তাপস দাশ RSS feed

Tapas Dasএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • অরফ্যানগঞ্জ
    পায়ের নিচে মাটি তোলপাড় হচ্ছিল প্রফুল্লর— ভূমিকম্পর মত। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেন কেউ আছাড়ি পিছাড়ি খাচ্ছে— সেই প্রচণ্ড কাঁপুনিতে ফাটল ধরছে পথঘাট, দোকানবাজার, বহুতলে। পাতাল থেকে গোঙানির আওয়াজ আসছিল। ঝোড়ো বাতাস বইছিল রেলব্রিজের দিক থেকে। প্রফুল্ল দোকান থেকে ...
  • থিম পুজো
    অনেকদিন পরে পুরনো পাড়ায় গেছিলাম। মাঝে মাঝে যাই। পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, আড্ডা হয়। বন্ধুদের মা-বাবা-পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ভাল লাগে। বেশ রিজুভিনেটিং। এবার অনেকদিন পরে গেলাম। এবার গিয়ে শুনলাম তপেস নাকি ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। একটু পরে তপেসও এল ...
  • কাঁসাইয়ের সুতি খেলা
    সেকালে কাঁসাই নদীতে 'সুতি' নামের একটা খেলা প্রচলিত ছিল। মাছ ধরার অভিনব এক পদ্ধতি, বহু কাল ধরে যা চলে আসছে। আমাদের পাড়ার একাধিক লোক সুতি খেলাতে অংশ নিত। এই মৎস্যশিকার সার্বজনীন, হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ে জনপ্রিয়। মনে আছে ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় একদিন ...
  • শুভ বিজয়া
    আমার যে ঠাকুর-দেবতায় খুব একটা বিশ্বাস আছে, এমন নয়। শাশ্বত অবিনশ্বর আত্মাতেও নয়। এদিকে, আমার এই জীবন, এই বেঁচে থাকা, সবকিছু নিছকই জৈবরাসায়নিক ক্রিয়া, এমনটা সবসময় বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না - জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-পরিণ...
  • আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই...
    দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা বুয়েটে পড়ার সুযোগ পায়। দেশের সবচেয়ে ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিঃসন্দেহে বুয়েট। সেই প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্রকে শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলল কিছু বরাহ নন্দন! কাওকে পিটিয়ে মেরে ফেলা কি খুব সহজ কাজ? কতটুকু জোরে মারতে হয়? একজন মানুষ পারে ...
  • ইন্দুবালা ভাতের হোটেল-৭
    চন্দ্রপুলিধনঞ্জয় বাজার থেকে এনেছে গোটা দশেক নারকেল। কিলোটাক খোয়া ক্ষীর। চিনি। ছোট এলাচ আনতে ভুলে গেছে। যত বয়েস বাড়ছে ধনঞ্জয়ের ভুল হচ্ছে ততো। এই নিয়ে সকালে ইন্দুবালার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। ছোট খাটো ঝগড়াও। পুজো এলেই ইন্দুবালার মন ভালো থাকে না। কেমন যেন ...
  • গুমনামিজোচ্চরফেরেব্বাজ
    #গুমনামিজোচ্চরফেরেব্...
  • হাসিমারার হাটে
    অনেকদিন আগে একবার দিন সাতেকের জন্যে ভূটান বেড়াতে যাব ঠিক করেছিলাম। কলেজ থেকে বেরিয়ে তদ্দিনে বছরখানেক চাকরি করা হয়ে গেছে। পুজোর সপ্তমীর দিন আমি, অভিজিৎ আর শুভায়ু দার্জিলিং মেল ধরলাম। শিলিগুড়ি অব্দি ট্রেন, সেখান থেকে বাসে ফুন্টসলিং। ফুন্টসলিঙে এক রাত্তির ...
  • দ্বিষো জহি
    বোধন হয়ে গেছে গতকাল। আজ ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, সন্ধ্যাবেলায় আমন্ত্রণ ও অধিবাস। তবে আমবাঙালির মতো, আমারও এসব স্পেশিয়ালাইজড শিডিউল নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই তেমন - ছেলেবেলা থেকে আমি বুঝি দুগ্গা এসে গেছে, খুব আনন্দ হবে - এটুকুই।তা এখানে সেই আকাশ আজ। গভীর নীল - ...
  • গান্ধিজির স্বরাজ
    আমার চোখে আধুনিক ভারতের যত সমস্যা তার সবকটির মূলেই দায়ী আছে ব্রিটিশ শাসন। উদাহরণ, হাতে গরম এন আর সি নিন, প্রাক ব্রিটিশ ভারতে এরকম কোনও ইস্যুই ভাবা যেতো না। কিম্বা হিন্দু-মুসলমান, জাতিভেদ, আর্থিক বৈষম্য, জনস্ফীতি, গণস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অভাব, শিক্ষার অভাব ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

আউটসাইডার

তাপস দাশ

আর একটা রবিবার চলে গেল l রবি গড়িয়ে পুজো শেষ, আপিস খুলে গেল সব্বার l সব কিছু ঠিকঠাক চলছে l এভরিথিং ইজ ফাইন l
এ রোববারের আগের রবিতে, সেদিন একটা কাজ ছিল – সাউন্ড রেকর্ডিংএর l অনেক আগে থেকে কেটে গিয়েছিলাম l ভাস্কর মানে পাপু, হদ্দমুদ্দ বলে কয়েও নড়াতে পারেনি l আমার সেদিন বারাসাত যাওয়ার কথা ছিল l সকালে যখন রেডি হচ্ছি, তখন পাপুর ফোন l আমি ধরে বললুম – কী রে? বলল, তুমি পৌঁছে গেছ বারাসাত? আমি বললাম, না – এই বেরোচ্ছি l বলে, তোমায় যেতেই হবে? আমি আমার সেই অনড় গলাটা বের করে বললাম – হ্যা l কোনো সাড়া নেই l আমিই আবার জিজ্ঞাসা করলাম কোনো সমস্যা হয়েছে? একটু অস্ফুট একটা আওয়াজ, একটু নীরবতা – তারপর বলল – রাজু মারা গেছে l (এই অবধি লিখে বোধহয় কয়েকটা ডট মারার কথা) রাজুকে কেউ চেনেন না বোধহয় l রাজু চেনার মতন তেমন কেউ ছিল না l রাজু শীল l ফেসবুকে ওর একটা প্রোফাইল ছিল l রাজুর বাড়ি ছিল আসামে l বদরপুর l ২০০১ সালে ব্যাগ কাঁধে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছিল l টিভির খবরে ডেস্কের কাজ করত – নানা ঘাটে l কিন্তু এ রাজুর গল্প নয়, আমার গল্প l রাজুর মাথায় একটা সিস্ট ছিল – যেটা প্রথম যখন ওকে যন্ত্রণা দিত – তখন আমরা এক আপিসে চাকরি করতাম l একদিন বাড়ি গিয়ে প্রচন্ড ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে গেল l পিজি l সেখান থেকে দিল্লি l তারপর রাজু প্রায় সুস্থ হয়েই ফিরে আসে, এই সতর্কতা সহ, যে দরকারে ওকে চিকিত্সার জন্যে যেতে হবে l সেটা নিয়ে আমরা কেউ ভাবিত ছিলাম না l রাজুর আলাদা কোনো খুব প্রেজেন্স থাকত না তো – শুধু সমস্যার সময়ে – খুব পেশাদারী ভঙ্গিতে সামলে দিত সব কাজ, এবং একই রকম মুখ করে সামলে দিত অন্যদের কাজ কম্ম l ঐরকম প্রেজেন্সহীনতাকে সাক্ষী মেনেই এবং তার সুযোগ নিয়ে, আমি যখন দ্বিতীয়বার বাড়ি ছাড়ি, তখন ওর ভাড়াবাড়িতে l তো সেই রাজু, মরে গেল l দিল্লিতেই l কিছু একটা ইনফেকশন হল, রাতারাতি মরে গেল l আর আমি পালিয়ে গেলাম l পুরো অনুষঙ্গ থেকেই l আমি এয়ারপোর্ট গেলাম না, আমি পরদিন শ্মশানে গেলাম না, আমার আর রাজুর পরিচিতরা যখন হাউহাউ করে কাঁদছে বলে জানছি, দেখছি দূর থেকে, আমি তখন তাদের সামনে গেলাম না l পাপুকে সেদিন বলেছিলাম, একটু পরে ফোন করছি l কিন্তু করিনি l আজ ও আমি তাদের ফোন করছি না, যাদের ফোন করলে এই প্রসঙ্গটা উঠতে পারে l
শুধু আজ এই ভর দুপুরে, রাজু এলো, বলে, কপিটা একটু দেখে নাও l আমি বললাম, দূর বাল, তোর কপি দেখব কেন? বলে, দেখে নাও – দেখে নাও...
অথচ বিশ্বাস করুন, আমি আর কপি দেখি না - ওই চাকরি করি না, এ সালার রাজু কিছুতেই শোনে না

289 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: আউটসাইডার

:-( :-(
Avatar: π

Re: আউটসাইডার

কয়েকটা ডট ছাড়া আর কিছু দেবার নেই বোধহয়।
Avatar: সিকি

Re: আউটসাইডার

চরম।
Avatar: dd

Re: আউটসাইডার

.......


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন