অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

অবন্তিকা

[কেন 'নারী-ধর্ষণ' তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তাই প্রথমেই শিরোনাম সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থনে বলে রাখি, যেহেতু ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি ধর্ষণ ব্যাপারটা জেন্ডার-নিউট্রাল একটা ইস্যু, যেহেতু ভারতে ধর্ষণের সংজ্ঞার আরও আরও পরিমার্জন কাম্য বলে মনে করি, আর এই লেখাটা কেবলমাত্র মহিলাদের ধর্ষণ প্রসঙ্গেই একটা ওভারভিউ, তাই এ হেন নাম l
লেখাটা প্রাথমিকভাবে লিখেছিলাম মার্চ মাসে, রাণাঘাট কাণ্ড ও সুজেটের মৃত্যুর অব্যবহিত পর l একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের কারণে শেষমেষ হয়নি l তারপর বেশ কিছুদিন যাবৎ লেখাটা জাস্ট পড়েই ছিল l জয়ন্ত দা পত্রিকার জন্য লেখা চাইলে বলি, ধর্ষণ সম্পর্কিত একটা লেখা হাতে আছে, কিন্তু সেটা স্বাস্থ্যের বৃত্তের জন্য কতটা উপযুক্ত হবে জানিনা l অরুণার মৃত্যু ও আরও সামান্য কয়েকটি তথ্যের সংযোজন করে, ওনাকে পাঠাই l উনি কয়েকদিনের মধ্যে জানান লেখাটা অগস্ট ইস্যুর কভার স্টোরি করতে চান l
কারো কারো পক্ষে যেহেতু পত্রিকার কপি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই জয়ন্ত দার অনুমতিক্রমে লেখাটা ব্লগে দিলাম l উপরন্তু সাইটের মানুষজনের মনোজ্ঞ মতামত পেলে নিজের জানার পরিধিও, বলা বাহুল্য, ব্যপ্ত হবে l
লেখাটার জন্য গুরুচন্ডা৯-র 'প্রসঙ্গ ধর্ষণ' বই থেকে কয়েকটি তথ্য নিয়েছিলাম, তাই এই সুযোগে সৈকতদা আর ঈপ্সিতাকেও ধন্যযোগ l ]




http://s22.postimg.org/fk304nt8x/Scan_sb0002.jpg



সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইটের জনপ্রিয় গ্রুপে একখানা সুতো খোলা হয়েছিল l একটি নগণ্য সমীক্ষা l জানতে চাওয়া হয়েছিল- গ্রুপের মহিলা সদস্যরা গত ২০১৪ সালের ৩৬৫ দিনে ঠিক কতবার ইভটিজিং-এর মুখোমুখি হয়েছেন l রাস্তায়, অফিসে, বাজারে, কলেজে, পাবলিক ট্রান্সপোর্টেবিবিধ নোংরা মন্তব্য, খারাপ দৃষ্টিবা গায়ে হাত- এ সমস্তই মাথায় রেখে স্রেফ একটা সংখ্যার উল্লেখ l বলা বাহুল্য, উত্তরগুলো ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো l মহিলাদের কাছ থেকে জবাব আসছিল- ‘অসংখ্যবার, গোনা সম্ভব নয়’, ‘মানেটা কী? মোর দ্যান হান্ড্রেড টাইমস আই গেস!’, ‘প্রায় প্রত্যেকদিনই কিছু না কিছু’- জাতীয় l এবং পুরুষরা কেউ বিস্মিত হচ্ছিল, কেউ বিশ্লেষণ করতে চাইছিল এরকমটা কেন, আর কেউ কেউ জানতে চাইছিল খারাপ দৃষ্টি - ভালো দৃষ্টির তফাৎ করা যায় কীভাবে l না l সত্যিই এমন কোনো মানদণ্ড নেই বটে l পুরো ব্যাপারটাই ভুক্তভোগীর অনুমান বা দৃষ্টিভঙ্গী-নির্ভর l প্রসঙ্গত, একটা গল্প মনে পড়ে গিয়েছিল l বলি...২০০৮ সালে, আমেরিকান উড়ানে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী ঘুমোতে ঘুমোতে যাচ্ছিল l ঘুম ভাঙার পর লক্ষ্য করল, জনৈক পুরুষ সহযাত্রী তার দিকে হাসি হাসি মুখে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে l মেয়েটি সন্দিগ্ধ হলো ও আবিষ্কার করল ওই পুরুষটি তার দিকে তাকিয়ে হস্তমৈথুন করছে l পরিশেষে মেয়েটির চুলে বীর্যপাতও করে ফেলল l এরোপ্লেনটি নামার সাথে সাথে ভিকটিম পুলিশ ডেকেছিল, ও পরবর্তীকালে ক্ষতিপূরণও চেয়েছিল l তরুণী জানিয়েছিল, সহযাত্রীর দৃষ্টিযে ‘স্বাভাবিক’ ছিল না, সেটা প্রথম থেকেই আন্দাজ করছিল সে l ঘটনা সামান্য হোক বা সাজানো, ভিড় বাসে বৃদ্ধের করস্পর্শ স্নেহসূচক নাকি যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ, এ তারাই বোঝে যারা অহরহ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার l মহিলার প্রোফাইল পিকচারে অন্তর্বাসের দৃষ্টিগোচরতা নিয়ে অবলীলায় মন্তব্য করাও তো একপ্রকার ইভটিজিং-ই, সে কমেন্টকর্তা ‘মজা করেই’ লিখে ফেলুক অথবা ‘ভুল করে’ ! মহিলাদের প্রতি এইসব ছোটোখাটো যৌন হেনস্থাই কিন্তু বড় বড় আকার নিতে সক্ষম l এমনকি ধর্ষণ করতে বা ধর্ষণে ইন্ধন যোগাতেও l

এ দেশে ক্রমে ক্রমে পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত ধর্ষণের সংজ্ঞা অপরাধীদের সাজা দেওয়ার পথকে প্রশস্ত করছে ঠিকই, কিন্তু সার্বিকভাবে ঘটনার বাহুল্যকে কমাতে পারছে কি? কী বলছে স্ট্যাটিসটিক্স? কী কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? স্রেফ আর স্রেফ সংখ্যাতত্ত্ব? সম্প্রতিআন্তর্জালে ভাইরাল হয়ে যাওয়া, লেসলি উডউইন-এর তথ্যচিত্র ‘ইন্ডিয়া’জ ডটার’-এর সূত্রে নির্ভয়া কাণ্ডে অভিযুক্ত মুকেশ সিং-এর সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়ে পড়ল l নির্ভয়া ও তার পুরুষসঙ্গী ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র রাতে যে মিনি বাসটিতে ওঠে, মুকেশ তার চালক ছিল l ধরা পড়ার পর প্রাথমিকভাবে সে অভিযোগ অস্বীকার করে, কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তার বয়ান মিথ্যে প্রমাণিত হয় l বক্তব্যে মুকেশ জানায়,“ধর্ষিত হওয়ার সময় মেয়েটির উচিত ছিল না পাল্টা প্রতিরোধ জানানো l বরং মুখ বুজে থাকা ও ধর্ষণ করতে দেওয়া উচিত ছিল l তাহলেই তাকে ‘করে’ ছেড়ে দেওয়া হতো আর ওই ছেলেটাকে (সঙ্গী) শুধুমাত্র মারধর করা হতো l এক হাতে তো তালি বাজে না, সবসময় দুটো হাতই লাগে l একজন ভদ্র মেয়ে কখনও রাত্তির ন’টার সময় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় না lযেকোনো ধর্ষণকাণ্ডে ছেলেটির (ধর্ষকের) চেয়ে মেয়েটির (ধর্ষিতের) দায় অনেক বেশি থাকে l ছেলে আর মেয়ে কখনও সমান হয়না l ঘরের কাজকর্ম, পরিবারের দেখভাল এইসব মেয়েদের কাজ, রাত্তিরবেলা ডিস্কোয় যাওয়া, বার-এ যাওয়া, খারাপ কাজ করে বেড়ানো বা বাজে পোশাক পরা নয় l আসলে মাত্র ২০ শতাংশ মহিলাই ভালো হয় যারা এগুলো করে না l (ধর্ষকের) ফাঁসির আদেশ হলে পুরো পরিস্থিতিটা মেয়েদের পক্ষে আরো খারাপ হতে পারে l আগে ধর্ষণ করার সময় বলা হতো- আরে ছেড়ে দে, এ কাউকে বলবে না; এখন ধর্ষণ করার পর ছেলেরা, মানে যারা দুষ্কৃতী গোছের, ধরা পড়ার ভয়ে মেয়েটাকে খুন-ই করবে l মেয়েগুলো মরে যাবে…” (সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ) l মুকেশের বক্তব্য সমাজের চেহারাটাকে আরেকটু স্পষ্ট করে দিল l বোঝা গেল, বিভিন্ন সামাজিক স্তরে আর্থ-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিত নির্বিশেষে, মানুষ (মানে পুরুষ, এমনকি নারীও) এই জাতীয় অশিক্ষার শিকার, যা ধর্ষণ ঘটায় এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধর্ষণকে প্রশ্রয় দেয় l


কাকে দিয়েছি রাজার পার্ট !!!
....................................
১) ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র দিল্লি-গণধর্ষণ প্রসঙ্গে ডিফেন্স-এর উকিল এ.পি.সিং:
যদি আমার নিজের মেয়েবা বোন বিয়ের আগে যৌনতা করত এবং মাঝরাতে ছেলেদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াত আমি তাকে ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতাম l এইরকম ঘটনা ঘটতেই দিতাম না l সমস্ত অভিভাবকেরই এরকম মানসিকতা থাকা উচিত l
২) বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ:
আমাদের (হিন্দুদের) উচিত মুসলিম মহিলাদের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে তাদের ধর্ষণ করা l
৩) উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়াম সিং যাদব:
ছেলেরা তো ছেলে l ওমন ভুল করে থাকে l আরে বন্ধুত্ব চলে গেলেই মেয়েরা ছেলেদের ওপর ধর্ষণের অভিযোগ আনে !
৪) মুম্বই-এর পুলিশ কমিশনর সত্যপাল সিং:
পঠনপাঠনের মধ্যে সেক্স এডুকেশন ঢোকানোর ফলে দেশে মহিলাদের প্রতি অপরাধ বাড়ছে l
৫) পুরীর শঙ্করাচার্য:
এককালে ভাইবোনেরা একসাথে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটত না l এখন মানুষের আবেগ, আদর্শ সবকিছুই বদলে গেছে l আমাদের সংস্কৃতি আমাদের শেখায় মহিলাদের সম্মান করতে- যে নারীরা আমাদের মা, বোন l এমন ভয়ানক ঘটনা (দিল্লিকাণ্ড) নিশ্চয় একদিনে ঘটে না l মানুষ উন্নয়ন ও আধুনিকতার নামে সভ্যতা-সংস্কৃতির সংকীর্ণ রেখাটিকে অতিক্রম করে বলেই ঘটে l
৬) মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বাবুলাল গৌর:
পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে মহিলারা জিন্স-টিশার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়, পুরুষদের সাথে নাচানাচি করে, মদ খায়- সেটা তাদের কালচার l ওসব ওই দেশে চলে, এ দেশে নয় l এখানে এখানকার রীতিনীতি মেনে চলাই ভালো l
৭) গোয়ার এমএলএ বিষ্ণু বাঘ:
যদি মডেলরাও এসে পার্লামেন্টে যোগ দিতে থাকে তাহলে তো গোটা পার্লামেন্ট-এই ফ্যাশন শো বসে যাবে ! মালাইকা অরোরা, রাখি সাওন্ত-এর মতো ফ্যাশন দুনিয়ার মহিলারা ভোটে জিতে পার্লামেন্টে ঢুকে পড়লে দেশে দাঙ্গাও বেঁধে যেতে পারে l
৮) সমাজবাদী পার্টির এমএলএ আবু আজমি:
অবিবাহিত নারী পুরুষদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে আইনত অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত l আমার স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে গ্রামীণ ভারতে শহুরে দেশের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা অনেক কম ঘটত l
৯) স্বঘোষিত ঈশ্বরের দূত আশারাম বাপু:
শুধুমাত্র পাঁচছ’জনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই l ধর্ষিতা ও ধর্ষণকারী উভয়েই সমান অপরাধী l আক্রান্ত হওয়ার আগে মেয়েটির উচিত ছিল ধর্ষণকারীদের ভাই বলে ডাকা এবং করুণাভিক্ষা করা l এটা তার সম্মান ও জীবনকে রক্ষা করতে পারত l এক হাতে কি তালি বাজে ? বাজে না বোধ হয় l
১০) জামাত-ই-ইসলামি-হিন্দ:
কো-এডুকেশন সিস্টেম বন্ধ হওয়া উচিত এবং মেয়েদের জন্য পৃথকভাবে সমস্ত স্তরে শিক্ষার সুযোগ তৈরী হওয়া উচিত l শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পরিশীলিত পোশাক চালু করা উচিত l
১১) বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রেসিডেন্ট অশোক সিংহল:
ব্রিটিশ আমলের আগে মহিলাদের সতীত্ব অটুট থাকত l এই মডেলদের জন্যই এখন তা বিঘ্নিত হয়ে গেছে l
১২) ছত্তিশগড় মহিলা কমিশনের চেয়ার-পারসন বিভা রাও:
মহিলারা শরীর প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রীতিকর ক্রিয়াকলাপে প্রলুব্ধ করে l মেয়েরা বুঝতে পারছে না কি ধরণের বার্তা তারা সমাজের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে l
১৩) বিএসপি নেতা রাজপাল সৈনি:
মহিলা ও শিশুদের হাতে ফোন দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই l ফোন তাদের মনকে বিক্ষিপ্ত করে l আমার মা, স্ত্রী, বোন সকলেই তো ফোন ছাড়া দিব্যি কাটিয়েছে l
১৪) খাপ পঞ্চায়েত নেতা জিতেন্দ্র ছাতার:
দারিদ্র্য, নেশাগ্রস্ততা বা যুব সমাজের খারাপ মেলামেশা ধর্ষণের মূল কারণ l তবে চাউমিন খেলেও হরমোনের সমস্যা দেখা দেয় যা ধর্ষণের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ l
১৫) হরিয়ানার খাপ পঞ্চায়েত সদস্য সুবে সিং:
আমার মনে হয় মহিলাদের ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করে নেওয়া উচিত যাতে স্বামীরা তাদের যৌন চাহিদা মেটাতে পারে l এর ফলে তাদের আর অন্য পুরুষের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না l এভাবেই ধর্ষণ বন্ধ করা সম্ভব l
১৬) কংগ্রেসের এমপি সঞ্জয় নিরুপম, স্মৃতি ইরানীর উদ্দেশে:
কাল পর্যন্ত পয়সার জন্য টিভিতে নাচ দেখাত, আর আজ ভোট বিশ্লেষক হয়ে গেল!
১৭) বিজেপি নেত্রী হেমা মালিনী, মহিলাদের উদ্দেশে:
যেখানে ইচ্ছে হয় বেরিয়ে পড়বেন না l যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে l আক্রান্ত হতে পারেন l ভগবান কৃষ্ণ দ্রৌপদীকে বাঁচাতে এসেছিলেন l কিন্তু আমরা তো ততখানি আধ্যাত্মিক নই যে ঈশ্বর আমাদেও বাঁচাবেন !
১৮) সিপিএম-এর এমপি অনিল বসু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি:
তৃণমূলের ভোটের খরচের জন্য উনি কোন্ ভাতারের কাছ থেকে ২৪ কোটি টাকা নিয়েছিলেন?
১৯) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদার:
পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা সম্পূর্ণ আলাদা। এটা ধর্ষণের কোনও ঘটনাই নয়। ওই মহিলার ও তাঁর খদ্দেরের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জের l
২০) বৈবাহিক ধর্ষণকে আইনত অপরাধ স্বীকারের মাধম্যে বিল-টিকে সংশোধনের জন্য ডিএমকে-র এমপি কানিমোজির চিঠির উত্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী হরিভাই পারাথিভাই চৌধুরীর বক্তব্য:
অশিক্ষা, বিবিধ সামাজিক রীতিনীতি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অন্যান্য নানাবিধ কারণে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে স্বীকার করা সম্ভব নয়, কারণে ভারতীয় প্রেক্ষিতে বিবাহ একটি পুণ্য বিষয় l


হ্যাপি নিউ ইয়ার
.....................
চলতি বছরের ১৪ই ফেব্রুয়ারি বহু প্রতীক্ষিত রাজীব দাস হত্যা মামলার ফল ঘোষণা হলো l দিদি রিঙ্কু দাস-কে শ্লীলতাহানি, বেআইনি অস্ত্র রাখা, এবং দিদিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা ষোলোবছর বয়সী রাজীবকে গুণে গুণে সতেরো বার ছুরির আঘাতে খুন করার অপরাধে মিঠুন দাস, বিশ্বনাথ চ্যাটার্জী ও মনোজিত বিশ্বাস-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত, মূল ঘটনার ঠিক চার বছর পর l কেস রিপোর্টেড না হওয়ার ফলে বা হলেও প্রমাণের অভাবে কিংবা প্রশাসনিক ঔদাসীন্যের কারণে পুরো ব্যাপারটাই ধামা চাপা পড়ে যাওয়ায় ধর্ষকদের একটা বড় অংশের কলার তুলে ঘুরে বেড়ানোর আধিক্যে, এ হেন দু’চারটে দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত যে কিছুটা হলেও আমাদের পুনরুজ্জীবিত করে তা নিয়ে সন্দেহ নেই l তবে একটা কেসের সুরাহা হতে না হতেই ঘটে যায় আরো একগুচ্ছ ঘটনা l
বছর পড়তে না পড়তে গোটা দেশ জুড়ে আরো কিছু ধর্ষণের খবর l ১)২৬শে ফেব্রুয়ারি এআইআইএমএস-এর জনৈক ডাক্তারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ দিল্লিতে পঁচিশ বছর বয়সী সিকিম নিবাসী একটি মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল l২)উত্তর প্রদেশের মোতিপুরওয়া গ্রামে ১৬ বছরের একটি দলিত-কন্যার ধর্ষিত মৃতদেহ পাওয়া গেল গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় l ভিকটিমের বাবার অনুমান, ওই গ্রামেরই দুজন যুবক তার মেয়েকে ধর্ষণ ও খুন করে l ৩)মহারাষ্ট্রের লোনাভালার একটি রিসর্টে সাত বছরের শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেল, মেয়েটি নিখোঁজ থাকার দুদিন পর l আংশিক অন্ধত্বে আক্রান্ত এই শিশুটি গিয়েছিল আত্মীয়ের বিয়ের নিমন্ত্রণে l তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় l ৪)উত্তর প্রদেশের মুজাফ্ফরনগরে একইসাথে দুই শিশুকন্যাকে (পরস্পর তুতো বোন) ধর্ষণ করে পাড়ারই এক বছর পঞ্চাশেকের প্রৌঢ l৫)কোলকাতায় বিজেপি-র পার্টি অফিসে একটি পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সতেরো বছর বয়সী জনৈক যুবককে l৬)হরিয়ানার রোহতক গ্রামের গণধর্ষণ কাণ্ড- একটি আঠাশ বছর বয়সী মেয়ে তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর তার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায় যখন তার দুটো হাত, বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ ও শরীরের বাঁদিকটা পশুতে খেয়ে গেছে l মেয়েটিরদেহে লাঠি ও পাথর ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রবল মারধর করে অচেতনও করে দেওয়া হয়েছিল l এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আটজন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং নবম ব্যক্তিকে খোঁজা হচ্ছে l৭)দিল্লির নিজামুদ্দিনে একটি স্কুলের বত্রিশ বছর বয়সী এক ফিজিকাল ইন্সট্রাকটর ছয় বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ l ৮)পুরুলিয়ার জনৈক স্কুল-বাস ড্রাইভারকে,চার বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় l৯)জয়পুরে উনিশ বছর বয়সী একটি জাপানি মহিলা পর্যটককে ধর্ষণ করে চব্বিশ বছরের যুবক l অপরাধ স্বীকার করার পর সাতজন বন্ধুর সহায়তায় সে শহর ছেড়ে পালায় l অবশেষে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ এবং দোষীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় l ১০)মালদা জেলার কালিয়াচকে ন’ বছরের একটি শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করে তেত্রিশ বছরের যুবক l১১)মার্চ মাসের মধ্যরাতে রানাঘাটের একটি কনভেন্ট স্কুলে বাহাত্তর বছরের জনৈক সিস্টারকে গণধর্ষণ করা হয় l ঘটনায় আরো তিনজন সিস্টার দুষ্কৃতীদের দ্বারা গুরুতর আহত হয়েছিল l রানাঘাটের কাণ্ডের দিনেই, এন্সেফেলাইটিস-এ মারা গেল লড়াকু মেয়ে সুজেট জর্ডন, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পার্ক স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া বহুচর্চিত ও বিতর্কিত গণধর্ষণ কাণ্ডের সেই ভিকটিম, দুই শিশুকন্যা ও অসমাপ্ত ‘কেস’-কে পিছনে রেখে l ১২) সম্প্রতি, মে মাসে, আর জি কর হাসপাতাল চত্বরের মধ্যেই মাঝরাতে ২৪ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে হাসপাতালে কর্তব্যরত দুজন লিফ্টম্যান l
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে, দেশে প্রতিদিন গড়ে বিরানব্বই থেকে তিরানব্বই জন মহিলা ধর্ষিত হয়ে চলেছে l এবং চুরানব্বই শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি(/রা) ভিকটিমের পূর্বপরিচিত l


ধর্ষণ ও ধন-তন্ত্র
...................
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ১৯৭১ সাল থেকে ধর্ষণের খতিয়ান নথিভুক্ত করতে শুরু করে l জানা যাচ্ছে, সে বছর রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ছিল ২৪৮৭ l আইপিসি-৩৭৬ ধারায় ২০১৩ সালে দেশের সবকটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলিয়ে রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ৩৩৭০৭l২০১২-র রিপোর্টেড রেপ কেসের সাপেক্ষে এই সংখ্যা ৩৫.২ শতাংশ বেশি !আবার গত ১০ বছরের খতিয়ান দেখলে জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১৩-এ রিপোর্টেড রেপ কেসের শতাংশের হার বেড়েছে ৯১.৮ ! এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা যায়, এক- সত্যিই ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, দুই- ধর্ষণের হার যা ছিল তাই আছে, কিন্তু মহিলাদের মধ্যে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা বা সোশাল স্টিগমা-গুলোকে অতিক্রম করে অপরাধীদেরদের প্রতি অভিযোগ জানানোর প্রবণতা বাড়ছে l ‘স্লাট শেমিং এন্ড ভিকটিম ব্লেমিং’, মানে ঘটনা যাই ঘটে থাকুক না কেন আসলে তো মেয়েটি মাঝরাত্তিরে একা বেরিয়েছিল, আসলে তো মহিলার পোশাক বড্ডবেশি খোলামেলা ছিল কিংবা আসলে তো ও মেয়ে নয় মেয়েছেলে- এইসব মিথ ভেঙে প্রতিবাদ জানাতে সক্ষম হচ্ছে বহু মহিলাই l ২০১৩ সালে দেশে রিপোর্টেড ইনসেস্ট রেপ কেসের সংখ্যা ছিল ৫৩৬ ও আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪৮ l ইনসেস্ট রেপের ক্ষেত্রেও আশির দশকে বাড়ির ছোট বৌমাকে শাশুড়ি যেমনটা বোঝাতে সমর্থ হতেন- আহা নিজেরই তো শশুরমশাই, অমন হয়ে থাকে, তুমি বাপু পাঁচকান কোরো না- মেয়েরা কিছুটা হলেও এখন ক্রমে ক্রমে উপেক্ষা করতে চাইছে বা পারছে এইসব পরোক্ষ হুমকিকে l তবে,একটা ধর্ষণ ঘটে যাওয়ার পর ধর্ষকের শাস্তি যতটা জরুরি, ততটাই গুরুত্বপূর্ণধর্ষণের উৎসগুলোকে খুঁড়ে বার করা l ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাবাসেরভয় দেখিয়ে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার ঘটনা আটকানোর থেকে অধিক কার্যকরী সার্বিক সচেতনতার বোধ তৈরি করা l বহু ক্ষেত্রেই ছোটবেলা থেকে মেয়ে ও ছেলেদের পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করানোর বা আলাদা পরিবেশে বড় করার ফলে শিশুমনে একটা অদ্ভুত ধারণা পুষ্ট হতে থাকে যে মেয়েরা ভিনগ্রহের জীব l তাদের প্রত্যঙ্গের বেড়ে ও গড়ে ওঠা ছেলেদের থেকে বিলকুল আলাদা এবং আশ্চর্য এক রহস্যের জালে আবৃত l বয়ঃসন্ধিতে সেই কৌতুহল আরো চরমে পৌঁছয় l বাড়ির কিশোরটি যুবতী বুয়ার পাতিয়ালায় রক্তের ছিটে দেখে বিচলিত ও সন্দিগ্ধ হয়ে ওঠে l অধিকাংশ মধ্য-চিত্তের পরিবারেই তাকে মাথায় হাত বুলিয়ে কেউ বোঝাতে আসে না, এটি একটি স্বাভাবিক ঘটনা, ঠিক যেমনটা ওই নাইট ফলস-ও l বোঝালে, অপরাধবোধ ও অপরাধের প্রবণতা কমত বৈ বাড়ত না l নারী-পুরুষ-ভিন্নলিঙ্গ বহিরঙ্গে পৃথক, শারীরবৃত্তীয় কারণে আলাদা, সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে সেসব ডিসক্রিমিনেশন-কে অতিক্রম করা উচিত, এই বোধটা মানবিক বিকাশের এক্কেবারে শুরু থেকে কোথাও মাথার ভেতর রোপণ করা দরকার l প্রশ্ন উঠতেই পারে, মধ্যপ্রদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে কোএডুকেশন কালচার এবং অত্যাবশ্যক সেক্স এডুকেশনএকটি ষোলো বছরের মেয়েকে স্কুলমুখী করে তোলার পক্ষে পরিপন্থী হয়ে উঠবে না কি? বলা বাহুল্য এ পরিবর্তনও একদিনে ঘটবে না l কিন্তু সর্বাগ্রে তো প্রতীত হতে হবে শিক্ষার কান্ডারীদেরও, যারা বদলটা আনতে পারবে !
২০১৩-র রিপোর্টে, রিপোর্টেড রেপ কেসের সংখ্যা ৩৩৭০৭ হলেও ভিকটিমের সংখ্যা কিন্তু ৩৩৭৬৪ l এই পরিসংখ্যানকে বয়সের নিরিখে ভাগ করে দেখা গেছে: ১০ বছর বয়স পর্যন্ত ধর্ষিত নারীর সংখ্যা ১৫৮৪, ১০-এর বেশি বয়স থেকে ১৪ বছরের মধ্যে ২৮৪৩, ১৪-র বেশি বয়স থেকে ১৮ পর্যন্ত ৮৮৭৭, ১৮-র অধিক থেকে ৩০ অবধি ১৫৫৫৬, ৩০-এর বেশি থেকে ৫০ পর্যন্ত ৪৬৪৮, ৫০-এর ঊর্ধে ২৫৬ l স্পষ্টতই ১৮ থেকে ৩০ এই বয়সকালকে রিপোর্টের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ভালনারেবল ধরা যেতে পারে l কারণটা বোধ করি এই যে, ভারতীয় (অপ)সংস্কৃতিতে যৌবনের কনসেপ্ট মূলত এই বয়সের পরিসরে সীমাবদ্ধ l গয়নার বিজ্ঞাপনে কচি মেয়েটি যেমন মায়ের চুড়ি হাতে গলিয়ে রমণী হয়ে উঠতে চায়, তেমনই মধ্যবয়সী নারীকে সাবান মাখিয়ে বয়স কমানোর চেষ্টা চালানো হয় এবং স্তাবকের কণ্ঠ থেকে ভেসে আসে- আপকো দেখকে তো উমর কা পাতা হি নহি চলতা ! একটা বড় সংখ্যক মূল ধারার ঝিনচ্যাক দিশি ছবিতে নায়িকার বয়স কিচ্ছুতেই তেইশের বেশি হয়না l গোটা বিপণনের দুনিয়া যৌবন বেচতে বদ্ধপরিকর l এবং যারা খাচ্ছেতাদের কাছে ‘পূর্ণযৌবনা’ নারীকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ্য হিসেবে পরিবেশন করার অদম্য প্রয়াস l ফলত এরাই ‘টার্গেট’ l আর উন্নয়নশীল দেশে পূর্বোল্লিখিত কনসেপ্ট-এর সাথে ভার্জিনিটি-র পাঞ্চ মিশিয়ে দিলে ১৪ থেকে ১৮-র ভীতিপ্রদ সংখ্যার ব্যাখ্যাটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে ওঠে l ১৬ই ডিসেম্বর ২০১২-র দিল্লি কাণ্ড সমাজের পক্ষে একটা কালো দিক হলেও ধর্ষণের সংজ্ঞায় তা কিছুটা আলো দেখাতে পারলো l এই ঘটনার অব্যবহিত পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিযুক্ত সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত জাস্টিস যে.এস ভার্মা-র তত্ত্বাবধানে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্তে ২০১৩ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি আইপিসি-৩৭৫ ধারায় বেশ কিছুটা (উত্তর)আধুনিকতার ছোয়াঁচ লাগলো lআমরা জানলাম, ধর্ষণ শব্দটা শুধুমাত্র যোনি ও লিঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখার বিষয় নয় l আরো কিছু বয়সসীমা ও শর্তের তারতম্য ঘটানো হলো পরিমার্জিত সংজ্ঞায় l তবে ম্যারাইটাল রেপ এখানেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হলো না l ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো-র ২০১২-র রিপোর্টে আমরা দেখেছি দেশে মোট ১০৬৫২৭ জন মহিলা গৃহনির্যাতন (আইপিসি ৪৯৮ এ)-র শিকার l এখানে পশ্চিমবঙ্গের স্থান দ্বিতীয়তে অর্থাৎ ত্রিপুরার পরেই l যেখানে ডোমেসটিক ভায়োলেন্স-এর পরিসংখ্যান এ হেন, সেখানে বৈবাহিক ধর্ষণের সংখ্যাও যে বিপুল হবে তা সহজেই অনুমেয় l
যৌনাচারে নারীটি নিয়ন্ত্রিত হবে তার পুরুষটির দ্বারা, এই মিথ-এর কারণেই বোধ করি ম্যারিটাল রেপ-কে শুধুমাত্র ‘রাফ সেক্স’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার একটা কালচার আগেও ছিল এবং এখনও আছে l নাহলে রাষ্ট্র দ্বারা নির্ধারিত পুরুষতান্ত্রিক পরিবার-পরিকাঠামোর সুখী সুখী ইমেজ ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ার অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনাথেকে যায় l ১৯৭৫ সালে কেমব্রিজ ডকুমেন্টারি ফিল্মস-এর জন্য মার্গারেট লাজারাস ও রেনার উন্ডারলিচ ‘রেপ কালচার’ নামে একটি তথ্যচিত্র বানান যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়কেইধর্ষণ করার যে প্রবণতা তাকে ‘স্বাভাবিক’ বলার বিরুদ্ধে অভিমত প্রকাশ করা হয় l ছবিটা ধর্ষণের ধারণাকে প্রথম সংজ্ঞায়িত করার স্বীকৃতি পায় lপ্রসঙ্গত মনে পড়ে যাচ্ছে এর ঠিক ত্রিশ বছর পরে, ২০০৫ সালে ভারতে মুক্তিপ্রাপ্ত‘মাতৃভূমি’ ছবিটির কথাও যা একইসাথে ফিমেল ফিটিসাইড, ডাওরি, ম্যারাইটাল রেপ, ইনসেস্ট রেপ ও ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল l মোদ্দা কথাটা হলো উৎস যাই হোক না কেন, আর্থসামাজিক সমস্যা, জাতিবিদ্বেষ, লিঙ্গবৈষম্য, ধর্মীয় ভেদভাব, হোমোফোবিয়া, যুদ্ধ পরিস্থিতি, পর্নোগ্রাফি, মানসিক বিকার ইত্যাদি প্রভৃতি, মূল লক্ষ্য কিন্তুআঘাত করার মধ্যে দিয়ে ক্ষমতাপ্রদর্শন l পাওয়ার এক্সারশন l বীরভোগ্যা পৃথিবী ও রূপমুগ্ধা নারী- এই কনসেপ্ট থেকে যেমন একজন বলশালী রাজা ভূমি দখল করার পর জমিতে তলোয়ার পুঁতে জাহির করতো ওই পরিসরের ওপর তার কতৃত্ব, একজন পুরুষও নারীর মুখ, যোনি, পায়ু অথবা শরীরের যেকোনো ছিদ্রে লিঙ্গ বা অন্যকোনো বস্তুর প্রবেশ ঘটিয়ে তার ক্ষমতাকে প্রদর্শন করায় l পেনিট্রেশন- মাটি হোক বা রমণী, গ্রোথিত করার মাধ্যমে তার ওপর ক্ষমতাশীলের অধিকারপ্রয়োগ l অথচ শুধু ধর্ষণ কেন, আমরা যাকে স্বাভাবিক যৌনাচার বলে জানি, সেখানেও এই পুরুষতন্ত্র ও ক্ষমতাপ্রদর্শনের রাজনীতি l কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নততর গবেষণা জানায়, নারীর অরগ্যাজম ‘কেবলমাত্র’ পেনিট্রেশন কেন্দ্রিক- এটাও স্রেফ একটা মিথ !
সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে যে একক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের সাথে সাথে গণধর্ষণের ঘটনাও অনেক বেশি ঘটছে lগবেষণা বলছে এর পেছনে কারণগুলো মূলত যৌনতার অধিকারপ্রয়োগ, বিনোদন ও শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা l একজন পুরুষ এককভাবে ধর্ষণ করাকালীন যতখানি বলপ্রয়োগ করতে সক্ষম, দলবদ্ধ অবস্থায় তার আঘাত করার ক্ষমতা বেশ কয়েকগুণ বেড়ে যায় l গণধর্ষণের ক্ষেত্রে সাধারণত তিনজন বা তার বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে যারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বয়সে তরুণ l বলা বাহুল্য, এ বিষয়টি অনেক বেশি হিংসাত্মক এবং যৌন অত্যাচারের পাশাপাশি অযৌন অত্যাচারও করা হয় ভিকটিমকে l যুদ্ধ বা দাঙ্গার পরিস্থিতিতে মহিলাদের গণধর্ষণের মাধ্যমে ভিকটিম ও তার কম্যুনিটিকে ভয় দেখানোর জন্য ব্যাপক হারে গণধর্ষণের প্রবণতা দেখা গেছে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন ভিন্ন সময়ে l তবে সাধারণভাবে, যুবসমাজের বেকারত্ব আর নেশাগ্রস্ততাকে গণধর্ষণের বড় কারণ বলে দাবি করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা l আর যারা গণধর্ষিত হচ্ছে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্ন মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের সদস্য l কেননা সামাজিক কারণেই তাদের প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ও সাহস বহুলাংশে কম l আমাদের দেশে এখনও আলাদা করে গণধর্ষণের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়না l হলে দেখা যাবে সার্বিক পরিস্থিতির মতোই গণধর্ষণের ঘটনাও ক্রমবর্ধমান l


না-ফুরোনো গল্পগুলো
............................
বড় বেদনার বোধও ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসে l মেয়েটির স্বজনেরা, এমনকি সে নিজেও শরীর-মনের ক্ষতগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যেতে থাকে ধীরে ধীরে l আর আমরা যারা খবর কাগজের পাতায় ঘটনার বিবরণ পড়লাম, দু’চারদিন ভেতরে ভেতরে কোথাও আগুনটুকু জ্বলল, তারাও দ্রুত ফিরে যেতে চাই পরিচিত স্বাভাবিকতায় l টানা বিয়াল্লিশটা বছর ভেজিটেটিভ স্টেটে অরুণা শানবাগ পড়ে ছিল হাসপাতালের বিছানাতে l ১৯৭৩ সালের ২৭শে নভেম্বর সোহনলাল বাল্মীকি নামে সরকারি হাসপাতালের এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী পঁচিশ বছর বয়সী একটি নার্সকে গলায় কুকুরের চেন বেঁধে সোডোমি অর্থাৎ পায়ুছিদ্র দিয়ে ধর্ষণ করে l সেই নার্স, মানে অরুণার মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ব্রেন স্টেম ও সারভাইকাল কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্টিকাল ব্লাইন্ডনেস ঘটে l সোহনলালের কেবল সাত বছরের হাজতবাস হয় ‘ডাকাতি ও খুনের চেষ্টার অপরাধে’, কেননা আইপিসি-৩৭৬ অনুযায়ী সোডোমি-র মাধ্যমে ধর্ষণকে তখন ধর্ষণ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হতো না l গত ১৮ই মে ২০১৫ তে, অরুণা ‘মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই’ lযদিও তার অস্তিত্বের, চেতনার, মৃত্যু ঘটেছিল বহু বছর আগেই l
বিহারের দেওঘর থেকে ত্রিশ কিলোমিটার দূরে পারারিয়া গ্রামে এক রাতে উনিশজন আদিবাসী মহিলা ধর্ষিত হয় l নিমিয়া, রাধিয়া, দারিয়া, সুমিয়া ও ভগবতিয়া, পারারিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডে (১৯৮৮) মাত্র এই পাঁচজন ছিল অভিযোগকারী l যে ষোলো জনের বিরুদ্ধে কোর্টে যায় এই মহিলারা, তারা সকলেই ছিল পুলিশকর্মী, চৌকিদার ও হোমগার্ড l ধর্ষণের সাথে সাথে মারধর ও তাদের বাড়িতে লুঠতরাজও চলে l অভিযোগ দায়ের করা সত্বেও ধর্ষিতদের যথাযথ মেডিকেল পরীক্ষা হয়না l সরকারি পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় l এবং পরবর্তীকালে ওই পাঁচজন মহিলাকে প্রতারক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয় l বলা হয়, মিথ্যাচারের জন্য এরা যেকোনো কিছু করতে পারে কারণ হাজার টাকা এদের কাছে সত্যিই অনেক l
২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গায় অসংখ্য মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করা হয় যার হিসাব কেউ দেয়নি আজ পর্যন্ত l
২০০৩ সালে একজন আঠাশ বছর বয়সী সুইস ডিপ্লোম্যাট-কে তার নিজের গাড়িতে ধর্ষণ করা হয় l ধর্ষিত তার বিবৃতিতে বলে- ধর্ষকদের একজন অনর্গল ইংরিজিতে কথা বলে যাচ্ছিল l এমনকি তাকে প্রশ্ন করছিল সুইজারল্যান্ড সম্পর্কে, আর সম্ভবত ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে তাকে জ্ঞানও দিচ্ছিল !
মণিপুরের বত্রিশ বছর বয়সী মেয়ে মনোরমাকে আসামের সৈন্যরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ‘রাষ্ট্রদ্রোহীদের’ সঙ্গে যোগাযোগের অপরাধে l কয়েক ঘন্টা পর তার বিক্ষত শরীর পাওয়া যায় l মনোরমার তলপেট ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য বুলেটের আঘাতে l সালটা ২০০৪ l
২০০৯ সালে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের সোপিয়ান টাউনে দুটি তরুণীকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয় l প্রতিবাদে টানা সাতচল্লিশ দিন সশস্ত্র আন্দোলন ও ধর্মঘট চলে l
মাওবাদীদের সংবাদপ্রেরক সন্দেহে ২০১১-র অক্টোবর পর্যন্ত সোনি সোরি-কে ছত্তিসগড়ের জেলে আটকে রাখা হয় l জেল থেকে বেরোনোর পর সোনি সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ জানায়, বন্দী থাকাকালীন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছিল ও তার যোনিপথে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল পাথর l
২০১২ সালে উত্তর প্রদেশের একটি থানার ভেতরে সোনম নামে চোদ্দ বছরের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় l
২০১৩ সালে কলকাতা থেকে কুড়ি কিলোমিটার দূরে কামদুনি গ্রামে কুড়ি বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়াকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয় l ন’জন অভিযুক্তের মধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ l আপাতত তদন্দের ভার সিবিআই-এর হাতে l ভিকটিমের পরিবার ও বন্ধুরা বিচারের অপেক্ষায় l
এমন আরো একগুচ্ছ জানা অজানা ঘটনা নিয়ত ঘটে চলেছে চারপাশে l তার কতগুলো কেস রিপোর্টেড হচ্ছে? ঠিক কতগুলো ঘটনার মীমাংসা হচ্ছে? কতজন অভিযুক্ত শাস্তি পাচ্ছে? ‘তারিখ পে তারিখ, তারিখ পে তারিখ’–এর চক্করে একাধিক প্রমাণ লোপাট হয়ে যাবে l উচ্চবংশের ছেলে দলিতের মেয়েকে ধর্ষণ করে না- এমন হাস্যকর কিছু যুক্তি সাজিয়ে বেমালুম ছাড়া পেয়ে যাবে ধর্ষক l অমুক যখন শাস্তি পেল না তখন আমাদেরই বা কে কী করবে- এমন মনোবল নিয়ে ধর্ষণে উদ্যত হবে আরো আরো পুরুষ l ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবে ভিকটিম ও তার পরিবারের l কোনো কোনো ধর্ষিত অর্থের বিনিময়ে কন্যাসন্তানের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করতে চাইবে l অন্তত এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় সেই চাওয়াটুকু জাস্টিফায়েড l আর যাদের হাতে ভুবনের ভার, দেখাই যাচ্ছে,নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তাদের একটা বড় অংশ চরম পুরুষতান্ত্রিকতা, ক্ষেত্রবিশেষে চূড়ান্ত অশিক্ষার শিকার l রিপোর্টের ভিত্তিতে সামাজিক অবক্ষয়ের কাটাছেঁড়া চলবে, চলবে সামাজিক অবক্ষয়ের ভিত্তিতে রিপোর্টের কাটাছেঁড়াও l বয়স উনিশ লিখে যে পনেরো বছরের মেয়েটিকে শহর কোলকাতা থেকে মাত্র তিরিশ কিলোমিটার দূরে বিয়ে দিয়ে দিল তার মা-বাবা, ইনসেস্ট রেপের খতিয়ানে তার বয়স কিন্তু রইলো উনিশই l ১৮ থেকে ৩০-এর এই লম্বা ঘরটিকে কেন ১৮ থেকে ২৪ এবং >২৪ থেকে ৩০–এ ভাগ করা হলো না, প্রশ্ন থেকে যাবে l জানা হবে না, আঠেরো বছরের কমবয়সী একটি ছেলে যদি গণধর্ষণে সামিল হয় এবং পূর্ণাঙ্গ ধর্ষণে সক্ষম হয় তাহলে শাস্তি ঘোষণার সময় তাকে কেন দেখা হবে একজন নাবালক হিসেবেই? এক্ষণে প্রশ্ন উঠবে সাবালকত্বের মাপকাঠি, ভোটাধিকার, মদ্যপান, বিবাহের বয়স এবং রাষ্ট্র কতৃক নির্ধারিত অন্যান্য নানাবিধ মাইলস্টোন নিয়েও l বরং আজ থাক l উত্তর খোঁজা যাবে অন্য কোথাও... অন্য কোনোখানে...


4552 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 175 -- 194
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ঈশান, আপানি যে স্ট্যাটিসটিক্সটা দিলেন তার পুরোটা সঠিক। ১, ২, ৩, ৪, প্রতিটা পয়েন্ট সঠিক।

এর সাথে মেয়েদের আত্মরক্ষার শিক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া বা স্কুলে কোর্স চালু করা, যেখানে মেয়েরাও এনরোল করে, তার কি সম্পর্ক বুঝলাম না। "পালানোর" কেসে ধর্ষনের অভিযোগ আনা হয়, এটা ভয়ংকর অন্যায়।

"যৌন সংসর্গের পর বিয়ে না হওয়ায়, মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ এনেছে।" - একমত, অন্যায়, এটা করা ঠিক না।

৩ ও ৪ এর ব্যাপারেও একমত।

কিন্তু এগুলোর কোনটার সাথেই, মেয়েদের আত্মরক্ষার শিক্ষার কি সম্পর্ক বুঝলাম না।

কলকাতায় বা মফস্বলে অন্ধকার গলিতে একটি মেয়ের সামনে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, চেষ্টা করছে আক্রমন করার। মেয়েটি না "পালানোর" কেসে দিতে চায়, না সে বিবাহপূর্বক ধর্ষনের অভিযোগ আনতে চায়, না সে ফুটপাথবাসিনী। সে কলকাতার বা অন্য কোন ছোট শহরের অন্ধকার গলিতে বিপদের মুখোমুখি। বা রোজ বাসে যাওয়া-আসার সময়ে শরীরে অনভিপ্রেত স্পর্শ পেতে পেতে সে বিরক্ত, মরিয়া। এরকম হাজার হাজার মেয়ের সাথে আপনার স্ট্যাটিস্টিকস গুলোর কি সম্পর্ক বুঝলাম না। আত্মরক্ষার শিক্ষার পরামর্শ এরকম মেয়েদের জন্য দিতে চাওয়া হচ্ছে।


Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

"সব মিলিয়ে ৮৩% কেসে আত্মরক্ষা বস্তুটাই অবান্তর। বরং "রক্ষা" করার চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াইটাই জরুরি।"

একমত, "রক্ষা" করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হতে হবে। "খাপসে আজাদি/বাপ সে আজাদি" এরকম আন্দোলনও নিশ্চয়ই জরুরি। কিন্তু তার জন্য রাস্তাঘাটে-ট্রামেবাসে-নির্জন জায়গা ইত্যাদি নানারকম জায়্গায় বা সিচুয়েশনে যে যৌন হেনস্থার ঘটনা রোজ ঘটছে সেগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার কোয়্শল শেখানোর পরামর্শ কেন দেওয়া যাবেনা সেটা বুঝলাম না। এমনকি যদি এই ঘটনাগুলোকে "মাত্রঃ ১৮% ধরে নি (সেটাও ডাউটফুল কারন যৌন হেনস্থার ঘটনা ভীষন আন্ডাররিপোর্টেড), তাহলেও সেই ১৮%এও তো হাজার হাজার মেয়ে এই ঘটনাগুলোর শিকার হচ্ছেন! তাদের জন্য কেন সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে আত্মরক্ষার কৌশল শেখার পরামর্শ দেওয়া যাবেনা, বিশেষ করে যদি তাতে কিছু মেয়ে উপকৃত হন?

(আরেকটা ক্যাভিয়াট দেবো ভাবছিলাম, শুধু দিল্লির কেস স্টাডিকে পুরো দেশে এক্সটেন্ড করা কতোটা যুক্তিযুক্ত। মানে এরকম এক্সটেন্ড করলে এক্সটার্নাল ভ্যালিডিটি ভায়োলেট করার প্রোবাবিলিটি খুব বেশী। তাও এই পয়েন্টটা তলছি না, তর্কের খাতিরে নাহয় ধরে নিলাম দিল্লি ভারতের আর সব শহরকে রিপ্রেসেন্ট করে)

পরে লিখব।
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

আপনি যে কারণে পরামর্শটি দিচ্ছেন, আর রাষ্ট্র যে কারণে দিচ্ছে, এই কার্যকারণ সম্পর্ক দুটো আলাদা। আপনার ব্যক্তিগত অভিপ্রায়টির সততা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু রাষ্ট্রের উচ্চকিত উচ্চারণের সামনে ওটি ক্ষীণ। রাষ্ট্র তার অভিপ্রায়ের কারণে আপনার সদিচ্ছাটিকে ব্যবহার করছে। তাতে আপনার ব্যক্তিগত অভিপ্রায়টি দুষ্ট হয়ে যায়না। এমনকি পরামর্শ দিতে বারনও করছি না। কিন্তু রাষ্ট্রের কার্যকারণ প্যাটার্নটি সম্পর্কে অবহিত থাকুন, এই হল আমার চাহিদা।
Avatar: pi

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

' পৃথিবীর অনেক দেশেই জন্মের পর থেকে মেয়েদের মগজে একটাই জিনিষ ঢোকানো হতে থাকে - তুমি মেয়ে, তুমি ছেলেদের থেকে সব বিষয়ে পিছিয়ে, অন্যায় হলেও তুমি মুখ বুজে সহ্য করবে, কারুর গায়ে হাত তুলবে না, পিছিয়ে আসবে।'

এটা পড়ে আগে দেখা ন্যাশানাল ফ্যামিলি সার্ভের একটা তথ্য মনে পড়ে গেল। এমনি দিয়ে গেলাম।

যথাক্রমে বিবাহিত, বিবাহিত কিন্তু 'গওনা' না হওয়া মেয়ে, অবিবাহিত মেয়েদের উপর ফিজিক্যাল ভায়োলেন্সকারীদের পরিসংখ্যান, শতা১শেঃ

অত্যাচারী Father/step-father 4.4 29.5 26.6
অত্যাচারী Mother/step-mother 8.9 64.3 57.1

NFHS এ ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সে ছেলেদের উপর হওয়া ভায়োলেন্স নিয়ে তথ্য প্রায় নেই, ছেলেদের বয়ানে তো নেইই, তাই মেয়েরা (পড়ুন মায়েরা) খালি মেয়েদের গায়েই হাত তোলে, ছেলেদের গায়েও তোলে কিনা তথ্য থেকে বলা গেল না।


Avatar: সে

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

অদ্ভুত টাইমিং। ঠিক যে সময়ে এখানে আলোচনা চলছে সে সময়েই ইন্ডিয়াজ ডটার্স তথ্যচিত্রটি যিনি বানিয়েছেন তিনি ইন্টারভিউ দিলেন টিভিতে। টিভির ক্যামেরার সামনে স্বীকার করলেন ১৮ বছর বয়সে উনিও রেপড হয়েছিলেন। ছবিটির কিছু অংশ দেখানো হলো। আলোচনা চলল। (সিএনএন চ্যানেলে)। হয়ত ওদের ওয়েব সাইটে এই অনুষ্টানটা দেখা যাবে।
রেপের ঘটনা পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই আন্ডাররিপোর্টেড। অ্যামেরিকাতেও ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রচুর মেয়ের রেপ হয়ে থাকে। ২৫% না কত যেন বললেন তিনি। এবং দুনিয়ার প্রায় সব দেশেই এই সেদিন অবধি এই ধারণাই চালু ছিলো (কোথাও কোথাও এখনো আছে) যে ধর্ষণের জন্যে মেয়েরাই দায়ী। তার পোশাক তার আচরণ। ঐ ছবির নির্মাতাই বললেন এসব। আরো বললেন যে জেন্ডার ইনইকুয়ালিটি এর কারণ। অ্যামেরিকায় মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় প্রায় ২৫% কম স্যালারী পায় একই কাজের জন্যে। অ্যামেরিকার কন্সটিটিউশানেও ছেলে ও মেয়ের সমানাধিকার নেই। এখনো অবধি নেই। অর্থাৎ যা বুঝলাম, খাপ পঞ্চায়েতি ধ্যানধারণা সব দেশেই রয়েছে। কোথাও কোথাও সেটা সংবিধানের মধ্যেই স্বীকৃত। চাইলে সিএনএনের ওয়েব সাইটে অনুষ্ঠানটি দেখে নিতে পারেন।

কদিন আগে, কিছু পোস্টার দিয়েছিলাম। কিছু অ্যামেরিকার, কিছু ভারতের। সেইগুলো দেবার উদ্দেশ্য ছিলো এই যে, চারদিনের সেল্ফ ডিফেন্স কোর্স ও রয়েছে। মেয়েরা নিশ্চয় এনরোল করে। কিছু ফ্রী, কিছু পয়সা দিয়ে। নইলে ব্যবসা চালাবে কেমন করে? অর্থাৎ শুধু ভারতে নয়, উন্নত দেশেও মেয়েরা সেল্ফ ডিফেন্স শেখে। তবে সেসব দেশে খাপ পঞ্চায়েত আছে কিনা জানা নেই। এতে সেসব দেশে কতটা গেল গেল রব ওঠে, কতটা কন্স্‌পিরেসী থিয়োরী খাড়া করা হয় সেসবও জানিনা।
জেন্ডার ইনিকুয়ালিটি প্রধান সমস্যা বলেই মনে হয়। অ্যামেরিকায় বহুদিন ধরেই সেল্ফ ডিফেন্স কোর্স মেয়েরা করছে (এটা ঐ চিত্র নির্মাতা বলেননি কিন্তু), সেখানে সর্বত্র মেয়েরা ছেলেরা মারপিট করছে বলেও শুনিনি। হয়ত আন্ডাররিপোর্টেড।
যাইহোক, এখানে গত সপ্তাহে জুরিখ ইউনিভার্সিটিতে ইন্ডিয়াজ ডটার ছবিটি দেখানো হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে। সব ছাত্র ছাত্রীই দেখেছে, শিক্ষকরাও। আমরা অবিশ্যি আগেই দেখে নিয়েছি ইন্টারনেটে।
Avatar: ঈশান

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ভারতীয় আন্ডার রিপোর্টিং নিয়েও আমার চাল্লাইন বলার আছে। সেটাই বা বাদ থাকে কেন।

ধর্ষণের আন্ডার রিপোর্টিং একটি বাস্তব ঘটনা। সারা দেশে সেটা কমছে এমন কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। একই সঙ্গে ধর্ষকদের পিটনি দেবার ঘটনাও বেড়ে চলেছে। কোথাও ক্ষুব্ধ জনতা ধর্ষক সন্দেহে পিটিয়ে জিন্দা জ্বালিয়ে দিচ্ছে, কোথাও থানার সামনে আক্রান্ত মহিলারা ধরে পেটাচ্ছেন। সেসবেরই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, এবং ঘটনাগুলির উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ঘটছে।

পাল্টা ভায়োলেন্সের দিকটা যদি এড়িয়েও যাই, তাহলেও, এই দুটো ঘটনা পরস্পরবিরোধী। আন্ডার রিপোর্টিং ঘটে তখনই, যখন আক্রান্ত, বা সামগ্রিকভাবে সমাজ ধর্ষণকে চায়। আর প্রকাশ্যে ধর্ষক সন্দেহে শাস্তি দেওয়ার অর্থ হল ধর্ষণকে বা হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে সজোরে। এর একটা বাড়লে আরেকটা কমা উচিত। হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনার প্রবণতা বাড়লে আন্ডার রিপোর্টিং কমা উচিত। কিন্তু সেটা হচ্ছেনা। দুটোই উজ্জ্বল হয়ে পাশাপাশি বিরাজ করছে।

প্রশ্ন হল কেন। তাহলে কি এরা একে অপরের হাত ধরে বাড়ছে? দুটো প্রবণতার মধ্যে কি কোনো বোঝাপড়া (কনস্পিরেসি ভাববেন না দয়া করে) আছে? আন্দাজ করা যায় আছে। যদি পিটুনির ভিডিওগুলির দিকে ভালো করে তাকান, দেখবেন একটা কমন প্যাটার্ন আছে। যেখানে মব পেটাচ্ছে, সেখানে তো পেটাচ্ছেই। যেখানে মহিলারা ঠ্যাঙাচ্ছে, সেখানেও দেখবেন, চারদিকে সমাজের দাদাদের সোচ্চার উপস্থিতি। কোথাও উদ্যোগ পুলিশের, কোথাও এলাকার রক্ষাকর্তাদের। আক্রমনকারীকে ধরে মেয়েদের "রক্ষা" করা হয়েই গেছে, এবার মেয়েদের বলা হচ্ছে, নে তোরা ঠ্যঙা। পুরো চিত্রনাট্যে, মহিলাটি বা মহিলারা ক্রীড়নক মাত্র। উদ্যোগ মব, বা পুলিশের, মহিলারা সাবজেক্ট নন, আত্মরক্ষাকারী তো ননই।

এটা শুধুই ভিডিওতে দেখা যায় এমন না। খবরেও এমনই চিত্র প্রায় সর্বত্র। এক আধটা কেসে একজন মেয়ে একজন দুষ্কৃতীতে পিটিয়েছেন বলে খবর আসে, কিন্তু সে ওই খুব খুবই কম। বাকি সবই মবের রাজত্ব। কমিউনিটির হাতের সুখ।

এই জায়গাটা থেকেই বাকিটা বোঝা যায়। কমিউনিটি একটি মাপকাঠি ঠিক করেছে, যে মাপকাঠি অনুযায়ী কিছু হেনস্থা শাস্তিযোগ্য। আর কিছু হেনস্থা চেপে দেবার মতো। যে ঘটনায় পিটনি দিলে কমিউনিটির "সম্মান" রক্ষিত হয়, সেটিতে পিটনি দেওয়া হয়। যেটি চেপে দিলে কমিউনিটির "সম্মান" রক্ষিত হয় সেটি চেপে দেওয়া হয়।

ফলে এই আন্ডার-রিপোর্টিং এবং মহিলাদের দ্বারা স্বহস্তে শাস্তিপ্রদান, এরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম। একটা আরেকটার পরিপূরক। পাল্টা ভায়োলেন্স, মহিলাদের দ্বারা হলেও, সেটা আন্ডার-রিপোর্টিংকে কমায়না। বরং রক্ষা করে। আর আমরা, এই তো মেয়েরা কেমন রুখে দাঁড়িয়েছে, ভেবে আনন্দ পাই।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ঈশান ধন্যবাদ। আমার (বা আমাদের) ইচ্ছাকে রাষ্ট্র তার নিজের উদ্দেশ্যে যাতে না ব্যবহার করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখাটা অবশ্যই আমার (বা আমাদের কর্তব্য)। তবে একটা কথা বলি। ভারত রাষ্ট্র মেয়েদের সেল্ফ-ডিফেন্স শিখতে উৎসাহ দিচ্ছে বা কোর্স অর্গানাইজ করছে, এরকম খুব একটা চোখে পড়েনা। দুয়েকটা রাজ্যে হয়তো আছে, তবে বেশীর ভাগ সময়ে মেয়েরা বা তাদের আত্মীয়রা নিজেদের ইনিশিয়েটিভেই মেয়েদের এরকম কোর্স করতে নিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে রাষ্ট্র বা সরকারি দৃষ্টিভঙ্গির কথা যদি বলেন তো বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সেটা একেবারে উদাসীন।

পাই স্ট্যাটসগুলো কেন দিলেন লিখে দিলে ভালো হয়। তবে ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সে মেয়েরাও যে মেয়েদের গায়ে হাত তোলে সে তো বটেই। পাব্লিক প্লেসে মেয়েরা বোধায় মেয়েদের যৌন হেনস্থা সেভাবে করেনা, সেটাতে ছেলেদের প্রাধান্য।


Avatar: pi

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

কেন লিখ্লাম, সেটা তো পোস্টেই লেখা আছে। পোস্ট শুরুর কোটে।


Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ঈশানের লাস্ট পোস্ট প্রসংগে, মব ভায়োলেন্স সব সময়ে সব ক্ষেত্রেই পরিত্যাজ্য। মেয়েরা সংঘটিত করুক বা ছেলেরা, মব ভায়োলেন্স সবসময়েই অন্যায়, যারা এতে জড়িত থাকে তাদের শাস্তি দেওয়া উচিত। মব ভায়োলেন্স যাতে না ঘটে সেজন্যও ক্যাম্পেন চালানো উচিত। কিন্তু মব ভায়োলেন্সের সাথে সেল্ফ-ডিফেন্সের পরামর্শ দেওয়া এক করে দেখা ঠিক হবেনা। সেল্ফ-ডিফেন্স মানে আত্মরক্ষা, আর বেশীরভাগ সময়ে এককের আত্মরক্ষা। মবের দিকে চলে গেলে সেটা আর আত্মরক্ষা থাকেই না। মেয়েদের সেল্ফ ডিফেন্স শিখতে বা ব্যাগে পেপার স্প্রে রাখতে পরামর্শ দেওয়ার কারন মেয়েটি একা যখন কোন বিপদে পড়েছে, যেমন রাস্তায় কোথাও, তখন যাতে সেই মেয়েটি নিজে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে পারে।

অনেক সেল্ফ-ডিফেন্সেই "মহিলাদের দ্বারা স্বহস্তে শাস্তিপ্রদান" এর থেকে নিজেকে বাঁচানোর কৌশল আগে শেখানো হয় কারন সেল্ফ-ডিফেন্স আর শাস্তিপ্রদানে অল্প একটু ডিফারেন্স আছে। মব ভায়োলেন্স এর থেকে বহু দূরে।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

পাই, এখনো ঠিক বুঝতে পারলাম না। মেয়েরাও মেয়েদের ওপর অবিচার করে এরকম কিছু বলতে চেয়েছেন কি? সে তো নিশ্চয়ই, সেজন্যই প্যাট্রিয়ার্কিকে সোশ্যাল কনস্ট্রাক্ট বলা হয়। অন্য কিছু বলতে চেয়ে থাকলে বুঝতে পারিনি।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ওহো বুঝতে পেরেছি, "কারুর গায়ে হাত তুলবে না" এটার জন্য বলেছেন। ভুল লিখেছি। হয়তো লেখা উচিত ছিল "ছেলেদের গায়ে হাত তুলবে না"।
Avatar: pi

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

ল্যামডা, এই পোস্টটা দেখবেন। এখান থেকেই তর্ক শুরু হয়েছিল।
Comment from মনোজ ভট্টাচার্য on 29 August 2015 10:42:41 IST 212.78.235.156 (*) #
কি করুণ একটা দইনিক খবর ! আমরা এখানে যতই লিখি ছিঃ ছ্যাঃ করি না কেন - এ সব চলতেই থাকবে । - কোনও সরকার - কোনও আইন এই জঘন্য কাজ আটকাতে পারবে না ! এর একমাত্র দাওয়াই হল - গণ-ধোলাই ! - আর মেয়েদের যুগোপযোগী শিক্ষা দিয়ে তৈরি করা ! আর কি বলার আছে !

মনোজ

Comment from মনোজ ভট্টাচার্য on 30 August 2015 15:17:55 IST 113.50.81.226 (*) #
পি বা পাই,

আমার গন ধোলাইএর আগে মেয়েদের জন্যে কুং ফু বা ক্যরাটে শেখানর কথা লিখেছি । - অতি সম্প্রতি আমি লক্ষ করেছি - অভিভাবকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ছেলে মেয়েদের শেখাচ্ছেন ! সবাই নয় !

গন ধোলাই মানে আমাদের দ্বারা নয় - মেয়েরাই সেই অপরাধীদের চিনতে পারে ও তারাই সেই গন ধোলাই এর বন্দোব্যস্ত করবে ! - আসলে যেটা দরকার এখনই - সেটা হল আমাদের ছেলে মেয়েদের - বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে একটা আত্ম বিশ্বাস তৈরি করে দেওয়া ! - তাদের কাছে চিলি ডাস্ট স্প্রে রাখা - ও তাদের শিখিয়ে দেওয়া - কি করে ব্যবহার করতে হয় !

এসব আমি শুধু তাৎক্ষনিক রাগের মাথায় বলছি না । এখন পুলিশ অফিশাররাও এই উপদেশ দেয় ! যদি একজন পকেটমারকে গন ধোলাই দেওয়া হয় ও আমরা চুপ করে দেখি - তবে আমাদের মেয়েদের ওপর অত্যাচার হলে - আমরা অপরাধের ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো !

মনোজ
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

"আন্ডার রিপোর্টিং ঘটে তখনই, যখন আক্রান্ত, বা সামগ্রিকভাবে সমাজ ধর্ষণকে চায়। আর প্রকাশ্যে ধর্ষক সন্দেহে শাস্তি দেওয়ার অর্থ হল ধর্ষণকে বা হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে সজোরে। এর একটা বাড়লে আরেকটা কমা উচিত। হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনার প্রবণতা বাড়লে আন্ডার রিপোর্টিং কমা উচিত। "

এই জেনারাইলসেশানগুলোতে কিছু ভুল হচ্ছে বোধায়, অন্তত কজাল লিংক্গুলো স্ট্রং না।

আক্রান্ত কখনোই ধর্ষন চায়্না, সামগ্রিকভাবে সমাজ চায় বলেও মনে হয়না। সব পুরুষই যে ধর্ষন করতে চায় তা তো না। বরং ধর্ষনের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর সেটা ধামাচাপা দিতে চায় বা ভিক্টিমের ওপর দোষ চাপাতে চায় যাতে ধর্ষকের দোষ আড়াল করা যায়। কিন্তু এর মানে এই না যে সামগ্রিকভাবে সমাজ ধর্ষণকে চায়।

"প্রকাশ্যে ধর্ষক সন্দেহে শাস্তি দেওয়ার অর্থ হল ধর্ষণকে বা হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে সজোরে"

না বোধায়। প্রকাশ্যে ধর্ষক সন্দেহে শাস্তি দেওয়া আক্ষরিক অর্থেই মব মেন্টালিটি। মানে প্রকাশ্যে যেকোন অপরাধীকেই পিটুনি দেওয়া বা বিনা বিচারে শাস্তি দেওয়া মব মেন্টালিটি। সেখানে ধর্ষকের সাথে অন্য কোন অপরাধীর ফারাক থাকেনা। এর সাথে ধর্ষনকে প্রকাশ্যে আনার লিংক নেই, এটা স্রেফ একজন অপরাধী (বা সন্দেহভাজন) ধরা পড়ে গেছে, এবার তাকে পিটিয়ে আনন্দ লোটো, এই মেন্টালিটি।

" এর একটা বাড়লে আরেকটা কমা উচিত। হেনস্থাকে প্রকাশ্যে আনার প্রবণতা বাড়লে আন্ডার রিপোর্টিং কমা উচিত। ""

এই ইনভার্স রিলেশানটা ইনভ্যালিড মনে হচ্ছে। মব ভয়োলেন্সে ধর্ষককে পিটুনি দিলে ধর্ষনের আন্ডাররিপোর্টিং, যার কারন ব্যাক্তিগত স্তরে ধর্ষনকে ধামাচাপা দেওয়ার প্রবনতা, সেটা কেন কমবে বুঝলাম না।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

মনোজ, দেখেছি। প্রথমত গণধোলাই কখনো সল্যুশন না। মেয়েরা দিলেও না।

দ্বিতীয়, "আমাদের মেয়েদের" - আপনার লেখার এই অংশে তীব্র আপত্তি জানালাম। "আমাদের ছেলেরা" যেমন হয়না তেমন "আমাদের মেয়েরা"ও হয়না। মেয়েরা কারুর না, তারা নিজেদের। একই কথা ছেলেদের ক্ষেত্রেও।

তৃতীয়, "যদি একজন পকেটমারকে গন ধোলাই দেওয়া হয় ও আমরা চুপ করে দেখি" - এটা অন্যায়। এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলুন। যেকোন কারনেই গণ ধোলাইকে বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
Avatar: /\

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

আবার ভুল করেছি। পাই যেটা পোস্ট করেছেন সেটা আমি ভাবলাম মনোজ এসে পোস্ট করেছেন। যাই জোক, মনোজবাবুকে তখন উত্তর দেওয়া হয়নি, এখন উনি থাকলে ওনাকে ওপরের কথাগুলোই বলতাম। পাইয়ের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
Avatar: সে

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

অনেক কিছু লিখেও মুছে দিলাম, দেখিনি যে ল্যামডা অনেকটাই লিখে দিয়েছেন।
কয়েকটা কথা লিখি আণ্ডাররিপোর্টিং এর ব্যাপারে। অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েরা ধর্ষণের খবর রিপোর্ট করতে চায় না। এর কারণ সামাজিক। এক্ষেত্রে অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ করা খুব শক্ত ব্যাপার, উপরন্তু মেয়েটিকে "ধর্ষিত" ট্যাগ বহন করে যেতে হয় আজীবন। সেই ট্যাগ তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখে সবসময়। কিন্তু, এক্সট্রিম কেসে মেয়েরা রিপোর্ট করে। গনধর্ষণে চুড়ান্ত শারীরিক আহত হবার পরে, বা অচেতন অবস্থায় তাকে কেউ বা কারা হাসপাতালে নিয়ে গেল কি পুলিশে খবর দিলো, বা যখন জিনিসটা একেবারে প্রকাশ্যে হয়ে গেছে। এসব ঘটনায় পুলিশে না জানিয়ে আর কোনো উপায় নেই। লাস্ট রিসর্ট। বিচার পাবার জন্যে তো বটেই।
আরো অনেক ধর্ষণ রিপোর্টেড হয় না। এক ম্যারিটাল রেপ, এ নিয়ে পরে লিখছি। দুই পরিবারের বন্ধু বা আত্মীয় দ্বারা ধর্ষণ, এবং বাইরের লোকের দ্বারা ধর্ষণ। এই বাইরের লোকের দ্বারা ধর্ষণটাই সম্ভবতঃ বেশি রিপোর্টেড হয়, এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির লজ্জা ও আঘাত হয়তবা বেশি। বা ক্ষোভ বেশি। হয়ত। এসব ক্ষেত্রেও যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় অনেক মেয়েই রিপোর্ট করে না। চাক্ষুষ সাক্ষীর অভাবে। তা সত্ত্বেও কিছু সাহসী মেয়ে রিপোর্ট করে, যেমন সুজেট জর্ডন, বা যেমন তরুণ তেজপালের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেন যিনি। দুই ক্ষেত্রেই যথেষ্ট প্রমাণের বেশ অভাব বা আইনের চক্করের দীর্ঘসূত্রিতা, ইত্যাদিতে আসলেই রেপ হয়েছিলো কিনা সেই সন্দেহের মধ্যেই থেকে যায় ঘটনাগুলো। ফাঁসানোর জন্যে রেপের অ্যালিগেশন দেওয়া হচ্ছে কিনা, ক্লায়েন্টের সঙ্গে দরদাম নিয়ে ঝগড়ার জন্যে রেপের অ্যালিগেশন কিনা, এই সমস্ত কূটকচালী চলতেই থাকে। এই ধরণের রেপের কেসে মেয়েরা যত শিক্ষিত বা এনলাইটেণ্ড হোক না কেন, পিছিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এক, তার জীবনে ধর্ষিত এই তকমা এঁটে যাবে ফর লাইফ, দুই, সুবিচার পাওয়া খুব শক্ত, তিন, ধর্ষিত তকমার ওপরেও আরো অনেক মানসিক অত্যাচার ও সন্দেহে ও ঘৃণায় কাটাতে হবে জীবন। সেই ক্ষেত্রেও সে নিজে একা নয়, তার সঙ্গে সামাজিক শাস্তি পেতে থাকবে তার নিকটজনেরাও। সর্বোপরি, রেপ আদৌ হয়েছিলো কিনা সেই নিয়ে সমাজের সন্দেহ। সব মিলিয়ে মেয়েটিকেই সবচেয়ে বেশি শাস্তি পেতে হয়, দামও দিতে হয় প্রচুর। এরও পরে থাকছে, মেয়েটির দোষ ছিলো কিনা রেপ ঘটানোর জন্যে। সে কতটা প্রোভোক করেছিলো বা সে হয়ত রেপড হতেই চাইছিলো - এই মানসিকতা অনেকের মধ্যেই থাকে। খুব খুব শিক্ষিত, টপ লেভেলের লোকেদের মধ্যেও দেখেছি এই মানসিকতা। এই মানসিকতার নারীপুরুষ ভেদাভেদ নেই।
২০০১ সালে কোলকাতার প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সের এক কর্মী আমায় নিয়মিত উত্যক্ত করত। তার বিরুদ্ধে জানানোর পরে, তৎকালীন এইচার ম্যানেজার শ্রীমতী মালহোত্রা আমায় বলেছিলেন, মে বী ইউ ওয়ান্টেড ইট!
এই রিপোর্ট করবার দোষে আমার চাকরিটি খোয়া যায়। তাও সেই কোম্পানীর কোড অফ কন্ডাক্টে পরিষ্কার লেখা ছিলো হ্যারাসমেন্ট নাকি রিপোর্ট করা দরকার।
এনিওয়ে, নিজের কথা বেশি লেখার দরকার নেই।
ইন্ডিয়াজ ডটার্সের নির্মাতা অ্যাতোদিন পরে টিভির ক্যামেরা সামনে নিজের ১৮ বছর বয়সের হয়ে যাওয়া রেপের কথা বলেন। আগে বলেন নি কেন? অনেক সময়েই এই আন্ডাররিপোর্টিং সারাটা জীবন ধরেই থাকে। আজ তিনি নাম করেছেন, বিখ্যাত হয়েছেন তাই রিপোর্ট করলে টিভি ক্যামেরার সামনে এখন আর কেউ কালি ছেটাতে পারবে না। সেফ পোজিশানে না থেকে এসব রিপোর্টিং করা যায় না। করলে সুজেটের মতো অবস্থা হয়। বার খেয়ে ক্ষুদি বলে এদের অনেকে।
অ্যামেরিকায় থাকাকালীন একটি মহিলাও বলেছিল তার রেপ হবার কথা, তার ওয়ার্কপ্লেসের ঘটনা। সে কারোকে জানাতে পারেনি, এমনকি পরবর্তীজীবনে নিজের স্বামীকেও নয়। এই আশঙ্কায়, যে এই অপরাধে স্বামী যদি তাকে ছেড়ে দেয়। আমি তার কাছে অপেক্ষাকৃত অচেনা মানুষ, তাই আমাকে বলেছিলো। কিন্তু কোনোদিনো সে এই ঘটনার রিপোর্ট পুলিশের কাছে করেনি। মূল বক্তব্য তার। কী হবে করে? লোকটার পানিশমেন্ট হবে? আমারো তো অনেক হ্যারাসমেন্ট হবে। আমার অত টাইম নেই। আমি ভুলে গেছি ওসব।
ভুলে গেছি বলছে, কিন্তু ভোলেও নি, তাই আমাকে ঘটনাটা বলল। ধর্ষককে দোষ দেবার বদলে সেই মহিলা তার মা কে দোষ দিলো। তার বাবাকে দোষ দিলো। মা বাবা সাপোর্ট করলে আমায় ঐ কাজ করতে হোত না, আমি রেপড হতাম না। অর্থাৎ সে নিজেই দোষটা ধর্ষক থেকে ঘুরিয়ে দিতে চাইল।
আমার এই দেশে বেশ কিছু ঘটনা জানি শিশু অবস্থায় রেপড হওয়া মেয়েদের। একজনের বয়স এখন আঠাশ কি ঊনত্রিশ। সে নিয়মিত সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যায়। সেই ধর্ষক কি্তু তার ফ্যামিলি ফ্রেন্ড, তার কোনো শাস্তি হয় নি, বিচার হয় নি, পুলিশ রিপোর্টও নয়। এখন সাইকিয়াট্রিস্ট যেটুকু জানছে, ব্যস। মেয়েটিকেই নিজ খরচে তার বিশ বছর আগে ঘটে যাওয়া আঘাতের চিকিৎসা করতে হচ্ছে।
আরেকটি মেয়ে, সে কিন্তু শৈশবের ধর্ষণ আটকাতে পেরেছিলো আক্রমনকারীকে কামড়ে দিয়ে। খুবলে হাতের মাংস টেনে নিয়েছিলো। তখন আক্রমনকারীকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়। অবশ্য অ্যাটেম্প্ট টু রেপ টা পারিবারিকভাবেই চেপে দেওয়া হয়েছিলো। এক্ষেত্রেও মেয়েটি শিশু, আক্রমনকারী পারিবারিক বন্ধু ও গডফাদার।
ম্যারিটাল রেপ সম্পর্কে এত ঘটনা জানি যে লিখে শেষ করা যাবে না। কোলকাতায় একটি মেয়ের ম্যারিটাল রেপ হয়েছিলো দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর। প্রায় কুড়ি বছর পরে মেয়েটি ডিভোর্স নেয়, তাও অন্য গ্রাউন্ডে। আরেকটি মেয়ের কথা বলে এখনকার মতো থামছি। সে ও বলেছিলো, তার স্বামীর এভরি অল্টারনেট ডে সেক্স চাপত। তখন করতে না দিলে, জোর করে করবেই। বাধা দিলে মারবে, তবু করবে। কী করব বলো? মারও খাব আবার রেপ ও হবো? তার চেয়ে সহযোগিতা করাটাই বেটার।
এখন, ধর্ষণ ব্যাপারটাই ক্ষেত্রবিশেষে নর্ম্যাল কিনা, সেটা যদি প্রমাণ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে ব্যাপারটা অন্যভাবে ভাবা হোক। যে জিনিস নর্ম্যাল, তার জন্যে শাস্তিবিধানের কী দরকার? শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এটাই যদি বায়োলজি হয়, প্রকৃতিসম্মত হয়, তাহলে আত্মর্ক্ষার কৌশল শিখে যতটুকু পারা যায় নিজেকে প্রোটেক্ট করে রাখাটাও খারাপ অপশন মনে হয় না।
Avatar: সে

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

আরো। লিখতে লিখতে ক্লিশে হয়ে গেছে তা ও। এই সমস্ত গনধর্ষণের পরে লোকজন খুব ক্ষেপে ওঠে। প্রচুর টিভি শো, প্রচুর ইন্টারভিউ, মোর্চা, ক্যান্ডেল্লাইট মিছিল, প্রতিবাদ, রাজনৈতিক ওয়াদা, রাজনৈতিক কাদাছোঁড়াছুঁড়ি, ও কেন এইটে বল্ল, ইনি কেন এরকম বল্লেন, ঐ সময়েই ছোটোখাটো পারষ্পরিক ঝাল মিটিয়ে নেওয়া, ঐ সুযোগেই রাজনৈতিক পার্টি বা ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যাপারে পথ পরিষ্কারের চেষ্টা, কেউ ক্যামেরায় মুখ দেখনোর জন্যে আসছে, যে তার তালে থাকে। এই ক্ষেপে ওঠা, এই আন্দোলন অচিরেই ঝিমিয়ে যায় যতক্ষণনা আরেকটা রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, তখন সেটাতে মূল ফোকাস সরে যায়। কিংবা নেক্স্ট রোমহর্ষক ঘটনাটাও যদি আরেকটা নৃশংস ধর্ষণ হয় বা কন্ট্রোভার্শিয়াল ধর্ষণ, তখন পুরোনোগুলোকেও টেনে তোলা হয় কিছুক্ষণের জন্যে। আরো কিছু ক্ল্যান্ডেল্লাইট মিছিল, নউন নউন উদ্ভাবনীশক্তিওয়ালা প্রতিবাদ মঞ্চ। আল্টিমেটলি কোনো ফায়সালা হয় না। যারা বুদ্ধিমান, তারা বার খেয়ে ক্ষুদি হয় না। তারা ধর্ষণটা চেপে যায়, কারণ চেপে থাকলে যে কষ্টটা বা যে আঘাতটুকু সে পেয়েছে সেটা সে যতটুকু সহ্য করবার ক্ষমতা ধরে তাই দিয়েই মোকাবিলা করতে পারে বা পারতে বাধ্য হয়। কিন্তু চেপে না রাখলে বিপদ আরো বেশি। আগের আঘাত যন্ত্রণার ওপরে আরো অনেক বেশি মানসিক অত্যাচার ও হেনস্থা তাকে বইতে হবে। এটা কোনোদেশে বেশি, কোনোদেশে কম। কিন্তু প্যাটার্ণটায় তীব্রতার কম বেশি থাকলেও, প্যাটার্ণটা আছে।
দুই, "রক্ষা" করবার ব্যাপারটা। ইকুয়াল রাইট্সএর পক্ষে যাদের বক্তব্য, তারা এই রক্ষা করাটাকে ভালো চোখে দেখছে না। কিন্তু একটা শিশু যখন রেপড হচ্ছে, তাকে রক্ষা কেউ করবে না এমনটা কিন্তু কেউ বলছে না। সেক্ষেত্রে এটা সব পক্ষের জন্যেই অ্যালাওড। যেই মেয়েটা শিশুবয়স পেরিয়ে গেল, অমনি রাতারাতি তাকে আর কেউ রক্ষা করবে না, এই আইডিয়াটাও আমার নিজের অদ্ভুত লাগছে শুনতে।
একটা মেয়ে তার বিবাহিত স্বামীর সঙ্গে রাস্তায় বেরিয়েছে, কিছু লোকে এসে তাকে রেপ করতে চাইল, কিন্তু স্বামী রক্ষা করবে না, কারণ সেটা "রক্ষা" করবার ডোমেনে পড়ে যাচ্ছে। সে দাঁড়িয়ে দেখতে পারে বা পুলিশে গিয়ে খবর দিতে পারে, বা ঘটনাটা নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় তুলে রাখতে পারে, পরবর্তীকালে কোর্টে কেস উঠলে দেখানোর জন্যে। এইরকমই শোনাচ্ছে। ব্যাপারটা। একটা অবিবাহিত মেয়ে রেপড হলে তাকে বাঁচাতে আসবে না তার বাপ মা ভাই বোন। কারণ ঐ একই, রক্ষা করাটা খুব ব্যাকডেটেড ব্যাপার। তদুপরি মা বোন বাবা ভাই এরা ক্যারাটে জানলে তো আরো সর্বনাশ। মেয়েটিকে একা চলতে হবে, আত্মরক্ষার প্রকৌশল শেখাটা তার কাছে অপশনাল করে রাখা হয়েছে, এখন ধর্ষণ হলে তাকে তার নিজেরটা বুঝে নিতে হবে। তারপরে সে পুলিশে গিয়ে কম্‌প্লেইন করবে, যোনিপথে হাত ঢুকিয়ে ডাক্তারেরা ধর্ষণের টেস্ট করবে, সে সব হয়ে যাবার পরে, কেস দেবে ঠিকঠাক করে পুলিশ, তারপরে মামলা হবে, সমান্তরালে ক্যান্ডেল্লাইট মিছিল, ইত্যাদি। মেয়েটার লাইফ কিন্তু শেষ হয়ে গেল। সত্যি সত্যিই শেষ হয়ে গেল। এখন তাকে "সাহস" জোগান দেবার অনেক বানী ও আসবে। আল্টিমেটলি সবই ব্যাক টু স্কোয়ার ওয়ান, একসেপ্ট মেয়েটির জীবন। ঐ একটি ঘটনায়, তার জীবনের সমস্ত কিছু পাল্টে যায়।
এখন বিভিন্ন স্কুল অফ থটসের লোকেরা ধর্ষকের শাস্তি নিরূপন করতে পাল্লা দিয়ে ডিসকোর্স করে যাচ্ছেন যাবেন ও। যদিও আসল শাস্তিটা মেয়েটিই পেল। বরং আরো বেশি করে। নিরাপদ দূরত্বের লোকেরা মতামত দিয়ে যাবেই, ডেমোক্র্যাটিক রাইট্‌স্‌ মেনে। কিন্তু যুগ যুগান্ত ধরে যখন দেখাই যাচ্ছে যে মেয়েদের ওপরে যৌন অত্যাচার চলে আসছে, সেটা সব সমাজে, এমনকি অ্যানিম্যাল কিংডামেও ধর্ষণ আছে, তাহলে এটাকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না কেন? কিছু কিছু লোক এটা করে থাকে। এটা কোনো রোগ নয়, একটি প্রবণতামাত্র, একে রোগ বললে সেটা সারানোর কোনো উপায় নেই - তাই রোগ বলা বৃথ, সকলেই এটা করে না তবে কেউ কেউ করে, এদের থেকে যারা নিজেদের রক্ষা করতে চায় বা পালাতে চায় তাদের জন্যে কিছু নিয়মাবলী থাকুক। স্বামী ধর্ষণ করলে তার থেকে দূরে চলে যাও, বা পালিয়ে যাও, বা ডিবোর্স নাও অন্য কোনো গ্রাউন্ডে। বা কোঅপারেট করে ওখানেই থাকো। যে অপশনটা বেশি সুবিধ্রনক ফিজিবল তোমার কাছে। ওয়ার্কপ্লেসেও তাই, হয় মানিয়ে নাও, নয়ত ফোটো। রাস্তায় বিপদের আশঙ্কা থাকলে ওপথে যেও না, বা তাৎক্ষণিক বিপদের মুখে পড়লে পালাও, ভীড়বাসের ক্ষেত্রেও হয় উঠো না, নয় পয়সা কামাও যাতে নিজের মোটোর গাড়ীতে চড়তে পারো।
ধর্ষণ নামক যে ব্যাপারটা হয়ে আসছে, সেটা বন্ধ হবার কোনো উপায় বা লক্ষন নেই। এটা যতটা সম্ভব অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করা যেতে পারে। বা একস্ট্রীম কেসে আত্মরক্ষার চেষ্টা।
তবে খুনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা। এই একই আর্গুমেন্ট দিয়ে খুন করাটাকে অ্যাকসেপ্ট করবার কথা বলিনি কিন্তু। দুটোকে মিলিয়ে মিশিয়ে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। তার অনেক কারণ। অ্যানিম্যাল কিংডামে অন্য পশুরা হরবঘৎ খুন করে না, কিন্তু ধর্ষণ করে। দুই, ধর্ষণে প্রাণ চলে যায় না, কেবল ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেক্সটুকু হয়। তবে ধর্ষক খুন করে ফেললে সেটা তখন খুনের কেস হয়ে যাচ্ছে, সেটা খারাপ। খুন ও ধর্ষণ এক জিনিস নয়। ধর্ষণকে একটা লেভেল অবধি সামাজিক নর্ম হিসেবে রাখলে ক্ষতি নেই। বরং সেই হিসেবমতো মাথা ঠাণ্ডা করে সেগুলোকে কতটা অ্যাকসেপ্ট করা হবে, কতটা অ্যাভয়েড করা হবে তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা যেতে পারে।
Avatar: সে

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

শুধু ভাবনাচিন্তা নয়, গঠনমূলক ভাবনা চিন্তা হোক। ধর্ষণকে ডিক্রিমিনালাইজ করা হলে লাখে লাখে ক্রিমিনাল কেস কমে যাবে। খুন হয়ে গেলেই একমাত্র কেস হবে। আন্ডাররিপোর্টিং কি ফল্স রিপোর্টিং, দুটো ই তখন মিনিংলেস। প্রোভাইডেড রেপ অ্যান্ড মার্ডার। তখন সেই কেসগুলো শুধু রিপোর্ট করা হবে।
হাসপাতালগুলোতেও চাপ কমবে।

এখন রান্নাবান্না করতে হবে। উঠি।
Avatar: pi

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

রক্ষা, সম্মান রক্ষা সব ঘেঁটে ঘ।
Avatar: সে

Re: নারী-ধর্ষণ সম্পর্কে দু’চার কথা যা আমরা জানি অথবা জানিনা

কেন?

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6] [7] [8] [9] [10]   এই পাতায় আছে 175 -- 194


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন