ার অন্ধকার ব্যপ্ত থাকতো। নথিবদ্ধ যে ইতিহাস আজ আমাদের কাছে উপলব্ধ হয়েছে, তাকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রথম সাক্ষাতের দিন থেকে কবি নিবেদিতার সঙ্গে যথাসম্ভব স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়াস করে এসেছিলেন। কিন্তু কবি'র প্রতি স্বামীজীর কিছু দৃঢ়মূল অনীহা'র ধারা নিবেদিতার মধ্যেও সম্পূর্ণ সঞ্চারিত হয়েছিলো। স্বামীজী'র প্রকল্পিত পৌরুষ বা দৃঢ়চিত্ততার যে মাপদন্ড নিবেদিতা মেনে চলতেন, তার নিরিখে কবি সম্বন্ধে অমূলক মানসিক গ্রন্থির বন্ধন থেকে তিনি কখনও মুক্ত হতে পারেননি। রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবার নিবেদিতার শিক্ষকসত্ত্বার প্রতি প্রথম থেকেই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বস্তুত কবি তাঁর এক মেয়ে'কে পড়ানোর জন্য নিবেদিতাকে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু নিবেদিতা অত্যন্ত রূঢ়ভাবে কবির মেয়ে'কে 'বিলিতি খুকি' বানাবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। নিবেদিতার বিদ্যালয়ের প্রতি ঠাকুর পরিবার ও ব্রাহ্মসমাজ যথাসম্ভব সহায়তার হাত প্রসারিত করে রাখতে চেয়েছিলেন। এমনকি কবি একসময় তাঁর জোড়াসাঁকোর বাড়িটিতে নিবেদিতাকে বিদ্যালয় করার জন্য প্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন। প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে, নির্জনে-সজনে কবি নিবেদিতার অনন্যতা, উদ্যম, মননশীলতা, ক্রিয়াপরতা নিয়ে অবিরাম প্রশংসামুখর অবস্থান নিয়েছেন। যথাসম্ভব সমর্থন, সহায়তা করারও প্রয়াস পেয়েছেন। যে সব প্রশ্নে নিবেদিতার সঙ্গে তাঁর ঐক্যমত্য হতে পারেনি, সেখানে সম্ভ্রমী নীরবতা অবলম্বন করেছেন। কিন্তু নিবেদিতার তরফে নেতিবাচক শ্লেষ ও প্রত্যাখ্যানের ধারা অব্যহত থেকেছে। আসলে এই প্রশ্নে নিবেদিতা কখনও তাঁর গুরু'র ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছা করেননি। এ বিষয়ে রন্তিদেব কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ 'গোরা'র প্রাথমিক পাঠে 'আইরিশ' গোরাকে সুচরিতা'র প্রত্যাখ্যান কাহিনীর খসড়া শুনিয়েছিলেন নিবেদিতাকে তাঁর শিলাইদহ বাস কালে। এ বিষয়টি বহুবিদিত যে 'গোরা' চরিত্রটির কল্পনা হয়তো নিবেদিতার সূত্রেই করেছিলেন কবি। একজন মূলভূত বিদেশী কীভাবে এদেশের মাটির স্তরের বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে চিহ্নিত করতে পারেন সে বিষয়ে হয়তো লেখকের সংশয় ছিলো। লেখাটির খসড়া শুনে নিবেদিতা রীতিমতো অসন্তুষ্ট হ'ন, কারণ তাঁর হয়তো মনে হয়েছিলো সুচরিতার এই প্রত্যাখ্যান আসলে ভারতবর্ষের মানুষের নিবেদিতা'কে প্রত্যাখ্যানের রূপক। যদিও তাঁর এই বিরূপতা কবি'কে প্ররোচিত করেছিলো আখ্যানের ঘটনাক্রমটিকে বদলে দিতে, কিন্তু সম্পর্কটি তিক্ত হয়ে যায়। এছাড়া আচার্য জগদীশচন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্টতার প্রশ্নে নিবেদিতার সম্ভবত কিছু তীব্র অধিকারবোধ কাজ করতো। উপরন্তু অবলা বসু বা সিস্টার ক্রিস্টিনের সঙ্গে কবির সহজ স্বচ্ছন্দ সম্পর্ক নিয়েও নিবেদিতার কিছু অস্বস্তি ছিলো। আর অতীতে স্বামীজীর নাম না নিয়ে রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে নিবেদিতার কাছে তীব্র বিরূপ মন্তব্যের জেরও নিশ্চয় একটা কারণ হয়ে থাকতে পারে। স্বামীজী কবি'কে দুর্বল চরিত্র, শৃঙ্গারমুখী রচনার জন্য অভিযুক্ত করতেন। কারণ তাঁর মতে কবির ঐ সব রচনা ( সম্ভবত, কড়ি ও কোমল) বীর্যবান, চরিত্রবান যুবসমাজ গড়ে তোলার পরিপন্থী ও সে কারণে ত্যজ্য হওয়া উচিত। ব্যক্তিগতভাবে রবীন্দ্রনাথের সূক্ষ্ম রুচিসম্মত কারুচর্চাকে স্বামীজীর নিবীর্য ও পৌরুষহীন মনে হতো। গুরু ও শিষ্যার তরফ থেকে বহুবার এ জাতীয় বিরূপতা কবির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নানাভাবে। কিন্তু শুধু একবারই এ সম্বন্ধে কবির আর্ত উক্তি চোখে পড়ে এডওয়র্ড টমসন'কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে। " I didn't like her' he said; 'She was so violent'. He added: ' She had a great hatred for me and of my work, especially here, and did all she could against me. She was so confident that I was unpatriotic and trucking to modern thought." এখানে 'hatred'শব্দটি হয়তো একটু অতিকথন বোধ হতে পারে, কিন্তু নিবেদিতার জীবনাবসানের পর কবি'র শোকজ্ঞাপী রচনাটি থেকে হয়তো উভয়ের সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। " তাঁহার প্রবল শক্তি আমি অনুভব করিয়াছিলাম কিন্তু সেই সঙ্গে ইহাও বুঝিয়াছিলাম তাঁহার পথ আমার চলিবার পথ নহে। তাঁহার সর্বতোমুখী প্রতিভা ছিল, সেই সঙ্গে তাঁহার আর-একটি জিনিস ছিল, সেটি তাঁর যোদ্ধৃত্ব। তাঁহার বল ছিল এবং সেই বল তিনি অন্যের জীবনের উপর একান্তবেগে প্রয়োগ করিতেন- মনকে পরাভূত করিয়া অধিকার করিয়া লইবার একটা বিপুল উৎসাহ তাঁহার মধ্যে কাজ করিত। যেখানে তাঁহাকে মানিয়া চলা অসম্ভব সেখানে তাঁহার সঙ্গে মিলিয়ে চলা কঠিন ছিল। আমি নিজের দিক দিয়া বলিতে পারি তাঁহার সঙ্গে আমার মিলনের নানা অবকাশ ঘটিলেও এক জায়গায় অন্তরের মধ্যে আমি গভীর বাধা অনুভব করিতাম। সে যে ঠিক মতের অনৈক্যের বাধা নহে, সে যেন একটা বলবানের আক্রমণের বাধা।" এতদ সত্ত্বেও এই কবিই নিবেদিতা'কে 'লোকমাতা' আখ্যা দিয়ে জাতির ইতিহাসে তাঁর জন্য একটি সর্বোচ্চ স্থান নির্দেশ করে দিয়েছিলেন।
---------------------------------------------
সমকালীন ইতিহাসে নিবেদিতার একাত্মতা সর্বাধিক প্রকাশ পেয়েছিলো ভারতবর্ষের স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁর স্বেচ্ছাবৃত ভূমিকার প্রেক্ষাপটে। এই বিষয়টিকে রন্তিদেব সনিষ্ঠ অনুসন্ধান ও তথ্য আহরণের মাধ্যমে গভীরতা ও ব্যপ্তির সন্ধান দিয়েছেন। বিশ শতকের প্রথম দশক থেকেই স্বাধীনতাকামী দেশবাসীর সংগ্রাম প্রচেষ্টার রূপরেখা তৈরি হতে থাকে। উচ্চবিত্ত উকিল-ব্যারিস্টারদের মৌরসিপট্টা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বা তার কিছু বিদ্রোহী সন্তানদের নিয়ে আবেদন নিবেদনের সীমাবদ্ধ স্বায়ত্বশাসনের প্রবক্তাদের কার্যকলাপই ছিলো তখন দেশীয় রাজনীতি। যার চলিত নাম ছিলো নরমপন্থা। অন্যতর পথ্টা যে কেমন হবে তা নিয়ে কংগ্রেসবিমুখ স্বাধিকার সন্ধানীরা নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। দলবদ্ধভাবে যে ক'টি সঙ্ঘের কথা জানা যায় সেগুলি বস্তুত কৃষ্ণকুমার মিত্র ও সঞ্জীবনী ঘরানার সন্তান। এঁদের আদর্শ বঙ্কিমচন্দ্রের 'আনন্দমঠ' জাতীয় ব্যক্তিগত ধর্মীয় আনুগত্যকে রাষ্ট্রীয় সংগ্রামের ইন্ধন হিসেবে ব্যবহার করা। তান্ত্রিক পদ্ধতি মতো মন্ত্রগুপ্তি, অসিপূজা, রাজনৈতিক মাতৃতান্ত্রিকতা ইত্যাদির আবেগমুখর নাট্যকথা। ইতিহাসে রাজপুতানা'র দেশীয় রাজাদের হিন্দুগরিমামুখর সংগ্রামের ঐতিহ্যটিই তাঁদের পাথেয়। বিংশ শতকের প্রথম দশকে সর্বশক্তিমান ইংরেজ রাজশক্তি'র সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামের রূপরেখাটি কী রকম হওয়া উচিত সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকলেও প্রতীকী লড়াই ও শহাদত বরণ করার জন্য উন্মুখ আদর্শবাদী প্রায়-কিশোর বা সদ্যো কিশোরদের ভরসায় গড়ে তোলা স্প্লিন্টার ইউনিটগুলি প্রস্তুত হচ্ছিলো। তাদের মধ্যে অনুশীলন সমিতি, গীতা সমিতি, ইয়ং মেনস হিন্দু ইউনিয়ন কমিটি, ডন সোসাইটি, বিবেকানন্দ সোসাইটি ইত্যাদি নামগুলো পাওয়া যায়। অরবিন্দ ঘোষ তখনো বরোদায়। অবস্থা বুঝতে দূত পাঠাচ্ছেন বাংলায়। এরকম একটা সময়ে মঞ্চে নিবেদিতার পদার্পণ। আগেই বলেছি তাঁর পালক মাতামহ ছিলেন আইরিশ স্বাধিকার যুদ্ধের একজন অগ্রণী যোদ্ধা। তিনি নিজেও বড়ো হয়েছেন সেই আবহে। রুশ বিপ্লবী ক্রপটকিনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকার হয়ে গেছে দেশে থাকতেই। ভূমিগত সশস্ত্র সংগ্রামের একটা ক্রিয়াপর মডেল সম্বন্ধে তাঁর ভালো ধারণা ছিলো। এই বিষয়টিতে তাঁর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছিলো যেকোন দেশীয় স্বাধীনতাকামীদের থেকে অনেক বেশি। তার সঙ্গে ছিলো একটা আপোসহীন জঙ্গি মানসিকতা। বাস্তব পরিস্থিতির থেকে আবেগদীপ্ত অনুপ্রেরণার প্রতি অধিক নিবেদিত। এই রাজনৈতিক মানসিকতাটি তাঁর পরবর্তী জীবনের অধ্যাত্মসন্ধানী সমর্পণ থেকে অনেক বেশি সশক্ত ছিলো। স্বামীজীর সংস্পর্শে এসে যদিও তাঁর উভয় উদ্দীপনাই উৎসাহ পেয়েছিলো, কিন্তু তাঁর এই সরাসরি রাজনৈতিক ক্রিয়াপরতা নিয়ে স্বামীজীও উদ্বিগ্ন থাকতেন। সনাতনী ধর্মীয় আবেগের ইন্ধন দিয়ে জাতীয়তার নতুন পরিভাষা সৃষ্টি করার যে প্রবণতা ক্রমশ আকার নিচ্ছিলো, নিবেদিতা ছিলেন তার অন্যতম প্রধান ভাষ্যকার।
------------------------------------
১৯০৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের একটি সিদ্ধান্ত বাংলা তথা ভারত ইতিহাসে একটা জলবিভাজক। এই বছর জুলাই মাসে বঙ্গদেশ ভঙ্গ করার প্রশাসনিক ঘোষণা করা হয় এবং অক্টোবর মাসে তা কার্যকরী করে দেওয়াও হয়। এই ঘটনাটির বহু সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যের মধ্যে একটি ছিলো এদেশের সব স্বাধীনতাকামী মানুষের বৈধ আশা ও অনুভূতিকে যথাসম্ভব উসকে দেওয়া। অনেক বেড়ার বাইরে বসে থাকা জনতাকেও একসুরে স্লোগান দিতে উদ্বুদ্ধ করে কার্জনসাহেবের এই বিপজ্জনক ফাটকাবাজিটি। ব্রিটিশসরকারের 'ভাগ করে শাসন করো' রণকৌশল অনুযায়ী ঢাকার নবাব সলিমুল্লা'কে উৎকোচ দিয়ে তৎকালীন দেশনেতাদের হিন্দু পুনরুজ্জীবনপন্থী জাতীয় পরিচয় প্রচেষ্টার বিপরীতে মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠাকে উৎসাহিত করা হয়। ইংরেজ যে সততার সঙ্গে বাংলা তথা ভারতীয়দের প্রতি সুবিচার করবে না সেই বিশ্বাসটি মানুষের মনে দৃঢ়মূল হয়ে আয়। ১৯০৬ সালে অরবিন্দ ঘোষের বাংলা প্রত্যবর্তনের পর আমাদের দেশীয় রাজনীতি তিনটি ধারায় ভাগ হয়ে যায়। একটি গোপালকৃষ্ণ গোখলে, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নরমপন্থা, একটি লাল-বাল-পালে'র চরমপন্থা এবং তৃতীয়টি অরবিন্দ-বারীন্দ্রের ভূমিগত সশস্ত্র লড়াই। এ প্রসঙ্গে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা, যদিও এই তিনপক্ষই পরস্পরের মধ্যে যুযুধান, কিন্তু নিবেদিতা ছিলেন সব পক্ষের কাছের মানুষ। তিনি নরমপন্থীদের পছন্দ করেন না। কিন্তু গোপালকৃষ্ণ গোখলে তাঁর রোগশয্যায় সারারাত জেগে থেকে সেবা করতেন। চরমপন্থীরা ছিলেন তাঁর ভাবনার কাছাকাছি। তিনজনের সঙ্গেই তাঁর জানালা সর্বদা খোলা থাকতো। আবার যে অরবিন্দ গোখলে'কে ইংরেজের চর মনে করতেন, তিনিও যাবতীয় হৃদয়ের কথা বলার আধার নিবেদিতার মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন। এই পর্যায়ের বিশ্বস্ততা আমাদের ইতিহাসে আর কেউ অর্জন করে উঠতে পারেননি। ব্যক্তি নিবেদিতার এই বহুমুখী চারিত্র্যের নানাদিক এই গ্রন্থে রন্তিদেব শ্রম ও যত্নসহকারে আলোচনা করেছেন। রাজনৈতিক অস্তি ব্যতিরেকে ভারতীয় প্রত্ন ও শিল্পকলা নিয়ে নিবেদিতার চর্চা ও বিশ্লেষণ পৃথক উল্লেখের দাবি রাখে। ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত ঘটনাবহুল জলবিভাজকপর্বে নিবেদিতার ভূমিকা চিরস্মরণ্য। মাত্র চুয়াল্লিশ বছর জীবৎকালে তিনি বর্তমান ভারতবর্ষের প্রায় প্রতিটি মুখ্য রূপকারের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগস্থাপন করতে পেরেছিলেন। এই শ্রেয় তো আর কোনও একক ব্যক্তির অর্জিত সঞ্চয়ে দেখা যায়না। ভারতের জাতীয় জাগরণ'যজ্ঞে নানাকারণে তিনি ব্যক্তিগত নিজেকে যজ্ঞকাষ্ঠ হিসেবে ব্যবহার করেননি। কিন্তু যজ্ঞের আহিতাগ্নিকে জ্বেলে রাখতে নিজেকে নিরন্তর খোলা হাওয়ার মতো বইয়ে দিয়েছেন। মরজগতের সঙ্গে সম্পর্ক চুকে যাবার পরেও এদেশের ইতিহাসে তাঁর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কোনও সংশয় উঠতে পারেনা। নানা কারণে পরস্পর ব্যক্তিগত বিরূপতা থাকা সত্ত্বেও টমসন সাহেবকে কবি বলেছিলেন "..... Well, she was simply full of love for my country and I have seen her many a time working amid the most dreadful privations, especially for a woman brought up as she was. And she was always so bright and cheerful....।"
------------------------------------
এ পর্যন্ত ভগিনী নিবেদিতা বিষয়ে বাংলায় যেসব আকরগ্রন্থ রচিত হয়েছে, খুঁজলে সেখানে চোখে পড়ে " ভক্তিতে যুক্তিতে করে ঝগড়াঝাঁটি" জাতীয় অল্পবিস্তর চোরাস্রোত। রন্তিদেব তাঁর ব্যক্তিগত ভাব-আনুগত্যের চাপটি পেরিয়ে বিশ্বস্ত মূল্যায়ণে সম্পৃক্ত থেকেছেন এবং প্রতিষ্ঠিত সংবাদ বিশ্লেষকের অভিজ্ঞতা দিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি যৌক্তিক লক্ষ্যেও পৌঁছোতে পেরেছেন। নিবেদিতাচর্চার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি আকরের মর্যাদা দাবি করে।
-------------------------------
জ্বলিছে ধ্রুবতারাঃ দ্বিতীয় খন্ডঃ রন্তিদেব সেনগুপ্ত
লুক ইস্ট প্রকাশন, কলকাতা।


(সৌজন্যেঃ শিউলিপর্বঃ শারদীয়)

286 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: শিবাংশু

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

এক রহস্যময় মেরুপ্রভার মতো আলোক বিকীরণ করে গেছেন তিনি। সীমায়িত আয়ুর অল্প কটা বছর ছিলেন এদেশে। জন্মের দেড়শো বছর পরেও তাঁর যাবতীয় সীমাবদ্ধতা, দায়বদ্ধতা, সত্যবদ্ধতা'র পরম্পরা প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। মনে পড়ে যায়।
Avatar: ranjan roy

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

লেখাটি পড়ে বইটি পড়ব বলে ঠিক করলাম।
আগে বইয়ের নাম দেখে আর একটি ভক্তি গদগদ লেখা ধরে নিয়ে এড়িয়ে গেছলাম।
Avatar: শিবাংশু

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

রঞ্জন,
বিবেকী মানুষের কাছে 'ভক্তি' শব্দটি আজকাল ট্যাবু হয়ে গেছে। অথচ আমাদের দেশে এক কালে ভক্তিমান মানুষের নৈতিকতার মান সতত প্রশ্নের ঊর্ধে থাকতো।

এই পাঠপ্রতিক্রিয়ার নামটি নিয়েছি যে গান থেকে, সেটি শুরু হয় " বাঁধন ছেঁড়ার সাধন হবে..." এমত প্রতিজ্ঞা দিয়ে। লেখার সময় হয়তো 'বাঁধন' শব্দটির পরিভাষা নিয়ে খুব একটা পাত্রাধার তৈল তর্ক হয়নি, কিন্তু এখন তা হয়। এক বাঁধন ছিঁড়ে অন্য বাঁধনে পড়া, সামাজিক মানুষের এটাই ভবিতব্য। কবি বা সন্ন্যাসী, কেউই ব্যতিক্রম ন'ন। ঊনবিংশ-বিংশ শতকে বাঙালির ইতিহাস যাঁরা লিখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রধানতম দু'জন এই আলেখ্যের নায়ক। নিবেদিতা তাঁদের দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের সাক্ষী। তাঁর বিশ্বস্ততা প্রশ্নাতীতভাবে একমুখী, কিন্তু ব্যক্তিস্তরে তাঁর বহুমুখী প্রবণতাগুলি নানারকম ভাবে অনুঘটকের কাজ করে গেছে। এই কারণেই আজকের পরিপ্রেক্ষিতেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা শুধু 'ভক্ত'বর্গ কেন, আমাদের মতো ভক্তিরহিত কীটপতঙ্গের কাছেও কিছুটা রয়ে গিয়েছে।

লিখতে শুরু করার সময় আমিও কিঞ্চিৎ অসহিষ্ণু ভাবে পীড়িত ছিলুম। কিন্তু এগিয়ে যেতে গিয়ে দেখলুম বিষয়টি আরো মনস্কতা দাবি করে। আমিও তো আরো অনেকের মতো মলাট দেখে বইয়ের মূল্যায়ণ করার দুষ্প্রবৃত্তিতে গ্রসিত থাকি। তার উপরে আর যেতে পারলুম কই? :-)
Avatar: ঋত্বিক

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

কত পড়া বাকি। পড়তে আর পারছি কই। ধন্যবাদ শিবাংশু দা।
Avatar: নির

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

ভালো লেখা । আরো অনেক কিছু পড়তে উত্সাহ দিচ্ছে; ভালো লেখা এমনই হওয়া উচিত।
Avatar: nb

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

দারুন লেখা , ভক্তির প্রতি অসহিষ্ণু ট্যাবু নয় সত্যবদ্ধতা'র পরম্পরা প্রাসঙ্গিকতার সত্যনিষ্ঠ আলোচনা ।
Avatar: kanti

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

ভাঁটা পড়া ভাবনাকে উসকে দেবার মত লেখা। ভাল লাগলো।

Avatar: dd

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

"বিবেকানন্দ যতোটা রামকৃষ্ণের সৃষ্টি, বাস্তবিক বিচারে 'রামকৃষ্ণ' কিন্তু আরো বেশি বিবেকানন্দের সৃষ্টি।" এটা খুব মনে রাখার মতন কথা।

বিবেকানন্দ এক অত্যাশ্চর্য্য মানুষ ছিলেন - আনফর্চুনেটলি ওনার উপর লেখা বইগুলি অধিকাংশই এতো ভক্তি গদগদে যে পড়তে ইচ্ছে করে না। তবে এদানী বোধয় অনেক নতুন চোখে দেখার বই আসছে। শিবাংশুর রিভিউটিও, যেমন হয়, খাসা হয়েছে।
Avatar: Motamot

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

এই বই টা Online এ পাওয়া যাবে ?
Avatar: অনিতা।

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিক আলোয় ফেরা (বিখ্যাত লেখক) উপন্যাসেও ব্যক্ত যেসব ঘটনা তা নতুনভাবে শিবাজীদার লেখায় পেলাম। উল্লেখ না করলেও পারতাম কিন্তু করলাম একই গান অনেকেই গান প্রত্যেকের স্বকীয় স্ত্য়্লে এ তা শ্রুতিমধুর হয়ে ওঠে তেমনই লেখকের বলিষ্ঠতায় একই বিষয় পাঠকের মন কাড়ে। তেমনই একজন লেখক শিবাংশু ওরফে শিবাজীদা।
Avatar: A

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

কিন্তু এই রন্তিদেব সেনগুপ্ত কে চিনলেন কেউ?
Avatar: Sarada

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

প্রথম পর্র্ব অনলাইন এ পাওয়া যায় জানি। দ্বিতীয় পর্ব এখনও হয়নি । প্রথম পর্বের লিংক দেব এখানে
Avatar: sarada

Re: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী

অনলাইন এ ই বই হিসেবে বের করেছিল ইন্ডিক পাবলিকেশন , তবে ডাউনলোড করতে গেলে মনে হয় পয়সা লাগে। https://play.google.com/store/books/details?id=VvOMBQAAQBAJ এছাড়া এমনিতে বইটা বাংলালাইভ শপিং সেকশন থেকে অর্ডার করা যেতে পারে।
দে'জ এর স্টলে পাওয়া যায় জানি।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন