Suddha Satya RSS feed

অযত্নে যা ফোটে, যত্ন করলে অলঙ্কার হয়!

আরও পড়ুন...
সাম্প্রতিক লেখালিখি RSS feed
  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা... বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার দিন
    বিএনপি এখন অস্তিত্ব সংকটে আছে। কিন্তু কয়েক বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ক্ষমতার তাপে মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল দলটার। ফলাফল ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যার চেষ্টা। বিরোধীদলের নেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করলেই ...
  • তোমার বাড়ি
    তোমার বাড়ি মেঘের কাছে, তোমার গ্রামে বরফ আজো?আজ, সীমান্তবর্তী শহর, শুধুই বেয়নেটে সাজো।সারাটা দিন বুটের টহল, সারাটা দিন বন্দী ঘরে।সমস্ত রাত দুয়ারগুলি অবিরত ভাঙলো ঝড়ে।জেনেছো আজ, কেউ আসেনি: তোমার জন্য পরিত্রাতা।তোমার নমাজ হয় না আদায়, তোমার চোখে পেলেট ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ২
    বার্সিলোনা আসলে স্পেনের শহর হয়েও স্পেনের না। উত্তর পুর্ব স্পেনের যেখানে বার্সিলোনা, সেই অঞ্চল কে বলা হয় ক্যাটালোনিয়া। স্বাধীনদেশ না হয়েও স্বশাসিত প্রদেশ। যেমন কানাডায় কিউবেক। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মনে হয় এরকম একটা জায়গা থাকে, দেশি হয়েও দেশি না। ...
  • বার্সিলোনা - পর্ব ১
    ঠিক করেছিলাম আট-নয়দিন স্পেন বেড়াতে গেলে, বার্সিলোনাতেই থাকব। বেড়ানোর সময়টুকুর মধ্যে খুব দৌড় ঝাঁপ, এক দিনে একটা শহর দেখে বা একটা গন্তব্যের দেখার জায়গা ফর্দ মিলিয়ে শেষ করে আবার মাল পত্তর নিয়ে পরবর্তী গন্তব্যের দিকে ভোর রাতে রওনা হওয়া, আর এই করে ১০ দিনে ৮ ...
  • লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া
    -'একটা ছিল লাল ঝুঁটি কাকাতুয়া।আর ছিল একটা নীল ঝুঁটি মামাতুয়া।'-'এরা কারা?' মেয়েটা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড়ো করে অদ্ভুত লোকটাকে জিজ্ঞেস করে।-'আসলে কাকাতুয়া আর মামাতুয়া এক জনই। ওর আসল নাম তুয়া। কাকা-ও তুয়া বলে ডাকে, মামা-ও ডাকে তুয়া।'শুনেই মেয়েটা ফিক করে হেসে ...
  • স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি
    স্টার্ট-আপ সম্বন্ধে দুচার কথা যা আমি জানি। আমি স্টার্ট-আপ কোম্পানিতে কাজ করছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সিলিকন ভ্যালিতে। সময়ের একটা আন্দাজ দিতে বলি - গুগুল তখনও শুধু সিলিকন ভ্যালির আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের নামগন্ধ নেই, ইয়াহুর বয়েস বছর চারেক, অ্যামাজনেরও বেশি দিন হয়নি। ...
  • মৃণাল সেন : এক উপেক্ষিত চলচ্চিত্রকার
    [আজ বের্টোল্ট ব্রেশট-এর মৃত্যুদিন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে যিনি সার্থকভাবে প্রয়োগ করেছিলেন ব্রেশটিয় আঙ্গিক, সেই মৃণাল সেনকে নিয়ে একটি সামান্য লেখা।]ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কীভাবে যেন পরিচালক ত্রয়ী সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল এক বিন্দুতে এসে মিলিত হন। ১৯৫৫-তে মুক্তি ...
  • দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল পড়ে
    পড়লাম সিজনস অব বিট্রেয়াল গুরুচন্ডা৯'র বই দময়ন্তীর সিজনস অব বিট্রেয়াল। বইটার সঙ্গে যেন তীব্র সমানুভবে জড়িয়ে গেলাম। প্রাককথনে প্রথম বাক্যেই লেখক বলেছেন বাঙাল বাড়ির দ্বিতীয় প্রজন্মের মেয়ে হিসেবে পার্টিশন শব্দটির সঙ্গে পরিচিতি জন্মাবধি। দেশভাগ কেতাবি ...
  • দুটি পাড়া, একটি বাড়ি
    পাশাপাশি দুই পাড়া - ভ-পাড়া আর প-পাড়া। জন্মলগ্ন থেকেই তাদের মধ্যে তুমুল টক্কর। দুই পাড়ার সীমানায় একখানি সাতমহলা বাহারী বাড়ি। তাতে ক-পরিবারের বাস। এরা সম্ভ্রান্ত, উচ্চশিক্ষিত। দুই পাড়ার সাথেই এদের মুখ মিষ্টি, কিন্তু নিজেদের এরা কোনো পাড়ারই অংশ মনে করে না। ...
  • পরিচিতির রাজনীতি: সন্তোষ রাণার কাছে যা শিখেছি
    দিলীপ ঘোষযখন স্কুলের গণ্ডি ছাড়াচ্ছি, সন্তোষ রাণা তখন বেশ শিহরণ জাগানাে নাম। গত ষাটের দশকের শেষার্ধ। সংবাদপত্র, সাময়িক পত্রিকা, রেডিও জুড়ে নকশালবাড়ির আন্দোলনের নানা নাম ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের মধ্যে। বুঝি না বুঝি, পকেটে রেড বুক নিয়ে ঘােরাঘুরি ফ্যাশন হয়ে ...


বইমেলা হোক বা নাহোক চটপট নামিয়ে নিন রঙচঙে হাতে গরম গুরুর গাইড ।

শুদ্ধ

Suddha Satya

ভূমিকা
বেশ ক'বছর আগে চেষ্টা করছিলাম উপন্যাস নিয়ে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে। একটি শারদীয়ায় প্রকাশিত হয়েছিল তখন। বই করার কথা ছিল তাঁদের। সে সামর্থ্য নানা কারণে তাঁদের না থাকায় বই-এর চেহারা আর পায়নি। গুরুর তৃতীয় তরঙ্গ দেখে মনে হল একবার ঝালিয়ে নিই স্মৃতি। সুধীদের মতামতে সমৃদ্ধ হই। পূজো আবার আসছে। এখানের বন্ধুদের পড়া নয় সে জানি। তাই ভরসা করে দিয়ে দিলাম। অন্তত পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটছি বলে গাল খাবো না। ধারাবাহিক করেই দিচ্ছি। অলমতি বিস্তারেণ!
_________________________________________________________________________________


কাঙালনামা
_________

।।প্রস্তাবনার শেষে।।

‘মৃতের দেশ’। ‘মহেঞ্জদাঢ়ো’! এখান থেকে একটা গোটা সভ্যতা নাকি উবে গিয়েছিল। তাদের ধানের সাধারণ ভান্ডার ফেলে। তাদের স্নানের ঘর ফেলে রেখে। ভাবতাম গেল কোথায় সব? এখানে তো সেই পম্পেই-এর মত একরাত্রে অগ্নুৎপাত ঘটেনি। আগ্নেয়গিরি ছাই করে দেয়নি সব গৌরব, তাহলে? এখানে এক বিপুল বন্যা এসে সব ভাসিয়ে নিয়ে গ্যাছে এমন চিহ্ন নেই? তাহলে? কেউ কেউ বলতেন আর্যরা এসে নাকি সব মেরে ফেলেছিল! তাই! তার-ও তো চিহ্ন নেই! বড় ধোঁয়াশা লাগত। কি হয়েছিল? জানার সব রাস্তাই শেষ? জানতে কেউ কি আগ্রহী? নাকি এই সভ্যতা আমাদের এক প্রাচীনতা দিয়েছে এই গর্বেই সব শেষ? কেন শেষ?

ইতিহাস লাগে কাদের? যাদের ভবিষ্যৎ আছে। এটা কি একটু আপ্তবাক্যর মত বললাম? বেশ তবে রোগের কথাই ধরি। আমার সুগার আছে কিনা বা থাইরয়েড হবে কিনা তার খোঁজ-এ অনেক সময় চলে যেতে হয় পূর্বজদের কাছে। তাতে অনেকটা সম্ভাবনা বোঝা যায়।মানুষের জিন-এ থাকে তার এক ইতিহাস। সেই ইতিহাস কখন কি চেহারায় দেখা দেবে সেটা জানার জন্যে থাকে প্রভূত ব্যাকুলতা।ইতিহাস একটা বাড়ির মত। যত উচ্চতা অবধি বাড়ির বিস্তার সেই অনুপাতে ভিত নীচে যেতে হবে। না হলে হবে না। বাড়ি দ্রুত ভেঙ্গে পড়বে। অর্থাৎ ইতিহাস ভবিষ্যৎ-এর সম্ভাবনাকে কে কেমন করে দেখেছে তার উপরেও আবিষ্কার করবে। আমরা যে আজ-ও সিন্ধু সভ্যতার শিলালিপি পাঠ করতে পারলাম না তা কি আমাদের সম্ভাবনার কথা তেমন করে ভাবা যায় নি বলে?


।।এখানে এক নেই নগর আছে।।


কোথায়? কলকাতায়? সে কি? সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ। এখানেই একটু থামুন। একটু জিরান দিয়ে নি। সরস্বতী নদী মৃত।আচ্ছা, সপ্তগ্রাম কেন মরলো? অমন বন্দর শহর একটা। বাংলায় কি কদর ছিল তার! গৌঢ় মরেছে। কর্ণসুবর্ণও। জানেন সবটাই আপনি পাঠক। নদী সরে গিয়েছিল। বন্দর ছিলনা আর। ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা মৃত। তাহলে কি হবে? পথে পথে বিপদ দস্যু। জলপথেই তবু একটু নিরাপদ। সময়-ও কম লাগত। সমুদ্রের থেকে মাল এনে তাকে নদীর পথে নিয়ে যাও গ্রামের দিকে। প্রথমে বন্দরে। তারপরে সেখান থেকে বড় বড় গ্রামে, যাকে কসবা বলা হত। এমনই এক বন্দর গ্রাম কসবাতে আমার আবাস। বনগ্রাম। এমন সব গ্রাম থেকেও ছোট গ্রামে সওদা যাবে। এ বাণিজ্য লক্ষী! বিজয় সিংহ, না না, ধনপতি সদাগর দেখলেন মা লক্ষী ভাসছেন সিংহল সমুদ্রের পথে। কমলে কামিনী। ধনপতি না তার পুত্র? ‘মধুকর ডিঙা নিয়া বাণিজ্যেতে যায়/সপ্তনদী পার হয়্যা সপ্তসিন্ধু ধায়’! এভাবেও লেখা যেত। সেই বাণিজ্যের রাস্তা নদী সরে গেলে বন্ধ হয়ে যাবে। হরপ্পা না, মহেঞ্জদাঢ়ো না, কালিবঙ্গাল বা লোথালে এসবে বাণিজ্য হত। নাকি সপ্তগ্রামের মতই? ঠিক জানা যাচ্ছে না। এবারে কথা বলতেই হবে। আমি একজন সংবাদ-সংগ্রাহক। এখানে এসেছি সংবাদ নিতে। কার জন্যে? সে সবে পরে বিস্তার! একজনকে দেখতে পাচ্ছি। পরণে একটি চটা ধরা শেরোয়ানী। আমারো এমন শখ ছিল। কিন্তু হয়নি পরা।

-সালাম ওয়ালেকুম!
আগন্তুককে দেখে একটু ধীরে পথিক বলেন,
-ওয়ালেকুম আসসালাম!
-জনাব,এখানে একটি নেই নগর আছে?
-আছে বা ছিল দিয়ে আপনি ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন মেহমান! এখানে আদতে একটি আছে নগর ছিল। নেই নগর-ও ঠিক তার সঙ্গেই আছে।

।।আছে নেই-এর তত্ত্ব।।

আমি বুঝিনি কি বলছে এ? নেই নগর আছে, না নেই? আছে নগর নেই কেন? নেই নগর আছে কেন? এসব দোলাচল বড়।

-জনাব,এখানে কি সব-ই ধাঁধা?

আপাদমস্তক লোকটি আমাকে দেখল। এ যেন সেই বালক কাজের মাঝে খুব জ্বালালে যেমন হয় আর কি! তবে কাজ লোকটি সত্যি করছিল বটে। দাঁত খুঁটছিল মন দিয়ে। তার মাঝে কথা বলতে হলে বিরক্ত লাগাই স্বাভাবিক। সে চলে গেল। কোন কথাই না বলে। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।

তখন ১৮৫৬ সাল হবে। রেলের ইঞ্জিনীয়ররা কাজ করছে এখানে। রেলপথ হবে। তারা আমারই মতন শুনেছে এখানে আকাশে বাতাসে গল্প ছড়িয়ে আছে একটা শহরের যা আছে এখানে, কিন্তু নেইও বটে। মানে এককালে ছিল। তের কোশ জুড়েই ছিল বা আছে।

কোশ, মানে ক্রোশ। সংস্কৃত শব্দ, আমাদের অনেকেরই চেনা। কৌটিল্য তাঁর অর্থশাস্ত্রে এর সম্যক মাপ দিয়েছেন। পরপর বলি!

* ১ আঙ্গুল (হাতের একটা আঙ্গুলের মাপ) = আজকের দিনের ৩/৪ ইঞ্চি প্রায়
* ৪ আঙ্গুল = ধনুগ্রহ (ধনুকের ধারণাংশ) = ৩ ইঞ্চি
* ৮ আঙ্গুল = ১ ধনুর্মুষ্টি (বুড়ো আঙ্গুল সোজা করে নিয়ে) = ৬ ইঞ্চি
* ১২ আঙ্গুল = ১ ভিতস্তা (বুড়ো থেকে কড়ে আঙ্গুলের সবটা ছড়ালে হাতের পাতা খুলে যে মাপ) = ৯ ইঞ্চি
* ২ ভিতস্তা (কণুইয়ের শীর্ষবিন্দু থেকে মধ্যম অঙ্গুলির ডগা) = ১ আরান্তি অথবা হস্ত বা হাত = ১৮ ইঞ্চি
* ৪ আরান্তি অথবা হস্ত বা হাত = ১ দন্ড বা ধণুষ (ধণুক) = ৬ ফুট
* ১০ দন্ড বা ধণুষ = ১ রজ্জু = ৬০ ফুট;
* ২ রজ্জু = ১ পরিদেশ = ১২০ ফুট
* ২০০০ দন্ড বা ধণুষ = ১ ক্রোশ = ৪০০০ ইয়ার্ডস বা ২.২৫ মাইল বা প্রায় ৩.৬৬ কিমি
* ৪ ক্রোশ = ১ যোজন = ৯ মাইল বা প্রায় ১৫ কিমি

তাহলে তের ক্রোশ বিস্তৃত শহর মানে? ৪৭.৫৮ কিমি প্রায়। ব্রাহ্মীণাবাদের মাপ এটা। সেই শহর দখল করাটা বা তার জন্যে জমি নেওয়াটাও কৌটিল্য বা তার সময় প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আঙ্গুল দিয়ে খেলাটা শুরু হবে, সেটা একসময় ধনুকের ডগায় পৌঁছবে।তার পরে যে জমি আসবে তাকে মুঠিতে ধরে মাপতে না পারলে তখন দড়িতে মাপ। না মাপতে পারলে তাকে মাপ ক্রোশ-এ। মনে পরে তোডরমলের হিসেবের কথা? কৌটিল্য বা তোডরমল কেউ একজন করেছে। নাকি তাঁদের বাদ দিয়েও আরো অনেক আছেন? জানিনা।এসব প্রশ্ন বড় কূট!

কিন্তু এখানে যে শহরটির খোঁজ আমাকে না দিয়েই লোকটি চলে গেল সে কি বলতে চাইছিল?প্রবাদ বলছে আছে শহর।আমি পাচ্ছিনা।নেই নগর।

।।চার্লস মেসনঃ নেই নগরের খোঁজ।।

এসেছিলেন। লিখেও গ্যাছেন। কিন্তু ১৮৪২ সাল। একটি উপনিবেশ সবে হাতে এসেছে। সেখানে সোনা-দানা চাই। সেখানে সোনা কিনতে পারে এমন কিছু চাই। ধান থেকে রেশম বা তাঁতের বস্ত্র যা কিছু হোক। বাণিজ্যের সব দরজা খুলতে হবে। লন্ডনে বড় কোলাহল এ নিয়ে। কিন্তু সে সব নিতে গেলে চাই বন্দর বানানো। চাই বন্দর অব্দি আসার রাস্তা। সে রাস্তায় গরুর বা ঘোড়ার গাড়িতে হলে খিদে মিটবে না ব্রিটেনের রাজার থুড়ি রাণির। সে রাস্তায় বন্দুক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দস্যু। না হলেও হাতে তরওয়াল, বর্শা, টাঙ্গি, দা। ধীর এবং বিপদসঙ্কুল রাস্তার চেয়েও দ্রুত গতির রাস্তা আছে। লোহার রাস্তা। আগুণের গাড়ি চলবে তার উপর দিয়ে। লোহার রাস্তায় লোহার গাড়ি।সেনায় বা পুলিশে মুড়ে দেওয়া যাবে সে গাড়ি দরকারে। এ দেশে অনেকে যুদ্ধই করে গ্যাছে আজন্ম কাল। চাষ-বাস অনেক কাল হল নেই এখানে তেমন। হরপ্পার ধানের গোলা ফাঁকা।

১৮৫৬ সাল। ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর হয়ে জন আর উইলিয়াম ব্রান্টন এখানে লাহোর আর করাচীকে জুড়তে এল। বাণিজ্য আর দখল করা জায়গায় সেনা পরিবহন দুটোই হবে একসঙ্গে। কোন বিদ্রোহের আঁচ দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে দমন করার ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।কিন্তু লোহার গাড়ির জন্যে লাগবে লোহার রাস্তা। সে রাস্তা পাততে গেলে আবার লাগবে লোহাকে সামলানোর পদ্ধতি। পরের পর স্লিপার পেতে যাওয়া হবে মাটির উপর। তার উপরে থাকবে লোহার লাইন। সেই লাইনের উপর দিয়ে দৌড়বে লোহার এঞ্জিন। সঙ্গে থাকবে গাড়ির কামরা। এবারে চাপে সে গাড়ি মাটিতে বসে যাবেনা তো? স্লিপারগুলো রোদে, চাপে সরে যাবেনা তো পরস্পরের থেকে? তাহলেই চিত্তির! বিস্তর ক্ষতি, দুর্ঘটনার ফল।

না যাওয়ার জন্যে লাগে বালাস্ট। মাটির ঠিক উপরে সেটা পাতা হয়। সেটা দিয়েই ঘিরে দেওয়া হয় স্লিপারের চারপাশ। এমনকি দুটো স্লিপারের মধ্যেও থাকে বালাস্ট। সেই বালাস্টের পাথর লাগবে।

জনঃ এ তো ভারি মুশকিল হল! পাথর এখানে আনলে যে খরচ হবে তাতো বাজেটে নেই হে!
উইলিয়ামঃ সেটা তো বটেই। কিন্তু কাজটা করতেই হবে যে করে হোক। আমি আর খুব বেশী গ্রীষ্ম এখানে থাকতে চাইও না জন।
জনঃ সে কি আমিও চাই? কিছু টাকা করে নিতে পারলেই হয়। তবে কাজটা কিন্তু এমন করা দরকার যাতে সকলে আমদের মনে রাখে। এ সুযোগ বারবার আসবে না উইলিয়াম। কোম্পানির ব্যবসা বাড়ছে ঠিকই। সঙ্গে দেশে শত্রুও। এমন জায়গায় শুধু এরাই ব্যবসা করবে তা কি করে হতে দেওয়া যায়! সবাই দেশে এটা নিয়ে ভাবছে। তাছাড়া ভেবে দেখ, এরা যদি এভাবে ক্রমশ বেড়ে চলে সেটা ব্রিটেনের পক্ষে কতটা ভাল?
উইলিয়ামঃ এই শুরু হয়ে গেল তো? খ্রীষ্টের দিব্বি জন, আমার এই রাজনীতির কচকচানি ভাল লাগেনা।
জনঃ ভাই, এটা না বুঝলে অনেক কিছুই বোঝা যাবেনা। আমাদের এখানে কি কাজ? কে দিল?
উইলিয়ামঃ হেঁয়ালি করছ কেন?
জনঃ আজকে আমরা এই কাজটা পেয়েছি, কিন্তু কাল অন্য কোম্পানি এলে আমাদেরই নেবে তার মানে কি? তাছাড়া আমরা যে টাকা নিচ্ছি তা প্রতিযোগিতা বেড়ে গেলে পাব? অন্যেরা আরো কম পয়সায় করলে কি হবে?
উইলিয়ামঃ আমাদের যোগ্যতা কি কম নাকি?
জনঃ তাদেরো যে কম হবে তার কি মানে?
উইলিয়ামঃ ধুস! তুমি না সব গুলিয়ে দাও!
জনঃ হুম! গোলাতে হবেনা। ভাব যে পাথর আমরা কোথা থেকে পেতে পারি। কোম্পানীকে কম খরচ দেখিয়ে ক্রেডিট নেব, আর সঙ্গে এই কাজে লোক আর পরিবহন বাবদ একটু…! হেঁ হেঁ হেঁ হেঁ!
উইলিয়ামঃ লন্ডনে আমাদের একটা ভিলা হতে কত সময় লাগবে?
জনঃ কাজের কাজ আগে হোক তারপরে এ সব!
উইলিয়ামঃ বেশ।

তাঁবুর বাইরে বেরিয়ে যায় উইলিয়াম। সে বেশী কথা বলতে পছন্দ করেনা সত্যি। রাত্রে তার পছন্দসই পানীয় আর একটু নারীসঙ্গ,ব্যাস!কিন্তু এখানে বড্ড ঝামেলা তা নিয়েও। “নচ গার্লস”-ও নেই এখানে। সারারাত শুধু মদ আর ফাঁকা। দিনের বেলা প্রখর রোদ। অনেক দূরে দূরে দুয়েকটা গ্রাম। ব্যাস! বেরিয়ে সামনেই কুলি গুলোকে চোখে পড়ল। কাজ করে চলেছে ওরা এই গরমেও। যেন কিছুই হয়নি এখানে।রোদ যেন ওদের স্পর্শ করেনা। উইলিয়াম না হয় শীতের দেশ থেকে এসেছে, কিন্তু এখানে যারা অভিজাত তারাও তো এই গরমে কোথাও কিছু করতে চায়না। পারলে সারা দুপুর জলঝারির আরামে কাটায়। “হুক্কা বরদার”,আর “পাঙ্খা পুলার” দিয়ে সারা দুপুর কাটায়।বিকেলে উঠে বেড়াতে যায় আবার সাহেবদের দেখা দেখি। রাত্রে মেহফিল। সন্ধ্যা থেকে তার প্রস্তুতি। আহ! ক্যালকাটা এ ব্যাপারে তার বেশ লাগে। আরে, একটা হারামজাদা দাঁড়িয়ে আছে? শুয়োরের বাচ্চাটা তাকে দেখছেও না। উইলিয়াম কে না দেখা আর একটা ম্যিউটিনির মধ্যে ফারাক কি? আবার দাঁত খুঁটছে হারামী!

-You bloody nigger! Come here!

।।আঙুলের ইশারায় নাচে বিশ্ব।।


এমন একেকটা সময় আসে যখন মনে হয় তাই। এখন যেমন উইলিয়ামের মনে হচ্ছে। সে আঙুল তুলে ডাকবে আর ওই বুড়ো হারামি দাঁড়িয়ে থাকবে? এর জন্যে তার জন্ম হয়নি। সে ডাকলে দৌড়তে দৌড়তে আসতে হবে ওকে। কিন্তু লোকটা আসেনা। বরং উলটো দিকে ফিরে হাঁটা দেয়। উইলিয়ামের গোটা শরীরে যেন রক্তস্রোত দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাকে অবহেলা করার সাহস দেখাচ্ছে ওই হারামী?তাকে?

এই যে আঙুল তুলে ডাকা এটা খুব স্বাভাবিক কাজ উইলিয়ামদের কাছে। কারণ তারা এমনি শিখেছে। তাদের যারা শাসক ছিল বিভিন্ন সময়ে তারা এভাবেই ডেকেছে তাদেরকেও। অনেক আগে একবার রোমানরা এসেছিল। জুলিয়াস সিজার বলে লোকটা তাদের নেতা হয়ে এসেছিল। প্রথমে তারা ছিল ফ্রান্সে। গলেদের সঙ্গে যুদ্ধে মত্ত ছিল সিজার। ঠিক তখন-ই তার গড়া রোমান ট্রিয়ামভিরেট গোল্লায় গ্যাছে।বন্ধু এবং জামাতা পম্পেই-এর সঙ্গে বেশ ঝামেলা চলছে। সেনেট তাকে কনসালের যে পদ দিয়েছে সেই পদের বশে তাকে গল-এ থাকা-কালীন গ্রেপ্তার করা যাবেনা সেনেটের অনুমতি ছাড়া। কিন্তু রোমেও ফেরার উপায় নেই। এই অবস্থায় সবচেয়ে সহজ কাজ হল রোমের মহান সেনেটের জন্যে আরো ক্ষমতার ব্যবস্থা। তাতে তার দেশে ফেরার বিষয়টা কিছুটা সুগম হতে পারে। টাকা কি না করতে পারে!
গলেদের সাহায্য আসছে ওই রহস্যজনক দেশটি থেকে, এটাই অভিযোগ। দেশটি মহাদেশের একদম প্রান্তে এবং তার চারপাশের সমুদ্র তাকে বেশ দুরুহ করেছে।

পাইথিয়াস বলে এক গ্রীক নাবিকের লেখাকে অনেক বিশেষজ্ঞ উড়িয়ে দিয়েছেন। এমন কোনো দেশ নেই বলেই তাদের দাবী। কিন্তু সিজার জানেন আছে। গলের সঙ্গে তার সম্পর্কও আছে। গলেদের যে অংশটা বেলজিক, যারা পরে বেলজিয়াম বলে দেশটার নামের জন্যে পরিচিত হবে আরো, সেই অংশটা ওখানে অনেককাল ব্যবসা করছে। সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চল দখল করেছে। চাষ-বাস, লুঠতরাজ, যুদ্ধ-বিগ্রহে তাদের দিন কাটে সেখানে। তাদের দমন করার নামে অভিযান হবে। তার আগে খবর চাই দেশটার সম্পর্কে। বণিকেরা, যারা ওখানে যায়, তারা সব বেলজিক-গল। তারা খবর দিলোনা ঠিকমত। এক রোমানকে একটি জাহাজ দিয়ে পাঠানো হল সেখানে। সে নামলো না সেখানে। সমুদ্র থেকে দেখে এল। কারণ বর্বরদের হাতে নিজেকে ছাড়ার মত ভরসা সে পায়নি।

বর্বর? উইলিয়াম যে লোকটার জন্যে বন্দুক আনতে বললো তার মতই? নাকি তার থেকেও বর্বর? কেন বর্বর? তারা সব লম্বা চুল রাখে তাই? বহুগামিতা অবাধে চলে তাই? কে কার সঙ্গে শুচ্ছে এটা নিয়ে মাথা-ব্যাথা কম তাই? সন্তান হলে সে সন্তানের দায় যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে তার, এটা প্রথা বলে? সিজার যতগুলো বিয়ে তার কি হবে? বলা হয় ব্রুটাসের বউ-এর সঙ্গে তার একটা পরকিয়া ছিল, তার কি হবে? সম্রাট নীরোর বোনের সঙ্গে সম্পর্ক? কিসে বর্বর কে? কম চুল রাখাটা বর্বরতা নয়তো? কে জানে? যে যেমন পারে তেমনি ব্যাখ্যা দেয় সভ্যতার! উইলিয়ামের মনে হচ্ছে ওই লোকটি বর্বর! তার ডাক না শুনে, পাথর না টেনে, লাইনের জন্যে স্লীপার না পেতে সে দাঁত খুঁটছিল। তাই উইলিয়াম কুলিকে হুকুম করেছে বন্দুক আনতে। কুলি বন্দুক আনতে গিয়ে জনকে দেখে। জন জানতে পারে উইলিয়াম বন্দুক চেয়েছে। তার ছোটভাইটির মাথা সে জানে। সে বেরিয়ে আসে।

[ক্রমশঃ]

499 বার পঠিত (সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে)

শেয়ার করুন


Avatar: kaushik

Re: শুদ্ধ

দারুন লাগল শুরুটা! পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।
Avatar: দ

Re: শুদ্ধ

Avatar: dd

Re: শুদ্ধ

শুরু থেকেই জবরদস্ত। চলুক চলুক।
Avatar: Blank

Re: শুদ্ধ

ব্যাপক লাগছে
Avatar: sumeru

Re: শুদ্ধ

ব্রেশ। ব্রেশ। সবটুকু দিয়ে ফ্যালাও।
Avatar: kumu

Re: শুদ্ধ

চমৎকার।তারপর?
Avatar: শুদ্ধ

Re: শুদ্ধ

ধন্যবাদ সকলকে।

কিন্তু ঠিক বুঝতে পারছি না কদিন পরে পরে দেওয়া উচিত? সবটুকু একসঙ্গে দিলে তো বিরাট হয়ে যাবে সুমেরু? dd, kumudi, blank, দ, Kaushik -সাজেশনে সাহায্য প্লিজ!!!
Avatar: দ

Re: শুদ্ধ

আমার ব্যক্তিগত মত হল এরকম সাইজের বা এর চেয়ে অল্প বড় ব্লগ হলে দিনে একটা করে ঠিক আছে় পাঠক পড়ে ভেবে দেখার সময় পাবে পরেরটা আসার আগে।

তবে পুরোটা দিয়ে দিলেও আপত্তি নাই। বড় লেখা পড়তে আমার অন্তত কোনও অসুবিধে হয় না।
Avatar: brc-slg

Re: শুদ্ধ

....................................................................................

"দ"-এর সাথে সহমত।
শুদ্ধ, আপনি আপনার সুবিধেমত পোস্ট করতে থাকুন। পাঠক/পাঠিকা তাঁদের সুবিধেমত পড়বেন।
---
আপনার যে যে লেখা অতীতে পড়ার সুযোগ হয়েছে, সব লেখাতেই আপনার চিত্রকল্প নির্মাণের পারদর্শিতা এবং জীবনকে পড়ার আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়েই আমাকে মুগ্ধ করেছে। আপনার মেধায় হৃদয় আছে।

আশায় আছি, আপনার 'কাজ'-টি বড় মাপের হতে চলেছে।

"কত রকমের সুদ এই পৃথিবীতে আছে আর তত্ত্বতালাস / শুধু এ-শহর জানে ..."

ভাল থাকবেন ভাই।


Avatar: ঐশিক

Re: শুদ্ধ

ভালো লাগছে, পরের কিস্তির আশায় রইলাম
Avatar: kaushik

Re: শুদ্ধ

সবটা একসাথে দিলে একটু যেন মনে হয় খেই হারিয়ে ফেললাম। এই মাপের পর্ব সপ্তাহে বড়জোর দুটো হলে ঠিক। কারন এই লেখাটি ঠিক পাল্প ফিকশন নয় - পাঠককে একটু লেখাটাকে নিয়ে চিন্তার সুযোগ দিলে ভালো।

এটা আমার মত।
Avatar: শুদ্ধ

Re: শুদ্ধ

brc-slg, আপনাদের শুভেচ্ছাই পাথেয়।

ঐশিক, ধন্যবাদ। পরের কিস্তি দিয়ে দিয়েছি।

Kaushik, আমিও ওই দুটো-তিনটেই ভাবছি। নেট-এ টানা পড়তে অনেকের অসুবিধে হয় শুনছি। তাই একসঙ্গে দিচ্ছি না।

ধন্যবাদ সকলকে সাজেশনের জন্য। :)
Avatar: নিরমাল্লো

Re: শুদ্ধ

পরের পর্বের জন্যে প্রতীক্ষা।
Avatar: π

Re: শুদ্ধ

ভালো লাগছে, শুদ্ধদা।
Avatar: arya

Re: শুদ্ধ

দারুণ লাগছে পড়তে...কেউ যেন পাশে বসেই গল্প বলছে...
Avatar: প্রলয় মুখার্জী

Re: শুদ্ধ

চিত্রকল্প তুমি যে ভাবে এনেছ। কৌশল , বলার ধরণ, সাজিয়ে তোলা, একটা জানার কৌতুহল তৈরী করে দেওয়া। এ সব কিছু নিয়ে বিষয়বস্তু, পরিবেশনা ক্লাসিক পর্যায়ের। কোনো কথা নেই।
Avatar: প্রলয়

Re: শুদ্ধ

তথ্যভিত্তিক লেখাকে কি অসাধারণ পরিবেশনায় নিজস্ব গল্প হয়ে উঠছে। দারুণ শুদ্ধ-দা। পড়ছি। কৌটিল্যের মাপ জানাই ছিল না। বরাবরের মত ছাত্র আমি :)
Avatar: শুদ্ধ

Re: শুদ্ধ

প্রলয়, কিছু যদি তোর ভাঁড়ারে যায় তাহলেই কাজ স্বার্থক হবে আমার।

আর্য, উৎসাহ পেলাম।


আপনার মতামত দেবার জন্য নিচের যেকোনো একটি লিংকে ক্লিক করুন