Atindriyo Chakrabarty RSS feed

Atindriyo Chakrabartyএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

একটি উৎসব, দুইটি নরমেধ, একটি কমিশান, একটি দরখাস্ত ও সেই দরখাস্তের উত্তর।

Atindriyo Chakrabarty

বীজ বপনের উৎসব বীজ পাণ্ডুম। ব্যাঙ-বিয়ের পর বর্ষা আসে। তারপর চাষবাস শুরু হবে। তাই বীজ ছড়ানোর পালা। মাসটা হল বীজ বপনের মাস বীজ নেল্লা। সমগ্র বস্তার-সম্ভাগ জুড়ে হয়। গোঁড় আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত।

প্রথম ঘটনাস্থল: গ্রাম সারেকেগুড়া-কোট্টাগুড়া-রাজপেট্টার মধ্যিখানের মাঠ, থানা বাসাগুড়া, জেলা বীজাপুর, সম্ভাগ বস্তার, রাজ্য ছত্তিসগড়।

২৮শে জুন ২০১২র রাত। বীজ পাণ্ডুম আসন্ন। এবার ধুম কিরকম হবে সে বিষয়ে চর্চা চলছে। তিন গ্রামের মরদ হাজির। এমন সময় তিন দিক থেকে আছড়ে পড়ল অজস্র গুলি। বনের পথ ধরে নিঃশব্দে হাজির সি-আর-পি-এফ ও অন্যান্য সুরক্ষাবাহিনীর বন্দুকধারী কর্মীবৃন্দ। সেদিন রাত্রেই ১৫ জন আদিবাসী মারা গেলেন। ডাঁই করে আহত-নিহতদের যথাক্রমে নিকটস্থ বাসাগুড়ার হাসপাতাল ও মর্গে নিয়ে যাওয়া হল ২৯ তারিখ ভোর ভোর নাগাদ। হাসপাতালেই মারা গেলেন একজন। সুরক্ষাবাহিনীসমূহের কিছু সদস্য থেকে গেছিলেন গ্রামেই সারারাত। পরদিন সকাল সকাল ইরপা রমেশ নামে একজনকে পিটিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। ডেথকাউণ্ট ১৭। পুলিশি বয়ান অনুসারে ১২ বছরের একটা মেয়ে বাদে নিহত সকলেই নকশাল। যদিও একই বয়ান এও বলে যে অন্ধকারে কাউকে দেখা যাচ্ছিল না, আলোর একমাত্র উৎস ছিলো তাদের নিজেদেরই বন্দুকের মাজল-ফ্ল্যাশ। ঘটনার দু’মাস পর দুইজনকে নকশাল চার্জ লাগিয়ে গ্রেফতার করা হয়, যাদের মধ্যে একজনের নাম কাকা রাহুল, বয়স বারো, ইস্কুলে পড়ে।
যৌথবাহিনীর সবমিলিয়ে ছয়জন সদস্য আহত, যদিও গ্রামের থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের হদিশ মেলে নি। ব্যালেন্স অফ প্রোব্যাবিলিটিস অনুসারে ঘোর অন্ধকারে তিন (কোনো কোনো গ্রামবাসীর মতে চার) দিন থেকে গুলি চালানোর ফলে যৌথবাহিনীর সেই ছয় ফৌজি তাঁদের সহকর্মীদের বন্দুক থেকে বেরোনো গুলি থেকে আহত হয়েছেন।

গ্রামের মানুষ রেগে ওঠে। মিডিয়ার দ্বারস্থ হন। এমনকি দিল্লি গিয়ে শিবরাজ পাটিলের সাথে দেখা পর্যন্ত করে আসেন সেই গ্রামের এক মহিলা। ন্যাশনাল মিডিয়ার তৎপরতায় এই এনকাউণ্টারের খবর দেশময় ছড়িয়ে যায়। তড়িঘড়ি ছত্তিসগড় সরকার ঘোষণা করে যে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত জজ ভি কে অগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে একটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। সি-আর-পি-এফ-এর তরফ থেকে গ্রামে চাল-ডালের রেশন দেওয়ার একটা চেষ্টা হয়েছিলো, তবে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী সে’সব নিতে অস্বীকার করে। কমিশন গঠিত হয় ঘটনার ছয় মাস পর, ডিসেম্বর ২০১২-এ। কমিশনের প্রসঙ্গে পরে আসবো।

ঘটনার এক সপ্তাহ পরই সি-আর-পি-এফের ক্যাম্প গঠিত হয় গ্রামের পাশেই। বিভিন্ন গ্রামবাসী জানিয়েছেন কিভাবে দৈনন্দিন তাঁদের অপদস্থ করা হয়ে থাকে। একজন বীজাপুর সদর-টাউন থেকে একটা বাল্ব আর একগুচ্ছো ইলেক্ট্রিকের তার নিয়ে আসছিলেন এবং সেই তার দেখে তাঁকে বাসাগুড়া থানার কাছে থামিয়ে ক্যাম্পে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, দুই ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়। আরেকটা ঘটনায় পনেরো বছরের এক বালককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাম্পে। গ্রামবাসীরা, বিশেষত গ্রামের মহিলারা ক্যাম্পের সামনে জড়ো হলে তাঁদের জানানো হয় যে ছেলেটা নকশাল। অনেক কথাকাটাকাটির পর সেই বালককে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে এবং গ্রামের আরো কিছু মানুষ প্রাণভয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্ধ্রপ্রদেশে চলে গ্যাছেন। গ্রে’হাউণ্ডের তাড়া খেয়ে তাঁরা হয়তো অন্যত্র কোথাও চলে যাবেন ফের। গ্রামবাসীদের প্রতি গতিবিধির উপর নজর রাখছে পুলিশ। কোনো কাজে গ্রামের সীমানার বাইরে যেতে হলে পুলিশের পার্মিশান নিতে হয়। জেলখানায় পরিণত হয়েছে সেই গ্রাম।



দ্বিতীয় ঘটনাস্থল: গ্রাম এডেস্মেটা, থানা গঙ্গালুর, জেলা বীজাপুর, সম্ভাগ বস্তার, রাজ্য ছত্তিসগড়।

১৯.০৫.২০১৩ তারিখে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে ১৭.০৫.২০১৩-এ উক্ত গ্রামে একটি ‘ভুটমেড়’ ঘটেছে। ভুটমেড় মানে এনকাউণ্টার। আটজন গ্রামবাসী মারা গ্যাছেন, বাইশজন নিখোঁজ। কিছু প্রতিবেদন বলে যে একজন পুলিশকর্মী মারা গেছেন। আবার কিছু সাংবাদিককে স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান নে সেই পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে ক্রস-ফায়ারিঙে। প্রতিবেদনগুলো থেকে এও জানা যায় যে নিহতদের পরিবারপিছু পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্যসরকার এবং মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত জজ ভি কে অগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে একটা তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।
গঙ্গালুর থানা ছাড়িয়ে গাড়ি দুই তিন কিলোমিটারের বেশী যেতে পারে না কারণ পথ এবরো খেবরো। দ্বিচক্রবাহনও আর কিছুদূর গিয়ে চলনক্ষম। উঁচু নীচু টিলা বরাবর অরণ্যাবৃত পথ পাহাড়ের গা ধরে। একটা ঝর্ণা টপকিয়ে অবশেষে গ্রাম এডেসমেটা।

অজস্র তেঁতুলগাছে ঘেরা গ্রাম, সাকুল্যে তিনশো জন মানুষ থাকে। এডেসমেটা কথাটাও এসেছে তেঁতুলের গোঁড়ী নাম থেকে। মূল জীবিকা কৃষিকাজ আর বনোপজ সংগ্রহ করে হাটবারে বিক্রিবাট্টা। হাটবারে আরেকটা জিনিস বিক্রি হয় – দেশী মদ সালফি, ঘরে ঘরে তৈরী হয়।

প্রশাসনের তরফ থেকে এই গ্রামে শেষ কোনো সরকারী কর্মচারী আসেন ২০০১ সালের আদমশুমারির সময়।

বীজ পাণ্ডুমে মেয়েদের আসা বারন। সেদিন সতেরো তারিখ রাত আট-টা নাগাদ গ্রামের ছেলেবুড়ো মিলিয়ে সমস্ত পুরুষ জমায়েত হয়েছিলো। আমের আঁটি, ধানের শিস চাষের সরঞ্জাম এইসব প্রথামাফিক ডাঁই করে পুজো করার তোড়জোড় চলছিল। উৎসব চলার কথা প্রায় রাত দুটো অবধি। সেইসময় গ্রামের সব পুরুষেরা ক্ষেতে গিয়ে সিম্বলিক ভাবে কটা বীজ পুঁতে আসে। সে’সবের তোড়জোড় চলছিল তখন। মুর্গী বলি দেওয়া হয়েছিলো। আগুন জ্বালিয়ে তার চারিদিকে নাচছিলো সবাই মিলে। দুটো কচি ছেলে পাহাড়ি ঝোরাটার কাছে জল আনতে গেল। আর তাদের পিছন থেকে গ্যাগ করে ধরে মাটিতে চেপে ধরল কয়েকটা জমকালো ছায়ামুর্তির মতো কেউ যারা অন্ধকারে ঘাপটি মেরে ওত পেতে ছিলো ততক্ষণ।

একটা ছেলে কোনো রকমে পিছলে বেরিয়ে গিয়ে দৌঁড় লাগালো গ্রামের দিকে চিৎকার করতে করতে। সেই চিৎকারে অন্ধকার পাহাড়ের ঢালজোড়া জঙ্গল দেবগুড়ি থেকে বেরিয়ে এলো জনা তিনশ’র সশস্ত্র পুলিশবাহিনী। শুরু হল এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ। গ্রামের উপর চারিদিকের পাহাড় থেকে তীব্রগতিতে বুলেটবৃষ্টি চলল বেশ কিছুক্ষণ। ভীতচকিত গ্রামবাসীরা এলোমেলো দৌঁড়তে আরম্ভ করল। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়ল আটজন -
করম গুড্ডু, করম পাণ্ডু, করম জগা, করম সোমালু, পুনম সোমু, পুনম লখম আর করম মাসা। গুড্ডু আর পুনমের বয়স দশের আশপাশে। করম পাণ্ডু গ্রামের বড় পুজারি। তার ছেলে করম সোমালু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো পঞ্চান্ন বছর। উপস্থিত বাকিরা জঙ্গলের আবডালে আত্মগোপন করল। তাই কাগজ বলে, বাইশজন নিখোঁজ।

কেউ কেউ একদিন পরে ফিরল, কেউ কেউ তিনদিন পর। আটজনের লাশ জড়ো করে রাখা হল গ্রামের মাঠে। ১৭ থেকে ১৯ তারিখ অবধি। দিনের তাপমাত্রা তখন ৪৫ ডিগ্রী। পচে গলে ফুলে ফেঁপে ওঠা লাশগুলোর চারিদিকে বিভিন্ন মাংসাশী পোকামাকড় জড়ো হল। এবং জড় হলেন গ্রামের মেয়েরা। ১৯ তারিখ ট্র্যাকটরে করে লাশগুলো বীজাপুর নিয়ে যাওয়া হল পোস্ট মর্টেমের জন্য। কিছু কিছু মিডিয়ার লোকজন এলো, গ্রামের মেয়েদের কান্না, প্রতিবাদ, চিৎকার, হাহুতাশ এইগুলো খাসখবরে মানাতো। ডাক্তার সুজিত বিশ্বাস পোস্ট মর্টেম মারফৎ জানালেন যে গুলির আঘাত থেকে এই আটজন মারা গেছেন। হনুমান একবার বলে উঠেছিলো - ‘রাবণ বোধ হয় আসছে’।
ইতিমধ্যে আরো তিনজনের লাশ পাওয়া গেলো। পুনম লক্কু, করম বদ্রু, পুনম সোলু। লক্কুর বয়স বারোর কাছাকাছি। বদ্রুর বয়স সাতের কাছাকাছি। বদ্রুর বাপ জগাও সেইদিন গুলি খেয়ে মারা গেছিলেন। পুনমের লক্কুর ভাই পুনম সোমালুর বয়স তখন ছিলো পনেরোর কাছাকাছি। সে তীব্রভাবে আহত হয়েছিলো। বারো বছরের ছোটুরও খুবসে চোট লেগেছিলো সেইদিন। গ্রামের কোথাও থেকে কোনো বন্দুক বা কোনো ধরণের অস্ত্রশস্ত্র বের হয় নি। কোথাও কোনো নকশাল ছিলো না। এইগুলো সাব্যস্ত হয়েছে। যে পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন, ব্যালেন্স অফ প্রোব্যাবিলিটিস এবং তাঁর গায়ে লাগা কার্তুজের ধরণ সবই বলে গুলিটা বেরিয়েছিলো ঐ এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের সময় তাঁরই কোনো সহকর্মীর বন্দুক থেকে।


কাউণ্টার-ইন্সার্জেন্সির দাপটে বীজাপুর থেকে বীজ পাণ্ডুম উৎসব অবলুপ্তির পথে।


জাস্টিস (রিটায়ার্ড) ভি-কে-অগরওয়াল তদন্ত কমিশন

সারকেগুড়া কাণ্ডের বার্তা দেশময় রুটি গেলে ক্রমে ছত্তিসগড় রাজ্য সরকার ডিসেম্বর ২০১২-এ জাস্টিস ভি-কে অগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে জ্যুডিশিয়াল এনকোয়্যারী কমিশন গঠন করে। কমিশনের স্থান নির্দিষ্ট হয় ঘটনাস্থল থেকে চারশো কিলোমিটারেরও বেশী দূরে – রাজধানী রায়পুরের বাসস্ট্যাণ্ডের পিছনের একটা সরকারী ভবনে। সরকারী পক্ষ থেকে এ’বিষয়ে গ্রামবাসীকে জানানো হয় নি। মিডিয়ার বদান্যতায় খবর পেয়ে জানুয়ারি ২০১৩-এ গ্রামবাসীরা জবানবন্দী দেয়। সুরক্ষাবাহিনীর তরফ থেকে সেপ্টেম্বর মাসে জবাব আসে। ততদিনে এডেসমেটা-কাণ্ড ঘটে গিয়েছে এবং ঐ একই তদন্ত কমিশনের উপর ভার পড়েছে সেটা নিয়ে জ্যুডিশিয়াল এনকোয়্যারি করার। ইতিমধ্যে যেইদিন সারকেগুড়ার গুলিকাণ্ড ঘটে, সেইদিনই নকশাল ও পুলিশবাহিণীর মধ্যে প্রবল গুলিবিনিময় হয় একই জেলার সিলগার আর চিমলিপেণ্টায়। সেই ঘটনাগুলোর উপর তদন্ত করার ভার ঐ কমিশনেরই।

এত দায়ভার আসার পর কমিশনের আরেকটা সীট গঠন করা হয় জগদলপুর শহরে। চারটে ঘটনার মধ্যে দুটোতে সত্যিকারের নকশালবাহিনীর সাথে পুলিশবাহিনীর গুলিবিনিময় হয়েছে, দুটোতে বীজ পণ্ডুম উৎসব উপলক্ষে জমায়েত নিরস্ত্র গ্রামবাসীর উপর গুলি চলেছে। ১৬ই আর ১৭ই ডিসেম্বর ২০১৩ একত্রে সারকেগুড়া ও এডেসমেটার মানুষের জবানবন্দী গ্রহণের দিন ধার্য্য হয়। এডেসমেটা থেকে কেউ আসে নি। সারকেগুড়া-কোট্টাগুড়া-রাজপেট্টা থেকে ১৪জন এসে জবানবন্দী দেন এবং পুলিশপক্ষের উকিলের তীব্র ক্রস কোয়েশ্চিঙের সামনে পড়েন। এঁরা কেউই কোর্টপকাছারির মুখ দেখেন নি আগে বিশেষ। সবাই ভীতচকিত হয়ে যায় আর পুলিশপক্ষের উকিল কাঠগড়ার খুব কাছাকাছি এসে চিৎকার চ্যাঁচামেচি করেন আর স্থানীয় সি-পি-আই-এম এঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শুনে তীব্র ভাবে জজসায়েবকে বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন যে এর থেকেই বোঝা যায় যে এঁরা নকশাল। তারপর ১৭ই জুলাই ২০১৪-এ রায়পুরে সারকেগুড়া গুলিকাণ্ডের বিবৃতি যে সকল সাংবাদিক দিয়েছিলেন, তাদের জবানবন্দী নেওয়া হয়। অতঃপর এ’বিষয়ে কমিশন শান্ত। যদিও সিলগার আর চিম্লিপেট্টার ঘটনার শুনানিসমূহ বেশ তৎপরতার সাথেই হয়েছে। আশির দশকে আসামে উত্তর পুর্বাঞ্চলের অস্থিরতা ও বিভিন্ন এনকাউণ্টার খতিয়ে দেখতে যে জুডিশিয়াল এনকোয়্যারী কমিশন গঠিত হয় সেটার রিপোর্ট ও সুপারিশসমূহ পার্লামেণ্টে টেবলস্থও হয় নি। সাচার কমিশনের সংখ্যালঘু রিপোর্ট নিয়ে অ্যাকাডেমিক মহলে নানান চর্চাচাপাটি হলেও লীগালী বাইণ্ডিং কোনোকিছুই হয় নি সেই রিপোর্ট অনুসারে।




RTIচরিত

সিভিল সোসাইটির মানবাধিকার গোষ্ঠীবর্গ ও সংগঠনসমূহর দিকে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে নকশাল সিম্প্যাথাইসার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বলা হয় যে এত আদিবাসীর মারা যাওয়ার খবর জানানো হয়, কৈ, কোনো সুরক্ষাকর্মীর মৃত্যুর বিষয়ে তো কেউ কিছু বলে না?
এই প্রসঙ্গে সি-আর-পি-এফ-এর ডায়রেক্টর জেনারেলের নয়া দিল্লীর লোধি রোডে অবস্থিত অফিসে একটা আর-টি-আই অ্যাপ্লিকেশন করা হয় ২০১৪ সালের ১৪ই এপ্রিল। দিল্লী নিবাসী শ্রী ভেঙ্কটেশ নায়েক সেই অ্যাপ্লিকেশান মারফৎ জানতে চান বিহার ও ছত্তিসগড়ে ২০১৪র কেন্দ্রীয় নির্বাচন চলাকালীন নকশাল আক্রমনে যে সকল সি-আর-পি-এফ-এর কর্মী মারা গিয়েছেন তাঁদের বিষয়ে কি তদন্ত করা হয়েছে, কি কি এফ-আই-আর করা হয়েছে, এবং কি কি স্টেপ নেওয়া হয়েছে। উক্ত ডি-জি অফিসের পাব্লিক ইনফর্মেশান অফিসার এর উত্তরে ঐ সালেরই মে মাসে জানান যে দেশের সুরক্ষার কারণে এ’সব তথ্য দেওয়া যাবে না। তথ্য ছাড়া নিহত জওয়ানদের বেঁচে থাকার মৌলিক মানবাধিকার বিষয়ে কোনো কাজ করা কি আদৌ সম্ভব?

বিলাসপুর
সেপ্টেম্বর ২০১৪


210 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন



আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন