মোহর RSS feed

[email protected]
Tengo miedo de buscarte y de encontrarte

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • দক্ষিণের কড়চা
    গরু বাগদির মর্মরহস্য➡️মাঝে কেবল একটি একক বাঁশের সাঁকো। তার দোসর আরেকটি ধরার বাঁশ লম্বালম্বি। সাঁকোর নিচে অতিদূর জ্বরের মতো পাতলা একটি খাল নিজের গায়ে কচুরিপানার চাদর জড়িয়ে রুগ্ন বহুকাল। খালটি জলনিকাশির। ঘোর বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে পচা লাশের মতো। যেহেতু এই ...
  • বাংলায় এনআরসি ?
    বাংলায় শেষমেস এনআরসি হবে, না হবে না, জানি না। তবে গ্রামের সাধারণ নিরক্ষর মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আজ ব্লক অফিসে গেছিলাম। দেখে তাজ্জব! এত এত মানু্ষের রেশন কার্ডে ভুল! কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানলাম প্রায় সবার ভোটারেও ভুল। সব আইকার্ড নির্ভুল আছে এমন ...
  • যান্ত্রিক বিপিন
    (১)বিপিন বাবু সোদপুর থেকে ডি এন ৪৬ ধরবেন। প্রতিদিন’ই ধরেন। গত তিন-চার বছর ধরে এটাই বিপিন’বাবুর অফিস যাওয়ার রুট। হিতাচি এসি কোম্পানীর সিনিয়র টেকনিশিয়ন, বয়েস আটান্ন। এত বেশী বয়েসে বাড়ি বাড়ি ঘুরে এসি সার্ভিসিং করা, ইন্সটল করা একটু চাপ।ভুল বললাম, অনেকটাই চাপ। ...
  • কাইট রানার ও তার বাপের গল্প
    গত তিন বছর ধরে ছেলের খুব ঘুড়ি ওড়ানোর শখ। গত দুবার আমাকে দিয়ে ঘুড়ি লাটাই কিনিয়েছে কিন্তু ওড়াতে পারেনা - কায়দা করার আগেই ঘুড়ি ছিঁড়ে যায়। গত বছর আমাকে নিয়ে ছাদে গেছিল কিন্তু এই ব্যপারে আমিও তথৈবচ - ছোটবেলায় মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঘুড়ি ওড়ানো "বদ ছেলে" দের ...
  • কুচু-মনা উপাখ্যান
    ১৯৮৩ সনের মাঝামাঝি অকস্মাৎ আমাদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ(ক) শ্রেণী দুই দলে বিভক্ত হইয়া গেল।এতদিন ক্লাসে নিরঙ্কুশ তথা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করিয়া ছিল কুচু। কুচুর ভাল নাম কচ কুমার অধিকারী। সে ক্লাসে স্বীয় মহিমায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছিল। একটি গান অবিকল ...
  • 'আইনি পথে' অর্জিত অধিকার হরণ
    ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম ও কর্পোরেট পুঁজির স্বার্থে, দীর্ঘসংগ্রামে অর্জিত অধিকার সমূহকে মোদী সরকার হরণ করছে— আলোচনা করলেন রতন গায়েন। দেশে নয়া উদারবাদী অর্থনীতি লাগু হওয়ার পর থেকেই দক্ষিণপন্থার সুদিন সূচিত হয়েছে। তথাপি ১৯৯০-২০১৪-র মধ্যবর্তী সময়ে ...
  • সম্পাদকীয়-- অর্থনৈতিক সংকটের স্বরূপ
    মোদীর সিংহগর্জন আর অর্থনৈতিক সংকটের তীব্রতাকে চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে ভারতের অর্থনীতি সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। সংকট কতটা গভীর সেটা তার স্বীকারোক্তিতে ধরা পড়েনি। ধরা পড়েনি এই নির্মম ...
  • কাশ্মীরি পন্ডিত বিতাড়নঃ মিথ, ইতিহাস ও রাজনীতি
    কাশ্মীরে ডোগরা রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবার পর তাদের আত্মীয় পরিজনেরা কাশ্মীর উপত্যকায় বসতি শুরু করে। কাশ্মীরি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও ছিলেন। এরা শিক্ষিত উচ্চ মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেনি। দেশভাগের পরেও এদের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। অন্যদিকে ...
  • নিকানো উঠোনে ঝরে রোদ
    "তেরশত নদী শুধায় আমাকে, কোথা থেকে তুমি এলে ?আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে ..."সেই অক্ষরগুলোকে ধরার আরেকটা অক্ষম চেষ্টা, আমার নতুন লেখায় ... এক বন্ধু অনেকদিন আগে বলেছিলো, 'আঙ্গুলের গভীর বন্দর থেকে যে নৌকোগুলো ছাড়ে সেগুলো ঠিক-ই গন্তব্যে পৌঁছে যায়' ...
  • খানাকুল - ২
    [এর আগে - https://www.guruchan...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

মোহর


বলতে গেলে সে অনেক কথা। আর আমাকে যারা জানে তারা সবাই বলবে, একে দিয়ে কিসসু হবার নয়, বেহদ্দ আলসে। তবু দু-চার কথা পষ্টাপষ্টি বলে রাখাই ভালো, যা দিনকাল পড়েছে! চুপ করে থাকলে লোকে পরে পড়া ধরতে চায়! সেদিন আবার কে একজন বললেন, বেড়াল-গিরি করে করে কি আর ওর সময় আছে? সে কথাটাও নেহাত ফ্যালনা নয়।

হ্যাঁ, কথা গুলোর দু-একটা হিন্দু-মুসলমান নিয়ে তো বটেই, জাত-পাত, ছেলে-মেয়ে, শ্রোডিঙ্গার ইকোয়েসন, এল্লাহাবাদ এক্সিবিসন -- সেসব ও আসতে পারে। অবিশ্যি সে আমার কলি-বেলা র কথা, তখন তো কেউ বোঝেনি এ বেটি পদ্ম নয়, ঘেঁটু। সে দু:খের কথা থাক গে। তো সেই আড়-না ভাঙ্গা কুচি-বেলায় আমার একটি মাত্র বন্ধু ছিল শিউলি ফুল, বাপের বাড়ি গরীব তাই খেতে না পাওয়া রোগা ফরসা টুলটুলি টুকটুকি শিউলিটি আমার মা-না-হওয়া মাসির বাড়ি ঝি, তার বড় অযত্ন, বড় অবহেলা। সে আমার চেয়ে বছর চার-এর বড়টি, একটু সামলে সুমলে পিছেপিছে থাকে, বড়লোকের বেটির সঙ্গে বেশি ওঠাবসা কি ঠিক গো বাবুমশায়রা? কিন্তু ভবি তো ভোলে না। মালদা গেলেই আমি শিউলির বেড়া-বিনুনি-র কালো দড়ি হয়ে গালে গলায় ঘাড়ে মাথায় লেপ্টে থাকি। মালদা যাই কেন, যেতে হয় কেন, সে অন্য গপ্প, বেঁচে থাকি তো পরে বলব 'খন। আস্তে ধীরে মাসি বুঝে যান, কচি-কাঁচায় কি আর শ্রেণী-বৈষম্য হয়? তিনিও খড়্গহস্ত গুটিয়ে নিয়ে মিষ্টি-মাসি মামণি হয়ে যান, আমাকে পায়েস-টা আশ-টা দিলে ভাগ পায় পাড়ার অন্য ছেলে-পুলে, আমার শিউলি-ফুল ও পায়, ছিটে-ফোঁটা।

মামণির বাড়ি থেকে শিউলির বাপের চালাঘর বেশি দূর না। ওদের ঘরের লাগোয়া কঞ্চির বেড়ায় মেহেন্দির ঝোপ উঠত লকলকিয়ে। সেই মেহেন্দি পাতা বাটা নিয়ে আমাদের বারান্দা অব্দি আসতো মাঝিদের ছেলে দানেশ শেখ, বয়েস তখন দশ। বাচ্ছা মাইকেল জ্যাকসন-এর ছবি দেখেছেন? ভেসে যাওয়া কালো চোখ, গুছি গুছি কালো আঙ্গুর চুল, কালো বারুদের মতো স্বত:প্রভ চিকন-শ্যাম কানহা, নন্দের দুলাল? সেই দানেশ-দাদা আমার পাঁচ বছরের পা দুটি তার হাঁটুর ওপর রেখে পায়ে পরিয়ে দিত মেহেন্দির টিপ, ফুলকারি আলতা। হাতের কনুই পর্যন্ত এঁকে দিত অশেষ লতাপাতা, মাছের চোখ, ধানের শীষ, আমের বউল, মৌটুসী পাখি। সেই দানেশ-দাদা আমার জন্যে ভোর-রাতে উঠে মহানন্দার মাঝিদের কাছ থেকে টাটকা মাছ এনে দিত, আনত মেটে রঙের বিশাল বিশাল কাঁকড়া, কুমড়োর ফুল, পাকা কয়েতবেল। সাত বছরের ছুটিতে মালদা গিয়ে জ্বরে পড়ে আমি যখন নিঝ্ঝুম, সব ওষুধ মায় জল অব্দি বমি করে তুলে দিচ্ছি, ডাক্তার কটমট করে তাকিয়ে আছে আর ইনজেকশন-এর ভয় দেখাচ্ছে, তখন ঐ দানেশই আমার মধুসূদন-দাদা, কাঁধের গামছার খুঁটে বেঁধে এনেছে বড়ো দরগা-র দোয়া, পীরের থানের মোমবাতির আলো। মামণিকে বলছে, রাজা-র মাথায় একটু ছুঁইয়ে দেবেন গো জ্যাঠাইমা ?

আজ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, তিনজনে মিলে সারা-দুপুর দৌরাত্তি করছি, হাতের কাজ সারা হলেই টুকটুকিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি ছাদে জল-ট্যাঙ্কির নীচে, পুতুলের সংসারে। দেখছি কলের জল না এলে টুকি কুয়ো থেকে জল টেনে তুলছে দোতলার স্নানঘর অব্দি, ও চার বালতি তুলছে তো আমি এক বালতি তুলে হাঁপাচ্ছি, তারপর দানেশ এসে আরো চার বালতি তুলে দিচ্ছে। আর সেই অসম্ভব দুপুরবেলাটা? সেই যখন আমার নয় বছর, আর এক ফোঁটাও সাঁতার জানি না, আর টুকি-কে রাবার-এর টিউব-এ বসিয়ে "চল তোকে ঘুরিয়ে আনি" বলে সর্বমঙ্গলা-পল্লীর বিশাল পুকুরের মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিয়েছে দানেশ-দা? টুকিও তো সাঁতার জানে না! ভয়ে উত্তেজনায় দুপুরের গরমে হাফসিয়ে দানেশ-দা কে বলছি, ও পারবে না, ডুবে যাবে, তুমি বাঁচাও! সে হা হা করে হাসছে, বলছে ঠিক পারবে, তুই দ্যাখ না! আর মাঝ-পুকুর থেকে তারস্বরে চিত্কার করে দানেশ-কে গালাগালি দিচ্ছে টুকটুকি আর টিউব ধরে পা ছুঁড়ে ছুঁড়ে আস্তে আস্তে ঘাটের দিকে আসছে, একবার পাড়ে যাই, হতচ্ছাড়া মামদো ভূত কোথাকার, তোর দাঁত আমি ভেঙ্গে দোবো! আরও যে কি কি বলেছিল, তার কি মানে বুঝে ছিলাম না মনে আছে? হাঁপাতে হাঁপাতে ও ঘাটে উঠে বসলে দানেশ-দা বলল, সাঁতার শিখে গেলি যে, তার বেলা? আমিও এপে উঠে বললাম, আমিও শিখব! দানেশ-দা সভয়ে পিছিয়ে গিয়ে বলল, পাগল? শিউলি ডুবে মরলে ওর বাপের পয়সা বাঁচবে। তোর কিছু হলে তোর মেসো আমাকে এই কাদায় পুঁতে দেবে।

আমার আর সাঁতার শেখা হয় নি।

ভাবছেন তো, এ জল কোনদিকে গড়াচ্ছে? বেশি দূর যাব না, ভয় নেই। আমার মাসির বাড়ির ঝি শিউলি বড়োটি হলো তো তার আশে-পাশে অজস্র ভ্রমর ঘুরতে লাগলো, গুনগুন গুনগুন। সে যে পটের সুন্দরী! সে যে আগুল্ফলম্বিত আলুলায়িত-কুন্তলা, স্নিগ্ধ-চম্পকদামগৌরী, শ্যামেন্দীবরদলনয়না, কারুবাকী, চারুহাসিনী! স্যুটর-দের ভিড় ঠেলে যখন বাড়ির দোরগোড়া পার হওয়া দায়, এক আত্মীয় স্থির করলেন, এই ফুলটি তারই দেবসেবায় না লাগালেই নয়, এই তো চাই, একেই চাই। শিউলির বাপ অরাজী নয়, পণ ছাড়া মেয়ে পার হলো বলে। মাসিও নিমরাজি, শিউলি-র চেয়ে ষোলো বছরের বড়ো এই ভাইটির পয়সা-কড়ি বেশি নেই, বেশ হাতে-পাতে থাকবে। একমাত্তর মানা করেছিলাম আমি। বলেছিলাম, করিস না, এই বিয়ে করিস না, মারা পড়বি। ও হেসে বলেছিল, সে তো পড়বই, এ আর নতুন কথা কি? সারা জীবন তো পরের বাড়ি ঝি খাটতে গেলো, একে বিয়ে না করলে কোন গ্যাস-এর দোকানদার কি আম-বাগানের ছোটো মালিক বিয়ে করে নিয়ে যাবে, মদ খেয়ে গায়ে হাত তুলবে! বরং একে বিয়ে করলে জাতে উঠব, কি বলিস? তখন আমার পনেরো পুরেছে, কিছু কিছু বুঝতে শিখেছি, বললাম, এদের জাত কি অতো সোজা ? তুই লেখাপড়া জানিস না, অব্রাহ্মণ, কিছুতেই মেনে নেবে না, দিনে রাতে উঠতে বসতে গঞ্জনা দেবে! ভাই, করিস নি! বরং দানেশ কে বিয়ে কর না কেন? শিউলি ঠোঁট উল্টে বলল, ও তো মুসলমান, আমি কলমা পড়তে পারব না, আমার দুটো ছোটো বোন আছে, তাদের বিয়ে হবে না।

একটু চুপ করে থেকে বলল, তুই যদি ছেলে হতিস, রাজা, তোকে বিয়ে করতাম। আমি বললাম, আমি তো তোর চেয়ে ছোটো! শিউলি, টুকি, টুকটুকি, হেসে বলল, তাতে কি? চল্লিশ পার হলে কি আর অত ছোটো-বড়ো বোঝা যায়? আমি চল্লিশেও এরকমই সুন্দর থাকব, দেখে নিস!

গপ্প তো শেষ হয়ে গেল গো মশাইরা! তবে ওই যে এক মনিষ্যি বলে গেছেন, বাল্যপ্রেমে অভিসম্পাত আছে, বুঝলেন তো। শিউলি কথা রাখে নি। চল্লিশ বছর পার করেনি মেয়ে, উণচল্লিশেই চলে গেছে। দেখতেও আর সুন্দর ছিল না মোটেও। মাথাটা ন্যাড়া, শরীর শুকিয়ে পাখির ছানার মতো, গর্তে-ঢোকা চোখের তলায় সাতপুরু কালি, কেমো নিয়ে নিয়ে সর্বাঙ্গে জ্বালা, জ্বালা। পুরো পাকস্থলীটা কেটে বাদ দিয়ে যেদিন হাসপাতালের বেড-এ শুইয়ে দিলো, পায়ে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে মনে পড়ল, রেজিস্ট্রী বিয়ের দিন সকালে দানেশ ওর পায়ে আলতা পরিয়ে দিয়েছিল, মেহেন্দি করে দিয়েছিল হাতে, আর চোখ দিয়ে তার জল পড়েছিল টসটস করে। সেদিন ওই মাঝিপাড়ার ছেলের লাল চোখের দিকে তাকাতে পারিনি। যাবার সময় বলেছিল, ভালো থাকিস, রাজা, তোর বিয়েতে খবর দিস, আমি মেহেন্দি পরাতে আসবো। সেই খবরও তো তাকে দেওয়া হয় নি! কতো ধারবাকি পড়ে রইলো, আপনেরা বলুন দেখি?

শিউলি চলে গেছে তো, ন' মাস হলো। ঘুম হয় না। ভাবি, তখন জানতাম না, মেয়েতে মেয়েতে বিয়ে হয়, বাচ্ছা হয়। জানলে তাকে কি উড়িয়ে নিয়ে যেতাম না, সাত সাগরের পার? কারো কি স্পর্ধা হতো, ওকে ঝি-এর মেয়ে বলে গঞ্জনা দেয়, অব্রাহ্মণ বলে ওর রাঁধা ভাত পায়ে ঠেলে? কৃপণ স্বামীর অনিয়মিত রোজগারে বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে নিজে অনশনে অর্ধাশনে থেকে দুটো ছোটো বাচ্ছার সমস্ত চাহিদার যোগান দিয়ে, ও কি শেষ হয়ে যেতো, এইভাবে, এত তাড়াতাড়ি? যদি দানেশকেই বিয়ে করত, তাহলে? প্রশ্নের পাথর জমে জমে আমারো চোখ ঘোলা হয়ে এলো, অস্পষ্ট দেখি, দুরন্ত ক্যান্সার-সমুদ্রে এক মাঝি-বালকের ছুঁড়ে দেওয়া টিউব আঁকড়ে ধরে প্রাণপণ সাঁতার কাটছে শিউলি, তার মাথা ন্যাড়া, গায়ে হাসপাতালের শতচ্ছিন্ন সাদা-সবুজ ডোরাকাটা জামা ভিজে চুপড়ি, ডুবেই যাচ্ছে বারবার, প্রচণ্ড ঢেউ-এর সঙ্গে পারছে না, পারছে না। আর আমি দূরে, নিরাপদ বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে রুদ্ধশ্বাসে চিত্কার করছি, cummon Shiuli, you can do it, cummon, cummon Shiuli!

আমি সাঁতার জানি না। আর তাই আমার শিউলি-ফুল ডুবে যায়। তবে কি জানেন, এত কথার যেখান থেকে শুরু। ওই যে, আপনাদের হিন্দু-মুসলমান, জাত-পাত, ছেলে-মেয়ে। আপনেদের বড়ো বড়ো বুলি কপচানো পড়ি, আর বলি, বুঝলেন, আপনেদের ধর্মের একশো আট বার, আপনেদের অধর্মের একশো আট বার, আপনেদের জাতের একশো আট বার, অজাতের একশো আট বার, লিঙ্গ/ লিঙ্গ-বিভেদের একশো আট বার, জ্ঞানের, বুলির, সমাজের, সমাজ-সংস্কারের, আপনেদের ও, বুঝলেন, একশো আট বার, একশো আট, একশো আট ---


936 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31
Avatar: pi

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

মোহর....
Avatar: cm

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

"ওই যে, আপনাদের হিন্দু-মুসলমান, জাত-পাত, ছেলে-মেয়ে। " গরীব-বড়লোকটা বাদ গেছে। ওটাই আসল, হাতে পয়সা থাকলে মুসলমান, নীচু জাতের মেয়ের কোন অসুবিধে হবেনা।
Avatar: ranjan roy

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

না, সিএম!
ব্যাপারটা এত সরলরৈখিক নয়। দুই পরিবারের সমান আর্থিক স্বাচ্ছল্য থাকলেই হিন্দু-মুসলমান, ব্রাহ্মণ-শূদ্র পরিবারের মধ্যে বিয়ে সহজে হয়ে যায় না। হ্যাঁ, আর্থিক ভেদ আরও একটা মাত্রা যোগ করে,, এইটুকুই।
Avatar: cm

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

রঞ্জনদা ভুল বুঝলেন। বুঝিয়ে বলি, গড় হিন্দু পরিবারের হাতে যে পয়সা তা যদি গড় মুসলমান পরিবারের হাতে থাকত, গড় ব্রাহ্মণ পরিবারের হাতে যত পয়সা তা যদি গড় শূদ্র পরিবারের হাতে থাকত তাহলে অবশ্যই হত। আমরা দুটো বাল্ককে তুলনা করছি। সব চেয়ে সহজ হল তাদের গড়গুলো তুলনা করা। এর পরে আমরা স্টোকাস্টিক অর্ডারিংএ যাব, তবে সেটা এই ইক্যুয়ালিটির পরে।

আর সোনার আঙটি আবার বাঁকা আর সোজা বলেও একটা প্রবাদ ছিল।
Avatar: hu

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

বড় ভালো লেখা
Avatar: মোহর

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে রঞ্জন-এর সঙ্গে এক মত। টাকা অতোটাও বড় হয় না, যতটা সামাজিক পার্থক্য।

ভুললে চলবে না যে শিউলি যেমন দানেশকে বিয়ে করতে চায়নি, সেরকম কোনো আমবাগানের মালিককেও চায় নি, স্বগোত্র স্ববর্ণ বড়লোক হলেও না।
Avatar: মোহর

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

aranya , খিল্লির কারণ আমার মাথায় ঢুকলো না। যাই হোক, যা দৃশী ভাবনা ইত্যাদি।

Atoz , ঠিক। শেষের দিকে আমারও মনে হত, স্টমাক অপারেসন-এর দিন যদি মরে যেত, অনেক কম কষ্ট পেত। but she unfortunately had a strong heart ।

A x , সেই সময় অর চিকিত্সার জন্যে অনেকেই আমাকে অর্থ-সাহায্য করেছিলেন, নইলে ওই ১১ মাসও শিউলি বাঁচত না। পরিচিত এবং অপরিচিত সেইসব মানুষের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার সীমা নেই । শিউলির মেয়ে এবং ছেলে ভালোই আছে, মানে এক্ষেত্রে যত টা ভালো থাকা যায় । মেয়ে বি-ফার্ম পড়ছে, ছেলেটা সবে ছয়ে পড়ল, আমার বাবা-মার কাছে থাকে, কেজি-২ তে পড়ে, এবং আর পড়বে না বলে দিয়েছে।
Avatar: শুভ

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

ভাল লেখেন, বেশ ভাল লেখেন
Avatar: Atoz

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

মোহর, আপনার লেখনী পাওয়ারফুল, সোজাসুজি আর তীক্ষ্ণ, লিখে চলুন।
আসলে উঠতে বসতে "মরলে বাঁচি" তো সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ের প্রতিও দেখেছি, সেই মেয়ের খাওয়া-পরার-আশ্রয়ের নিরাপত্তা ছিল, পরের বাড়ীতে দাসত্ব করতে হয় নি, পড়াশোনারও সুযোগ ছিল-অথচ কী অদ্ভুত জগদ্দলের মতন ভয় মাথার উপরে, গোটা পরিবার ভয় পয়, কারণ সে মেয়ে, দেখতে নিতান্ত সাধারণ, তাই সে বিরাট দয়, কন্যাদায়। উঠতে বসতে তাই "মরলে বাঁচি"। তাই ভাবি আমাদের সমাজে মেয়েদের জীবনটাই যেন মৃত্যুর অধিক যন্ত্রণা। ম্যাক্সিম গোর্কির মা উপন্যাসে শেষের দিকে যেমন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মা বলছিলেন, "আমাদের জীবন এমনই বা কী ভালো, যে মরণকে ভয় করতে হবে?"
Avatar: মোহর

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

আমার সব চেয়ে অদ্ভূত লেগেছিল যখন আমাকে জনে-জনে বোঝাতে হয়েছিল, পিএইচডি গাইড, আত্মীয়-পরিজন --অনেককেই -- যে আমি ছুটি নিচ্ছি কেন, আমি টাকা যোগাড় করছি কেন! সত্যি তো, টুকটুকি তো আমার কেউ ছিল না!

এই তো পৃথিবী।

Atoz , অসুন্দর মেয়েদের যন্ত্রণা আমাকেও ভোগ করতে হয়েছে, হয়। তাই আরও কষ্ট হয়, কারণ রূপই যদি মেয়েদের একমাত্র USP হয়, টুকটুকি তো অপূর্ব সুন্দরী ছিল। তবু ওকে মরতে হয়েছে। ঐভাবে।
Avatar: Atoz

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

মোহর,
শুধু একটা জিনিস নাকি? নিক্তিতে করে মাপছে তো! রূপ, পিতৃসম্পত্তি, জাতের পরিচয়, ধম্মের পরিচয়, গান জানে কিনা, নম্র বিনীত দাস্যভাব আছে কিনা, হ্যানো ত্যানো।
সেই যে "স্ত্রীর পত্র", সবাই মিলে এসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিক্তিতে মেপে রূপজাতকূল সব বেছে তুলে নিল মৃণালকে! সে যেন মাটির পুতুল একটা!
Avatar: Atoz

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

গরীবের ঘরে সুন্দরী মেয়ে জন্মালে সে আরেক সাড়ে সব্বনাশ! আগেকার দিনে তো জমিদার তুলে নিয়ে যেত লেঠেল পাঠিয়ে। নয়তো বাড়ীর থেকেই নিজের লোকেরাই তোড়জোড় করে ভেট হিসাবেই পাঠাতো। নইলে ঘরে আগুন ভিটেমাটি চাঁটি।
আর এখন হয় গুন্ডা মাফিয়া তুলে নিয়ে যায়, নয়তো নিজের লোকেরাই পাচার করে দিয়ে টাকা বুঝে নেয়।

Avatar: sarbari

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

বাহ!
Avatar: সিকি

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

লেখাটা আগে অন্যত্র পড়েছিলাম। আজ আবার পড়তে গিয়ে দেখলাম আবার গলার কাছে কী একটা যেন ...
Avatar: দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

অনবদ্য এই লেখাটি!
Avatar: মোহর

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে আছি এখন। লেখাটা পড়ে কি হল বেশ একটা
Avatar: শঙ্খ

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

নিপুণ! একেবারে মাপমত আবেগ।

একটা জায়গা পড়ে একটা সন্দেহ হলঃ "এই তো চাই, একেই চাই" এই ডায়ালগটা অদ্রীশ বর্ধনের কোনও একটা প্রফেসর নাট বল্টু চক্র গল্পে পড়েছিলুম, মোহর কি সেটাই রেফার করলেন, সামহাউ?
Avatar: পল্লবী

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

চালিয়ে যাও মোহর!
Avatar: মোহর

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

শঙ্খ, হ্যাঁ। ছোটবয়সে পড়া সেই ময়নার গল্প কোনো অজ্ঞাত করুণ কারণে ভুলতে পারিনি।
Avatar: Mohammad Kazi Mamun

Re: জাত-ধর্ম-লিঙ্গ নিয়ে দু-চার কথা যা আমি জানি

হৃদয়স্পর্শী! এমন আরো লিখুন।
''মাসিও নিমরাজি, শিউলি-র চেয়ে ষোলো বছরের বড়ো এই ভাইটির পয়সা-কড়ি বেশি নেই, বেশ হাতে-পাতে থাকবে।''..'নিমরাজী'র পরে একটা শব্দ বাদ পড়েছে বোধহয়!


মন্তব্যের পাতাগুলিঃ [1] [2]   এই পাতায় আছে 12 -- 31


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন