অনিকেত পথিক RSS feed

[email protected]
নামেই পরিচয়

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

পুজোর চাপ

অনিকেত পথিক

দূর্গাপুজোকে যদি একটা ভারী শিল্প বলে ভাবা যায় তো তার অনুসারী শিল্প অগুন্তি। কারণ দুর্গাপুজো তো শুধু পুজো নয়, আমাদের এই বাঙালীজনমের মাঝখানটিতে বসে শত শত সামাজিক ওঠা-পড়া যে নিয়ন্ত্রণ করছে এই পুজো । এইসব অনুসারীদের অনুসরণ করে কিছু পথ চললে চোখে পড়ে পুজোর প্রকৃত চালচিত্র। সেই বিষয়ে প্রকৃতই ‘দু-কথা’। লেখাটা কয়েকদিন আগে একটা আন্তর্জাল পাতার শারদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে; এখানেও থাকল।

দর্জীপুরাণ

পুজোয় আপনার স্টাইল স্টেটমেন্ট যাই হোক না কেন গ্ল্যামারে আপনি কিছুতেই ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না সেই মহানায়িকাকে, যাঁর ‘হাতে’ই আছে ভুবনের ভার। কিন্তু ভেবে দেখেছেন ওই অতগুলো (দশ) হাতাওয়ালা ব্লাউজ তাও অমন চমৎকার ফিটিং যাঁর হাত দিয়ে বেরোয় তিনি কতবড় কারিগর ! পুজোই বলুন আর উৎসবই বলুন পুজোয় তো চাই-ই চাই নতুন জামা। আর জামা মানেই দর্জি। মাষ্টারজী। তিনি আর তাঁর খদ্দের; এই একটি সম্পর্ককে যদি নিয়মিত লক্ষ্য করেন তো পুজোর দু-এক মাস আগে থেকে শুরু করে পুজো অবধি এই সম্পর্কের রূপ ও রং ঘন ঘন বদলায়। কারণ যতই ‘রেডিমেড’ নামক প্রপঞ্চটি আপনাকে বিভ্রান্ত করুক নিজের মাপে পছন্দের ডিজাইনে বানানো পোশাক পরার যে রাজকীয় বিলাস তার কোন বিকল্প নেই। আর এই ক্ষেত্রে মেয়েরা যেকোন সময়ে গুনে গুনে দশ গোল দেবে ছেলেদের। কারণ ছেলেরা যেখানে দু-চারটি শার্ট-প্যান্ট কি বড়জোর পাঞ্জাবী নিয়েই আকুল মেয়েরা সেখানে সালোয়ার-কামিজ-স্কার্ট-ব্লাউজ-ফ্রক মিলিয়ে এক একজন এক একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। শ্রেণিবৈচিত্রে ও গুণবৈচিত্রের কথা মাথায় রাখলে মনে হয় ‘টেলর মেড’ কথাটা মেয়েদের পোশাকের কথা ভেবেই লেখা হয়েছিল। সুতরাঙ মহিলাদের পোশাক যাঁরা বানাবেন তাঁরা যে অন্য প্রজাতির জীব হবেন তাতে অবাক হবার কিছু নেই ! পুজো আসার সঙ্গে সঙ্গে এহেন কারিগরদের সঙ্গে তাঁদের ‘ক্লায়েন্ট’দের সম্পর্ক কিভাবে রঙ বদলায় সেটা একটা দেখার জিনিস। পূজোর মাসতিনেক আগে থেকে সন্ধেবেলায় যদি কোন ‘মাষ্টার’মশাই এর দোকানে নজর রাখেন দেখা যাবে ঘন ঘন প্যাকেট হাতে দিদি-বৌদিদের আনাগোনা, ‘আসুন বৌদি’ ‘কেমন আছেন’, দুতরফেরই হাসি হাসি মুখ, যেন বিজয়া করতে এসেছেন। মাপ-জোক-খুটিনাটি-কতটা লম্বা-কতটা গভীর, কোথায় বোতাম এইসবের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাক্তিগত আলাপচারীতাও চলছে। এই ছবি কিন্তু বেশিদিন থাকবে না, স্রেফ একমাস পরেই দেখা যাবে শুকনো মুখে বৌদি, গম্ভীর মুখে মাষ্টার। মানে বৌদি দেরী করে ফেলেছেন, ‘অর্ডার ক্লোজ’ হয়ে গেছে ! অতঃপর আবেদন-নিবেদন-অজুহাত প্রদর্শন....। ‘এই তো দেখুননা ছেলের পরীক্ষা...রোজ বৃষ্টি...আসতে সময় পাইনি !’ মাষ্টার যদি চেনা হন (কিম্বা বৌদি যদি তিনগুণ মজুরী দিতে রাজী থাকেন !) তো শেষ মূহুর্তে মন গলল, “দিয়ে যান কিন্তু সেই পঞ্চমীর দিন বিকেলে...তার আগে কোন গ্যারান্টি নেই!’ বৌদির মুখে বিশ্বকাপ জয়ের হাসি। আর না হলে বৌদি ফিরে যাচ্ছেন বিফলমনোরথ, মাষ্টার মন দিচ্ছেন আপন কর্মে। এই চিত্র কিছুদিন চলবে, যত দিন যাবে ‘রিজেকশন রেট’ তত বাড়বে আর টেনশনও !
তবে টেনশনের এখনই দেখেছেন কি ! সে দেখবেন মোটামুটি একমাস আগে থেকে। তখন সন্ধেবেলা মানেই দর্জির দোকানে ঘোরতর চাপান-উতোর। ‘এ কি এখনো হয়নি !’ ‘আহ...একটু ফোন করে আসবেন তো !’ ‘ডেলিভারি ডেট তো একসপ্তাহ আগে ছিল...তাই আর ফোন করিনি !’ বৌদি জানেন ফোন করলেই ‘হয়নি’ শোনা যাবে, তাই একবার তাড়া দিয়ে মুখ দেখিয়ে যাবার রুটিন ওয়ার্কটা সেরে গেলেন। ‘ঠিকঠাক একটা ডেট দিন।।।আমি কিন্তু আর ঘুরতে চাই না !’ না, দর্জির কাছে ওই ‘ঠিকঠাক ডেট’ বলে কিছু হয় না...দুজনেই জানেন সে কথা, তবু কেন যে মিছে ডেট দেওয়া ! এর পাশাপাশিই চলছে অন্য একটা নাটক, যার নাম ‘অল্টার’। মানে সোজা কথায় সংশোধন অথবা কাটাকুটি। যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘ডেলিভারি’ পেয়ে গেছেন, তাঁরা আবিস্কার করেছেন যে বস্তুটি যেমন বানাতে বলেছিলেন, তেমনটি হয় নি (তাই যদি না হবে তাহলে কেন এই হেন ঝামেলা সহন !)! অতঃপর দর্জিবাড়ি গমন ও কাজে-কথায় তফাৎ প্রদর্শন। গোল গলা কেন ‘ভি’ হয়ে গেল, লম্বা হাতা কেন ছোট হয়ে গেল, জামার হাতায় যে পাড় বসাবার কথা ছিল সে তো বসেই নি, পাড়টা ফেরৎও আসেনি কেন, ঝুল কেন ছোট হল, কাঁধ কেন নেমে যাচ্ছে, ।।।এইসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তরে মাষ্টারজী মৌলিকতর চিন্তাভাবনার পরিচয় দেবেন, প্রমাণ করবেন যে আসলে এইরকমই বলা ছিল। কিন্তু সে বড় সুখের সময় নয়, সে বড় শান্তির সময় নয় !
এই কয়েকদিন আগেই এক দোকানের পাশ দিয়ে যেতে এইরকম কথা কানে এল,
“...তুমি এইরকম বানিয়েছ কেন ?”
“আরে তুমি ঠিক যেমন বলেছিলে আমি তো সেইরকমই করেছি”
“কিন্তু আমি তো এইরকম বলিনি...”
“হ্যাঁ তুমি একরকম ভেবেছিলে, আমি নাহয় একটু অন্যরকম করেছি....” এইটুকু শুনতে শুনতে পেরিয়ে এলাম জায়গাটা। জানা হল না ‘এইরকম’ আর ‘সেইরকম’এর টানাপোড়েন কোথায় পৌঁছল। যে কোন ডিজাইন দেখালে ‘এইরকম এখন চলে না’ বলে উড়িয়ে দেওয়া বা ‘এই রকমই চলছে’ বলে নিজের মতে অন্যরকম বানিয়ে দেওয়ার এই ট্রেডিশন সমানে চলছে !
যে কোন মহিলার জীবনে দর্জী পর্ব এইরকম অজস্র ঘটনাবহুল। তবে লিঙ্গনির্বিশেষে দর্জীদের নিয়ে মূল সমস্যা এইখানেই, মানে দর্জী পুরুষ হোন বা মহিলা ঠিক সময়ে ডেলিভারি দেওয়া বা খদ্দেরের বলে দেওয়া মাপটা-ডিজাইনটা পোশাকে একবারে ঠিকঠাক তুলে আনা বিরল ঘটনা। তাই ওই সন্ধেবেলার চাপান-উতোর (অনেকটা প্রতিপক্ষ অনুষ্ঠানের মত!) আর তাই ওই ‘অল্টারপর্ব’। যারা শেষ মুহুর্তে জিনিসটি হাতে পেয়েছেন, তাঁদের ‘অল্টার’ হবে পুজোর পরে।।।মানে নতুন জামা পুজোয় আর পরা হল না !
আমার পরিচিত কিছু মহিলার অভিজ্ঞতা এক এক করে বলি। সব মহিলাই কোনো না কোন সময়ে (অথবা বেশীরভাগ সময়ে !) নিজের সদ্যপ্রস্তুত পোশাক দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেবেছেন এই মাপেই যদি বানাবেন তাহলে আর আমার মাপ নিয়েছিলেন কেন ! তবে সেই কেলেঙ্কারী কে কিভাবে সামলাবেন সে কৌশল আলাদা আলাদা। যেমন আমাদের রিনিদি পুজোর আগে গোটা ছয়েক শাড়ির ম্যাচিং ব্লাউজ বানাতে দিয়েছিলেন। মহিলামাত্রেই এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছেন, ছ’খানি বহুমূল্য শাড়ির অঙ্গ থেকে কেটে নেওয়া ছ’টি ‘ইউনিক’ বস্ত্রখণ্ড। দীর্ঘ প্রতীক্ষাপর্ব ও আনুসাঙ্গিক ফোন ইত্যাদির পরে প্রত্যাশিত ডেলিভারী নিতে গিয়ে দিদি দেখলেন ব্লাউজগুলি গায়ে দু-সাইজ বড় আর ঝুলে দু-সাইজ ছোট। যথাবিহিত উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় অন্তে দিদি দাবী করলেন তাঁর জামা ‘সারিয়ে’ দিতে হবে। অতঃপর দিদি দোকান আগলে বসে থাকলেন আর মাষ্টারমশাই গেলেন ওই ছ’খানি কাপড়ের মানানসই কাপড় কিনতে! সেই দোকানে বসে থেকে কাপড় কিনিয়ে ঝুল বাড়িয়ে যথাবিহিত কর্ম সম্পাদন করে দিদি বিজয়গর্বে বেরিয়ে এলেন প্রায় ঘণ্টাতিনেক পরে ! তবে সকলের এত এলেম থাকে না। আমার বন্ধু নবনীতা বলে দর্জীর দোকানে জামা আনতে যাওয়ার সময় ওর প্রায় পরীক্ষার ফলাফল জানতে যাওয়ার মত বুক দুরুদুরু করে। ও একবার গোটাকয়েক সালওয়ার-কামিজ একসঙ্গে বানাতে দিয়েছিল; বেশ কায়দার জামা, পায়ের কাপড় দিয়ে জামায় নানারকম কাজকর্ম করা হবে। যত্ন করে সব ছবি এঁকে লিখে বুঝিয়েও দিয়েছিল মাষ্টারজীকে, কিন্তু সেই ভয়ংকর শেষের সময় এলে দেখা গেল এক জামার মুন্ডু জুড়েছে অন্য জামার ধড়ে, অর্থাৎ যাকে বলে ‘টোটাল কেওস !’ দীর্ঘ অল্টারপর্ব পেরিয়ে সেই দুর্ঘটনা কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও কিছু সংশোধন-অযোগ্য ভুল থেকেই গেছিল। আবার আমাদের শর্মিলা নিজে কিছু সেলাই জানে বলে প্রায়ই দেখা যায় সূঁচ-সুতো-কাঁচি ছড়িয়ে বসে দর্জীর বানানো পোশাকের ছোটখাটো মেরামত সে নিজেই করছে, একেই বোধহয় বলে ‘খেয়ায় কড়ি দিয়ে ডুবে পার হওয়া’ ! তবে অসাধারণ কাজ করেছিল সোনু, আমার চেনাজানা এক দর্জী। ঘটনাটা তার মুখেই শোনা। একজনের জামার কাপড়টা সে পুরো উল্টো করে সেলাই করে ফেলেছিল। এইরকমটা যে হতে পারে তা স্বপ্নেও ভাবেনি জামার মালিক, তাই জামা হাতে পেয়ে সে প্রায় মূর্ছা যায় আর কি ! সোনু অবশ্য ভুল বুঝতে পেরে নিজেই সেই সেলাই খুলে আবার সোজা করে সেলাই করে দিয়েছিল !
আমার পাড়ায় এক দর্জীর দোকান আছে। নাম শিবু, বয়সে তরুণ, হাসিখুশি, হাতের কাজও ভাল। বেশ ভাব আমার সঙ্গে। দশ বাই দশ একচিলতে ঘরে ফ্যাক্টরী থেকে ডেলিভারি কাউন্টার সব । এমনিতে সন্ধে থেকেই আসাযাওয়ার পরিচিত ছবি দেখতে পাই। কিন্তু গতবার পুজোর মুখে অনেকদিন দেখি দোকান বন্ধ। চিন্তা হচ্ছিল, ছেলেটার হল কি, এই সময়েই যদি দোকান না খোলে তো চলবে কি করে ! এহেন সময়ে একদিন ভোরবেলা হাঁটতে যাবার সময়ে দেখি ঝাঁপ একটু খোলা, মুখ বাড়িয়ে দেখতে পেলাম শিবু কিছু গোছগাছ করছে। বললাম ‘কি গো দোকান বন্ধ কেন ?’ ‘কাজ বাড়িতেই করছি তো তাই !’ মনে পড়ল শিবু বলেছিল বাড়িতে জায়গা খুব কম, কাজ করতে অসুবিধে হয়। জিজ্ঞেস করলাম ‘কিন্তু কেন! দোকান খুলছ না কেন, সব ডেলিভারী বাকি পড়েছে নাকি !’ ‘না না, সব কাস্টমারের ফোন নম্বর আছে, আমি তো বাড়িতে ডেলিভারী দিয়ে আসি’। ‘তাহলে ?’ ‘এখন দোকান খুললেই তো সবাই অর্ডার দিতে চলে আসবে, তখন কি হবে !’ বোঝা গেল এখন আর অর্ডার নেওয়ার উপায় নেই কিন্তু পাড়ার পরিচিত কাস্টমারদের ফেরাতেও পারে না, তাই মুখোমুখিটা এড়িয়ে চলে ! এ’বছরও মাসখানেক হল শিবুর দোকান খুলছে না !
এই সব পড়ে যাঁরা দর্জীদের সঙ্গে খদ্দেরদের চিরন্তন শত্রুতার বা খাদ্য-খাদকের সম্পর্কের কথা ভাবছেন তাঁরা নেহাত অনভিজ্ঞ। এ হল এক অসাধারণ সম্পর্ক যার শুধু জরুরী অবস্থাটুকুর কথা বললাম ! পুজো অবধি এইরকম চলবে, তারপর কিছুদিন বিশ্রাম। অতঃপর কোনও এক হিমেল সন্ধ্যায় বৌদি আবার পড়ে থাকা একটা ব্লাউজপিস কি ভাইফোঁটায় পাওয়া একটা সালওয়ার পিস নিয়ে গুটি গুটি পায়ে সেই চেনা মাষ্টারজীর দোকান, আবার চেনা দুঃখ চেনা সুখ, চেনা চেনা হাসিমুখ...
*******************

থিমসঙ্কট

নতুন জামা হোক বা জুতো পুজোর প্রথম কথা তো ঠাকুর। প্রতিমা। দুর্গাপুজো নামক ভারীশিল্পের প্রধান উৎপাদন। আর অস্বীকার করা যাবে না বিগত পনেরো বছরে বাঙালীর সবচেয়ে বড় উদ্ভাবন হয়েছে এই ক্ষেত্রে, সারা বিশ্ব (মানে বিশ্বের বাঙালী!) যাকে একডাকে চেনে ‘থিম’ বলে। সত্যি বলতে কি পুজোর সঙ্গে বাঙালীর সম্পর্কটাই পুরো ঢেলে সাজিয়ে দিয়েছে এই ‘থিমদর্শন’ আর পুজো ব্যাপারটাও কিছুটা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার চেহারা নিয়েছে। তবে সেটা ওই পুজোর উদ্যোক্তাদের কাছে। আপনার-আমার কাছে এটা কিছুটা বার্ষিক পরীক্ষার মতন কারণ পুজোয় (মানে অন্ততঃ কলকাতার পুজোয়) ঠিকঠাক ‘যোগদান করতে’, মেতে উঠতে বা ‘এনজয়’ করতে গেলে আপনাকে প্রত্যেক পর্যায়ে নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেচনার পরীক্ষা দিয়ে যেতে হবে। পুজো মার্কেটিং থেকে প্যান্ডেল টার্গেটিং সর্বত্র আপনাকে ‘আপডেটেড’ থাকতে হবে।
পুজোর একমাস আগে বোনাসটি হাতে পেয়ে সপরিবারে ‘পুজোর বাজার’ করতে বেরোবেন ভাবছেন ? তার মানে আপনি এখনও ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট যুগে পড়ে আছেন। এখন আপনাকে খবর রাখতে হবে কখন কোথায় ‘সেল’ দিচ্ছে। আগে হত বটে ‘পুজো সেল’ এখন হয় ‘প্রি-পুজো’ সেল বা ‘অফার’, পুজো বাজার শুরু হয় সেখান থেকে আর কে না জানে পুজোর বাজার (মহিলাদের) কোনোখানেই শেষ হয় না ! তেমনি সপ্তমীর সন্ধেবেলায় নতুন জামা কাপড় পরে ছেলেমেয়ের হাত ধরে বেরিয়ে ইচ্ছেমত দু-দশটা প্রতিমা দেখে ফিরে আসবেন, সেসব ঢিলেঢালা দিনকালও এখন আর নেই। এখন আপনাকে রীতমত ‘হোমওয়ার্ক' করে (সম্ভব হলে একটা ম্যাপ হাতে নিয়ে) বেরোতে হবে। আগে জেনে নিতে হবে কোন প্যান্ডেলে ঢোকার-বেরোবার রাস্তা কোনদিকে। সেইভেবে ঠিক করতে হবে কোন প্যান্ডেলের পর কোনটায় গেলে সবচেয়ে সহজে যাওয়া যাবে। নতুবা আপনাকে মাইলের পর মাইল ফালতু হেঁটে বেড়াতে হবে, আর হয়তো প্যান্ডেলের কাছাকাছি পৌঁছেও ভেতরে ঢুকতে পাবেন না ! তাই যা করবেন, ভেবেচিন্তে। অতঃপর থিমদর্শন; পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই যে পুজোর মাসকয়েক আগে থেকে আপনি এখানে ওখানে নানারকম রহস্যময় জিনিস গড়ে উঠতে দেখছেন কিন্তু কিচ্ছুটি জানতে পারেন নি, তখন নিশ্ছিদ্র গোপনীয়তায় কাজ চলছিল পর্দার আড়ালে। শেষমেশ দেবীপক্ষে আড়াল সরে গেল আর আপনিও একবার দেখেই সব বুঝে ফেললেন, ব্যাপারটা মোটেই এত সোজা নয়। কিরকম একটু বলি। যেমন সেবার একটা প্যান্ডেলে ঢুকতে গিয়ে দেখি ব্যাপার বেশ গোলমেলে । মূল জায়গায় পৌঁছোতে গেলে আগে একটা অ্যান্টিচেম্বারে লাইন দিতে হচ্ছে, থিমের আক্রমণ সেখান থেকেই শুরু। এইখানে বিরাট চৌকো চত্বরে লালচে হলুদ আলোয় দুপাশে সারি সারি থামের গায়ে নানারকমের মূর্তি। মাতৃজঠরে মানবশিশুর হেঁটমুন্ড অবস্থানের পাশাপাশি ডি এন এ অণুর প্যাঁচানো সিঁড়ির গঠন, আরো সব এতকিছু, যে আপনি সীমিত সময়ে দেখেই উঠতে পারবেন না, বোঝা তো পরের কথা ! মূল মন্ডপের মাথায় ডি এন এ অণুর শেকলে এক প্রকান্ড তালা ! একপাশে অতিক্ষুদ্র একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ ও চলমান অবস্থায় অনুরূপ একটি দরজা দিয়ে প্রস্থান, জনস্থান মধ্যবর্তি সেই অঞ্চলে আলো-আঁধারিতে সাদামাটা একটি প্রতিমা ছাড়া আর কিছু লক্ষ্য করার কোন সুযোগ পেলামই না ! নেহাৎ ছাড়িয়ে বান্দা নই বলে এক বেচারা স্বেচ্ছাশ্রমীকে ডেকে জানলাম এঁদের থিম নাকি ‘শক্তি’ (সৃষ্টি নয়) । কিন্তু কিসের শক্তি, কি করে হল, সে প্রশ্ন সহজ নয়, সহজ নয় !
ওদিকে এক রাস্তার দুধার জুড়ে অনেকটা লম্বা প্যান্ডেল, নীচু, মাথার ওপরে কাচের ঢাকা, ভেতরে আলো, মাঝখান দিয়ে কয়েকসারিতে চলেছেন সুধী দর্শককুল। কুল কুল করে ঘামছেন কারণ ভেতরটা দমবন্ধ ভ্যাপসা, অথচ কিমাশ্চর্যম, ওইরকম জায়গায় অস্থায়ী দেওয়ালে এয়ারকন্ডিশনার বসিয়ে ‘কুল কুল’ করার চেষ্টা। দুপাশে্র দেওয়াল বরাবর মাঝে মাঝে বড় বড় অ্যাকোরিয়ামের মত, তারমধ্যে মাছ, সাপ সব জলের জীব খেলা করছে। মাথার ওপরেও কাচের ছাদের ওপারে জল বইছে, তাতে দু-একটা সাপ, দূরে কোথাও ছড় ছড় করে জল পড়ছে, এই শুনতে শুনতে আপনি একসময় মন্ডপের বাইরে চলে এলেন ! যাঃ ঠাকুর কোথায়, দেখলাম না তো ! আঃ, দেখেন নি তো কি হয়েছে, আপনার উল্টোদিকের রাস্তার ধার বরাবর অ্যাকরিয়ামের সারির মধ্যে কোথাও একটু ফাঁকা জায়গায় একহাত একটা প্রতিমা ছিল নিশ্চই, ওইদিকের দর্শকেরা দেখতে পেয়েছেন ! আর এই মূর্তিও তো উপলক্ষ্য মাত্র, ‘আসল’ পুজো তো হয় লোকচক্ষুর প্রায় অগোচরে কয়েক আঙ্গুল প্রমাণ মূর্তিতে, তাই ওই নকল মূর্তি দেখলেন কি না দেখলেন, থিম তো দেখলেন ! হ্যাঁ দেখলাম, তবে কি দেখলাম কিছুই বুঝলাম না কেবল মন্ডপ থেকে দুই পা ফেলিয়াই বিরাট হোঁচট খেলাম, ভেতরের উজ্জ্বল আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে গেছিল তাই বাইরের ম্লান আলোয় রাস্তার ধারে জড়ো হয়ে থাকা নুড়িপাথরের স্তূপ চোখে পড়েনি। সে যাক থিম-এর মহাবিশ্বে কি সব কিছু ধরে ! একজায়গায় দেখলাম দুর্গাপ্রতিমা বিরাট লম্বা ত্রিশূলটা দুহাতে মাথার ওপর তুলে ধরে সোজা দর্শকদের দিকে তাক করে আছেন। কেন? কেউ জানে না। আর এক জায়গায় ঘটা করে একমাইল দূর থেকে ‘অকালবোধন’ নাম দেখতে দেখতে এসে যে প্রতিমা দেখলাম তা একেবারে সাধারণ দুর্গামূর্তি। অবাক হয়ে উদ্যোক্তাদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা নির্বিকারে জানালেন যে ওঁরা নাকি ওঁদের পুজোর নাম দিয়েছেন ‘অকালবোধন’ ! যাব্বাবাঃ এ যে কুকুরের নাম টাইগার রাখার মত হয়ে গেল !
তবে সত্যের খাতির স্বীকার করতেই হয় ইদানীং, কিন্তু এ বিষয়ে বেশ লক্ষ্যণীয় পরিবর্তন চোখে পড়ছে। গত বছর বেশ কয়েকটি মন্ডপে বড় বোর্ডে বেশ ফলাও করে থিম ব্যাপারটা অন্ততঃ দুটো ভাষায় ব্যাখ্যা করা ছিল। সেই ব্যাখ্যা আপনি কতটা ‘বুঝতে’ পারবেন সেটা বলা মুস্কিল। যেমন বিশাল এক নৌকোর আকৃতির মন্ডপ যে আসলে জীবনতরীর প্রতীক, বা দু-তিন রঙে সুন্দর সুন্দর নক্শা যে জীবনের মূলসুরকে তুলে ধরে সেসব জানা গেল বিভিন্ন ‘থিম-বোর্ড’ পড়ে। কোনও একটি আদিবাসী উপকথায় যে ‘ট্রি অফ লাইফ’ কে শান্তির প্রতীক ভাবা হয়, তাকেই যে একটি বিশাল মন্ডপে বিশ্বশান্তির প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে বা কিঞ্চিত ভজকট চেহারার একটা মন্ডপ যে আসলে নানারকম স্থাপত্যরীতির মিশেল এসব গূঢ়তথ্য গতবছর জানিয়েছে ওই থিম্বোর্ড। তবে কামাল করেছিল গোরু। হ্যাঁ, পুজোর দুমাস আগে থেকে যে নাট-বল্টু-স্ক্রু-গিয়ার মন্ডিত দুমুখো গোরুটিকে কলকাতার এখানে ওখানে বিশাল হোর্ডিং-এ দেখা যেত তিনি যে আসলে থিম তা বোঝা গেল এক বিখ্যাত পুজোপ্যান্ডেলে গিয়ে। সেখানে থিমের গোরু শুধু গাছে নয় একেবারে কল-কা্রখানা আবধি পৌঁছে গেছিল। গোরুই (মানে দুধই) আমাদের জীবনের প্রথম খাদ্য, সর্বশক্তির উৎস ও মোহানা তা বোঝাতে যাবতীয় গোবিষয়ক বস্তু দিয়ে মন্ডপ সজ্জা, দুধের বোতল, খড়-বিচালি মায় রঙিন ও চিত্রিত ঘুঁটে পর্যন্ত ! গোপালন-গোচারণ বিষয়ক ছবির মুর্যা ল দিয়ে সাজানো গোয়াল আকৃতির মন্ডপ, তার সঙ্গে যন্ত্রশক্তির মানে স্ক্রু-গিয়ারের কি সম্পর্ক তাও লেখা ছিল বোর্ডে। সবই অতীব চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু আপনি বুঝবেন কিনা তা কে বলতে পারে !
যে জন্য এতকথা বলা। শুধু দেখার ব্যাপার বা শুধু উপাদানের বৈচিত্র হলে হলে কোন সমস্যা ছিল না, ভাবাভাবির বা বোঝাবুঝির কিছু নেই আপনি আখের ছিবড়ের তৈরী নয়নমনোহর মূর্তি বা মাটির ভাঁড়ের প্যান্ডেল দেখে খুশী হলেন, ল্যাঠা চুকে গেল। কিন্তু যখনই ‘থিম’ এসে গেল, আপনার পরীক্ষা শুরু হয়ে গেল। প্রতিমা দেখতে এসে আপনাকে প্রায় কুইজ কন্টেস্টের দক্ষতায় ভেবে যেতে হচ্ছে, এইটা কিসের প্রতীক, ওইটা কি বোঝাচ্ছে ! কোথাও কোন সূত্র দেওয়া নেই, একটা বোর্ড কি একটা বিজ্ঞপ্তিও কোথাও নেই যা থেকে এই থিম বিষয়ে আন্দাজ করতে পারেন। আর ভালো করে যে দেখবেন, বুঝবেন সেই সময়ও নেই, সর্বদাই চরৈবেতিঃ ! গতবছর দক্ষিণ কলকাতায় একটা মন্ডপে অতীব সুন্দর এবং সূক্ষ্ম হাতের কাজ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল সমুদ্রের নীচে দুর্গার আরাধনা, আর এক জায়গায় আলোর বাড়া-কমার সঙ্গে বাজনার তালে তালে ফুটে উঠছিল মানুষের সারাদিনের নানারকম কাজকর্মের চমৎকার ছবি। দিনের বেলা গেছিলাম, হাতে কিছুটা সময় ছিল, খুঁটিয়ে দেখছিলাম, আর ভাবছিলাম রাতে যখন এই মন্ডপের সামনে লক্ষ লক্ষ মানুষ সারি বেঁধে যাবেন, কেউ কি আদৌ এইসব আনুসাঙ্গিক ব্যাপার দেখার বা বোঝার সময় পাবেন ! আর কেউ যদি কিছু নাই দেখলেন, নাই বুঝলেন, তাহলে এই থিমকান্ড কাদের জন্য ? দু-একবার এমনও হয়েছে যে উদ্যোক্তাদের কাছে বা থিমগুরুর কাছে জানতে চেয়েছি থিমটা কি, উত্তর পাইনি, কেউ আবার বলেছেন আপনারা ভাবুন, কি হতে পারে...সাধেই কি আর বলেছিলাম যে শুধু ঠাকুর দেখতে যাচ্ছেন না, পরীক্ষা দিতেও যাচ্ছেন ! কিন্ত কাদের কাছে পরীক্ষাটা দিচ্ছেন, তারা নিজেরা কতজন একটা থিমের ভেতরের ভাবনাটা সত্যি বোঝেন সেটাও খুব পরিস্কার নয়।
দুর্গাপুজো সে স-থিম হোক আর অ-থিম, আপত্তি নেই। কিন্তু যে থিমমূল্যে বিভিন্ন পুজো ক্রীত-বিক্রীত হচ্ছে সেই থিম আসলে কিছু চমক ছাড়া আমাকে-আপনাকে কিচ্ছু দিচ্ছে না। অজানা অচেনা কিছু মূর্তি বা দৃশ্য আর আবহ যার শিল্পীত সৌন্দর্যের ভেতরে আপনি ঢুকতে পারছেন না, একটা ‘অন্যরকম’ কিছু দেখার অভিঘাতে কিছুটা ‘বুঝভুম্বুল’ হয়ে পড়ছেন। অথচ এই থিমের ঠ্যালায় প্রায় দশদিন যাবৎ আপনার নিজের শহর আপনার হাতের বাইরে, রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেহাল, স্বাভাবিক হাঁটাচলা বন্ধ। নিজের বাসস্টপে নামতে পারবেন না, নিজের বাড়ি ঢুকতে গেলে ‘পাস’ দেখাতে হচ্ছে, কখনও মালপত্র হাতে একমাইল হাঁটতে হচ্ছে, নিজের গাড়ি বার করতে পারছেন না, আর যদি কোনও অসুস্থ মানুষকে নিয়ে বেরোতে হয় সে তো রীতিমত বিভীষিকা ! মোটের ওপর শুধু বুদ্ধি নয়, শক্তি ও ধৈর্যেরও পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বদলে বিশুদ্ধ আনন্দটুকুও পাচ্ছেন না। এরপরও বলব না, যে পড়ার চাপ, কাজের চাপের পাশাপাশি এখন ‘পুজোর চাপ’-এও আমরা চেপ্টে যাচ্ছি !


632 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: d

Re: পুজোর চাপ

তা বটে :-)
Avatar: kabya

Re: পুজোর চাপ

দর্জি পর্ব টা অসাধারণ। কত যে মিল পেলাম।
Avatar: de

Re: পুজোর চাপ

দারুণ!

ইন ফ্যাক্ট, গতবার পুজোয় বাড়ি গিয়ে এই সবকটা ঠাকুর আমি দেখেছি এবং এইরকমই ভেবেছি। এবার নবমীর রাত্তিরে বাড়িতে পৌঁছোবো - সুতরাং ঠাকুর দেখার জন্য হাতে থাকছে খালি দশমী। তাও ভাল্লাগে। ভিড় আমি মোটে পছন্দ করি না - কিন্তু বাবা, মা আর আমার মেয়ে ঠাকুর দেখতে খুব ভালোবাসে। ওদেরকে নিয়ে বেরোতে আমারো ভালো লাগে। সঙ্গে মামাতো, খুড়তুতো ভাইবোনেরাও যোগ দেয়। হইহই ব্যাপার আর কি!
Avatar: dd

Re: পুজোর চাপ

হা হা হা। খিক
Avatar: sosen

Re: পুজোর চাপ

বহুদিন থেকে পুজোর সময় আমার অনেকগুলো চাপ থাকে---যেমন সবার জামাকাপড় আমাকে কিনতে হবে( মা, বাবা,এমনকি তিরিশ ছুঁই ছুঁই ভাইয়েরো, প্লাস মাসিরা, দিদিমারা, বোনেরা, আরো ভাইয়েরা, ইত্যাদি।কেউ কুটোটিও নাড়বেন না) ফিজিক্যালি একা এই বাজার সারা, কারোর কোনো হেল্প ছাড়া সেই বাজার টেনে আনা, এবং তার পরেও লোকজনের পছন্দ না হওয়া--সে যে কি চাপ। এর পর হোলো বিভিন্ন লোকজনকে নিয়ে বেরোনো। নিজের জামাকাপড় কেনার গল্প ছেড়ে দিন। যদিও ঐ আমার বছরের যোগাড়। কিন্তু আজকাল এসব বিভীষিকা লাগে।এবছর দূর থেকে এসবেরি ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। চাপ কমলো না।

ভীষণ ফিরে যেতে চাই সেই ছোটোবেলায় যখন পুজোটা কোনো চাপ ছিল না। মাসিরা চুল বেঁধে নতুন জামা পরিয়ে দিতো, রিকশায় চড়ে দাদুর সঙ্গে শ্যামনগরের পুজো দেখতে যেতাম। চার-ছটি ঠাকুর, ভোগ, গঙ্গার হাওয়া।

দাদু নেই আর। পুজোর সময় দাদুকেই সবচেয়ে বেশি মিস করি।
Avatar: sosen

Re: পুজোর চাপ

অনিকেতের লেখাটা ভালো লেগেছে।
Avatar: kk

Re: পুজোর চাপ

পড়তে বেশ লাগলো।অনায়াস ঝরঝরে লেখা।
প্যারাগ্রাফগুলোর মাঝে একটু গ্যাপ রাখা গেলে পড়তে আরেকটু সুবিধা হ্ত। এটা অবশ্য একেবারে ব্যক্তিগত একটা অসুবিধা, টানা লেখায় আমার একটু চোখ বেধে যায়।
Avatar: *

Re: পুজোর চাপ

ভাল লেখা।
তবে সোসেনের লেখা ও শেষ লাইনের পাঞ্চ দেখে মন এল, যতই ভাবি জীবনকে সহজ করবো, চপতো কমে না।
Avatar: *

Re: পুজোর চাপ

*চাপতো
Avatar: বাবুরাম সাপুড়ে

Re: পুজোর চাপ

বেশ লেখা, এক্বেরে মনের কথা


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন