Ranjan Roy RSS feed

Ranjan Royএর খেরোর খাতা।

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • আমাদের চমৎকার বড়দা প্রসঙ্গে
    ইয়ে, স-অ-অ-অ-ব দেখছে। বড়দা সব দেখছে। বড়দা স্রেফ দেখেনি ওইখানে এক দিন রাম জন্মালেন, তার পর কারা বিদেশ থেকে এসে যেন ভেঙেটেঙে মসজিদ স্থাপন করল, কেন না বড়দা তখন ঘুমোচ্ছিলেন। ঘুম ভাঙল যখন, চোখ কচলেটচলে দেখলেন মস্ত ব্যাপার এ, বড়দা বললেন, ভেঙে ফেলো মসজিদ, জমি ...
  • ধর্ষকের মৃত্যুদন্ড দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ?
    যেকোন নারকীয় ধর্ষণের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে সামনে আসার পর নাগরিক হিসাবে আমাদের একটা ঈমানি দায়িত্ব থাকে। দায়িত্বটা হল অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোরতম শাস্তির দাবি করা। কঠোরতম শাস্তি বলতে কারোর কাছে মৃত্যুদন্ড। কেউ একটু এগিয়ে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার ...
  • তোমার পূজার ছলে
    বাঙালি মধ্যবিত্তের মার্জিত ও পরিশীলিত হাবভাব দেখতে বেশ লাগে। অপসংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি চিরকাল ওয়াকিবহাল ছিল। আজও আছে। বেশ লাগে। কিন্তু, বুকে হাত দিয়ে বলুন, আপনার প্রবল ক্ষোভ ও অপমানে আপনার কি খুব পরিশীলিত, গঙ্গাজলে ধোওয়া আদ্যন্ত সাত্ত্বিক শব্দ মনে পড়ে? না ...
  • The Irishman
    দা আইরিশম্যান। সিনেমা প্রেমীদের জন্য মার্টিন স্করসিসের নতুন বিস্ময়। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, ক্যাসিনো, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দা অ্যাভিয়েটর, দ্য ডিপার্টেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উল্ফ অব ওয়াল স্ট্রিট, সাইলেন্টের পরের জায়গা দা আইরিশম্যান। বর্তমান সময়ের ...
  • তোকে আমরা কী দিইনি?
    পূর্ণেন্দু পত্রী মশাই মার্জনা করবেন -********তোকে আমরা কী দিইনি নরেন?আগুন জ্বালিয়ে হোলি খেলবি বলে আমরা তোকে দিয়েছি এক ট্রেন ভর্তি করসেবক। দেদার মুসলমান মারবি বলে তুলে দিয়েছি পুরো গুজরাট। তোর রাজধর্ম পালন করতে ইচ্ছে করে বলে পাঠিয়ে দিয়েছি স্বয়ং আদবানীজীকে, ...
  • ইশকুল ও আর্কাদি গাইদার
    "জাহাজ আসে, বলে, ধন্যি খোকা !বিমান আসে, বলে, ধন্যি খোকা !এঞ্জিনও যায়, ধন্যি তোরে খোকা !আসে তরুণ পাইওনিয়র,সেলাম তোরে খোকা !"আরজামাস বলে একটা শহর ছিল। ছোট্ট শহর, অনেক দূরের, অন্য মহাদেশে। অনেক ছোটবেলায় চিনে ফেলেছিলাম। ভৌগোলিক দূরত্ব টের পাইনি।টের পেতে দেননি ...
  • ছন্দহীন কবিতা
    একদিন দুঃসাহসের পাখায় ভর করে,ছুঁতে চেয়েছিলাম কবিতার শরীর ।দ্বিখন্ডিত বাংলার মত কবিতা হয়ে উঠলোছন্দহীন ।অর্থহীন যাত্রার “কা কা” চিৎকারে,ছুটে এলোপ্রতিবাদী পাঠক।ছন্দভঙ্গের নায়কডানা ভেঙ্গে পড়িপুঁথি পুস্তকের এক দোকানে।আলোক প্রাপ্তির প্রত্যাশায়,যোগ ধ্যানে কেটে ...
  • হ্যালোউইনের ভূত
    হ্যালোউইন চলে গেল। আমাদের বাড়িতে হ্যালোউইনের রীতি হল মেয়েরা বন্ধুদের সঙ্গে ট্রিক-অর-ট্রিট করতে বেরোয় দল বেঁধে। পেছনে পেছনে চলে মায়েদের দল। আর আমি বাড়িতে থাকি ক্যান্ডি বিতরণ করব বলে। মুহূর্মুহূ কলিং বেল বাজে, আমি হাসি-হাসি মুখে ক্যান্ডির গামলা নিয়ে দরজা ...
  • হয়নি
    তুমি ভালবাসতে চেয়েছিলে।আমিও ।হয়নি।তুমিঅনেক দূর অব্দি চলে এসেছিলে।আমিও ।হয়নি আর পথ চলা।তুমি ফিরে গেলে,জানালে,ভালবাসতে চেয়েছিলেহয়নি। আমি জানলামচেয়ে পাইনি।হয়নি।জলভেজা চোখে ভেসে গেলআমাদের অতীত।স্মিত হেসে সামনে এসে দাঁড়ালোপথদুজনার দু টি পথ।সেপ্টেম্বর ২২, ...
  • তিরাশির শীত
    ১৯৮৩ র শীতে লয়েডের ওয়েস্টইন্ডিজ ভারতে সফর করতে এলো। সেই সময়কার আমাদের মফস্বলের সেই শীতঋতু, তাজা খেজুর রস ও রকমারি টোপা কুলে আয়োজিত, রঙিন কমলালেবু-সুরভিত, কিছু অন্যরকম ছিলো। এত শীত, এত শীত সেই অধুনাবিস্মৃত কালে, কুয়াশাআচ্ছন্ন পুকুরের লেগে থাকা হিমে মাছ ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

সাঁঝবাতির রূপকথারা

Ranjan Roy

সাঁঝবাতির রূপকথারা
============
লিখছেন --- হরিদাস পাল



সাঁঝবাতি আর রূপকথার মধ্যে নাড়ির টান। সন্ধেবেলায় যখন ঘরের আঙিনায় ছায়ারা গাঢ় হয়ে আসে, জ্বলে ওঠে সাঁঝবাতি, একের পর এক, তখনই জন্ম নেয় রূপকথারা। জন্ম নেয় ঠাকুরমার কাঁপা-কাঁপা গলার ওঠাপড়ায়। আর খোকাখুকুরা শোনে,চোখের পাতায় নেমে আসা ঘুমের ঢেউকে তাড়িয়ে দিয়ে। চোখের মণি বড় বড়, বেড়ে গেছে বুকের ধুকপুকুনি। রূপকথা ভয় পাওয়ায়। ঠাকুমা দেখেন নাতিনাতনির চোখে ভয় ঠাঁই করে নিয়েছে। রাক্ষস - খোক্কসের দল ঘিরে ফেলেছে বাড়ি। এবার ঠাকুমা গলার স্বর পাল্টান- কে জাগে? লালকমল না নীলকমল? খোকা-খুকু জেগে আছে। এবার ওরা প্রাণপণে প্রার্থনা করে-- সময় নেই, সবাই জাগো। জেগে ওঠো লালকমল, ঘুমিওনা নীলকমল। রূপকথা জাগতে শেখায়। এবার রাক্ষ্‌স-খোক্কসের দলের হারার পালা। নীলকমলের হাতে আছে এক আশ্চর্য তলোয়ার। ঠাকুমা বলে দেন--- কোন সরোবরের মাঝখানে কোন স্ফটিকস্তম্ভের মধ্যে লুকোনো রয়েছে রক্ষরাজের প্রাণভোমরা। এবার রূপকথা মারতে শেখায়।
--- মারো রাজকুমার, মারো! তলোয়ারের এক আঘাতে ভেঙে ফেলো ঐ স্ফটিকস্তম্ভ। তারপর ? দু'আঙূলে টিপে মারো রক্ষরাজের প্রাণভোমরাকে। ইতিমধ্যে খোকন হয়ে গেছে রাজকুমার, হয়ে গেছে লালকমল-নীলকমল। সে এবার অনায়াসে বুড়ো আঙুল আর তর্জনী দিয়ে টিপে ধরে ভোমরাটিকে। নিজের অজান্তে ও কখন যেন ঘৃণা করতে শিখে গেছে, রূপকথা শিখিয়েছে। ঘৃণা না করলে যে মানুষ মারা যায় না। ঘৃণার অদম্য শক্তি।

ঘৃণা না করলে কোন মানুষ পারে না গর্ভবতী মায়ের পেট চিরে দিতে, ছোট বাচ্চাকে আছড়ে মেরে ফেলতে। জামাকাপড় খুলে নিয়ে কয়েকশো লোককে গ্যাস চেম্বারে পাঠাতে বা একে-৪৭ দিয়ে সারাশরীরে সেলাই করে দিতে। কিন্তু একটা আরশোলা, কেঁচো,কেন্নো, ইঁদুর? এদের আমার মত ভীতু, ঝামেলা এড়িয়ে চলা লোকও পারে পা' দিয়ে পিষে দিতে, ফাঁদ পেতে খাঁচায় আটকাতে বা বিষাক্ত অ্যাসিড ঢেলে নির্বংশ করতে।

ঘৃণা প্রেরণা জোগায় আমার মত হাজারো আলসে ঢিলেঢালা অচল লোককে সচল হতে, সক্রিয় হতে। ঘৃণার এই প্রেরণাদায়ী ভূমিকা খেয়াল না করলে বোঝা যাবে না গুজরাত ২০০২-০৩, মুম্বাই- ভোপাল ৯২-৯৩, বা দিল্লীর শিখনিধন, বা ভিওয়ান্ডি, বা নেলী, বা টাটার ব্লাস্ট ফার্নেসে সহকর্মীকে ঢুকিয়ে দেয়া।

শুনেছি হিরোশিমায় অ্যাট্‌ম বোমা ফেলা পাইলটের শেষের দিনগুলো কেটেছে কোন মেন্টাল অ্যাসাইলামে। মনে হয় উনি হিরোশিমাবাসী"" ইয়েলো গুক'' দের যথেষ্ট ঘৃণা করতে পারেন নি। তাহলে মানসিক ভারসাম্য হারাতেন না। ব্লাডি নিগারদের আমাদেরই মত মানুষ ভাবলে ক্লু-ক্লুক্স্‌-ক্ল্যানের সদস্য হওয়া যায় না। সম্ভবতঃ কার্লাইল একবার বলেছিলেন---- ভারতশাসন আর শেকস্‌পীয়র পাঠ, দুটো একসাথে হয় না।

রূপকথা রচনা করে ঘৃণার পেডাগগি। ঘৃণা মানুষের চেহারা বদলে দেয়। তারা হয়ে যায় রাক্ষস-খোক্কস্‌। তাদের দাঁতগুলো হয় মূলোর মত, কানদুটো হয় কুলোর মত। গায়ের লোম হয় শক্ত কাঁটাওলা। থাবায় বড় বড় নখ। ওদের বুকে তলোয়ার ঢুকিয়ে দিলে ফিনকি দিয়ে লাল নয়, কালোরক্ত বেরোয়। ওরা বেঁচে আছে মানে বেঁচে আছে ভয়। ওরা এগিয়ে আসছে মানে আমরা আক্রান্ত। ওরা আমাদের ভয় পায়, ঘেন্না করে। আমরাও ওদের ভয় পাই, ঘেন্না করি। হয় ওরা থাকবে নয় আমরা। কিন্তু আমরা যে বাঁচতে চাই। তাহলে ওদের বাঁচতে দিলে চলবে না। মারতে হবে। সোজা কথা। বাঁচতে গেলে মারতে হবে, ওদের মেরেই বাঁচতে হবে।

ওরা কারা? ওরা হল ""ওরা''। প্রত্যেক যুগে আলাদা আলাদা ওরা। কখনও পিশাচ, কখনও দানো, কখনো রাক্ষস, কখনো খোক্কস। প্রত্যেক যুগে আমাদের রূপকথা শোনাতে আসেন ঠাকুমা-দিদিমারা। কার ঠাকুমা? আমাদের সব্বার। ঠাকুমার পরিচয় কুঞ্চিত লোলচর্মে, মাড়িবেরকরা ফোকলা হাসিতে,শ্বেতশুভ্র আঁচলের গিঁট খুলে নাতি-নাতনীদের হাতে ধরিয়ে দেয়া নিষিদ্ধ খাবারের গন্ধে। কিন্তু আসল পরিচয় গল্পের ঝুলিতে। গল্পে থাকে সান্ত্বনার প্রলেপ। রুপকথার রাজকুমারের সাথে একাত্ম হয়ে খোকনের ঘা' খাওয়া অহং শান্ত হয়। স্কুলের মাঠে খোকন মার খেয়েছে দামড়া ছোঁড়াদের হাতে, ক্লাসে মনিটরের মিথ্যে চুকলি শুনে বেঞ্চের ওপর দাঁড়াতে হয়েছে। কিন্তু সাঁঝবাতির মিটমিটে আলোয় রূপকথা শুনতে শুনতে ভাবে --"" ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে, ঢালতলোয়ার ঝন্‌ঝনিয়ে বাজে, কি ভয়ানক লড়াই হল মা যে!''। পরের দিন আবার ক্লাসে যায়, ভাবে সাঁঝবাতির রূপকথারা দিনের আলোতে আজ মিলিয়ে গেছে বটে , কিন্তু একদিন ঠিক ফুটে উঠবে। এ' ভাবেই খোকনেরা বড় হয়। ধীরে ধীরে রূপকথারা এক'পা- দু'পা করে স্থান করে নেয় মনের গোপন মণিকোঠায়। বড়-হয়ে -ওঠা খোকন সিনিক হয়ে যায়।--- সেদিন আসবে কবে? যে মাসেতে রোব্বার নেই সেই মাসেতে হবে!

কিন্তু বড়খোকনেরও চাই রূপকথা। অন্যরকম রূপকথা। চাই ইচ্ছাপূরণের
গল্প। কারণ মার খাওয়া খোকনের নিয়তি।

স্কুল-কলেজে অ্যারিস্টোক্র্যাট পরিবারের ছেলেরা তাদের চারচাকার রথে অনায়াসে নিয়ে চলে যায় ওর স্বপ্নে- দেখা- রাজকন্যাকে। চাকরির প্রতিযোগিতায় সে থই পায় না। জীবিকার ময়দানে খেলতে নেমে সারাক্ষণ পাঁজরে লাগে কনুইয়ের শক্ত খোঁচা। কাকে দোষ দেবে? কে সেই রাক্ষস?

এমন সময় আসে নতুন যুগের রূপকথা--- সেলুলয়েডের পর্দায়। অমিতাভ বচ্চন দৈবশক্তির বরপ্রাপ্ত যোদ্ধা। একাই একশ' রাক্ষসের মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখেন। নায়িকার সাধ্য কি মুখ ফিরিয়ে দূরে সরে থাকে! নায়িকার বাবা রক্ষরাজ কখনও মাফিয়া, কখনও ঘুষখোর পুলিস অফিসার, কখনও রাজনৈতিক নেতা।আজকের রূপকথারা একটা নতুন শরীর পায়।

এই রূপকথারাও একসময় "" ব্যবহৃত হতে হতে, শুয়োরের মাংস হয়ে যায়''। ডাক পড়ে অন্য প্রজাতির রূপকথাদের। আসুন, আমরা গত একশতাব্দী ধরে জন্মনেয়া -বেড়েওঠা- মিলিয়েযাওয়া বড়খোকনের রূপকথাদের দেখি।

প্রথম রূপকথা-- স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন। একবার ইউনিয়ন জ্যাক নেমে গিয়ে ত্রিবর্ণ হাওয়ায় পত্‌পত্‌ করুক--- ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। "' হম্‌ রহে , না রহে , উস্‌কা কোঈ গম্‌ নহীঁ, তেরে রাহ্‌ কে লিয়ে রোশনী জ্বলা দিয়া, অয়্‌ ওয়তন্‌''। ক্ষেতে সোনা ফলবে, কারখানায় মজদুরেরা ছেনি-হাতুড়ির বদলে বোতাম্‌ টিপে মেশিন চালিয়ে উৎপাদন করবে। সবাই পাবে মাথার ওপর ছাদ, লজ্জা ঢাকার কাপড়, দু'বেলা ভরপেট খাবার আর অসুখ হলে ভগবানের মত ডাক্তার। ছোট বাচ্চারা পথেঘাটে খেলে বেড়াবে না, চায়ের দোকানে কাজ করবে না, স্কুলে যাবে। কোলকাতার যীশুরা আর ফুটপাথে জন্মাবে না। দরকার শুধু সাদা চামড়ার রাক্ষসকে হারিয়ে তার থেকে রাজপাট ছিনিয়ে নেয়া।

দেশ স্বাধীন হল। এক দশকের মধ্যে দৈনন্দিন জীবনের ধোবিঘাটে আছাড় খেতে খেতে এই রূপকথার রং জ্যাল্‌জেলে হয়ে গেল। সাদারা আর রাক্ষস রইল না।আবার কালো রাক্ষসও পথেঘাটে দেখা যেতে লাগলো। ফলে রূপকথারও পরিবর্তন হল।

দ্বিতীয় রূপকথা। আমরা জানলাম-- '' চিনি তোমায় চিনি গো, জানি তোমায় জানি গো, সাদাহাতির-- কালা মাহুত তুমি না?'' আমরা জানলাম --- ইয়ে আজাদী ঝুটা হ্যায়, দেশ কা জনতা ভূখা হ্যায়। আর জানলাম--- আছে এক রূপকথার দেশ, যেখানে ছোটলোক-ছোটজাত বলে কেউ কাউকে ঘেন্না করে না। সেখানে বেকার নেই, ভিখিরি নেই, সাঁঝবাতি জ্বলে ওঠার সময় রং মেখে গলির মুখে দাঁড়ানো মেয়েরা নেই, হাঘরে নেই, পাঠশালায় যেতে গুরুদক্ষিণা নেই, ডাক্তার ডাকলে ভিজিট নেই। চায়ের দোকানে বাসনধোয়া বাচ্চা নেই। আর --আর একটু চেষ্টা করলে ঐ রূপকথা আমাদের মাটিতে নেমে আসবে। -- দামামা ওই বাজে, দিনবদলের পালা এল ঝোড়ো যুগের মাঝে। অতএব, আর একটু হাত-লাগাও ভাই সকল। আউর থোড়া! হেঁইয়ো! দম লাগাকে, হেঁইয়ো! মনুমেন্ট ময়দানে, ব্রিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সাঁঝবাতি জ্বলার সময়,মাটিতে পেতে বসা খবরের কাগজকে মশালের আলোর থেকে ফুলকি হয়ে ছিটকে বেরিয়ে সেইসব রূপকথারা জোনাকির মত হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে লাগলো।

সত্যিই তো! প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন হওয়ার একমাসের মাথায় চালের দাম কমতে লাগলো, কেরোসিনের দাম কমতে লাগলো। তবে কি জোতদার-মজুতদারের দল ভয় পেয়েছে? কারখানায় কারখানায় নতুন নতুন ট্রেড ইউনিয়ন স্বীকৃতি পেল। বৃটিশের ট্রাম কোম্পানী বামসরকার রাষ্টীয়করণ করে নিল। ঊঃ, এ যেন কোন বিপ্লবী সরকার আন্তর্জাতিক পুঁজি বাজেয়াপ্ত করছে।"" ঘেরাও'' বলে এক নতুন হাতিয়ার পেয়ে গেল মজদুরেরা। সোনারপুর-কালিকাপুরে চাষীরা মাঠে লালপতাকা পুঁতে জোতদারের পরোয়া না করে ধান কাটতে লাগলো। পুলিস কোথায়? পুলিস? আমরা শুনলাম-- নতুন জমানায় পুলিস সাধারণ মানুষের বন্ধু। বলা হল খেটে খাওয়া মানুষের অধিকারের লড়াইকে পুলিশ লেলিয়ে দমন করা হবে না। এ যে রূপকথা সত্যি হতে চলেছে।
"" বাজি ফুটলো ইধার-উধার, মেঘে মেঘে বাইজ্‌লো কাঁড়া,
রাত-বারোটার কঠিন আঁধার চাঁদ কইরলেক ডিংলা-ফাড়া''।

কিন্তু কুয়াশা ঘেরা রূপকথার আমেজ বেশিদিন রইলো না। ধু- ধু গ্রীষ্মে খট্‌খটে রোদ্দূর। অবাক হয়ে খোকন দেখে চালের দাম আবার বেড়েছে, কিছু জিনিস বাজার থেকে উধাও। পুলিস গুলি চালিয়ে মজুর মারছে কাশীপুর অর্ডিনান্স্‌ ফ্যাকটরিতে, চাষীবৌদের মারছে উত্তরবঙ্গে । খোকনেরা হতভম্ব। এ কি "" যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ''? না কি "" মানুষের মর্মে মর্মে করিছে বিরাজ নরকের কীট, শুকায়েছে কালস্রোত, কর্দমে মেলেনা পাদপীঠ''।
নাঃ, চাই অন্য রূপকথা, চাই নতুন ঠাকুমা।

হ্যারি পটারের সৃষ্টিকর্ত্রী শ্রীমতী রাউলিং তখন এক্কাদোক্কা খেলছেন। জানতেন না বোধহয় যে প্রায় তিনদশক পরে ক্ষিদের জ্বালা তাঁর হাত ধরে লিখিয়ে নেবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার একের পর এক রেকর্ডভাঙ্গা এক অনন্যসাধারণ রূপকথার সিরিজ।

কিন্তু ষাটের দশকের শেষ আর সত্তরের শুরু,-- এক অত্যাশ্চর্য্য সময়। আকাশ থেকে সারা পৃথিবী জুড়ে নেমে এল অসংখ্য লাল-নীল- হলুদ- রূপকথার জাদু। প্যারিসে সরবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের দল, রেনো কারখানার মজদুর আর জাঁ পল সার্ত্রের মত বুদ্ধিজীবি--- সবাই পথে নেমেছেন। আমেরিকায় ভিয়েৎনামে নাপাম ফেলার প্রতিবাদে মিছিলে সামিল সাধারণ মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শোনা যায় জোন বেইজ, বব ডিলান, পীট সিগারদের যুদ্ধবিরোধী গানের প্রতিধ্বনি। ডেট্রয়েট, শিকাগোতে আফ্রো-আমেরিকানদের আন্দোলন ক্রমশঃ উগ্ররূপ নিচ্ছে। টম কাকার কুটিরকে ভুলে কালো মানুষেরা বরণ করেছে নতুন একটি রূপকথাকে---- ব্ল্যাক পাওয়ার। নতুন নতুন রাজপুত্তুর--- ম্যালকম্‌ একস্‌, স্টোকলি কারমাইকেল। মার্টিন লুথার কিং এর রূপকথা তুলনায় যেন একটু সাদামাটা। এক নতুন গল্পদাদু হার্বার্ট মার্কিউজ শোনাচ্ছেন "" ওয়ান ডাইমেনশনাল ম্যান'' এর আর এক রূপকথা। আবার বীটলস্‌দের এক রাজপুত্তুর জন লেনন শোনাচ্ছেন --"" স্ট্রীট ফাইটিং ইয়ারস্‌''।

রূপকথার ঢেউ ছড়ায় ভারতবর্ষে। পাওয়ারফুল চশমা চোখে খেঁকুরে চেহারার এক স্বপনবুড়ো শোনাতে লাগলেন জাদুমন্ত্র -"' হিং- টিং্‌-ছট্‌''। ছোটখোকন- বড়খোকন সবাইকে ডাক দিলেন, সবাই পড়াশোনা ছেড়ে গাঁয়ে গাঁয়ে কৃষকদের মধ্যে প্রচার করুক শ্রেণীশত্রু¤ খতমের রাজনীতি। একে - ৪৭এর নামও তখন কেউ শোনেনি। তাতে কি! প্রথাগত দা'-কুড়ুল যাই পাও নিয়ে আক্রমণ কর। তাহলে আগামী গ্রীষ্মে বাংলার বিশাল সমতল দিয়ে লিবারেশন আর্মি মার্চ করে যাবে। উনি আরও বল্লেন-"" আমি যখন বলি সত্তরের দশক, মুক্তির দশক তখন দিবাস্বপ্ন দেখিনা। আর সত্তরের দশক বলতে আমি পঁচাত্তর সালের বেশি ভাবতেই পারি না।''

অপরূপ রূপকথা। বড় খোকন, ছোটখোকন, হরিদাস পালের মতন মেজ-সেজ আর যত খোকন সবার তখন আঠেরো বছর বয়স। ওরা দেখল পরীক্ষা দিয়ে পাশ করার চেয়ে পরীক্ষা বয়কট করা অনেক বেশি কৃতিত্বের। জগদীশ বসু- বিদ্যেসাগর হওয়ার চেয়ে ক্ষুদিরাম- প্রফুল্ল চাকী হওয়া অনেক বেশি গৌরবের। ওরা অবাক হয়ে দেখল পাড়া-পড়শীর দল আর তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে না। আশপাশের দশটা পাড়ার বুঁচি- টেঁপি-চামেলির চোখে ওরা বীর। পুলিশকে ভয় পায় না! কি সাহস! মাগো!
"" বড় সুখবর শুনিলাম বাঘা জোতদার মরিল নাকি! গেরিলা কিসানের ঘায়ে জোতদার মরিল নাকি?''
আর "" চীনের চেয়ারম্যান আমাদেরই চেয়ারম্যান চীনের পথ আমাদেরই পথ'
জয় আমাদের হবে, রেডবুক হাতে মুক্তির নিলাম শপথ।''

এযে শতাব্দীর সীমানা পেরিয়ে জেগে উঠেছে পুরোনো এক রূপকথা! সাঁওতাল বিদ্রোহের ডাক---"" উল্‌ উলান''! তীরকাঁড় নিয়ে বন্দুকধারী ইংরেজফৌজের মোকাবেলা! শালের জঙ্গল কথা বলছে-- মারাং বুরু আমাদের দেবতা, মারাং বুরু আমাদের ভরসা। মারাং বুরু বুলছে -- উদের গুলি সব ধুঁয়া হয়েযাবে। দিকুদের গুলি, সাদা চামড়ার গুলি সব ধুঁয়া হয়ে যাবে।

১৯৭৫ এ সব রূপকথা চুপকথা হয়ে গেল। লিবারেশন আর্মির মার্চপাস্টের জায়গায় এল দেশজুড়ে ""জরুরী অবস্থা''। আর এল নতুন এক ঠাকুমার উঁচুপর্দার কথনে নতুন রূপকথা---""গরীবি হটাও''। গল্পবলার সময় সুরের ওঠানামার সাথে সাথে তাল মিলিয়ে দোলে হাতের জাদুদন্ড। মন্ত্রবলে জেলখানা ভরে ওঠে। দিল্লির গরীব মহল্লা অদৃশ্য হয়। সরু সরু গলিঘুঁজি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়। দেখা দেয় ঝাঁ- চক্‌চকে রাজপথ-জনপথ, এশিয়ান ভিলেজ। খালি হাওয়ায় ভেসে আসে হাপরের মতন আওয়াজ, শ্বাস টানার শব্দ। নীচুগলায় কেউ গাইতে থাকে--""" জঙ্গল-জঙ্গল ঘুমকে দেখা, বস্তি-বস্তি ঘুমকে দেখা, হর তরফ হরিয়ালি হ্যায়, সির্ফ আঁখে সবকী খালি হ্যায়।''

আশির দশক এল, খোকনদের জন্যে নতুন খেলনা নিয়ে -- কম্পিউটার। এ এক আশ্চর্য ক্রিস্টাল বল। এর দিকে তাকিয়ে থাকো, দিনরাত ভুলে যাবে। ক্রিস্টাল বল ঘোরে। খোকনেরা ওর মধ্যে দেখতে পায়-- ভূত- ভবিষ্যৎ। বর্তমান? সে তো স্ফটিকগোলক নিজেই। মুক্তির দশক? হা-হা-হা-হা!!
"" মুক্তি? ওরে মুক্তি কোথায় পাবি? মুক্তি কোথায় আছে?''

কিন্তু আশির দশক থেকে শুরু হল এক নতুন প্রজাতির রূপকথা। দাড়ি-পাগড়ি-আলখাল্লা পরা রূপকথার চরিত্ররা নেমে এলেন পৃথিবীতে। বল্লেন-- আমি ঈশ্বরের দূত। এসেছি সব পাপ ধুয়ে এই ধরিত্রীকে পুণ্যভূমি বানাতে। বিধর্মীদের সমূলে বিনাশ করে ন্যায়ের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। খোকন! চোখের জল মোছ। আমার সঙ্গে এস। তোমরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছ। আর নয়! শয়তানের সাম্রাজ্যে অসম্মানের জীবনযাপনের চাইতে মৃত্যু শ্রেয়। এবার পাল্টা আঘাত হানো। দিন আগত ঐ! খোকন হতভম্ব। শয়তান কোথায়? -- কেন? তোমার চারপাশে তাকিয়ে দেখ। আমরা ঈশ্বরের সন্তান, আমরা মহাকালীর বাচ্চা। আমরা শ্বেতশুভ্র ভগবানের প্রজাতি। খালি আমরাই দ্বিনের অনুগামী। আমরা ছাড়া বাকি সবাই "ওরা''। ওরা ইবলিশের বাচ্চা। ওরা সভ্যতার কলংক। ওদের বাঁচতে দিলে চলবে না।

নতুন রূপকথাগুলোর দাপটে ঠাকুমা-দিদিমা-পোটলিবাবা সবাই দুদ্দাড় করে পালিয়ে গেলেন। কেউ কেউ হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেন। চারদিক ভরে উঠলো অভিশাপ- ফতোয়া আর ধর্মযুদ্ধের ঘোষণায়। খোকনেরা কি করবে? শোন খোকন! চোখ খোল। দেখ কি সাদামাটা অকিঞ্চিৎকর তোমার জীবন। এর জন্যে তুমি দায়ী নও। দায়ী ওরা। ওদের খতম করতে হবে। হত্যা করা পাপ? ভুল শুনেছ। মানুষ-মারা পাপ। ওরা মানুষ নয়। আরশোলা-ইঁদুর মারলে পাপ হয় না। আবার ভাবো। তুমি মারা গেলে ভগবানের কাছে যাবে। ঈশ্বর তোমাকে কাছে টেনে নেবেন। বেঁচে থাকলে তোমার মুঠোয় গোটা দুনিয়া।
"" হত বা প্রাপ্সসি স্বর্গং, জিত্বা ত্বং ভোক্ষ্যসি মহীম্‌''।

খোকনেরা বুঝলো-- কলির শেষ হয়ে এসেছে। দুনিয়ায় পাপের ঘড়া প্রায় ভরে এসেছে। বিদীর্ণ হল ধনভান্ডার তল, পাতালগুহায় উঠেছে জাগিয়া কালীনাগিনীর দল। নতুন রূপকথার স্বপ্নে বুঁদ সবাই। আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ। শয়তানদের ক্ষমতার প্রতীক সব চিহ্ন ভেঙ্গে চুরমার করো। ভেঙ্গে পড়লো বাবরি মসজিদ। ধূলোয় মিলিয়ে গেলেন বামিয়ানের বুদ্ধ। আর আকাশ থেকে বজ্র নামলো--- বিশ্বব্যাপার কেন্দ্রের গগনচুম্বী ইমারত তাসের প্রাসাদের মত ধ্বসে পড়লো।

এবার সাদাচামড়ার ক্লীনশেভড্‌দের রূপকথায় দাড়িওলারা হল ডেভিলস্‌ অ্যাড্‌ভোকেটস্‌। আর দাড়িওলারা বল্লো- মেয়েদের মত মোমপালিশ গাল যাদের তারাই আসল শয়তানের চ্যালাচামুন্ডা। রক্তের ধারা ছড়িয়ে পড়ছে। হ্যারি পটারেরা অসহায়। তারা বুঝতে পারছে না জাদুকর অধ্যাপকদের মধ্যে কে শুভ, কে অশুভ।

আর গত প্রজন্মের খোকনেরা? তারা আজ সব হরিদাস পাল হয়ে নিজের নিজের গর্তে সেঁধিয়ে গেছে। কোন প্রচলিত রূপকথায় তাদের বিশ্বাস নেই। কিন্তু রূপকথা যে চাই, রূপকথা ছাড়া যে চলে না। হাওয়ায় ভেসে নেমে আসবে কি কোন নতুন রূপকথা? হরিদাস পালেরা তারই দিন গোণে। ততদিন?

ততদিন-- ঈগ্নোরন্ত অর্মিএস ্লশ ব্য নিঘ্ত।


ডিসেম্বর ২৮, ২০০৮
মে ১৩, ২০১৪ থেকে সাইটটি ১,১০২,২৭৩ বার পঠিত


529 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: দ

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

মোদ্দা বক্তব্যে একমত রঞ্জনদা।
তবে বেশ একটু অতি সরলীকরণ লাগল জায়গায় জায়গায়।
Avatar: Ranjan Roy

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

দ,
একমত। একেবারে ঠিক কথা।
আসলে এটা ২০০৮ এ বু-ভা। এটাকে কপিপেস্ট করলাম খেরোতে তোলার জন্যে। পরে রি-রাইট করার ইচ্ছে আছে বলে।

[ আসলে অনেকদিন কিছু ঠিকমত লিখতে পারছি না। ডিটেকটিভ গল্প লিখতে গিয়ে ছড়িয়েছি। আমার দুই মেয়ে খিস্তি দিয়ে বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
বলেছে - শস্তা চটকদারির চেষ্টা ও প্লেয়িং টু দি গ্যালারি বন্ধ কর। গাটারের গালি কেন যেখানে সেখানে কপিপেস্ট কর?
সব কিছু সবার জন্যে নয়। যে দুনিয়াকে চেন না সেখানে ঢুকতে যেও না। সবাই শ্রীমতী রাওলিং হয় না।
Build on your own streength। তুমি কিন্তু দেখা দুনিয়া নিয়েই ভাল লেখ। এবার ফর্ম হারানো ব্যাটসম্যানের মত গো ব্যাক টু দ্য বেসিক্স্‌! ঃ)))
আর নিজের জন্যে লেখ।]
চেষ্টা শুরু করেছি। ৩৬ গড়ের স্কেচ, মিশন, ইত্যাদি।
Avatar: dd

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

বাঃ।

এটা বেজায় ভাল্লগ্লো। অতি সরলীকরন তো অবশ্যই। অ্যাতো বড়ো প্রেক্ষাপট "এক পাতায় লিখো" করলে তো সেটা হবেই। ইটির এক এক প্যারা নিয়েই দুশো প্রবন্ধো হয়ে যায় আর লাখ খানেক অ্যানেকডট।

কিন্তু স্পিরিটটা একেবারে যথাযথ।

লাস লাইনটা কি?"ঈগ্নোরন্ত অর্মিএস ্লশ ব্য নিঘ্ত"

পুঃ। মে'দের কথায় বিশ্বাস রেখো।
Avatar: Ranjan Roy

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

ডিডি,
ওটা বুঝতেই পারছ-- Ignorant armies clash by night"! কপি পেস্টে ছড়িয়েছি।
Avatar: aka

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

এই লেখার স্টাইলটা বেজায় ভাল্লাগলো। একেবারে অন্যরকম।
Avatar: aranya

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

খুব ভাল লাগল
Avatar: samir mukherjee

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

রঞ্জন ভালো লাগলো লেখাটা।

Avatar: Ranjan Roy

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

সবাইকে ধন্যবাদ!!
Avatar: nina

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

রঞ্জনভাউ--
শক্ত কথা সহজ করে বলাও সহজ নয়---খুব ভাল লাগল ইসটাইলখানা :-))
Avatar: Biplob Rahman

Re: সাঁঝবাতির রূপকথারা

অ হরি! অথবা হ্যারি! স্বীকার করি, তাইই বটে-


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন