উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...
  • চন্দ্রযান-উন্মত্ততা এবং আমাদের বিজ্ঞান গবেষণা
    চন্দ্রযান-২ চাঁদের মাটিতে ঠিকঠাক নামতে পারেনি, তার ঠিক কী যে সমস্যা হয়েছে সেটা এখনও পর্যন্ত পরিষ্কার নয় । এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে শুরু হয়েছে তর্কাতর্কি, সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে । প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করে ইসরো-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীরা ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

উদয়ন ঘোষচৌধুরি


শিবাংগী বলেছিল, এ শহরে ডিসেম্বরেও ফ্যান চালাতে হয়। হাঁ করেছিল চিন্টু। হাঁ-করা তার পুরনো অভ্যেস। হাভাতে এক শহরতলীর হাঘরে, উঠে এসেছে ধ্যাবড়া এক চাকরি নিয়ে। চাকরিটা তার ‘ধ্যাবড়া’ মনে হয়, প্রায়ই যখন আগাগোড়া বাংলা মিডিয়মকে অনুবাদ আর উচ্চারণ গার্গল করে টিম কনফারেন্সে স্লাইড-শো’র আঁচে ট্যাঁস ভাষায় ডেমো দিতে হয়। এই ‘ট্যাঁস’-টাও এত হুহু বদলে চলেছে, সেটাও সে সাঁতরে ধরার চেষ্টা করে। প্রাথমিক মোলাকাতে লোকজন এমন ভাব দ্যাখায়, যেন ‘হাই বাডি’ বলে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। সঙ্গে ‘হট’, ‘খিউল’ (ইয়ে, কুল), ‘ওয়াও’-এর গুঁতো। ভারতবর্ষ লড়ে যাচ্ছে এখানে পৌঁছতে; আর এরা লড়ছে ইউকে, স্টেটস, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া পৌঁছতে। প্রতি দ্বিতীয় নাগরিক মানত রেখেছে, ‘শিকে ছিঁড়ে ভিসা পেড়ে দাও, মা!’ স্বপ্নাদেশ আসলেই, বিয়ার টেনে শিরডি কিম্বা জুতো ব্যাকপ্যাকে গুঁজে সিদ্ধিবিনায়ক। ভূগোল আর হিন্দি সিনেমা থেকে চিন্টু জেনেছিল, বম্বে, থুড়ি, মুম্বাই (বালাবাবুর চ্যালারা চ্যালাকাঠ বানাতে পারে) সমুদ্রতীরের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। হররোজ উপচে ওঠা মানুষ আর গাড়ির ভিড় ওই ধারণাটাকে উষ্ণতার নাতি বানিয়ে ছেড়েছে। পিক আওয়ারের লোকাল ট্রেনে পাবলিক একটা নাটবল্টু পেলেও নিজেকে টাঙিয়ে দ্যায়। কোনও কোনও রাউডি রাঠোড় যদিবা ভেতরবাগে সেঁধোয়, ভিড়ের ঠ্যালায় বাকি পথটা ফিল্মফেয়ারের ত্রিভঙ্গ স্ট্যাচু। এক-একটা হ্যান্ডেলে সতেরোটা হাত। কানের লতিতে ঘাম গড়ালে বা কুঁচকিতে ফুসকুড়ি উশখুশোলে চোখ বুজে স্রেফ ইষ্টদেবতা স্মরণ। নাস্তিকরা অবশ্য সেটাকে গার্লফ্রেন্ডের স্মার্ট খুনসুটি ভেবে নেয়।


চিন্টুর টিমে একঝাঁক ছটফটে মেয়ে। শিবাংগী, শালিনী, পুনম, ডোরিন, ময়ূরী। উইকএন্ডে তারা প্ল্যান বানায় পিকনিকের। সিবিচের পাশে এক ওয়াটার পার্ক। শহরে নতুন এবং সঙ্গীহীন চিন্টুকেও ডেকে নেয় ওরা। তরঙ্গ-উচ্ছলিত এতগুলো যুবতী জলকেলিতে একযোগে – রোমাঞ্চ-হিল্লোলে সে তো প্রায় হাফ-সেদ্ধ! অফিস-ক্যাবের গোলমাল থাকায় একাকী পুনমকে একবার রাত সাড়ে-বারোটায় পৌঁছে দিতে যায় ওর ফ্ল্যাটে। পুনমের মা ভিনদেশি ছেলেটিকে আপন আত্মীয়ের মতো মেনে নেন। এখানের মানুষের এটাই ধর্ম। এই শহর এভাবেই সকলকে নিজের করে নেয়। কলোনিয়াল প্রথামাফিক বসকে ‘স্যার’ বলতে হয় না। তারা নিজেরাই বলে দেন সরাসরি নাম ধরে ডাকতে। কোম্পানির আরএনডি ম্যানেজার, কাজ শেষে একদিন, রাত আড়াইটেয় চিন্টুকে নিয়ে যান এলাকা চেনাতে। উদ্ধত আলো আর উদ্দাম বাজনাওলা একটা বাড়ির সামনে সে আবার হাঁ। যশ চোপড়ার পোস্টারেও এত এত সুন্দরী একসঙ্গে দ্যাখেনি লাইফে! ম্যানেজার ফিসফিসোয়, “অপ্সরা নয়, ওরা বার ড্যান্সার!” হিন্দি ফিল্মে যদিও আজও খলবলাচ্ছে ‘আও রাজা’ বা ‘ফ্যাবিকল’ জাতীয় সিকোয়েন্স – আসলি মুম্বাইতে ওরা বহুদিনই হাপিশ। নানা অন্ধকার ধান্দায় ছড়িয়ে পড়েছে নিউ মুম্বাই আর থানে সংলগ্ন এরিয়ায়। মূল শহরে রমরমিয়ে পাঁচতারা যৌনব্যবসা, বিজনেস ট্যুরে কনভেন্ট এডুকেটেড এসকর্ট অথবা টোয়েন্টি-ফোর বাই সেভেন চাইলেই আপনার রুমে ম্যাসাজ হেভেন। আসলে এসব ‘ক্লিনমুম্বাই’ শুচিবাইয়ের সাইড এফেক্ট। যেমন, ফৈজাবাদের তেওয়ারি। ফোর্টের ফুটপাথে চা বেচত। রাতারাতি তাড়া খেয়ে, বউ-বাচ্চাকে গাঁওয়ে ছেড়ে, এখন মালাডে জুতো পালিশ করে। রাত্রে একটা দোকানের হাতায় শোয়। দোকানদার দয়া করে বারান্দার কোণাটুকু ছেড়েছে। চিন্টু দেখেছে, এ শহরে চা-দোকানের থেকে শুঁড়িখানা অনেক বেশি। এমনকি চোলাই খাওয়ারও যে সুসজ্জিত বার হতে পারে, তা-ও সে এখানেই জেনেছে। আরও অদ্ভুত, প্রায় প্রতিটি বারের নামকরণে হিন্দুয়ানি আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। দেবীকৃপা বিয়ার পাব। সাঁইসন্ত লেডিজ বার। হরিপ্রসাদ পারমিট রুম।


‘ক্লিনমুম্বাই’-এর থিওরি মেনে বেশির ভাগ নতুন কোম্পানি বাড়তে থাকা মুম্বাইতে। গালভরা প্রি-লেজুড় ‘সাবার্ব’ কিম্বা ‘গ্রেটার’। পাওয়াইতে হিরানন্দানি। গোরেগাঁওতে রাহেজা। আইরোলিতে মাইন্ডস্পেস। বছর দশেক আগেও পাত্তা না-পাওয়া জায়গারা পাহাড়-জঙ্গল মুড়িয়ে বিশ-বাইশতলা ঘাড়ে উঠে গেছে জাতে। কোনও কোনও ম্যানগ্রোভ এরিয়ায় প্লাস্টিকের ডাঁই ঢেলে ঢেলে হয়ে চলেছে রেসিডেন্সিয়াল অ্যাপার্টমেন্টের হুড়ুদ্দুম কাজ। ফুট পঞ্চাশেক নিচেই হয়ত পাওয়া যাবে চোরাগোপ্তা খাঁড়ি। কিছু ভূবিজ্ঞানীর ধারণা, বহু বহু বছর আগে এখানে ছিল সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা এখন সমুদ্রের নীচে। অশোকের পরবর্তী বৌদ্ধরা বেছেছিল এখানের নির্জন চরাচর। কানহেরি আর মহাকালির গুহাগুলো এখনও চিন্টুকে পৌঁছে দ্যায় সেই আদিগন্ত অপার চিরকালীন ভারতবর্ষে। শ’দেড়-দুই বছর আগেও তো জায়গাটা টুকরো টুকরো সাতটা দ্বীপ ছিল। স্থানীয়রা পেশায় ছিল মেছুড়ে। ক্রমে বন্দর এল। পর্তুগিজ আর ইংরেজ এল। শুরু হল ব্রিজ বেঁধে বেঁধে জুড়ে দেওয়া। পাহাড়ের পেট ফাটিয়ে ট্রেনপথ। দেশভাগের আগে-পরে এল কিছু লড়াকু উদ্বাস্তু, পরে তাদের কেউ কেউ হয়ে উঠল সেলিব্রিটি। আশির দশক থেকে পুরনো চালি আর খোলি, যা ছিল প্রধানত মিল-শ্রমিকদের আবাস, সস্তা দরে কিনে চারিপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হল বিল্ডিং। টাওয়ার। দাদারকেও এক সময় ‘সাবার্ব’ বলা হত। সেটা ছাড়িয়ে হল বান্দ্রা। জুহুতে বসতি বেড়ে বেড়ে ছুঁয়ে দিল আন্ধেরি। এক সময় বোরিভেলিও আর ব্রাত্য রইল না। এখন তো ওয়েস্টার্ন লাইনে এগোতে এগোতে মিরা রোড-ভাইন্দর পেরিয়ে ভিরার অব্দি প্রায়-মুম্বাই। আর সেন্ট্রাল লাইন কল্যান ছাড়িয়ে হাত রেখেছে কারজাত-কাসারার দিকে। হার্বার লাইনে কয়েক বছর আগের ভাসি-পানভেলকেও চেনা দায়। খারগারে এসে গেছে নতুন এয়ারপোর্ট। চিন্টু চোখ বুজলে দেখতে পায়, দিন-কে-দিন জায়গাটা যেন লম্বাটে লেড়ো বিস্কুট, যার দক্ষিণ আর পশ্চিম অনবরত ডুব মারছে আরবীয় চায়ের গ্লাসে। আচ্ছা, ভিজতে ভিজতে বিস্কুটটা যদি আধখানা ভেঙে যায় গ্লাসের ভেতর? বা, ভগবান নামের বাচ্চাটা একদিন টুক করে এক টুকরো চাখে? চিন্টু চমকে উঠে চোখ খুলে ফ্যালে। সামনে নতুন বিল্ডিঙের জন্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। ট্রাক-বোঝাই পাথর চলেছে মাল্টিন্যাশনাল সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে। দগদগে পাহাড়ের ঘা চুঁইয়ে নামছে পাথুরে জল। গুম গুম শব্দে বিশাল একটা চাঁই খুলে পড়ে পাশের টাওয়ারের পার্কিং-এ। দুটো গাড়ি তুবড়ে যায় পলকে। সিকিউরিটি হাত নাড়ে, “সব ঠিক হ্যায়, সাব।” দড়ি-ঘেরা ব্যারিকেডে উঁকি মেরে, পরে চিন্টু দেখেছে, শুকনো লাল ছোপ। রক্তের দাগ কি না, কেউ কারুর কাছে জানতে চায়নি।


এ শহরের বেশ কয়েকটা মিডিয়াখ্যাত দুর্যোগ সে দেখেছে। ২০০৫-এর ২৬শে জুলাই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি গোটা মুম্বাইকে ধস্তে দিয়েছিল। লাইট, খাবার, ফোনের নেটওয়ার্ক – কিছুই নেই। প্রোডাকশন ফ্লোরে অফিসের ভিপি থেকে হাউসকিপার – ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ঠায় জেগে, সারা রাত বসে। জল ফুরিয়ে যাওয়াতে উনিশতলার টয়লেট দুর্গন্ধে মাৎ। জানলা দিয়ে বোতল বাড়িয়ে বৃষ্টি ধরে খেতে হচ্ছিল। রাস্তায় আটকে যাওয়া গাড়ির ভেতরেই মারা গেছিল অনেকে। হাইওয়ের ধারে জোগেশ্বরির খাটালে বেঁধে রাখা মোষেরা মারা গেছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। পরবর্তী দিন পনেরো হাইওয়ের দু পাশে মৃতদেহের পচা বদবু এলোমেলো হাওয়ায় জানান দিত। ২০০৬-এর ১১ই জুলাই। সিরিয়াল ট্রেন ব্লাস্ট। সন্ধে থেকে বন্ধ এ শহরের লাইফলাইন। সারা রাত। সাধারণ নাগরিকেরা পথের দু ধারে নেমে এসে কাজফিরতি মানুষদের নাগাড়ে বিলোচ্ছিল চা-জল-খাবার। পরের সকালে আবার সবকিছু নর্মাল। মানুষ আবার যে যার কাজে স্বাভাবিক। ২০০৮-এর ২৬শে নভেম্বর। কাসাভ-কাহানি। সিএসটি স্টেশন চত্বরে লাগাতার ফায়ারিং। সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি, প্রকৃতি, আর হালের টেররইজম – অনেকেই ব্লেড মেরেছে মুম্বাইয়ের গোড়ালিতে। ঘেঁটি টিপে চুবিয়েছে জলে। তবু সে ঘাড় নোয়ায়নি। কোনও কিছুই ভাঙতে পারেনি এখানের ‘চরৈবেতি’ প্রাণ। চিন্টু বুঝেছে, চলতে থাকাই এ শহরের মন্ত্র। এ শহরের দর্শন।


এমনকি ভিখিরিদেরও শিফট বদলায় এখানে। যে স্কাইওয়াকের নীচে সকালে কোলে-বাচ্চা মহিলা, সন্ধেয় সেখানে হাত-বাঁকা অন্য কেউ। আমেদাবাদের কীর্তি বুঝিয়েছিল, অফিসমুখো ম্যাডামজিদের মায়া টানতে মা-শিশুর কৌশল, আর সুজ্যি ডুবলে রঙিন-ফুর্তির বাবুদের করুণার ময়দান খিঁচতে বিকলাঙ্গ। এ শহর বোঝে, ঠিকঠাক কায়দা জানলে ভিক্ষেটাও কি করে ব্যবসা হয়ে যায়। হোয়াইট গোল্ডের ব্যবসা ছিল জিগনেশদের। ঝাড় খেয়ে বেচে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডিভান তুলে মাতাল জিগনেশ একদিন দেখিয়েছিল কাঁচা টাকার বান্ডিল, থরে থরে সাজানো। ওরা এখন ক্রিকেট বেটিং-এ টাকা লাগায়। এখানের কলেজে-পড়া ছেলেমেয়েরাও আওড়ায় সেনসেক্স আর নিফটির ঘোরপ্যাঁচ। বাড়ির নির্ভরতা এড়িয়ে ওরা চায় নিজে কিছু করতে। পঙ্গু বাবাকে অবসর দিয়ে উনিশ বছরের দিশা চাকরি করে, করেসপনডেন্সে এমসিএ। নিজের বিয়ের খরচ সে নিজেই জমায়। অথবা একুশ বছরের রাকেশ। চাকরি নয়, সে স্বপ্ন দ্যাখে, একদিন হবে এক শেয়ার ব্রোকিং হাউসের মালিক। চিন্টু হাঁ করে দ্যাখে, মানুষ দিব্যি এখানে তরকারি কেনার প্লাস্টিকে লাখ লাখ টাকা মুড়ে হাতে ঝুলিয়ে ঘোরে। হয়ত ও পাশের লোকটার পকেটেই রয়েছে কোটি টাকার টুকরো হিরে। যে কোনও ফ্ল্যাটের ডিলে কত যে ব্ল্যাকমানি লেনদেন হয়, তার ইয়ত্তা নেই। তবু এই যে ধিংকাচিকা ধোয়ামোছা শহর, এই যে নিয়ত আদেখলা ‘মার্চ-অন’ ভিড়, এই যে জনগণবৈভবনায়কজয়হে – এসবের আড়াল-কাহিনি? হ্যাঁ, চিন্টু জানে, ওই সামনের গলিমুখে যে লোকটা রক্ত মেখে মুর্গি কাটে মেশিনের মতো, ও আসলে বাঙালি। চিন্টুর মতো শহুরের সামনে নিজের ভাষা বলতে লজ্জা পায়। ছোট ছোট রেস্টুরেন্টগুলোতে সতেরো-আঠেরোর যে ছেলেগুলো নুডলস আর পাউভাজি সার্ভ করে – ওদের কারও বাড়ি মেদিনীপুরে, কেউ হয়ত মুর্শিদাবাদের। মাল্টিস্টোরিডের গায়ে ঝুলে ঝুলে প্লাস্টার মারে যে চেকপ্যান্ট – ওর বাড়ি খুলনা। এ শহরে, এ দেশে ওর কোনও পরিচয় নেই। পা পিছলে পড়ে মাথা ফেটে মরলেও কনট্রাকটরের কোনও দায় নেই হিসেব দেওয়ার। ওর রোগা বউটা গজিয়ে-ওঠা ফ্ল্যাটগুলোতে বাসন মাজে। ফাঁক পেলে খয়েরি দাঁত দেখিয়ে হাসে সিকিউরিটি গার্ড, শুতে চায়। বউটা ফ্যালফেলিয়ে যায়।


আটতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চিন্টু এসব দ্যাখে। দূরে, অনেক দূরে, দ্যাখে, শচীনকত্তা হাত নেড়ে গান তোলাচ্ছে কিশোরকে। পাগলাটে কিশোর সিল্কের লুঙ্গিতে শিশু হয়ে আছে। ওদিকে রাহুল পেয়েছে এক নতুন ধুন, হারমোনিয়মে ক্রমাগত প্যাঁ দিচ্ছে সে। পাশের জানলায় দেবানন্দ বিশাল আয়নায় মুখস্থ করছে ‘গাইড’-এর ডায়লগ। আর রাজেশ ঘাড় বাঁকিয়ে বলে চলেছে, “বাবুমোশাই, জিনা হ্যায় তো বম্বেমে, মরনা হ্যায় তো বম্বেমে।” আচ্ছা, ওদের মাথার পেছনে ওই যেটা জ্বলছে, ওটা কি ফ্লাডলাইট? না, চাঁদরাত এটা? এখান থেকে চাঁদ বোঝা যায় না, জানলায় ধাক্কা খায় উলটোদিকের বিল্ডিং। কমপ্লেক্সের ছাদে হুটহাট উঠে পড়া বারণ। চাঁদ দ্যাখার জন্যে নীচে নামে চিন্টু। নবরাত্রি চলছে। সোসাইটির একফালি উঠোনে ধাঁই ধাঁই বাজছে বক্সের গান। দেশাইয়ের গিন্নি আর প্যাটেলের বউয়ের সঙ্গে ডান্ডিয়া নাচছে চৌরাশিয়া। এইবার ঢুকে পড়েছে কেরালার ডি’সুজা। ওই তো দৌড়ে আসছে সুব্রমনিয়মের মেয়ে। এসে পড়ছে চণ্ডীগড়ের বলওন্ত। গোল ছন্দে নেচে চলেছে ওরা। তালে তালে উঠছে লাঠির শব্দ। কেউ চেয়ারে, কেউ দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছে। চিন্টুর সামনে ঘুরে চলেছে আজকের অর্ধেক ভারতবর্ষ।


2055 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 41 -- 60
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লোকাল ট্রেন মুম্বাইয়ের প্রাণ। অতো তাড়াতাড়ি আর কোনো যান কোথাও পৌঁছে দেয়্না ঐ শহরে। সেকেন্ড ক্লাসে যাস্ট ওঠা যায়্না অনেক রাত অবধিও। তবে ফাস্ট ট্রেনে ফাস্ট ক্লাস মোটামুটি ৯ টার পরে ফাঁকা হয়ে যায়, তখন খুব মজা। কিন্তু গরম কালে ঐ ভীড় ঠেলে বেশিদিন চলাচল করা খুব মুশকিল হয়ে ওঠে। বিশেষত যাদের অন্য শহরে এমন একস্পি হয়নি।

মুম্বাইতে সবকিছুর মারত্মক দাম। রিয়েল এস্টেট থেকে রেস্তোরা অবধি। কিন্তু ভ্যালু ফর মানি মনে হয় আর কোনো শহরে এতো ভালো নেই। মুম্বাইতে একটা জিন্স কিনুন হাজার ৪-৫ দিয়ে, পরেও মজা, অনেক দিন টিকবে, খুব ভালো জিনিস। কোলকাতাতে ৩ হাজারের জিন্স কিনে সেই মজা পাইনা। এইটা ব্যাক্তিগত মত। তবে কিছু ক্ষেত্রে কোলকাতার জিনিস কিনেও সন্তুস্ট হয়েছি। কিন্তু মল কালচারে কোলকতা মুম্বাইয়ের কাচ্ছে নেহাতই শিশু। প্রোডাক্ট - সার্ভিস সবই খুব ভালো, কিন্তু ফেলো কড়ি মাখো তেল। এক্দম ক্যাপিটালিস্ট শহর। বাসস্থান, শিক্ষা, আর স্বাস্থ্য - তিনটেই মারাত্মম এক্সপেন্সিভ।

হ্যাঁ মুম্বাইতে প্রচুর গরীব লোকেরা থাকে, খুব খারাপ অবস্থায় থাকে। কিন্তু শহরটা বড়লোকেদের। মাসে মাসে বেশ ভালো টাকা আয় না করলে থাকা খুব মুশকিল। আর প্রপার্টি কেনার জন্যে হুলিয়ে ইনকাম করতে হবে। আমার মনে হয় গরীব লোকগুলো থাকে সুযোগের আশায়। এখনো ঐ শহরে র‌্যাগ টু রিচেসের অনেক গল্প জানা যায়। সেইগুলোর আশায় হয়তো লোক পরে থাকে। আর এ এক অদ্ভুত নেশা। সক্কলে দৌঁড়ে চলেছে। কে জিতবে।
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ও S, মুম্বইতে সবকিছুর মারাত্মক দাম, এমনটি নয়। ফ্যাশন স্ট্রীটে একবারটি ঘুরে আসুন। ও , ওটার কথা বোধহয় কেউ বলেনি এখনো ?
আর পথে ঘাটে আশএপাশে গলি ঘুঁজিতে দোকান খুঁজুন, অনেক কিছু অনেক কমে পেয়ে যাবেন ঃ)। গলিঘুঁজিই বা বলি কেন, চার্চগেট, ভিটি চত্বর, জাভেরি বাজার এলাকায় ঐ কী যেন মার্কেটটা ছিল .. আর সে জিনিসপত্তর যে খারাপ, তাও মোটেই নয়। ফ্যাশন স্ট্রীট থেকে কেনা এক কুর্তি এই চোদ্দ বছর পার করে দিল। এখনো রং ডিজাইন দেখে লোকে জিগায় কোথা থেকে কিনলাম, কোন বুটিক থেকে ঃ)
আর একটা ভাল লেগেছিল মুম্বইয়ের। লোকজন যে যেমন কাজ ই করেন না, মোটামুটি বেশ ফিটফাট, সুবেশ, সুবেশা, ফ্যাশনেবলও। জানিনা এসব ফ্যাশন স্ট্রীটের মত জায়গার সুফল কিনা, কিন্তু এই ব্যাপারটি বেশ ভাল লাগত। আমাদের ইন্স্টিটিউটের বাসে যখ্ন প্রথম উঠি, কে রিসার্চ স্কলার, কে সিকিওরিটি গার্ড, কে সাফাই কর্মী, কে ক্যান্টিনের ওয়েটার, কে ফ্যাকাল্টি, আলাদা করে কিছুই বুঝতে পারিনি। শুধু সাজপোশাক বলেই নয়, কথাবার্তা ধরণধারণ সবকিছু দিয়েই।

চার্চগেটের ওদিকটায় তো ফুটপাথে ঢেলে বিকোতো বইপত্তর, অসম্ভব শস্তা দামে। খুঁজলে মণিমুক্তোও পাওয়া যেত। আর ছিল স্ট্র্যান্ড বুক স্টলের মত দোকান। কত নানা বিষয়ের নানা রকম বইয়ের কালেকশন ছিল আর দোকানের মালিক শুনেছিলাম বই পাগল, খুঁজে পেতে নিয়ে আসেন। পাগল বলেই বছরে মাঝেমধ্যেই অসম্ভব রকম সেল দিয়ে সেই বইগুলো সবাইকে পড়ার সুযোগও করে দিতেন। ভদ্রলোক কীসব যেন পুরস্কারও পেয়ে ছিলেন। ওঃ, এই তো পেয়েছি। গুগলবাবা কল্পতরু। পড়ে দেখুন, ভারি ইন্টারেস্টিং।
http://www.strandbookstall.com/aboutstrand.aspx


দাম যেটার অসম্ভব বেশি, সেটা হল প্রপার্টি। সেজন্যই অন্য অনেক শহরে পাকা বাড়িতে থাকতে পারার মত লোকজনও মুম্বইতে চউলে থাকেন। আর ধারাভির কথা তো লোকজন জানেনই নিশ্চয়।

শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাইভেট স্কুলগুলোতে অন্যান্য রাজ্যের থেকে দাম কত বেশি জানিনা, আমার পরিচিতদের সবার বাচ্চাই প্রায় নেভিনগর বা বার্ক বা আই আই টি র কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে।

স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কিছু নামকরা ডাক্তারের ফিজ বেশ বেশিরকম বেশি ছিল, তবে আবার বম্বে হাসপাতাল এর মত জায়গাও ছিল, যেখানে প্রায় বিনা পয়সাতেই তো চিকিৎসা হত, আর ভাল চিকিৎসাও। নাকের ফাংগাল ইন্ফেকশন নিয়ে মুম্বই মোটামুটি চষে ফেলতে হয়েছিল। ওখানেই ডঃ হিরানন্দানির মত ভগবানকেও দেখেছিলাম। বম্বে হাসপাতালেই নয়, নিজের প্রাইভেট চেম্বারেও দেখতেন অনেক কম ফিজে। কেউ গরীব শুনলে টাকা মকুব। এমনকি এই অধমকে স্টুডেন্ট বলেও অনেক কম টাকায় অনেক কিছু দেখে দিয়েছেন।

আর ছিল নানাবিধ মেলা, নাটক, ফেস্টিভাল। সেও যেমন একদিকে নাসিরউদ্দীনদের নাটক প্রচুর পয়সা ফেলে দেখতে হত, আরে কী যেন নাম ছিল জায়গাটার .. সেখানে গেলে একাডেমির কথা ভেবে তুলনা করে খুব দুঃখু হত ঠিকই , কিন্তু এতরকম ফেস্টিভ্যাল ও অন্যত্র এত ভাল কিছু অনুষ্ঠানও হত যে, খোঁজখবর রাখলে অ্যাফোর্ডেবল টিকিট ঠিক যোগাড় হয়েই যেত, আফশোস তেমন থাকতো না। ফ্রি তেও কিছু কম ভাল জিনিস দেখি নাই।
ধুর ! কালাঘোড়া ফেস্টিভ্যালের কথা মনে পড়ে মন হুহু করে উঠলো ঃ(

আমার মুম্বইতে থাকা তো ছাত্রাব্স্থায়। তখন রিসার্চ স্কলারদের কতই বা আর স্কল হত। যদিও থাকার খরচা নিয়ে ভাবতে হয়নি, আর সেটা মুম্বইয়ের জন্য অনেক, স্বাস্থ্যের খরচও বেশ কিছুটাই, তাও , তাও বলবো যা টাকা পেতাম তা দিয়ে পাঠিয়ে টুঠিয়েও দিব্বি মজাসে কাটিয়েছি। হ্যাঁ, প্রচুর নামি দামি রেস্তোরাঁ বা মলে ঘন ঘন যেতে হলে হয়তো হত না, কিন্তু সেসবে কোনোদিনই তেমন মজা পায়িনি বা বলা ভাল, সেসব বাদেও দিব্বি মজায় দিন কাটানো যায়।

কোলকাতার পরের পছন্দ বললে, আজও বলব, মুম্বই ঃ)। কেমন একটা প্রাণের আরাম মেরি জান টাইপের ব্যাপার আছে মুম্বইয়ের মধ্যে ঃ)


Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

পাই দেবী, আপনার মুম্বাইয়ের থেকে আমার মুম্বাই কিছুটা আলাদা। হয়তো সময়টা আলাদা। এবং অবশ্যই আপনি ছাত্রাবস্থায় ছিলেন, সেটা আলাদা করে দেয়। আজকাল মল ছাড়া তেমন জায়্গা নেই অন্তত ভালো জিনিস কেনার জন্যে। আমি দর দাম করার পাবলিক নই। ফ্যাশন স্ট্রিট আছে বটে। আর বান্দ্রাতেও স্টলগুলোতে বিক্কিরি হয়। কিন্তু মল থেকে কিনলেই মনে হয় জিনিস অনুযায়ী কম দামে পাওয়া যায়, আর সিওর ঠকছি না। সিনেমা দেখতে গেলে টিকিট ২০০র কাছাকাছি দিতে হোতো, তাও রাত সাড়ে দশটার শোতে। আর আপনি সাউথ মুম্বাইতে থেকেছেন বোধয়। আমি থেকেছি সাবার্বে, সেখান থেকে খুব কম সাউথ মুম্বাই যাওয়া হোতো/যেতো।

হ্যাঁ প্রাইভেট স্কুলগুলোর কথা যা শুনেছিলাম, তাতে বছরে লাখ বেলাখ মতন নাকি দিতে হয়। অবশ্যি জানিনা সেটা কতটা সত্যি কথা। আর পপুলেশন এতো বেশি যে প্রাইভেট স্কুলে দিতেই হবে - অন্তত প্রোবাবিলিটি অনেক বেশি।

বেসরকারী হাসপাতালে বা তেমন দাক্তারের হাতে পরলে পকেট ফাঁক করে নেয়। তবে ঘটনা যে গরীবদের জন্যে ৫০-১০০ টাকার ভিজিটের ডাক্তারও আছে।

প্রপার্টি প্রাইস বেশি হওয়ার কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। লোকে বলে যে ২০০৩-২০০৭ এর মধ্যে প্রাপার্টি প্রাইস নাকি প্রায় চারগুন হয়েছে। আর চউলে যারা থাকেন, তাদের একটা স্বার্থ আছে। ঐ চউল যেদিন টাওয়ারে পরিনত হবে, সেদিন ভাগ পাবে।
Avatar: শ্রী সদা

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

মুম্বই গোলা জায়গা। আমার খুব ইচ্ছে ছিল মুম্বইতে চাগ্রীবাগ্রী নিয়ে সেটল করার, কিন্তু ওনারা সফটওয়ারের দিকে খুব একটা খেলেননা, প্লাস ফ্ল্যাট কিনতে গিয়ে বাকী জীবন আলুসেদ্ধ ভাত খেয়ে কাটাতে হবে।
রাত দুটোর সময় বেরিয়েও দেখেছি সিগারেটের দোকান খোলা, রাস্তায় লোকজন অনেক রাত অব্দি দেখা যায়, খুব ভালো ট্রেন এবং পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। আর সবচেয়ে বড় কথা মেট্রোপলিটান কালচার আছে, লুরুর মতো হঠাৎ গজিয়ে ওঠা গেঁয়ো বড়লোক টাইপের নয় ঃ)
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

মুম্বইয়ের গরিব বস্তিবাসী লোকজনের একটা বড় অংশই পূর্ব মহারাষ্ট্র/ উত্তরপ্রদেশ/ বিহার/ পশ্চিমবঙ্গ ইত্যাদি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত জায়গা থেকে আসা, পেটের তাগিদে। মুম্বইয়ে তবু খেয়ে পরে বাঁচতে পারছে, নিজের জায়গায় সেটাও পেত এরকম ব্যাপার। এদের মধ্যে যারা একটু বলিয়েকইয়ে ও পরিশ্রমী, তারা কিন্তু আস্তে আস্তে নিজেদের জীবন পাল্টে ফেলছে, কারণ ইন্ডাসট্রিয়ালাইজেশনের কারণে জব অপরচুনিটি প্রচুর, আস্তে আস্তে সিঁড়ি বেয়ে উঠে যাওয়ার সুযোগ অনেক। অভ্যাসে হয়ত বস্তিতেই থেকে যাচ্ছে, কিন্তু সেই বস্তির ঘরেই আসছে টিভি ফ্রিজ, লাগছে এসি। এখন চাওল (দু-তিনতলা প্রায় -বস্তি বিল্ডিং যেগুলো কাপড়ের মিলের শ্রমিকদের সস্তায় থাকার জন্য তৈরী হয়েছিল বহু বছর আগে) গুলোর মধ্যে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে চারচাকা।
ব্যবসাবুদ্ধি এখানকার লোকেদের রক্তে, মাইগ্রেট হয়ে আসা লোকজনও সেই রক্তের অংশীদার হয়ে ওঠে । ব্যবসার অন্যতম মূল শর্ত হচ্ছে কাস্টমারকে খুশি রাখা । শুধু শপিং মল বা ব্র্যান্ড-এর আউটলেট নয়, একদম সাধারণ দোকানদাররাও কাস্টমারের সাথে যা সুন্দর ব্যবহার করে, কিছু কেনার পরে যা আফটার- সেলস -সার্ভিস দেয় তা শিক্ষনীয়। কলকাতা-সুলভ 'নিলে নিন না নিলে রেখে দিন' জাতীয় মেজাজ দেখানো এখানে অকল্পনীয়। এই কারণেই অন্ধেরির চাওলে থাকা কম্পিউটারের সামান্য মেকানিক আস্তে আস্তে ব্যবসা বাড়িয়ে আজ নিজের ভাইকে লন্ডন পাঠাচ্ছে। ভালো লাগে দেখতে যোগ্য মানুষের উন্নতি। 'সিটি অফ ড্রিমস' খেতাবটা মিথ্যা নয়। এক বাঙালি ছেলের সাথে আলাপ হয়েছিল যার বাবা বনগা থেকে ভিরারের এক বস্তিতে চলে আসে। ছেলেটা এইচ এস -এর পর একটা ডিপ্লোমা-জাতীয় কোর্স করেছে। পরিশ্রমী, ব্যবহার ভালো, ইংলিশে ফ্লুয়েন্সি আছে। চল্লিশ হাজার মাসমাইনের চাকরি করছে এখন, কয়েকদিন পরই এটা ছেড়ে আরো ভালো একটা ফার্মে জয়েন করবে, তারপর বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান করেছে। ও যে ইন্ডাসট্রিতে কাজ করে পশ্চিমবঙ্গে তার অস্তিত্বই নেই। ওর সঙ্গে আলাপ করার সময় আমার এক বন্ধুর কথা মনে পড়ছিল, যে ভালো রেজাল্ট নিয়ে এম এস সি শেষ করেও ওয়েস্টবেঙ্গলে কোনো চাকরি পাচ্ছে না; এস এস সি দিয়ে একটা বাঁধা মাইনের চাকরি জুটিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার চেয়ে বড় কোনো স্বপ্ন দেখার উপায় ওর কাছে নেই । .........মুম্বইয়ের কাছ থেকে অনেক অনেক কিছু শেখার আছে কলকাতার। অটো-ট্যাক্সিতে কোথাও যেতে চান? উঠে বসে শুধু ডেস্টিনেশন বলে দিন, নামার সময় মিটার দেখে ঠিক ততটাই পে করে দিন, হ্যা, অটোর ক্ষেত্রেও। গোটা দেশে খুব কম জায়গাতেই এই প্রিভিলেজ আছে, তাই না! বসে ওঠার জন্য সিগনালের পাশে/ রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে হাত দেখিয়ে ছোটার মত সার্কাস করার কোনো প্রয়োজন নেই । নির্দিষ্ট বাস-স্টপ আছে অল্প দূরত্ত্বে। স্টপে কোন কোন বাস থামবে লেখা আছে। বাস এসে দাঁড়ালে পেছনের দরজা দিয়ে উঠে যান, নামার পাবলিক সামনের দরজা দিয়ে নামবে, লড়ালড়ি করার কোনো প্রয়োজন নেই।......... শুনলাম দিদি লন্ডন সফরে যাচ্ছেন ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য, ভালো কথা, তবে আমার মনে হয় এর আগে উনি মুম্বই বা ব্যাঙ্গালোরে একটা সফর করে দেখে যেতে পারতেন বিনিয়োগের পরিবেশ কিকরে তৈরী করতে হয়।
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

* সেটাও পেত না
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

নাহ ! অটো ট্যাক্সি নিয়ে একমত হলাম না। হুলিয়ে ঠকার প্রচুর অভিজ্ঞতা আছ্হে, আমার এবং অন্যদের। এখন পরিস্থিতি বদলেছে কিনা জানিনা।

আর ঐ নাটকের জায়গাটার নাম মনে পড়ছিল না, একজন মনে করালেন, এন সি পি এ। ন্যাশানাল সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস।
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

মুম্বাইতে আমার অটো ট্যাক্সি নিয়ে এক্সপি মিক্স্ড। মানে কোলকাতার থেকে অবশ্যই ভালো, কিন্তু সবকিছুই খুব ঠিক ঠাক তা নয়। অনেক সময়ই যাবোনা বলে দেয়। তবে পুলিশকে ডেকে বললে বোধয় কাজে দেয়। মুম্বাইতে ঠকার চান্স কম কারণ লম্বা শহর, আপনি যদি জানেন কোনদিকে যেতে হবে, তাহলে সোজা গেলেই হয়।
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হ্যা আগে অবস্থা বাজে ছিল শুনেছি, কিন্তু এখন অটো বা ট্যাক্সির সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, ফলে কয়েকবার মাত্র ছাড়া যাবনা শুনতে হয়নি। আর মিটারের বেশি চেয়েছে এরকম ট্যাক্সির ক্ষেত্রে কখনো হয়নি, অটো এক-দুবার। আমি আন্ধেরী-সান্তাক্রুজ-বান্দ্রা আর টি আই এফ আর- নেভিনগর-কোলাবা-চার্চগেট এই দুই অঞ্চলের অভিজ্ঞতা বলছি, অর্থাত ওয়েস্টার্ন সাবার্ব্স আর সাউথ বম্বে। রাত দুটোয় প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও অটো নিয়ে এয়ারপোর্ট গেছি, মিটারে। পাশের বাস স্টপে এসে দাঁড়ালো বেস্টের প্রায় খালি বাস, রাত তখন আড়াইটে।
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

মাইরি কি থেকে কি এসে গেল।
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হ্যাঁ, মুম্বই এর অবস্থান এতক্ষণে লেবাননে পৌঁছুলে হানুদার ঠিকঠাক লাগতো ;)
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হ্যা এবঙ্গ অটো করেঃ-))
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হ্যাঁ, খালি শোভনের জন্য বাইক। ;)

কিন্তু এইবার উদয়ন এসে আমাকে ক্যালাবে ।
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখাটা আমার ভালো লাগে নি ঠিক ই কিন্তু একবারের জন্যেও মনে হয় নি মাইরি লেখক এক্ত অটো বা ট্যাকসি র তুলনামূলক আলোচনা র শুরু করতে চাইছেন তবে পাঠক ই মালিক প্রকাশের পরে কি আর করা
Avatar: Bratin

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

বোধি দা, লেখার সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে বলো নাহলে অযথা বকবক করো না ঃ))
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

কি রে ভাই ! গুরুর টই মানেই তো তাই। মুম্বাই দিয়ে শুরু হবে শুভাপ্রসন্নের ফ্ল্যাট হয়ে কাক হয়ে ঝাড়ুদার পাখি হয়ে খোলা ভ্যাট হয়ে জল শোভনে গিয়ে শেষ হবে। উইকেন্ড হলে কলকাতার মেয়র হয়ে সুভাষ বসু হয়ে তোজোর কুকুর, জাপানি তেল ইত্যাদি অনেক কিছুই আসতে পারে। এখন কি সেই গরিমা টইয়ের পর নিয়ম টিয়ম পাল্টে গেল নাকি (মানে বলা ভালো, কিছু নিয়ম টিয়ম এলো নাকি? ) । তাহলে সেটার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়, নইলে আমার মত অটো চড়া (ভাবা যায়, ইন্ডিয়ায় অটো চড়ে, আবার তাতে নাকি মিটার আছে) পাতি পাবলিক সেসব জানবে ক্যামনে ।
Avatar: Bratin

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হয় হয় জান্তি পারো না!! ঃ))
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

সে অবশ্য ঠিক। এখানে স্লা আলোচনা করাই চাপ।
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

আমার মনে হয়েছিল, একটা ট্রাভেলোগ এর মত করে, একটা শহর, যেটা কিনা আমাদের দেশে আধুনিকতার মেটাফোর, সেটা নিয়ে ভদ্রলোক লিখেছেন। একদিনের বা কয়েক দিনের দেখা, আর বিচিত্র যে পেস অফ চেঞ্জ, সেটা নজর করেছেন। তো আমার তেমন ভাবে দাগ কাটে নি। হতে পারে, মুম্বাই সম্পর্কে আমি দীর্ঘদিন ধরে পড়াশুনো করছি বলে, সেটা মনে হয়েছে। স্বল্প পরিসরে আমি ইন্টারেস্টিং লেখা আমি পড়েছি। কিন্তু সমালোচনাটার এটা উদ্দেশ্য ছিল না যে শহর সম্পর্কে অবসারভেশন গুলোর দার্শনিক জায়গা গুলো কে কোনো ভাবে অস্বীকার করার। কিন্তু সেটা যে ভারতের শহরের লিভিং কন্ডিশন এর তুলনামূলক আলোচনা হয়ে যাবে আমি সত্যি ই ভাবি নি। ইয়া, দ্য রাইটার ডাজ নট নিড মাই ডিফেন্স। আমি পাঠক হিসেবে যা মনে হয়েছে বলেছি, কোনো নিয়মে লেখা বা আলোচনা বাঁধতে চাই নি।
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

প্লাস চাইলে যেন লোকে শুনে উদ্ধার করে দেবে ঃ-))) দিস ইজ অ্যান আনবিলিভেবল প্লেস। এর পরে লেখা পড়ে কমেন্ট না করলে তাপস দাশ গাল দেবে মাইরি, বলবে হানি তুমি পড়ো না কেন, এ অইত্যাচার আর সইহ্য হয় না, তাপস তুমি ব্যক্তিগত ভাবে মাল খাওয়াও, নইলে তোমার আমার মুম্বাই এর কারোর ই প্রায়শ্চিত্ত হবে না ;-))))))))))))))

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 41 -- 60


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন