অবন্তিকা RSS feed

দিবারাত্রির চব্য

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

এক যে আছে গাছ

অবন্তিকা

ছোটো ছোটো পানের মতো পাতাওলা ওই গাছটার ভেতরে অল্প একটু দিদুন থাকে l রাত্তিরবেলা বলে মিষ্টি খাবো, বিকেলবেলায় কোল্ডড্রিংক দিতে গেলে বলে বড্ড বেশি ঠাণ্ডা l ছোটো ছোটো পানের মতো পাতাওলা ওই বাহারে গাছটার মধ্যে এখন দিদুন থাকে l আপাতত এই সপ্তাহখানেকের ট্রানজিশন l গুছিয়ে নেওয়ার অবসরটুকুন...

বাবা আর তাপস ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে গেল l ছেলেটা এক্কেবারে গা ঘেঁষে এসে দাঁড়িয়েছে l
হেই মা, খিদে পেয়েছে l
কী খাবি?
চা খাবো, চা l
কোথায়?
হই তো দোকান l
তোর নাম কী?
আমার... আমার নাম... হাবুল তো l বল কী বললাম?
হাবুল l
হ্যা l ঠিক l
হাবুল দাঁত বের করে হাসছে l ঠোঁটের একপাশে লালা l খুব রোগা l বয়স বোধ করি পঁচিশ ছাব্বিশ l একটা মলিন লুঙ্গি পরে নদীর পাড় থেকে উঠে এলো এইমাত্র l আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে l হ্যালো-আইসিইউ-কাকলি-হিয়ার ও তার সঙ্গিনীরা দিদুনকে মোটা সাদা কাপড় আর বড় বড় লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে আপাদমস্তক মুড়ে দিয়েছে l নুয়ে পড়া শরীর আজ সকাল থেকে টানটান শুয়ে l শুধু মুখটুকু অল্প খোলা l

জল খাবে? দিদুন সোনা, জল? একটু মাথা নাড়ল কি? হ্যান্ডব্যাগের ছোট্ট বোতল থেকে অল্প অল্প জল দুতিনবার মুখে ঢালছি l এই চেনা ডাক্তারের চেনা নার্সিংহোমে কোনো আইসিইউ নেই কেন? নাকে একটা অক্সিজেনের নল l বাবা আমরা শিফট করব? এক ঘন্টা হলো ডাক্তার নেই! চলো আমরা রিসেপশনে কথা বলি, অ্যাম্বুলেন্স ডাকি l ডাক্তার সাহা পৌনে সাতটায় এসে বললেন, আপনাদের সিদ্ধান্ত l কাকু বলল, মনে হয় ভালো ডাক্তার তাই না? ডাক্তার সাহার ডানহাতে রূপোর বালা l লেটারহেডে ট্রান্সফার লিখছেন l
চেস্ট কন্জেসটেড, হার্ট-এ মারমার পেলেন কি ডক্টর?
কই নাতো চেস্টে তেমন কিছু পেলাম না !
তবে?
সেপ্টিসিমিয়া লিখে পাঠাচ্ছি l দ্যাখো এই বয়েসে তো মাল্টি অর্গ্যান ফেইলিওর হতেই পারে l
এই নার্সিং হোমটা ঝাঁ চকচকে l অ্যাম্বুলেন্সের চালক, তিনজন ওয়ার্ডবয়, আর তাপস স্ট্রেচার ধরে নামাচ্ছে l সামান্য ঝাঁকুনিতে ভয় পেল? এই তো সোনা, আমরা সবাই আছি, দ্যাখো, ভয় নেই, ভয় নেই l দিদুনের ডানহাত আমার ডানহাতের মুঠোয় l
আইসিইউ-তে দেবেন?
দেবো বলেই তো এলাম l
ভেন্টিলেশন?
এখন কী!
না প্রয়োজন পড়লে তো দিতে হতেই পারে l
না l দেবেন না l
তাহলে কনসেন্ট লিখতে হবে ম্যাডাম l
লিখব l
দ্বিতীয় পর্বের ফর্ম ফিলআপ তাপস করলো l কাকু এখন আর কাঁদছে না l ওই ছাতাপড়া নার্সিং হোমে ঢোকার সময় কাঁদছিল l কাকিমা বাড়ি থেকে আদাকুচি দিয়ে মুড়ি মেখে এনেছে l আমরা ক্যান্টিন থেকে চা আনিয়ে ভালো নার্সিং হোমের গাড়ি বারান্দায় বসে খাচ্ছি l এক্ষুনি বৃষ্টি নামবে l

শ্মশানের সমস্ত লোক দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে l একদল ইলেকট্রিক চুল্লির বাড়িটায় l অন্যদল চায়ের ছাউনির নিচে l মাঝখানে বৃষ্টি l একনাগাড়ে l প্রায় পঁয়তাল্লিশ মিনিট l ভদ্রলোক বলেছেন ছোটখাটো চেহারা হলে পুড়তে কম সময় লাগে, চল্লিশ মিনিটে হয়ে যাবে আপনাদের l
বাঁচলেই বা কী হত? বেড সোর, বেড প্যান l তার চেয়ে এই ভালো l ইস্ট্রোজেন কমতে কমতে চব্বিশ পরগণার প্রথম মহিলা সমিতির ঋজু মেরুদণ্ডের পাঁচফুটের সেক্রেটারি চার ফুট আট ইঞ্চিতে এসে ঠেকেছিল l তবু গান গাইত l আর কম্যুনিস্ট পার্টির, জ্যাক ও শিম গাছের, নকশাল নেতা নীলুদার গল্প বলত l মা-কাকিমা বলেছিল, ওই নীলুদা বোধ হয় দিদুনের বিবাহ পরবর্তী প্রেমিক l বৃষ্টি মাথায় দেখলাম একটা মোটা পাইপের ভেতর থেকে গলগল করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে l হাবুল নদীতে ডুব দিতে যাবার আগে বলে গেছে- হেই মা, কাঁদবি না, কাঁদবি না, ঠাম্মা মরে গেছে? তো কী হয়েছে? আবার আসবে l জিজ্ঞাসা করিনি ঠাম্মা যে, জানলো কীকরে l না না আর কাঁদছি না l আজ ভোর থেকে শুধু জীবন মশায়কে খুব মনে পড়ছে l হাবুল বলেছে, এইখানে দাঁড়া, আমি চান করে আসি l আমি দাঁড়িয়ে রইলাম l নন্দদাদা নাকি উজ্জ্বলকাকু কে যেন জানতে চাইল আমি প্রথমবার বার্নিং ঘাটে এলাম কিনা l উত্তর দিলাম? নাকি মনে মনে ভাবলাম, এর আগে তো আমার কখনও স্বজনবিয়োগ হয়নি? ধোঁয়ার চারপাশে একটা বড়-ডানার চামচিকে উড়ল কিছুক্ষণ l পুরোহিত, যে এক ঘন্টা আগে বাবা আর কাকুকে একদলা কলা আর তিল নিয়ে বলেছিল মুখে লেপে দিতে, যে এক শিশি ঘি হাতে দিয়ে বলেছিল গায়ে মাখান, সে এখন একটা ভারি ধাতব পাত্রে পোড়া হাড় এনে দিল l আমি খুব লম্বা লম্বা শ্বাস টেনে গন্ধটা নিলাম l নিতে ভাল্লাগলো l হাবুল আমার পেছনে দাঁড়িয়ে l পরিত্যক্ত মড়ার খাটের সাথে আটকানো বাঁশ ছেঁচে ফের পোড়ানোর উপযোগী বিছানা তৈরি হচ্ছে l রিসাইক্লিং l রিসাইক্লিং l আমি জগৎ মশায়ের মতো কবিরাজ হতে চেয়েছিলাম l কীকরে যেন ‘গাছগাছড়া আর জড়িবুটির’ ডাক্তার ব’নে গেছি l

ফিরতি পথে খিদে পেল l খুব খিদে l তাপস গাড়ি থামিয়ে ডার্ক চকোলেট কিনে এনেছে l দুটো চৌখুপ্পি খেলাম l বাকিটা সবার l দিদুন, একটু চকোলেট খাবে? ওহহো তোমার তো আবার কোকো ভাল্লাগেনা l বোকা l তুমি রোববার একা একাই পমফ্রেট ফ্রাই দিয়ে ভাত মেখে খেলে, যেমনটা রোজ খাও নিজে হাতে, আয়া ঠাণ্ডা জলে চান করিয়ে ফেলেছিল বলে ঘুসঘুসে জ্বর এলো বুধবার বিকেল থেকে, মা বেলেডোনা দিল দুদাগ, যেমনটা দিলে তুমি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে l কেবল তোমার জ্বর ছাড়ল না এইবার l চেনা নার্সিং হোমের চেনা ডাক্তার অ্যানটিবায়োটিক দিল l খেলে, কিন্তু শুক্রবার থেকে খাবার খেলে না l সন্ধেয় সেই যে শেষ চার চামচ খইমাখা খাইয়ে দিলাম, তারপর থেকে মুখে তুললে না কিচ্ছু l চেস্টে কনজেশন l টেম্পারেচার আটানব্বই l ভালো নার্সিং হোমে অক্সিজেন স্যাচুরেশন সাতচল্লিশ থেকে বেড়ে ছিয়াত্তর হয়েছিল l আমি তো সোমবার রাত বারোটা পাঁচে ফোন করেছিলাম l হ্যালো-আইসিইউ-কাকলি-হিয়ার কি জানিয়েছিল তোমায়? কেন যে আমি ছাড়া ওই প্যান্ট শার্ট পরা গোঁফওলা ষণ্ডামার্কা লোক তিনটে-কে আর কেউই দেখতে পাচ্ছিল না! আমাকে তো কোলকাতায় আসতেই হত চব্বিশ ঘন্টার জন্য, পরীক্ষা ছিল, মাকে বলেছিলাম- কাল রাতে ফিরে গেছে, কিন্তু ওই লোক তিনটে আবার আসবে, পারবে না একটা দিন সামলে দিতে? মা কিছু বুঝতে পারছিল কেন? কেন বাবা আর কাকু কিছু বুঝতে পারছিল না? এলিভেটরে নামতে নামতে বলছিলাম- উই শুডন্ট এক্সপেক্ট এনিথিং, কেমন? দুজনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল l আরএমও কিচ্ছুতে মানতে চাইছিল না, তিনদিন আগেও তুমি মাকে জিগ্গেস করেছ রথে আমি বাড়ি এলে কী কী রান্না করা হবে, আর এই সমস্ত বিরানব্বইটা বচ্ছর ধরে তুমি কখখনও হাসপাতালে যাওনি l তার চেয়ে এই ভালো হলো l বেঁচে থাকলে ক্রমে ক্রমে বেডসোর, বেডপ্যান l ওরা জোর করে সেন্ট্রাল চ্যানেল করে দিয়েছে l রাইলস টিউব, ক্যাথেটার l লাগছে? আর কয়েক ঘন্টা সোনা আমার l ডাক্তার সাহা বাবাকে সরি বলে গেছেন রেসপিরেটরি কনডিশন শুরুতে বুঝতে না পারার জন্য l চারফুট আট ইঞ্চির শরীর আদতে অনেকখানি পরিসর জুড়ে থাকে, অনেকটা বিছানা জুড়ে l তার ওপর পেনশনের কাগজ, এমআইএস-এর হিসেব নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা l ডায়ামেনশন আর এগজিজটেন্স সমার্থক নয় l পুড়তে পঞ্চান্ন মিনিট সময় লাগে l

আবার এখানে এলে কী বলে খুঁজবি?
বলব হাবুল কোথায় l
মনে থাকবে তো?
থাকবে l
আরেকটু চা খাবো l
আয় l

“জগৎ মশায় বলেছিলেন- তুমি কাঁদছ? জীবন এবং মৃত্যুর তথ্য তো তুমি জান, তবু কাঁদছ? ছি! আমাকে দুঃখ দিও না, তুমি কাঁদলে এই শেষ সময়ে আমাকে বুঝে যেতে হবে যে আমার শিক্ষা সার্থক হয়নি l তাছাড়া, মৃত্যুতে আমার তো কোনো দুঃখ নাই, আক্ষেপ নাই l পরম শান্তি অনুভব করছি আমি, সুতরাং তুমি কাঁদবে কেন? জীবন ডাক্তারের চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছিল l জগৎ মশায় বলেছিলেন- আমি জানি তোমার মনে কোথায় আছে গভীর অতৃপ্তি l থাকা উচিত নয় l তবু আছে, রয়েছে ! অবশ্য এর উপর মানুষের হাত নাই আমি জানি l কিন্তু এ অতৃপ্তি থাকতে তো অমৃত পাবে না বাবা l”
আমি আবার রত্নেশ্বর ঘাটে কেন যাব? একুশে এপ্রিল সন্ধে ছটায় শুরু হওয়া একটা মজার খেলা একুশে জুলাই সন্ধে ছটায় শেষ হলো বলে? সেই আইসিইউ, সেই লো অক্সিজেন স্যাচুরেশন l দুজনেই প্রথমবার হাসপাতাল l তিনটে মাস l একটা বৃত্ত l সম্পূর্ণ হলো l ক্লীনবোল্ড l রিশ্তে মে আপ মেরে দাদী লগতে হো l আমি আর রত্নেশ্বর ঘাটে যাব না l বরং বাড়ি গেলে বাহারে গাছের পাতায় হাত বুলিয়ে চুমু খাব l গাছ বলবে- এলি? তবে ওই গানটা গা! আমি বলব- কোন গান আবার? গাছ বলবে- সেই নজরুলগীতিটা l আমি না বোঝার ভান করে মিছিমিছি বলব- কোনটা? গাছ বলবে- সেই, যে গানটায় তাল নেই l গুনগুন করে গাছ গাইবে, আমি গাইব, আমি গাইব, গাছ গাইবে... মোর ভুলিবার সাধনায় কেন সাধো বাধ...


449 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: এক যে আছে গাছ







ভাটে ওনার অসুস্থতার খবর লিখেছিলেন। কি আর বলব! :-( পড়েছি এইটুকু জানিয়ে গেলাম।
Avatar: a x

Re: এক যে আছে গাছ

পড়লাম। আপনার দিদুর মহিলা সমিতির দিনের কথা, নীলুদার গল্প, লিখুন না একটু?
Avatar: pi

Re: এক যে আছে গাছ

অবন্তিকা..
Avatar: ম

Re: এক যে আছে গাছ

আন্তরিক সমবেদনা..
Avatar: অবন্তিকা

Re: এক যে আছে গাছ

অক্ষ,
দিদুন নিজেও লিখতেন l তাঁর কিছু লেখা যা যা আমার বা মায়ের সংগ্রহে আছে, বা যদি আরো জোগাড় করতে পারি, সেসব নিয়ে এবং দিদুনের সমিতি সম্পর্কিত তথ্য বা অন্যান্য কাজকর্ম নিয়ে একটা বই ছাপানোর পরিকল্পনা আছে l
নীলুদার কথা আমি খুব বেশি জানিনা l বা যেটুকু শুনেছি বেশিরভাগটাই আবেগ সম্বলিত l পায়ে গুলি লেগেছিল ওনার l মাঝরাতে পালিয়ে এসেছিলেন আমাদের দেশের বাড়িতে l
দিদুনের কিছু গান ও কথোপকথন আছে l দেখি তা-ও ডিক্স-এ ভরে রাখা যায় কিনা l
Avatar: রূপঙ্কর সরকার

Re: এক যে আছে গাছ

কিছু বলবনা, তাই বলে গেলাম। কী বলব বল। দিদুন এখন গেলেন। না হয় আসছে কাল যেতেন। আমরাও যাব রে, কেউ থাকবনা। বরং তাঁর লেখা গুলো পারলে রিট্রীভ কর। শান্তি বিরাজ করুক।
Avatar: aranya

Re: এক যে আছে গাছ

কষ্টের লেখা। মৃত্যুর লেখা, হয়ত জীবনেরও
Avatar: শিবাংশু

Re: এক যে আছে গাছ

অনেক দিন হলো তো। বহু প্রিয়জনকে ঐ চিমনি দিয়ে উড়ে যাওয়া ধূসর ধোঁয়ায় দেখতে দেখতে ফিরে এসেছি, একা। ঐ গন্ধ, ঐ আবহ, ঐ আর্ষ কবিতার মতো নদী, জল, ছাই আর তারিখ হয়ে যাওয়া স্মৃতিবিস্মৃতি।

ভালো থেকো, অবন্তিকা....
Avatar: আশু পাল

Re: এক যে আছে গাছ

মৃত্যু সদম্ভে বলে, এই যে দেখো, নিয়ে যাচ্ছি। অমৃতের সন্তানেরা হাসে, দূর বোকা, আমার হৃদয় থাকতে তুই তাকে ছিনিয়ে নিবি দূরে ? তিনি বেঁচে থাকবেন আপনাদের হৃদয়ে।

Avatar: অবন্তিকা

Re: এক যে আছে গাছ


দিদুনের (কল্যাণী পাল) প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীতে (২১ জুলাই) প্রকাশিত হয়েছে আমাদের একটি সংকলন- 'দুখজাগানিয়া' l বইটির প্রথম অংশে রয়েছে দিদুনের লেখা কিছু কবিতা ও গদ্যাংশ l দ্বিতীয় ভাগে তাঁকে নিয়ে, এবং তাঁর উদ্দেশে একগুচ্ছ লেখা l বইটি পাওয়া যাচ্ছে কলেজ স্ট্রিটের 'ধ্যানবিন্দু'-তে, এবং অনলাইনেও l
http://ebongin.com/shop/book-store/dukhojaganiya/

বিনিময় ৬০টাকা l এই মূল্যের একটা বড় অংশ দিদুনের তৈরি প্রতিষ্ঠান 'সন্তোষপুর পল্লীবধূ মহিলা সমিতি'-র উন্নতিকল্পে দেওয়া হবে l

'দুখজাগানিয়া'-র জন্য যাঁরা লিখেছেন:

প্রবন্ধে- তাপস দাশ, গোপালেন্দু পাল, নীলাদিত্য পাল
শিবাংশু দে, কুণাল বিশ্বাস, রৌহিন, আশু পাল, কৌশিক দত্ত

কবিতায়- দেবব্রত শ্যাম, প্রশান্ত সরকার, ইমেল নাঈম, সৌম্যদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌমালি চৌধুরি, নাজমীন মর্তুজা, গোঁসাই পাহলভী, দেবাশিস চৌধুরি, প্রণব বসুরায়, রূপঙ্কর সরকার, অরিন্দম শ্রীমানী, ঈপ্সিতা পাল

গল্পে- রুনা মুখোপাধ্যায়, প্রতিভা সরকার, দীপক পাল


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন