dd RSS feed

Sudip Guptaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সোনারপুরে সোনার মেলা
    শীত ভাল করে পড়তে না পড়তেই মেলার সীজন শুরু হয়ে গেছে। গুরু এবারে ওমনিপ্রেজেন্ট – গাদাগুচ্ছের মেলাতে অংশ নেবার মনস্থ করেছে। একেবারে সূচনাপর্বেই সোনারপুর মেলা – বোতীনবাবুর দৌলতে তার কথা এখন এখানে অনেকেই জানেন। তো সেই সোনারপুর বইমেলাকেই পদধূলি দিয়ে ধন্য করব ...
  • এন জি রোডের রামলাল-বাংগালি
    রামলাল রাস্তা পার হইতে যাইবেন, কিছু গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা চ্যাংড়া যুবক মোড়ে বসিয়া তাস পিটাইতেছিল— অকস্মাৎ একজন তাহার পানে তাকাইল।  রামলাল সতর্ক হইলেন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করিলেন, তুলিয়া, ক্ষীণকন্ঠে বলিলেন, 'জ্যায় শ্রীরাম।'পূর্বে ভুল হইত। অকস্মাৎ কেহ না কেহ পথের ...
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

বেগুন লাল দিশি

dd

বেগুন লাল দিশি
************************************

ধেৎ। বেগুন আবার কুকুরের নাম হয় না কি?

কেনো হবে না শুনি? কবিতায় পড়ো নি "কোনো গুন নেই তার নামটি বেগুন"? পুরো নাম অবশ্য বেগুন লাল দিশি। ভালো নাম বেগুন কেনো সে তো কবিতাতেই পষ্টো বলে দেওয়া আছে। অন্য কুকুরেরা কতো জানে,প্রাজ্ঞ হয়। তোচনের বিরাট আইরীশ সেটার হ্যান্ডশেক করে, ঘনাইএর কুকুরটা তো ডোবারম্যান। খাবার সামনে থাকলে নাক উঁচু করে বসে থাকে। যতোক্ষন খাবার আদেশ না আসছে ততক্ষন খায় না। বড়জোর জুল জুল করে একটু তাকায়। ঘনাই "ইট' বল্লেই অবশ্য বাঘের মতন ঝাঁপিয়ে পরে নিমেষ খাবার শেষ করে সামান্য লেজ নাড়ে। কি গ্রেভিটি। ডোবারম্যান কি না, তাই কোনো আদিখ্যেতা নেই। গম্ভীর হাব ভাব। সন্দেহজনক লোক দেখলেই অবশ্য খুব লোভী লোভী চোখে তাকায় আর ঠোঁট চাটে।

আর বেগুনকে দেখো। ইঁরেজী তো একেবারে বোঝে না। খুব চেঁচিয়ে বললে হিন্দিটা একটু আধটু সমঝায়। নিকালো হিঁয়াসে বলে হুংকার দিলে কেমন থতমত খেয়ে মাথা নীচু করে থাকে - দু একবার এমন দেখেছে রুহি। আর না চেঁচিয়ে বল্লে তো কিছুই বোঝে না। খুব খুসী খুসী মুখে তাকিয়ে থাকে আর পট পটাপট ল্যাজ নাড়ে। আর হ্যাঁ, খাবার মুখের সামনে রাখলে যে ভাষাতেই বলো না কেনো বা যেভাবে খুসী - ঠিক খেয়ে নেবে। বারন করলেও। এমন কি তখন তার ল্যাজ নাড়ার সময়টুকুও থাকে না। না জানে হ্যান্ডশেক করতে বা দু পায়ে দাঁড়াতে বা ডিগবাজী খেতে। বাবা এনে দিয়েছিলো একটা বই- কুকুরের ট্রেইনিংএর এর উপর। ছবি দিয়ে পরিষ্কার করে লিখে দেওয়া আছে কেমন করে বিস্কুটের টুকরো অল্প অল্প করে দিয়ে ,উৎসাহ দিয়ে ,আর জোর গলায় "নো নো নো" বলে আস্তে আস্তে অনেক কিছুই শেখানো যায় কুকুরদের। ধুর, কোথায় কি। বেগুন শুধুই ঘাড় কাৎ করে বিস্কুটের টুকরোগুলোর দিকেই তাকিয়ে থাকে। রুহির ফ্রকের পকেটের মধ্যে লুকিয়ে রাখলেও ব্যাটা গন্ধ শুঁকে ঠিক টের পায়। পড়াশুনায় মোটেই মন নেই। তাই কি না নাম বেগুন।

আর লাল? সে তো গায়ের রং লাল বলে। পদবী যে দিশি তার কারন বেগুন জাতে একেবারেই দিশি। রুহিরা থাকে অব্শ্য বেশ ভালো পাড়ায় - বাড়ীতে বাড়ীতে কি সব ভালো জাতের কুকুর।তারা রাস্তায় হাঁটে আর পথচারীরা রীতিমতন সম্ভ্রম ভরে তাকায়,ঘাড় ফিরিয়ে দেখে।তাদের নিয়ে যারা হাঁটতে বেড়ায় তাদেরই বা কি জাঁক। এদের জন্যেই রাস্তার কেলো ভুলোদের মধ্যেও কেমন বেশ লোমোশ আর তাগড়াই চেহারা। এই তো সেদিন বড়ো দেওদার গাছটার নীচে দেখলো পরিষ্কার ডালমেশিয়ান কুকুরের সাদা কালো ছোপ ছোপ চেহারার এক বাচ্চা কুকুর। ওটাকে তখুনি বাড়ী নিয়ে গেলো ফুলকি, না কি তার নাম রেখেছে খিচুরি। (তো রুহির কুকুরের নাম বেগুন হলে আর আপত্তির কি আছে?)। কিন্তু আমাদের বেগুনের চেহারায় ওরকম দো আঁশলা ভাব মোটেই নেই। একটু খানি গাট্টা গোট্টা চেহাড়া, খাড়া দুটো কান, ব্যঁকানো ল্যাজ আর ছোটো লোম।গলার স্বরটা বেশ মিহি। পাড়া কাঁপানো ঘৌ ঘৌএর বদলে কেমন একটা সুস্থির ভেক ভেক করে আলতো ভাবে চেঁচায়।

স্কুলের ম্যাগাজিনে রচনা লিখতে হবে। রুহি ভেবে পায় না কি নিয়ে লিখবে। দার্জিলিং ভ্রমন আর পুরী ঘুড়ে এলাম - এরকম লেখা হয় অন্ততঃ তিনটে। গতবার রুষার "দার্জিলিং ফেরৎএর গল্প"টাই সব থেকে ভালো হয়েছিলো, কিন্তু রুষা মোটেই যায় নি দার্জিলিংএ। ও তো দেওঘর গেছিলো পিসীর বাড়ী। পরে জিগ্গেশ করলে রুষা খুব অবাক হয় "ও মা, দার্জিলিং নিয়ে লিখতে হলে আবার দার্জিলিং যেতে হয় নাকি? ঐ মোটা কৃষ্ণাও তো পুরী গেছিলো ,কালো কুষ্টি হয়ে ফিরলো। এসেই "দার্জিলিং থেকে লিখছি" বলে লিখে দিলো।" বাবা শুনে বললো "তা তুই বেগুনকে নিয়েই লেখ না কেনো? খেলিস তো সারাদিন ওর সাথেই।"

বেগুন কিন্তু রুহির বাড়ীর কুকুর নয়। সে স্বাধীন চেতা রাস্তার কুকুর - ঘুড়ে বেড়ায় পাড়াময়। বেপাড়ার কুকুর আর কাগজকুড়ানী দেখলেই চটে কাঁই হয়ে যায়। বেশীর ভাগ সময়টাই কাটায় রুহির বাড়ীর দোরগোড়ায়। কি ঘুম যে ঘুমায় ভাবা যায় না। চোর আসুক বা ডাকাত - জামাইবাবু কি পিসেমশাই - সবাইকেই ঐ বেগুনকে ডিঙিয়েই বাড়ীতে ঢুকতে হয়। ঘুম ভাঙিয়ে দিলে বেজায় বেজার মুখে বসে থাকে আর ঘন ঘন হাই তোলে। দরজার সামনের ঐ পাপোষটাই ওর বিছানা।

বেগুনকে নিয়ে কি লিখবে ভেবে পায় না রুহি। বেগুন তো জানে না কিছুই। বেগুনের বন্ধু বান্ধবেরাও যেনো ক্যামন গোছের। সব থেকে প্রিয় সংগী - তার নাম মাকু। একেবারে হাড় জিরজিরে তেলেভাজা কুকুর। তার উপর নীচের পাটীর দাঁতগুলো সব সময় বেড়িয়েই থাকে। কেমন একটা চোর চোট্টা ভাব। সারাক্ষন মাথা নীচু করে উপর দিকে তাকিয়ে থাকে -যেনো বুড়ো মানুষ - চশমার ফাঁক দিয়ে দেখছে সবাইকে। বিস্কুট সামনে ধরলেও খুব ভয়ে ভয়ে খায়। আর এতো রুহির চোখের সামনেই দেখা - একটা বদ মেজাজী কাক কঃ কঃ বলে ডানা ঝাপটে বকে ঝকে মাকুকে সড়িয়ে দিয়ে ওর খাবারটা খেয়ে ফেলছে। মাকু দাঁত বার করে ভীতু ভীতু চোখে দেখছে কিন্তু সেই রাগী কাকটাকে তাড়িয়ে দেবার সাহস নেই। অথচ এই মাকুই কি আরামসে বিক্রমদার নতুন কেনা জুতোর এক পাটী চিবিয়ে একশা করেছিলো। বিক্রমদা নতুন জুতো মশমশিয়ে পাড়ার সবাইকে দেখিয়ে ,দাম টাম বলে,তারপর জুতো খুলে ব্যাডমিন্টন কোর্টে পর পর তিন গেম খেলে এসে দেখে কোর্টের পাশে অঘোরে ঘুমাচ্ছে বেগুন আর তার পাশে বিক্রমদার বাঁ পাটীর জুতো। আরে ডান পাটীর জুতোটা গেলো কই? খোঁজ খোঁজ। শেষটায় পাওয়া গেলো ডাস্টবিনের পিছনে - আধ খাওয়া অবস্থায়। গোগোলই দেখেছিলো মাকু নাকি এসে মুখে করে নিয়ে গেছিলো ঐ জুতো। সদ্দ কেনা বার্নিশ মাখানো চকচকে জুতো দেখে মাকু আর লোভ সামলাতে পারে নি - তাছাড়া রাতের বেলা তো, কোনো কাকের উৎপাতও নেই।মাকু তাই নিরিবিলিতে বসে নতুন জুতোটায় একটু শান দিচ্ছিলো।নিরীহ জুতোর একেবারে দফা রফা। বেচারা বিক্রমদা তো প্রায় কেঁদেই ফেললো। রাগে ক্ষোভে ফিরে এসে ভালো জুতোটাও ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কাউকে না পেয়ে, কি অন্যায়,কি অন্যায়, বেগুককেই ধাঁ করে এক লাথি মেরে বসলো। বেগুন তো ঘুম থেকে ধড়মড়িয়ে উঠে ডিগবাজী খেয়ে একাক্কার। তার যতোটা ব্যাথা লেগেছিলো দুঃখ হয়েছিলো আরো বেশী । অতো ভালো চকচকে জুতো - একটু চেটেও দেখে নি,কিন্তু মার খেতে হোলো তাকেই। আর বিক্রমদা গোগোলকেও কিছু বলতে পারলো না - একে তো গোগোল খুবই ছোটো - তায় তার দিদির সাথে বিক্রমদার - খুবই - যাকে বলে বন্ধুত্ব চলছিলো।
সামনের গলিতেই থাকে বাঘা কুকুর। তার সাথে বেগুনের খুব পুরাতন,বনেদী ঝগড়া। মাঝে মাঝেই দু জনের দেখা হয়ে যায়। ব্যাস। রাগে গড় গড় করতে করতে দুজনেই এ ওর ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পরে। উফ। তারপর কি তুমুল লড়াই আর কি ভয়ানক ক্যাঁও ম্যাও চিৎকার। লোক জমে যায়। শান্ত আর উদাসীন স্বভাবের বেগুনকে যেনো রাক্ষসে পায়। কিন্তু বাঘার সাথে পেরে ওঠে না।কতোবারই তো রক্তমাখা কান নিয়ে কুঁই কুঁই করতে করতে রুহির কাছে এসে হাজির হয়। জ্বলুনি হয় না ও রকম অ্যান্টিসেপটিক আর তুলো ব্যান্ডিজ লাগিয়ে দেয় রুহি সযত্নে।

শান্ত ঘুমকাতুড়ে বেগুনের আরেক ব্যাপারেও খুব কড়া মতামত রয়েছে। পোষাকের ব্যাপারে বেগুন একেবারে ক্ষমাহীন সনাতনপন্থী। যদি কেউ ভুলেও একটু বেশী রং চংএ পোষাক পরেছে তো তার আর রক্ষা নেই। এই ত্তো সেদিন, খুসীদিদি একটা ঝলমলে সোনালী রঙের সালোয়ার কামিজ পরে বেড়িয়ে ছিলো। সত্যি বলছি, মোটেও মানাচ্ছিলো না খুসীদিদিকে। তাই বলে বেগুন অমন অসভ্যতা করবে? মাকু ,হুঁকো,গুলতি আর আরো কয়েকটা কুকুরদের জুটিয়ে এনে বেগুন ভেউ ভেউ খ্যাক খ্যাক করে বিচ্ছিরি সব আওয়াজ করে পিছু নিলো খুসীদিদির। পাড়ার লোকে হেসে বাঁচে না। কাঁদতে কাঁদতে খুসীদিদি তক্ষুনি বাড়ীর দিকে দৌড়। খুসীদিদির মা তো আরোই তাকে ধমকে দিলো। "বেশ হয়েছে। তখনই বলেছিলাম,অমন চোখ ঠিকরানো রঙের ড্রেস পরো না। তা না - এরকম না কি ক্যাটরিনা কইফ পরে। মার কথা তো শুনবে না, নাও এখন বেগুনের কথাই শোনো"। সেই আবার পোষাক বদলিয়ে খুসীদিদি একটা ফ্যাকাশে গোলাপী রঙের ড্রেস পরে বার হোলো। বেগুনকে দেখে কি রাগ - চোখ থেকে আগুন একেবারে ঠিকরে পরছে। তো বেগুনের বয়েই গেলো। কিছুই বোঝে না - এরকম ভ্যাবলাকান্ত মুখ নিয়ে বসে রইলো। রুহি কিন্তু স্পষ্ট দেখেছিলো আড়মোরা ভেঙে ঘুমাতে যাবার আগে বেগুনের কি ফিচেল হাসি। চোখে চোখ পরে যাওয়ায় কান দুটো ছুচলো করে ল্যাজ নেড়ে বল্লো "ভেউ"

আর আরো আরেক্দিনের কান্ড শোনো। মুখার্জী কাকু বেড়িয়েছেন একটা কুচ কুচে কালো শার্ট পরে। ধব ধবে ফর্সা রঙের কাকুকে কি দারুন স্মার্ট লাগছিলো। অমনি কোথার থেকে বদের হাঁড়ী বেগুন এসে হাজির। কাকু র পিছন পিছন চোখ কপালে তুলে ভেউ ভেউ খ্যাক খ্যাক করে নানান বিশ্রী আওয়াজ করে পিছু নিলো। কাকু বার বার পিছন ফিরে দেখেন, লজ্জায় ওনার গাল দুটো লাল হয়ে গেছে ,পারলে দৌড়েই চলে যান এমনি অবস্থা। কিন্তু বেগুন কিন্তু টিট্কারি দিয়েই যাচ্ছিলো।

আচ্ছা, তোমরাই বলো, পাড়ার কুকুরের পারমিশন নিয়ে আমাদের ড্রেস করতে হবে ?

বেগুন যখন জন্মেছিলো সে সময়ে আমি ক্লাস সিক্সে পড়তাম। আমি টুইশনিতে গেলে আমাকে কখনো একা ছাড়তো না বেগুন। বাঘাদের পাড়া পর্যন্ত্য ল্যাজ নাড়তে নাড়তে আমার পিছু পিছু চলতো। বাবা বল্তো "পাঁচিলের উপর দিয়ে দেখি রুহির বিনুনী আর বেগুনের ল্যাজ - দুটোই কেমন টিং টিং করে নাচতে নাচতে চলেছে।" পাড়াতে কোথাও আমি একা যেতাম না। বেগুন আমার সর্বক্ষনের সংগী।যখন ছোট্টো তৃণা আমায় আধো আধো স্বরে তুতুর দিদি বলে ডাকলো তখন আমি কিন্তু মোটেও রাগি নি। খুবই খুসীই হয়েছিলাম। "তুতুর দিদি" মানে কুকুর দিদি। তো পাড়ার ছোটো বাচ্চাদের কাছে তুতুর দিদি নামটাই বেশ চালু হয়ে গেছিলো। এখনো পাড়ায় আমায় কয়েকজন তুতুর বলে ডাকে। দু একজন আমায় জিগগেশও করে "আচ্ছা, নামটা তিতির হবে না? " আরেক জন জিগগেশ করেছিলেন "তুতুর নামটাতো বাঙালী ঠেকছে না? আফ্রিকান কিছু কি? বুদ্ধদেব গুহের কোন বইটাতে আছে?"

লম্বা ছুটীর পর বেড়িয়ে এসে বাড়ী ফিরলেই কোথা থেকে জানি খবর পেয়ে ছুটে আসতো বেগুন। ল্যাজ নাড়ার কি ধূম রে বাবা। মনে হোতো কোমড় থেকে পিছনটাই পুরো খুলে আসবে। বলতাম "থাম।থাম। বেগুন রে। তোর ল্যাজটাই এবার খসে পরবে"। থামতেই চাইতো না। আর তার সাথে ভ ও ও ও ও উ করে তার অভিমানের বকুনি আর শেষ হতো না। জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন আদর করলে তবে ও শান্ত হোতো।
ক্লাস টেন পাশ করে বারো ক্লাস। টুইশনী আর তার সাথে আরো বায়নক্কা। এবারে কলেজে উঠেছি। বিনিনী বাঁধা কবেই বন্ধ। আর সেই রিবন আর প্রক পরা ছোট্টো মেয়ে তো নই। বেগুন কিন্তু তাও আমাকে একা ছাড়ে না। আমি বড় হচ্ছি আর বেগুন বুড়ো হচ্ছে। বাঘাটাকে দেখি না অনেকদিন হোলো।বেগুনের প্রিয় বান্ধবী মাকুও আর নেই। পাড়ার মেয়েরা এখন কতো সব অদ্ভুত পোষাক পরে, ছেলেরাও। শুধু দেখি বেগুন শুধু মুচকি হাসে। মেনে নিয়েছে সব কিছুই। আর রাগারাগি করে না। তৃনা ও এখন বড়ো হচ্ছে - কতো যে জমকালো ড্রেস পরে। বেগুন কিছুটি বলে না। খুসী দিদির বিয়ে হয়ে চলে গেছে আমেরিকায়। মুখার্জী কাকুরা রিটায়ার করে সল্ট লেকে।
আমাদের বাড়ীর দরজার সামনেই পাপোষে এখনো বেগুন ঘুমায় ভোঁশ ভোঁশ করে। আরো বেশীক্ষন। ডাকাডাকি করলেও বিশেষ উঠতে চায় না। বিরক্ত অতিতিরা ওকে ডিঙিয়েই ঘরে ঢোকে। বেগুনকে নিয়ে স্কুল ম্যাহাজিনে আর লিখে উঠতে পারি নি। দেখো তোমাদের জন্য এখানে লিখে দিলাম।
বেগুনকে জিজ্ঞেশ করি "বেগুন, তুই একদম বুড়ো হয়ে গেলি? না রে? " শুনে বেগুন সেই মুচকি হাসে। ইকটু ল্যাজ নাড়ে আর বলে "ভেক"। তোমারা তার মানে বোঝো?
************************************************************************




699 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 11 -- 30
Avatar: anandaB

Re: বেগুন লাল দিশি

২০১৫ সালে সুকুমার রায় লিখলে হয়ত এরকম-ই কিছু একটা দাঁড়াত

বাড়াবাড়ি করে ফেল্লাম? কিই বা আসে যায়, ব্যক্তিগত মতামত-ই তো আফটার অল
Avatar: Nina

Re: বেগুন লাল দিশি

উফ কি অসম্ভব ভাল লেখা রে ভাই-- মুচমুচে নুন গোলমরিচ মাখা -আহা! বাহা বাহা
Avatar: ShuNya

Re: বেগুন লাল দিশি

reDiote haThaat ekaTaa purono গান...
Avatar: shuNya

Re: বেগুন লাল দিশি

ভারি বদ।

রেডিওতে হঠাত একটা পুরোনো গান
Avatar: নেতাই

Re: বেগুন লাল দিশি

ক্ষি দাড়ুন
Avatar: mumu

Re: বেগুন লাল দিশি

আমার ও এক খান এইরকম দিশি ছেলো। তার নাম ছিলো লালি,খুব ভালো লাগলো।থ্যন্ক্যু!
Avatar: kk

Re: বেগুন লাল দিশি

বাঃ, বেজায় ভালো হয়েছে তো!
Avatar: Atoz

Re: বেগুন লাল দিশি

খুব ভালো, খু উ উ উ ব ভালো।
Avatar: ক্যাপ্টেন হ্যাডক

Re: বেগুন লাল দিশি

জ্যাকি পড়লে খুব খুশী হত।
Avatar: Sharadwat Manna

Re: বেগুন লাল দিশি

জ্যাকিকে জোর করে খোজা করা হল... ধুর, আমার একদম ভালো লাগেনি...
Avatar: ক্যাপ্টেন হ্যাডক

Re: বেগুন লাল দিশি

ও আমাকে লিখিত সম্মতি দিয়েছিল। দেখবি???
Avatar: শারদ্বত

Re: বেগুন লাল দিশি

ভারি উপাদেয় লেখাটা...

(কিন্তু বানানের ভুলগুলো বড্ড কাঁকরের মত কির কির করছে, একটু নজর দেবেন প্লিজ)
Avatar: pipi

Re: বেগুন লাল দিশি

বাহ! খু উ উ ব মিত্তি! আমারও ছিল এইরকম রোডেশিয়ান কয়েকটা - লালি, ভুলু, কেলো, নোড়া, রোডেন ইত্যাদি। আশা করি সেই সেখানের আলো ঝলমলে সবুজ পার্কে তারা এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শান্তিতে।
Avatar: শারদ্বত

Re: বেগুন লাল দিশি

হ্যাঁ দেখবো @ক্যাপ্টেন :)
Avatar: robu

Re: বেগুন লাল দিশি

বড্ড মায়া গো লেখাটায়।
সুমনের একটা গান মনে পড়ে গেল।
Avatar: pragati

Re: বেগুন লাল দিশি

দিব্য!
Avatar: Pallin

Re: বেগুন লাল দিশি

ডিডিদা , পড়ে দুইটা জিনিষ হল - মজা আর মায়া ! :) ।
Avatar: san

Re: বেগুন লাল দিশি

দারুণ !!
Avatar: Tim

Re: বেগুন লাল দিশি

আমরা এ মায়া, মজার সময় পেরিয়ে এসেছি অনেককাল। এখন এক অন্য যুগ। খুব ভালো লাগলো ডিডিদা।
Avatar: rabaahuta

Re: বেগুন লাল দিশি

এই লেখাগুলো মাঝে মাঝে পড়ে নেওয়া মানবজাতির পক্ষে ভালো। মর্মপীড় বলেছেন।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 11 -- 30


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন