উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
    ভারত আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - মিল কতটুকু?একটি দেশ যদি বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী অর্থনীতি হয়, আরেকটির হাল বেশ নড়বড়ে - মানুষের হাতে কাজ নেই, আদ্ধেক মানুষের পেটে খাবার নেই, মাথার ওপরে ছাদ নেই, অসুস্থ হলে চিকিৎসার বন্দোবস্ত নেই। অবশ্য দুর্জনেরা বলেন, প্রথম ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

উদয়ন ঘোষচৌধুরি


শিবাংগী বলেছিল, এ শহরে ডিসেম্বরেও ফ্যান চালাতে হয়। হাঁ করেছিল চিন্টু। হাঁ-করা তার পুরনো অভ্যেস। হাভাতে এক শহরতলীর হাঘরে, উঠে এসেছে ধ্যাবড়া এক চাকরি নিয়ে। চাকরিটা তার ‘ধ্যাবড়া’ মনে হয়, প্রায়ই যখন আগাগোড়া বাংলা মিডিয়মকে অনুবাদ আর উচ্চারণ গার্গল করে টিম কনফারেন্সে স্লাইড-শো’র আঁচে ট্যাঁস ভাষায় ডেমো দিতে হয়। এই ‘ট্যাঁস’-টাও এত হুহু বদলে চলেছে, সেটাও সে সাঁতরে ধরার চেষ্টা করে। প্রাথমিক মোলাকাতে লোকজন এমন ভাব দ্যাখায়, যেন ‘হাই বাডি’ বলে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। সঙ্গে ‘হট’, ‘খিউল’ (ইয়ে, কুল), ‘ওয়াও’-এর গুঁতো। ভারতবর্ষ লড়ে যাচ্ছে এখানে পৌঁছতে; আর এরা লড়ছে ইউকে, স্টেটস, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া পৌঁছতে। প্রতি দ্বিতীয় নাগরিক মানত রেখেছে, ‘শিকে ছিঁড়ে ভিসা পেড়ে দাও, মা!’ স্বপ্নাদেশ আসলেই, বিয়ার টেনে শিরডি কিম্বা জুতো ব্যাকপ্যাকে গুঁজে সিদ্ধিবিনায়ক। ভূগোল আর হিন্দি সিনেমা থেকে চিন্টু জেনেছিল, বম্বে, থুড়ি, মুম্বাই (বালাবাবুর চ্যালারা চ্যালাকাঠ বানাতে পারে) সমুদ্রতীরের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। হররোজ উপচে ওঠা মানুষ আর গাড়ির ভিড় ওই ধারণাটাকে উষ্ণতার নাতি বানিয়ে ছেড়েছে। পিক আওয়ারের লোকাল ট্রেনে পাবলিক একটা নাটবল্টু পেলেও নিজেকে টাঙিয়ে দ্যায়। কোনও কোনও রাউডি রাঠোড় যদিবা ভেতরবাগে সেঁধোয়, ভিড়ের ঠ্যালায় বাকি পথটা ফিল্মফেয়ারের ত্রিভঙ্গ স্ট্যাচু। এক-একটা হ্যান্ডেলে সতেরোটা হাত। কানের লতিতে ঘাম গড়ালে বা কুঁচকিতে ফুসকুড়ি উশখুশোলে চোখ বুজে স্রেফ ইষ্টদেবতা স্মরণ। নাস্তিকরা অবশ্য সেটাকে গার্লফ্রেন্ডের স্মার্ট খুনসুটি ভেবে নেয়।


চিন্টুর টিমে একঝাঁক ছটফটে মেয়ে। শিবাংগী, শালিনী, পুনম, ডোরিন, ময়ূরী। উইকএন্ডে তারা প্ল্যান বানায় পিকনিকের। সিবিচের পাশে এক ওয়াটার পার্ক। শহরে নতুন এবং সঙ্গীহীন চিন্টুকেও ডেকে নেয় ওরা। তরঙ্গ-উচ্ছলিত এতগুলো যুবতী জলকেলিতে একযোগে – রোমাঞ্চ-হিল্লোলে সে তো প্রায় হাফ-সেদ্ধ! অফিস-ক্যাবের গোলমাল থাকায় একাকী পুনমকে একবার রাত সাড়ে-বারোটায় পৌঁছে দিতে যায় ওর ফ্ল্যাটে। পুনমের মা ভিনদেশি ছেলেটিকে আপন আত্মীয়ের মতো মেনে নেন। এখানের মানুষের এটাই ধর্ম। এই শহর এভাবেই সকলকে নিজের করে নেয়। কলোনিয়াল প্রথামাফিক বসকে ‘স্যার’ বলতে হয় না। তারা নিজেরাই বলে দেন সরাসরি নাম ধরে ডাকতে। কোম্পানির আরএনডি ম্যানেজার, কাজ শেষে একদিন, রাত আড়াইটেয় চিন্টুকে নিয়ে যান এলাকা চেনাতে। উদ্ধত আলো আর উদ্দাম বাজনাওলা একটা বাড়ির সামনে সে আবার হাঁ। যশ চোপড়ার পোস্টারেও এত এত সুন্দরী একসঙ্গে দ্যাখেনি লাইফে! ম্যানেজার ফিসফিসোয়, “অপ্সরা নয়, ওরা বার ড্যান্সার!” হিন্দি ফিল্মে যদিও আজও খলবলাচ্ছে ‘আও রাজা’ বা ‘ফ্যাবিকল’ জাতীয় সিকোয়েন্স – আসলি মুম্বাইতে ওরা বহুদিনই হাপিশ। নানা অন্ধকার ধান্দায় ছড়িয়ে পড়েছে নিউ মুম্বাই আর থানে সংলগ্ন এরিয়ায়। মূল শহরে রমরমিয়ে পাঁচতারা যৌনব্যবসা, বিজনেস ট্যুরে কনভেন্ট এডুকেটেড এসকর্ট অথবা টোয়েন্টি-ফোর বাই সেভেন চাইলেই আপনার রুমে ম্যাসাজ হেভেন। আসলে এসব ‘ক্লিনমুম্বাই’ শুচিবাইয়ের সাইড এফেক্ট। যেমন, ফৈজাবাদের তেওয়ারি। ফোর্টের ফুটপাথে চা বেচত। রাতারাতি তাড়া খেয়ে, বউ-বাচ্চাকে গাঁওয়ে ছেড়ে, এখন মালাডে জুতো পালিশ করে। রাত্রে একটা দোকানের হাতায় শোয়। দোকানদার দয়া করে বারান্দার কোণাটুকু ছেড়েছে। চিন্টু দেখেছে, এ শহরে চা-দোকানের থেকে শুঁড়িখানা অনেক বেশি। এমনকি চোলাই খাওয়ারও যে সুসজ্জিত বার হতে পারে, তা-ও সে এখানেই জেনেছে। আরও অদ্ভুত, প্রায় প্রতিটি বারের নামকরণে হিন্দুয়ানি আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। দেবীকৃপা বিয়ার পাব। সাঁইসন্ত লেডিজ বার। হরিপ্রসাদ পারমিট রুম।


‘ক্লিনমুম্বাই’-এর থিওরি মেনে বেশির ভাগ নতুন কোম্পানি বাড়তে থাকা মুম্বাইতে। গালভরা প্রি-লেজুড় ‘সাবার্ব’ কিম্বা ‘গ্রেটার’। পাওয়াইতে হিরানন্দানি। গোরেগাঁওতে রাহেজা। আইরোলিতে মাইন্ডস্পেস। বছর দশেক আগেও পাত্তা না-পাওয়া জায়গারা পাহাড়-জঙ্গল মুড়িয়ে বিশ-বাইশতলা ঘাড়ে উঠে গেছে জাতে। কোনও কোনও ম্যানগ্রোভ এরিয়ায় প্লাস্টিকের ডাঁই ঢেলে ঢেলে হয়ে চলেছে রেসিডেন্সিয়াল অ্যাপার্টমেন্টের হুড়ুদ্দুম কাজ। ফুট পঞ্চাশেক নিচেই হয়ত পাওয়া যাবে চোরাগোপ্তা খাঁড়ি। কিছু ভূবিজ্ঞানীর ধারণা, বহু বহু বছর আগে এখানে ছিল সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা এখন সমুদ্রের নীচে। অশোকের পরবর্তী বৌদ্ধরা বেছেছিল এখানের নির্জন চরাচর। কানহেরি আর মহাকালির গুহাগুলো এখনও চিন্টুকে পৌঁছে দ্যায় সেই আদিগন্ত অপার চিরকালীন ভারতবর্ষে। শ’দেড়-দুই বছর আগেও তো জায়গাটা টুকরো টুকরো সাতটা দ্বীপ ছিল। স্থানীয়রা পেশায় ছিল মেছুড়ে। ক্রমে বন্দর এল। পর্তুগিজ আর ইংরেজ এল। শুরু হল ব্রিজ বেঁধে বেঁধে জুড়ে দেওয়া। পাহাড়ের পেট ফাটিয়ে ট্রেনপথ। দেশভাগের আগে-পরে এল কিছু লড়াকু উদ্বাস্তু, পরে তাদের কেউ কেউ হয়ে উঠল সেলিব্রিটি। আশির দশক থেকে পুরনো চালি আর খোলি, যা ছিল প্রধানত মিল-শ্রমিকদের আবাস, সস্তা দরে কিনে চারিপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হল বিল্ডিং। টাওয়ার। দাদারকেও এক সময় ‘সাবার্ব’ বলা হত। সেটা ছাড়িয়ে হল বান্দ্রা। জুহুতে বসতি বেড়ে বেড়ে ছুঁয়ে দিল আন্ধেরি। এক সময় বোরিভেলিও আর ব্রাত্য রইল না। এখন তো ওয়েস্টার্ন লাইনে এগোতে এগোতে মিরা রোড-ভাইন্দর পেরিয়ে ভিরার অব্দি প্রায়-মুম্বাই। আর সেন্ট্রাল লাইন কল্যান ছাড়িয়ে হাত রেখেছে কারজাত-কাসারার দিকে। হার্বার লাইনে কয়েক বছর আগের ভাসি-পানভেলকেও চেনা দায়। খারগারে এসে গেছে নতুন এয়ারপোর্ট। চিন্টু চোখ বুজলে দেখতে পায়, দিন-কে-দিন জায়গাটা যেন লম্বাটে লেড়ো বিস্কুট, যার দক্ষিণ আর পশ্চিম অনবরত ডুব মারছে আরবীয় চায়ের গ্লাসে। আচ্ছা, ভিজতে ভিজতে বিস্কুটটা যদি আধখানা ভেঙে যায় গ্লাসের ভেতর? বা, ভগবান নামের বাচ্চাটা একদিন টুক করে এক টুকরো চাখে? চিন্টু চমকে উঠে চোখ খুলে ফ্যালে। সামনে নতুন বিল্ডিঙের জন্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। ট্রাক-বোঝাই পাথর চলেছে মাল্টিন্যাশনাল সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে। দগদগে পাহাড়ের ঘা চুঁইয়ে নামছে পাথুরে জল। গুম গুম শব্দে বিশাল একটা চাঁই খুলে পড়ে পাশের টাওয়ারের পার্কিং-এ। দুটো গাড়ি তুবড়ে যায় পলকে। সিকিউরিটি হাত নাড়ে, “সব ঠিক হ্যায়, সাব।” দড়ি-ঘেরা ব্যারিকেডে উঁকি মেরে, পরে চিন্টু দেখেছে, শুকনো লাল ছোপ। রক্তের দাগ কি না, কেউ কারুর কাছে জানতে চায়নি।


এ শহরের বেশ কয়েকটা মিডিয়াখ্যাত দুর্যোগ সে দেখেছে। ২০০৫-এর ২৬শে জুলাই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি গোটা মুম্বাইকে ধস্তে দিয়েছিল। লাইট, খাবার, ফোনের নেটওয়ার্ক – কিছুই নেই। প্রোডাকশন ফ্লোরে অফিসের ভিপি থেকে হাউসকিপার – ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ঠায় জেগে, সারা রাত বসে। জল ফুরিয়ে যাওয়াতে উনিশতলার টয়লেট দুর্গন্ধে মাৎ। জানলা দিয়ে বোতল বাড়িয়ে বৃষ্টি ধরে খেতে হচ্ছিল। রাস্তায় আটকে যাওয়া গাড়ির ভেতরেই মারা গেছিল অনেকে। হাইওয়ের ধারে জোগেশ্বরির খাটালে বেঁধে রাখা মোষেরা মারা গেছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। পরবর্তী দিন পনেরো হাইওয়ের দু পাশে মৃতদেহের পচা বদবু এলোমেলো হাওয়ায় জানান দিত। ২০০৬-এর ১১ই জুলাই। সিরিয়াল ট্রেন ব্লাস্ট। সন্ধে থেকে বন্ধ এ শহরের লাইফলাইন। সারা রাত। সাধারণ নাগরিকেরা পথের দু ধারে নেমে এসে কাজফিরতি মানুষদের নাগাড়ে বিলোচ্ছিল চা-জল-খাবার। পরের সকালে আবার সবকিছু নর্মাল। মানুষ আবার যে যার কাজে স্বাভাবিক। ২০০৮-এর ২৬শে নভেম্বর। কাসাভ-কাহানি। সিএসটি স্টেশন চত্বরে লাগাতার ফায়ারিং। সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি, প্রকৃতি, আর হালের টেররইজম – অনেকেই ব্লেড মেরেছে মুম্বাইয়ের গোড়ালিতে। ঘেঁটি টিপে চুবিয়েছে জলে। তবু সে ঘাড় নোয়ায়নি। কোনও কিছুই ভাঙতে পারেনি এখানের ‘চরৈবেতি’ প্রাণ। চিন্টু বুঝেছে, চলতে থাকাই এ শহরের মন্ত্র। এ শহরের দর্শন।


এমনকি ভিখিরিদেরও শিফট বদলায় এখানে। যে স্কাইওয়াকের নীচে সকালে কোলে-বাচ্চা মহিলা, সন্ধেয় সেখানে হাত-বাঁকা অন্য কেউ। আমেদাবাদের কীর্তি বুঝিয়েছিল, অফিসমুখো ম্যাডামজিদের মায়া টানতে মা-শিশুর কৌশল, আর সুজ্যি ডুবলে রঙিন-ফুর্তির বাবুদের করুণার ময়দান খিঁচতে বিকলাঙ্গ। এ শহর বোঝে, ঠিকঠাক কায়দা জানলে ভিক্ষেটাও কি করে ব্যবসা হয়ে যায়। হোয়াইট গোল্ডের ব্যবসা ছিল জিগনেশদের। ঝাড় খেয়ে বেচে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডিভান তুলে মাতাল জিগনেশ একদিন দেখিয়েছিল কাঁচা টাকার বান্ডিল, থরে থরে সাজানো। ওরা এখন ক্রিকেট বেটিং-এ টাকা লাগায়। এখানের কলেজে-পড়া ছেলেমেয়েরাও আওড়ায় সেনসেক্স আর নিফটির ঘোরপ্যাঁচ। বাড়ির নির্ভরতা এড়িয়ে ওরা চায় নিজে কিছু করতে। পঙ্গু বাবাকে অবসর দিয়ে উনিশ বছরের দিশা চাকরি করে, করেসপনডেন্সে এমসিএ। নিজের বিয়ের খরচ সে নিজেই জমায়। অথবা একুশ বছরের রাকেশ। চাকরি নয়, সে স্বপ্ন দ্যাখে, একদিন হবে এক শেয়ার ব্রোকিং হাউসের মালিক। চিন্টু হাঁ করে দ্যাখে, মানুষ দিব্যি এখানে তরকারি কেনার প্লাস্টিকে লাখ লাখ টাকা মুড়ে হাতে ঝুলিয়ে ঘোরে। হয়ত ও পাশের লোকটার পকেটেই রয়েছে কোটি টাকার টুকরো হিরে। যে কোনও ফ্ল্যাটের ডিলে কত যে ব্ল্যাকমানি লেনদেন হয়, তার ইয়ত্তা নেই। তবু এই যে ধিংকাচিকা ধোয়ামোছা শহর, এই যে নিয়ত আদেখলা ‘মার্চ-অন’ ভিড়, এই যে জনগণবৈভবনায়কজয়হে – এসবের আড়াল-কাহিনি? হ্যাঁ, চিন্টু জানে, ওই সামনের গলিমুখে যে লোকটা রক্ত মেখে মুর্গি কাটে মেশিনের মতো, ও আসলে বাঙালি। চিন্টুর মতো শহুরের সামনে নিজের ভাষা বলতে লজ্জা পায়। ছোট ছোট রেস্টুরেন্টগুলোতে সতেরো-আঠেরোর যে ছেলেগুলো নুডলস আর পাউভাজি সার্ভ করে – ওদের কারও বাড়ি মেদিনীপুরে, কেউ হয়ত মুর্শিদাবাদের। মাল্টিস্টোরিডের গায়ে ঝুলে ঝুলে প্লাস্টার মারে যে চেকপ্যান্ট – ওর বাড়ি খুলনা। এ শহরে, এ দেশে ওর কোনও পরিচয় নেই। পা পিছলে পড়ে মাথা ফেটে মরলেও কনট্রাকটরের কোনও দায় নেই হিসেব দেওয়ার। ওর রোগা বউটা গজিয়ে-ওঠা ফ্ল্যাটগুলোতে বাসন মাজে। ফাঁক পেলে খয়েরি দাঁত দেখিয়ে হাসে সিকিউরিটি গার্ড, শুতে চায়। বউটা ফ্যালফেলিয়ে যায়।


আটতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চিন্টু এসব দ্যাখে। দূরে, অনেক দূরে, দ্যাখে, শচীনকত্তা হাত নেড়ে গান তোলাচ্ছে কিশোরকে। পাগলাটে কিশোর সিল্কের লুঙ্গিতে শিশু হয়ে আছে। ওদিকে রাহুল পেয়েছে এক নতুন ধুন, হারমোনিয়মে ক্রমাগত প্যাঁ দিচ্ছে সে। পাশের জানলায় দেবানন্দ বিশাল আয়নায় মুখস্থ করছে ‘গাইড’-এর ডায়লগ। আর রাজেশ ঘাড় বাঁকিয়ে বলে চলেছে, “বাবুমোশাই, জিনা হ্যায় তো বম্বেমে, মরনা হ্যায় তো বম্বেমে।” আচ্ছা, ওদের মাথার পেছনে ওই যেটা জ্বলছে, ওটা কি ফ্লাডলাইট? না, চাঁদরাত এটা? এখান থেকে চাঁদ বোঝা যায় না, জানলায় ধাক্কা খায় উলটোদিকের বিল্ডিং। কমপ্লেক্সের ছাদে হুটহাট উঠে পড়া বারণ। চাঁদ দ্যাখার জন্যে নীচে নামে চিন্টু। নবরাত্রি চলছে। সোসাইটির একফালি উঠোনে ধাঁই ধাঁই বাজছে বক্সের গান। দেশাইয়ের গিন্নি আর প্যাটেলের বউয়ের সঙ্গে ডান্ডিয়া নাচছে চৌরাশিয়া। এইবার ঢুকে পড়েছে কেরালার ডি’সুজা। ওই তো দৌড়ে আসছে সুব্রমনিয়মের মেয়ে। এসে পড়ছে চণ্ডীগড়ের বলওন্ত। গোল ছন্দে নেচে চলেছে ওরা। তালে তালে উঠছে লাঠির শব্দ। কেউ চেয়ারে, কেউ দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছে। চিন্টুর সামনে ঘুরে চলেছে আজকের অর্ধেক ভারতবর্ষ।


2061 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20
Avatar: sinfaut

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

বহুদিন পরে গুরুতে কারও লেখা পড়ে এত ভালো লাগছে। খুব খুব ভালো।
Avatar: সিকি

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

পাগলা, পাগলা। আগে বাঢ়ো, কায় ঝালা?
Avatar: byaang

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখাটা খুব খুব ভালো লাগল। শহরটাও আমার বড় প্রিয়।
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

মুম্বই নিয়ে আমিও একদিন লিখব। ভারতবর্ষের সবচেয়ে সভ্য শহর। আমার মতে এমনকি দিল্লিও তার ঝা চকচকে ইন্ফ্রাস্ত্রাকচার নিয়েও মুম্বইয়ের সঙ্গে তুলনায় আসে না। কলকাতা ইত্যাদির কথা না তোলাই ভালো।
Avatar: ranjan roy

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

চমৎকার লেখা!
Avatar: ম

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখাটা দিব্য।এই শহরটাতে যতবার গেছি, ট্রেনে চড়া ছাড়া সব সময় ভালো লেগেছেঃ)
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

বম্বে এল, বম্বে ভেলভেট এলো না ? কোলাবা এলাকা ?
Avatar: শঙ্খ

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

বাঃ
Avatar: san

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

দিব্যি লেখা
Avatar: উদয়ন

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন


pi বাবু / বাবুনি (এখানের তুমুল বিষয়, কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, ভগা জানে)

বম্বে ভেলভেট-এর টুকরো ছোঁয়া বোধহয় ৩ নং প্যারাতে রয়েছে। আর কোলাবা এলাকা, তাজ হোটেল, ভিটি, মন্নত, বা প্রতীক্ষা - এগুলো বম্বে চেনার পক্ষে, আমার মনে হয়, বহুব্যবহৃত ও ক্লিশে। যেমন, কলকাতার পক্ষে পার্ক স্ট্রিট আর হাওড়া স্টেশন। অবশ্য এটা ব্যক্তিগত মত।
Avatar: kumu

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

সুন্দর লেখা।
জুহুবীচও বোধহয় বহুব্যবহৃত ও ক্লিশে হওয়াতে বাদ গেছে।যাগ্গে,বেশ লাগল।
Avatar: উদয়ন

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

হ্যাঁ, একদম ঠিক। জুহু বীচ আমার চোখে যথেষ্ট জঘন্য। বম্বের চৌহদ্দিতে আরও কয়েকটা বীচ আছে, সেগুলো যতদিন নোংরা না হয়, মঙ্গল।
Avatar: kumu

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

সমুদ্র দ্যাখেন ।সমুদ্রতট দেখার দর্কার কী।সমুদ্র দেখার জন্য আমি জল নুপুর বলে এক সিরিয়াল পর্যন্ত দেখেছিলাম।
Avatar: উদয়ন

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

kumu , ফ্রি পরামর্শের জন্যে প্রচুর ধন্যবাদ। লেখা সম্পর্কে কিছু বললে ভাল লাগবে, নইলে এর পর অযথা বকবক বেকার।
Avatar: Basudeb

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখাটা খুব ভালো লাগলো
Avatar: kumu

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখা সম্বন্ধে ১৫ ৪৯ এ বলা হয়েছে।
"অযথা বকবক ও ফ্রী পরামর্শ "শুনে একটু অবাক হলাম।যাক,সাবধান হয়ে গেলাম।
Avatar: Bratin

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

কেন লেখা ভালো না লাগলেও কি বলতে হবে
"আহা কী অসাধারণ লিখেছেন দাদা, একদম ফাটিয়ে দিয়েছেন" ঃ))))
Avatar: sinfaut

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ব্রতীন, লেখক এমন আকাঙ্খা কোথাও প্রকাশ করেননি। একটু পড়ে (পুরো লেখা না শুধু কমেন্ট সেকশন পড়লেও চলবে) কমেন্ট করলে এমন ভিত্তিহীন কথাবার্তা শুনতে হয়না।
Avatar: a x

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেখার গতি, দেখার চোখ, ভালো লাগল।
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

তুই আমাকে চিনিস তো বটেই ঃ)। এখানে ক'দিন লিখলে নিক নিয়ে সমস্যাও আর হবে না। চেনা পরিচয় হয়ে যাবে। তবে নতুন অনেকেরই এই নিয়ে অস্বস্তি হয় দেখেছি।

যাই হোক, না তাজের কথা বলিনি, কোলাবার থেকে কাফ প্যারেডের ঐ ফুটপাথের একদিকময় হরেকরকম্বা পসরার সারি, অন্য পাশে নামি দামি দোকান। অনেকটা হাতিবাগানের মতই হয়তো । আবার নয়ও। ঐ ফুটপাথের দোকানগুলোর একটা আলাদা চরিত্রের জন্য বোধহয়। দোকানগুলোর মধ্যে একটা প্যাটার্ন। ভীষণরকম এথনিক প্যাটার্ন। এবং একটার সাথে অন্যটা কোথাও যেন একটা কোঅর্ডিনেটেড। শান্তিনিকেতনের বাটিক প্রিন্টের পাশের দোকানে কাশ্মীরের রঙীন কৌটো, হয়তো গোরখপুরের পিতলের মোমদানির পাশে আরো কোন নাম না জায়গার কাঠের লম্বা ছাইদানিসহ ধূপ রাখার পাটাতন, ছোট বড় মেজ মাপের গ্রামাফোনের পাশাপাশি অজন্তার পাথরের রংবেরংএর গাছ। জরি চুমকি বসানো কোলাপুরি চপ্পলের পাশাপাশি যত রাজ্যের জাংক গয়নাপত্তর। মূলত শেষেরটার টানেই যেতে শুরু করে নেশায় পড়ে গেছিলাম পুরো চত্বরটারই। জাস্ট এমাথা থেকে ওমাথা ঘুরতে। চাখতে আর গন্ধ নিতে।
বলবেন, হাতিবাগান , গড়িয়াহাটেও অম্নি কত জাংক হার দুল গয়নাপাতির দোকান। কিন্তু সে চত্বর অমন নয়। প্লাস্টিকের মগ, ছাঁকনি, ক্লিপ, অ্যালুমিনিয়ামের খুন্তি, সাঁড়াশি, প্লাস্টিকের টেবিলক্লথ, চিনা খেলনা.. এসবে কোন প্যাটার্ন তৈরি হয়না, নেশা ধরেনা, চটকা ভেঙে যায়। অম্নি স্ট্রেচ আর কোথাও পাইনি।

বম্বে ভেলেভেটে অবশ্য এসব আসেনি। সেখানে ছিল এই ফুটপাথের স্ট্রেচ যেখানে শেষ হল, সেই রিগাল থেকে তার পাশে হাত পা ছড়ানো রাস্তাগুলো। সন্ধে হয়ে গেলে, অনেক রাত হয়ে গেলে মাঝে মাঝে সেখানে যেতাম। হাঁটতে, কিম্বা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে।ওখানকার রাস্তা দিয়ে তখন ক্বচ্চিৎ কদাচিৎ একটা তিন চারটে সোঁ সোঁ করে বেরিয়ে যাওয়া গাড়ি। শেষ দোতলা বাস। লোকজন নেই বললেও চলে। চারদিকে দিনের ব্যস্ত আপিসবাড়ি গুলো একেবারে নিজ্ঝুম , গথিক শৈলীর স্থাপত্যে অম্নি চুপচাপ থাকাই মানায় ভাল, আর, হ্যালোজেন আলো ধুইয়ে দিচ্ছে চওড়া কালো গ্রানাইট পাতা রাস্তা। ঐ পাথরে পা রাখলেই মনে হত, এর নিচে অনেক গল্প চাপা। ওখানে পা রাখলে একটা দুটো শব্দ শোনা যেত, একদিন , দু'দিন , যত বেশি বেশি যাচ্ছিলাম, তত বেশি বেশি করে শব্দ। আর পাওয়া যেত গন্ধ। কিন্তু গল্পগুলো সব শুনতে পাওয়ার আগেই ওখান থেকে ফুড়ুৎ হয়ে গেলাম। হ্যালোজেন আলোয় ছবি তোলার নেশা তৈরি হওয়ারও আগে। কিম্বা হয়তো, পরে যখন নেশা ধরলো, তখন ঐ জায়গাটাকেই খুঁজতাম, অন্য সব শহরে।
তারপর থেকে আর ওখানে যাইনি।
এই সেদিনের আগে।
বম্বে ভেলভেট দেখতে দুম করেই এক দুপুরে একলা চলে গেছিলাম, প্রায় অচেনা শহরের অচেনা এক হলে। কোন কাগজে বম্বের একটা ছবি দেখে। সিনেমা তো না, ছবি দেখতে। হল তো না, কবেকার এক পুরানো বাড়ি। কতবছরের পুরানো কে জানে, ক্ষয়িষ্ণু মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি যখন, তখনি গন্ধটা নাকে এসে লেগেছিল। গন্ধ বেয়ে বেয়েই হলের মধ্যে ঢুকে যাওয়া। ঢুকে দেখি সেই সব শব্দগুলো স্ক্রিনের উপর, জড়ো হয়ে সেই পাথর চাপা গল্পগুলো বলে যাচ্ছে। তবে, আমি তো দেখছিলাম ছবি। বা বলা ভাল তুলছিলাম। প্রায় একলা হলে বসে আমি সিনেমার ছবি তুলে গেলাম। এতদিন বাদে, অবশেষে সেই হ্যালোজেন আলোর রাত্তিরগুলোকে খুঁজে পেলাম। বম্বের সেই রাস্তাগুলোয়। গল্প আর জ্যাজে মাখামাখি , হ্যালোজেন বৃষ্টিতে রং মাখা এই ছবিগুলো।
ক্লিশে ? হয়তো।


http://s8.postimg.org/luehenjgl/bombay_velvet_4.jpg

http://s8.postimg.org/8202j0sp1/bombay_velvet_8.jpg

http://s8.postimg.org/ycv2v8gg5/bombay_velvet9.jpg

http://s8.postimg.org/vhhzodcg5/DSC02796r.jpg

http://s4.postimg.org/ajxxwejyl/bombay_velvet_2.jpg

http://s4.postimg.org/t0scn7zwt/bombay_velvet3.jpg

http://s4.postimg.org/brgh2czgt/bombay_velvet_5.jpg

http://s4.postimg.org/tszm05thp/bombay_velvet_6.jpg

http://s4.postimg.org/4uhpc3dsd/bombay_velvet7.jpg




মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 1 -- 20


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন