Animesh Baidya RSS feed

[email protected]
Animesh Baidyaএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বদল
    ছাত্র হয়ে অ্যামেরিকায় পড়তে যারা আসে - আমি মূলতঃ ছেলেদের কথাই বলছি - তাদের জীবনের মোটামুটি একটা নিশ্চিত গতিপথ আছে। মানে ছিল। আজ থেকে কুড়ি-বাইশ বছর বা তার আগে। যেমন ধরুন, পড়তে এল তো - এসে প্রথম প্রথম একেবারে দিশেহারা অবস্থা হত। হবে না-ই বা কেন? এতদিন অব্দি ...
  • নাদির
    "ইনসাইড আস দেয়ার ইজ সামথিং দ্যাট হ্যাজ নো নেম,দ্যাট সামথিং ইজ হোয়াট উই আর।"― হোসে সারামাগো, ব্লাইন্ডনেস***হেলেন-...
  • জিয়াগঞ্জের ঘটনাঃ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা
    আসামে এনার্সি কেসে লাথ খেয়েছে। একমাত্র দালাল ছাড়া গরিষ্ঠ বাঙালী এনার্সি চাই না। এসব বুঝে, জিয়াগঞ্জ নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছিল। যাই হোক করে ঘটনাটি থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই হবে। মেরুকরনের রাজনীতিই এদের ভোট কৌশল। ঐক্যবদ্ধ বাঙালী জাতিকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা ...
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শৈশবঃ কয়েক ফালি রোদ আর আমার না পাওয়া গভীর অন্ধকার

Animesh Baidya

রহস্যের সঙ্গে ভালো থাকার একটা সম্পর্ক আছে বলেই মনে হয়। রহস্য, কৌতুহল জীবনকে রঙীন করে তোলে। তাই হয়তো শৈশব এতো প্রিয় সময়। যতো বড় হয়েছি সব ততো ফর্মুলায় বসে গিয়েছে আর হারিয়ে গিয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। আজ একটু শৈশব যাপন করা যাক।

ছোটবেলায় গোটা পৃথিবীটাই ছিল রহস্যে মোড়া। বাড়ির মধ্যে সব থেকে রহস্যের ছিলো টেলিভিশন বস্তুটা। ছবি কী ভাবে আকাশে ভেসে ভেসে এসে টিভির মধ্যে ঢোকে!! অ্যান্টেনার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম কতো দিন। দেখার চেষ্টা করতাম ছবি ভেসে আসতে দেখা যায় কি না। আরেকটা জিনিস হতো, আমি বিশ্বাস করতাম টিভির মানুষেরাও আসলে আমাদের দেখতে পায়। বাড়ির বড়রা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ওই ধারণাটা বেমালুম ভুল। কিন্তু তবু বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হতো না। আশেপাশে কেউ না থাকলেই টিভির লোকগুলোকে একা একা জিভ বের করে ভ্যাঙাতাম, চোখ কটমট করে তাকাতাম।

ছোটবেলায় বাসে করে কোথাও যাওয়ার হলে আমার সব থেকে লোভনীয় জায়গাটা ছিলো ড্রাইভারের পাশে। কী ভাবে গোটা বাসটা সে চালিয়ে নিয়ে যায়। তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড জুড়ে রহস্য। কখন কোথায় হাত দিলো, কোনটা ধরে টানলো, কোথায় চাপ দিয়ে হর্ন দিলো। আমি অপলক হয়ে দেখতাম। ওই যন্ত্রপাতিগুলো গেটাটাই ছিলো রহস্যের আধার আমার কাছে। হয়তো বাকি সকলের মতোই।

তুমুল কৌতুহল ছিল প্লেনের উপরে। কী ভাবে একটা জিনিস এতোগুলো মানুষ নিয়ে আকাশে উড়ে যেতে পারে! তুমুল আকর্ষণ ছিল প্যারাস্যুট জিনিসটার উপরে। আমরা তখন চার তলার উপরে একটা ফ্ল্যাটে থাকতাম। প্লাস্টিক চার কোণা করে কেটে তার চার প্রান্তে সুঁতো বেঁধে তৈরি করতাম প্যারাস্যুট। তারপরে তা ছেড়ে দিতাম চার তলার ব্যালকনি থেকে। অপলকে তাকিয়ে থাকতাম তার দিকে আর মনে মনে ভাবতাম ওই প্যারাস্যুটে যেন আমি নিজেই সওয়ার।

মানুষখেকো গাছ নিয়ে ছিল তুমুল কৌতুহল আর রহস্য। এমন গাছ কি সত্যিই আছে? আমাদের স্কুলের পরে যে পুকুরটা তার ওপারে কি এমন গাছ থাকতে পারে? তারা কি ডালপালা দিয়ে জড়িয়ে ধরে গাছের পেটের মধ্যে নিয়ে নেয় মানুষকে? নাকি কেবল রক্ত শুষে নিয়ে ছেড়ে দেয়? আমাদের স্কুলের মাঠের পাশে একগাদা লজ্জাবতী গাছ ছিলো। তুমুল কৌতুহল আর রহস্য ছিলো সেই গাছের পাতাদের নিয়ে। এগুলোই কি খুব বড় হয়ে গেলে মানুষখেকো গাছ হয়ে যায়? ওমন পাতার মধ্যে ঢুকিয়ে নেয় মানুষদের।

এমন হাজার কৌতুহল, হাজার প্রশ্ন দিয়ে ঘেরা ছিলো শৈশব, আমার ছোটবেলা। হয়তো আমাদের সকলেরই ছোটবেলা। আজ মনে হয়, যতো ক্রমশ হারিয়ে গিয়েছে রহস্য আর প্রশ্ন, ততো ফিকে হয়ে গিয়েছে জীবনটা, স্পষ্টতর হয়ে উঠেছে জীবনের কঙ্কাল।

সব শেষে একটাই কথা। সেই অর্থে অভাবের সংসার ছিলো না আমাদের। ভারতবর্ষের হাজারো শিশুর থেকে অনেক অনেক আরামে বড় হয়েছি আমি। ওই হাজারো শিশুর রোজকার যে কৌতুহল এবং প্রশ্ন তা আমার দিকে ছুটে আসেনি কোনও দিন। পৃথিবীর কঠিনতম সেই প্রশ্ন-

এতো এতো খিদে কেন পায় আমাদের?

আগামী শিশুর গোটা শৈশব জুড়ে অন্তহীন রহস্য, অন্তহীন প্রশ্ন থাকুক। শুধু এই রহস্য আর প্রশ্নটা বাদে।

352 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: মনোজ

Re: শৈশবঃ কয়েক ফালি রোদ আর আমার না পাওয়া গভীর অন্ধকার

অনিমেষবাবু,

ঐ কয়েক ফালি রোদের জন্যেই তো জগতের যত আবিস্কার ! যত আশ্চর্য লেখা ! প্রমিথিউস যখন স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে নিয়ে এলো - তখন থেকেই মানুষের মনে শুধু ঐ আলোটুকু পাবার জন্যে কী আকুতি !

এক সময় আমরাও বিশ্বাস করতাম রেডিওর ভেতরে বসে শিল্পীরা গান গায় । একটা সিনেমাও দেখে ছিলাম টেলিভিশনের ভেতর থেকে দৈত্য বেরিয়ে এসে ঘরের ভেতর পায়চারি করছে । আবার একটা বাস্কেটবল টিম টি ভি থেকে বের হয়ে এসে ঘরের মধ্যে খেলছে !
আবার ডিজনিতে গিয়ে দেখি - মানুষ ছোট্ট হয়ে পাখির মত তারের ওপর চলছে ! - এরকম আশ্চর্য আশ্চর্য মজার ব্যাপার দেখে আমরা এই বয়েসেও খুব অবাক হয়ে ভাবি কি করে এটা হল !
আবার একটা সিনেমাতে দেখলাম - গাছের পাতা মানুষের মাথা থেকে মগজ খেয়ে নিচ্ছে ! এটা সত্যজিতের একটা গল্পও আছে !

যত দেখি তত অবাক হই ! কি করে এসব হয় !

মনোজ


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন