Rana Alam RSS feed

Rana Alamএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • সোনারপুরে সোনার মেলা
    শীত ভাল করে পড়তে না পড়তেই মেলার সীজন শুরু হয়ে গেছে। গুরু এবারে ওমনিপ্রেজেন্ট – গাদাগুচ্ছের মেলাতে অংশ নেবার মনস্থ করেছে। একেবারে সূচনাপর্বেই সোনারপুর মেলা – বোতীনবাবুর দৌলতে তার কথা এখন এখানে অনেকেই জানেন। তো সেই সোনারপুর বইমেলাকেই পদধূলি দিয়ে ধন্য করব ...
  • এন জি রোডের রামলাল-বাংগালি
    রামলাল রাস্তা পার হইতে যাইবেন, কিছু গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা চ্যাংড়া যুবক মোড়ে বসিয়া তাস পিটাইতেছিল— অকস্মাৎ একজন তাহার পানে তাকাইল।  রামলাল সতর্ক হইলেন। হাত মুষ্টিবদ্ধ করিলেন, তুলিয়া, ক্ষীণকন্ঠে বলিলেন, 'জ্যায় শ্রীরাম।'পূর্বে ভুল হইত। অকস্মাৎ কেহ না কেহ পথের ...
  • কিউয়ি আর বাঙালী
    পৃথিবীতে ছোট বড় মিলিয়ে ২০০র' কাছাকাছি দেশ, তার প্রায় প্রতিটিতেই বাঙালীর পদধূলি পড়েছে। তবে নিউজিল্যাণ্ড নামে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে একটি দ্বীপমালা আছে, সে দেশের সঙ্গে ভারতীয়দের তথা বাঙালীদের আশ্চর্য ও বিশেষ সব সম্পর্ক, অনেকে জানেন নিশ্চয়ই।সে সব সম্পর্কের ...
  • মহামহিম মোদী
    মহামহিম মোদী নিঃসন্দেহে ইতিহাসে নাম তুলে ফেলেছেন। আজ থেকে পাঁচশো বছর পরে, ইশকুল-বইয়ে নিশ্চয়ই লেখা হবে, ভারতবর্ষে এমন একজন মহাসম্রাট এসেছিলেন, যিনি কাশ্মীরে টিভি সম্প্রচার বন্ধ করে কাশ্মীরিদের উদ্দেশে টিভিতে ভাষণ দিতেন। যিনি উত্তর-পূর্ব ভারতে ইন্টারনেট ...
  • পার্টিশানের অজানা গল্প ১
    এই ঘোর অন্ধকার সময়ে আরেকবার ফিরে দেখি ১৯৪৭ এর রক্তমাখা দিনগুলোকে। সেই দিনগুলো পার করে যাঁরা বেঁচে আছেন এখনও তাঁদেরই একজনের গল্প রইল আজকে। পড়ুন, জানুন, নিজের দিকে তাকান...============...
  • কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর
    কাশ্মীরের ইতিহাস : পালাবদলের ৭৫ বছর - সৌভিক ঘোষালভারতভুক্তির আগে কাশ্মীর১ব্রিটিশরা যখন ভারত ছেড়ে চলে যাবে এই ব্যাপারটা নিশ্চিত হয়ে গেল, তখন দুটো প্রধান সমস্যা এসে দাঁড়ালো আমাদের স্বাধীনতার সামনে। একটি অবশ্যই দেশ ভাগ সংক্রান্ত। বহু আলাপ-আলোচনা, ...
  • গাম্বিয়া - মিয়ানমারঃ শুরু হল যুগান্তকারী মামলার শুনানি
    নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা গাম্বিয়ার মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজকে। শান্তি প্রাসাদে শান্তি আসবে কিনা তার আইনই লড়াই শুরু আজকে থেকে। নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • রাতপরী (গল্প)
    ‘কপাল মানুষের সঙ্গে সঙ্গে যায়। পালানোর কি আর উপায় আছে!’- এই সপ্তাহে শরীর ‘খারাপ’ থাকার কথা। কিন্তু, কিছু টাকার খুবই দরকার। সকালে পেট-না-হওয়ার ওষুধ গিলে, সন্ধেয় লিপস্টিক পাউডার ডলে প্রস্তুত থাকলে কী হবে, খদ্দের এলে তো! রাত প্রায় একটা। এই গলির কার্যত কোনো ...
  • বিনম্র শ্রদ্ধা অজয় রায়
    একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অজয় রায় (৮৪) আর নেই। সোমবার ( ৯ ডিসেম্বর) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অধ্যাপক অজয় দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন।২০১৫ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ইসকুল-টিসকুল

Rana Alam


প্রথমেই একটা কথা সগর্বে বলে নেওয়া দরকার যে আমি হচ্ছি সেই অবলুপ্তপ্রায় ছাত্র সমাজের যোগ্য প্রতিনিধি যারা ইসকুল লাইফে মাস্টার মশাইদের নিরন্তর ঠ্যাঙ্গানি খেয়ে বড় হয়েছে এবং মাথা নামিয়ে স্বীকার করি যে সেইসব মাস্টার মশাইরা আমার এবং আমার মতন অনেক গাধার জীবনে না এলে আজ হয়ত এই জায়গায় থাকতুম না।

প্রলোভন কি ছিলনা,ছিল সার,দস্তুরমতন ছিল।ইসকুলের মাস্টারমশাইরা যখন বাবা বাছা করে মাথায় হাত বুলিয়ে কড়া কড়া ট্রানস্লেশন কি হোয়াংহো নদী কোথায় গোছের টাস্ক করিয়ে নিয়েছেন,তখনই বুঝেছি যে সাধকের পথে কত বাধা,কত বিপত্তি।লাস্ট বেঞ্চ থেকে আমাদের তোলার যাবতীয় অপচেষ্টা সারেরা করে গিয়েছেন গোটা ইসকুল লাইফ।

মাধ্যমিকের টেস্টে ভূগোলে তিনের ঘরে নাম্বার ছিল। আমার স্প্যাশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এম্নিতেই হেব্বি খারাপ।তার উপরে কোন বাতাস কোথায় বইলে কিরম বৃষ্টি হয়, অমুক দ্যাশের তমুক মালভূমি কি তমুক নদীর নাম কি গোছের বাক্যবাণগুলো চিরকালই মাথার উপর দিয়ে ট্যান থিটা হয়ে বেরিয়ে যেত।ভাবুন দেখি,চীনের চেয়ারম্যান আমাগো দ্যাশের চেয়ার-টেবিল কি সিলিং ফ্যান ম্যান হল কিংবা হতেও পারে,তাই বলে চীনের কোন নদী’র নামও জানতে হবে,এটা কি অত্যাচার নয়?

কিন্তু বুঝছিলাম যে ভূগোলের যে হাল তাতে মাধ্যমিকে পাশ করা অসম্ভব।ভূগোল পড়াতেন বদ্যিনাথ সার।খুব কড়া লোক।বাঘকেও তার থেকে আমরা কম ভয় পেতুম।একদিন গুটি গুটি পায়ে আমি এবং আরো কয়েকজন ফেলু ছাত্তর সারের কাছে হাজির হলুম। ইসকুল টাইমের বাইরে সার নিজেই আলাদা করে দেখাতে শুরু করলেন।

মাধ্যমিকে ভূগোলে লেটার পেয়েছিলুম।পুরো ক্রেডিট সারের।নইলে আমার মতন গাধার সাধ্যি ছিলনা।সার এখন নেই।সারের জুতোটা বয়ে নিয়ে যাওয়ার অক্ষম চেষ্টায় রত আছি আমি এবং আমার মতন আরো অনেকে।

অনেক পরে যখন ইসকুলে পড়াতে এলুম এবং পড়াতে ঢুকেই ইসকুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হল তখন বুঝলুম যে আমাদের মাস্টার মশাইরা আদতে কি কঠিন কাজ করে গিয়েছেন দিনের পর দিন।

আরেকটা পাতি সত্য কই।অনেকের কাছে শুনি যে ইসকুলের ছেলে মেয়েদের গায়ে হাত তোলা উচিত না। তাদের নাকি বুঝিয়ে সুঝিয়ে পড়াশুনো করানো যায় ইত্যাদি ইত্যাদি।এই সব পন্ডিতেরা দয়া করে পশ্চিমবঙ্গের সেইসব ইসকুলে একটু যাবেন যেখানে শিক্ষক পিছু ছাত্র ছাত্রী একশোর কাছাকাছি। কোনো অফেন্স নেবেন না সার,আমার ইসকুলে সাড়ে তিনশো ছাত্র ছাত্রী।তিনজন পার্মানেন্ট টিচিং স্টাফ।চারটে ক্লাস।ছড়ি হাতে না বেরোলে ইস্কুল আর গরুর হাটের কোনো পার্থক্য থাকে না। আমাদের জুনিয়র হাই স্কুল।ক্লাস এইট অব্দি ক্লাস হয়। সরকারী পরিভাষায় নিউ সেট আপ স্কুল বলে।যেখানে যেখানে ইস্কুলের চাহিদা আছে সেখানে এরম একটা ইস্কুল খুলে এসএসসি থেকে আমাদের মতন কিছু হতভাগ্য কে পাঠিয়ে সরকার বাহাদুর হাত ধুয়ে ফেলেছেন।
কাঁদুনি গাইছিনা।বিশ্বাস না হলে ফ্যাক্টগুলো মিলিয়ে নেবেন।গোটা পশ্চিমবঙ্গে এরম হাজারের বেশি ইস্কুল আছে।কোনো কোনো ইস্কুলে ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা কুড়ি বাইশ।টিচার সেই তিন জন।অনেক ইস্কুলের নিজস্ব জমি নেই।প্রাইমারী ইস্কুলের ঘরে ক্লাস হয়। পরিকাঠামোর কোনো বালাই নেই।আমার ইস্কুলের জমি ছিল।মোটামুটি একটা বলার মতন পরিকাঠামো গড়া গেছে।বেশিরভাগ ইস্কুলের তাও হয়নি।

এই ইস্কুলগুলো শুরু হয় রিটায়ার্ড টিচারদের হাতে।পরে এসএসসি থেকে আসা টিচাররা দায়িত্ব নেয়।এসএসসি তে নিয়োগের গপ্পো আপাতত নেই।অনেক কটা ইস্কুল,যেগুলোতে রিটায়ার্ড টিচাররাই আছেন,তারা বয়সজনিত কারণে ( ৬৫ বছর অব্দি থাকা যায়) সরে যাচ্ছেন।নতুন টিচার আসেননি।ফলে বেশ কিছু ইস্কুল বন্ধ হবার মুখে।মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতেই এরম একটা ইস্কুল বন্ধ হয়ে গেলো,সেখানে তিনশোর উপর ছাত্র ছাত্রী ছিল।

এসএসসি থেকে আসেন শুরুতে ল্যাঙ্গুয়েজের ( ইংরেজি),সোসাল সায়েন্স( ইতিহাস বা ভূগোল) আর ম্যাথামেটিকসের একজন।পরে যুক্ত হয় বাংলা আর বায়ো সায়েন্সের পোস্ট।বেশিরভাগ নিউ সেট ইস্কুলে টিমটিম করে ওই তিনজন টিচাররাই আছেন।অনেক ইস্কুলে তো একজন টিচারও আছেন।

তাও ইসকুল চলছে।ওই সরকার চলার মতনই। বোঝেনই তো।

আমি ইংরেজি পড়াই।একই সাথে ইস্কুলের দায়িত্বে আছি। মাঝে মধ্যেই সরকারী মিটিং আর গুচ্ছের পেপার ওয়ার্ক থাকে।আমি না পড়ালে ইংরেজি পড়াবার লোক নেই।তিনটে মাস্টার,চারটে ক্লাস।একইসাথে দুটো করে ক্লাস নিতে হয়।
আমি মাস্টারদের কথা বলছিনা।কিন্তু যে ছাত্র ছাত্রীগুলো ইসকুলে ভর্তি হল,তাদের কি ঠকানো হচ্ছেনা? দায় কার?
ইতিহাসের মাস্টার দিয়ে ভূগোলের ক্লাসে ঠেকা দেওয়া চলে,তাতে ক্লাস হয়না।আমি বারো ক্লাসের পর বাংলা পড়িনি।আমিও সেই ঠেকাই দিয়ে যাচ্ছি।

আমি একটা প্রত্যন্ত গ্রামের ইস্কুলে পড়াই।সেখানে প্রায় সবাই ফার্স্ট জেনারেশন লার্নার।অনেকে ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয় যারা একটুও ইংরেজি জানেনা।এবছরই ফাইভে অন্তত পাঁচ জন আমার ইসকুলে ভর্তি হয়েছে যারা ইংরেজি বা বাংলা কোনোটাই পড়তে পারেনা।কোনোরকমে আঁচড় কাটার মতন নামটা লিখতে পারে।

বিএড এ পড়ে এসেছিলাম যে একটা ক্লাসে তিন শ্রেণীর লার্নার থাকে- অ্যাডভান্স লার্নার,নর্মাল লার্নার আর স্লো লার্নার।নর্মাল লার্নারের সংখ্যাটা বেশি হয়। এখন এই সব থিওরি মনে পড়লে হাসি আসে।আমার ইসকুলেই একটা ক্লাসে লার্নারদের মধ্যে একাধিক সাব গ্রুপ আছে। একটা চল্লিশ মিনিটের ক্লাসে একশো জনের ক্লাসে কিই পড়াব আর কাকেই বা পড়াবো তা নিয়ে ধাঁধা লেগে যায়।

ক্লাস ফাইভের একটা নির্ধারিত সিলেবাস আছে।প্রতিবছরই ক্লাস ফাইভের কম করেও ষাট সত্তর জনকে ইংরেজিতি হাতে খড়ি দিতে হয়। ফাইভের সিলেবাস মাথায় ওঠে।এদের বাবা-মা ডে-লেবার।বাড়িতে পড়াশুনো দেখাবার কেউ নেই।চাইল্ড লেবার বেল্টে গতর খাটিয়ে টাকা পাওয়ার পথ প্রচুর।যে ছেলে গুলোকে খেটেখুটে হয়ত আমরা একটু গতে নিয়ে এলাম,সেভেনে উঠলেই তারা বিদেশে বা প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতে চলে যায়।স্বপ্নগুলো খান খান হয়ে ভেঙ্গে পড়ে।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে এক শ্রেণীর শিক্ষকদের অসহ্য স্নবিশ মেন্টালিটি যারা স্টাফরুমে বসেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফ্যালেন যে এই গরিবগুর্বোদের কি আর লেখা পড়া হয়? নিম্নবর্গের এবং খেটে খাওয়া হিন্দু-মুসলমান ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি এক শ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা রীতিমত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ আর ঘেন্না পোষণ করেন।এ আমার নিজের চোখে দেখা।

একটা বড় অংশের শিক্ষক নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কিন্তু পরিকাঠামোগত উন্নতি না হলে এরাই বা কি করবেন? স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার-প্রোজেক্টর দেওয়া হয়েছে।খুব কম স্কুলেই তা ব্যবহার হয়। ব্যবহারের জন্য ট্রেনিং দেওয়া দরকার।তা কতটা ঠিকঠাক হয় তা নিয়ে সংশয় আছে। যারা সরকারী উদ্যোগে ট্রেনিং ক্যাম্প বা ওয়ার্কশপগুলোতে যান তারা এই বাস্তবটা জানেন।
বছরখানেক আগে গুরুচন্ডালী ওয়েবসাইট থেকে একজন সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন কিছু ছেলে মেয়েকে যদি ভালো কোনো জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায়।কথা বার্তা কিছুদূর এগিয়েছিল।কিন্তু স্থানীয় সমস্যায় তা আর করা গেলনা।

নিউ সেট আপ স্কুল গুলোকে নিয়ে আদৌ সরকার বাহাদুর কিছু ভাবছেন কিনা জানিনা।প্রতিদিন ছেলে মেয়েগুলোর মুখ দেখি আর নিজেরই হতাশ লাগে।

যে বাচ্চাটা আজ হাসি মুখে খালি পায়ে আমার ইস্কুলে ভর্তি হল জানি তিন বছর পর হাওড়া কি কেরালাতে লেবার খাটতে যাবে।যে ফুটফুটে মেয়েটা স্কুলে ঢোকার মুখে রোজ আমাকে ‘গুড মর্নিং সার’ বলে সম্বোধন করে সে ক্লাস এইটের পর আমার ইস্কুল ছাড়লেই বিয়ের পিঁড়িতে বসবে।সে দুবেলা বিড়ি বাঁধে।মাস্ক ছাড়াই বিষ বাস্পে শ্বাস নেয়।

যতদিন না সঠিক পরিকাঠামো আর পর্যাপ্ত শিক্ষক দিয়ে স্কুল শিক্ষাকে কর্মসংস্থানের সাথে জড়িত না করা যাবে তদ্দিন একটা বিপুল পরিমাণ মানব সম্পদ এভাবেই নষ্ট হবে।সস্তা শ্রমের দেশ বলে সরকারী প্রচারযন্ত্রে গুচ্ছের শিল্পপতির হাসিমুখ ফুটে উঠতে পারে কিন্তু পিছনের সুদীর্ঘ অবহেলা আর বঞ্চনার ইতিহাসটা মিথ্যে হয়ে যায়না।

আপাতত কসাইখানার দারোয়ান হয়ে মেয়াদ কাটাচ্ছি সার।মাসকাবারি বেতন পাই,এই আগাছার পাল গরিবগুর্বোদের কথা ভেবে কি হবে বলুন?






1090 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31
Avatar: Abhyu

Re: ইসকুল-টিসকুল

সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? রাণাকে? নিশ্চয়ই নয়।
সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? একটি ছেলে বা মেয়েকে অনেক টাকা দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়, কারণ তাতে কোনো সুরাহা হবে না, উল্টে বাকিরা খাপ্পা হবে।
সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? সবাইকে এক টাকা করে দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়, কারণ তাতেও কোনো সুরাহা হবে না।
সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? সবাইকে অনেকটা করে টাকা দিয়ে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তাতে অনেকxঅনেক টাকা লাগবে। আর সেই টাকাটাও তাদের বোনের বিয়ের পণে নয়্ত বাবার চোলাইতে যাবার চান্স বেশি।
সরাসরি আর্থিক সাহায্য কাকে করবেন? স্কুলের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে? নিশ্চয়ই নয়। কারণ তাতে রাণার বাজারে আড়ং ধোলাই খাবার পথ প্রশস্ত হবে, টাকা চুরির অভিযোগে। শালা আমাদের বাচ্চাদের দেখিয়ে ডোনেশন মারছে।

পলিটিকাল পার্টির কথা বাদই দিলাম।

গল্প অত সহজ না।
Avatar: ranjan roy

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাণা ও অভ্যুর বক্তব্য ভয়ংকর দুঃস্বপ্নের মত সত্যি।
এর চোরাগলি থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা জানা নেই।
রাণা তো অফিসের কাজে পিএইচডির কাজে কোলকাতায় আসেন।

যদি কখনো সময় করে আমাদের বাড়িতে চাট্টি ডাল-ভাত খেয়ে যান বা একরাত্তির কাটিয়ে যান, খুব খুশি হব।
Avatar: aranya

Re: ইসকুল-টিসকুল

কি আর লিখব। রাণা-কে অশেষ শ্রদ্ধা, অবশ্যই। তা বাদে, আর কি লিখব জানি না

Avatar: অপাত্র

Re: ইসকুল-টিসকুল

রানার কথা শুনে মনে হয়, শিক্ষক নামের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি এখনও বেঁচে আছে। স্নবিশ গাণ্ডুগুলো ম্যাক্সিমাম দুই প্রজন্মের লার্নার। এদেরই এখন রবরবা। নিজে বাঁড়া কাঁধে ল্যাপটপ নিয়ে অফিস যাচ্ছে সরকারি বাসে, অথচ বেলচা নিয়ে সরকারি প্রোজেক্টে কাজ করা লোক বাসে উঠেল নাক সিঁটকোয়।
Avatar: aranya

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাণা-র লেখা আর অভ্যুর শেষ পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে - শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারী বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু করা খুব কঠিন মনে হয়। সেটা অবশ্য সত্যি আরও অনেক ক্ষেত্রেই।

Avatar: shatadal

Re: ইসকুল-টিসকুল

সাহায্য করতেই পারেন। রানার সাথে সোজাসুজি যোগাযোগ করে জানতে চান স্কুলের জন্য কি দরকার। তারপর সেটি কিনে দিন। রানা বলুন জিনিষটি তিনি নিজের টাকায় কিনে দিলেন।

দুটি সমস্যা। এক, আপনার নিজের নাম একেবারে আড়ালেই থাকল। দুই, রানা এতে রাজী না হতে পারেন। আপনার সাথে কোন কারণে মতান্তর হলে উনি খারাপ কথা শোনার ঝুঁকি না নিতেই পারেন। দ্বিতীয় কথা, এভাবে বেশী সাহায্য করতে পারবেন না। রানা অনেক টাকা পকেট থেকে বের করছেন এটা চাউর হয়ে গেলে ওনার অসুবিধা হতে পারে।
Avatar: -

Re: ইসকুল-টিসকুল

টাকাটা মনে হয় তেমন বড় সমস্যা না। সমস্যা হল মানুষ-মানসিকতার। যদ্দুর সম্ভব।
Avatar: Abhyu

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাণা, খুবই উল্লেখযোগ্য কাজ করেছ।
- ছেলে মেয়েদের আলাদা টয়লেট,
- পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা,
- প্রত্যেক ঘরে ইলেক্ট্রিফিকেশন,
- হোয়াইট বোর্ড,
- লাইব্রেরি,
- খেলার সরঞ্জাম, দেওয়াল পত্রিকা
- রেজাল্টের ভিত্তিতে এবার আমার এগারো জন ছেলেমেয়ে সরকার থেকে বার্ষিক স্কলারশিপ পেয়েছে।
- রাজবংশী আর মুসলিম ছেলেমেয়েদের জন্য স্কুলের উদ্যোগে বিডিও অফিসের সাথে যোগাযোগ করে এসসি আর ওবিসি সার্টিফিকেট করিয়েছি যাতে তারা সংরক্ষণের সুবিধে পায়।
এগুলো প্রত্যেকটিই আলাদাভাবে প্রশংসার দাবী রাখে। তোমার নিজের বাড়তি ক্লাস নেওয়া ছাড়াও পিছিয়ে পড়া ছেলে মেয়েদের নিয়ে অনেকগুলো সাব গ্রুপ তৈরী করে প্রথম সারির ছেলে মেয়েদের দিয়ে আলাদা ক্লাস নেবার প্রকল্পটা খুব ভালো। এটা অত্যন্ত এফেকটিভ এবং পরীক্ষিত একটি মেথড। সাফল্য আসবেই।
তুমি যখন অন্যত্র ট্রান্সফার নেবে তখন মনে হয় ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে আটকাতে আসবে। ভালো থেকো।
Avatar: pi

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাণা, যা করছিস, তার জন্য কোন কথাই যথেষ্ট নয়, তোর সাথে আলাদা কিছু কথাও বলার আছে। এখন একটা দুটো জিনিস একটু জানার ছিল।

তোরা কি প্যারা টিচার নিতে পারিস ? থাকলে তাঁদের নিয়ে অভিজ্ঞতা কীরকম ?

আর এখানে কি এই নিউ সেট আপ স্কুলের ডাটা এসেছে ? তোদের স্কুলের ডাটা ঢুকেছে ?
http://schoolreportcards.in/SRC-New/Default.aspx
জানতে চাইছি কারণ, এই স্কুলগুলির এই ভয়াবহ স্টুডেন্ট-টিচার রেশিও পঃবঙ্গের রিপোর্ট কার্ডে প্রতিফলিত হয় কিনা জানতে চাইছিলাম।


ওদিকে আমার এক আত্মীয়া হাওড়ার এক গ্রামের স্কুলের শিক্ষিকা। ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগই অত্যন্ত গরীব মুসলিম, বাড়ির লোকজন এবং তারাও বেশিরভাগ জরির কাজের সাথে যুক্ত। এবার ওদের সমস্যা হল বেশি ছাত্র-ছাত্রী নয়, উল্টোটা। কারণ নিতান্তই গরীব না হলে, মানে সামান্য অর্থ সামর্থ্য থাকলেই বাবা মা কোন না কোন ইংলিশ, মানে প্রাইভেট স্কুলে বাচ্চাদের পাঠিয়ে দেন, না, সেখানে শুধু ইংলিশ বলেই না, পড়াশুনোই কিছু হবে বলে। সরকারি স্কুলের উপর কোন আস্থাই নেই। তো, ওদের জিগেশ করলাম, তোরা তো পড়াস। বললো, কীভাবে কী পড়াবো। মিড ডে মিলের পরে সব কেটে পড়ে, স্কুলে একটা সিকিওরিটিও নেই, যা বাচ্চাদের আটকে রাখবে। পরিকাঠামো তো ভয়াবহই। ওখানে শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্যেও কোন বাথরুম ছিল না, ছাত্রছাত্রীদের জন্য দূরস্থান, আলাদা বাথরুম তো অনেক পরের কথা। এইসব আরো অনেক কিছু। এখন সরকার থেকে বলেছে, ওদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝাতে হবে, সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের পাঠানোর জন্য, ওরা বোঝায়ওও, ফল তেমন কিছু হয়নি এখনো ( এর মধ্যেও যেটুকু আশার কথা, সেটা হল স্কুলে মুসলিম ছাত্রী অনেক)। আগে শিক্ষার বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে বলতাম, এখন তো মনে হয়, মানে অন্তত ঃ এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যদি কিছু অঞ্চলে এই বেসরকারি স্কুলে কিছুটা ছাত্রভার চলে যাওয়ায় সেখানকার সরকারি স্কুলে যে এক্স্ট্রা শিক্ষক সিক্ষিকা থাকছেন তাঁদের তোদের মত স্কুলগুলোতে পাঠিয়ে দেবার কোন নিয়ম থাকতো ! তবে সেটা আদৌ কোন স্থায়ী বা কোন সমাধান ই হয়তো নয়। এত শূন্য শিক্ষকপদ থাকতেও নিয়োগ কীভাবে কেন আটকে থাকে জানিনা। গ্রামে ডাক্তারের অভাবজনিত সমস্যার একটা বড় কারণ অনেক ডাক্তার প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেতে চাননা। শিক্ষকদের তো যাওয়া এখন বাধ্যতামূলক, আর অনেকেই এই চাকরির জন্য পদপ্রার্থী। তারপরে এই নিয়োগ না করা, পরিকাঠামোর এই দশা, এগুলো কি আসলেতে সরকারি ব্যবস্থাটা একেবারে লাটে তুলে দেওয়ার কোন চক্রান্তের অংশ নাকি এসবের ডিসিশন মেকিং এর সাথে কিছু লোকের সদিচ্ছা বা পারদর্শিতার অভাব, বুঝতে পারিনা।





Avatar: sosen

Re: ইসকুল-টিসকুল

সুচিত্রা ভটচাজের একটা অম্নি লেখায় ছিল এস এস সিতে চাগ্রি পেয়ে গিয়ে একজন দেখে ইস্কুল -ই নেই। কাছাকাছি অভিজ্ঞতা একজনের -চালা বাঁধা ইস্কুল , দরজা জানালা দেওয়াল কিছু নাই। চালার নিচে মিড ডে মিল রান্না হয়, মাস্টারেরা তদারক করেন, বাচ্চারা এসে খেয়ে আবার বাড়ি চলে যায়-বা জন খাটতে। ঐ চালার দেওয়াল তোলার টাকা নাকি বছরের পর বছর ধরে এসেই চলেছে।
Avatar: Tim

Re: ইসকুল-টিসকুল

আমার জানা কিছু প্রাইমারি স্কুল এভাবে চলছে, দঃ চব্বিশ পরগণায়। তবে সেখানে পড়াশুনো হয়, খুব আস্তে হলেও, একটা করে পাকা ঘর ওঠে। আর প্রচুর টাকা চুরি হয়, মানে লোকাল পলিটিকাল পার্টির হাত হয়ে টাকা আসে, বা সই লাগে এরকম কিছু একটা।
অভ্যু লিখেছে দেখলাম। খুব জটপাকানো পরিস্থিতি। সহজে অবস্থা পাল্টানোর অসুবিধে আছে। এইসব স্কুলগুলোতে যারা পড়তে আসে তাদের অনেকেই চাষ বা অন্য কোন কাজের পিক সিজনে লাগাতার স্কুলে আসেনা। মিনিমাম ওয়েজ বলে কিছু নেই তাই অনেক খেটেও সুরাহা খুব একটা হয়না।
Avatar: Biplob Rahman

Re: ইসকুল-টিসকুল

"নিম্নবর্গের এবং খেটে খাওয়া হিন্দু-মুসলমান ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি এক শ্রেণীর শিক্ষক-শিক্ষিকা রীতিমত সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ আর ঘেন্না পোষণ করেন।এ আমার নিজের চোখে দেখা।"

গুরুতর বিষয়। এপারেও অনেক শিক্ষক এমন হীন মত পোষণ করেন, নিম্ন বর্গের শিখ্খার্থীদের টয়লেট পরিনকার করতে হুকুম দিয়েছেন, এমনও হয়েছে।

শিহ্ককদের আগে শিক্ষা দরকার।
Avatar: Rana Alam

Re: ইসকুল-টিসকুল

একক, এগিয়ে থাকা ছাত্র ছাত্রীদের দিয়ে পিছিয়ে থাকাদের পড়ানোর আইডিয়াটা তোমার দেওয়া।সেটা এখানে বলা উচিত।আমি জাস্ট ইমপ্লিমেন্ট করার চেষ্টা করেছি।এবং এখন অব্দি এটা বেশ সফল।তবে স্কুল আওয়ারস এক্ষেত্রে সমস্যার।
Avatar: Rana Alam

Re: ইসকুল-টিসকুল

যারা সাহায্য করতে চাইছেন তাদের ধন্যবাদ।কিন্তু এভাবে তো পরিস্থিতির সুরাহা হচ্ছেনা,মানে এটা তো স্থায়ী সমাধান নয়। আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা দিয়ে এটুকু বুঝেছি যে এই স্কুলের পড়াশুনোটাকে কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করতে হবে।নইলে পড়ে কি হবে গোছের প্রশ্ন শুনতেই হবে।

বেশ কিছু স্কুলে ভোকেশনাল এডুকেশন চালু আছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার হাল খারাপ।চলতে হয়। তাই চলছে।
Avatar: Rana Alam

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাজনৈতিক পরিস্থিতি একটা বড় ফ্যাক্টর।আমি মিড ডে মিল প্রকল্প থেকে একটা অ্যাডিশনাল রান্নাঘর পেয়েছি।২০১৩ সালে স্যাংশন হয়েছিল।বিডিও অফিস ঘুরে ঘুরে শেষ অব্দি ২০১৫ তে মাননীয় বিডিও দয়া করে টেন্ডার ডেকেছেন।স্থানীয় মেম্বার এলেন খবরটা দিতে।ঠিকাদার তার পার্টির লোক।আমি ঠিকাদারের ওয়ার্ক শিডিউল চাইলাম।সেই মেম্বার সবার সামনে দিব্যি হাসতে হাসতে বললেন,
" আপনি উসব লিয়ে কি করবেন? আমি দুপয়সা খাবোনা নাকি?"

সমস্যাটা এইখানে।রঘুনাথগঞ্জেই শ্রীকান্তবাটী নামে একটা হাইস্কুল আছে। হেডস্যার উৎপল দা দারুণ কাজের লোক।স্কুলটা খুব ভালো গড়ে তুলছেন।কিছুদিন আগে শাসক দলের এক শিক্ষক নেতার মদতে তাকে স্কুলের মধ্যেই হেনস্থা করা হল।এরকম চললে তো কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে যায়।

অবশ্য উল্টোটাও আছে। মুর্শিদাবাদ জেলাতেই একাধিক হাইস্কুল আছে যেখানে হেডস্যার আর ম্যানেজিং কমিটি মিলে সর্বশিক্ষার লাখ লাখ টাকা জাস্ট মেরে দিয়েছে।

ধরুন সর্বশিক্ষা কাউকে এক লাখ টাকা দিল।তার মানে ওই টাকার মধ্যে টেন পার্সেন্ট ঠিকাদারের প্রফিট ধরা থাকে।এর মানে যদি কেউ নিজে হাতে লেবার টেন্ডার দিয়ে কাজ করে তাহলে দশ হাজার এমনিতেই বাঁচার কথা।আমরা এবং অনেক স্কুল এভাবেই প্রচুর টাকা বাঁচিয়ে স্কুলের চেয়ার বেঞ্চ,রং,গ্রিল ইত্যাদি করেছি।

এরকম গুচ্ছের স্কুল আছে যেখানে গাদা গাদা অনুদান পাওয়া সত্ত্বেও তিনতলার ঘরের দরজা জানালা হয়নি টাকার অভাবে।মানে বুঝে নিন যে কি পরিমাণ টাকা মেরেছে।
Avatar: Rana Alam

Re: ইসকুল-টিসকুল

আমি একটা স্কুলের কথা বলছি।মুর্শিদাবাদের পাঁচগ্রামের দিকে ইন্দ্রানী নামের জায়গাতে স্কুলটা আছে। সর্বশিক্ষার টাকা আর শিক্ষকদের সদিচ্ছা একসাথে যুক্ত হলে কি হতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ এই স্কুলটা।ওখানে প্রজেক্টরে ক্লাস হয়। ছাত্র ছাত্রিরা নিজেরা ডকুমেন্টারি বানায়।
Avatar: Rana Alam

Re: ইসকুল-টিসকুল


আমি নিজে ইংরাজি পড়াই।বইএর কন্টেন্ট আরবান ফোকাসড।গ্রামের ছেলে মেয়েরা নিজেদের অ্যাসোসিয়েট করতে পারেনা।এইটে মস্ত বড় সমস্যা। আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষাটা বড্ড অবহেলিত।আমার স্কুলে যারা আসে তাদের বেশিরভাগের দেখেছি ক্লাসে বসে পড়াশুনোর হ্যাবিটটাই তৈরী হয়নি।কারণ প্রাইমারি স্কুলে ওই গরুর পালের মতই দিন কেটে যায়।ভাবুন যে এবার অন্তত পাঁচজন কে পেয়েছি যারা ক্লাস ফাইভে ভর্তি হয়েছে এবং ইংরেজি বাংলা কিস্যু জানেনা।এরা ফোর পাস করলো কি করে?

এবার গোড়ায় ভাবুন।ক্লাস এইট অব্দি পাস ফেল নেই।যা হবার তাই হচ্ছে।সরকার সাক্ষরের সংখ্যা দেখিয়ে বাহবা লুটছে।অথচ যেটাকে এফেক্টিভ লিটারেসি বলে তার হার খুবই কম।এফেক্টিভ মানে সেকি ব্যাঙ্কে ফর্ম ফিলাপ করতে পারে বা অফিস কাছারির লেখাপত্তর প্রাথমিকভাবে করতে পারে ইত্যাদি।২০১০ এর একটা ডেটা পেয়েছিলাম যে পশ্চিমবঙ্গে এই এফেক্টিভ লিটারেসি মোটামুটি ৩৫%।


Avatar: Abhyu

Re: ইসকুল-টিসকুল

রাণা 10 March 2015 23:07:25 IST - গুচ্ছ গুচ্ছ ক।
Avatar: Abhyu

Re: ইসকুল-টিসকুল

এতো গুরুগম্ভীর আলোচনা মাঝে একটা সত্যি ঘটনা শুনুন। আমার মামা গড়বেতার (আজ্ঞে হ্যাঁ সেই গড়বেতা) একটা মাধ্যমিক স্কুলে জীবন বিজ্ঞান পড়াতো। তা, টেস্টের পরে মাধ্যমিকের সাজেশন নিতে এসেছে। মামা বলল লিখে নে
- সালোকসংশ্লেষ...
ছেলেটা ইতস্ততঃ করছে।
- কি হল, লেখ।
ছেলেটা লেখে আর না।
- কি হল রে বাবা?
- স্যার, দন্ত্য-স টা ভুলে গেছি।
Avatar: Atoz

Re: ইসকুল-টিসকুল

অ্যাঁ!!!!
কী সাংঘাতিক!

মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন