শিবাংশু RSS feed

শিবাংশু দে-এর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সোনারপুরে সোনার মেলা
    শীত ভাল করে পড়তে না পড়তেই মেলার সীজন শুরু হয়ে গেছে। গুরু এবারে ওমনিপ্রেজেন্ট – গাদাগুচ্ছের মেলাতে অংশ নেবার মনস্থ করেছে। একেবারে সূচনাপর্বেই সোনারপুর মেলা – বোতীনবাবুর দৌলতে তার কথা এখন এখানে অনেকেই জানেন। তো সেই সোনারপুর বইমেলাকেই পদধূলি দিয়ে ধন্য করব ...
  • এন জি রোডের রামলাল-বাংগালি
    রামলাল রাস্তা পার হইতে যাইবেন, কিছু গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা চ্যাংড়া যুবক মোড়ে বসিয়া তাস পিটাইতেছিল— অকস্মাৎ একজন তাহার পানে তাকাইল।  রামলাল সতর্ক হইলেন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করিলেন, তুলিয়া, ক্ষীণকন্ঠে বলিলেন, 'জ্যায় শ্রীরাম।'পূর্বে ভুল হইত। অকস্মাৎ কেহ না কেহ পথের ...
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

অরণ্যে রোদন?

শিবাংশু

একবার কোনও স্বঘোষিত রবীন্দ্রসঙ্গীত অথরিটি এসে জর্জদাকে এই গানের সূক্ষ্মতর দিকগুলি নিয়ে কিছু 'মূল্যবান' দিগদর্শন দিতে এসেছিলেন় জর্জদা সব শুনে বলেছিলেন‚ " বোজসি‚ কানা অন্ধরে পথ দেখায়়" এ ব্যাপারটা দেখা যায়, বিভিন্ন পত্রিকায় কেউ কেউ দায়িত্ব নেন আরেকজনের লেখায় বানানসংস্কার করার। সেহেন দায়িত্বশীল মানুষদের নিজস্ব বানানবোধ, যে রকম দেখি, এক কথায় 'ভয়ানক'। ।
-----------------------------
আমার বাবা বলতেন বানান দেখে একটা লোকের ক্লাস চেনা যায় । মানে বানান শুধু কোনও একটা বিশেষ ভাষার লিখিত রূপের উপর দখল কতোটা‚ সেটার সূচক নয়। এটা তার সমগ্র ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি । একটা মানুষের ইমেজ তৈরি হয় তার এক্সপ্রেশনের মানের উপর় এই এক্সপ্রেশনের মাপদন্ড হলো লিখিত ভাষার উপর কতোটা অধিকার তার রয়েছে সেই দক্ষতায় । কেউ যখন ভুল বানান লেখে‚ তার মানে সে ভুল পড়ে। মানে তার মনোসংযোগের অভাব রয়েছে। যার মনোসংযোগের অভাব রয়েছে‚ তার পক্ষে সৃজনশীল মানুষ হওয়া সম্ভব নয়় বাংলা লেখার ব্যাপারে অনেকের ধারণা বাংলায় যা ইচ্ছে বানান লেখা যায়‚ বোঝা গেলেই হলো । নিজেদের মাতৃভাষার প্রতি এহেন অমর্যাদা যাঁরা দেখাতে পারেন‚ তাঁরাই প্রায়শঃ " হোয়াট বেঙ্গল থিংস টুডে" গোছের মিথ্যা আত্মম্ভরিতায় ভোগেন ।
------------------------
বহুদিন আগে নীরেন'দার ( শ্রদ্ধেয় নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী) সঙ্গে একটা আড্ডা চলা কালীন তিনি বলেছিলেন‚ " আমাদের সময় একটা লোকের মূঢ়তা বোঝাবার জন্য বলা হতো, লোকটার হ্রস্বিদীগ্গি জ্ঞান নেই।" মানে কখন হ্রস্ব-ই হবে কখন ঈ, সে জানে না। অস্যার্থ, সে রকম লোকের উপর নির্ভর করায় ঝুঁকি আছে। এই সময়টিতে তিনি তাঁর বইটি, " বাংলাঃ কী লিখবেন, কেন লিখবেন" এর খসড়া বানাচ্ছিলেন।
----------------------------
তার পরেও দুদশক কেটে গেছে। ছোটোরা লিখিত বাংলার সঙ্গে সম্পর্কচ্যুত হয়ে রোমান অক্ষরে হোয়াটস্যাপ ভাষার শরণ নিয়েছে। যেটা কোন ভাষাই নয়। সেই পুরোনো যুক্তি, বোঝা গেলেই হলো। কালের নিয়ম, তা নিয়ে কিছু মন্তব্য করা অর্থহীন। কিন্তু যে সব মানুষ বাংলাভাষায় কিছু লেখালিখি করতে আগ্রহ বোধ করেন, তাঁদের থেকে একটা প্রত্যাশা থাকে তাঁরা বানানের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। বানান হলো সেই ইঁট, যার উপর নির্ভর করে ভাষার সৌধটি দাঁড়িয়ে তাকে। ইঁট নিম্নমানের হলে সেই গর্বের প্রাসাদ ভেঙে পড়তে সময় নেবেনা। টেলিগ্র্যাফিক ভাষা দেড়শো বছর ধরেই তো আছে। কিন্তু সেটা কখনও একটা কোনও সমৃদ্ধ ভাষার বিকল্প হতে পারেনা। তা ইংরিজি, বাংলা বা হিন্দি, যাই হোক না কেন। এখানে আমি অবশ্য ছাপাখানার ভূতজনিত ব্যতিক্রমী বানানবিভ্রাটের সমস্যাটি বাদ দিচ্ছি।
------------------------
বানান একটা প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান। আদিকালে শ্রুতি থেকে যখন লিখিত ভাষা এসেছিলো, তখন থেকেই দিগগজ মানুষেরা শব্দের ব্যুৎপত্তি, উচ্চারণ ও বানানের মধ্যে সাযুজ্য নিয়ে আসার মহতী কর্মটি করে আসছেন। শব্দ যেহেতু ব্রহ্ম, অসংখ্য মনস্বী মানুষ নিষ্ঠাসহকারে সারা জীবনের গবেষণা, সাধনা থেকে বিভিন্ন ভাষার বানানপদ্ধতিটি প্রামাণ্য করে তোলেন। ভুল বানানে লেখা, মানে সেই সব প্রণম্য মনীষাদের অসম্মান করা। যাঁদের মধ্যে বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে একালের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মুখেরা সবাই আছেন। বানান 'ভুল' করার জন্য কোনও আইনি সাজা হয়না। যেটা হয়, সেটা ব্যক্তিত্বের অবনমন। আজকের দিনে কোনও 'বাঙালিই' আজীবন এক লাইন বাংলা না লিখেও 'বাঙালি' থেকে যেতে পারেন। কোনও ক্ষতি নেই তাতে। যাদৃশী ভাবনা যস্য। কিন্তু কেউ যদি বাংলাভাষাটা লেখার প্রয়াস করেন, তবে একটা ন্যূনতম প্রস্তুতির প্রত্যাশা থাকে। ভাষা শুধুমাত্র 'শ্রাব্য' নয়। তার 'লেখ্য' রূপটিও অত্যন্ত জরুরি।
---------------------------
ব্যক্তিগতভাবে আমরা চারপুরুষের প্রবাসী বাঙালি। বাংলাভাষার মূলস্রোত থেকে বহুদূরে আমাদের এতোদিনের যাপন। কিন্তু বাংলাভাষা আমার কাছে একটা ঐশী অস্তিত্ব। যেহেতু আমার ভূত-ভগবান-ঠাকুর-দেবতা জাতীয় কোনও বাহেগুরুর আশ্রয় প্রয়োজন হয়নি কখনও, আমি আমার মাতৃভাষার মধ্যে আশ্রয় খুঁজি। বাংলাভাষা, তার সেই পবিত্র অক্ষরমালা, আমার পরিচয়, আমার পায়ের নীচের মাটি। ভগ্নমূর্তির দেবতাকে পূজা করাটা যেমন দেবতার অসম্মান মনে করা হয়, ভুল বানানে বাংলা লেখাটাও আমি সেরকম মাতৃভাষার অসম্মান মনে করি।
-----------------------------
ভাষার সঙ্গে নদীর তুলনা করা হয়। ক্রমাগত বহমান, সতত নতুনস্রোতে নিজেকে আবিস্কার করতে চায় সে। সমস্ত মলিনতাকে ভাসিয়ে দিয়ে নিজেকে পবিত্র রাখতে চায়। আমার মাতৃভাষা বাংলা একটি হাইব্রিড ভাষা। নানা ভাষার নিয়মকানুন সমন্বিতভাবে বাংলার বানানপ্রকরণটিকে তৈরি করেছে। আপাতভাবে একটু 'কঠিন' বোধ হতে পারে। কিন্তু মাতৃভাষায় কি কিছুই 'কঠিন' হতে পারে ? জল বা অক্সিজেন কি আমরা আণবিক বিশ্লেষণ করার পর গ্রহণ করে থাকি? হিন্দিভাষাও আমি প্রায় আমার মাতৃভাষার মতো'ই জানি। সে জন্য সেই ভাষার পবিত্রতা রক্ষার প্রতিও আমার সমান দায়বদ্ধতা আছে। তার মধ্যে আমি কোনও 'হিন্দি সাম্রাজ্যবাদে'র প্ররোচনা খুঁজে পাইনা। একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ভাষা হিসেবে, কোনও রকম 'রাজনৈতিক' চাপ ব্যতিরেকে আমি হিন্দিচর্চা করে থাকি। মানুষ হিসেবে তা আমাকে ধনী করে। হিন্দি'র প্রসঙ্গ এ জন্য আনলাম যে এই ভাষায় বানান পদ্ধতির সমানতা বাংলার চেয়ে বেশি। তবু তা আমার মাতৃভাষার প্রতি আনুগত্যটিকে কোনও ভাবে ম্লান করতে পারেনা।
------------------------
বাকিদের কথা বলছিনা। অন্ততঃ যেসব 'বাঙালি' 'বাংলা'ভাষায় মা বা স্ত্রীকে ফোনে মেসেজ করার থেকে অধিক কোনও মাত্রায় এই ভাষাটিকে আপন করতে চা'ন, তাঁরা নিজেদের সামান্য প্রস্তুত করুন। বাংলার মতো একটা সমৃদ্ধ ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা হিসেবে গর্ব করার আগে যৎসামান্য শ্রমস্বীকার করুন, এই টুকু প্রার্থনা রইলো।


454 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: de

Re: অরণ্যে রোদন?

খুবই ভালো লাগলো! চার পুরুষের প্রবাসী আপনি আমাদের অনুপ্রেরণা!
Avatar: ঊমেশ

Re: অরণ্যে রোদন?

কিছু বছর হলো (ঠিক কবে চালু হয়েছে জানি না) মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সার্কুলার জারি করেছে, বানান ভুলের জন্যে নম্বর কাটা যাবে না,
ই-কার, ঈ-কার, উ-কার, ঊ-কার, স, শ, ষ এগুলো সব মাফ যোগ্য, তফাৎ করা চলবে না, পুরো নম্বর দিতে হবে।




Avatar: ঊমেশ

Re: অরণ্যে রোদন?

এক মাস্টার-মশাই এর মুখেই শুনেছি, উনি মাধ্যমিক এর খাতা দেখতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষন হতভম্ব হয়ে থাকার পর বুঝতে পারেন, ছেলেটা উত্তরে "বারি" বলে যেটা লিখেছে, সেটা আসলে "বাড়ী"

কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী পুরো নম্বর দিয়ে হয়েছিল।
Avatar: দ

Re: অরণ্যে রোদন?

সরি ফর মাই পাপমন, কিন্তু এইটে কি ব্লগে বা টইতে যে সব বানান দেখা যায় তার প্রতিক্রিয়ায়? যেমন ডিডির 'র' আর 'ড়' গুলিয়ে যাওয়া? কিম্বা এককের খতরনাক বানানসমূহ দেখে?
Avatar: শিবাংশু

Re: অরণ্যে রোদন?

'দ',
ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। আমি এতোদিনে যতোটা বুঝেছি, 'গুরু'তে যে চর্চা হয় তা সমান্তরাল স্রোতের অংশ। মূলস্রোতের বাধ্যবাধকতা থেকে এখানে কিছু দূরত্ব রাখা হয়। বিষয় যাই হোক না কেন, দৃষ্টিকোণের মধ্যে একটা অন্য মাত্রা থাকে। বিশেষতঃ যাঁরা এখানে নিয়মিত লিখে থাকেন, তাঁদের জন্য এই লক্ষণটি তো অবশ্যই প্রযোজ্য। প্রকাশভঙ্গির মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ পক্ষপাত না থাকলেও নদীর অপর পারের প্রতি সহানুভূতিটি বোঝা যায় । এই বিগ্রহবিনাশী স্পেসটি গুরু'র বিশেষত্ব। এটি থাকা প্রয়োজন। গুরু'র মূলস্রোতে যেসব লেখকের লেখা আমি দেখতে পেলে পড়ে থাকি, যাঁদের মধ্যে আছেন আপনি, সে, সুকান্ত, ডাগদার, অবন্তিকা, তাপস, রঞ্জন, সামরান, সুমেরু, কল্লোলদা এবং অবশ্যই ডিডি। তাঁরা সবাই বানান বিষয়ে রীতিমতো সচেতন। তাই আমার এই লেখা তাঁদের উদ্দেশ্যে নয়। আরো কয়েকজনও হয়তো আছেন, তবে সেটা লেখকনিরপেক্ষ নয়, লেখানিরপেক্ষ। এই সব লেখায় একটা নির্দিষ্ট মননসূচক ঝোঁক কাজ করে। তার দৌলতেই পাঠকের কাছে গুরু'র একটা নির্দিষ্ট নিশে তৈরি হয়। সেই জায়গাটাতেই গুরু সবার থেকে আলাদা।
------------------------
গুরু'তে একটা বিশেষ ধরণের তির্যক গদ্যভঙ্গি খুব প্রচলিত। যেটা পাইদিদি আমাকে জানিয়েছিলো 'খিল্লি' ঘরানার অংশ বলে। এই ধরণের লেখায় মার্জিত, শোভন এক্সপ্রেশনের স্পেস থাকেনা। ফলতঃ বানান ইত্যাদি পোশাকি বাধ্যতাও অনুপস্থিত। বাংলাভাষায় এই ঘরানার গদ্যপদ্য সেই মঙ্গলকাব্যের যুগ থেকেই আমরা দেখতে পাই। বস্তুতঃ আধুনিক বাংলা ভাষা যখন থেকে তৈরি হয়েছে, সেই ঊনবিংশ শতকের লোকপ্রিয়তম বাংলা গদ্যপদ্য এই খিল্লি ঘরানারই অংশ। ব্যতিক্রম বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম বা রবীন্দ্রনাথ বা তত্ত্ববোধিনী সভার বাংলা। এমনকি স্বামী বিবেকানন্দের বেশ কিছু লেখা আছে এই ঘরানায়। অতএব এই ধারাটা বাংলা মূলস্রোতের না হলেও, সমান্তরাল স্রোত হিসেবে ভালোভাবেই সক্রিয়। ডিডি'কে আমি গুরু'র রসরাজ বলে থাকি। তাঁর রসবোধের যে পরিধি সেখানে আর্ষপ্রয়োগের অধিকার তিনি স্বতঃই অর্জন করেন। তবে এক নিয়ম সবার জন্য প্রযুক্ত হতে পারেনা। বিশেষতঃ যাঁরা সেই পর্যায়টিতে এখনও পৌঁছোতে পারেননি। যদিও সিদ্ধান্তগতভাবে গুরু'তে সবার স্পেস আছে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে এখানে অসহিষ্ণু পাঠকের সংখ্যাও বেশি। ফলতঃ দেখেছি প্রাথমিকভাবে লেখা মকশো করতে আসা অনেক লেখকই অস্বস্তিবোধ করেন। অনেকে আর ফিরে আসেন না।
---------------------------
বানান সংক্রান্ত আমার এই লেখাটি খিল্লি ঘরানার অংশ নয়। যদিও আমি মাঝেমধ্যে এখানে লিখে থাকি, আমিও সেই ঘরানার অংশ নই। তবে সেটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি নাহয় এখানে বিরোধী পক্ষ হয়েই থাকি, আমার লেখারাও.... :-)



Avatar: Nina

Re: অরণ্যে রোদন?

ভয় নাগে -- কিচু লিখবনা-- বানাম্ভুল হবে ঃ-(

Avatar: ranjan roy

Re: অরণ্যে রোদন?

নীনা,
নো ইয়ার্কিঃ)) ভুল অইলে শুধরাইয়া দেওয়া অইব নে! ল্যাখো, ল্যাখো!

আমি নিজে বাংলা বানান নিয়ে খুব অস্বস্তি বোধ করি।দময়ন্তী কয়েক বছর আগে হ্রস্বি-দীগ্ঘির নিয়মের ব্যাপারে আঙুল তুলে কয়েক বার আমাকে সচেতন করেছেন।
আর সিকি তো বটেই। এঁদের কাছে আমি ঋণী।
শিবাংশুর মূল বক্তব্যের সাথে একমত।
এদিকে হিন্দি লিখতে গিয়ে আমার সম্বন্ধ পদের প্রয়োগে ভুল হয়( কা, কে, কী'র ভুল)। কিন্তু মাত্রার ভুল( হ্রস্বি-দীগ্ঘি, হ্রস্ব-উ ,) বা ণ-ত্ব, ষত্ব ভুল হয় না। কারণ, শিবাংশু যেমন বলেছেন , হিন্দিতে এগুলো বেশ স্ট্রাকচার্ড।

চল্লিশ বছর বাদে বাংলা লেখায় কেঁচে গন্ডুষ করতে গিয়ে আতান্তরে পড়ি। অনেক কিছু বদলে গেছে।যেমন তীর আর তির। নীরেনবাবুর বইটি ও অশোক মুখোপাধ্যায়ের বানানের বইটি তাকে ধরে রেখেছি।
কিন্তু হাড়ে মজ্জায় আলসেমি!
এবার থেকে ওদের লেখার সময় টেবিলে রাখব। কারণ বানান ভুল হলে কেমন যেন লজ্জা পাই। ঠিক 'সব চলতা হ্যায়' বলে এড়িয়ে যেতে পারিনে।

আর-- কমিউনিকেট তো হয়েছে গোছের যুক্তিটি ফাঁপা লাগে। লেখার উদ্দেশ্য তো শুধু যেমন তেমন করে কমিউনিকেট করা নয়, বেশ গভীরে কমিউনিকেট করা।

অনেক বিপ্লবী কবিতায় শুধু আবেগ থাকে কবিতালক্ষ্মী থাকেন না। বললে শোনায়--বক্তব্য তো ঠিক আছে।
-তাহলে প্রবন্ধ বা প্যাম্ফলেট লিখলেই হয়; কবিতা কেন?
এ পর্য্যন্ত শুনে আমার রিটায়ার্ড কলিগ রামপ্রসাদ বলল--ব্যাংকের চাকরিতে সেই ইন্ডাক্শন ট্রেনিং এর সময় তোকে বলেছিলাম না যে মদ খেয়ে যদি হুতোম প্যাঁচার মতন চুপটি করে মুখটি বুজে বসে থাকবি, একটু হল্লা মচাবি না, গাল দিবি না, হো-হো করে হাসবি না, তাহলে শালা মাল খেলি কেন? জল খা, গেলাস গেলাস জল খা! মদ খেলে মদের ইজ্জত রাখবি।
Avatar: Arindam

Re: অরণ্যে রোদন?

এইরকম একটা লেখার জন্য হাপিত্যেশ করে বসেছিলাম!
Avatar: রৌহিন

Re: অরণ্যে রোদন?

এই লেখাটার সঙ্গে ভীষণভাবে একমত হলাম। বিশেষতঃ "বানান দেখে একটা লোকের ক্লাস চেনা যায় । মানে বানান শুধু কোনও একটা বিশেষ ভাষার লিখিত রূপের উপর দখল কতোটা‚ সেটার সূচক নয়। এটা তার সমগ্র ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি । একটা মানুষের ইমেজ তৈরি হয় তার এক্সপ্রেশনের মানের উপর় এই এক্সপ্রেশনের মাপদন্ড হলো লিখিত ভাষার উপর কতোটা অধিকার তার রয়েছে সেই দক্ষতায় । কেউ যখন ভুল বানান লেখে‚ তার মানে সে ভুল পড়ে। মানে তার মনোসংযোগের অভাব রয়েছে। যার মনোসংযোগের অভাব রয়েছে‚ তার পক্ষে সৃজনশীল মানুষ হওয়া সম্ভব নয়" - এই অংশটার সাথে তো বটেই। কথাগুলো স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন ছিল।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বানান ঠিক রাখার চেষ্টা করি - তবে কিছু কিছু জায়গায় আচমকা ধাঁধা লেগে যায় - আর ঐ রঞ্জনবাবু যেমন বলেছেন, আকরগ্রন্থগুলি নামিয়ে দেখার ব্যপারে আলিস্যি। কিন্তু বানান ভূল পরে নিজে বুঝতে পারলে অথবা কেউ ধরিয়ে দিলে সত্যিই খুব লজ্জা পাই। তবে এই করে অনেক বানানের ভুলটা শুধরেও নিয়েছি।
তবে এই প্রসঙ্গে আরেকটা বিষয়ে আলোচনা হোক - সেটা হচ্ছে বাংলা ভাষা কিন্তু সত্যিই বদলাচ্ছে - বদলাচ্ছে তার বানানরীতিও। যেমন নদী বা পাখী এখন নদি বা পাখি লেখা হয় - এমন কি কোথাও কোথাও দীর্ঘ ঊ এর ব্যবহারও এড়িয়ে চলতে দেখেছি - যেমন রূপের জায়গায় রুপ। এগুলো নিয়ে এখানে একটু আলোচনা হলে ভালোই হয়।
Avatar: aranya

Re: অরণ্যে রোদন?

'নদি' লেখা হয় আজকাল !! বড্ড চোখে লাগছে যে
'পাখি'-টা চলেবল
Avatar: Atoz

Re: অরণ্যে রোদন?

নদি!!!!!
এ যে আমাদের সেই বড়দি মেজদি সেজদি নদি ফুলদি এর নদির সঙ্গে গুলিয়ে যাবে!!!!
ঃ-)
Avatar: রৌহিন

Re: অরণ্যে রোদন?

হ্যাঁ পাখি নিয়ে ততটা আপত্তি না থাকলেও নদি বা তির-ধনুক নিয়ে আমারও আপত্তি আছে - কিন্তু এগুলো বানানরীতিতে কি যুক্তিতে ঢুকল - আদৌ কোন যুক্তি আছে নাকি কোন (বা কোন কোন) প্রভাবশালীর ভুল বানানকে মান্যতা দিতে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হল এগুলো তো জানা দরকার
Avatar: san

Re: অরণ্যে রোদন?

ভাল লাগল। একমত হলাম।
Avatar: Rit

Re: অরণ্যে রোদন?

বেশ কিছুদিন বাংলা লিখছিই না। শুধু ইংরাজী। জার্মানী, রাশিয়া, জাপান, চীন, ফ্রান্স, ইরানে নিজের ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করা যায়। আমাদের যায় না। সত্যেন বোস ইত্যাদি বাংলাতে শখের বিজ্ঞানচর্চা করেছেন। সিরিয়াস কিছু না। এতোদিনেও কিন্তু কোনও বাংলা বিজ্ঞান জার্নাল চালু হল না। বাংলায় বিজ্ঞান মানেই শিশুপাঠ্য বিজ্ঞান নাহয় ঐ জনবিজ্ঞান/বিজ্ঞান চেতনা টাইপ। জীবদ্দশায় বাংলা জার্নাল দেখবো বলে তো বোধ হয় না।
এই দেখো, জার্নাল বা ট্রানজাকশনের কোনও বাংলা প্রতিশব্দ নেই। পত্রিকা তে চলবে না।

Avatar: Rit

Re: অরণ্যে রোদন?

Dissertation এর বাংলা হল অভিসন্দর্ভ।
Avatar: Khan Rafiquzzaman.

Re: অরণ্যে রোদন?

je bhabe BANGLISH egie choleche, bishesh kore GURUte! emon hole Bangla bornomalaito jadughore chole jabe! Banglishe bananer korakori nei, ek bhae likhlei holo. Bishoeta aar hela fella kora thik hobe na. kisu ekta kora uchith.

Avatar: 0

Re: অরণ্যে রোদন?

শিবাংশুদার লেখা এবং রঞ্জনদার আর রৌহিনের মন্তব্য, সবার সাথেই মোটামুটি একমত।

রৌহিনের লেখায় সম্ভবতঃ টাইপোর জন্য একবার 'ভুল পড়ে', আরেকবার 'ভূল পরে' হয়েছে :-)
Avatar: 0

Re: অরণ্যে রোদন?

না, দ্বিতীয় 'পরে'টা ঠিক আছে। আমারই বোঝার ভুল :-)
Avatar: ক্যাপ্টেন হ্যাডক

Re: অরণ্যে রোদন?

আমাদের বাংলা স্যার ‘কি’ আর ‘কী’-র তফাৎ শিখিয়েছিলেন। প্রশ্নের উত্তর যদি হ্যাঁ বা না দিয়ে হয়, তাহলে হবে ‘কি’। আর তা ছাড়া বাকি ক্ষেত্রে হবে ‘কী’।

মানে,
আপনি কি খাবেন? - Will you eat? (উত্তর ‘হ্যাঁ, খাবো’ অথবা ‘না, খাবো না’)
আপনি কী খাবেন? - What will you eat? (উত্তর ‘সাবানের সুপ আর মোমবাতি খাবো’)

এই নিয়মটা জানা সত্ত্বেও, এখনও মাঝেমাঝে হাত ফসকে ভুল হয়। :P


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন