ফরিদা RSS feed

প্রচ্ছন্ন পায়রাগুলি

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

ধুলোবেলা

Suman Manna


আমি চারপাশ থেকে জড়ো করি চুল দড়িদাড়া ভিটভিটে আলো জ্বলা সন্ধে লাল ঝুটি চাওয়া পাখিরূপ দীর্ঘসুত্রতা। নিজের কাছ থেকে নিভে যেতে চাই আমি অনেক দূর থেকে মেল ট্রেনখানি আসে মাঝে মাঝে আমাদের কাছে, জানো?

এমনিতে ঘাসফড়িং দেখি আমি ওড়াউড়ি করে। কখনো কখনো অন্য পোকামাকড় দেখে ভাবি এরাও ঘাসফড়িং হতে পারত। আমি দেখি সরু সরু নীল সুতো কখনো আড়াআড়ি কখনো বা লম্বালম্বি ভাবে সরে সরে যায়। বাক্স বাক্স ঘরে বাক্স জমা হতে হতে মানুষজন মহানন্দে বাক্স রহস্যের সিনেমা দেখে ফেলে। আমি সিনেমাটা দেখি না তবে নিজের বাক্স নজরে রাখি। নিজের বলতে বাক্স ছাড়া কিছু নেই আমার। এমন কিছু আছে যা হয়ত জানিনা – বা যতটা জানি ততটা আমার নেই। সেদিন বলে দিলে বলে জানা রইল আমার সবুজ কালো চেককাটা জামাটা নাকি চমৎকার, তারপর থেকে ওটি আমার বলে মেনে নিই।

কলে জল আসে। আমি জল ভরি – প্রথমে খাবার জলের বালতি, তারপার রান্নার বালতি তারপরে চানের আর শেষ বালতিটি থাকে জামা কাপড় ধোয়াধুয়ির জন্য। এই চারটে বালতির লাইন পরে সকাল পাঁচটার আগেই। খাবার জল ভরার সময়ে রাস্তার কলতলায় কেউ সাবান ঘষলে বড় আস্বস্তি হয় আমার। ফেনাটেনা জলে পড়ে যেতে পারে। জানি কেউ আমার কথা শোনে না। শুনলেও আমি সকালে ঠিক কথা বলতে চাইনা। মনে হয় খাবার জলের বালতি ভরা হচ্ছে দেখে কেউ যদি সাবান মাখা থামিয়ে দেয় তার ওপর আমি কৃতজ্ঞ থাকব।

আমি রাস্তায় চান করতেও পারিনা। এজমালি বাড়ির কলে জল আসেনা আজকাল। তবু এক খাঁ খাঁ করা চৌবাচ্চায় অশিতিপর বুড়ির মতো একটা তুবড়ে ছোটো হয়ে যাওয়া বালতি থাকে। ওই বালতিটি আবার ফুটোও। আমি জানি। শ্যাওলা পড়া মেঝেতে কিছু যায় আসে না। দেয়ালের একটা পেরেক আর দড়ি দিয়ে বন্ধ করার ব্যবস্থাওয়ালা দরজা আমার যথেষ্ট মনে হয়। সাবান কেস সহ সাবান আর মগ আমার নিজস্ব। চানের পর সবকিছু গিয়ে রাখা থাকবে সিঁড়ির তলার ঘরখানিতে।

নেহাৎ বাজারে না গেলে জিনিসপত্রগুলো নিজে থেকে চলে আসেনা তাই নিয়ে আসি। বেলা করেই যাই – দেখে শুনে নিতে পারলে বেশ সস্তায় হয়ে যায়। এই মাসে আলু বারো টাকা কেজির দর আমি আরামসে সাড়ে আটটাকায় পেয়ে যাই।

তবু ভ্রম হয়। বুকের ওপর চাপ চাপ মাটি ফেলে রাতারাতি বুজিয়ে দেয় পুকুরটা। সাধু সজ্জন চলে এসে টেসে হেসে গেয়ে মাত করে দিল বলে। কাল থেকেই লাল শালুটালু দিয়ে মুড়ে দেবে জায়গাটা। ঠিক কোথায় যে চুলকানিটা ছিল আসলে সেটা ধরা পড়লো না সেটাই দুঃখের।

পাখিদের ছাতা মাথায় উড়তে দেখেছি কি? ছাতার পাখিও ওসব নেয়টেয় না, যদ্দুর জানি। তবে পোষাক পড়া পোষা সাপ ভল্লুক মীরজাফর দেখে থাকি। তাদের আমি এককথায় চায়ের পাশে বিস্কুট দিই। যেসব ঝুলবারান্দায় ঠাস করে খবরের কাগজ পড়ে সকাল সকাল, যেসব কাগজওয়ালারা ফাঁকা রাস্তায় সাইকেল চালাতে চালাতেই রবার ব্যান্ডের আংটি পরিয়ে দেয় আর ছুঁড়ে দেয় আর পরক্ষণেই একটু টলে যাওয়া সাইকেল সোজা করে হুশ করে বেড়িয়ে গেছে – তার সেই রংচটা হলদে গেঞ্জিটা মনে থাকে, তার মুখ কখনো দেখিনি।

যার মুখ দেখে দেখে বেলা যায় তার আবার আর কিছু মনে নেই। কী বা সে রান্না চাপাল আজ - কেমন আছে – কোথায় আছে – তার সেই ফুল্গাছগুলো কি বাঁচল একটাও – যা ভুলো মন ছিল – কিন্তু শখ ছিল যে কত – কী ছটফটেই না ছিল তখন। তুবড়ি একটা।

...............


271 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: siki

Re: ধুলোবেলা

আরিসসাবাস!

তারপর?
Avatar: kumu

Re: ধুলোবেলা

কী সুন্দর!
Avatar: শুদ্ধ

Re: ধুলোবেলা

বাহ!
Avatar: শিবাংশু

Re: ধুলোবেলা

যেটুকু কাছেতে আসে ক্ষণিকের ফাঁকে ফাঁকে ... বাহ,
Avatar: pharida

Re: ধুলোবেলা

থ্যাঙ্কুস.............. দিল খুশ :)
Avatar: san

Re: ধুলোবেলা

রক্তমাংসই বটে।
Avatar: পটলা

Re: ধুলোবেলা

তাপ্পর?
Avatar: dd

Re: ধুলোবেলা

"যার মুখ দেখে দেখে বেলা যায় তার আবার আর কিছু মনে নেই। কী বা সে রান্না চাপাল আজ - কেমন আছে – কোথায় আছে – তার সেই ফুল্গাছগুলো কি বাঁচল একটাও – যা ভুলো মন ছিল – কিন্তু শখ ছিল যে কত – কী ছটফটেই না ছিল তখন। তুবড়ি একটা।"। ..... একটা দাগ রাখার মতন শেষ ক লাইন।
Avatar: nina

Re: ধুলোবেলা

উফ!! বড্ড সুন্দর----
Avatar: kk

Re: ধুলোবেলা

বড় ভালো হয়েছে। ফরিদা এত কম লেখে কেন?


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন