Punyabrata Goon RSS feed

[email protected]
Punyabrata Goonএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...
  • ৪৬ হরিগঙ্গা বসাক রোড
    পুরোনো কথার আবাদ বড্ড জড়িয়ে রাখে। যেন রাহুর প্রেমে - অবিরাম শুধু আমি ছাড়া আর কিছু না রহিবে মনে। মনে তো কতো কিছুই আছে। সময় এবং আরো কত অনিবার্যকে কাটাতে সেইসব মনে থাকা লেখার শুরু খামখেয়ালে, তাও পাঁচ বছর হতে চললো। মাঝে ছেড়ে দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এনজিও-দের সঙ্গে

Punyabrata Goon

এনজিও-দের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা
স্বাস্থ্যের ৃত্তে পত্রিকার অক্টোবর-নভেম্বর ২০১৫ সংখ্যায় প্রকাশিত

বোধহয় ডেভিড ওয়ার্নারের Helping Health-workers Learn-এ পড়েছিলাম: ‘outside funding means outside control’। শহীদ হাসপাতাল বা মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল কোনো ফান্ডিং এজেন্সির অনুদান ছাড়াই। তা বলে কখনো কোনো ফান্ডেড এনজিও-র সঙ্গে কাজ করিনি এমনটা নয়।

কানোরিয়া সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সবর্ক্ষণের ডাক্তার হিসেবে যোগ দিলাম ১৯৯৫-এ। কানোরিয়া আন্দোলনের অন্যান্য সবর্ক্ষণের কমীর্দের সঙ্গে আমার ফারাক ছিল—অন্যদের হোলটাইমার অ্যালাউন্স যোগাত রাজনৈতিক সংগঠন, আমাকে শ্রমিক ইউনিয়ন শ্রমিকদের কাছ থেকে এ বাবদ চাঁদা তুলে। কারখানা যখন বন্ধ তখন আমার ভাতাও বন্ধ, এমনটা চলেছিল প্রায় তিন বছর, ১৯৯৮ অবধি।

আমার স্ত্রী স্কুলশিক্ষিকা, ভাতা বন্ধের সময় তাঁর আয়ে কাজ চলত। কোনো এক অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রথম এক ফান্ডেড এনজিও-এ কাজ করা মাস তিনেক। এনজিও-র প্রধান মেডিক্যাল কলেজে আমার দশ বছরের সিনিয়ার। স্বামী-স্ত্রী দু-জনেই কানোরিয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসের কারণে বহু বছরের যোগাযোগ তাঁদের সঙ্গে। তাঁদের সংস্থা কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদানে হিরোইন নেশাগ্রস্তদের নিবির্ষকরণের জন্য এক কমর্সূচি চালায় হাওড়ার কোনো এক ছো্টো শহরে। তাঁদের কমর্সূচিতে একজন পাট-র্টাইম মেডিক্যাল অফিসারের দরকার—সোম থেকে শুক্রবার বিকেলে ২ ঘণ্টা করে ডিউটি, ভাতা মাসে তিন হাজার টাকা। কাজের সময় আমার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কাজের সময়ের সঙ্গে ম্যাচ করে গেল, আর আমার যা প্রয়োজন তা এই ভাতায় মিটল।

সংস্থার প্রধান আমাকে বিশ্বাস করতেন—আমাকে সংস্থার প্রশাসনে ঢুকিয়ে নিলেন যাতে আমি তাঁর কাজের ভার কিছুটা লাঘব করতে পারি। আর সেই সুযোগে আমি প্রথম চাক্ষুষ করলাম ফান্ডেড এনজিও কীভাবে চলে।

কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান পেতে গেলে মাসে অন্তত ৩০ জন হিরোইন নেশাগ্রস্তের চিকিৎসা করতে হয়। রোগী হত মেরে-কেটে মাসে ৫-৬ জন। বাকি ২৪-২৫ কাল্পনিক নামে বেড-হেড টিকিট তৈরি হত। সরকারি দল পরিদর্শনে আসার আগে পাড়ার ছেলেদের টাকা-পয়সা দিয়ে রোগী সাজিয়ে বিছানায় শুইয়ে রাখা হত।

কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রক মাসে ছেচল্লিশ হাজারের একটু বেশি টাকা দিত কমর্সূচি চালাতে—পূর্ণ সময়ের মেডিক্যাল ডিরেক্টরের ভাতা মাসে ৪,৫০০টাকা, পাট-র্টাইম মেডিক্যাল অফিসারের ৩,০০০ টাকা, সাইকিয়াট্রিস্টের মাসে ৩,০০০ হাজার টাকা, নার্সিং কর্মীর ১,৮০০ টাকা, ওয়ার্ডবয়ের ১,২০০ টাকা। মেডিক্যাল ডিরেক্টরকে বলা হল সকালে চেম্বারে যাওয়ার পথে একবার নেশামুক্তি কেন্দ্র হয়ে যেতে, আর অন কল থাকতে—৪,৫০০ টাকার বদলে দেওয়া হত ৩,৫০০ টাকা। সাইকিয়াট্রিস্টের ৫ দিন আসার কথা, বলা হল একদিন আসুন, দেওয়া হত ১,৫০০ টাকা। ডাক্তাররা না হয় কম সময় কাজ করে কম টাকা পেলেন। কিন্তু নার্সিং কর্মী বা ওয়ার্ডবয় তো কাজ করেন সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা। ওয়ার্ডবয়কে ১২০০ টাকার ভাউচারে সই করিয়ে হাতে দেওয়া হত ৮০০টাকা আর সংস্থায় তিনি ৪০০টাকা দান করেছেন এই মর্মে একটা রসিদ।

কথা বলে সংস্থার চাল-চলন পালটানোর চেষ্টা করি। অসফল হয়ে ছেড়ে আসি একমাসের নোটিশ দিয়ে।

এরপর যে এনজিও-র সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক তা হল সিডিএমইউ—Community Development Medicinal Unit। ওষুধের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহারের পক্ষে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ’৮০-র দশকের আরম্ভে, তার সূত্রে West Bengal Voluntary Health Association-এর অঙ্গ হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়, পরে অবশ্য স্বশাসিত এক সংস্থা। ১৯৯৫-৯৬ থেকেই মৈত্রী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওষুধের যোগানের বেশির ভাগটা আসে সিডিএমইউ থেকে। ওষুধ-কোম্পানি বা সরবরাহকদের সঙ্গে দাম নিয়ে দরাদরি করে কম দামে কিনে অল্প কিছু লাভ রেখে অন্যান্য এনজিও-কে দেয় এরা। কখনো-সখনো সিডিএমইউ-র সদস্য সংগঠনের কর্মীদের ক্লাস নেওয়া ছাড়া বড়ো দু-টো কাজ করেছি এদের সঙ্গে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। প্রথমটা ভারতের বাজারে অযৌক্তিক নির্দিষ্ট মাত্রায় মিশ্রণ ওষুধের availability নিয়ে। এটা জনস্বাস্থ্য আন্দোলনের জন্য প্রয়োজনীয় একটা কাজও। দ্বিতীয়টা ঝাড়খন্ডের চার্চ-পরিচালিত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রামাণ্য চিকিৎসাবিধি (Standard Treatment Guidelines) প্রস্তুতি। পশ্চিমবঙ্গের জনস্বাস্থ্য কমর্সূচিগুলোতেও ব্যবহৃত হচ্ছে এই প্রামাণ্য চিকিৎসাবিধি, ব্যবহার করছেন গ্রামীণ চিকিৎসকরাও। সিডিএমইউ-র সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়নি এখনও।

২০০৭-এর ডিসেম্বরে আমার পুরোনো কাজের জায়গা ছত্তিশগড়ে গেছিলাম—একটা মিটিং-এ অংশগ্রহণ করতে। একটা নয় আসলে তিনটে মিটিং একই সাথে—শহীদ হাসপাতালের ২৫ বছরপূর্তি, ডা বিনায়ক সেনের গ্রেপ্তারির পরিপ্রেক্ষিতে মেডিকো ফ্রেন্ড সার্কেল-এর অর্ধবার্ষিক মিটিং আর অল ইন্ডিয়া ড্রাগ একশন নেটওয়ার্ক-এর মিটিং। মিটিং-এ আলোচ্য বিষয় ছিল—‘সংঘাতের সময় ডাক্তারদের ভূমিকা’। আমাকে বলতে বলা হয়েছিল সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পরবে পশ্চিমবঙ্গের ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীর ভূমিকা নিয়ে। সেই আলোচনার সূত্র ধরে প্রশ্ন উঠেছিল—টাটার অর্থে সমাজসেবার কাজ করা কতোটা যুক্তিযুক্ত। প্রসঙ্গত বলে রাখি মেডিকো ফ্রেন্ড সার্কেলের অনেক সদস্যই টাটার এক বা একাধিক ট্রাস্টের অর্থানুকূল্যে জনস্বাস্থ্যের কাজ করেন।

১৯৮৫-তে ভোপালের গ্যাসপীড়িতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জুনিয়ার ডাক্তার আমরা কাজ করেছিলাম ড্রাগ একশন ফোরামের ব্যানারে। স্থানীয় গণসংগঠন ছিল—জাহরিলী গ্যাস কান্ড সংঘর্ষ মোর্চা ও নাগরিক রাহত আউর পুনরবাস কমিটি। এখন স্থানীয় উল্লেখযোগ্য সংগঠন সম্ভাবনা ট্রাস্ট। সম্ভাবনা ট্রাস্টকে ঠিক ফান্ডেড এনজিও বলা যাবে না, কেন না সে ফান্ডিং এজেন্সির পয়সা নেয় না। কিন্তু সে স্বাবলম্বীও নয়, বিদেশী শুভানুধ্যায়ীদের বদান্যতায় কাজ চলে তার। একসময় সম্ভাবনা ট্রাস্টের প্রধান সংগঠক ছিলেন যুক্তিসঙ্গত চিকিৎসার পক্ষে, এখন সম্ভাবনা ট্রাস্ট আধুনিক চিকিৎসা, আয়ুরবেদ ও যোগের জগাখিচুড়ি দিয়ে গ্যাসপীড়িতদের কষ্ট লাঘব করে। আসলে আয়ুরবেদে বহু শতাব্দী ধরে কোনো গবেষণা বা উন্নয়ন নেই, কিন্তু আয়ুরবেদ নাকি জড়িয়ে আছে প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে তাই আয়ুরবেদ নিয়ে কিছু কাজ হলে বোধহয় বিদেশী অনুদান পাওয়ার সুবিধা।

গত ডিসেম্বরে গ্যাসকান্ডের তিরিশ বছর হল, তার আগের দুবছর গ্যাসপীড়িতদের পরবর্তী প্রজন্মে জন্মগত বিকৃতি নিয়ে সমীক্ষা চলেছিল। সমীক্ষার পয়সা জোগাড় করেছিলেন কানাডাপ্রবাসী এক ভারতীয় চিকিৎসক। ১৯৮৫-তে আমরা ভোপাল যেতাম বম্বে মেলের আনরিজার্ভড কম্পার্টমেন্টে, এবার যাতায়াতের প্লেনের টিকিট আগে থেকে পাঠিয়ে দেওয়া ছিল। ৩-৪ দিন করে ঘুরে এলেন এক একটা সমীক্ষক দল। সমীক্ষক দলে গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের বদলে যুক্ত করা হল বড়োবড়ো ডিগ্রিধারী ডাক্তারদের। তাঁদের দিয়ে যে কাজ করানো হল তা কিন্তু যে কোনো জেনেরাল ফিজিশিয়ানও করতে পারতেন, যেসব বিষয়ের তাঁরা বিশেষজ্ঞ সেগুলোর সঙ্গে জন্মগত বিকৃতি চেনার কোনো সম্পর্কই নেই। সমীক্ষকদের রাখা হল আরামদায়ক গেস্টহাউসে। ৩-৪ দিনের জন্য তাঁরা সমাজসেবা করে এলেন।

২০১৫-এর ফেব্রুয়ারিতে দু-টো অভিজ্ঞতা হল। পিপলস এডুকেশন কাউন্সিল-এর উদ্যোগে ম্যাঙ্গালোরে প্রথম সবর্ভারতীয় মেডিক্যাল ও হেলথ সায়েন্স এডুকেশন কনফারেন্স ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। আর তৃতীয় সপ্তাহে নয়া দিল্লিতে চিকিৎসার পণ্যায়নের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের কন্ঠস্বর।
পিপলস এডুকেশন কাউন্সিল-এর ঘোষিত লক্ষ্য—গণতান্ত্রিক ভারতের জন্য গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এখনও অবধি তিনটে পিপলস এডুকেশন কংগ্রেস হয়েছে, প্রতিটাতে মেডিক্যাল ও হেলথ সায়েন্স শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আরও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করার জন্য আলাদা করে কনফারেন্স।

কনফারেন্স হোস্ট করল ম্যাঙ্গালোরের নিটে (Nitte) বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশাল তাদের শিক্ষাব্যবসা। মোট ১৮টা কলেজের মধ্যে মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, স্কুল অফ নার্সিং, ফিজিওথেরাপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফামের্সি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—এই ৫টার সম্পর্ক রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে। প্লেনে ম্যাঙ্গালোর যাওয়ার খরচ জোগালো নিটে বিশ্ববিদ্যালয়, মালিকেরই হোটেল ব্যবসা—স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়া। বাইরে থেকে আসা জনাকুড়ি ডেলিগেটের মধ্যে জনাদশেক চিকিৎসক, তাঁদের অর্ধেক আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের। বাকীরা অপ্রমাণিত নানান ভেষজ নিয়ে চিকিৎসার কথা বললেন, ক্লিনিকাল ট্রায়ালের নিয়ম-কানুন লঘু করার দাবি তুললেন। গণতান্ত্রিক মেডিক্যাল শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হল কমই। যুক্তি আর কু-যুক্তির লড়াইয়ে কেটে গেল অনেকটা সময়। শিক্ষাব্যবসায়ীর অ্থার্নুকুল্যে গণতান্ত্রিক মেডিক্যাল শিক্ষার কাজ কতটা এগোল বোঝা গেল না।

চিকিৎসাব্যবস্থার পণ্যায়ণ নিয়ে রোগীরা বারবার বলেন, কিন্তু ডাক্তারদের সংঘবদ্ধভাবে বলতে শোনা যায় না সাধারণত। গত বছর উদ্যোগ নিয়েছিল পুনের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাদের একজন চিকিৎসক কর্মী ভারতের বিভিন্ন মহানগর-শহর-মফস্বল ঘুরে ঘুরে ৭৮জন ডাক্তারের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন যাঁরা চিকিৎসাব্যবস্থার পণ্যায়ণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান। এই সাক্ষাৎকারগুলো প্রথমে সংকলিত হয় ‘কৈফিয়ৎ’নামে এক মারাঠী বইয়ে। সম্প্রতি ইংরেজি সংস্করণ বেরোলো ‘ভয়েসেস অফ দ্য কনসেন্স ফ্রম দ্য মেডিক্যাল প্রফেশন’ নামে। ইংরেজি বইটার ঈষৎ পরিবর্ধিত রূপ পেঙ্গুইন-এর র‍্যানডম হাউস প্রকাশন থেকে বেরোনোর কথা।

যে ৭৮জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় তাঁদের ‘র‍্যাশানাল’ বা যুক্তিসঙ্গত চিকিৎসক বলা যায়। এঁদের মধ্যে ৬৬ জন প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার, মেডিক্যাল কলেজ বা সরকারি হাসপাতালে যুক্ত ৭জন, বাকি ৫জন অলাভজনক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। এঁদের মধ্যে ৩৭জন নিজের নামেই বইটাতে আছেন, বাকি ৪১ জন নানান চাপের কারণে নিজের নামে সাক্ষাৎকার দিতে পারেননি। তাঁরা কে কী বলেছেন তা এই প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় নয়।

ইংরেজি বইটার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল নয়া দিল্লির এইমস-এ ২০১৫-র ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। কলকাতা থেকে ৭জন সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৩জন নিমন্ত্রিত ছিলেন বইপ্রকাশের অনুষ্ঠানে। কেবল নিমন্ত্রিত বললে ভুল হবে, তাঁদের যাতায়াতের প্লেন-টিকিট কেটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, থাকার ব্যবস্থা ছিল এক ‘স্টার’ হোটেলে। বিকেলে বিশাল বাতানুকূল প্রেক্ষাগৃহে বইপ্রকাশের আগে দুপুরে কম্যুনিটি মেডিসিন বিভাগে গোল টেবিল বৈঠক—দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৭৮ জনের মধ্যে জনাকুড়ি, উদ্দেশ্য পণ্যায়ণ-বিরোধী ডাক্তারদের এক সবর্ভারতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত দুনীর্তির বিরুদ্ধে, বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য কড়া ক্লিনিক্যাল এস্ট্যাবলিশমেন্ট অ্যাক্টের পক্ষে অনেক আলোচনা হল। এসবের সমাধান যে একমাত্র Universal Health Care-এ অর্থাৎ সরকার নাগরিকের স্বাস্থ্যরক্ষার দায়িত্ব নেবে এমন এক ব্যবস্থায় সে কথাও বললেন অনেকে। কিন্তু সংগঠকরা নেটওয়ার্কের নাম ‘Doctors for Universal Health Care’ দিতে দিলেন না। তাঁরা বললেন ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার মানে সরকারি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসাব্যবস্থা, এমন নাম দিলে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের নাকি সঙ্গে পাওয়া যাবে না। আমার মনে হল সংগঠকরা বোধহয় বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবসায়ীদের বড়োসড়ো আঘাত দিতে চান না।

জানেন এই সমস্ত কর্মসূচীর খরচ জুগিয়েছে কে? Oxfam—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এক ফান্ডিং এজেন্সি। ভারতের ডাক্তাররা কোন কোন জায়গায় চিকিৎসার পণ্যায়ণের বিরোধিতা করছেন তা জানায় আগ্রহ কিসের Oxfam-এর!?

পুনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান দুই সংগঠক আমার পুরোনো পরিচিত। বয়োজ্যেষ্ঠ যিনি, তাঁর সঙ্গে ১৯৮৫-তে কাজ করেছি ভোপালের গ্যাসপীড়িতদের স্বাস্থ্য আন্দোলনে। তখন তিনি মহারাষ্ট্রের এক গণবিজ্ঞান সংগঠনের হোল-টাইমার, মাসিক ২৫০টাকা ভাতায় আদিবাসীদের মধ্যে স্বাস্থ্যচেতনা-বিস্তারের কাজ করেন। দ্বিতীয়জন আমার সমবয়সী, দেশের সবচেয়ে মরযাদাসম্পন্ন চিকিৎসাশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কম্যুনিটি মেডিসিনে স্নাতকোত্তর। ছাত্রজীবনে সমাজপরিবর্তনকামী রাজনীতির সংগঠক ছিলেন। অনেক বছর হলো তাঁরা ফান্ডেড এনজিও চালান—প্লেনে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, ঠান্ডাঘরে গোলটেবিল বৈঠক—আর কি তাঁরা খেটে খাওয়া মানুষদের মধ্যে কাজ করতে পারবেন?!

আমার অভিজ্ঞতার বিবরণই কেবল এই প্রবন্ধে। তাত্ত্বিক আলোচনা করছি না। মনে হয় অধিকাংশ ফান্ডেড এনজিও শেষ বিচারে দেশি-বিদেশি নানা শক্তির ক্রীড়নকেই পরিণত হন। যেসব সংগঠনগুলো টাকা দেয় তারা খুব ভাল করেই জানে কোন কাজে তাদের লাভ। তারা যতটা সংগঠিত, লাভক্ষতি নিয়ে তাদের যতটা স্বচ্ছ ধারণা, অনেক সময় এনজিও-র শুভবুদ্ধি-চালিত পরিচালকদের ততটা সংগঠন বা ধারণার স্বচ্ছতা থাকে না। ফলে এরকমটা ঘটে, আর একবার অনেক কষ্ট করে একটা সংগঠন গড়ে তোলার পর পরিচালকদের শুভবুদ্ধির চাইতে ‘বাস্তববোধ’ নামক ব্যাপারটাই হয়তো বা প্রধান হয়ে যায়, যে বাস্তববোধ থেকে তাঁদের মনে হয়, এত কষ্ট করে ‘ছোটো ছোটো কাজ’ করার চাইতে কম খাটনিতে ‘বড় কাজ’ করার সুযোগ ছাড়াটা বোকামি। পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তথ্যসংগ্রহ, কিছু রিলিফ দিয়ে শোষিত মানুষের ব্যবস্থা-বিরোধী ক্ষোভকে প্রশমিত করা এদের প্রধান কাজ। আর গরীব মানুষের মধ্যে যাঁরা কাজ করতে চান, সমাজপরিবর্তনকামী রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে তাঁদের আকর্ষণ করে এই এনজিও-গুলো। তাঁদের মিথ্যা অনুভব হয় যে তাঁরা গরীব শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করছেন। আর এনজিও-র স্বচ্ছল জীবনযাত্রায় তাঁরা এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে পরেন যে আসল মুক্তিসংগ্রামের কষ্টকর জীবন থেকে তাঁরা অনেক দূরে সরে যান।


410 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: utpal mitra

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

asadharan.aapnar email id pete pari ki?aamar [email protected]

Avatar: ranjan roy

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

খাঁটি কথাটি সহজ ভাবে বিনা লাগ-লপেট বলার জন্যে অভিনন্দন ডঃ গুণ!
সেই সন্ন্যাসীর কৌপীন বাঁচাতে ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা পেতে বেড়াল, বেড়ালের দুধ ও গরুপোষার গল্পই যেন নিয়তি!
Avatar: PT

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

"তাঁদের মিথ্যা অনুভব হয় যে তাঁরা গরীব শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করছেন।"

এই লাইনটি পড়ে সত্যি-ই চমকে গিয়েছি!!
Avatar: শ্রী দাম

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

ভাল লাগল। এ্যাক্টিভিস্টরাও আশা করি পড়ে সমৃদ্ধ হবেন।
Avatar: শ্রী দাম

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

এই অংশটুকু তোলার লোভ সামলানো গেলনা। "পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তথ্যসংগ্রহ, কিছু রিলিফ দিয়ে শোষিত মানুষের ব্যবস্থা-বিরোধী ক্ষোভকে প্রশমিত করা এদের প্রধান কাজ। আর গরীব মানুষের মধ্যে যাঁরা কাজ করতে চান, সমাজপরিবর্তনকামী রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে তাঁদের আকর্ষণ করে এই এনজিও-গুলো।" আশাকরি এ্যাক্টিভিস্টরা সমাজপরিবর্তনকামী রাজনৈতিক দলের তাৎপর্য বুঝছেন।
Avatar: satya

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

" অধিকাংশ ফান্ডেড এনজিও শেষ বিচারে দেশি-বিদেশি নানা শক্তির ক্রীড়নকেই পরিণত হন। যেসব সংগঠনগুলো টাকা দেয় তারা খুব ভাল করেই জানে কোন কাজে তাদের লাভ। পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তথ্যসংগ্রহ, কিছু রিলিফ দিয়ে শোষিত মানুষের ব্যবস্থা-বিরোধী ক্ষোভকে প্রশমিত করা এদের প্রধান কাজ।"
'কম খাটনিতে বড় কাজ’ করা এ্যাক্টিভিস্ট দের মুখোস খুলে দেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ

Avatar: শেখর সেনগুপ্ত

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

ভয়ংকর রকমের সৎ প্রতিবেদন। একসাথে অনেকের মুখোশ খুলে দিয়েছেন।
Avatar: ম

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

ফান্ডেড এনজিও নিয়ে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পড়তে ভালো লাগলো। তবে আরেকটু বিস্তারিত হলে ভালো হত।ফান্ডেড এনজিও তে কাজ করা বহুলোকের জন্যেই কেরিয়ার মাত্র,অন্য আর পাঁচটা পেশার মত। 'মহান সেবা' ইত্যাদির তকমা বাদ দিয়ে অল্প কিছু কাজ হলে সেটা মন্দের ভালো।

'হিরোয়িন' শব্দটা চোখের জন্যে পীড়াদায়ক।পড়তে গিয়ে দুবার হোঁচট খেলাম।
Avatar: ranjan roy

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

এখানে একট কথা যোগ করতে চাই।
এনজিওদের মধ্যে দুটো বর্গ আছে।

এক, যাঁরা অ্যাকটিভিস্ট, সমাজপরিবর্তনের কথা ভাবেন। মূলতঃ রাইট ইস্যু নিয়ে কাজ করেন-- যেমন জঙ্গলের অধিকার, জমির অধিকার, সূচনার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার, ন্যায্য কমপেন্সনের অধিকার, পরিবেশ রক্ষার অধিকার, তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার। ইত্যাদি। এঁদের সঙ্গে দেশের সরকারের সম্পর্ক অধিকাংশ সময়ই (সব দেশেই) কনফ্রন্টিশনিস্ট মোডে থাকে।
এঁদের মূল ফোকাস বর্তমান ব্যব্স্থার অপ্রতুলতা, ক্ষয় গুলো দেখিয়ে দাবিদাওয়া ও জন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের নীতি বদল বা নতুন আইন তৈরি করানো।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন, তিস্তা শীতলওয়াড়ের কম্ব্যাট কম্যুনালিজম বা গ্রীন পিস, ভোপাল গ্যাস কান্ড নিয়ে আন্দোলন,কেরলে আশির দশকে লিবারেশন থিওলজির মছুয়াদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন বা অরুণা রায়েদের রাইট টু ইনফর্মেশন নিয়ে আন্দোলন ইত্যাদি। এদের মধ্যে কোন কোন আন্দোলন কখনও কখনও দীর্ঘকালীন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়, কখনও হয় না।
--- যেমন অরুণা রায়/নিখিল দে-- এদের সূচনার অধিকারের আইন পাশ করানোর আন্দোলন এক দশকে একটা আইন পাশ করাতে পেরেছে যার ইম্প্যাক্ট দীর্ঘকালীন।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন/ভোপাল গ্যাস পীড়িতদের আন্দোলন, - -- আংশিক সাফল্য পেয়েছে।
আবার তিস্তাঅ শীতলবাদ না থাকলে গুজরাতে মোদীর মহিলা মন্ত্রীটির আদালতে শাস্তি হত না।
এই গোষ্ঠীর আন্দোলন বড় ফান্ডের সাহায্য নিয়ে অনেক সময় তাদের লড়াকু ভাব হারিয়ে ফেলে লক্ষ্য়্ভ্রষ্ট হয়। যেমন ডঃ গুণ বলেছেন।

দুই,
কিন্তু এনজিও দের আরো একটি বর্গ আছে। যারা কোন বৈপ্লবিক সমাজ পরিবর্তনে বিশ্বাস করে না। তারা এই কাঠামোর মধ্যেই সরকারের সহযোগিতায় উন্নয়ন চায়। তাতে সমাজের নিম্নবর্গের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা ও রোজগারের জন্য অল্প খরচে প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকারী কাঠামোর বাইরে সাপ্লিমেন্টারি প্রক্রিয়া শুরু করায়। যেমন গরীবদের সেল্ফ হেল্প গ্রুপে সংঘবদ্ধ করে তাঁদের সরকারী ব্যাংক থেকে ঋণ দিইয়ে লিফট ইর্রিগেশন করে সেচের মাধ্যমে তাঁদের ছোট ছোট জোতগুলোকে তিনফসলী করিয়ে গাঁ থেকে শহরে পলায়ন আটকানো।
সমবায় পদ্ধতিতে মাছ চাষের ব্যবস্থা, রাত্তিরে পড়ানোর বন্দোবস্ত।
কুষ্ঠরোগীদের জন্যে বৈকল্পিক ব্যব্স্থা।
না, তাতে বিপ্লবের কাজ হয়ত এগোয় না। কিন্তু গ্রাসরুট স্তরেকিছু এমপাওয়ারমেন্টের কাজ হয়। নারীরা স্বনির্ভরতার দিকে পা বাড়ায়।
-- হ্যাঁ, এই ধরণের এনজিও বা ডেভলাপমেন্ট এনজিওয় লোকে চাকরি করতে আসে। অধিকাংশ আসে পেশাদার লোক। যেমন ইঞ্জিনিয়র (আই আই টি/এম আই টি থেকেও)। ইকনমিস্ট বা সোশ্যিওলজির লোক। অনেকে আসেন গুজরাতের আনন্দের IRMA থেকে গ্রামীণ বিকাশ বিষয়ে মাস্টার্স করে।
PRADAN ,PRIYA এবং PRATHAM এই দলে পড়ে।
এরা হল পাবলিক/প্রাইভেট এর পরে থার্ড সেক্টর। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ ব্র্যান্ড নেম হয়ে গেছেন। এদের স্টাফ পেশাদারি শিক্ষা/ দক্ষতার ভিত্তিতে মার্কেট রেট এ নিযুক্ত হয়।
এরা চাকরি করতে আসে, সমাজ পাল্টাতে নয়। তবু কোথাও কোথাও ছোট ছোট স্তরে কিছু পাল্টায়। গাঁয়ের মধ্যে মেয়েদের ভয়েস জোর পায়।
হ্যাঁ, এদের মধ্যে অনেকেই এইড /গ্র্যান্ট নেয়। অনেস্ট/দিসনেস্ট সবরকমই আছে। না, এরা অব্শ্যই অ্যাক্টিভিস্ট নয়।
Avatar: Punyabrata Goon

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

আমার ই-মেল আইডিঃ [email protected]
Avatar: pi

Re: এনজিও-দের সঙ্গে

পুণ্যদা, বেশ কিছু প্রশ্ন আছে। লিখবো একে একে।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন