উদয়ন ঘোষচৌধুরি RSS feed

মোদ্দা ব্যাপার হল, বাঙালি সব জানে। সব মানে, সঅঅঅব। ব্রহ্মা যা জানে না, বাঙালি তা-ও জানে। মোদী থেকে মারাদোনা – লাইফে কে কি করতে পারল না, বাঙালি জাস্ট একটা বিড়ি খেতে খেতে বলে দেবে। উদয়ন বাঙালি, তাই সে-ও সব জানে। অন্তত সেরকমই মনে করে সে। সিনেমা নিয়ে, বইপত্র নিয়ে, বেড়ানোর গপ্পো নিয়ে, আর আরও হ্যানত্যান ইত্যাদি নিয়ে প্রচুর ভাঁটায়। সেইসব বুকনিবাতেলা এবার আপনার ক্লিকে। প্রকাশিত বই : উদোর পিণ্ডি, সৃষ্টিসুখ, ২০১৪; লিঙ্গ নেই মৃত্যু নেই, উবুদশ, ২০১২

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...
  • দক্ষিণের কড়চা
    (টিপ্পনি : দক্ষিণের কথ্যভাষার অনেক শব্দ রয়েছে। না বুঝতে পারলে বলে দেব।)দক্ষিণের কড়চা▶️এখানে মেঘ ও ভূমি সঙ্গমরত ক্রীড়াময়। এখন ভূমি অনাবৃত মহিষের মতো সহস্রবাসনা, জলধারাস্নানে। সামাদভেড়ির এই ভাগে চিরহরিৎ বৃক্ষরাজি নুনের দিকে চুপিসারে এগিয়ে এসেছে যেন ...
  • জোড়াসাঁকো জংশন ও জেনএক্স রকেটপ্যাড-১৪
    তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায়...আসলে যে কোনও শিল্প উপভোগ করতে পারার একটা বিজ্ঞান আছে। কারণ যাবতীয় পারফর্মিং আর্টের প্রাসাদ পদার্থবিদ্যার সশক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। পদার্থবিদ্যার শর্তগুলি পূরণ হলেই তবে মনন ও অনুভূতির পর্যায় শুরু হয়। যেমন কণ্ঠ বা যন্ত্র ...
  • উপনিবেশের পাঁচালি
    সাহেবের কাঁধে আছে পৃথিবীর দায়ভিন্নগ্রহ থেকে তাই আসেন ধরায়ঐশী শক্তি, অবতার, আয়ুধাদি সহসকলে দখলে নেয় দুরাচারী গ্রহমর্ত্যলোকে মানুষ যে স্বভাবে পীড়িতমূঢ়মতি, ধীরগতি, জীবিত না মৃতঠাহরই হবে না, তার কীসে উপশমসাহেবের দুইগালে দয়ার পশমঘোষণা দিলেন ওই অবোধের ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

উদয়ন ঘোষচৌধুরি


শিবাংগী বলেছিল, এ শহরে ডিসেম্বরেও ফ্যান চালাতে হয়। হাঁ করেছিল চিন্টু। হাঁ-করা তার পুরনো অভ্যেস। হাভাতে এক শহরতলীর হাঘরে, উঠে এসেছে ধ্যাবড়া এক চাকরি নিয়ে। চাকরিটা তার ‘ধ্যাবড়া’ মনে হয়, প্রায়ই যখন আগাগোড়া বাংলা মিডিয়মকে অনুবাদ আর উচ্চারণ গার্গল করে টিম কনফারেন্সে স্লাইড-শো’র আঁচে ট্যাঁস ভাষায় ডেমো দিতে হয়। এই ‘ট্যাঁস’-টাও এত হুহু বদলে চলেছে, সেটাও সে সাঁতরে ধরার চেষ্টা করে। প্রাথমিক মোলাকাতে লোকজন এমন ভাব দ্যাখায়, যেন ‘হাই বাডি’ বলে ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। সঙ্গে ‘হট’, ‘খিউল’ (ইয়ে, কুল), ‘ওয়াও’-এর গুঁতো। ভারতবর্ষ লড়ে যাচ্ছে এখানে পৌঁছতে; আর এরা লড়ছে ইউকে, স্টেটস, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া পৌঁছতে। প্রতি দ্বিতীয় নাগরিক মানত রেখেছে, ‘শিকে ছিঁড়ে ভিসা পেড়ে দাও, মা!’ স্বপ্নাদেশ আসলেই, বিয়ার টেনে শিরডি কিম্বা জুতো ব্যাকপ্যাকে গুঁজে সিদ্ধিবিনায়ক। ভূগোল আর হিন্দি সিনেমা থেকে চিন্টু জেনেছিল, বম্বে, থুড়ি, মুম্বাই (বালাবাবুর চ্যালারা চ্যালাকাঠ বানাতে পারে) সমুদ্রতীরের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল। হররোজ উপচে ওঠা মানুষ আর গাড়ির ভিড় ওই ধারণাটাকে উষ্ণতার নাতি বানিয়ে ছেড়েছে। পিক আওয়ারের লোকাল ট্রেনে পাবলিক একটা নাটবল্টু পেলেও নিজেকে টাঙিয়ে দ্যায়। কোনও কোনও রাউডি রাঠোড় যদিবা ভেতরবাগে সেঁধোয়, ভিড়ের ঠ্যালায় বাকি পথটা ফিল্মফেয়ারের ত্রিভঙ্গ স্ট্যাচু। এক-একটা হ্যান্ডেলে সতেরোটা হাত। কানের লতিতে ঘাম গড়ালে বা কুঁচকিতে ফুসকুড়ি উশখুশোলে চোখ বুজে স্রেফ ইষ্টদেবতা স্মরণ। নাস্তিকরা অবশ্য সেটাকে গার্লফ্রেন্ডের স্মার্ট খুনসুটি ভেবে নেয়।


চিন্টুর টিমে একঝাঁক ছটফটে মেয়ে। শিবাংগী, শালিনী, পুনম, ডোরিন, ময়ূরী। উইকএন্ডে তারা প্ল্যান বানায় পিকনিকের। সিবিচের পাশে এক ওয়াটার পার্ক। শহরে নতুন এবং সঙ্গীহীন চিন্টুকেও ডেকে নেয় ওরা। তরঙ্গ-উচ্ছলিত এতগুলো যুবতী জলকেলিতে একযোগে – রোমাঞ্চ-হিল্লোলে সে তো প্রায় হাফ-সেদ্ধ! অফিস-ক্যাবের গোলমাল থাকায় একাকী পুনমকে একবার রাত সাড়ে-বারোটায় পৌঁছে দিতে যায় ওর ফ্ল্যাটে। পুনমের মা ভিনদেশি ছেলেটিকে আপন আত্মীয়ের মতো মেনে নেন। এখানের মানুষের এটাই ধর্ম। এই শহর এভাবেই সকলকে নিজের করে নেয়। কলোনিয়াল প্রথামাফিক বসকে ‘স্যার’ বলতে হয় না। তারা নিজেরাই বলে দেন সরাসরি নাম ধরে ডাকতে। কোম্পানির আরএনডি ম্যানেজার, কাজ শেষে একদিন, রাত আড়াইটেয় চিন্টুকে নিয়ে যান এলাকা চেনাতে। উদ্ধত আলো আর উদ্দাম বাজনাওলা একটা বাড়ির সামনে সে আবার হাঁ। যশ চোপড়ার পোস্টারেও এত এত সুন্দরী একসঙ্গে দ্যাখেনি লাইফে! ম্যানেজার ফিসফিসোয়, “অপ্সরা নয়, ওরা বার ড্যান্সার!” হিন্দি ফিল্মে যদিও আজও খলবলাচ্ছে ‘আও রাজা’ বা ‘ফ্যাবিকল’ জাতীয় সিকোয়েন্স – আসলি মুম্বাইতে ওরা বহুদিনই হাপিশ। নানা অন্ধকার ধান্দায় ছড়িয়ে পড়েছে নিউ মুম্বাই আর থানে সংলগ্ন এরিয়ায়। মূল শহরে রমরমিয়ে পাঁচতারা যৌনব্যবসা, বিজনেস ট্যুরে কনভেন্ট এডুকেটেড এসকর্ট অথবা টোয়েন্টি-ফোর বাই সেভেন চাইলেই আপনার রুমে ম্যাসাজ হেভেন। আসলে এসব ‘ক্লিনমুম্বাই’ শুচিবাইয়ের সাইড এফেক্ট। যেমন, ফৈজাবাদের তেওয়ারি। ফোর্টের ফুটপাথে চা বেচত। রাতারাতি তাড়া খেয়ে, বউ-বাচ্চাকে গাঁওয়ে ছেড়ে, এখন মালাডে জুতো পালিশ করে। রাত্রে একটা দোকানের হাতায় শোয়। দোকানদার দয়া করে বারান্দার কোণাটুকু ছেড়েছে। চিন্টু দেখেছে, এ শহরে চা-দোকানের থেকে শুঁড়িখানা অনেক বেশি। এমনকি চোলাই খাওয়ারও যে সুসজ্জিত বার হতে পারে, তা-ও সে এখানেই জেনেছে। আরও অদ্ভুত, প্রায় প্রতিটি বারের নামকরণে হিন্দুয়ানি আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। দেবীকৃপা বিয়ার পাব। সাঁইসন্ত লেডিজ বার। হরিপ্রসাদ পারমিট রুম।


‘ক্লিনমুম্বাই’-এর থিওরি মেনে বেশির ভাগ নতুন কোম্পানি বাড়তে থাকা মুম্বাইতে। গালভরা প্রি-লেজুড় ‘সাবার্ব’ কিম্বা ‘গ্রেটার’। পাওয়াইতে হিরানন্দানি। গোরেগাঁওতে রাহেজা। আইরোলিতে মাইন্ডস্পেস। বছর দশেক আগেও পাত্তা না-পাওয়া জায়গারা পাহাড়-জঙ্গল মুড়িয়ে বিশ-বাইশতলা ঘাড়ে উঠে গেছে জাতে। কোনও কোনও ম্যানগ্রোভ এরিয়ায় প্লাস্টিকের ডাঁই ঢেলে ঢেলে হয়ে চলেছে রেসিডেন্সিয়াল অ্যাপার্টমেন্টের হুড়ুদ্দুম কাজ। ফুট পঞ্চাশেক নিচেই হয়ত পাওয়া যাবে চোরাগোপ্তা খাঁড়ি। কিছু ভূবিজ্ঞানীর ধারণা, বহু বহু বছর আগে এখানে ছিল সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, যা এখন সমুদ্রের নীচে। অশোকের পরবর্তী বৌদ্ধরা বেছেছিল এখানের নির্জন চরাচর। কানহেরি আর মহাকালির গুহাগুলো এখনও চিন্টুকে পৌঁছে দ্যায় সেই আদিগন্ত অপার চিরকালীন ভারতবর্ষে। শ’দেড়-দুই বছর আগেও তো জায়গাটা টুকরো টুকরো সাতটা দ্বীপ ছিল। স্থানীয়রা পেশায় ছিল মেছুড়ে। ক্রমে বন্দর এল। পর্তুগিজ আর ইংরেজ এল। শুরু হল ব্রিজ বেঁধে বেঁধে জুড়ে দেওয়া। পাহাড়ের পেট ফাটিয়ে ট্রেনপথ। দেশভাগের আগে-পরে এল কিছু লড়াকু উদ্বাস্তু, পরে তাদের কেউ কেউ হয়ে উঠল সেলিব্রিটি। আশির দশক থেকে পুরনো চালি আর খোলি, যা ছিল প্রধানত মিল-শ্রমিকদের আবাস, সস্তা দরে কিনে চারিপাশে ছড়িয়ে দেওয়া হল বিল্ডিং। টাওয়ার। দাদারকেও এক সময় ‘সাবার্ব’ বলা হত। সেটা ছাড়িয়ে হল বান্দ্রা। জুহুতে বসতি বেড়ে বেড়ে ছুঁয়ে দিল আন্ধেরি। এক সময় বোরিভেলিও আর ব্রাত্য রইল না। এখন তো ওয়েস্টার্ন লাইনে এগোতে এগোতে মিরা রোড-ভাইন্দর পেরিয়ে ভিরার অব্দি প্রায়-মুম্বাই। আর সেন্ট্রাল লাইন কল্যান ছাড়িয়ে হাত রেখেছে কারজাত-কাসারার দিকে। হার্বার লাইনে কয়েক বছর আগের ভাসি-পানভেলকেও চেনা দায়। খারগারে এসে গেছে নতুন এয়ারপোর্ট। চিন্টু চোখ বুজলে দেখতে পায়, দিন-কে-দিন জায়গাটা যেন লম্বাটে লেড়ো বিস্কুট, যার দক্ষিণ আর পশ্চিম অনবরত ডুব মারছে আরবীয় চায়ের গ্লাসে। আচ্ছা, ভিজতে ভিজতে বিস্কুটটা যদি আধখানা ভেঙে যায় গ্লাসের ভেতর? বা, ভগবান নামের বাচ্চাটা একদিন টুক করে এক টুকরো চাখে? চিন্টু চমকে উঠে চোখ খুলে ফ্যালে। সামনে নতুন বিল্ডিঙের জন্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। ট্রাক-বোঝাই পাথর চলেছে মাল্টিন্যাশনাল সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে। দগদগে পাহাড়ের ঘা চুঁইয়ে নামছে পাথুরে জল। গুম গুম শব্দে বিশাল একটা চাঁই খুলে পড়ে পাশের টাওয়ারের পার্কিং-এ। দুটো গাড়ি তুবড়ে যায় পলকে। সিকিউরিটি হাত নাড়ে, “সব ঠিক হ্যায়, সাব।” দড়ি-ঘেরা ব্যারিকেডে উঁকি মেরে, পরে চিন্টু দেখেছে, শুকনো লাল ছোপ। রক্তের দাগ কি না, কেউ কারুর কাছে জানতে চায়নি।


এ শহরের বেশ কয়েকটা মিডিয়াখ্যাত দুর্যোগ সে দেখেছে। ২০০৫-এর ২৬শে জুলাই। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি গোটা মুম্বাইকে ধস্তে দিয়েছিল। লাইট, খাবার, ফোনের নেটওয়ার্ক – কিছুই নেই। প্রোডাকশন ফ্লোরে অফিসের ভিপি থেকে হাউসকিপার – ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ঠায় জেগে, সারা রাত বসে। জল ফুরিয়ে যাওয়াতে উনিশতলার টয়লেট দুর্গন্ধে মাৎ। জানলা দিয়ে বোতল বাড়িয়ে বৃষ্টি ধরে খেতে হচ্ছিল। রাস্তায় আটকে যাওয়া গাড়ির ভেতরেই মারা গেছিল অনেকে। হাইওয়ের ধারে জোগেশ্বরির খাটালে বেঁধে রাখা মোষেরা মারা গেছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। পরবর্তী দিন পনেরো হাইওয়ের দু পাশে মৃতদেহের পচা বদবু এলোমেলো হাওয়ায় জানান দিত। ২০০৬-এর ১১ই জুলাই। সিরিয়াল ট্রেন ব্লাস্ট। সন্ধে থেকে বন্ধ এ শহরের লাইফলাইন। সারা রাত। সাধারণ নাগরিকেরা পথের দু ধারে নেমে এসে কাজফিরতি মানুষদের নাগাড়ে বিলোচ্ছিল চা-জল-খাবার। পরের সকালে আবার সবকিছু নর্মাল। মানুষ আবার যে যার কাজে স্বাভাবিক। ২০০৮-এর ২৬শে নভেম্বর। কাসাভ-কাহানি। সিএসটি স্টেশন চত্বরে লাগাতার ফায়ারিং। সাম্রাজ্যবাদী রাজনীতি, প্রকৃতি, আর হালের টেররইজম – অনেকেই ব্লেড মেরেছে মুম্বাইয়ের গোড়ালিতে। ঘেঁটি টিপে চুবিয়েছে জলে। তবু সে ঘাড় নোয়ায়নি। কোনও কিছুই ভাঙতে পারেনি এখানের ‘চরৈবেতি’ প্রাণ। চিন্টু বুঝেছে, চলতে থাকাই এ শহরের মন্ত্র। এ শহরের দর্শন।


এমনকি ভিখিরিদেরও শিফট বদলায় এখানে। যে স্কাইওয়াকের নীচে সকালে কোলে-বাচ্চা মহিলা, সন্ধেয় সেখানে হাত-বাঁকা অন্য কেউ। আমেদাবাদের কীর্তি বুঝিয়েছিল, অফিসমুখো ম্যাডামজিদের মায়া টানতে মা-শিশুর কৌশল, আর সুজ্যি ডুবলে রঙিন-ফুর্তির বাবুদের করুণার ময়দান খিঁচতে বিকলাঙ্গ। এ শহর বোঝে, ঠিকঠাক কায়দা জানলে ভিক্ষেটাও কি করে ব্যবসা হয়ে যায়। হোয়াইট গোল্ডের ব্যবসা ছিল জিগনেশদের। ঝাড় খেয়ে বেচে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডিভান তুলে মাতাল জিগনেশ একদিন দেখিয়েছিল কাঁচা টাকার বান্ডিল, থরে থরে সাজানো। ওরা এখন ক্রিকেট বেটিং-এ টাকা লাগায়। এখানের কলেজে-পড়া ছেলেমেয়েরাও আওড়ায় সেনসেক্স আর নিফটির ঘোরপ্যাঁচ। বাড়ির নির্ভরতা এড়িয়ে ওরা চায় নিজে কিছু করতে। পঙ্গু বাবাকে অবসর দিয়ে উনিশ বছরের দিশা চাকরি করে, করেসপনডেন্সে এমসিএ। নিজের বিয়ের খরচ সে নিজেই জমায়। অথবা একুশ বছরের রাকেশ। চাকরি নয়, সে স্বপ্ন দ্যাখে, একদিন হবে এক শেয়ার ব্রোকিং হাউসের মালিক। চিন্টু হাঁ করে দ্যাখে, মানুষ দিব্যি এখানে তরকারি কেনার প্লাস্টিকে লাখ লাখ টাকা মুড়ে হাতে ঝুলিয়ে ঘোরে। হয়ত ও পাশের লোকটার পকেটেই রয়েছে কোটি টাকার টুকরো হিরে। যে কোনও ফ্ল্যাটের ডিলে কত যে ব্ল্যাকমানি লেনদেন হয়, তার ইয়ত্তা নেই। তবু এই যে ধিংকাচিকা ধোয়ামোছা শহর, এই যে নিয়ত আদেখলা ‘মার্চ-অন’ ভিড়, এই যে জনগণবৈভবনায়কজয়হে – এসবের আড়াল-কাহিনি? হ্যাঁ, চিন্টু জানে, ওই সামনের গলিমুখে যে লোকটা রক্ত মেখে মুর্গি কাটে মেশিনের মতো, ও আসলে বাঙালি। চিন্টুর মতো শহুরের সামনে নিজের ভাষা বলতে লজ্জা পায়। ছোট ছোট রেস্টুরেন্টগুলোতে সতেরো-আঠেরোর যে ছেলেগুলো নুডলস আর পাউভাজি সার্ভ করে – ওদের কারও বাড়ি মেদিনীপুরে, কেউ হয়ত মুর্শিদাবাদের। মাল্টিস্টোরিডের গায়ে ঝুলে ঝুলে প্লাস্টার মারে যে চেকপ্যান্ট – ওর বাড়ি খুলনা। এ শহরে, এ দেশে ওর কোনও পরিচয় নেই। পা পিছলে পড়ে মাথা ফেটে মরলেও কনট্রাকটরের কোনও দায় নেই হিসেব দেওয়ার। ওর রোগা বউটা গজিয়ে-ওঠা ফ্ল্যাটগুলোতে বাসন মাজে। ফাঁক পেলে খয়েরি দাঁত দেখিয়ে হাসে সিকিউরিটি গার্ড, শুতে চায়। বউটা ফ্যালফেলিয়ে যায়।


আটতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চিন্টু এসব দ্যাখে। দূরে, অনেক দূরে, দ্যাখে, শচীনকত্তা হাত নেড়ে গান তোলাচ্ছে কিশোরকে। পাগলাটে কিশোর সিল্কের লুঙ্গিতে শিশু হয়ে আছে। ওদিকে রাহুল পেয়েছে এক নতুন ধুন, হারমোনিয়মে ক্রমাগত প্যাঁ দিচ্ছে সে। পাশের জানলায় দেবানন্দ বিশাল আয়নায় মুখস্থ করছে ‘গাইড’-এর ডায়লগ। আর রাজেশ ঘাড় বাঁকিয়ে বলে চলেছে, “বাবুমোশাই, জিনা হ্যায় তো বম্বেমে, মরনা হ্যায় তো বম্বেমে।” আচ্ছা, ওদের মাথার পেছনে ওই যেটা জ্বলছে, ওটা কি ফ্লাডলাইট? না, চাঁদরাত এটা? এখান থেকে চাঁদ বোঝা যায় না, জানলায় ধাক্কা খায় উলটোদিকের বিল্ডিং। কমপ্লেক্সের ছাদে হুটহাট উঠে পড়া বারণ। চাঁদ দ্যাখার জন্যে নীচে নামে চিন্টু। নবরাত্রি চলছে। সোসাইটির একফালি উঠোনে ধাঁই ধাঁই বাজছে বক্সের গান। দেশাইয়ের গিন্নি আর প্যাটেলের বউয়ের সঙ্গে ডান্ডিয়া নাচছে চৌরাশিয়া। এইবার ঢুকে পড়েছে কেরালার ডি’সুজা। ওই তো দৌড়ে আসছে সুব্রমনিয়মের মেয়ে। এসে পড়ছে চণ্ডীগড়ের বলওন্ত। গোল ছন্দে নেচে চলেছে ওরা। তালে তালে উঠছে লাঠির শব্দ। কেউ চেয়ারে, কেউ দাঁড়িয়ে তালি দিচ্ছে। চিন্টুর সামনে ঘুরে চলেছে আজকের অর্ধেক ভারতবর্ষ।


1978 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 87 -- 106
Avatar: কল্লোল

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ই কি রে ভাই। ফাস্ট লাইফের জন্যে লুরু ভালো লাগে না শিবিরের!!
লুরুতে ফস্টো লাইফ কোদ্দিয়ে পেলি ভাইটি? এখানে তো লোকে বাসে/অটোতে উঠেই ঘুমায়, অ্যাত্তো ট্রাফিক জাম।
তবে লুরুর শিল্প-সংষ্কৃতি নিয়ে কথা হবে না। অসম্ভব ভালো নাটক হয় (হিন্দি-ইংরাজি-কানাড়ায়)। রঙ্গশংকরার মতো নাটকের অডিটোরিয়াম সারা ভারতে কম আছে। অসাধারণ অ্যাম্বিয়েন্স। সুচিত্রা ফিল্ম সোসাইটি, টিউসডে ফিল্ম, সেন্টার ফর ফিল্ম অ্যান্ড ড্রামা প্রচুর কাজ করে। প্রায় গোটা পাঁচেক স্ট্রিট থিয়েটার গ্রুপ রেগুলার পারফর্ম করে। প্রায়ই বম্বে থেকে খুব ভলো নাটক আসে। কোম্পানী থিয়েটার, মটলি, আরও কিছু দল (নাম মনে নেই) নিয়মিত আসে। এখন এই মুহুর্তে লুরুতে ৮/৫টি বাংলা নাটকের দল। অসাধারণ একটা আন্তর্জাতিক নাটকের উৎসব হয়।
আর খাবার। লুরুতে এখন প্রচুর খাবার অপশন। চিনা, ভিয়েৎনামি থেকে বাঙ্গালী, লেবাননী থেকে কন্টিনেন্টাল, হায়দ্রাবাদী থেকে আরবী, গুজরাটি থেকে নাগা ও আওয়ধী, বিহারী, ওড়িয়া, এবং অবশ্যই অন্ধ্র, মালায়ালী, কানাড়ি ও তামিল। তার সাথে কুর্গী ও চেট্টিনাড।
এরপর আছে (এখন চলছে) মস্ক স্ট্রিটে ইফতারের খাবার মেলা। এটি এন্টালীর রথের মেলার খাব্বুশ সংষ্করণ। আহা, হাদ্রাবাদী হালিম, পাত্থর কা গোস্ত, রোটি পে বোটি। সন্ধ্যের ঝোঁকে আসুন মস্ক স্ট্রিট এবং গরগরা শুদম হয়ে যান।
Avatar: কল্লোল

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

এহে - এখন এই মুহুর্তে লুরুতে ৪/৫টি বাংলা নাটকের দল।

Avatar: কল্লোল

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

এসব পোস্ট মুম্বাইকে কোনরকম অছেদ্দা না করে।
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ইচ্ছে করেই কিছু লিখছি না এখানে - কি লিখবো - এতোগুলো বছর মুম্বইতে থাকি - আমি তো সেই দক্ষিণাপণ আর গড়িয়াহাট থেকেই বাজার করি, শাড়ী, কুর্তা ইঃ। জুতো কিনি ধর্মতলার উডল্যান্ডসে। এ সব জিনিস বম্বেতে কিনে আমার সুখ হয় না। কিনতে জানলে কলকাতার মতো ভ্যালু ফর মানি কোথাও মেলে না। অবিশ্যি আমি ছাপোষা পাবলিক - ব্র্যান্ডেড আইটেম ইঃ তে ততো মোহ নাই। (ব্র্যান্ডগরিমা নাই ঃ))

বম্বেতে এমনিই ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে - গাড়ী নিয়ে, ছুটিদ্দিনে, এলোপাথারি , আবোলতাবোল -

ট্যাক্সি আর অটো দিব্বি রিফিউজ করে - কলকাতার চেয়ে কিছু কম যান্না এনারা - তবে হ্যাঁ, মিটারে যায়।
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

লেঃ পঃ।
Avatar: shibir

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ফাস্ট লাইফ এর জন্য মুম্বাই ভালো লাগেনা বলেছিলাম । লুরু অন্য কারণে ভালো লাগেনা । যদিও ইন্দুর দৌড়ে লুরু কিছু কম যায়না।
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

দেদি, আপনার শাড়ী, কুর্তি, আর উডল্যান্ডসের জুতোর দাম কিন্তু আমার জিন্সের থেকেও বেশি। এইবারে কন কে গরীমা দেখায়।
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

না রে ভাই - একশো, দেড়শোর দক্ষিণাপণের কুর্তি দিব্বি অনেকদিন চলে - জিনস-কুর্তি দিয়েই তো চালিয়ে গেলাম - এখানকার লোকে প্রিন্ট দেখে কোথা থেকে কিনলাম প্রত্যেকবার জিগাবেই।

শাড়ী একটু দামী হলেও আমার অতো গায়ে লাগে না। কিন্তু ব্রান্ডেড জামাকাপড় বড়ো অকারণে দামী মনে হয়।

উডল্যান্ডস এক্কেবারে ঠিকঠাক - ওই জুতো ছাড়া বম্বের বর্ষায় চলেনা। নোংরা জলে পা ভিজে গেলে আমার বাজে লাগে। আর বম্বের টু ফোল্ড বা থ্রী ফোল্ড ছাতারও কোয়ালিটি অতি জঘন্য। হাওয়ায় খুললেই পদ্মফুল। সেই ছাতাও আমাকে গড়িয়াহাটের কে সি পাল থেকে নিয়ে আসতে হয়। এই ছাতা বিক্কিরি করেই কেসিপাল বম্বেতে বড়লোক হতে পারতেন।

ও হ্যাঁ - এই জুতো আর ছাতা দুটোই তিন বছরের আগে নষ্ট হয় না। আমি বম্বের উডল্যান্ডসে একই জুতো কিনে এক বছরের বেশী চালাতে পারিনি।
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

তাইলে আমাদের এক্সপি আলাদা। আমিও বলবো " কিনতে জানলে মুম্বাইয়ের মতো ভ্যালু ফর মানি কোথাও মেলে না। "
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

বলো - কিন্তু সেই সঙ্গে লিস্টিটাও করে দিও - কোত্থেকে কিনবো ঃ)
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

আমি আন্ধেরি ওয়েস্টের ইনফিনিটি মল থেকে কিনতাম। খুব ভালো জিনিস পেতাম, আর খুব ভালো সার্ভিস। এছাড়া ঐখানে আরো আশে পাশে কিছু মল আছে যেগুলো বেশ ভালো। এখন নাম মনে পড়ছে না।

আর হাই স্ট্রিট ফিনিক্স থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে একটা টিশার্ট কিনেছিলাম। একটা জায়্গায় আমি নিজেই খোঁচা লাগিয়েছি। কিন্তু কাপড় আর রঙ্গ এখনো একইরকম আছে, তা প্রায় বছর আস্টেক হোলো।
Avatar: নির

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ইয়ে , কিনতে না জানলেও মুম্বাইয়ে বেশ ভালই ভ্যালু ফর মানি পাওয়া যায়। ওই জন্য আমাদের মত অগা পাবলিকের বেশ সুবিধা । টাকা একটু খরচ করলে ঠকতে হয় না।
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ওয়েস্টার্ন সেক্টরটা অবশ্য ভালোই - তবে বড্ড পার্কিং প্রবলেম -

ব্রান্ডেড কিনলে তো যেকোন জায়গাতেই ভ্যালু ফর মানি পাওয়া উচিত (মানে যারা ব্রান্ডেড কেনেন তাদের অর্থে ভ্যালু, আমার অর্থে নয়)- তার আবার কলকাতা, বম্বে কি ?

বম্বেতে বইয়ের দোকানও বড় কম - কয়েকখান ক্রসওয়ার্ড্স, ল্যান্ডমার্ক আর সেই স্ট্র্যান্ড - ওতে মন ভরে না। বইমেলাও তেমন ভালো হয় না!
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

চেম্বুর থেকে হাই স্ট্রীট ফিনিক্স পৌঁছতেই লাগে একঘন্টা সময় - তারপর সেই বিখ্যাত ইউ টার্নে দাঁড়াতে হয় আরো মিনিট চল্লিশেক - একটু পার্কিংয়ের জায়গা পেতে। অতো কান্ড করে কিনতে যাওয়া যায়?
Avatar: S

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

এইতো গাড়ি গরিমা!!! আমি ভাই পয়দল চলা পাবলিক। উইকেন্ডে ফাস্ট ট্রেনে উঠলে বেশিক্ষন টাইম লাগতো না। ফাঁকাও থাকতো। চেম্বুরের সাথে তো কোলকাতার তুলনা করিনি, করেছি মুম্বাইয়ের সাথে ঃ)

আর ব্রান্ডেডেরও তো বিভিন্ন মান আছে, তাই সেটাও ডিফারেন্ট হয় বিভিন্ন শহরে। আগে এই নিয়ে লিখেছি।

বম্বেতে বই? কেউ পড়ে? সরি, মানে কজন পড়েন।
Avatar: de

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

ইকিরে - আমাগো চেম্বুরকে মুম্বইয়ের বাইরে বানিয়ে দিলো! ঃ)
বম্বের লোক্যাল ট্রেন? - আমি উঠিনা - কবে ছবি হয়ে যাবো!
যা ভিড় থাকে - উইকেন্ডেও লোকে ঝুলে ঝুলে যায়!
আমার ট্রেন গরিমা আর পয়দল গরিমা নাই!

বই অনেকেই পড়ে - তবে সবই ওই অনলাইন শপিং - আমাদের আপিসের বাসে মহিলাদের সবার হাতেই বই দেখতে পাই। ভালো বইয়ের দোকান কিন্তু চলে না বম্বেতে - কয়েক মাস বাদেই উঠে গিয়ে সেখানে কাপড়ের দোকান হয়ে যায়। এটা একটু অদ্ভূত!

Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

চার্চগেটে ফুটপাথ ধামসানো ঐ অত্ত অত্ত বই কারা পড়ে? নাকি সেসব আর নেই ?
দেদি, স্ট্র্যাণ্ড বুক স্টলের বইমেলায় যাও? যদিও ছোটো, কিন্তু বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং বইপত্তর আনতেন ভদ্রলোক।

এদিকে ব্র্যাণ্ড গরিমা নিয়ে বলতে গিয়েও দোনোমোনো করছি। ব্র্যাণ্ড গরিমা নাই বলতে গিয়ে একবার যা সব শুনতে হয়েছিল এখানে। এসব নাকি আসলেতে নিজের ইমেজ প্রোজেক্ট করার গরিমা :P
Avatar: h

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

আমার ধারণা আমরা মারাঠি আর হিন্দী ভাষার বইয়ের খবর রাখি না, ন্যাশনালিস্ট বা দলিত লিটেরেচার জানি না। তাই বুঝি না লোকে পড়ে কিনা। আমার বম্বের অনেক লোককেই অসম্ভব ওয়েল রেড মনে হয়েছে। হ্যাঁ এখন একটা লোককে রাস্তায় ডেকে, দাদা আপনি ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকা নিয়মিত পড়েন কিনা জিগ্যেস করা মুশকিল। কল্যাণ আর পুনে তো ছেরেই দাও, ভালো অ্যাডভান্সড প্রিন্ট কালচার।
Avatar: pi

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

Chief minister Devendra Fadnavis on Thursday said the state is positive about implementing a liquor ban across Maharashtra. However, the final decision will be taken after taking stock of three districts — Gadchiroli, Chandrapur and Wardha — where a ban is already in place.

গোকুলকা ক্যয়া হোগা রে কালিয়া ? ঃ(
Avatar: Du

Re: চিন্টুর মুম্বাইদর্শন

দে, ট্রেনে চড়তে পারো বোধয়। লোকে যত ভয় দেখায় তত কিছু নয়। ভীড় আছে কিন্তু লোকে সরু হয়ে গিয়ে বসতেও দেয়।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2] [3] [4] [5] [6]   এই পাতায় আছে 87 -- 106


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন