অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...
  • দেশত্যাগ...
    আমার এক বন্ধু ওর একটা ভিজিটিং কার্ড আমাকে দিয়েছিল। আমি হাতে নেওয়ার সময় কার্ডটা দেখে বুঝতে পারলাম কার্ডটা গতানুগতিক কোন কার্ড না, বেশ দামি বলা চলে। আমি বাহ! বলে কাজ শেষ করে দিলাম। আমি আমার বন্ধুকে চিনি, ওর কার্ডের প্রতি এরচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখালে ও আমার মাথা ...
  • পাঠকের সঙ্গে তাদের হয় না কো দেখা
    মানস চক্রবর্তীকবিতা কি বিনােদনসামগ্রী? তর্ক এ নিয়ে আপাতত নয়। কবিতা কি আদৌ কোনাে সামগ্রী? কোনাে কিছুকে পণ্য হয়ে উঠতে হলেও তার একটা যােগ্যতা দরকার হয়। আজকের দিনে কবিতা সে-অবস্থায় আদৌ আছে কি না সবার আগে স্পষ্ট হওয়া দরকার। কবিতা নামে একটা ব্যাপার আছে, ...
  • হে মোর দেবতা
    তোমারি তুলনা তুমি....আজ তাঁর জন্মদিন। আমার জংলা ডায়রির কয়েকটা ছেঁড়া পাতা উড়িয়ে দিলুম তাঁর ফেলে যাওয়া পথে।দাঁড়াও পথিকবর....জন্ম যদি তব অরণ্যে," সবুজ কাগজেসবুজেরা লেখে কবিতাপৃথিবী এখন তাদের হাতের মুঠোয়"(বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)মহাভারত...
  • বেকার ও সমীকরণ
    'বেকার'-এই শব্দটি আমাকে আজন্ম বিস্মিত করেছে। বাংলায় লেখাপড়া শিখে, এমনকী একাদশ শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে, সে কী বাংলায় পদার্থবিদ্যার বিদ্যা বালানীয় চর্চা! যেমন, 'ও বিন্দুর সাপেক্ষে ভ্রামক লইয়া পাই।' ভ্রামক কি রে? ভ্রম না ভ্রমণের কাছাকাছি? না, ভ্রামকের ...
  • ধানবাদের রায়বাবু
    অরূপ বসুবেশ কয়েকমাস আগে লিখেছিলাম, ভাল নেই ধানবাদের রায়বাবু। অরুণকুমার রায়ের স্মিত হাসিমুখ ছবির সঙ্গে সেই খবর পড়ে অনেকেই বিচলিত হয়েছিলেন। এখন লিখতে হচ্ছে, ধানবাদের রায়বাবু আর নেই! যে খবর ইতিমধ্যেই অনেকের হৃদয়, মন বিবশ করেছে। রায়বাবু নেই, কিন্তু ...
  • চন্দ্রকান্ত নাকেশ্বর
    চন্দ্রযান-৩ যখন ফাইনালি টুক করে চাঁদে নেমেই পড়ল তখন 'বিশ্বে সে কী কলরব, সে কী মা ভক্তি, সে কী মা হর্ষ'-র মধ্যে বোম্বে ফিল্ম কোম্পানি ঠিক করল একটা ছবি বানাবে। চন্দ্রযান-১ যখন চাঁদে গেছিল, তখন একটুও ফুটেজ পায়নি। কিন্তু তারপর মঙ্গলযান নিয়ে একটা আস্ত ছবি হয়ে ...
  • পাখিদের পাঠশালা
    'আচ্ছা, সারা দেশে মোট কতজন ক্যান্ডিডেট এই পরীক্ষাটা দেয়?', লোকটা সিগারেটে একটা টান দিয়ে প্রশ্ন করলো।-'জানা নেই। তবে লাখ দশেক তো হবেই।', আমি বললাম।- 'বাব্বা! এতজন! সিট কতো ?'-'বলতে পারব না। ভাল কলেজ পেতে গেলে মেরিট লিস্টে যথেষ্ট ওপরে নাম থাকতে হবে।'-' তার ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

গল্পের মতো

অবন্তিকা


http://s24.postimg.org/98ut0lo8l/keya.jpg

“The group's early productions were mainly adaptations of non-Indian plays… In the late 1970s, first Asit Bandopadhyay and then Ajitesh Bandopadhyay left the group. With Rudraprasad Sengupta as the main director, a new era started, and Nandikar turned from a pure performance-oriented theatre group to an organisation with a wide range of projects…” (Nandikar: Wikipedia)

পৃথিবীর কোনও ইতিহাস পক্ষপাতহীন নয় l হতে পারেনা l যে বা যারা সেই ইতিহাস লেখেন, তারা আপন মনের মাধুরী মিশিয়েই লেখেন, লিখে থাকেন l এই যেমন ৯-ই জুলাই ২০১৫-তে শেষ-পরিবর্ধিত উইকিপিডিয়ার এই পাতায় আমরা ইতিহাসের একটা জানলাকে খুললাম l অথচ অপরপ্রান্তে অন্য অন্য জানলা, অন্য অন্য আলো-অন্ধকার, অথবা ইতিহাসের ক্যানভাসে আলো-আঁধারির কিছু নিরবিচ্ছিন্ন মিশেল, আপামর দর্শক যাকে আগে কখনও এতটা নগ্ন দেখেনি; ‘নাটকের মতো’ আদতে সেই আবছায়ার গল্প l বা বলা যেতে পারে, আবছায়া ‘অবলম্বনে’ তৈরি গল্প l

দেবেশ গল্প বুনতে পারেন l অন্তত মঞ্চের দেবেশ সম্পর্কে তেমনটাই জানি l দেবেশ সেলুলয়েডেও সেটা পারলেন, কারণ খুব অবলীলায় প্রায় প্রতিটা পরতে নিজেকে রিলেট করাতে পারছিলাম l খেয়া তো আমার, আমাদের মতোই, একটা সাদামাটা মেয়ে l চেনা ছকের বাইরে চলতে চাওয়া একজন মেয়ে, যে ষাটের দশকেও সিঁদুর পরতো না, আর কেউ প্রশ্ন করলে নিজের অবস্থান স্পষ্টত ঘোষণা করার সাহস দেখাতো, যে লিউ শাওচি পড়েনি, কিন্তু জানতো, মালকোঁচা দিয়ে ধুতি পরা বাবু, বৃদ্ধ রিকশাওলার পয়সা মেরে দিলে তার গালে সপাটে এক থাপ্পড় কষাতে হয় l একটা মস্ত নদী, মেয়েটা সাঁতার জানে না, নিচে কোনও জাল পাতা নেই, তারপর হঠাৎই মেয়েটা জলে পড়ে যায়, হয়তো ঝাঁপ দেয়, নাকি ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়... আবছায়া... সপ্তাহান্তেও যে মাল্টিপ্লেক্সে বাংলা ছবি এলে সাকুল্যে দর্শকসংখ্যা দেখা যায় গোটা পনেরো, আজ সেখানে জনা পঞ্চাশেকের ভিড় l কে জানে এরা সবাই নদীর গল্প, খেয়ার গল্প, জানতো কিনা ! যে অভিনেত্রীর জীবনের আবছায়া নিয়ে এই ছবি, তার নাম বাবা-মায়ের মুখে প্রথম যখন শুনি, তখন আমার বয়স বড়জোর সাত-আট l পরবর্তীকালে বহুবার ইন্টারনেটে খুঁজেছি l পাইনি l হাতে গোনা কিছু ফটোগ্রাফ, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসম্পূর্ণ তথ্য l এক একটা মানুষ এভাবেই দুম করে আছে থেকে নেই হয়ে যায় l মাঝখানে পড়ে থাকে আবছায়ারা l
“In the dark times
Will there also be singing
Yes there will also be singing
About the dark times”
(Brecht)

আজ, এই পরিসরে, ছবির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কথা বলবো না l নির্বাচন (কুশলী), নির্মাণ (সার্বিক) ও নির্ণয় (সব আত্মহত্যাই আসলে হত্যা) নিয়ে প্রশ্ন যেটুকু তোলা গেলেও যেতে পারতো, তুলবো না l কারণ এটা প্রতিক্রিয়া নয় l বরং ভিজুয়াল আর্টের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাবৎ জীবনের কিউবিক-কোলাজগুলোকে পরপর বিন্যস্ত ও অবিন্যস্ত করার একটা প্রক্রিয়া, যেখানে আমরা স্ট্র্যাটেজি অফ ডিফ্যামিলিয়ারাইজেশানের কথা জানি,
তবুও, শেষমেষ ক্লাইম্যাটিক ক্যাথারসিস থেকে নিজেদের পুরোটা টেনে বার করে আনতে পারিনা l
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ভাস্কর চক্রবর্তীর গুটিকয় লাইন মনে পড়ে l “তোমাকে দুঃখিত করা আমার জীবনধর্ম নয়/ চলে যেতে হয় বলে চলে যাচ্ছি/ নাহলে তো/ আরেকটু থাকতাম”l সেই লড়াই থামিয়ে দিতে চাওয়া লড়াকু মেয়েটা, কবি বান্ধবীকে ফুল দেওয়া নরম মেয়েটা, চাকরি ছেড়ে নাটকে ডুবে যাওয়া জিদ্দি মেয়েটা দুম করে একদিন সকালে শুটিং-এ যাওয়ার আগে মাকে বলে চলে যায়- “বেশিকিছু তো চাইনি মা, কেবল ভালোবেসে একটু নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়েছিলাম !”

যারা ভালোবেসে নিজের মতো করে বাঁচতে চায়, অথবা নিজের মতো করে বাঁচতে চেয়ে ভালোবাসে, তাদের জার্নিগুলো তো প্রায় এক ! প্রায়শ এক !


1415 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: pi

Re: গল্পের মতো

এটা নিয়ে ক'দিন অনেক কিছু পড়ছিলাম, শুনছিলাম। তবু ভাবছিলাম, দেখবো কিনা। তোমার লেখাটা পড়ে যাব ঠিক করলাম ঃ)
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

কেয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে সিনেমা হয়েছে? নাটকের মত? কবে যে নেটে আসবে। এলে দেখতে হবে।
Avatar: মনোজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

অবন্তিকা,

আপনার এই লেখাটা পড়ে বেশ কিছু কথা জানা গেল !

এখনো আমি নাটকের মতো সিনেমাটা দেখার সুযোগ পাই নি । খুব সম্ভবত আগামী সপ্তাহে সুযোগ পাবো । - তো নাটকের ব্যাপারে আমার আপাতত কোনও বক্তব্য নেই ।

বেশিরভাগ চিত্রনাট্যকার চিত্রনাট্য লেখার আগে বিশেষ ‘হোম ওয়ার্ক’ কথাটায় পাত্তা দেয় না । দেবেশবাবু যখন ‘কেয়া’ বইয়ের সম্পাদনা করেছেন – তখনই কিছু অন্তত খোঁজ নেওয়া উচিৎ ছিল ! বিভিন্ন নাট্য ব্যক্তিত্ব নানানরকম বক্তব্য রেখেছিলেন – কেয়ার মৃত্যুর পর ! – কোথা থেকে তার জীবন সম্বন্ধে অদ্ভুত সব উক্তি করলেন ! চিত্তদা আজ আছেন কিনা জানিনা - কিন্তু উনি কেয়ার সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতেন !

আর তার জীবনকে মহান করতে গিয়ে – তার বাবার চরিত্রকে কিভাবে ভিলেন বানান হল – বুঝতেও পারা গেল না ! এ বিষয় কি কেয়ার পৈতৃক পরিবারের কারুর কোনও মতামত নেওয়া হয়েছে ? – কোথা থেকে রটিয়ে দেওয়া হল – কেয়া সাঁতার জানত না ! কেউ কি জানে – কেয়া সাঁতার শিখত অনেক অনেকদিন ধরে দেশবন্ধু পার্কে ! পুকুর এপার ওপার করার মতো সাঁতার জানত তো বটেই ! আর ওর বাবাই ওকে সাঁতার শিখিয়েছেন ! – এমনকি একটা বিরাট মেলোড্রামাটিক লেখাও দেখেছি – কেয়ার মা যখন বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছে – তখন নাকি কেয়া বারাণ্ডার রেলিং ধরে কাঁদছিল ! দারুণ হৃদয়বিদারক দৃশ্য বটে ! কিন্তু সেটা কোন সালে ! কেয়ার মা সেখানে থাকত না কেন ! সত্যি কি না !

কেয়া হল নাটকের নটি বিনোদিনী ! তাকে দিয়ে নান্দীকারের সমস্ত রকম কাজই করানো হত ! যখন প্রথম তের জন মুখ্য নাট্য শিল্পী দল ছেড়ে আচমকা চলে গেল – একটা নতুন নাটকের প্রথম শো থেকে – সেই সময়ে কেয়াকে সব চেয়ে দুরূহ রোল করতে হয়েছিলো ! তারপর থেকে প্রায় সব কাজ নিজের ঘাড়ে তুলে নিয়েছিল!

নাটকের ইতিহাসে – কেয়া চক্রবর্তীর কোনও তুলনা নেই ! শুধু অভিনয় নয় – শুধু নিজেদের গ্রুপ নয় – তখন বাংলার নাট্যজগতের জন্যেও তার অসীম অবদান !

মনোজ


Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

মনোজ,
ছবিটাকে আমি তো ডকুমেনটেশন হিসাবেই নিলাম. সত্যাসত্য যাচাইয়ের উপায় কোথায়! যারা সরাসরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বয়সে প্রবীণ, প্রাজ্ঞ, তারা হয়ত জানবেন. আক্ষরিকই আমি কেয়া সম্পর্কে জানতে অনেকদিন আগ্রহী ছিলাম. রুদ্রবাবুর পেজে কেয়ার নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা নেই. নান্দীকারের অফিসিয়াল পেজে শুধু পুরনো নাট্যাভিনেত্রী হিসেবে তালিকায় নাম আছে. আমাদের প্রজন্ম কীভাবে জানবে বলুন তো! দেবেশ নাটকের স্ক্রিপ্ট তৈরির সময় যথেষ্ট গবেষণা করেই নামেন. তবে নিশ্চয় আপনারা এ বিষয়ে অনেক ভালো বলতে পারবেন.
এ কথা অস্বীকার করবার তো উপায় নেই যে বাংলা গ্রুপ থিয়েটারে রুদ্রবাবু একক ও সংযুক্তভাবে, প্রতিষ্ঠান. ফলত তথাকথিত না-প্রতিষ্ঠানের একটা স্বাভাবিক প্রবণতা রয়েই গেছে তাঁকে নিচু দেখানোর. তবে ওই, কোনো প্রচেষ্টায় তো পুরোপুরি পক্ষপাতহীন হয়না. প্রসঙ্গত, গত বছর গ্রীনরুম থিয়েটারের একটা প্রডাকশন দেখেছিলাম. নাম উল্লেখ করছি, কারণ অত খারাপ উপস্থাপনা একমাত্র পাড়ার ক্লাবেই দেখা যায়. যেমন স্ক্রিপ্ট তেমনি অভিনয়. আড়াই ঘন্টা জুড়ে কেবল কেচ্ছা শুনিয়ে গেসলো. বলতে চাইছি, মাঠে যদি নামতেই হয় তবে সেয়ানে সেয়ানে নামাই ভালো. যেমন দেবেশ নামলেন. আফটার অল, উল্টোদিকের লোকটার নাম রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত. :)

পাই,
দেখে এসো. ভালো মেকিং. পাওলি নিজের সেরাটা দিয়েছে. মানে এর বেশি ওর পক্ষে সম্ভব নয় আরকি. :p রজতাভর চরিত্র-নির্মানও সাংঘাতিক নজর কাড়ে.
Avatar: anonymous

Re: গল্পের মতো

মনোজ বাবু,
আপনি তো কেয়া কে নিয়ে অনেক কিছু জানেন --লিখুন না এখানেও
Avatar: মনজ ভট্টাচার্য

Re: গল্পের মতো

অবন্তিকা।

আমি সেই রকমই ভেবেছিলাম । কেয়ার সম্বন্ধে জানে খুব কম লোকই ! যারা তাকে জানে বলে দাবী করে - তারা সব উদ্ভট কিছু গল্প পেশ করে ! অথচ একটু কষ্ট স্বীকার করে মানিকতলার রাজেন্দ্র লালা স্ট্রিটে গিয়ে খোঁজ করলেই সেরকম লোক নিশ্চয়ই এখনো পেতে পারে ! আমি সাংবাদিকদের কথা বলছি !

রুদ্রপ্রসাদের কথা যত কম বলা যায় ততই মঙ্গল ! - যার জন্যে নান্দীকারে অভিনয় করার সুযোগ পেল - তাকেই সেই দল থেকে চলে যেতে হল ! অজিতেশবাবু ও তার স্ত্রী ! একজন যদি নান্দীকারের শরীর হয় আরেকজন তার ধমনী !

আমি খোঁজে আছি - দেবেশবাবুর সঙ্গে মোলাকাত করার । যদি সে সুযোগ পাই ! অবশ্য উনি তো বলেই দিয়েছেন - এটাই ওনার শেষ প্রচেষ্টা ! - কারণটাও হয়ত বোঝা যায় !

যাই হোক - পরের সপ্তাহে দেখি সিনেমাটা দেখা যায় কিনা ! আপনাকে আবার ধন্যবাদ জানাই - রিভিউএর জন্যে !

মনোজ
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

মনোজবাবু,
"চিত্তদা" বলতে কি আপনি চিত্তরঞ্জন ঘোষ এর কথা বলছেন, যিনি শেয়ালদায় জগৎ সিনেমার কাছে পটলডাঙা লেনে থাকতেন? এই উত্তরটা জানা খুব দরকার। জানাবেন কিন্তু। উনি অনেক বিদেশী নাটকের বঙ্গানুবাদও করতেন। ওঁর কাছে কেয়া চক্রবর্তী সম্বন্ধে অনেক শুনেছি।

"কেয়া সাঁতার জানত না" টা "কেয়ার বই" এ আছে। সাঁকরাইলের গঙ্গায় সাঁতরানোর মতো সাঁতার তিনি জানতেন না - এইটে বোঝানোর জন্যে হয়ত অমন উক্তি করা হয়ে থাকবে।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

রত্না বন্দ্যোপাধ্যায় যদি এখনো জীবিত থাকেন, ওঁর কাছেও কেয়া চক্রবর্তী সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা জেতে পারে। আগ বাড়িয়ে অনেক কিছু বলে ফেললাম।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

এই সিনেমার কিছু শুটিং আমাদের ইস্কুলে হয়েছে।

http://postmyimage.com/img2/449_natoker_mato.jpg
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

'কেয়ার বই' এর সম্পাদনা তো সম্ভবত চিত্তরঞ্জন ঘোষেরই. সিনেমায় নীল চরিত্রটা করেছেন. 'কেয়ার বই' বহুদিন আউট অফ প্রিন্ট. শুনছি রিপ্রিন্ট হবে অন্য কোনো পাবলিকেশন থেকে.
জাস্ট শেয়ারিং- সিনেমায় বইপাড়ার একটা দৃশ্য আছে. দেবেশ বাবু যেদিন দলবল নিয়ে ওটা শুট করতে যান গতবছর এইরকম সময়ে, আমি ইন্সিদেন্তালি সেখানে উপস্থিত ছিলাম. তখনই ছবিটা সম্পর্কে বিশ্বস্ত সূত্রে কিঞ্চিত ওয়াকিবহাল হই.
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

বাংলায় আন্তিগোনে ও ওঁরই লেখা (চিত্তরঞ্জন ঘোষ)। কেয়া করতেন নাম ভূমিকায় ও ক্রেয়নের রোলে অজিতেশ।
কেয়া চক্রবর্তীর একটিমাত্র অভিনয় দেখতে পেরেছিলাম মঞ্চে। ফুটবলের প্রথম শো। হরির মাসী। এর পরপরই ওঁর মৃত্যু হয়।
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

আন্তিগনের অনুবাদে কেয়া ও চিত্তরঞ্জন দুজনেরই নাম ছিল সম্ভবত. আমার যদিও বিদ্যে ওই বই আর সাইটে সীমাবদ্ধ. বাবা বোধ হয় একবার স্টেজে দেখেছিলেন. শুনেছি ভারি সুন্দরী. ও হ্যা, কবিতা সিংহের চরিত্রে উষসীও বে-শ.
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

হ্যাঁ। বইটা ছিলো, খুঁজে পাচ্ছিনা বহুকাল। ওখানে কেয়ার কিছু লেখাও ছিলো।
যেমন একটা অনুদিত কবিতা, নাম সম্ভবতঃ "মারী ফারারের ভ্রূণহত্যা সম্পর্কে"; এই কবিতাটি অজিতেশ ও কেয়া দুজনে মিলে অনুবাদ করেছিলেন। মূল কবিতাটি বের্টোল্ট ব্রেশ্‌টের, "Bertholt Brecht: Concerning the Infanticide, Marie Farrar (1922)"

শেষ পঙ্‌ক্তিগুলো এইরকম,
..Therefore, I beg you, check your wrath and scorn
For man needs help from every creature born.

অনুবাদে সম্ভবতঃ এইরকম ছিলো-

"..তাহলে, আপনারা সব মানুষজন, রাগ ঘৃণাকে সামলান
কারণ যে জন্মেছে, সে জন্মানোদের সাহায্য চায়।"

এছাড়া ঐ বইয়েই আর্নল্ড ওয়েস্কারের দ্য ফোর সীজন্‌স্‌ এর অসমাপ্ত অনুবাদ (সরাসরি অনুবাদ নয়, পুরোটাই পাল্টে ফেলেছিলেন দেশের পটভূমিকায়), শুধু একটি সীজন "বসন্ত" ছেপে বেরিয়েছিলো। আমরা অত্যুৎসাহীরা সেইটেই মুখস্ত করে লেগে পড়তাম।

ঐ বইয়ে, আরো মনে পড়ছে কেয়ার লেখা বেশ কয়েকটি স্বগতোক্তি গোছের লেখা। স্কুলের কথা। প্রথম অভিনয়, ইস্কুলের স্টেজে, ভিটামিনের ওপর একটি নাটিকা, তাতে ".. আমি খুব রোগা আর ফর্সা ছিলাম বলে আমাকে গাজরের রোল দেওয়া হয়েছিলো" এই লাইনটা এখনো মনে পড়ছে। তিরিশ বছরেরো বেশি আগের স্মৃতি, হয়ত ভুল লিখছি।
একদিন দুপুরে চিত্তরঞ্জনবাবুর বাড়ীতে গেলাম, সঙ্গে এক বন্ধু ছিলো। খুব অময়িক তিনি। অনেকক্ষণ গল্প করেছিলেন। আমরা তখন সদ্য তরুণ। তবু আস্কারা দিয়েছিলেন। সে ১৯৮২ কি ১৯৮৩ হবে।
আর অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কেয়া চক্রবর্তীর প্রসঙ্গ খুব কমই উঠেছিলো, কিন্তু মনে আছে। উনি তখন যাত্রা করতেন টাকা রোজগারের জন্য। মুঘল্‌-এ-আজম্‌। ১৯৮৩ র বর্ষায় এক দুপুরে আমার এক বন্ধুর সঙ্গে গেলাম সিআইটি রোডে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে। টপ ফ্লোর। দরজায় কলিং বেল টিপবার আগে দশটা পয়সা রুমালের গিঁট খুলে টস করে, হেড হলে বেল টিপব, টেইল হলে ফিরে যাব, এইভাবে হেড হোলো। উনি ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম থেকে উঠে এসে দরজা খুলে আমাদের সঙ্গে বেশ অনেকক্ষণ নানান গল্প করেছিলেন। সেদিন কেয়ার কথা উঠেছিলো। ওঁর সিনেমায় অভিনয়ের কথা। কোনো একটা সিনেমায় কেয়া, সৌমিত্র ও সুচিত্রা সেন অভিনয় করেছিলেন। সিনেমার নাম মনে পড়ছে না এখন। সেই অভিনয়ের কথা, সুচিত্রা সেন ক্রমাগত ভুল অভিনয় (কোঅ্যাকটিং) করে যাচ্ছেন, কেয়া কিছু সংলাপ বলছেন, কিন্তু সুচিত্রার রিয়্যাক্‌শন সম্পূর্ণ ভুল। সেগুলো উনি আবার করে করে দেখাচ্ছিলেন। আমরা দুই সখী সেসব দেখে হেসে কুটিপাটি হচ্ছিলাম। সেই শেষ দেখা।
ভুলভাল আবোলতাবোল বকলাম। আরো মনে পড়লে লিখব।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

আরো কিছু জিনিস মনে পড়েছে। কেয়া সংক্রান্ত আলোচনা। সেটা খোলা পাতায় লেখা উচিৎ হবে না। চাগ্রীর গপ্পো তে লিখব ভেবেছিলাম কিন্তু লিখিনি।

যাগ্গে, মৃত্যু বিষয়ক মোটামুটি দুটো মত চালু ছিলো। হত্যা বা অ্যাক্সিডেন্ট। আত্মহত্যা শুনিনি। আমার ইস্কুলের কিছু বন্ধু রত্না কাকিমার কাছে গান শিখতে যেত, কিছু আলোচনা স্কুলের ক্লাসরুম অবধি চলে আসত।

আবার ১৯৯৬ এ অন্যপক্ষের অন্যমতের লোকজনেদের খুব কাছ থেকে দেখি, একই ছাদের নীচে রাত্রিবাস করি কয়েকটা রাত। সেসময়ে কিছু কথা আলোচনা হয়েছিলো। সেসব ভার্শান ছেলেভোলানো গল্পের মতো লেগেছিলো। কারণ তা সত্যিসত্যিই ছেলেভুলোনোর কাজেই ব্যবহৃত হয়েছিলো হয়ত।
যে এসমস্ত বলেছিলো, আমায় নিতান্ত দুধভাত ভেবেই গড়গড় করে সব বলে যেত, অনেক অনেক গভীর রাত অবধি। আমি তার পাশে শুয়ে শুনতাম, কিছু বলতাম না। মাথায় আমার অন্য অনেক চিন্তা থাকত। কিন্তু শুনতাম অনর্গল তার কথা। সকালে অবশ্য সে এসব কথা কিছুই বলত না।
Avatar: abantika

Re: গল্পের মতো

লিখুন :)
গোটা জীবনটাই তো চরম ভুলভাল আর আবোল তাবোল ব্যাপার. জীবন লিখুন.
Avatar: de

Re: গল্পের মতো

সে - লিখুন!
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

আমার নিজস্ব একটা অবজার্ভেশন আছে।
কেয়া চক্রবর্তীর মৃত্যুর পরে (১৯৭৭? ঠিক লিখ্লাম কি?) নান্দীকার থেকে কয়েকজনকে নিয়ে বেরিয়ে গিয়ে অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় নান্দীমুখ বলে একটি নাটকের দল গড়ে তোলেন। নান্দীকার কিন্তু এই প্রথম ভাঙে নি, এর আগেও ভেঙেছে। সেই প্রত্যেকবার ভেঙে যাওয়া থেকে তৈরী হয়েছে শক্তপোক্ত ভালো ভালো দল যারা নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে দারুণ দারুণ সব নাটক দিয়ে। খুব বেশি দেশী নাটক হোতো না তখন। সমস্তই বিদেশী ক্ল্যাসিক্স্‌ এর বঙ্গানুবাদ বা রূপান্তর।
কেয়া তো মারা গেলেন, অজিতেশ ও বেরিয়ে গেলেন দল থেকে - তাই বলে ফুটবল এর শো কিন্তু বন্ধ থাকেনি। বন্ধ থেকেছিলো হয়ত একটা শো। অ্যাকাডেমিতে তখন বুধবারটা বুক করা থাকত নান্দীকারের জন্যে (যেমনঃ বহুরূপীর জন্যে রবিবারের সন্ধ্যেটা বছরের পর বছর বুক হয়ে যেত; অদ্ভুত না?)। এর পরের শোয়ে ফুটবলে হরির মাসীর ভূমিকায় দেখা গেল স্বাতীলেখা চ্যাটার্জিকে। বেশ ভালো করেছিলেন তিনি অভিনয়। হরির জামাইবাবুর রোলে অজিতেশের জায়গায় অন্য একজন (নাম মনে পড়ছে না), কালীদা আগে যেমন ছিলেন তেমনই - রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। সমস্ত শো ই চলতে লাগল, আগের মতই। আন্তিগোনেতে নাম ভূমিকায় কিছুদিন পরেই দেখা গেল স্বাতীলেখা চ্যাটার্জিকে। ক্রেয়ন - রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। ক্রমে ক্রমে পুরোনো সমস্ত নাটকেই নতুন নট নটিরা স্থান করে নেন। নাট্যকারের সন্ধানে ছটি চরিত্র - আবার নতুন করে অভিনীত হয়। পুরোনো নাটকগুলো ঘুরে ফিরে হচ্ছিলো। আমরা কেয়া চক্রবর্তীকে ক্রমশঃ ভুলে যাচ্ছিলাম।
নান্দীমুখের কাছে সেরকম কিছু নাটক বোধকরি ছিলো না। নতুন দল। কয়েকটা শো হয়েছিলো আন্তন চেখভের "নানা রঙের দিন" - অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (রজনী চাটুজ্জে) ও রাধারমন তপাদার (কালীনাথ) মিলে। এরপরে ১৯৭৯ এ এলো নতুন নাটক নান্দীমুখের। পাপ পুণ্য। এও বিদেশী নাটকের রূপান্তর। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। দুটো ইন্টারভ্যাল। কিশোর বয়সেই "বড়ো" সেজে ঐ নাটক দেখা হয়ে গেছল।দুটো ইন্টারভ্যাল কেন লাগে সেবার বুঝেছিলাম। এত বেশি মানসিক চাপ পড়ে দর্শকের ওপর, যে দুটো ইন্টারভ্যাল ছাড়া গতি নেই। আমার ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী, ঐ কিশোর বয়সেই ভালো নাটক আর অন্য নাটকের মধ্যে পার্থক্য বুঝবার জন্যে ঐ "পাপ পুন্য" যথেষ্ট। ঐ লেভেলের ডিরেকশান, মিউজিক, অভিনয়, নাটকীয়তা এর আগে দেখিনি। পরেও না। অন্ততঃ বাংলা নাটকে। খুব সচেতনভাবে বলছি, শম্ভু মিত্রেও অনেক অভিনয় দেখেছি। সেখানেও না। হয়ত আমি বায়াসড। হতে পারে।

নাটকের জগতে পোলিটিক্স তো কম নয়। এরই মধ্যে আরো অনেক কিছু হয়ে চলেছিলো। ঐ কিশোরী বালিকা মস্তিষ্কে কিছু কিছু বুঝতাম, কিছু কিছু বুঝবার ক্ষমতা ছিলো না।
হঠাৎ নান্দীকার এক নতুন প্রযোজনা নামিয়ে ফেলল। মুদ্রারাক্ষস। এক্কেবারে খোদ সংস্কৃত সাহিত্য থেকে - বিদেশী নয়। বাংলা রূপান্তর। কেয়াকে আমরা ভুলে যাচ্ছিলাম। শম্ভুমিত্র অনেকদিন আগেই বহুরূপী ছেড়ে দিয়েছেন তখন, বিরাট একটা পুরষ্কার পেয়েছেন। বিদেশী সম্মান। অনেক টাকার পুরষ্কার। চোখ অপারেশান হোলো। বেশ ভালো দেখতে পেতেন তখন চোখে। শম্ভু মিত্র নান্দীকারের হয়ে মুদ্রারাক্ষসে অভিনয় করে গেলেন, চানক্যের ভূমিকায়। বেশ অনেকগুলো শো দেখেছি, হয়ত প্রায় সবকটাই। ৫টাকার টিকিটে, অ্যাকাডেমির দোতলায় ব্যালকনির প্রথম সারির সীট। এর পেছনের্গুলো তিনটাকা, তার পেছনে একেবারে শেষ সারিতে কিছু দুটাকার টিকিটও পাওয়া যেত তখন। প্রতিটি শো। প্রতিবারের অভিনয়। লাইভ। আগেরটার সঙ্গে এবারটার পার্থক্য খুঁজে বের করবার মজা। এত থিয়েটার। সিনেমা নয়।
জমে উঠল নান্দীকার। কেয়াকে ছাড়াই। অজিতেশকে ছাড়াই। এর পরে এলো নান্দীকারের নতুন নাটক "ব্যতিক্রম"। এটি আবার বিদেশী নাটক থেকে রূপান্তর। অভিনয়ে মূলতঃ দুটি চরিত্র। দুজনেই পুরুষ। কুলি (পাঁচুগোপাল দে) ও মালিক (নাম মনে নেই, ইনিই নাট্যকারের সন্ধানে ছটি চরিত্র তে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন)। শেষ দৃশ্যে অবশ্য আরো গোটা তিন চার চরিত্র আসে খুব অল্প সময়ের জন্যে। স্টেজের ওপরে আরেকটা নীচু স্টেজ। মরুভূমির সেট। সেই স্টেজে নাটক হয় কুশীলবদের নিয়ে। সেই স্টেজের বাইরে আরো কিছু মুখ দেখা যায়, আলো কম তাদের মুখে। সেখানে স্বাতীলেখাকে দেখা যায় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে, কখনো বেহালা, কখনো অন্য কিছু, কখনো তিনি গান করেন। আবহ সংগীত। রুদ্রপ্রসাদের রোল - সূত্রধারের।
নাটক দেখার নেশায়, এই নাটকও বেশ কয়েকটা শো দেখি। মনে দাগ কাটে না।
আহা, ভুলেই গেছি। এরই মধ্যে "খড়ীর গণ্ডী" অভিনীত হয়ে যায়, গোটা তিন চার শো। মোটামুটি হাউসফুল। দর্শক খুব হাসে।
এবার বিভিন্ন দলের মধ্যে অদ্ভুত একটা মিলন হয়। এসো সবাই মিলে মিশে কিছু করি - এই গোছের ড্রাইভ। অজিতেশ এতে নেই, কারণ এতে আছে বাকি প্রায় সমস্ত নামী নামী দল তখনকার, ইন্‌ক্লুডিং নান্দীকার (কিন্তু অদ্ভুতভাবে বহুরূপী বাদ!)। আমার মাধ্যমিক পরীক্ষার ঐ টাইমটায়। শম্ভু মিত্রকে আনা হয় ডেকে। তৃপ্তি মিত্র আসেন নি। তারপরে, সবাই মিলে চড়িভাতি করবার স্টাইলে শুরু হয়ে যায়, বের্টোল্ট ব্রেশ্‌টের নাটক। গালিলেওর জীবন। নাম ভূমিকায় শম্ভু মিত্র। পূর্ব জার্মানী থেকে আসেন নির্দেশক ফ্রিৎস্‌ বেনেভিৎস্‌। https://en.wikipedia.org/wiki/Fritz_Bennewitz
কী দাপট সেই বুড়োর! নাটকের রিহার্সাল চলছে অ্যাকাডেমির স্টেজে। সে না জানে বাংলা, না জানে মারাত্মক কিছু ইংরিজি। তড়াক করে লাফ মেরে সে উঠে পড়ছে স্টেজে, ঠাটিয়ে ধমকাচ্ছে বাংলা থিয়েটারের রথি মহারথিদের, উন থেকে চুন খসলে অভিনয়ে। দোতলার ব্যালকনির রেলিঙের নীচে লুকিয়ে দেখছি আমরা সেইসব। ইল্লিগ্যালি। ভরসা অ্যাকাডেমির বেয়ারা কালীপদদা। টুঁ শব্দটি যেন না হয়, কেউ যেন দেখে না ফ্যালে। কড়া প্রহরা বাইরেও। সে এক দক্ষযজ্ঞ। বাঙালী জনতা সারারাত লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ক্যাথিড্রাল রোডে। সকাল বেলা টিকিটের কাউন্টার খুলবে সেই আশায়। সেই লাইনে মারপিট হয়ে যায়। ধৈর্য্যচ্যুতি, পুলিশ, লাঠিচার্জ। crème de la crèmeরা অ্যাক্টো করবে। এত গুণিজনের কাজ একসাথে দেখবার জন্য জনতা হন্যে হয়ে রয়েছে। গোটা সাত কি আটবার ঐ নাটক দেখি। কি আরো বেশি। খুব বেশি শো হয় নি। শম্ভু মিত্র রাজি হন নি। বেঁকে বসেছিলেন।
যাই হোক, এই সমস্ত দক্ষযজ্ঞের ফলে নাট্যপ্রেমী জনতা কেয়া চক্রবর্তীকে ভুলে গেলাম।
আশির দশকের গোড়ার দিকে নান্দীমুখের আরেকটা নতুন নাটক এলো - তেত্রিশতম জন্মদিবস। অ্যাবসার্ডিজম ঘরানার। নির্দেশনা অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, কিন্তু উনি এ নাটকে অভিনয় করেন নি।
১৯৮৩র দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীতে অল্পক্ষণের অসুস্থতায় মাত্র ৫০ বছর বয়সে চলে গেলেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়।
নান্দীকার থেকে কিন্তু "কেয়ার বই" প্রকাশ করা হয়, নাটকের শেষে দর্শকেরা কিনেও নেন। মূল্য সম্ভবতঃ তিরিশ টাকা ছিলো। ঐ পর্যন্ত্যই।
কেয়া চক্রবত্রী মধ্যবিত্তের ড্রয়িংরুমের শেল্‌ফে স্থান করে নেন। এঁদের নামে গুগল করলেও বিশেষ কিছু আসে না।
১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ এই দুটো বছর আমার জীবনের সবচেয়ে দামী সময়গুলোর একটা বড়ো অংশ। তখন তো ভালো করে বুঝতাম না, কোন মানুষটার সঙ্গে কথা বলছি গল্প করছি অখাদ্য সব লেখা পড়াচ্ছি। অপরিসীম দৌর্য নিয়ে শুনতেনও সেসব। সমস্ত আবদার। কত কত মিষ্টি আনাতেন। তারপরে নিজেই অনেকটা খেয়ে ফেলতেন। দশ বারোটা বিশাল বিশাল পান্তুয়া একাই। একটার পর একটা। এই স্মৃতি খুবই আনন্দের। এলোমেলো। এই সবের মধ্যেই কেয়া চক্রবর্তীর কথা স্মৃতি, ছিল। আস্তে আস্তে ফেড আউট হয়ে যাচ্ছিলো।
Avatar: ব

Re: গল্পের মতো

সে দি, খুব ভালো লাগলো।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

অনেক অপ্রাসঙ্গিক কথা মনে পড়ে। এসবের সঙ্গে কেয়া চক্রবর্তীর কোনো সম্পর্ক নেই। তবু।
"ফেরীওয়ালার মৃত্যু" (আর্থার মিলারের দ্য ডেথ অফ অ্যা সেল্‌স্‌ম্যানের প্রায় অনুবাদই বলা চলে, কিন্তু...) নাটকটা অনেক পরে দেখি। এটা অনেক পরে বানানো। সারা হল আহা উহু করছে, উফ! কী অভিনয়। আহাউহু খুব ছোঁয়াচে, অভিভূত হয়ে গেলাম। দীর্ঘ বহু বহু বছর বাংলা নাটক দেখিনি। দেখার অভ্যাসটাই চলে গিয়েছে। কিঞ্চিৎ অদ্ভুত লাগছে নাটক, কিঞ্চিৎ নিজেকে। এই আমি কি সেই আমি? যে মন্ত্রমুগ্ধের মতো মঞ্চের দিকে তাকিয়ে থাকত? অনেক পাল্টে গেছি। হয়ত সময় এর জন্যে দায়ী।
কিন্তু একটা রহস্য পরে উদ্‌ঘাটিত হয়েছিলো। সেটা একটু পরে লিখছি।
Avatar: সে

Re: গল্পের মতো

"প্রণয় পাশা" ছবিতে কেয়া অভিনয় করেছিলেন সুচিত্রা সেনের সঙ্গে। ছবিটা কোথাও খুঁজে পেলাম না ইন্টারনেটে। পেলে, কেয়ার অভিনয় (বেশি নয়, অল্প) দেখা যেত।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন