অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...
  • দেশত্যাগ...
    আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা ...
  • পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা
    মানস চক্রবর্তীকবিতা কি বিনােদনসামগ্রী? তর্ক এ নিয়ে আপাতত নয়। কবিতা কি আদৌ কোনাে সামগ্রী? কোনাে কিছুকে পণ্য হয়ে উঠতে হলেও তার একটা যােগ্যতা দরকার হয়। আজকের দিনে কবিতা সে-অবস্থায় আদৌ আছে কি না সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। কবিতা নামে একটা ব্যাপার আছে, ...
  • হে মোর দেবতা
    তোমারি তুলনা তুমি....আজ তাঁর জন্মদিন। আমার জংলা ডায়রির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা উড়িয়ে দিলুম তাঁর ফেলে যাওয়া পথে।দাঁড়াও পথিকবর....জন্ম যদি তব অরণ্যে," সবুজ কাগজেসবুজেরা লেখে কবিতাপৃথিবী এখন তাদের হাতের মুঠোয়"(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)মহাভারত...
  • বেকার ও সমীকরণ
    'বেকার'-এই শব্দটি আমাকে আজন্ম বিস্মিত করেছে। বাংলায় লেখাপড়া শিখে, এমনকী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, সে কী বাংলায় পদার্থবিদ্যার বিদ্যা বালানীয় চর্চা! যেমন, 'ও বিন্দুর সাপেক্ষে ভ্রামক লইয়া পাই।' ভ্রামক কি রে? ভ্রম না ভ্রমণের কাছাকাছি? না, ভ্রামকের ...
  • ধানবাদের রায়বাবু
    অরূপ বসুবেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিলাম, ভাল নেই ধানবাদের রায়বাবু। অরুণকুমার রায়ের স্মিত হাসিমুখ ছবির সঙ্গে সেই খবর পড়ে অনেকেই বিচলিত হয়েছিলেন। এখন লিখতে হচ্ছে, ধানবাদের রায়বাবু আর নেই! যে খবর ইতিমধ্যেই অনেকের হৃদয়, মন বিবশ করেছে। রায়বাবু নেই, কিন্তু ...
  • চন্দ্রকান্ত নাকেশ্বর
    চন্দ্রযান-৩ যখন ফাইনালি টুক করে চাঁদে নেমেই পড়ল তখন 'বিশ্বে সে কী কলরব, সে কী মা ভক্তি, সে কী মা হর্ষ'-র মধ্যে বোম্বে ফিল্ম কোম্পানি ঠিক করল একটা ছবি বানাবে। চন্দ্রযান-১ যখন চাঁদে গেছিল, তখন একটুও ফুটেজ পায়নি। কিন্তু তারপর মঙ্গলযান নিয়ে একটা আস্ত ছবি হয়ে ...
  • পাখিদের পাঠশালা
    'আচ্ছা, সারা দেশে মোট কতজন ক্যান্ডিডেট এই পরীক্ষাটা দেয়?', লোকটা সিগারেটে একটা টান দিয়ে প্রশ্ন করলো।-'জানা নেই। তবে লাখ দশেক তো হবেই।', আমি বললাম।- 'বাব্বা! এতজন! সিট কতো ?'-'বলতে পারব না। ভাল কলেজ পেতে গেলে মেরিট লিস্টে যথেষ্ট ওপরে নাম থাকতে হবে।'-' তার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গল্পের মতো

অবন্তিকা


http://s24.postimg.org/98ut0lo8l/keya.jpg

“The group's early productions were mainly adaptations of non-Indian plays… In the late 1970s, first Asit Bandopadhyay and then Ajitesh Bandopadhyay left the group. With Rudraprasad Sengupta as the main director, a new era started, and Nandikar turned from a pure performance-oriented theatre group to an organisation with a wide range of projects…” (Nandikar: Wikipedia)

পৃথিবীর কোনও ইতিহাস পক্ষপাতহীন নয় l হতে পারেনা l যে বা যারা সেই ইতিহাস লেখেন, তারা আপন মনের মাধুরী মিশিয়েই লেখেন, লিখে থাকেন l এই যেমন ৯-ই জুলাই ২০১৫-তে শেষ-পরিবর্ধিত উইকিপিডিয়ার এই পাতায় আমরা ইতিহাসের একটা জানলাকে খুললাম l অথচ অপরপ্রান্তে অন্য অন্য জানলা, অন্য অন্য আলো-অন্ধকার, অথবা ইতিহাসের ক্যানভাসে আলো-আঁধারির কিছু নিরবিচ্ছিন্ন মিশেল, আপামর দর্শক যাকে আগে কখনও এতটা নগ্ন দেখেনি; ‘নাটকের মতো’ আদতে সেই আবছায়ার গল্প l বা বলা যেতে পারে, আবছায়া ‘অবলম্বনে’ তৈরি গল্প l

দেবেশ গল্প বুনতে পারেন l অন্তত মঞ্চের দেবেশ সম্পর্কে তেমনটাই জানি l দেবেশ সেলুলয়েডেও সেটা পারলেন, কারণ খুব অবলীলায় প্রায় প্রতিটা পরতে নিজেকে রিলেট করাতে পারছিলাম l খেয়া তো আমার, আমাদের মতোই, একটা সাদামাটা মেয়ে l চেনা ছকের বাইরে চলতে চাওয়া একজন মেয়ে, যে ষাটের দশকেও সিঁদুর পরতো না, আর কেউ প্রশ্ন করলে নিজের অবস্থান স্পষ্টত ঘোষণা করার সাহস দেখাতো, যে লিউ শাওচি পড়েনি, কিন্তু জানতো, মালকোঁচা দিয়ে ধুতি পরা বাবু, বৃদ্ধ রিকশাওলার পয়সা মেরে দিলে তার গালে সপাটে এক থাপ্পড় কষাতে হয় l একটা মস্ত নদী, মেয়েটা সাঁতার জানে না, নিচে কোনও জাল পাতা নেই, তারপর হঠাৎই মেয়েটা জলে পড়ে যায়, হয়তো ঝাঁপ দেয়, নাকি ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়... আবছায়া... সপ্তাহান্তেও যে মাল্টিপ্লেক্সে বাংলা ছবি এলে সাকুল্যে দর্শকসংখ্যা দেখা যায় গোটা পনেরো, আজ সেখানে জনা পঞ্চাশেকের ভিড় l কে জানে এরা সবাই নদীর গল্প, খেয়ার গল্প, জানতো কিনা ! যে অভিনেত্রীর জীবনের আবছায়া নিয়ে এই ছবি, তার নাম বাবা-মায়ের মুখে প্রথম যখন শুনি, তখন আমার বয়স বড়জোর সাত-আট l পরবর্তীকালে বহুবার ইন্টারনেটে খুঁজেছি l পাইনি l হাতে গোনা কিছু ফটোগ্রাফ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসম্পূর্ণ তথ্য l এক একটা মানুষ এভাবেই দুম করে আছে থেকে নেই হয়ে যায় l মাঝখানে পড়ে থাকে আবছায়ারা l
“In the dark times
Will there also be singing
Yes there will also be singing
About the dark times”
(Brecht)

আজ, এই পরিসরে, ছবির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলবো না l নির্বাচন (কুশলী), নির্মাণ (সার্বিক) ও নির্ণয় (সব আত্মহত্যাই আসলে হত্যা) নিয়ে প্রশ্ন যেটুকু তোলা গেলেও যেতে পারতো, তুলবো না l কারণ এটা প্রতিক্রিয়া নয় l বরং ভিজুয়াল আর্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাবৎ জীবনের কিউবিক-কোলাজগুলোকে পরপর বিন্যস্ত ও অবিন্যস্ত করার একটা প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা স্ট্র্যাটেজি অফ ডিফ্যামিলিয়ারাইজেশানের কথা জানি,
তবুও, শেষমেষ ক্লাইম্যাটিক ক্যাথারসিস থেকে নিজেদের পুরোটা টেনে বার করে আনতে পারিনা l
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাস্কর চক্রবর্তীর গুটিকয় লাইন মনে পড়ে l “তোমাকে দুঃখিত করা আমার জীবনধর্ম নয়/ চলে যেতে হয় বলে চলে যাচ্ছি/ নাহলে তো/ আরেকটু থাকতাম”l সেই লড়াই থামিয়ে দিতে চাওয়া লড়াকু মেয়েটা, কবি বান্ধবীকে ফুল দেওয়া নরম মেয়েটা, চাকরি ছেড়ে নাটকে ডুবে যাওয়া জিদ্দি মেয়েটা দুম করে একদিন সকালে শুটিং-এ যাওয়ার আগে মাকে বলে চলে যায়- “বেশিকিছু তো চাইনি মা, কেবল ভালোবেসে একটু নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম !”

যারা ভালোবেসে নিজের মতো করে বাঁচতে চায়, অথবা নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়ে ভালোবাসে, তাদের জার্নিগুলো তো প্রায় এক ! প্রায়শ এক !


1416 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40
Avatar: de

Re: গল্পের মতো

আরো লিখুন - দরকার হলে আলাদা টই খুলে -

কত অভিজ্ঞতা আপনার!!!
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে রঙ্গনা হলে গিএ দেখেছিলাম-- নান্দীকারের "ভালোমানুষ"। ব্রেখ্টএর "দ্য গুড উয়োম্যান অফ সেজুয়ান" এর অজিতেশকৃত অনুবাদ।
ফাটাফাটি লেগেছিল। কারণ একবছর আগেই অরুণ মুখোপাধ্যায়ের "চেতনা" দলের "ভালোমানুষের পালা" দেখেছি যে! মন ভরে নি। যদিও ওঁদের মারীচ সংবাদ, জগন্নাথ দেখে আমি একেবারে ফিদা ছিলাম।
এই নাটকে রুদ্রপ্রসাদ, অজিতেশ, রাধারমণ তপাদার সবাই ভালো। কিন্তু সবার ওপরে কেয়া শান্তার ভূমিকায়। ভুল বললাম-শান্তি ও শান্তাপ্রসাদের জোড়া ভূমিকায় কেয়া।
গোবিন্দ প্লেনে করে পাইলট হয়ে যাচ্ছে আর কেয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে আঁচল উড়িয়ে ছটফট করে আর্তনাদে ফেটে পড়ছেন-- ও যেন দেখতি পায়, ঠাকুর! আমারে যেন দেখতি পায়।
অথবা শান্তাপ্রসাদের ভূমিকায় গান গাইছেনঃ
" আমি যখন মেয়ে থাকি
তখন তাঁরা আসেন এবং,
খুকখুক করে কাশেন এবং,
তো-তো তো-তো করে বলেন ভালবাসি।

আমি যখন ছেলে হই,
কড়া কড়া কথা কই,
তখন কথা শেষের আগে
বলেন তাঁরা- এখন তবে আসি?"

অজিতেশের অনুবাদ, অজিত পান্ডের গলায় "আটটি ঘোড়ার গান"--- সবই খুব ভালো লেগেছিল।

অনুবাদটি বই হয়ে বেরলো। কিনে দেখি অজিতেশ উৎসর্গ করেছেন কেয়া চক্রবর্তীকে এই বলে-- কেয়া, আমার দেখা তুমি, তুমিই হলে ভালমানুষ।
অজিতেশদা"।
তখন কেয়া প্রয়াত।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

কাল থেকে ব্যস্ততার কারনে দেখার সময় পাই নি । অজুহাত !

অনেকের লেখা দেখছি ! - দেখে ভালো লাগছে যে এখনো কেয়াকে অনেক অনেক নাট্যপ্রেমী মনের মধ্যে রেখেছেন !

কেয়ার প্রসঙ্গে ঠিক নয় - আমি বাংলা লাইভের মজলিশে - বেশ অনেকগুলো লেখা দিয়েছিলাম - যার মধ্যে কেয়ার প্রসঙ্গ এসে পড়েছে । সেই লেখাগুলো অনেকটা ব্যক্তিগত ! - অবশ্য নান্দীকার - অজিতেশদার অনেক প্রসঙ্গ লিখেছিলাম ।

সুদীর্ঘ একতিরিশ বছর দেশের বাইরে থাকার জন্যে অজিতদার দল ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারটা ঠিক ঠাক জানা নেই ! - কিন্তু যে কথা লিখেছিলাম - নান্দীকারের প্রান যদি হয় অজিতদা - তাহলে ধমনী হল তার স্ত্রী !

কেয়া বইটা - ওর মৃত্যুর পর অনেক নাট্য ব্যক্তিত্যের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ! সম্পাদনা করেছেন দেবেশ চট্টপাধ্যায় । - যখন বইটা প্রথম প্রকাশ হয়েছিলো - তখন ছিলাম না বলে জোগাড় করতে পারি নি । এই বছরে এখানে সংসৃতির একটা নাটক দেখতে অকস্মাৎ বইটা পেয়ে গেছি ! - যদি কারুর কোনও প্রশ্ন থাকে - উত্তর দিতে বাধ্য থাকবো !

সে - বোধয় লিখেছেন - অজিতেশদার বাড়িতে গেছিলেন ও কেয়া সম্বন্ধে আলোচনা করেছিলেন ! হতেই পারে - উনি ও ওনার স্ত্রী কেয়াকে খুবই স্নেহ করতেন - ভালোও বাসতেন ! সেই নিয়ে একটা গুঞ্জন ছিল দলের মধ্যে ! কিন্তু সেটা শুধুই গুঞ্জন ! - অনেকগুলো নাটকে দুজনেরই অন্তরঙ্গ দৃশ্য ছিল !

চিত্তরঞ্জন ঘোষই - আমাদের চিত্তদা । উনি অনেক নাটক অনুবাদ করেছিলেন । - কেয়াদের তিনতলার বাড়িতে সবাইয়ের বেশ যাতায়াত ছিল ! - কেয়ার বাবা তেমন রক্ষণশীল ছিলেন না - যে কারুর সঙ্গে মিশতে দেন নি ! - কিন্তু সিনেমা করার সম্মতি দেন নি প্রথম প্রথম ! যে কারনে - সত্যজিত রায়ের নায়ক এর সাংবাদিক রোলটা করতে পারেনি ! আমরা খুবই হতাশ হয়েছিলাম সে সময় !

যাই হোক, দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে । - কেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করতে এখনো ভালো লাগে !

মনোজ
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

মনোজবাবু,
খুবই তথ্যপূর্ণ ও মনোজ্ঞ আপনার আলোচনা। "কেয়ার বই" কোনোভাবে স্ক্যান করে আপলোড করা যায়? যারা দেশের বাইরে তারা পড়তে পারবে। আমরা সবাই কৃতজ্ঞ থাকব।

হ্যাঁ, সবটাই গুঞ্জন। একদম ঠিক।


Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

রঞ্জনদা,
একটা আবদার আছে। "ভালোমানুষ" বইটিও যদি স্ক্যান করা যায়। প্লীজ প্লীজ প্লীজ। ঐ বই আমি কখনো চোখেই দেখিনি। ঐ সমস্ত নাটক একটাও দেখা হোলো না। বড্ড দেরি করে জন্মেছি - দুঃখ হয়।

"আটটি ঘোড়ার গান" সম্ভবতঃ শুনেছি। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে অ্যাকাডেমিতে একটা স্মরণ অনুষ্ঠান হয়, সেখানে। আরো অনেক নাটকের গান ছিল। সেসব নাটক কখনো দেখা হয়নি, হবেও না।

আপনিও আরো লিখুন। অনুরোধ।

শান্তা ও শান্তাপ্রসাদ এই দুই ভূমিকায় ওঁর অভিনয় যাঁরা দেখেছেন, সেই দুর্লভ মানুষদের মধ্যে আপনি একজন।

এই নাটকের কিছু অংশ অন্য একটি মেয়ে (কলেজে আমার বেশ সিনিয়র, অনার্স ক্লাসের ছাত্রী) অভিনয় করেছিলো একটি নাটক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবার জন্যে। তখন আমি স্কটিশে ১১-১২ ক্লাসের ছাত্রী। বিএড কলেজের একটা ফাঁকা ঘরে বিকেলের দিকে সেই কোয়ালিফাই করবার পরীক্ষা চলছে। আমাদের বাংলার অধ্যাপক অনিলবাবু বিচারকের ভূমিকায়। আমরা কয়েকজন ছেলেমেয়ে এককাভিনয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এমন সময় সেই মেয়েটির ডাক পড়ল।
ভালোমানুষ কখনো দেখিনি, দেখবার প্রশ্নই নেই, কারণ সেই নাটক আর হবে না কোনোদিনো। মেয়েটি পাঁচ মিনিট অভিনয় করল। সম্ভবতঃ নাটকের শেষের দিকের কোনো অংশ, যেখানে সে বলছে, যে সে শান্তা এবং শান্তাপ্রসাদ, সম্ভবতঃ সে গর্ভবতী, এইসব।
হাঁ করে অভিনয় দেখছি আর ভাবছি, কেমন করে সে এই নাটকের সংলাপগুলো জানল?
ততক্ষণে তার সময় হয়ে গেছে, অনিলবাবু আমার নাম ডেকেছেন। আমার ৬মিনিটের কাজ হয়ে গেলে মেয়েটিকে জিগ্যেস করলাম, কে তোমায় এই নাটক দিলেন? কোত্থেকে শিখলে বলো। সে বলল - অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে। সেই মুহূর্তে নিজেকে খুব হতভাগা মনে হয়েছিলো। ইশ্‌! মেয়েটা কত ভাগ্যবতী।
এর কদিনপরে ফাইনাল প্রতিযোগিতা। কলেজের উৎসব "ক্যালিডোনিয়া"। সেখানে নানান কলেজ থেকে আসবে প্রতিযোগীরা। তিনদিন ধরে একের পর এক কত কী হয়ে চলেছে, উৎসবমুখর কলেজবাড়ী। নাটকের জন্যে অনেক কলেজ থেকে এসেছে। তার মধ্যে একটি ছেলেকে দেখলাম, সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়ে, সেও ইংরিজি অনার্স ক্লাসের পড়ুয়া। হলের ধারে চার নম্বর ঘরে আমরা সাজগোজ করছি, নাটকের পোশাক পরে। এক এক করে নাম ডাকা হলেই স্টেজে উঠে নিজের পার্ট অভিনয় করে দেখাতে হবে। সেই ছেলেটি পরেছে একটা বিরাট লম্বা ঝোলা শার্ট ও পাজামা। নীল সাদা ডোরাকাটা, লংক্লথের মতো মেটিরিয়াল। তাকে শুধোলাম, কী নাটক করবে তুমি? সে বলল - তামাকু সেবনের অপকারিতা।
ব্যাস! ঐটুকু শুনেই আমার হয়ে গেছে। এতো অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত সেই একক অভিনয়! কতোবার শুনেছি রেকর্ডে। ছেলেটির সঙ্গে আরেকটু আলাপ জমাতে চাই। শত হলেও মনে মনে যাকে গুরু মেনেছি, তারই নাটক করবে এই ছেলে। গায়ে পড়ে তাকে বলি, ঐ নাটক আমি শুনেছি রেকর্ডে। ছেলেটি উত্তর দেয় - আমি অজিতেশ বন্দ্যোপধ্যায়ের কাছেই এটা শিখেছি। এই জামাটা (সেই নীল সাদা ডোরাকাটা ঢলঢলে শার্টটা দেখিয়ে সে বলে) ওঁর। উনি যখন এই নাটকটা করেন, এইটা পরে করেন। আমায় দিয়েছেন।
অদ্ভুত এক রকম লাগে আমার। রীতিমতো ভয় করতে থাকে। নিজের নাটক প্রায় ভুলে যেতে থাকি কিছুক্ষণ। এরপরে ছেলেটি যায়, ওর পারফর্ম্যান্স আমি উঁকি মেরে কিছুটা দেখি, কারণ আমার তখন মেকাপ ভর্তি, বাইরে বেরোনোর উপায় নেই। যেটুকু দেখি, খালি ভাবি গুরু একে শিখিয়ে দিয়েছেন, এর পরণে গুরুর পোশাক, আশীর্ব্বাদ, এর সঙ্গে আমি পারব কেমন করে? হাতে পায়ে যেন ঝিঁঝিঁ ধরে যায়, কানে তালা লেগে যায়। সবার শেষে হোস্ট কলেজের নাম ডাকা হয়। চার নম্বর ঘর থেকে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে আমি স্টেজে ঢুকে পড়ি। একটা মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে কোথাও, সেটা তখনো বুঝিনি। হোস্ট কলেজ বলেই বুঝিনি। সব শেষে রেজাল্ট বলে দেওয়া হচ্ছে, বিচারকদের সামনেই। রিভার্স অর্ডারে। দ্বিতীয় হয়েছে সেই ছেলেটা। তারপরে কানে আবার তালা লেগে যায়। সে খুব চেঁচামেচি করছে সেটুকু শুনতে পাই। প্রায় মারামারি লেগে যায় একটা জায়গায়। ছেলেটা ঐ নাটকের পোশাকেই অ্যাসেম্বলী হল থেকে এরিয়ে যাচ্ছে। কী হয়েছে? সে চিৎকার করে বলছে, কলেজ থেকে কোনো প্রপ দেবার কথা নয়, তবু আমি সেই চেয়ারটা ব্যবহার করেছি। ওটা কলেজের সম্পত্তি। এ অন্যায়! আমাদের সিনিয়র ছেলেরা ওকে বাইরে নিয়ে গিয়ে ঠাণ্ডা করে। আমি কাঁদব কিনা বুঝতে পারিনা। আমার পুরষ্কার ফিরিয়ে দেব? কী করব আমি?

এর কিছু পরে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো আবার। টিনেজার সুলভ চঞ্চলতা নিয়ে বলেছিলাম, ও (ঐ ছেলেটির নাম করে, সে এখন বিরাট নাট্যব্যক্তিত্ব) কে আপনি অভিনয় শিখিয়ে দিয়েছিলেন, ও কত লাকি। আমার আর নাটক করা হবে না, দেখবেন। উনি বলতেন, অনেক পড়তে হবে, লিখতে হবে। সবার আগে বিএ টা পাশ করে নিও। ওটা খুব দরকার।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

রঞ্জনদা,
আপনি নির্ঘাৎ "তিন পয়সার পালা" দেখেছেন? লিখুন না একটু।

বের্টোল্ট ব্রেশ্‌টের The Threepenny Operaর বাংলা রূপান্তর।
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

সরি সে।
তিন পয়সার পালা যখন হয় তখন আমি ভিলাইয়ে শয্যাশায়ী। দুটো ফুসফুসই যক্ষ্মায় আক্রান্ত। তাই দেখা হল না। কিন্তু মন দিয়ে ওঁদের বিজ্ঞাপন আর রিভিউগুলো দেখতাম।
যাঁরা দেখেছেন তাঁদের মুখে শুনেছি ম্যাক দ্য নাইফের রোলে অজিতেশের দুর্দান্ত অভিনয়।
দুটো বিজ্ঞাপন (একটা বোধহয় গান-সবই অজিতেশের করা) এখনও মনে আছে।
"-- ইচ্ছে হলে হাঙরেরও দাঁত দেখতে পাবেন।
কিন্তু যখন মহীনবাবু ছুরিটা চমকাবেন,
দেখতে পাবেন না।"

এবং,

" মোহিনীমোহন দেব আর মোহিনীবালা দেবী,
পুরুত বসে মন্ত্র পড়ায় অং বং চং কং,
আমরা বলি হল কিসে,
যদুর মামা মধুর পিসে?
শুনে তারা বল্লে হেসে বিবাহং বিবাহং।"

Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

রঞ্জনদা,
মোহিনীমোহন দেব গানটা খুব মজার, ওটা শুনেওছি।
আচ্ছা, "গর্ত বড়ো ভাল" গানটা কোন নাটকের? কিছুতেই মনে পড়ে না।
Avatar: ranjan roy

Re: গল্পের মতো

উঁহু, এটা হয়তো কল্লোল বা রূপংকরদা অথবা নাটকের গান নিয়ে প্রোজেক্ট করেন যে গুরুভাই, "মহাভারতের কথা" চটি লিখেছিলেন , বলতে পারবেন।
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

'কেয়ার বই'-এর কিন্তু পুনঃপ্রকাশ হবে বলে জানি.

দেবেশ বাবু প্রাথমিক ভাবে সংসৃতি থেকে একটা পত্রিকা করেন কেয়ার ওপর. পরে সেটার লেখা আর 'কেয়ার বই' এর কিছু লেখা মিলিয়ে দীপ প্রকাশন থেকে একটা বই বেরোয়. এটার সম্পাদক দেবেশ বাবু.

আর সেতু প্রকাশনী থেকে 'আগুনের খেয়া' নামে একটা বই আছে.
Avatar: তাপস

Re: গল্পের মতো

ইয়ে, বলছিলাম কী, সিনেমাটা কি আর কেউ দেখলেন? পাই দেখেছে জানি, কিন্তু লিখছে না। :-(
Avatar: Som

Re: গল্পের মতো

পরছি আর যত পরছি গলার কাছ তা তে কেমন দলা পাকিয়ে কান্না উঠছে। কেন উত্ছে জানি না। কত কিছু মিস করেছি দেরী তে জন্ম নিয়ে।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

নাটকের মতো !

বহু প্রতীক্ষিত সিনেমাটা দেখা হল । সিনেমাটা না হলেও কারুর কোনও ক্ষতি হত না ! - অবশ্য দেবেশবাবু তো আগেই বলে রেখেছেন - এটা ঠিক নির্দিষ্ট কারুর জীবনী নয় - কোনও এক অভিনেত্রীর জীবনী হতে পারে ! - তাই কিছু বলে লাভ নেই ! - তবু স্বভাব !

কেয়ার চেহারা ছিল শার্প - দোহারা - অনেকটা পুরনো দিনের মঞ্জু দের মতো ! - তাই পাওলি দামকে বড় চোখে লাগে । আর নাক খ্যাদা তো নয়ই ! - নাটকের অভিনয় ছাড়া কখনই মেক-আপ করত না ! আর ভুরু প্লাগ করা-টরা কিছুই ছিলই না ! - আর নাইয়ের নিচে শাড়ি পড়া ! এসব কবে আরম্ভ হল !

কোথা থেকে এই চিত্রনাট্য করা হল কে জানে ! এখন তো সবাই শুনেছি - সব জানে । অথচ একটু হোম-ওয়ার্ক করে নিতে পারল না ! - সবটাই নেগেটিভ লিখতে ইচ্ছে করে না !

পাওলির অভিনয় ভালই । রজতাভর অভিনয় দারুণ ।

ও একটা কথা না লিখলেই নয় । কৃতজ্ঞতা স্বীকারে সবার নাম আছে । শুধুমাত্র রুদ্রপ্রসাদের নামই নেই । এর নিশ্চয়ই কোনও কারন আছে । - বইটা রিলীজ হওয়ার আগের দিন রুদ্রপ্রসাদ একটা বিবৃতি দিয়েছিল - কেয়া নাকি মারা যাবার আগেও ওর পরিচালনায় অভিনয় করেছিল !

তবে সিনেমাটা দেখা যেতে পারে । নিদেন পক্ষে বাংলা সিনেমা !

মনোজ


Avatar: পরিচয় পাত্র

Re: গল্পের মতো

একজন অনেক নাটক দেখার স্মৃতির কথা বলেছেন। খুব ভাল লাগল তাঁর মন্তব্য। একটি সূত্র ধরিয়ে দিয়ে যাই। 'তেত্রিশতম জন্মদিবস' আদতে হ্যারল্ড পিণ্টারের 'বার্থডে পার্টি' র বাংলা রূপান্তর, অজিতেশের অনুরোধে রূপান্তর করেন পবিত্র সরকার। অ্যাবসার্ডিস্ট নিশ্চয়, তবে কিনা পিণ্টারের নাটকের আলাদা মেজাজ আছে। বাকি অ্যাবসার্ড গ্রুপ থেকে আলাদা।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

পরিচয়বাবু,

তেত্রিশতম জন্মদিবসের শো দুবার দেখেছি মাত্র। ভালো করে সবটা মনে নেই এখন, ১৯৮৩র ঘটনা। এই নাটকেও দুটি ইন্টারভ্যাল ছিলো। মূল চরিত্র সোমু-র ভূমিকার ছিলেন অভীক মুখোপাধ্যায়। গান সম্ভবতঃ ছিলো না এই নাটকে সেভাবে। কিন্তু তেত্রিশতম জন্মদিবসের ভোর থেকে পার্টির পরিবেশ একটু একটু করে তৈরী হতে লাগল। এরই মধ্যে সম্ভাব্য একটা কালো পিক্‌আপ ভ্যানের আসবার আশঙ্কাময় পরিবেশ। এই নাটকের প্রথম ও শেষ দৃশ্য হুবহু এক। অবিকল। পিক্‌আপ ভ্যান এসে সোমুকে নিয়ে চলে যায়, তাতে কোথাও হেল দোল হয় না, সমস্ত আগের মতই চলতে থাকে। সোমু মনে হয়েছে তারুণ্যের প্রতীক। এক একটা মুহূর্ত যেভাবে তৈরী হয়ে যাচ্ছিলো, যেমন গৃহকর্ত্রীর পুরোনো দামী শাড়ী পরে এসে নাচ, যে চুড়ান্ত অবাস্তবভাবে জমে ওঠে জন্মদিনের উৎসবসন্ধ্যা, ইত্যাদি, - এ কেবল ঐ নাটকেই সম্ভব। একবারও মনে হয় না বিদেশী নাটকের অনুবাদ, রূপান্তর।
আপনি একটু লিখুন না এ বিষয়ে। খুব ভালো লাগবে। অনুরোধ।

নাটকের গানের প্রসঙ্গে হঠাৎ মনে পড়ে যাচ্ছে পাপ পুণ্যের একটা গান। "আমি যাব গো তোমার সঙ্গে, যাব বন্ধু যাব।" এসব কি কোথাও সংরক্ষণ কর নেই? কোথাও রেকর্ড করা নেই? টেকনোলজি আজকের মতো উন্নত হওয়া দূরে থাক, কাছাকাছিও ছিলো না। তবু সমস্ত হারিয়ে গেল ভাবলেই মনে হয় এ এক বিরাট ক্ষতি।
Avatar: i

Re: গল্পের মতো

বছর দুই আগে 'রোববার ' এর কোনো এক ইস্যুতে আমি যাব গো তোমার সঙ্গে' গানটি এবং অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা আরও কিছু গানের উল্লেখ ছিল।
কথা এরকম কিছুটা-
'একদিন আমি যাব বন্ধু তোমার সঙ্গে যাব/কুলের মুখে নাথি দিয়ে/ আমি যাব গো তোমার সঙ্গে/যাব বন্ধু যাব..

এইটুকু লিখে নেট সার্চ করে এই সাইটটা দেখলামঃ
http://www.milansagar.com/kobi/ajitesh_bandyopadhyay/kobi-ajiteshbandy
opadhyay_kobita1.html


সে, আপনার এই অভিজ্ঞতা আরও লিখুন।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

অনেক থ্যাংক্স ইন্দির ঠাকরুণ। এখন কথাগুলো দেখে সুর মনে পড়ে যাচ্ছে।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো


নান্দীকারের প্রথম থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রায় সমস্ত নাটকই আমি দেখেছি । আমি ওদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত । তারপর আমার ব্যক্তিগত জীবনের সংগ্রামে একেবারে ভেসে গেলাম ! - কেয়াই আমাকে পাঠিয়েছিল শ্যামল ঘোষের কাছে - অভিনয় করার জন্যে ! সেটা আরেকটা গল্প !

- প্রথমদিকে নান্দীকার একাঙ্ক নাটক করত । ওদের প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করলও বাগবাজার রিডিং লাইব্রেরীতে । - যতদূর মনে পড়ে - দুটো একাঙ্ক হয়েছিলো । প্রস্তাব ও ডেথ অব এ সেলসম্যান । - টাকা তোলার জন্যে - আমাদের একে ওকে তাকে ধরে টিকিট বিক্রি করা - তখন এসব সবাইকেই করতে হত । সবাইকে কাঁধে করে সেট বয়ে নিয়ে যেতে হত অজিতদার বাড়ি থেকে । তখন ফ্ল্যাট ছিল কর্নওয়ালিস স্ট্রিটের একটা গলিতে । - এখন যেখানে বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল - নন্দ বোসের মাঠে প্রথম শো ছিল । - সেই সময় নান্দীকারে যারা অভিনয় করত - বেশিরভাগই স্কুলে বা সরকারি অফিশে কাজ করত । - আমি অবশ্য ছাত্র ছিলাম । অজিতদার স্ত্রী - নাম মনে পরছে না - আমাদের সবাকার কত ধকল সহ্য করেছেন ! - কেয়াকে উনি খুবই ভালবাসতেন ।

অজয় গাঙ্গুলি নামে এক উঠতি নায়ক ছিল দলে - অভিনয় সো সো - কিন্তু তার গ্ল্যামার টিকিট বিক্রির কাজে লাগত । তখন লোকে গ্রুপ থিয়েটারের নাটক জানতও না দেখতও না । - আরও অনেকে ছিল - যাদের কেউ কেউ নাট্য জগতে এখন বেশ নাম করেছে - ও সরকারের অনুগ্রহ পাচ্ছে !

কেয়ার সঙ্গে রুদ্রপ্রসাদের প্রথমে কিছুই ছিল না । একটা বিশেষ ঘটনার পর থেকেই দুজনে কাছাকাছি আসে ও নাটকের সুত্রেই প্রণয় ও অনেক পড়ে পরিণয় পর্যন্ত এগিয়ে যায় । আর সেই ঘটনা খুবই ব্যক্তিগত ও গোপনীয় !

পরে শ্যামবাজার স্ট্রিটের একটা বাড়ির একটা ঘরে নান্দীকার চলে আসে । তার সামনের বাড়িতে তিনতলায় রুদ্রপ্রসাদের দাদার সংসার ছিল ।

আর মানিকতলার রাজেন্দ্র লালা স্ট্রিটে - যেখানে কাজই নজরুল ইসলাম থাকতেন - তার উল্টোদিকের বাড়িতে কেয়াদের পৈতৃক বাড়ি । সেখানে অনেক অধ্যাপক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব আসতেন ও নাটক নিয়ে আলোচনা হত । - চিত্তরঞ্জন ঘোষ ও আরও অনেকে । সেখানেই আমার সঙ্গে পরিচয় হয় অনেক ছাত্র ফেডারেশানের নেতাদের সঙ্গে ! - তখন সবাইই ছাত্র ফেডারেশান করত ।

কেয়া যখন স্কটিশ চার্চ কলেজে ঢুকেছিল - প্রথম বর্ষে একটা কবিতা লিখেছিল - নাম 'সে' ! তাই নিয়ে অনেকে খুব আওয়াজ দিত । - সেখান থেকেই অভিনয় করতে থাকে । - ওর প্রথম অভিনয় - গাজর নয় । বাগবাজারের মামার বাড়িতে মঞ্চ বেঁধে নাচ গান হত - তাতে সোনার কলম নাটকে অভিনয় করেছিল । সেটা খুবই লঘু অভিনয় বলা চলে !

আপাতত - এই পর্যন্তই । আবার পরে সময় করে লিখবো !

মনোজ

Avatar: de

Re: গল্পের মতো

সবার লেখা ভালো লাগছে - আরো লিখুন -

দেবশঙ্কর হালদারের রিভিউ -

http://www.anandabazar.com/supplementary/anandaplus/film-review-of-nat
oker-moto-a-biopic-of-actress-keya-chakraborty-1.199239#

Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

প্রথমত, ওটা হালদারের রিভিউ না. দেবশংকর হালদার এত জালি বাংলা লেখেন না. মুখোপাধ্যায় এমনি স্টাফ. আর, লেখাটা পুরো মাধ্যমিকের রচনা টাইপস হয়েছে.

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 21 -- 40


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন