Abhijit Majumder RSS feed
Abhijit Majumder খেরোর খাতা

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

Abhijit Majumder

রাককথন
আগের সপ্তাহের কিস্তিটা লেখার সময় ভেবেছিলাম এই সপ্তাহে সমপ্রেম ও অপরাধ নিয়ে লিখব। কিন্তু বিভিন্ন লোকজনের সাথে আদানপ্রদান করে মনে হল, তার আগে জেন্ডার ও সেক্সুয়ালিটি সংক্রান্ত কিছু বেসিক ডেফিনিশন আলোচনা করে নেওয়া দরকার।
কেউ জানতে চেয়েছেন ক্যুইর মানে কি, কেউ হোমোসেক্সুয়ালের সংজ্ঞা চেয়েছেন, কেউ বা জানতে চেয়েছেন সমাজের চাপে সেক্সুয়ালিটি বদলে যেতে পারে কি না। আমি আমার জানামত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ নই, তাই কেউ যদি কোনও ভুল ধরে দেন, তাতে যারা এই লেখাটা পড়বেন তাঁদের সবার উপকার হবে।

জেন্ডার-সেক্স-সেক্সুয়ালিটি
সাধারন ভাবে আমরা মনে করে থাকি, জেন্ডার ও সেক্স-কে এক ও অভিন্ন। বাংলাতেও এই দুটকে বোঝাতে একটা শব্দই ব্যবহৃত হয়, সেটা হল লিঙ্গ। কিন্তু সেক্স (অথবা বায়োলজিকাল সেক্স) হল শারীরিক লক্ষন নির্ভর, যার কিছু কিছু জন্মের সময় থেকে নির্দ্দিষ্ট, বাকিটা পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত। জন্মের সময় থেকে নির্দিষ্ট লক্ষন হল মূলত যৌনাঙ্গ, যার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সেক্স নির্ধারিত করা হয়ে থাকে এবং সেই পরিচয়েই আমরা সারাজীবন পরিচিত হই। যৌনাঙ্গভিত্তিক লিঙ্গপরিচয় মূলত বাইনারি, তবে এখন আমরা নারী-পুরুষের বাইরেও ভাবতে শিখছি। তবে মনে রাখা দরকার, এই বাইনারি সিস্টেমের বাইরে যে অংশটা রয়েছে, সেটাও কিন্তু মোনোক্রোমাটিক নয়। তৃতীয় লিঙ্গ বলে একধারসে দাগিয়ে দিলে আইন বা আলোচনার হয়ত সুবিধে হয় কিন্তু তাতে মানুষগুলোর আত্মপরিচয় ধরা পড়ে না। যেমন ধরুন, খুব সাধারন কিছু শারীরিক অথবা শারীরবৃত্তিয় চিনহর ওপর ভিত্তি করেই মধ্যলিঙ্গকে বহু ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন ক্রোমোজোম, হর্মোন, শারীরিক গঠন ইত্যাদি। সেই সব ভাগ আবার অনেক সময় একে অন্যের সাথে ওভারল্যাপ করে যায়। তাই সেক্স-জেন্ডার-সেক্সুয়ালিটির আলোচনায় একটা কথা মনে রাখা খুব জরুরি যে এটা একটা স্পেক্ট্রাম, যেখানে সংজ্ঞাভিত্তিক নির্দিষ্ট সীমানা টানা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। এই আলোচনায় মন খোলা রাখাটা খুবই দরকার কেননা আমাদের এখানে আমাদের জানার বাইরে একটা খুব বড় পরিসর পড়ে রয়েছে, যেটা ব্যক্তিভিত্তিক, যেটা প্রত্যেক ব্যক্তিমানুষের জন্য আলাদা, তাই ক্লাসিফিকেশান করাটা একটু সমস্যাসঙ্কুল।

জেন্ডার কিন্তু এই সেক্সের থেকে আলদা। জেন্ডার হল মূলত সামাজিক নির্মান। জেন্ডার হল কিছু সমাজস্বীকৃত ব্যবহারের সমষ্টিগত রূপ। জেন্ডারের সংজ্ঞায় মানসিক অনূভুতির একটা বড় জায়গা রয়েছে। আমি নিজেকে আয়নায় কি ভাবে দেখছি তার সাথে আমার জেন্ডার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। জেন্ডার সেক্সের মত শুধুমাত্র শারীরিক গঠনগত নয়। যেহেতু জেন্ডার একটি সামাজিক নির্মান, তাই আমরা জেন্ডার ইক্যুয়ালিটির কথা বলি, সেক্স ইক্যুয়ালিটির কথা বলি না। আমরা প্রশ্ন তুলি কেন সমাজ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা আচরনবিধি নির্দিষ্ট করে দেবে। খুব গোদাভাবে বলতে গেলে, সেক্স থাকে দু পায়ের মাঝখানে, জেন্ডার থাকে মাথার ভেতর।

বেশির ভাগ লোকজনের ক্ষেত্রে তাতে কোনও অসুবিধে হয় না কেন না তাদের ক্ষেত্রে এই বায়োলজিকাল সেক্স এবং জেন্ডার, এই দুটি ব্যাপার পরস্পরবিরোধী নয়। তাই শারীরিকভাবে একজন পুরুষের সমাজস্বীকৃত পুরুষভুমিকায় চালিয়ে যেতে অসুবিধে হয় না। সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন সেক্স ও জেন্ডারের মধ্যে সংঘাত বাধে। আয়নায় যে শরীরটাকে দেখতে পাওয়া যায়, মাথার ভেতর কেউ চিৎকার করে সেই শরীরটাকে অস্বীকার করতে থাকে। এই জায়গায় এসে আবারও মনে রাখতে হবে যে এই পুরো আলোচনাটার নিবিড়ভাবে ব্যক্তিনির্ভর এবং স্তরবিশিষ্ট যার বিস্তারে যাওয়া এই পরিসরে সম্ভব নয়। একটা ছোট্ট উদাহরন দিয়ে প্রসঙ্গান্তরে যাব। "আরেকটি প্রেমের গল্প" সিনেমাতে ঋতুপর্ন নারীসুলভ সাজগোজ করছে, আচরন করছে কিন্তু ম্যাডাম বলে ডাকাটা পছন্দ করছে না। অন্যদিকে চপল ভাদুড়ি শুধু যে মেয়ে সাজছেন তাই নয় তিনি নিজেকে নারী বলেই মনে করছেন। অর্থাৎ চপল ভাদুড়ি এই নারী-পুরুষের বাইনারির মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন, অন্যদিকে ঋতুপর্ন এর বাইরে গিয়ে নিজের জন্য অন্য একটা সংজ্ঞাবিহীন স্পেস তৈরি করে নিচ্ছেন। (তথ্যসূত্রঃ আমার যৌনতা, গুরুচন্ডালী প্রকাশনা)।

সেক্সুয়ালিটি এই সেক্স-জেন্ডারের বাইরে আরেকটা বিষয়। সেক্সুয়ালিটি নির্ভর করছে আপনি শারীরিক ও মানসিক ভাবে কাকে কামনা করছেন, তার ওপর। ভাগাভাগিটা খানিকটা এই রকম- স্ট্রেট, গে, লেসবিয়ান, বাই সেক্সুয়াল, বাই কিউরিয়াস এবং আসেক্সুয়াল। বাকি শব্দগুলোর মানে হয়ত জানা, বাই কিউরিয়াস মানে আমার দু-দিকেই কৌতূহল আছে কিন্তু আমি নিজেকে কোনো লেবেলে এখনও আটকাতে চাই না। সেক্সুয়ালিটি সম্পুর্ণভাবে মাথার ভেতরের একটা বিষয়। মনে রাখতে হবে সমকাম আর সমলিঙ্গে যৌনক্রিয়া এক বস্তু নয়। সমলিঙ্গে যৌনক্রিয়া জেল, হোস্টেল, মিলিটারি ইত্যাদি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হতে পারে। সেখানে যৌনতারত ব্যক্তিরা কি চাইছেন সেটা গৌণ, হাতের কাছে কি মজুদ আছে সেটাই যৌনপছন্দ ঠিক করে দিচ্ছে। অর্থাৎ একটা পরিস্থিতি নির্ভর আরেকটা পরিস্থিতি নিরপেক্ষ। পরিস্থিতি নির্ভর সমলিঙ্গে যৌনতার আরেকটা উদাহরন হল পুরুষ যৌনকর্মী যারা পুরুষ গ্রাহকদের মনোরঞ্জন করেন। এই পুরুষ যৌনকর্মীদের অনেকেই কিন্তু গে নন, শুধুমাত্র পরিস্থিতির ফল। অন্যদিকে, পরিস্থিতি নিরপেক্ষ সমকামীদের ক্ষেত্রে সমলিঙ্গে যৌনতা শুধুমাত্র শারীরিক আনন্দ নয়, তার সাথে মানসিক আত্মপরিচয় নিবিড়ভাবে জড়িত। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই পরিস্থিতি নির্ভর অবস্থায় বেশিদিন থাকতে থাকতে কি একজন সমলিঙ্গে যৌনক্রিয়ায় এতটাই অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারে যে সে পরবর্তী কালে সেটাকেই পছন্দ করতে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তরে আমরা পরে আসব। (তথ্যসূত্রঃ বিকজ আই হ্যাভ আ ভয়েস, গৌতম ভান ও অরভিন্দ নারায়ন)।

তাহলে আমরা কিভাবে বুঝব যে কেউ হোমোসেক্সুয়াল কি হোমোসেক্সুয়াল নয়? সোজা উত্তর, একমাত্র সেই ব্যাক্তি ছাড়া আর কারোর পক্ষে নির্দিষ্ট করে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভবপর নয়। বেশিরভাগ মানুষই জানেন যে তিনি এলজিবিটি না স্ট্রেট। অবশ্য অনেক সময় এই প্রশ্নের উত্তর খুব একটা নিজের কাছেও পরিষ্কার থাকে না। সামাজিক চাপ তার একটা কারন হতে পারে। আবারও আমাদের মনে রাখতে হবে, সেক্স এবং জেন্ডারের মত সেক্সুয়ালিটিও একটা স্পেক্ট্রাম এবং তাকে সব সময় ক্লাসিফাই করা সম্ভব নাও হতে পারে।

এই প্রসঙ্গে প্রাচীন গ্রীসের উদাহরন দেওয়া যেতে পারে যেখানে পুরুষদের মধ্যে সমলিঙ্গে যৌনক্রিয়া খুবই প্রচলিত ছিল বলে মনে করা হয়, তার জন্য আলাদা করে কোনও ক্লাসিফিকেশানের দরকার পড়ত না। ভারতবর্ষের ইতিহাসেও সমপ্রেমের (বা সমলিঙ্গে আকর্ষণের) প্রচুর উদাহরন রয়েছে, কিন্তু সেখানেও কোনও শ্রেনীবিভাজন করা হয় নি (তথ্যসূত্রঃ জেন্ডার, সেক্স অ্যান্ড দা সিটি, রুথ বনিতা, হোমোসেক্সুয়ালিটি অ্যান্ড সিভিলাইযেশন, লুই ক্রম্পটন)।

এই ক্লাসিফিকেশানের সমস্যাটা বোঝানর জন্য একটা উদাহরন দেওয়া যাক। ধরুন একজন বায়োলজিকাল সেক্স হিসেবে মেয়ে কিন্তু মাথার ভেতর থাকা জেন্ডার হিসেবে পুরুষ (অর্থাৎ নিজেকে তিনি পুরুষ হিসেবে মনে করেন)। এখন যদি তিনি শারীরিকভাবে বাধ্য হয়ে তাঁর স্বামীর সঙ্গে সঙ্গম করতে করতে মনে মনে একজন নারীকে কল্পনা করেন, তবে তার সেক্সুয়ালিটি আপনি কি বলবেন? বায়োলজিকাল সেক্স ধরলে যৌনক্রিয়াটি স্ট্রেট, মনের কামনাটি লেসবিয়ান। কিন্তু জেন্ডার ধরলে যৌনক্রিয়াটি গে কিন্তু কামনাটি স্ট্রেট।

আশা করছি আমি এই ছোট লেখায় ক্লাসিফিকেশান এবং সংজ্ঞা দেওয়ার সমস্যাটা বোঝাতে পেরেছি। এই কারনে এলজিবিটি আন্দোলনে যোগ হয়েছে ক্যুইর শব্দটি। ক্যুইর মানে খাপছাড়া, বেয়াড়া। শব্দটি একসময় অপমান করার জন্য ব্যবহার করা হত। সেখান থেকে এই শব্দটিকে এলজিবিটি আন্দোলন পুনরুদ্ধার করেছে। এখন ক্যুইর একটি ব্যপ্ত শব্দ। যে কোনো মানুষ, যিনি কিনা এই সমাজের বেঁধে দেওয়া নারী-পুরুষের খাপে ফিট হতে চান না, তিনিই ক্যুইর। যিনি এই পিতৃতান্ত্রিক নির্মানকে চ্যালেঞ্জ জানান, তিনিই ক্যুইর। তিনি নারী, পুরুষ, মধ্যলিঙ্গ, লিঙ্গান্তরকামি, গে, লেসবিয়ান, বাইসেক্সুয়াল, বাই কিউরিয়াস, আসেক্সুয়াল, স্ট্রেট যে কেউ হতে পারেন। হ্যাঁ, এমনকি স্ট্রেট-ও। আপনি যদি এই মেয়েলি-পুরুষালি এই একবগগা কাঠামোটাকে মেনে না নেন, তাহলে আপনি এল-জি-বি-টি-কিউ-আই এর কিউ, সে আপনার সেক্স-জেন্ডার-সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশান যাই হোক না কেন।
যারা এই বিষয়ে কিছু ব্যক্তিগত ন্যারেটিভ পড়তে আগ্রহী তাদের গুরুচন্ডালি প্রকাশিত "আমার যৌনতা বইটি পড়তে অনুরোধ করছি।

793 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23
Avatar: Abhijit Majumder

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সে,
উইকির লিংক বলছে যে "Queer has become the preferred term to describe certain radical academic disciplines and is gaining use as a descriptor of non-normative[note 1] (i.e. anti-heteronormativity and anti-homonormativity) identities and politics."
অর্থাৎ, normative যে ডিসকোর্স তার বাইরে যে ভাবছেন তিনি কুইর। ওই লিঙ্কেই heterosexual কুইর দের কথাও বলা আছে।

নিবেদিতা মেনন তার লেখায় বলছেন, "But if we recognize that this “normal” heterosexuality is painfully constructed and kept in place by a range of cultural, bio-medical and economic controls, precisely in order to sustain existing hierarchies of class caste and gender, then we would have to accept that all of us are-or have the potential to be-‘queer’."

পি-ফ্লাগ বলে গ্রুপটি বলছে "Think of queer as an umbrella term. It includes anyone who a) wants to identify as queer and b) who feels somehow outside of the societal norms in regards to gender or sexuality. This, therefore, could include the person who highly values queer theory concepts and would rather not identify with any particular label, the gender fluid bisexual, the gender fluid heterosexual, the questioning LGBT person, and the person who just doesn’t feel like they quite fit in to societal norms and wants to bond with a community over that."


একক ঠিক বলেছেন, যে সংজ্ঞা দেওয়া বিপদজনক। কেননা সেক্সুয়ালিটির মত এই সংজ্ঞা গুলোও ফ্লুইড।

কে কে,
আপনার প্রশ্নের উত্তর পরের লাইনে দেওয়া আছে। "বায়োলজিকাল সেক্স ধরলে যৌনক্রিয়াটি স্ট্রেট, মনের কামনাটি লেসবিয়ান। কিন্তু জেন্ডার ধরলে যৌনক্রিয়াটি গে কিন্তু কামনাটি স্ট্রেট।" আমি এখানে সেক্সুয়ালিটি বলতে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন বোঝাতে চেয়েছি। আমার আরেকটু পরিষ্কার করে লেখা উচিত ছিল।

আরো জানার জন্য:
http://www.transawareness.org/what-is-the-difference-between-transgend
er-and-transsexual.html


Avatar: সে

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

ধন্যবাদ অভিজিৎবাবু। একথা ঠিকই যে ডেফিনিশনের পাঁচিলে আটকে রাখা যাবে না। ডেফিনিশন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টাবে।
হ্যাঁ, ভালোকথা, বলতে ভুলে গেছিলাম লেখাটা ভালো লেগেছে।
Avatar: pi

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

অভিজিত, তোর প্রথম লেখাটার লিং টা লেখার নিচে জুড়ে দে একটু।
Avatar: Abhijit Majumder

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

Avatar: কল্লোল

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

কেউ নিজেকে queer কেন বলবে। queer মানে তো অদ্ভুত বা আজব। সমপ্রেমের মধ্যে কোন queer ব্যাপার নেই।
margarita with a straw দেখে ফেলুন। বেশ ভালো সিনেমা। সমপ্রেমকে খুব স্বাভাবিকতার জায়গা থেকে দেখেও একটা চমৎকার ক্রিটিক তৈরী করেছে।
একজন বিশেষ মানুষ (নারী) যখন তার সমপ্রেমের কথা মাকে জানাচ্ছে, মা প্রথমে বলছেন "এটা অস্বাভাবিক"। মেয়ে জবাব দিচ্ছে "আমাকেও অসুখের কারনে তো লোকে অস্বাভাবিক বলতো।" তখন মা মেনে নিচ্ছেন। কিন্তু যখন তার প্রেমিকা জানতে পারছে যে মেয়েটি উভকামী তখন রেগে যাচ্ছে, বাজে দোষ দিচ্ছে, এবং ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
এই জায়গাটা আমার খুব কৌতুহলোদ্দীপক লেগেছে।
Avatar: sosen

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

কল্লোলদা, "কিন্তু যখন তার প্রেমিকা জানতে পারছে যে মেয়েটি উভকামী তখন রেগে যাচ্ছে, বাজে দোষ দিচ্ছে, এবং ছেড়ে চলে যাচ্ছে।" উভকামী সেই জন্য চলে যাচ্ছে না, প্রেমিকা চিট করায় যাচ্ছে। এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।
Avatar: pi

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

কল্লোলদা, এই Queer তো ওনারা নিজেরাই বলেন এবং , Beginning in the late-1980s, queer scholars and activists began to reclaim the word to establish community and assert a politicized identity distinct from the gay political identity

এবার গে র থেকে আলাদা না এক, সে সংজ্ঞা নিয়ে তর্ক থাক, কিন্তু শব্দটার তো অর্থের পরিবর্তন হয়েছে। ক্যুইরকে নন কনভেনশনাল অর্থে ধরলেই হয়।
Avatar: Abhijit Majumder

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

ক্যুইর মানে শুধু আজব-ই নয়, এর মানে খাপছাড়া বা সৃষ্টিছাড়া বা অন্যরকম। আমি যেমন লিখেছি, শুরুতে শব্দটি অপমানজনক হিসেবেই ব্যবহৃত হত। পরবর্তিকালে সমপ্রেমী আন্দোলন শব্দটিকে রিক্লেম করে। এইরকম রিক্লেমড শব্দর আরো উদাহরন রয়েছে। যেমন ডাইক। এমনকি ফ্যাগ, যেটা এখনো অপমানজনক মনে করা হয়, তাকেও রিক্লেম করা শুরু হয়েছে। এটা অনেকটা এস্টাব্লিশমেন্টকে চ্যালেঞ্জ করার মত। এই প্রসঙ্গে স্লাটওয়াক স্মর্তব্য। আমি যদি শব্দটাকে অপমানজনক বলে মনে না করি তবে কিন্তু তুমি আমাকে এই শব্দটা দিয়ে অপমান করতে পারবে না।
ক্যুইর শব্দটিকে গ্রহন করা হয়েছে কেননা অন্য কোনও শব্দ যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয়ের স্পেক্ট্রামটাকে ধরতে পারছিল না। এলজিবিটি আন্দোলন হেটেরোনর্মাটিভকে চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে হোমোনর্মাটিজমের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছিল। নারী-পুরুষের বাইনারির বাইরে বেরতে গিয়ে হেটেরো-হোমোর বাইনারিতে আটকে যাচ্ছিল। একে একে এলজিবিটিতে যুক্ত হতে থাকে আরো বর্ণ, এইচ, এ, আই, পি ইত্যাদি। এই বেড়ে ওঠা সমস্ত আইডেন্টিটি বা আত্মপরিচয়কে এক জায়গায় ধরানো যাচ্ছিল না। সেই কারনে ক্যুইর শব্দটিকে রিক্লেম করা যা দিয়ে সমস্ত নর্মাটিভের বাইরের অস্তিত্বকে বোঝানো যায়। সেই কারনেই, ক্যুইর বা খাপছাড়া।
রবীন্দ্রনাথের কবিতা মনে করলে দেখবেন যে খাপছাড়া কিন্তু সবসময় খারাপ নয়। যে কোনও নন-কনফর্মিস্ট-ই কিন্তু খাপের বাইরে। সেই কারনে এখন ক্যুইর বলতে শুধুমাত্র এলজিবিটি-ই নয় এমনকি জেন্ডার সেক্সুয়ালিটির ছকভাঙ্গা স্ট্রেট মানুষকেও বোঝানো হয়ে থাকে। ধরুন আমি স্ট্রেট, কিন্তু সমাজের বাঁধা ছকটাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ঠিক করলাম কাল থেকে অফিসে কানে ঝোলা দুল পরে চোখে কাজল লাগিয়ে যাব। আমি সেক্ষেত্রে চাইলে আমার আমার আচরনকে ক্যুইর বলতে পারি। আজকের অনেক মেয়েই, কিন্তু আজ থেকে পঁচিশ বছর আগের হিসেবে “ব্যাটাছেলেদের মতন”। পোশাকে, সাজে বা কাজে। পঁচিশ বছর আগের চোখ দিয়ে দেখলে কিন্তু তাঁরা অনেকেই ক্যুইর।
এই ছকভাঙ্গা সংজ্ঞার অনুসারেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে ক্যুইর স্টাডিজ, ক্যুইর মুভিজ, ক্যুইর ডিস্কোর্স...যেমন ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল মানবীবিদ্যা বা উইমেন স্টাডিজ।
সবশেষে বলা দরকার, অনেকেই রয়েছেন যারা ক্যুইর টার্মটিকে পছন্দ করেন না বা সেইভাবে আত্মপরিচয় দিতে চান না। আত্মপরিচয়ের এ সমস্যা বহুদিনের। যেমন অনেক হিজড়ে সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ট্রান্স বলতে চান না। আমার এক বন্ধু ছিল যে স্ট্রেট শব্দটা পছন্দ করত না কেন না তার মনে হত এতে করে প্রান্তিক যৌনতার মানুষদের ঘুরিয়ে ক্রুকেড বা কমপ্লেক্স বলা হচ্ছে। আমার আরেক সমপ্রেমী বন্ধু গে শব্দটা পছন্দ করত না, কেন না তার বক্তব্য ছিল যে সে আদৌ খুশি বা আনন্দিত নয়। তাকে গে বলে সমাজ তার যন্ত্রনার থেকে নজর ঘুরিয়ে রাখছে।
এই একেকটা শব্দের ব্যুৎপত্তি নিয়ে একেকটা পর্ব লেখা যায়। সমস্যা হচ্ছে আমার ততটা পড়াশুনো নেই। 

Avatar: Abhijit Majumder

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

তবে এখানে ক্যুইর-এর যে আভিধানিক অর্থ নির্ভর সর্বব্যাপী সংজ্ঞা দিয়েছি তার একটা বিপদ আছে। যেমন ধরুন দলিত শব্দটি। আভিধানিক অর্থ হল, নিষ্পেষিত বা নিপীড়িত। এখন সেই অর্থ অনুযায়ী একজন উচ্চবর্ণের নারীও ক্ষেত্রবিশেষে নিপীড়িত হতে পারেন। এখন তাকে দলিত বললে ইন্টারসেক্সনালিটির সুবিধে হতে পারে কিন্তু তার ফলে দলিত আন্দোলনের যে ইতিহাস তার প্রতি অবিচার করা হয়। সেই রকম ভাবে আমার শখ করে চোখে কাজল পরাকে ক্যুইর বললে এলজিবিটি আন্দোলনের ইতিহাসকে কিছুটা হলেও অস্বীকার করা হয়। আমি এই লেখায় কিছু সহজবোধ্য সংজ্ঞা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ফেসবুকে পাওয়া প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে। তার ভেতরে নানা প্যাঁচ আছে যা সহজবোধ্যতার স্বার্থে এড়িয়ে গেছি।
একক যা বলেছেন আমি তার সাথে একমত। সংজ্ঞা দেওয়ার নিজস্ব বিপদ আছে। সংজ্ঞা দিতে দিতে শেষ পর্যন্ত সুকুমার রায়ের অবাক জলপানের মত হয়ত জলের নানা সংজ্ঞা দিয়ে দেব কিন্তু তাতে করে তৃষ্ণার্তর গলা ভিজবে না।

Avatar: কল্লোল

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সোসেন। "উভকামী সেই জন্য চলে যাচ্ছে না, প্রেমিকা চিট করায় যাচ্ছে। এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।"

না বোধহয়। সিনেমাটিতে কিন্তু মেয়েটি রেগে গিয়ে বলছে - আমার এখন ঠিক ঠিক কথাটা মনে নেই - ও(ছেলেটি) তোমায় "নর্মাল" বলে সার্টিফিকেট দিয়েছে তো?
একজন উভকামীর তার বিপরীত লিঙ্গের সাথে সঙ্গমেচ্ছা হতেই পারে। এবং পরিবেশটাও তেমনই ছিলো। একজন সমকামীর কাছে আরও বড় মন আশা করেছিলাম। এটুকুই।

পাই। ক্যুইয়র মানে "স্বাভাবিক" নয়। আমার এটাতেই আপত্তি। ওঁরা নিজেরা ব্যবহার করলেও আপত্তি।
Avatar: a x

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

কল্লোলদা, ক্যুইয়ার মানে লিটেরাল মানে তো ঠিক অস্বাভাবিক না, বরং অদ্ভুত।

ক্যুইয়ার প্রসঙ্গে আমি যতটুকু জানি - ১৯০০র শুরুর দিক নাগাদ ফেয়ারি আর ক্যুইয়ার শব্দের প্রচলন শুরু হয় - প্রথমটার দ্বারা "এফেমিনেট" ছেলে সমকামী, ও পরেরটা "পুরুষালি" ছেলে সমকামীকে বোঝাতে। মেইনস্ট্রীম বিনোদনের পরিসরে সমকামী পুরুষ হিসেবে যাদের দেখানো হয়, লাউড, ফ্ল্যামবয়ান্ট টাইপ, তারা সবাই ফেয়ারি (উইল অ্যান্ড গ্রেসের জ্যাক)। এটার খুব ইন্টেরেস্টিং সোশিও-ইকনমিকাল ইতিহাস আছে। সমকামী পুরুষ মানেই এফেমিনেট ফ্ল্যামবয়ান্ট এই স্টিরিওটাইপিং ক্লাসিফিকেশনগুলোকে মাস্ক করে, এবং প্রধানত হেটেরোনর্মেটিভ ডিসকোর্স দ্বারাই যাহা ফেয়ারি তাহা ক্যুইয়ার এইখানে আসে ব্যপারটা। কিন্তু ক্যুইয়াররা বিভিন্ন কারণে (সামাজিক বেশি) এই ফেয়ারিদের থেকে নিজেদের আলাদা বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। ক্যুইয়ারের পরে আসে - "গে"। এরপরে আবার ক্যুইয়ার শব্দের রিক্লেমেশন হয় ১৯১০-২০ নাগাদ ক্যুইয়ার নেশনের সূত্রে। "ক্যুইয়ার নেশন" AIDS অ্যাক্টিভিস্টদের একটি সংস্থা। এরা তৈরি হয় একটি দলছুট AIDS অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ হিসেবে। প্রধাণত অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যেই হোমোফোবিয়ার রিয়াকশনে। এদের বক্তব্য এই হোমোফোবিক টার্ম হিসেবে ব্যবহৃত শব্দকেই এরা ব্যবহার করে একটা on your face গোছের confrontation-এর মাধ্যমে হোমোফোবিয়া লড়বে। “We’re here! We’re Queer! Get used to it!” এইটা এদের মূল স্লোগান।

LGBTQ রাইটসে একটা ক্রিটিসিজম শোনা যেত, যে গে বা লেসবিয়ান এই আইডেন্টিটিতে যারা বিলং করেন, তারা নিজেরা একটা প্যারালেল সমসত্ত্ব আইডেন্টিটি বানাতে চান, ইন এক্ষ্ক্লুশন টু অন্য জেন্ডার/সেক্স/সেক্সুয়ালিটির আইডেন্টিটি (যেই উদাহরণগুলো অভিজিত দিয়েছেন ওপরে)। ক্যুইয়ার শব্দের মাধ্যমে এই বিভিন্ন আইডেন্টিটিগুলোকে জায়গা দেবার চেষ্টা ও আরো বেশি ইনক্লুসিভ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।
Avatar: a x

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

ক্যুইয়ার নেশনের ইতিহাস - http://queernationny.org/history
Avatar: কল্লোল

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

অক্ষ। যারে কয় ভাত তারেই কয় অন্ন।
অনেককাল আগে এট্টা বই পড়েছিলাম, গুরুতে সেই বই নিয়ে লিখেওছিলাম - প্রিয় বইয়ের সাথে আলাপ। বইটা ছিলো The Club of Queer Trades জি কে চেস্টারটনের লেখা। নীরেন চক্কোত্তি মশয় অনুবাদ করেছিলেন - আজব জীবিকা সংঘ।
তো queer হলো গিয়ে আজব/অদ্ভুত যা কিনা স্বাভাবিক নয়।

আমার আপিত্ত ওতেই। আমি এঁয়াদের আজব/অদ্ভুত মনে করি না। স্বাভাবিকই মনে করি।

Avatar: a x

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

কল্লোলদা সেতো জানি। আমিও মনে করি, যারা এটা রিক্লেইম করছে তারাও তাই মনে করে। এর ব্যবহার অপমান করার জন্যই শুরু। কিন্তু শব্দ যদি অস্ত্র হয়, তাহলে একটা অপমানজনক শব্দের ব্যবহার এমনভাবে নিজের করে নিলে, অস্ত্রটা ভোঁতা হবে, এরকম জায়গা থেকেই ঐ রিক্লেইম করা।
Avatar: কল্লোল

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

অক্ষ। হতে পারে। যাদের বিষয় তারা যদি ওরকম ভাবে, তো আমি বলার কে!! কিন্তু আমার নীতিগত আপত্তি রইলো।
পাগল কথাটা হীণতাসূচক। কিন্তু সেটাই যখন রামকৃষ্ণদেবের বিষেশণ হয়ে যায় তখন তার মানে পাল্টে যায়। কিন্তু সেটা রামকৃষ্ণ নিজে প্রোপাগেট করেন নি, মানুষে করেছে।
Avatar: sosen

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সমকামীর কাছে বড় মন আশা করেছিলেন!!! মানে হেটেরো রিলেশনে এরকম হতেই পারে কিন্তু সমকামী হলে পার্টনারের অন্য কারোর সাথে শোয়া খুশিমনে মেনে নেবে?
দিস সাউন্ড্স টোটালি আনন্যাচারাল এনিওয়ে। পার্টনারের অন্য কারুর সাথে ওয়ান নাইট স্ট্যান্ড মানতেও সময় লাগে, আর তার সঙ্গে সম-উভ-বিষম এর সম্পর্ক কি?


Avatar: দ

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সমপ্রেমীর কাছে এক্স্ট্রা লার্জ ম্মন আশা করার কারণ কী?
Avatar: দ

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সমপ্রেমীর কাছে এক্স্ট্রা লার্জ মন আশা করার কারণ কী?
Avatar: কল্লোল

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

সোসেন ও দ।
সপ্রেমীদের যেহেতু অনেক প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সমাজ, পরিবার ইঃর সাথে লড়ে নিজের পছন্দকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাই তাদের কাছে একটু বড় মন আশা করি।
সোসেন উবাচ - "সমকামী হলে পার্টনারের অন্য কারোর সাথে শোয়া খুশিমনে মেনে নেবে?"
বিষয়টা সিনেমায় তা নয়। মেয়েটি যদি অন্য কোন মেয়ের সাথে শরীর করতো, তাহলে এটা মানা যেতো। এক্ষেত্রে মেয়েটি উভকামী। একজন সমকামী যদি একজন উভকামীকে এই বলে বিদ্ধ করে যে সে আসলে ছেলেটির সাথে শরীর করে "নর্মাল" সার্টিফিকেট চাইছে, তাহলে সেটা খুবই অনভিপ্রেত।
Avatar: সে

Re: সমপ্রেম ও যুক্তিবাদ (দ্বিতীয় কিস্তি)

উভকামীদের এই সমস্যা কিন্তু সর্বত্র। ওদের সমকামীরা দূরে ঠ্যালে। বিশ্বাস করতে চায় না।

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 4 -- 23


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন